শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৪৬
সুরভী আক্তার
বালা কথা বাড়ালো না বেশি । অংকুর যা বললো তাই শুনলো । ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে নামলো ও ।
ফের উপরে উঠতে বেশি সময় লাগলো না । প্লেটে খাবার বেড়ে খানিক ক্ষণের মধ্যেই ঘরে আসলো আবার । এবার অংকুরের কার্যে পরিবর্তন এসেছে । একই ভাবে বসে বসে বই পড়ছে সে । চোখে চিকন ফ্রেমের চশমা । পূর্ণ মনযোগ হাতে থাকা বইয়ের পাতায় । বারান্দার পর্দা সরানো । রাতের মৃদুমন্দ বাতাস বারান্দা থেকে ঘরে হানা দিচ্ছে । অংকুরের ঝাঁকড়া চুল সেই মৃদু বাতাসে খানিক উড়ছে । সুরবালার উপস্থিতির আভাস পাওয়া গেলো নুপুরের ঝিনঝিনে শব্দে । অংকুর ঢোক গিললো । বইয়ের পাতায় চোখ গুজেই গুরুভার গলায় প্রশ্ন করলো…
“ খাওয়া হলো এতো তাড়াতাড়ি ?
বালা উত্তর করলো এগোতে এগোতে….
“ খাই নি ! মা বললো দুজনের খাবার ঘরে নিয়ে আসতে । আপনি নাকি একা খান না কখনো । আমাকে আপনার সাথে খেতে বললো ।
“ আমি খাবো না এখন । তুমি খেয়ে নাও !
বইয়ের পাতায় চোখ এখনো । বালা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, তবুও চোখ তুললো না অংকুর । বিরক্ত হলো বালা । বললো গলা টাটিয়ে….
“ এক্ষুনি খাবেন । বই রাখুন !
“ খাবো না বললাম তো । খিদে পায় নি আমার ! পড়ছি , পড়তে দাও !
বিরক্তির মাত্রা বাড়লো । হাতের প্লেট টেবিলের উপর শব্দ করে রাখলো বালা । টান মেরে অংকুরের হাত থেকে বইটা ছিনিয়ে নিলো । অংকুর ঝট করে কপাল গুটিয়ে তাকাতেই শক্ত গলায় বলল….
“ আগে বউ, তার পর বই ! আমার থেকে বেশি গুরুত্ব কাউকে দেওয়া পছন্দ করি না আমি ।
অংকুর চেয়ে থেকেই ধীরে শ্বাস ফেললো । শীতল করলো কন্ঠ । বললো…
“ আচ্ছা, দেবো না গুরুত্ব । কি রেঁধেছো দেখি ?
বালা খাবারের প্লেট হাতে তুলতেই ফের শুধালো…
“ আমার খাবার কোথায় ?
“ এটাই ।
“ আর তোমার ?
“ এটাই ।
“ একটাই ?
“ হুম । একসাথে বেড়ে এনেছি । আগে আপনি খেয়ে নিন , তারপর বাকি টুকু আমি খেয়ে নেবো !
“ আমার এঁটো খাবে ?
“ আগে আমি খেলেও এঁটো হয়ে যাবে । আমার এঁটো নিশ্চয়ই আপনি খাবেন না ?
“ আমি একা খাই না কখনো । একসাথে খেয়ে নেই ?
“ ছোট প্লেট !
“ আমার হাত দিয়ে খেতে অলসতা আসছে । বেশি খিদেও পায় নি । একটুখানি খাবো শুধু , তুমি চাইলে খাইয়ে দিতে পারো !
কপাল গুটিয়ে চোখ তীক্ষ্ণ করলো সুরবালা । অংকুর ছুতো খুঁজছে ? বালার চাহনি দেখে অংকুর গা ঝাড়া মেরে বললো…
“ আরেকটা প্লেট নিয়ে এসো তাহলে !
“ পারবো না !
“ তাহলে তুমিই খেয়ে নাও !
বালা কথা বলল না আর । খাটে বসলো প্লেট হাতে । ভাত মেখে নিজের মুখে তুললো । মূর্ত বনলো অংকুর । এই মেয়েকে খেতে বললো বলে কোনো দ্বিমত ছাড়াই ও এখন খেয়ে নিচ্ছে ? সুরবালা মুখের খাবার টুকু গিলে অংকুরের দিকে তাকালো । অংকুরকে ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুধালো…
“ নজর দিচ্ছেন ?
থতমত দৃষ্টি সরিয়ে নিলো অংকুর । বালা মুচকি হাসলো । এক লোকমা খাবার তুলে ধরলো অংকুরের সম্মুখে । বললো…
“ নিন ।
তড়িৎ বেগে তাকালো অংকুর । ওর উদ্দেশ্যে তোলা বালার হাতে খাবার দেখে অবাকই হলো । ওকে অবাক লোচনে তাকিয়ে থাকতে দেখে বালা হাত বাড়িয়ে আবার বললো..
