মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৩
Tahmina Akhter
মেঘালয় ঘর থেকে বের হতেই রিনির সামনে পড়ল। মেঘালয় রিনিকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতেই চাচ্ছিল কিন্তু রিনি মেঘালয়ের হাত ধরে বাঁধা দেয়৷ মেঘালয় চোখ পাকিয়ে তাকাতেই রিনি হাত ছেড়ে দেয়।
— হোয়াট! ননসেন্স ইজ দিজ! আর ইউ চাইল্ড?
মেঘালয়ের মুখ থেকে দুটো বাক্য শুনে লজ্জায় মাথা কাটা যাবার মত অবস্থা হলো রিনির৷ রিনি মাথা নীচু করে ফেলেছে। মেঘালয় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। তারপর, রিনির মাথায় ডান হাত রেখে আদুরে সুরে বলল,
— রিনি, আরাফাত অনেক ভালো একটা ছেলে। মানুষের জীবনে সুখ-শান্তি সবসময় থাকে না। মাঝেমধ্যে সব ভালো-মন্দের উত্থান-পাথান হয়৷ শুধু পাশে থাকা মানুষটা সঠিক হলে জীবনের সকল বাঁধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করা যায়। তুমি শুধু শুধুই চিন্তা করছো, রিনি। আমার ওপর তোমার বিশ্বাস নেই?
মেঘালয়ের বলা শেষ লাইনটি শুনে রিনির চোখ জল ছাপিয়ে পড়তে লাগল। কে বলল সে মেঘালয়কে বিশ্বাস করে না? মেঘালয়কে সে আকাশসম বিশ্বাস করে। পৃথিবীর শেষ পুরুষ যদি মেঘালয় হয় তবুও রিনি শেষ ভরসা হিসেবে মেঘালয়কে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবে। কারণ, মেঘালয় এমন একটা পুরুষ যাকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করেছে। এবং সবকটা পরীক্ষা সে একশ তে একশ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
রিনি কাঁদতে কাঁদতে মাথা নীচু করে ফেলেছে। আজ সে-সব কান্ড মনে করে নিজেকে কেমন ছোট মনমানসিকতার মানুষ বলে মনে হচ্ছে। এদিকে মেঘালয় রিনির মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— এত কান্নাকাটি করে আমাকে অপরাধী বানাতে খুব ভালো লাগছে?
রিনি মাথা নীচু করে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— আমি যে তোমাকে কতটা বিশ্বাস করি তুমি যদি জানতে? তুমি যদি আমার প্রাণ চাইতে আমি হাসিমুখে আমার প্রাণ বিসর্জন করতাম তোমার চরণের ধারে।
মেঘালয় আজ রিনির বেসামাল হয়ে কাঁদতে দেখার দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে গেছে। যে মেয়েটাকে গত কয়েকবছর ধরে কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে কাঁদতে দেখেনি! যেই মেয়েটা তার কাছে কত-শতবার অপমানিত হয়েছে সেই মেয়েটা নাকি আজ তুচ্ছ কারণে এভাবে কাঁদছে!
মেঘালয় প্যান্টের পকেট দুই হাত গুজে রেখে দেয়াল হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। রিনি নিজেকে খুব তাড়াতাড়ি সামলে ফেলল। তারপর, হাতের পিঠে চোখের জল মুছে মেঘালয়কে উদ্দেশ্য করে বলল,
— আরাফাত সাহেবকে আসতে বলো। তার সঙ্গে আগে কথা বলি। তারপর, নাহয়…..
— আরাফাত আজ বিকেলে আসবে। তার সঙ্গে একবার আলাপ হোক তোমার। তুমি টের পাবে পৃথিবীর হাতেগোনা কয়েকজন সুপুরুষের মধ্যে আরাফাত এর নামও আছে।
— আমার জানামতে পৃথিবীতে কয়েকজন পুরুষের নামের পাশে তোমারও নাম জুড়ে দেয়া উচিত। তুমি এমনই একজন যে কিনা বিনা লাভের সম্ভাবনা নিয়ে বছরের পর ধরে একজনকে পাওয়ার আশায় ধ্যান করে যাচ্ছো!
— ভালোবাসা তো ধ্যানের সামগ্রী। যত ধ্যান সাধনা হবে ভালোবাসা ততই প্রখর হবে। ভালোবাসা কি আর এক সেকেন্ড কিংবা নব্বই মিনিটের ফুটবল ম্যাচ? ভালোবাসা হচ্ছে লাইফটাইম প্যারাডাইস ফিলিংস। যেই ফিলিংস ইহকাল থেকে শুরু করে পরকাল অব্দি চলবে। যেই জিনিস এর লাইফটাইম ডিউরেশান এত বৃহৎ সেই জিনিস এর ধ্যান-ধারনা করাটাও জরুরি।
জবাব দিয়ে মেঘালয় চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনি রিনি ডেকে উঠলো মেঘালয়কে। মেঘালয় পেছনে ফিরে তাকাতেই রিনি শুকনো মুখে বলল,
— ভালোবাসা পূর্ণতা পাব না জেনেও ভালোবেসে যাওয়া কি বোকামি নয়?
— ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে না জেনেও ভালোবেসে যাওয়া বোকামি নয়। বরং অপাত্রে ভালোবাসা দান করে যাওয়া বোকামি।
মেঘালয় রিনির দিকে ফিরে কথাগুলোর জবাব
দেয়। রিনি অবাক মিশ্রিত গলায় বলল,
— তোমাকে ভালোবেসে যাওয়া আমার বোকামি?
— অবশ্যই। তুমি যেদিন জানতে পারলে আমার বিয়ে হয়েছে ঠিক সেদিনই তোমার উচিত ছিল আমি নামক অনুভূতিকে তোমার মন এবং হৃদয় থেকে ঝেড়ে ফেলা। কিন্তু তুমি তোমার মনে আমাকে নিয়ে অহেতুক ফিলিংস আগলে রাখলে। লাভ কি হলো, বলো তো? বছরের পর বছর ধরে তুমি একা কষ্ট পাচ্ছো?
মেঘালয়ের বলা এক একটি শব্দের জবাব আজ রিনির কাছে নেই। আজ যেন রিনির সকল শব্দ, বাক্য, তর্ক হারিয়ে গেছে। রিনি হাতের পিঠে চোখের জল মুছে মেঘালয়কে উদ্দেশ্য করে বলল,
— একা কষ্ট পাওয়ার আলাদা এক ফিলিংস আছে। হাসি কিংবা সুখ বিলি করা যায়। যার সঙ্গে হাসি কিংবা সুখ বিলি করতে যায় সেই সাদরে গ্রহন করে। কিন্তু, কষ্টের কথা দেখো না? কষ্টকে কেউই সাদরে গ্রহন করতে চায় না। কষ্ট যার তার একারই কষ্ট। এই কষ্টের কোনো ভাগীদার নেই।
সৃষ্টিকর্তার তৈরি এই এক অনূভুতি যার নাম কষ্ট। কষ্ট কেবল আত্মকেন্দ্রিক ব্যাপার। কষ্টকে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা যাবে না।
রিনির কথাগুলো শোনার পর মেঘালয় খানিকটা বিস্মিত হয়ে যায়। রিনি কথাগুলো শেষ করার পর আর দাঁড়ায় নি। দ্রুতগতিতে ছুটে চলে যায় বাড়ির লনের দিকে।
রিনির ছুঁটে যাওয়ার দৃশ্য দেখে মেঘালয় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর, নিজের ঘরের গিয়ে বিছানা থেকে মোবাইল নিতে ল্যাপটপের স্ক্রীনে চোখ পড়তেই গোটা গোটা অক্ষরে লেখা বাক্যগুলোর ওপর আবারও চোখ আঁটকে যায় তার।
“ আচ্ছা, আপনার বুকের বাম পাশে ওই যে কালো রঙের বড় তিলটা আছে না, ঠিক ওই জায়গাটা আমাকে ভীষণভাবে টানে! মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে আপনার সেই তিলের ওপর ছোট ছোট দুটো চুমু খেয়ে সরে আসি। পরক্ষণেই আমি এই ভেবে লজ্জা পাই যে, চুমু খেয়ে লজ্জা পাওয়ার পর আপনাকে এই মুখ দেখানোর চেয়ে বরং আপনার বুকে মুখ লুকিয়ে রাখা বড্ড ভালো!”
লেখাগুলো দ্বিতীয়বার পড়ার সময় হঠাৎ করে একজনের নাম মনে আসে। সেই নামটা হলো “মিলি”। আলো বাদে মিলি জানে মেঘালয়ের বুকের বাম পাশের ওই তিলের ব্যাপারে। মেঘালয় “ড্যাম ইট” বলে চট করে ল্যাপটপের সামনে বসে দ্রুতগতিতে টাইপ করতে লাগল। লেখা কমপ্লিট হবার পর ই-মেইল সেন্ড করে খাটের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বলল,
— তুই কি মনে করেছিস আমি তোকে চিনব না! তোকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি, বজ্জাত মেয়ে মানুষ।
বর্ষা এবং কাব্য চলে এসেছে দুপুর নাগাদ। তীব্র তো আলোকে দেখার পর লাফিয়ে আলোর কোল চড়ে বসেছে। আলো তীব্র’র গালে চুমু খেয়ে ওকে নিয়ে ছাঁদে চলল। ছাঁদে যাওয়ার পর তারা দোলনায় বসে দোল খাচ্ছিল আর তীব্র’র ছোট চাচ্চু মেঘালয়কে নিয়ে আলাপ করছিল। ছোট চাচ্চুকে নিয়ে গল্প করার সময় তীব্র’র চোখমুখ এতটাই উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল যে আলো অব্দি অবাক হয়ে তাকিয়ে তীব্র’র কথাগুলো শুনছিল।
এমন সময় ছাঁদে কারো আগমন হলো। শান্ত এসেছে। আলো’র পাশে বসে থাকা তীব্রকে দেখে শান্ত ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
— ও কে?
