Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৯০ (২)

দাহশয্যা পর্ব ৯০ (২)

দাহশয্যা পর্ব ৯০ (২)
Raiha Zubair Ripti

আহমেদ বাড়িতে সব গোছগাছের কাজ চলছে। তানজিলা বেগম বোরকা টা পড়ে তেহরানের রুমে আসতেই দেখলো তেহরান জামাকাপড় ভরছে ব্যাগে। সেই ফাঁকে চোখ গেলো তানজিলা বেগমের আলমারিতে। এক সাইড ভরা শাড়ি আর শাড়ি। ভ্রু কুঁচকালেন তা দেখে। কি আশ্চর্য তার ছেলের আলমারিতে মেয়েদের শাড়ি! শাড়ি গুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে এগুলো অল্প বয়সী মেয়েদের শাড়ি। এগিয়ে গিয়ে শাড়ি গুলাতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে বলল-
“ কি রে তোর আলমারি তে মেয়েদের শাড়ি আসলো কোথা থেকে?”
তেহরান চমকালো। সে খেয়ালই করে নি যে তার মা এসেছে রুমে। পিছু ফিরে মা কে শাড়ি গুলোর দিকে অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল-

“ তোমার বউমার জন্য কিনেছি। ”
ছেলের এমন কথা শুনে সরল দৃষ্টিপাত করে ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল- “ তোর তো বিয়েই হয় নি। বউমা আসলো কোথা থেকে?”
“ বিয়ে হয় নি,হবে তো সামনে। তোমার সেই বউমার জন্যই। ”
“ রুমাইসা! ”
“ হু। ”

তানজিলা বেগম শাড়ি গুলো গুনে দেখলেন। হবে ১৫-১৭ টা। কালেকশন গুলো দারুন শাড়ির। আলমগীর আহমেদ তাড়া দিতেই তাড়া সকলে বের হলেন নওগাঁর উদ্দেশ্যে।
দিনটা আজ বুধবার । তেহরানের পুরো পরিবার এসেছে মেহরিন দের বাড়িতে। আগামী শুক্রবার তারা রুমাইসা কে দেখতে সুলতান ভিলায় আসবে। এ কথা রুমাইসার কানে এসে পৌঁছালো দুপুরের নাগাত। কথাটা শুনেই মনটা ভার হয়ে গেছে। তার ভালো লাগছে না। শুক্রবার তেহরানরা আসবে তাকে দেখতে। আর আগামীকাল তার তূর্ণর সাথে দেখা করার কথা। কোন দিকে যাবে সে? তূর্ণ কে বিষয় টা বলতেই তূর্ণ বললো – সমস্যা নেই। তোমাকে সাথে করে নিয়েই তোমার বাড়িতে যাব। তোমার পরিবারের পায়ে ধরে হলেও রাজি করাবো।
রুমাইসার সে কথা শুনে কি যে ভয় লাগতে শুরু করলো। মেহরিন কে বললো বিষয় টা। মেহরিন কি বলবে বুঝতে পারলো না। সেজন্য স্বামী কে ফোন করলো। সোলেমান তখন সবে নিবাসে এসেছে। আগামীকাল নঁওগা যাবে সে। বউয়ের ফোন পেয়ে রিসিভ করে কানে নিতে নিতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতে যেতে সালাম দিয়ে বলল-

“ সব ঠিকঠাক আছে বিবিজান? কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?”
মেহরিন সালামের জবাব দিয়ে বলল-
“ জ্বি সব ঠিকঠাক আছে। আপনি এখন কোথায়?”
“ বাসায় আসলাম কেবল। ”
“ একটা কথা বলতাম। ”
“ হু বলো না। ”
“ আপনার তূর্ণ কে পছন্দ হলো না কেনো? কি সমস্যা ছিলো তার মাঝে? ”
“ এমনি হলো না পছন্দ। কেনো তেহরান কে তোমার পছন্দ হয় নি?”
“ আমার ভাই,পছন্দ হবে এটাই স্বাভাবিক। বাট আমার আপনার পছন্দে কি আসে যায়? সংসার তো আমি আপনি করবো না। করবে আপু। সেক্ষেত্রে তার পছন্দ অপছন্দ কে মূল্যায়ন করুন। ”

“ তার মতামত কেই আমি মূল্যায়ন করেছি। ”
“ কিভাবে? তার পছন্দ না তেহরান ভাইয়া কে। ”
“ তেহরান কে পছন্দ না হলে,আশা করি তার তূর্ণ কেউ পছন্দ হবে না। ”
“ এ কথা বললেন কেনো?”
“ এমনি। তুমি কি এটাই বলতে চাচ্ছিলে? নাকি অন্য কিছু?”
“ তূর্ণ দেখা করবে আপুর সাথে। ”
“ কিজন্য? ”
“ জানি না। দুজন দু’জন কে খুব ভালোবাসে। বিষয় টা আরেকটুখানি ভেবে দেখুন না। ”
“ ভাবাভাবি আমার শেষ মেহরিন। দেখা করতে চাইছে রুমাইসা? ওকে,তাহলে শেষ বারের মতো দেখা করে আসুক। আমি জানি ও আর দ্বিতীয় বার দেখা করতে চাইবে না তূর্ণর সাথে। তেহরান কেও পাঠাবো সাথে। ”
“ কি! ”
“ আশ্চর্য হচ্ছো কেনো? তেহরান কে পাঠিয়ে দিব। এখন এই টপিক রেখে বলো বাচ্চা আর বাচ্চার মা কেমন আছে?”
“ ভালো আছে। তবে বাচ্চা নাকি তার বাবা কে খুব মিস করতেছে বললো। ”
“ আর বাচ্চার মা? ”