“ কি হলো , নিন !
এ কোনো স্বাপ্নিক ঘটনার থেকে কম নয় ! আজকাল বালার ভাবসাব দেখলে সর্বদাই অবাক হয় অংকুর । মেয়েটা কি স্বাভাবিক হচ্ছে ? মেনে নিচ্ছে ওকে ? প্রশ্ন জাগে মনে !
অংকুরের খিদে পায় নি মোটেই । তবুও পুরো প্লেট ফাঁকা করলো ও নিজেই । ক্ষুধা হীন পেটেই সবটা খেলো । বালা খেয়েছে দুই এক লোকমা । বাকিটা অংকুর কে খাইয়েছে । ধ্যানের বসে সবটা খেয়েছে অংকুর । এতোটা খায় না কোনো দিন ।
প্লেট ফাঁকা হতেই বালা ঠেস দিয়ে বললো….
“ খিদে নাকি পায় নি ? সবটাই তো আপনি খেলেন !
“ রান্না মজা ছিলো , তাই খেলাম !
“ মজা ছিলো বুঝি ? রান্নায় তো নুন বেশি ছিলো , টের পেয়েছেন ? নাকি মুখ বুজে খেলেন ?
সম্বিতে ফিরলো অংকুর । নুন বেশি ছিলো ? কই , ও তো টের পেলো না ! ও তো খাবারের স্বাদ টুকুও বোঝার চেষ্টা করে নি । ঘোরের মধ্যে গিলে গেছে শুধু ।
অংকুর প্রশ করলো নিজের মাঝে….
“ নুন বেশি ছিলো ?
“ অনেকটা বেশি ছিল ! আমি খেতে পারলাম না ! আপনি পারলেন কি করে ? অভিযোগ করলেন না যে ?
অংকুর পরিস্থিতি বুঝে নিজের জড় বুদ্ধি ঢেকে বললো…
“ প্রথম রেঁধেছো , একটু খামতি হতেই পারে ! অভিযোগ করলে ভালো দেখাতো না । ধীরে ধীরে শিখে যাবে !
“ ধন্যবাদ !
আমি গিয়ে প্লেট রেখে আসছি , বসুন আপনি !
সুরবালা চলে গেলো । ও ঘর হতে বেরোতেই ঠোঁট কামড়ে হাসলো অংকুর । আহ্লাদ করে মাথার পেছনে হাত রাখতেই ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলো ।
খাট থেকে নেমে নিজের বিছানা পাড়তে চললো সে । একখানা বালিশ আর চাদর নিয়ে গিয়ে রাখলো বড় সোফা টার উপর । ওর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সুরবালার সরিয়ে রাখা বই টা টেবিলের উপর গুছিয়ে রাখলো নিজেই । চশমা খুলে চোখ ডললো । দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে ঔষধ বের করে খেয়ে নিলো । পানির গ্লাস টেবিলের উপর রাখতে রাখতেই ফিরে আসলো সুরবালা । আঁচলে হাত মুছে সর্বপ্রথম বিছানার দিকে তাকালো । পাশে বালিশ আর চাদর না দেখে তাকালো সোফার দিকে । পরমুহূর্তে অংকুর কে সোফার দিকে এগোতে দেখে সচকিতে বললো….
“ কোথায় শোবেন ?
“ যেখানে শুই সেখানে !
“ অসুবিধা হবে না ?
“ রোজ হয় না !
“ আজ মাথায় চোট পেয়েছেন , ওটুকু জায়গায় শুতে পারবেন না । অসুবিধা হবে ! সোজা হয়ে শুতে পারছেন না একেই ।
“ হবে না !
“ হবে বলছি তো !
আপনি খাটে শোওন আজ !
গলা নামিয়ে ক্ষিণ কথা টুকু উচ্চারণ করলো সুরবালা । অংকুর তড়িতে তাকালো । সন্দেহ কাটাতে শুধালো…
“ হ্যাঁ ?
“ খাটে শুয়ে পড়ুন ।
“ আর তুমি ?
“ আমি একপাশে শুয়ে পড়বো ।
“ ভেবে বলছো ?
চোখ নামায় সুরবালা । নরম কন্ঠ তপ্ত করে এবার…
“ হুম !
বাঁকা হাসে অংকুর । এক মুহুর্ত অপেক্ষা করে না । দ্রুত বালিশ আর চাদর সোফা থেকে উঠিয়ে খাটে রাখে । সুরবালা এগিয়ে গিয়ে জায়গা নির্ধারণ করে দেয় । নিজের জন্য একটু জায়গা রেখে অংকুর কে বড় জায়গা করে দেয় । তীর্যক চোখে চেয়ে ধারালো স্বরে বলে….
“ এটুকু সহানুভূতি হিসেবে ধরে নিন । বেশি কিছু ভাববেন না । আমার জন্য চোট পেয়েছেন আপনি । চোটের উপর যাতে ব্যাথা না পান তাই জায়গা দিলাম । আপনাকে জায়গা দিয়ে নিজের জায়গা ছাড়বো না । আমার শশুর বাড়ি,আমি শান্তি করেই থাকবো ।
অংকুর কিঞ্চিত হাসে । এই মেয়ে টা আসলেই বাউড়ি !