— আমার ভাসুর এর ছেলে।
সোজাসাপ্টা উত্তর দেয় আলো। শান্ত চোখমুখ কুঁচকে বলল,
— এতবছর এসব বালছাল….
শান্ত বাক্য পূরণ করার আগেই আলো চোখ পাকিয়ে তাকাতেই শান্ত সরি বলে আবারও বলতে শুরু করল,
— এতবছর তারা কোথায় ছিল? এতদিন তো মশাদের তোমাদের আশেপাশে ঘেঁষতে দেখতাম না। যেই না আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য সামান্য হাত বাড়ালাম অমনি সব বের হয়ে আসছে!
শান্ত’র কথাগুলো শেষ হবার পর আলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে তীব্রকে বলল,
— তুমি তোমার মাম্মার কাছে চলে যাও। চাচী একটু পরেই আসছি।
তীব্র মাথা নাড়িয়ে দোলনা থেকে নেমে ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে নীচে। তীব্র চোখের সামনে থেকে আড়াল হবার পর আলো শান্ত’র চোখে চোখ রেখে বলল,
_ভালোবাসার সাতটি স্তর থাকে। জানেন তো?
আলোর কথাটি শুনে শান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— জানি।
— আপনি যে আমাকে ভালোবাসেন বলে দাবি করছেন, আপনার ভালোবাসা এখন কততম স্তরে আছে, আপনি জানেন?
শান্ত গাঢ় চোখে তাকাল আলোর মুখের দিকে। আলো সামান্য মুচকি হেসে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— জবাব দিচ্ছেন না কেন?
— হিসাব করছি, আমি এখন কোন স্তরে আছি।
শান্তের জবাব শুনে আলো নিজের পরনের শাড়ির আঁচলটা গুছিয়ে এনে কোলের ওপর রেখে বলল,
— আপনি এখন ভালোবাসার চতুর্থ স্তরে আছেন। যদিও আপনাকে এসব কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। তবুও বলছি। আশা করি মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
শান্ত দু-হাত বুকের ওপর ভাঁজ করে রাখল। আলো ততক্ষণে ভালোবাসার স্তরগুলো ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছে।
প্রথম স্তর – আকর্ষণ (Physical Attraction)
দ্বিতীয় স্তর –ভালো লাগা (Liking )
তৃতীয় স্তর –প্রেমের আগ্রহ (Romantic Love / Infatuation)
চতুর্থ স্তর –প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রেম (Committed Love)
পঞ্চম স্তর –সাপোর্টিভ ভালোবাসা (Supportive / Companionate Love)
ষষ্ঠ স্তর –নিঃস্বার্থ ভালোবাসা (Selfless / Altruistic Love)
সপ্তম স্তর –চিরস্থায়ী ভালোবাসা (Unconditional / Eternal Love)
এতটুকু বলেই আলো থেমে গেল। শান্ত আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,
— আমি মানলাম, আমি ভালোবাসার চতুর্থ স্তরে আছি। বাকি স্তরগুলো আমি পার করতে চাই, কালোভ্রমর। যদি তুমি আমার হাতটা ধরো ; বিশ্বাস করো, আমি সবকিছু করতে রাজি। পারলে আমার জীবনটাকেও বাজি রাখব তোমার নামে।
শান্তের কণ্ঠে হাহাকার মেশানো সুর।
কিন্তু তাতে আলোর মনে সামান্যও আলোড়ন উঠল না। চোখ বন্ধ করে মেঘালয়ের মুখটা মনে করতে করতে আলো বলল,
— আপনি বাকি স্তর পূরণ করার আশ্বাস দিচ্ছেন আমাকে। অথচ ভালোবাসার সেই সাতটি স্তর আমার জন্য অন্য একজন বহু বছর আগেই পূরণ করে ফেলেছে।
সে আমার প্রতি আকৃষ্ট।
আমাকে ভালো লাগার হাজারটা কারণ আছে তার কাছে।
আমাকে নিয়ে তার প্রেমের আগ্রহ আছে।
হাজার বাহানায় আমাকে স্পর্শ করার লোভও আছে তার।
সে তার ভালোবাসাকে রক্ষা করার জন্য এতটাই মরিয়া ছিল যে গত আট বছর ধরে সে আমার ফেলে আসা সম্পর্কটাকে আঁকড়ে রেখেছে ভীষণ যত্ন করে।
আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছে।
আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, যেন আমি নিজের মতো কিছু একটা করতে পারি।
আমার দিকে কেউ আঙুল তুলতে না পারে, সেদিকটাও সে ভেবেছে।
সে আমাকে সবসময় নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছে।
অথচ আমার মতো মেয়েকে স্বার্থ ছাড়া চাইতে পারা, এই সমাজে বড় দৃষ্টিকটু।
সবশেষে, সে আমাকে শর্তহীনভাবে ভালোবাসে।
সে এখনো অপেক্ষা করছে আমার জন্য।
যে মানুষটি আমার জন্য ভালোবাসার সাতটি স্তরই ইতিমধ্যে অতিক্রম করে ফেলেছে, তার ভালোবাসাকে গ্রহণ না করে আপনার ভালোবাসা আমি গ্রহণ করি কী করে, মি. শাহনেওয়াজ শান্ত?