“ বাচ্চার মায়ের ইচ্ছে অনিচ্ছায় আর কি যায় আসে। বাচ্চা বাবা তো তার সময় হলে তখনই আসে।”
“ এতো বড় মিথ্যা অপবাদ! এখনই চলে আসবো তাহলে নওগাঁ ”
“ হু দিলাম না হয় মিথ্যা অপবাদ। এতে যদি স্বামী পাই কাছে,তাহলে এমন মিথ্যা অপবাদ আরো দিব। আমি বিশ্বাস করি সম্পর্কে সময় না দিলে পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর ভালবাসাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়! আর আমি চাই না আমাদের ভালোবাসা শেষ হয়ে যাক। ”
সোলেমান উল্টা হাঁটা ধরলো। নিবাস থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠতে নিবে এমন সময় ইয়াসিন এসে জিজ্ঞেস করলো-

“ কোথায় যান? ফাইল রেখে আসছিলেন ক্লাবে। ”
সোলেমান ফাইল টা গাড়ির পেছনের সিটে ফেলে দিয়ে বলল-
“ নওগাঁ। ”
মেহরিন চমকালো সে কথা শুনে।
“ সত্যি নওগাঁ আসছেন? ”
“ হু জান। ”
ইয়াসিন সে কথা শুনে লাফ দিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে উঠে বসে বলল-
“ একা একা গেলে পুরো রাস্তা বোর হয়ে যাবেন ভাই। সেজন্য আমার যাওয়া উচিত আপনার সাথে। ”
সোলেমান ভ্রু কুঁচকালো সে কথা শুনে। বিরবির করে ওরে বাটপার বলে গাড়িতে উঠে বসলো। ইয়াসিন স্লো ভলিউমে গান ছেড়ে লা লা লা করতে করতে গাড়ি চালালো।
সন্ধ্যার দিকে বাড়ির বাগানে চেয়ারে বসে ছিলো বাতাসি, অয়ন, রুমাইসা। তারা কথাবার্তা বলছে,হাসছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বাতাসির হোয়াটসঅ্যাপে মিথির মেসেজ আসে। কয়েকটা ছবি পাঠিয়েছে। যেখানে ইয়াসিন তিন্নি ম্যামের সাথে হোটেলে বসে খাবার খাচ্ছে। এখানে পরকীয়ার কি হলো বাতাসি তা বুঝতে পারলো না। খেতেই পারে খাবার। হোটেল টা স্কুলের ওদিকেই। আর তাছাড়া ইয়াসিন তো হোটেলেই খাচ্ছে। হয়তো দেখা হয়ে গেছে। বাতাসি মাথা ঘামালো না। আড্ডায় মনোযোগ দিলো। এই ডক্টর অয়ন লোকটা খুব মজার। এমন এমন কথা বলে যে না হেঁসে পারা যায় না।

ঠিক সেই সময় ভিলার গেট দিয়ে কালো একটা গাড়ি প্রবেশ করে। বাতাসির খেয়ালে আসে না। সে হাসতে ব্যস্ত। ইয়াসিন গাড়ির ভেতর থেকেই দেখলো বাতাসি কে। হাসছে! এভাবে প্রাণ খুলে হাসছে! এভাবে হাসতে তো ইয়াসিন কখনো দেখে নি তাকে। সব সময় টলমল কান্না চোখে দেখে এসেছে। আর সেই চোখেই ইয়াসিন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তবে আজ এ কোন বাতাসি কে দেখছে সে? হাসিটা সুন্দর। তবে ইয়াসিন মানতে পারলো না। সোলেমান ততক্ষণে গাড়ি থেকে বের হয়ে হাঁটা ধরেছে। রুমাইসা দৌড়ে এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরলো। ইয়াসিন গাড়িটা পার্কিং-এ রেখে কঠিন চোখে একবার বাতাসি কে দেখে চলে গেলো।
বাতাসি একবার চেয়েছিল ইয়াসিনের পানে। চোখাচোখি হতেই আর তাকায় নি। অয়নের সাথে কথায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইয়াসিন রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসলো পা ঝুলিয়ে দু হাত খাটে ভর দিয়ে। পা দুলাতে দুলাতে বারবার দরজার পানে তাকালো। কিরে কেউ তো আসছে না এই দরজা দিয়ে। পরক্ষণেই ইয়াসিন নিজের মন কে প্রশ্ন করলো- কে আসবে? কার অপেক্ষা করছিস তুই?
ইয়াসিন বিছানা থেকে উঠে জানালার সামনে আসলো। রুমের ঠিক নিচেই এখনও বাতাসি অয়নের সাথে গল্প করছে হেঁসে হেঁসে। ইয়াসিনের সহ্য হলো না। বোতল টা হাতে নিয়ে কুলি করার জন্য পানি নিলো মুখে। তারপর সেই মুখ ভর্তি পানি সব ছুঁড়ে ফেললো নিচে। গিয়ে পরলো অয়নের গায়ে। ইয়াসিন পৈশাচিক ভাবে হেঁসে জানালা থেকে সরে গিয়ে বলল- বেশ হয়েছে।
অয়ন রীতিমত চমকে গেছে আকস্মিক এভাবে গায়ের উপর পানি এসে পড়েছে দেখে। বাতাসিও বুঝলো না কোথা থেকে আসলো এই পানি। অয়ন রুমে চলে গেলো শার্ট বদলাতে। বাতাসি ধীর পায়ে রুমের দিকে আসতেই ইয়াসিন থাবা মেরে হাত ধরে বলল-