মনে মনে ভেবেই উচ্চারণ করে মৃদু স্বরে…
“ বাউড়ি একটা…
অস্পষ্ট হলেও বুঝতে অসুবিধা হলো না সুরবালার । অমনি চোখ পাকিয়ে বলল ও…
“ আমি পাগল ?
“ পাগল বললাম কখন ?
“ এইতো বললেন !
“ বাউড়ি বলেছি !
“ মানে তো একই হলো !
“ মানে একই হলেও মর্মার্থ আলাদা । আমি আদর করে ডাকলাম তোমায় ।
“ অতো আদর দিতে হবে না । চুপচাপ ঘুমান এখন !
অংকুর পাশ ফিরে উবু হয়ে শুয়ে পড়লো । মুখ ফিরিয়ে চোখ বুজলো । বালা ঠায় বসে । এই লোক ঘুমানোর পর ও ঘুমাবে । দুজনের মাঝে একটা বালিশের দেয়াল টেনে দিয়েছে এর মধ্যেই ।
জমিদার বাড়ি আজ শান্ত ।
বিয়ের কোলাহল নেই । এই রাতে অন্দরে সবার উপস্থিতি ছিল এতোক্ষণ । ফুলি কে এ বাড়িতে নিয়ে এসেছে সংগ্রাম । মেয়েটা গুঁড়িয়ে গেছে । কান্না চেপে চেপে শক্ত হয়ে গেছে । ওকে এ বাড়িতে আনা নিয়ে কারোর কোনো আপত্তি নেই । কেউ আপত্তি প্রকাশ করে টু শব্দও উচ্চারণ করে নি । শ্যামা খানিক অবাকই হয়েছে । আর কেউ না হোক , সালেহা আপত্তি করবে এটা আন্দাজে ছিল ওর । কিন্তু না , সালেহা আপত্তিকর বিরক্তি নিয়ে কোনো কথা বলেন নি । বরং ফুলিকে সহানুভূতি দেখিয়েছেন তিনি । বেশ আদুরে হয়ে মেয়েটার মাথায় হাত ও বুলিয়ে দিয়েছেন । শান্তনা দিয়ে আগলে নিয়ে নরম কন্ঠে কতো কথা বললেন ফুলি কে । শ্যামা মূক বনে দেখে গেছে সালেহার কান্ডে । সালেহা শক্ত হলে হয়তো লতিফা পেছনে তাল মেলাতেন । ফুলিকে এ বাড়িতে আনা নিয়ে নানান অপদস্থ করতেন শ্যামা কে টেনে । কিন্তু সালেহা আজ বিপন্থী হাওয়ায় লতিফা চেপে গেছেন । এখন যে যার ঘরে । ফুলি আছে আতিয়া বেগমের ঘরে । শ্যামা কিছু ষক্ষণ সেখানেই ছিলো । ফুলি ঘুমাতেই দশটা নাগাদ নিজ ঘরে আসলো সে । সংগ্রাম কিছু কাগজপত্র সামনে নিয়ে হিসেব কষছে কিছুর । খাটের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক কাগজ । শ্যামা দুদিকে মাথা নেড়ে এগিয়ে গেলো । ডাকলো ক্ষিণ স্বরে…
“ ছোট জমিদার সাহেব….?
“ বলুন সাহেবান ! এসেছেন এতক্ষণে ?
শ্যামা হেসে শুধোয়…
“ কি করছেন ?
“ হিসেব ।
“ কিসের ?
“ জমির আয়তন নিয়ে !
শ্যামা এসব বুঝবে না । সংগ্রাম ওকে খোলসা করে বললো না কিছু । শ্যামা ও বেশি ঘাটলো না । মেলে রাখা কাগজ গুলো একটু সরিয়ে নিঃশব্দে খাটের পাশে বসলো । কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো….
“ আম্মা খুব অদ্ভুত, তাই না ?
চকিতে চায় সংগ্রাম । ভ্রু উঁচিয়ে শুধায়…
“ হঠাৎ বলছো যে ?
“ ফুলির দিক থেকে আম্মাকে পরখ করলাম ! অদ্ভুত লাগলো আম্মার আচরণ । কতটা নরম তিনি ফুলির উপর !
“ আম্মা নরমই ! খুব পাতলা মনের..
সংগ্রামের কন্ঠে খানিক হাসির আভাস প্রকাশ পেলো । সে ফের চোখ নামিয়ে কাগজ গুলো খুঁটিয়ে দেখছে । শ্যামা মুচকি হেসে বললো…
“ আম্মার পছন্দ কি কি জানেন ?
“ হুম ! কেনো ?
“ বলুন না , আমি শুনবো । জানতে চাই আমি !
“ জেনে কি করবে ?