কথাগুলো শেষ করেই আলো নীরব হয়ে গেল। চারপাশে হালকা বাতাস বইছে। দূরের গাছের পাতাগুলো কাঁপছে মৃদু শব্দে। সেই নীরবতার ভেতরেও শান্ত যেন নিজের ভেতরের ভাঙনের শব্দ শুনতে পাচ্ছে।
শান্ত অনেকক্ষণ হলো কোনো কথা বলল না। তার চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে আলোর মুখের দিকে।
হঠাৎ খুব আস্তে করে সে হাসল। সেই হাসিতে ব্যথা আছে, ক্লান্তি আছে, আর আছে হৃদয় ভাঙার না বলা স্বীকারোক্তি।
— তাহলে… আমি অনেক দেরি করে ফেলেছি, তাই না?
শান্ত’র প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না আলো। আলোর নীরবতাই যেন উত্তর হয়ে দাঁড়াল। শান্ত ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে ফেলল। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল
— তবুও একটা কথা বলে যাই…
ভালোবাসার সাতটা স্তর যদি সত্যিই থাকে, তাহলে আমি হয়তো এখনো চতুর্থ স্তরেই আছি। কিন্তু একটা জিনিস নিশ্চিত… তোমাকে ভুলে যাওয়ার জন্য
পৃথিবীতে কোনো অষ্টম স্তর এখনো তৈরি হয়নি আমার জন্য।
কথাটা বলে শান্ত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
আলো তাকিয়ে রইল তার চলে যাওয়ার দিকে।
শান্ত চোখের সামনে থেকে আড়াল হবার পর আলো ছাঁদ থেকে নেমে পরল। নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লক করে বিছানায় গিয়ে ওঠে বসল। হাত বাড়িয়ে ল্যাপটপ কোলে তুলে অপেন করতেই ডাক্তার সাহেব এর কাছ থেকে আসা ই-মেইল নোটিফিকেশন জ্বলজ্বল করছে। আলো উৎসাহিত হয়ে তড়িঘড়ি করে ইমেইল পড়তে শুরু করলো।
মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫২
“ তুই কি ভেবেছিস আমি তোকে চিনতে পারব না? তাহলে এটা তোর ভুল ধারনা, মিলি। একদিন হয়তো একটা অনাকাঙ্ক্ষিত মূহুর্তে তুই আমার তিল দেখতে পেয়েছিলি বলে এতবছর পর এসে সেই ঘটনার জের ধরে তুই আমাকে অশ্লীল প্রস্তাব দিবি তা তো আমি হতে দেব না। আজই প্রথম এবং শেষবার তোকে ওয়ার্নিং দিচ্ছি, আমাকে উদ্দেশ্য করে উল্টাপাল্টা লেখা লিখবি। নয়ত আল্লাহ’র কসম আমি ছোট খালার কাছে তোর সব কুকীর্তি ফাঁস করে দেব।”
আলো থম মেরে বসে আছে। মানে কি? স্বামীর সঙ্গে মজা করতে গিয়ে এত বড় স্ক্যান্ডাল ফাঁস হয়ে যাবে কে জানত? আলো মাথায় হাত দিয়ে ভাবছে,
“মিলি আবার কে? এই মিলি না ফিলি কি ডাক্তার সাহেব এর সঙ্গে কি খুব বেশী ক্লোজ ছিল? যদি ক্লোজ না হতো তাহলে বুকের তিল এর খবর তো সেই মেয়ের জানার কথা না!”

Next