“ আমি এসেছি কতক্ষণ হলো?”
বাতাসি ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ গুনে দেখি নি। ”
মেজাজ খারাপ হয়ে গেল সে কথা শুনে।
“ আমার পিছু পিছু রুমে আসা উচিত ছিলো না তোমার?”
“ না।”
ইয়াসিন আরো চেপে ধরলো হাত।
“ লাগছে আমার। ”
“ লাগার জন্যই তো ধরেছি আমি। এমন লাগা আমারও লেগেছে। ”
বাতাসি চোখ তুলে তাকালো।
“ আপনার লেগেছে মানে? আমি তো কখনও আপনার হাত এভাবে পিশাচের মতো চেপে ধরি নি। ”
ইয়াসিনের কপালে কয়েক ভাজ পরলো এই কথায়। পিশাচ বললো তাকে!

“ আমি পিশাচ তাই বললে?”
“ সেটা কখন বললাম। বলেছি পিশাচের মতো হাত ধরেছেন। ছাড়ুন ব্যথা করছে। ”
“ করুক ব্যথা। তুমি ঐ অয়নের সাথে এতো নিকনিক করছিলে কেনো?”
“ নিকনিক কোথায় করলাম? ”
“ আমি কি তাহলে চোখে ভুল দেখলাম বলছো? হাসো নি? ”
“ হ্যাঁ এসেছি। ”
“ কেনো হাসবে? ”
“ আমার কি হাঁসাটাও বারন? হাসলে কি আপনার থেকে পারমিশন নিয়ে হাঁসতে হবে?”
“ অবশ্যই। ”
“ দুঃখিত পারবো না। ”
“ তা পারবে কেনো? পর পুরুষের সাথে হেঁসে কথা বলতে বুঝি ভালো লাগে?”
“ তারজন্য দায়ী আপনি। যাই হোক কথায় কথা বাড়ে। আমাকে ছাড়ুন। ”
ইয়াসিন বাতাসির হাত ছেড়ে দিয়ে বলল-

“ অয়নের সাথে আর হেঁসে হেঁসে কথা বলবে না। আমি তো বলি কথাই বলার দরকার নেই। ”
বাতাসি সাথে সাথে পেছনে ফিরে বলল-
“ আর ইউ জেলাশ ইয়াসিন আহমেদ?”
ইয়াসিন সাথে সাথে বাতাসির দিকে তাকালো। চমকিত গলায় বলল-
“ হোয়াট! কিসব ননসেন্স কথাবার্তা বলছো। কিসের জেলাশ আমি? আর কাকে নিয়ে হবো? তোমাকে নিয়ে? ও মাই গড,সিরিয়াসলি! ”
“ তাহলে আমাকে মানা করছেন কেনো? আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। আমি যা ইচ্ছে হয় তাই করবো। আমি তো আপনার কোনো বিষয়ে আপনাকে বাঁধা দেই না। আপনিও সেটা করুন। ”
“ দুঃখিত পারছি না। বাই দ্যা ওয়ে,আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার পর কি অয়ন কে বিয়ে করতে চাইছো নাকি? সেজন্য এতো আহ্লাদিপনা? আমার মনে হয় না অয়ন তোমাকে বিয়ে করবে। ”
বাতাসি স্মিত হাসলো।

“ সবাই কে নিজের মতো ভাববেন না। সবাই ইয়াসিন না। সবাই ইয়াসিনের মতো সৌন্দর্যের পাগল না। তবে আপনাকে আজ একটা কথা বলি। একদিন আসবে যেদিন আপনি সৌন্দর্যের বাহিরে গিয়ে পৃথিবীর সকল নিয়ম ব্রেক করবেন। আমাকে, এই কালো বাতাসি কে পাওয়ার জন্য তড়পাবেন। কিন্তু আমি বাতাসি সেদিন আর আপনার জীবনে ফিরবো না। মিলিয়ে নিয়েন। ”
ইয়াসিন শব্দ করে হাসলো এই কথা শুনে। হাসতে হাসতে বলল-
“ কোনোদিনও আসবে না এই দিনটা আমার জীবনে। ”
“ আসবে আসবে,ঠিকই আসবে। এই সেম ঔদ্ধত্যটা যেন সেদিনও থাকে। সেদিনের জন্য বাঁচিয়ে রাখুন। ”
“ বাজি ধরছো?”
“ ধরলাম। ”
“ ঠিক আছে। আমিও দেখি। ”
“ দেখুন। ”
বাতাসি গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো।