“ আম্মার পছন্দ মতো হওয়ায় চেষ্টা করবো এবার থেকে !
“ আম্মা তোমাকে অপছন্দ করে এটা কে বললো ?
শ্যামা মুখ নামায় । অসহায় স্বরে বলে…
“ পছন্দও করেন না !
সংগ্রাম পুরোপুরি শ্যামার দিকে ফিরলো । সমস্ত ব্যাস্ততা ফেরালো নিজের বেগমের পানে । কাগজ গুলো দূরে ঠেলে ছেঁচড়ে এগিয়ে বসলো । শ্যামার হাত দুটো নিজের কাছে টেনে নিলো । মোলায়েম কন্ঠে দৃষ্টিতে দৃষ্টি গেঁড়ে বললো…
“ আম্মা তোমাকে খুব পছন্দ করে, বেগম । কিন্তু প্রকাশ করে না । আম্মা উপরে উপরে যতটা কঠোর , ভেতরে ভেতরে ঠিক ততটাই নরম আর চাপা স্বভাবের । তোমাকে যে শুরুতে মেনে নেয় নি , সেটাই এখনো প্রকাশ করে উপর উপর । ভেতরে ভেতরে তোমার উপর গলে গেছে এতো দিনে , দূর্বল হয়েছে তোমার উপর । কিন্তু জেদ ধরে নিজের দূর্বলতা কে প্রকাশ করেন না তিনি । বুঝলে….?
“ কারোর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা কি দূর্বলতা ?
শ্যামার প্রশ্নে খানিক থামে সংগ্রাম । একই স্বরে বলে…
“ তুমিই তো বলেছিলে এটাও দূর্বলতা ! আজ আবার আমাকে জিজ্ঞেস করছো যে ?
“ আম্মা তার দূর্বলতা টুকু প্রকাশ করলে কি আমার কাছে ছোট হবেন ? আমাকে ভালোবাসে কি খুব বেশিই ক্ষতি হয়ে যাবে ?
সংগ্রাম হাতের পিঠে আঙ্গুল বোলাতে বোলাতে শুধোয়…
“ অভিযোগ করছো, না অভিমান ?
“ আফসোস করছি !
“ ভালোবাসা না পাওয়ার আফসোস ?
“ আম্মার ভালোবাসা না পাওয়ার !
“ আফসোস থাকবে না বেগম , আম্মার ভালোবাসাও পাবে তুমি । আমার বেগমের কোনো কিছুর কমতি থাকবে না , সেই কমতি থেকে আফসোস জন্মানো তো অনেক দূর ।
শ্যামা অন্য প্রসঙ্গে যায়…
“ একটা প্রশ্ন করি ?
“ আমার অনুমতি নিচ্ছেন কেনো ?
“ আপনিও তো আমাকে ভালোবাসেন , তাহলে কি আমিও আপনার দূর্বলতা ?
হাসে সংগ্রাম । নিজের বেগমের দুহাত একসাথে জড়ো করে দুহাতের পিঠে শব্দ করে চুম্বন আঁকে । অতঃপর বলে….
“ আর কতবার বলবো ? খুব বেশি দূর্বলতা জন্মেছে আপনার প্রতি , বেগম । প্রচন্ড বেশি । কঠোর আমি আপনার প্রতি দূর্বল । জোর হারিয়ে কমজোর হয়ে যাই আপনার কাছে ।
আপনার দৃষ্টি টুকুই যথেষ্ট আমাকে দূর্বল করে দেওয়ার জন্য । তাইতো আমি আলাদা আপনার সামনে !
“ আমার সামনে আলাদা আপনি ?
“ একটু আলাদা তো বটেই । আপনি আমার বেগম , আপনার সামনে ভিন্ন হবো না ?
“ ঘুমাবেন না ?
সংগ্রাম ছাড়ে শ্যামা কে । খাটের উপর থেকে একে একে কাগজ গুলো তুলে গুছিয়ে নেয় । উত্তর করে…
“ হুম !
এগুলো আলমারিতে রেখে এসো তো বেগম ।
শ্যামার হাতে বাঁধা কাগজ গুলো ধরিয়ে দেয় সংগ্রাম । শ্যামা উঠে গিয়ে আলমারি খুলে রাখে সেগুলো । গোসল খানা থেকে হাত মুখ ধুয়ে একেবারে খাটের কাছে আসে । সংগ্রাম এখনো সোজা হয়ে বসে । শ্যামা আসতেই বললো…
“ আচ্ছা বেগম.. পরশু আমাদের বিয়ে , তোমার বিয়ে বিয়ে অনুভূতি হচ্ছে না ?
শ্যামা পা তুলে পাশে বসতেই সংগ্রাম ঝট করে ওর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো । শ্যামা কে উত্তর করার সুযোগ না দিয়ে আবার শুধালো….
“ কি হলো , বিয়ে বিয়ে অনুভূতি হচ্ছে ?
“ বিয়ে বিয়ে অনুভূতি আবার কেমন ?