সোলেমান ভিলায় আসার পর থেকেই মেহরিন কে পাশে নিয়ে বসে আছে এক হাতে জড়িয়ে ধরে। ভালো লাগছে,কি শান্তি এই মেয়েটার কাছে। পৃথিবীর সকল সুখ যেন এই মেয়েটার কাছে আসলেই সোলেমান অনুভব করে। মেহরিনের ইদানিং বড্ড মুড সুয়িং হয়। সোলেমানের ফোন টা হাতে নিয়ে তার ফেসবুক আইডি তে ঢুকে ফ্রেন্ড লিস্টে ঝুলতে থাকা মেয়ে গুলোর রিকুয়েষ্ট ডিলিট করে দিলো। মেসেঞ্জারে নিউ মেসেজে আর স্প্যামে ঝুলতে থাকা মেয়েদের ব্লক করে দিলো। একটা মেয়ে গরুর রচনা পাঠিয়েছিল ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে। মেহরিন সেটা পড়ে রেগে বোম হয়ে গেলো। মেয়েটা কে লিখলো- লজ্জা করে না অন্যের স্বামী কে এসব লিখতে? বেহায়া মেয়ে কোথাকার।
তারপর ব্লক করে দিলো। সোলেমান মুখের সামনে হাত রেখে হাসছে বউয়ের বাচ্চামো দেখে। মেহরিন সেটা বুঝতে পেরে বলল-

“ হাসছেন কেনো? হাসার মতো কোনো কিছু ঘটেছে এখানে?”
সোলেমান দুদিকে মাথা নেড়ে বলল-
“ না তো। ”
“ তাহলে হাসি বন্ধ করুন। আর এই মেয়েরা এতোটা সাহস পায় কি করে আপনাকে মেসেজ দেওয়ার? ”
“ বড্ড সাহস বেড়েছে মেয়েদের। কত বড় সাহস মেহরিন সুলতানের স্বামী কে মেসেজ দেয়! সামনে পেলে থুথু দিয়ে দৌড় দিব। ”
মেহরিন বাঁকা চোখে তাকালো। তারপর ঠেসে মাথা রাখলো বুকে। ফোনের রিলস অপশনে ঢুকলো। সোলেমানের আইডির রিলসে ভালো কিছু আসছে না। শুধু রাজনৈতিক ভিডিও,খবরের নিউজ। মুড আরো নষ্ট হলো। রিলস থেকে বের হতে নিবে এমন সময় চোখ আটকে গেলো একটা খবরে। স্বামী তার স্ত্রী কে নিজ হাতে মে’রে ফেলেছে শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুকের পুরো টাকা এখনো দেওয়া হয় নি বলে। রাগে শরীর কেঁপে উঠলো। বিরবির করে বলল- জানোয়ার কোথাকার।
সোলেমান বকাটা শুনে ভিডিওর দিকে তাকালো। ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলল-

“ আমার ফেসবুক ফিড তুমি নিতে পারবা না। দেখো না আর। ”
মেহরিন হাত দিয়ে সোলেমান কে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ ডুবে দিয়ে বলল-
“ মানুষ কে মানুষ এভাবে কিভাবে মা’রতে পারে সুলতান সাহেব? তাহলে তো আমাকে মে’রে ফেলা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ। ”
সোলেমান ভ্রু কুঁচকালো।
“ কিভাবে সহজ? আমি সামনে থাকতে তোমাকে মেরে ফেলা সহজ হয় কি করে?”
“ অন্য দের কথা বলি নি। আপনার কথা বলেছি।আমাকে মারতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই আপনার । আপনি শুধু আপনার কথার সুর পাল্টে ফেলেন, দেখবেন,আমি মরে গেছি..! ”
সোলেমান শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মেহরিন কে।

“ তোমার কাছে আমি কখনই কঠিন হবো না মেহরিন। আমার কথার সুর কখনই তোমার জন্য শক্ত হবে না। আমি নিজেকে তোমার জন্য পানির ন্যায় সহজ নির্মূল বানিয়ে তারপরই কাছে আসি। আমার রাজনীতি রূপ তুমি নিতে পারবে না এ আমি জানি। রাজনীতি করা সোলেমান তোমার জন্য না। তোমার জন্য তোমার সুলতান সাহেব। ”
মেহরিন গভীর শ্বাস ফেললো। সোলেমানের শরীরের মিষ্টি পুরুষালী ঘ্রাণ তার নাকে আসছে। এই ঘ্রাণটা অনেক সুন্দর। মেহরিন আলতো হাতে সোলেমানের শার্টের বোতাম একটা একটা করে খুলতে লাগছিলো। ঠিক সেই মুহূর্তে সোলেমান মেহরিনের হাত আঁটকে দিলো। ফিসফিস করে বলল-
“ কি করতে চাইছো? ঠিক থাকতে দিবে না নাকি আমায়? ”
মেহরিন ভরকে গেলো। ঢোক গিলে বলল-
“ শার্ট টায় ভালো লাগছে না। খুলে ফেলুন। ”
“ শার্ট খুলতে বলছো? ওকে খুলে ফেলবো। তারপর আমি তোমার পোশাক খুললে আবার বাঁধা দিতে আসবে না তো? তখন কিন্তু তাহলে আমিও বলবো এই পোশাকে তোমায় ভালো লাগছে না। ”
মেহরিন লজ্জা পেলো। অন্য দিকে ঘুরে বলল-

“ দরজা লাগিয়ে, লাইট নিভিয়ে আসুন। ”
সোলেমান ঠোঁট টিপে হাসলো। শার্ট টা শরীর থেকে একটানে খুলে দরজা লাগিয়ে দিয়ে লাইট নিভিয়ে দিয়ে বউয়ের কাছে আসলো। বউয়ের তুলতুলে নরম শরীরের সংস্পর্শ পেতেই আরো মাতোয়ারা হয়ে গেলো সোলেমান। গালে কপালে ঘাড়ে অসংখ্য চুম্বন এঁকে দিলো। তারপর বউয়ের সাথে শারীরিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে একেবারে মিশে গেলো। যতটা মিশে গেলে আর চুল পরিমাণ ও দূরত্বও থাকে না তাদের মাঝে।