“ ঐ যে মন উরু উরু করে না ! ধড়ফড় লাগে নিজেকে ! অদ্ভুত ভালোলাগা আসে । তেমনটা হচ্ছে না তোমার ?
শ্যামা হেসে ফেলে ঠোঁট চেপে । শুধোয়….
“ এসব অনুভূতি কে বিয়ে বিয়ে অনুভূতি বলে বুঝি ?
“ আলবাত বলে ! তোমাকে বিয়ে করার সময় এমনটা হয়েছিল আমার । তুমি যখন ঘোরের বশে কেঁপে কেঁপে কবুল বললে , বিশ্বাস করো আমার আত্মা খাঁচা ছাড়া হওয়ার মতো অনুভূতি হয়েছিল । তারপর যখন তোমাকে স্পর্শ করলাম , কোলে তুললাম , আমার হাত পা কাঁপছিল তখন । তোমার উষ্ণ শরীরের পরশে এসেও হীম হয়ে যাচ্ছিলাম আমি ।
“ তারপর !
“ তারপর আর কি ! আমার হীম শরীরে উষ্ণতা আপনিই দিয়েছেন !
“ কিভাবে ?
সংগ্রাম কপাল কুঁচকে চাইলো । ঠোঁট চেপে বললো..
“ এখন বর্ননা করবো কিভাবে !
“ ধ্যাত !
শ্যামার লাজুক আভা দেখে আরো ওষ্ঠ পিষে হাসে সংগ্রাম । বলে গা ছাড়া ভাবে…
“ আরে বেগম , আমি তো কিভাবে তোমাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম সেটার বর্ননা দেওয়ার কথা বলছিলাম । তুমি যা ভাবছো , তা কিন্তু তখন হয় নি । আসলে আমি সুপুরুষ । একটা মেয়ের অসহায়ত্বের সুযোগ নেই কি করে বলো ?
“ হয়েছে , এবার ঘুমান !
সংগ্রাম শ্যামার কোল ছেড়ে উঠলো । নিজে বালিশে মাথা রেখে একটানে বরাবরের ন্যায় শ্যামা কে বুকের মাঝে মেশালো । বুকে জড়িয়ে নিলো নিজের বেগম কে ।
সেই ভোর রাত থেকে আবারো বেশ কবার বমি করেছে ময়না । বমি করতে করতে নিস্তেজ প্রায় শরীর । পেটে কিছু নেই । তেতো বিদঘুটে পানি গলায় আসছে । খালেদা ব্যাতি ব্যস্ত ওকে নিয়ে । তিনি সংকিত ময়নার শরীরের কথা ভেবে । একেবারে নেতিয়ে পড়েছে মেয়েটা । মাথা তুলে রাখতে পারছে না । টলে পড়ছে বারবার । ফজরের পর থেকে না করে হলেও চার বার বমি করেছে ।
আফতাব খানিক নিরুদ্বেগ । কাল থেকে ময়নার শরীর নিয়ে যতটা আতঙ্কিত ছিলো , এখন সেই আতঙ্কের মাত্রা কমেছে । ময়না নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে বিছানার উপর । লেবু কেটে দিয়ে গেছেন খালেদা । ও শুয়ে শুয়ে খানিক বাদ বাদ খাচ্ছে লেবুর রস । যাতে বমি না আসে ।
ময়না কে এই অবস্থায় রেখেই ফজরের নামাজে মসজিদে গেছিলো আফতাব । আসলো এই কেবল । ময়না এখনো একই ভাবে শুয়ে । চোখ বোজে নি একবারও । ঘুম নেই চোখে । শুয়ে শুয়ে আঙ্গুলের দাগ গুনছে বাচ্চা সুলভ স্বভাবে । আফতাব ঘরে ঢুকতেই চকিতে তাকিয়ে কোনমতে উঠে বসলো ও । আফতাব বারন করতে চাইলো , তবে করলো না । বরং সোজাসুজি কাঠ স্বরে শুধালো….
“ এখন কেমন লাগছে ?
“ ভালো !
ঝট করে উত্তর ময়নার । আফতাব থেমে বললো কন্ঠের জড়তা সমেত রুদ্ধতায়…
“ তোমার কাছে কিছু জানার আছে ময়না !
ময়না বুঝলো না । কপাল গুটিয়ে নিলো ও । ভাবলো পড়াশোনার বিষয়ে কিছু । তৎক্ষণাৎ মুখে অসহায় ভাব টেনে বললো করুন স্বরে….
“ মিছা কথা কমু না , কাইল থাইকা পড়তে বসি নাই । আইজ বসমু সত্যিই …
“ এসব জানতে চাই না !
“ তাইলে ?