মেঘলা দিন। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানিয়েছে আগামী চার দিন প্রবল ঝড় বৃষ্টি হবে। এখন একটু ফোটা ফোটা বৃষ্টি হচ্ছে তবে বাতাস খুব তীব্র। রুমাইসা ছাঁদে বসে আছে। বাতাসে তার চুল গুলো খেলাধুলা করছে উড়ে। পরনের ওড়না টাও খেলতে চেয়েছিল বাতাসের সাথে তবে রুমাইসা শক্ত করে ধরে আছে। আজকের দিনটা কেনো শেষ হচ্ছে না? কেবল বাজে বিকেল ৪ টা। তূর্ণ কে সামনা-সামনি দেখার পিপাসা এতটা তীব্র যে বারবার গলা শুকিয়ে আসছে রুমাইসার। হৃদয় টা ভার হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ মা কে জড়িয়ে ধরে ছিলো। তারপর কিছুক্ষণ মেহরিনের কাছে গিয়েছিল। মেহরিনের পেটের দিকে তাকিয়ে বাবুর সাথে অনেক কথা বললো। এতো কথা সে আগে কখনো বলে নি। তার কথা ফুরাতেই চাইলো না। মেহরিন বিস্ময় হয়ে দেখলো রুমাইসা কে। কেমন রুদ্ধ গলায় বলছে –

“ এই বাবু শুনতে পাচ্ছ ফুপির কথা? কবে আসবে তুমি পৃথিবীতে? শুনো, আমি তোমাকে অনেক আদর করবো। আমার ভাইয়ের ভালোবাসায় ভাগ দিয়েছো। আমার ভাইয়ের কলিজা কিন্তু আমি। এখন তুমি তা হতে যাচ্ছ। তবে শোনো আমার ভাই কিন্তু তোমার থেকে আমাকে বেশি ভালোবাসে। এটা নিয়ে হিংসে করবে না আমাকে। গাল ফুলাবে না। আমার সবটুকু ভালেবাসা কিন্তু তোমাকে দিয়ে দিব। তাই আমার জন্য এতটুকু সেক্রিফাইজ করবে। তোমার কিন্তু মা আছে বাবা আছে। আমার কিন্তু ভাইয়া ছাড়া কেউ নাই হু। আমার মতো এতিম কে নিয়ে রাগ করলে কিন্তু কষ্ট পাবো হু। ”
মেহরিন চুপচাপ শুনলো। আরে কিছুক্ষণ থেকে রুমাইসা ছাঁদে চলে গেলো। তাকে সুখের সাথে সাথে দুঃখও চেপে ধরছে গলা টিপে। রুমাইসা দমে-দমে শ্বাস ফেললো। তারপর ঝুম বৃষ্টি হতেই বৃষ্টি তে ভিজলো। সকল দুঃখ তার বৃষ্টির পানির সাথে চলে যাক। তার দুঃখ ভালো লাগে না। শুধু সুখ ভালো লাগে।
অস্ট্রেলিয়ায় আজ টানা এক সপ্তাহ পর রোদ উঠেছে। এজওয়ান সকালের খাবার সাজিয়ে মাহি কে ডেকে তুললো। বেয়াদব বউ বড্ড ঘুম কাতুরে। স্বামীর তো সেবাযত্ন করবেই না স্বামী হয়ে এজওয়ানের করতে হয় বউয়ের যত্ন। মাহি বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলো। তবে তার আজকে বাসায় খেতে ইচ্ছে করছে না। সেজন্য দু হাত বুকে গুঁজে বলল-

“ বাড়িতে খেতে ইচ্ছে করছে না। ”
“ তাহলে কোথায় খাবে?”
“ বাহিরে। ”
“ ঠিক আছে বাহিরে যাও আমি আসছি। ”
মাহি বাহিরে আসলো। ফোনে নিজেকে দেখে নিলো। ঠিকঠাক ই আছে। বাহিরে গিয়ে খেতে সমস্যা হবে না।
এজওয়ান এক হাতে পানির গ্লাস আর অন্য হাতে খাবারের প্লেট বাগানে নিয়ে এসে মাহির হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল-
“ এবার খেতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না তোমার। ”
মাহি ভ্রু কুঁচকালো হাতে খাবার দেখে।
“ খাবার নিয়ে এসেছেন কেনো বাহিরে? ”
“ তুমিই তো বললে বাহিরে খাবে। সেজন্যই তো বাহিরে নিয়ে আসলাম খাবার। ”
মাহি রেগে বোম হয়ে গেলো।