আফতাব ধীরে সামনে এগোয় । মুখোমুখি দাঁড়ায় ময়নার । ময়না খাটে বসে , ঠোঁটের পাশে লেবুর কচ্ লেগে আছে । আফতাব ওর মুখের দিকে তাকিয়েই মুখোমুখি হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসলো । হাত বাড়িয়ে ময়নার মুখ মুছিয়ে দিলো । অবাক হলো ময়না । আফতাব হাত সরিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে বললো অদ্ভুত খাদে নোয়ানো স্বরে…
“ তুমি একটা মেয়ে ময়না । তার পাশাপাশি তুমি এখন আমার স্ত্রী । আমাদের সম্পর্কটা আর পাঁচটা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মতো স্বাভাবিক নয় । তুমি আর আমি একে অপরের সাথে স্বাভাবিক নই এখনো অবধি ।
তোমার বয়স কম হলেও বোধশক্তি কম নয় । আমি যা বলবো , বুঝবে আশাকরি !
ময়না নির্বিকার । তবুও বুক কাঁপলো অজানা আশঙ্কায় । আফতাব এসব কেনো বলছে হঠাৎ ? ময়না ঢোক গেলে । আফতাব সময় নিয়ে আবার বললো এক স্বরে এক ভঙ্গিতে…
“ বারবার বমি করছো কেনো ?
ময়না বোঝে না । মাথা ঝাঁকায় সে । উত্তরে থেমে থেমে বলে ক্ষিণ স্বরে…
“ ঔষধ খাইতে পারি না আমি । ঔষধ খাইলে বমি আসে !
“ ঔষধ তিন বেলা খাচ্ছো । আর বমি করছো দশ বেলা ।
ইতস্ততায় গলা কাঁপে আফতাবের । তবুও বলে আবার…
“ মাথাও ঘোরাচ্ছে । নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারছো না । এসব কিসের লক্ষণ জানা আছে তোমার ?
বুঝতে সময় লাগে কথাটার অর্থ । বুঝতে পেরেই ময়না ছ্যাঁত করে ওঠে । পিছিয়ে যায় তৎক্ষণাৎ । আফতাব সামাল দিতে বলে একই সাথে…
“ আমার কথা বোঝো আগে ! মন দিয়ে শোনো , এটা অস্বাভাবিক কিছু নয় ! তুমি শুধু আমাকে একটু সংকেত দাও এমনটা হতে পারে কি না !
ময়না সিটিয়ে যায় । কেঁপে ওঠে বক্ষ স্থল । বসা অবস্থায় পেছাতে পেছাতে ঘরের টাটির বেড়ায় গিয়ে পিঠ ঠেকে । গলা শুকিয়ে আসছে ওর । পরপর অনেক বার ঢোক গেলে ময়না । চোখ ঝাপটায় ঘন ঘন । গভীরে ভাবে একটু । আফতাবের বলা আশঙ্কা জনক কথা গুলো মস্তিষ্কে আঘাত হানলো ।
গত তিন মাস ধরে ঋতুস্রাব ( এখানে এই শব্দ টুকু ব্যাবহার করলাম , যদি অশালিন মনে হয় তাহলে জানাবেন ) বন্ধ তার । ময়না কখনো ভাবে নি এই নিয়ে । বরং প্রতেক মাসে অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে , এই নিয়ে মনে মনে খুশি ছিল ও । ওর চতুরতা হীন নির্বোধ মস্তিষ্কে এসবের ধারনাও জাগে নি কখনো । কিন্তু এখন ? এখন ভাবতে বাধ্য হলো সে !
ও ভাবলো , শূন্য মস্তিষ্কেই অনেকটা ভাবলো ! আফতাবের সংকেত, ধারনা ভুল হতে পারে না । ভুল হওয়ার সুযোগ, শংকা খুব কম ।
পুরো শরীর ম্রিগি রোগির মতো কাঁপে ময়নার । দুহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে ও । দৃষ্টি নামিয়ে নেয় ।
আফতাব যা বোঝার বুঝলো । শিউরে উঠলো শক্ত পুরুষালী শরীর । তবুও সন্দিহান সে । মস্তিষ্কের বিপরীতে যেতে ইচ্ছে করছে । মন মানতে চাইছে না এটা ।
আফতাব জোর করে মনকে মানানোর চেষ্টা করলো না । উঠে খাটে বসলো । ময়নার সম্মুখে ছটফট করে অগ্রসর হয়ে শুধালো নিজের অমতে…
“ ময়না ! আমি কি ভুল ?
কন্ঠ কেমন কাতর শোনায় । অসহায়ত্ব জবানে । আবারো ছলকে ওঠে ময়না ।
হাত সরায় মুখ থেকে । চোখ টই-টুম্বুর জলে । আফতাবের দিকে ঝট করে তাকাতেই ঝড়ঝড়িয়ে পাপড়ি ছাপিয়ে গাল গড়িয়ে পানির ধারা নামলো । ধক্ করে উঠলো আফতাবের সত্বা । মনের কোণে জোর পূর্বক টেনে ধরা আশ্বাস টুকু গুড়িয়ে গেলো নিমিষেই ।
মুখো ভঙ্গিমায় অদ্ভুত পরিবর্তন আসলো ওর । কেঁদে উঠলো ময়না । নিজের পেট চেপে ধরলো মেয়েটা…..