“ পাগল ব্যাডা,আমি এই বাহিরের কথা বলি নি। বাহিরে মানে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা বলেছি। ”
“ ওহ আচ্ছা। তাহলে আমার রান্না করা খাবার গুলোর কি হবে? আমার কষ্টের সময়ের মূল্য নেই?”
“ পরে গরম করে খেতাম। ”
“ পরেই না হয় বাহিরে গিয়ে খেয়ো। আচ্ছা যাও লাঞ্চ টা বাহিরে করবো। দুপুরে তো বের হবো। ল্যাবে যাব ভার্সিটি তেও যাব। তখন রেস্টুরেন্টে যাওয়া যাবে। ”
মাহি বাহিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই খাবার টা খেলো মুখ ফুলিয়ে। দুপুরের দিকে এজওয়ান রেডি হলো। মাহিও রেডি হলো। তবে আগের থেকে এখন মাথার চুল বড় হয়েছে বলে আঁচড়াতে গেলে রাগ উঠে যায়। পার্লারে গিয়ে চুল গুলো আবার ঘাড় অব্দি কে’টে ফেলতে হবে। খুব বিরক্তি নিয়েই চুল টেনে টেনে আঁচড়াতে যাচ্ছিলো। এমন সময় এজওয়ান এসে থাবা দিয়ে চিরুনি টা নিয়ে নিজ হাতে যত্ন করে আঁচড়ে দিলো। তারপর হেয়ার স্প্রে করে হেয়ার ব্যান টা মাথায় বসিয়ে দিলো। আয়নার দিকে তাকিয়ে মাহির কাঁধে থুতনি রেখে বলল-

“ চুল গুলো আর কেটো না তরিকুলের বেটি । আমার লম্বা চুল খুব পছন্দ। চুল গুলো লম্বা করো এবার। সমস্যা নেই আমি যত্ন নিব তোমার চুলের সাথে তোমার। ”
মাহি হ্যাঁ না কিছু বললো না। তাকিয়ে রইলো এজওয়ানের ঐ গভীর রহস্যময় নীল চোখে। এই চোখ কি যেন বলে বারবার। মাহি বুঝতে পারে না। হয়তো বোঝার চেষ্টাই করে না। সেজন্য বারবার সরিয়ে ফেলে দৃষ্টি। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারে না ঐ নীল চোখের দিকে।
“ আপনি আমার এতো যত্ন নিতে চান কেনো এজওয়ান? ”
“ যত্ন তারাই করে, যাদের যত্ন করার কেউ নেই তরিকুলের বেটি। ”
“ আপনার এমন কথাবার্তা আমাকে অপরাধী ভাবায় ভীষণ। ”
“ আমার অপরাধী তুমি। তাই এমন মনে হয়। স্বাভাবিক। ”
“ আপনাকে আমি পুরোপুরি কিভাবে জানতে পারবো ? আপনি কিছুই বলেন নি আপনার বিষয়ে আমাকে। ”
“ তুমি বলেছো নিজের বিষয়ে?”
“ আমার মাঝে লুকানোর কিছুই নেই। সব জানা আপনার। আমার পরিবার থেকে শুরু করে সব। ”
“ হু সব জানি সব। কি জানতে চাও আমার বিষয়ে বলো। ”
“ আপনার মায়ের নাম কি? উনি ফ্রান্সের নাগরিক ছিলো তাই তো? ফ্রান্সে আমার মা ও থাকতো। আচ্ছা আপনার মায়ের নাম কি?”

“ আপনার মা আপনার মা এটা বলো না। আমাকে ভীষণ পীড়া দেয় এই শব্দ টা। ”
“ আচ্ছা উনার নাম টা বলুন। ”
“ এমিলা সুলতান। ”
“ ফ্রান্সের কোথায় থাকতো? ”
“ যতদূর জানি রেইমস শহরে। ”
মাহি ভ্রু কুঁচকালো সে কথা শুনে। তার মা ও তো রেইমস শহরের maison du bon pasteur এতিমখানায় থাকতো।
“ আপনার মা দেখতে কেমন ছিলো? ”
“ জানি না দেখতে কেমন ছিলো। দেখিনি তাকে।”
“ সিরিয়াসলি ইউ হ্যাভ নেভার সিন ইউর ম্যাদার? ”
“ ইয়েস, আই হ্যাভ নেভার সিন মাই মম। ”
মাহি অবাক হলো। যতই ঘৃণা করুক মা কে। তাই বলে একটা লোক জানবে না তার মা দেখতে কেমন ছিলো!
“ নেভার ফিল্ট কিউরিয়াস? হোয়াট ডিড ইউর ম্যাদার লুক লাইক?”
“ নো। ”
“ বাট হোয়াই?”
“ আই নো শ্যি ওয়াজ অ্যা বিউটিফুল লেইডি। লাইক দ্যা মুন। ”
“ হাউ?”
“ ছোট বেলায় মা বলতে আমি চাঁদ কেই দেখতাম। চাঁদ কেই ডাকতাম। ”
“ আমার আপনার জন্য সত্যি খারাপ লাগছে। আমি তাও আপুর ভালোবাসা পেয়েছি। আপুর সান্নিধ্যে থেকেছি। বাট আপনি তো একা থেকেছেন। ”

“ বাট আমার লাগে না নিজের জন্য খারাপ। এখন থাকুক পুরোনো কথা। চলো যাওয়া যাক? ”
এজওয়ান মাহি কে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। প্রথমে ভার্সিটি তে আসলো তারা। আজ ভার্সিটি তে পোগ্রাম আছে। সাজানো হয়েছে পুরো ভার্সিটি। দুদিন পরপরই কোনো না কোনো অনুষ্ঠান হতেই থাকে। ভার্সিটি পা রাখতেই জুনিয়ররা এসে টেনে ধরলো। এখন নাকি এজওয়ান কে নাচতে হবে। বাহাদুর জাউরা এজওয়ান কে ছাড়লোই না। এজওয়ান নিজের ফোন থেকে একটা গান সিলেক্ট করে দিয়ে বলল এটা বাজাতে। তারপর জুনিয়র ছেলে মেয়ে সকলকে নিয়ে মাঠের মাঝখানে এই গানে নাচ করলো।
নেশা আমার পেশারে ভাই,নেশা আমার পেশা,
নেশা একদিন নিয়ে যাবে মরনেরই দশা।
মা-বাবার ইচ্ছা ছিল পরবো ভার্সিটি,
সোনার জীবন ছাইড়া দিয়া,ধরলাম রাজনীতি।
ছাইড়া দিলাম খাতা কলম,ছাইড়া দিলাম বই,
মাঝে মাঝে ঐ বাড়িতে সিদ্দি লইয়া বয়ই।
ঐ বাড়ির এক মাইয়া ছিল,সিদ্দি খাওয়াইতো,
চরিএটা নষ্ট কইরা হীরোইনসি বানাইলো।
পুলিশ শালা পরের পোলা দুঃখ বোঝেনা,
ঘিরা-ঘারাই বারি মারে,সইতে পারিনা।

মাহি সহ সেখানে থাকা কয়েকজন বাঙালি ছাত্রছাত্রী গানের কথার মানে বুঝে ফেলেছিলো। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে। মাহি তো হাসতে হাসতে প্রায় দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা।
একজন বিদেশি ছাত্রী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“Why are you guys laughing so much?”
মাহি হাসতে হাসতেই বলল-
“If you understand the meaning of the lyrics… you will laugh too.”
তারা কিছুই না বুঝলেও গানের তালে তালে নাচগানটা বেশ উপভোগ করছিলো। অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে গেলো। ভার্সিটির পক্ষ থেকেই সবার জন্য লাঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। বড় ডাইনিং হলে লম্বা টেবিল সাজানো। বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা খাবারের আইটেমও রাখা হয়েছে।
মাহি ট্রে হাতে নিয়ে একটু ইতস্তত করছিলো। ঠিক তখনই এজওয়ান এসে তার পাশে দাঁড়াল।
গম্ভীর অথচ মৃদু স্বরে বলল-

“চলো, ওদিকে বসি।”
মাহি মাথা নেড়ে তার সাথে গিয়ে বসলো। দুজনেই খুব বেশি কথা বললো না। কিন্তু অদ্ভুত এক নীরবতা তাদের মাঝে ছিলো যেটা অস্বস্তিকর নয়, বরং গভীর।
খাওয়া শেষ হওয়ার পর এজওয়ান বলল-
“চলো, তোমাকে একটা জায়গা দেখাই।”
মাহি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কোথায়?”
এজওয়ান শুধু হালকা হাসলো।
“দেখলেই বুঝবে।”
ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে তারা গাড়িতে করে গেলো। শহরের কোলাহল থেকে একটু আলাদা, শান্ত একটি জায়গা। সেখানে একটি দুইতলা ভবন দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায় এটি সাধারণ কোনো অফিস নয়।
ভবনের সামনে ছোট একটি সাইনবোর্ড।

এজওয়ান গাড়ি পার্ক করে মাহিকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলো। সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো দ্বিতীয় তলায়। করিডোরটা বেশ নিরিবিলি। করিডোরের একদম শেষ কর্ণারে একটি বড় দরজা। এজওয়ান দরজাটা খুলে দিলো।
মাহি ভেতরে ঢুকতেই কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়িয়ে গেলো। রুমটা বিশাল। চারিপাশের তিন দিক জুড়ে বড় বড় কাঁচের জানালা। জানালা দিয়ে বাইরে দূরের সবুজ গাছপালা আর আকাশ দেখা যাচ্ছে। সূর্যের আলো সরাসরি ভেতরে ঢুকে পুরো ঘরটাকে উজ্জ্বল করে রেখেছে।
রুমের মাঝখানে কয়েকটা বড় ল্যাব টেবিল। টেবিলের উপর ছড়িয়ে আছে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি,মাইক্রোস্কোপ, ডিজিটাল স্ক্রিন, বিভিন্ন সেন্সর আর কাঁচের ভায়াল ভর্তি রঙিন কেমিক্যাল।
এক পাশে পুরো দেয়ালজুড়ে বুকশেলফ। সেখানে সারি সারি মোটা মোটা গবেষণার বই, জার্নাল আর ফাইল সাজানো।
আরেক পাশে বড় একটি ডিজিটাল বোর্ড। সেখানে জটিল সব সমীকরণ আর ডায়াগ্রাম আঁকা। মনে হচ্ছে অনেক রাত জেগে এগুলো লিখেছে কেউ।
রুমের এক কোণে এজওয়ানের ব্যক্তিগত ডেস্ক। বড় একটি কম্পিউটার মনিটর, কয়েকটা ফাইল আর একটি কালো কফি মগ রাখা।
মাহি ধীরে ধীরে চারদিকে তাকাচ্ছিলো। তার চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।
“এইটা… আপনার ল্যাব?”
এজওয়ান মাথা নেড়ে বলল-
“হ্যাঁ। এখানে আমি আমার বেশিরভাগ রিসার্চ করি।”
মাহি কয়েক পা হেঁটে জানালার পাশে দাঁড়াল। বাইরে তাকিয়ে আবার রুমটার দিকে ফিরলো। এজওয়ান চোখ টিপে বলল-