কাঁপতে কাঁপতে উচ্চারণ করলো কোনো রকমে…
“ আমি… আমার পেটে বাচ্চা ! এটা হইতে পারে । আ.. আপনি ভুল নন ! আমি সত্যিই….
আর উচ্চারিত হলো না বাকি কথা টুকু । তার আগেই ফের মুখ চেপে ডুকরে উঠলো ময়না । আফতাব চমকালো , ভড়কালো সে । তৎক্ষণাৎ শান্তনার উদ্দেশ্যে ময়না কে জড়িয়ে নিতে হাত বাড়িয়ে দিয়েও জড়িয়ে নিতে পারলো না ইতস্ততায় । হাত ফিরিয়ে নিলো সে ।
নিজেকে সামলাতে না পেরে আবারো হাত বাড়িয়ে দিলো । ময়নার হাত দুটো টেনে নিলো নিজের হাতের মুঠোয় । ময়না ফিকড়ে উঠলো নিজের উপর তীব্র ঘৃনা আর লজ্জায় । আফতাব অতি স্বাভাবিকের ন্যায় বললো ধরা গলায়….
“ আরে কাঁদছো কেনো ? তুমি মা হতে চলেছো , এটা তো খুশির খবর ! এতে কাঁদার কি আছে ?
ফিকড়ে ওঠে ময়না । ভরাট চোখ তুলে তাকায় আফতাবের দিকে । কি বলছে এই লোক ?
ময়না ঠোঁট কামড়ে ধরে । আফতাব বলে আবার….
“ চুপ । পাগলী মেয়ে , কাঁদছো কেনো ?
“ আমি সত্যিই মা হইতে…..
“ সত্যি না মিথ্যে সেটা পরে হবে । আমরা তো এখনো নিশ্চিত নই বলো । এখন চুপ করো…
চুপ করে ফুঁপিয়ে ওঠে ময়না । আফতাবের মুখো ভঙ্গিমা দুর্বোধ্য । তবে ময়না বুঝতে পারছে আজ । একটুও কঠিন লাগছে না আফতাবের অবস্থা বুঝতে । ময়না ঢোক গিলে আবারো একই কথা বললো কন্ঠ চিপে….
“ আমি সত্যিই মা হমু ।
“ তাতে কি ?
“ কিছু নাই ? কিছু নাই আপনার ? আমার পেটে অন্য কারোর বাচ্চা , আমারে ছাইড়া দিছেন যিনি তার বাচ্চা । নাহ , এইটা হইতে পারে না । কিছুতেই না । আমারে ছাইড়া দিছেন উনি… তালাক দিছেন আমারে । এইটা হইতে পারে না । আমার কিচ্ছু হয় নাই । এমনি এমনি বমি হইতাছে আমার, মাথাও ঘুরতাছে এমনি এমনি । আপনি শোনেন , আমারে ঘেন্না কইরেন না । আমি মা হমু না । কোনো বাচ্চা নাই আমার পেটে । আমারে ছাইড়া দিবেন এবার আপনি ? দিয়েন না দয়া কইরা । আমি ছাড় চাই না , আপনি তো কইছেন আমি ছাড় না চাইলে আপনি ছাড়বেন না আমারে । আমি ছাড় চাই না , দয়া কইরা ছাইড়া দিয়েন না আমারে ।
পাগলের মতো বিলাপ করে ছটফট করে উঠলো ময়না । আফতাব ওর হাত ছেড়ে বাহু আঁকড়ে ধরলো । চড়াও করলো কন্ঠ….
“ কিসব বলছো ? আমি ছাড়বো কেনো তোমায় ?
ময়না ছিটকে দূরে সরলো । আফতাবের স্পর্শের থেকেও নিজের প্রতি নিজের ঘৃনা লাগছে ওর । নিজেকে কুলষিত লাগছে আজ । ময়না ফের কুকিয়ে উঠলো….
“ আমি খারাপ , খুব খারাপ আমি । আমার মতো খারাপের কপালে এইটাই হওনের আছিলো । আমি রাখমু না এই বাচ্চা , তবুও ছাইড়া দিয়েন না আমারে । যদি সত্যিই আমি মা হই , তাইলে আরো বেশি ঘেন্না করবেন আমারে ?
এইগুলা আম্মা আর আব্বা শুনলে এবার খুব কষ্ট পাইবো । আমি একলা এক কোণে পইড়া থাকমু , তবুও ছাইড়েন না আমারে । ঘেন্না করেন , তবুও ছাইড়েন না । আমি মইরা যামু এবার….
“ ময়না , থাপ্পর খাবে তুমি এবার আমার হাতে । আমাকে হাত তুলতে বাধ্য করো না তোমার উপর । কিসব বলছো তখন থেকে ।
আফতাবের বজ্র ধমক এবার । ময়না চমকে উঠলো । ফিকড়ে উঠলো সাথে সাথে । গুমড়ে উঠলো ভেতর ভেতর । আফতাব রাগলে শ্যামলা মুখশ্রী বিভৎস তামাটে বর্ন ধারন করে । কপালের শিরা উপশিরা ফুলে ওঠে । রক্তিম হয় চোখ জোড়া । এবার ও তাই হলো । প্রচন্ড রাগ চেহারায় ঠিকড়ে পড়লো । দাঁত চেপে আবার বললো সে..
“ আর একবার যদি ছাড়াছাড়ির প্রসঙ্গ টানো , তাহলে সত্যি সত্যিই আমার হাতের শক্ত থাপ্পর গালে পড়বে তোমার । মন দিয়ে শোনো আমার কথা – তোমার পেটে তোমার স্বামীর সন্তান । যে এখন তোমার স্বামী না হলেও কোনো না কোনো এক সময় ছিলো । তোমাদের মাঝের স্বাভাবিক সম্পর্ক টা অস্বাভাবিক নয় । আর না তোমার গর্ভবতী হওয়াটা অস্বাভাবিক । আরে আমি তো শালা কেউ নই । কে আমি তোমার ? নাম মাত্র স্বামী শুধু !
ময়নার পুরো শরীর মুচড়ে ওঠে । গুলিয়ে আসে গা । তীব্র অস্বস্তিতে চোখ মুখ কুঁচকায় ও । এবার অস্বস্তি হলেও গলায় এসে বমি আটকালো ।
ময়না অস্ফুটে আর্তনাদ করলো…
“ নাম মাত্র হইয়াই থাকেন ।
যদি তেমনই হয় , তাইলে আমি বাচ্চা রাখমু না , নষ্ট কইরা দিমু । কেউ জানবো এইটা । আপনার আম্মা আব্বা ও জানবো না । ওনারা জানলে ওনারাও ঘেন্না করবো আমারে । আমি চাই আমারে সবাই ভালোবাসুক , কেউ ঘেন্না না করুক । আমি খারাপ,আমি ভালো নই । তবুও ভালোবাসুক সবাই আমারে । আপনি ভালো না বাসেন , কিন্তু ঘেন্না কইরেন না ।
“ আমি ঘেন্না করি না তোমায় ! ঘেন্না করার কোনো প্রশ্নই আসেনা । কেনো ঘেন্না করবো ? তুমি গর্ভবতী বলে ? এটা কোনো যৌক্তিকতা নয় ময়না ।
থামে আফতাব । শান্তনা দিতেও গলা কাঁপছে ।
ময়না কে সামলাতে নিজেকে সামলে নিতে হচ্ছে ওকে । চোখ জ্বলছে আফতাবের । ময়নার প্রতি একটু একটু করে জন্মানো অনুভুতি গুলো ভেঙ্গে যেতে চাচ্ছে । অদ্ভুত লাগছে । মানতে ইচ্ছে করছে না এসব । ময়না বিবাহিত ছিলো , এটা মানতে পেরেছে সে । কিন্তু ময়না গর্ভবতী , ময়নার গর্ভে তার প্রাক্তন স্বামীর সন্তান , আফতাবের বড় ভাইয়ের সন্তান । এটা মানতে জড়িয়ে যাচ্ছে মনে ।
তিক্ততা সৃষ্টি হচ্ছে । সেটা ময়নার প্রতি নাকি নিজের নসিবের প্রতি তা সে ঠাহর করতে পারছে না । এই তিক্ততা কে কি ময়নার ভাষায় ঘেন্না বলে আখ্যায়িত করা যায় ? নাহ , ময়না কে আফতাব ঘৃণা করতে পারে না । ও তো এখনো ভালোবাসতেই শুরু করে নি ময়না কে । ভালোবাসা ফুরোলেই না ঘৃণা আসবে ।
আফতাব বেশি ভাবে না । ঢোক গেলে বারবার । ময়না ফুঁপিয়ে কাঁদছে । আফতাব কিছু বলার জন্য উদ্যত হলো । তবে রুদ্ধ স্বরে কথা আসলো না । কন্ঠ নালিতেই জড়িয়ে গেলো । ময়না কে ছাড়লো ও । নিজেকে ঝাড়া মেরে খাট থেকে নামলো নিচে । আর একটা বারের জন্যেও তাকালো না ময়নার দিকে । ময়নার ফোপানোর শব্দ কানে আসতেই ঘাড় খানিক বাঁকা করলো । না তাকিয়েই রগরগে গলায় বলল ফোঁস করে…..
শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৪৫
“ আমি বেরোচ্ছি । যদি ফিরে আসার পর কান্না করতে করতে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছো এমনটা দেখতে পাই , তাহলে একটা থাপ্পর ও মাটিতে পড়বে না বলে রাখলাম । নিজেকে বোঝাও । মানাও নিজেকে । বিয়ে করেছিলে , স্বামীর সংসার করেছিলে , এখন এই বাস্তবতা টাকে মানতে নারাজ কেনো ?