“ আজ রাত টা আমরা এখানেই থাকবো। কি বলো?”
“ আমি থেকে কি করবো?”
“ তোমাকে শেখাবো। দেখাবো। ”
“ কি? ”
এজওয়ান লজ্জা পাওয়ার ভান করে বলল-
“ ইয়ে মানে…”
“ কি ইয়ে মানে? ”
এজওয়ান সিরিয়াস মুডে আসলো।
“ কি আবার? আমার রিসার্চ সব দেখাবো আর শেখাবো। আসো। ”
টেনে কোলের উপর বসালো। তারপর একটা একটা করে সব ডাটা সব ফাইল দেখালো। পরবর্তী তে এজওয়ান ঠিক কি বানাতে যাচ্ছে। কাজ করতে করতে প্রায় অনেক রাত হয়ে গেলো। মাহি হাই তুলতেছে। বাহাদুর সন্ধ্যার পর খাবার দিয়ে গিয়েছিল। সেগুলো খেয়েছে তারা। মাহি ঘুমঘুম চোখে এজওয়ানের উপর ঢোলে পড়লে এজওয়ান সাথে সাথে মনিটর টা বন্ধ করে দেয়। ঘুমন্ত মাহির ঠোঁটে চুমু খেয়ে এজওয়ান পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে বাহাদুর কে ফোন করে। বাহাদুর ফোন টা রিসিভ করতেই এজওয়ান বলল-
“ আমার ল্যাবের দরজার বাহিরে থাকা সিসিটিভির লাইন টা বন্ধ করে দে। আমি চাই না আমার রুমের কোনো অযাচিত শব্দ কোথাও রেকর্ড হোক। ”
বাহাদুর নিচ থেকে সিসিটিভির লাইন টা বন্ধ করতেই এজওয়ান বলল-
“ এবার তুই বের হ। এই বিল্ডিংয়ে এক কিলোমিটারের আশেপাশে যেন তোর অস্ত্বিত্ব আমি খুঁজে না পাই। ”
বাহাদুর চলে গেলো। এজওয়ান মাহি কে কোলে নিয়ে কানের লতিতে ছোট্ট করে কামড় বসিয়ে বলল-
“ মাই লাভ,মাই ওয়াইফি প্লিজ ওয়েক আপ। অনেক ঘুমিয়েছো,আর না। আজ রাত টা মোটেই ঘুমানোর জন্য না। আজ রাত টা শুধুই সাইক্লোন সহ্য করার। ”

রুমাইসা আজ তূর্ণর পাঠানো শাড়িটা পড়েছে। তূর্ণর কথামতো একগুচ্ছ গোলাপ গুঁজেছে কানের পাশে। লাল লিপস্টিক দিয়েছে ঠোঁটে। চোখে টানা করে কাজল নিয়েছে। হাতে সাদা রেশমি চুড়ি পড়েছে দু মুঠো। কপালের মাঝ বরাবর কালো টিপ পড়েছে। মেহরিন বিছানায় বসে দেখলো রুমাইসার সাজ। কি হাসিখুশি লাগছে মেয়েটাকে। এই হাসিখুশি টা কি আর আসবে ফিরে? তার তো বিয়ে হয়ে যাবে তেহরান ভাইয়ের সাথে। রুমাইসা হাতের চুড়ি গুলো নাড়িয়ে চাড়িয়ে শব্দ করে মেহরিন কে জিজ্ঞেস করলো-

“ ভালো লাগছে আমাকে? ”
“ খুউউব। ”
রুমাইসা হাসলো। ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে বলল-
“ তাহলে এখন আসি?”
মেহরিন গালে হাত রাখলো। রুমাইসা জড়িয়ে ধরে কি মনে করে যেন বলল-
“ আমার ভাইয়াকে কখনো ছেড়ে চলে যেওনা মেহরিন। আমাদেরও না। আমার খুব কষ্ট হবে তোমাদের ছেড়ে থাকতে। ”
মেহরিন হাসলো। রুমাইসা হেঁসে বেরিয়ে গেলো। রুমাইসা কে যেতে দেখে সোলেমান তেহরান কে ফোন করলো-
“ বের হয়েছো তুমি?”
তেহরান চুল গুলো বা হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে বলল-
“ জ্বি ভাইয়া। ”
“ রুমাইসা বের হয়ে গেছে। সাবধানে বাড়ি নিয়ে আসবে। ”
“ জ্বি ভাইয়া চিন্তা করবেন না। ”
তেহরান মেহরিন দের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।
সোলেমান ফোন কেটে তার গার্ড দের ফোন করলো। তাদের জানালো রুমাইসার পেছন পেছন যেতে। সবসময় দূর থেকে নজর রাখতে। গার্ডরা পেছন পেছন চলে গেলো।
রুমাইসা বাড়ির গাড়ি করে আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যানে আসলো। আজ প্রচুর ভীড় হয়েছে। মানুষের কি যে আনাগোনা। রুমাইসা একটু ভেতরে ঢুকে অপেক্ষা করতে লাগলো তূর্ণর। বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলো। কিন্তু এখনও আসছে না দেখে ফোন করলো। দুবার রিং হয়ে কেটে গেলে তৃতীয় বার রিসিভ হলো। তূর্ণ জিজ্ঞেস করলো-

“ কোথায় তুমি?”
রুমাইসা আশেপাশে তাকিয়ে বলল-
“ আমি ভেতরেই আছি। আপনি কোথায়? ”
“ আমি গেটের এখানে। আচ্ছা তুমি ওখানে অপেক্ষা করো আমি আসছি। ”
তূর্ণ কথাটা বলে ফোন কেটে দিয়ে প্যান্টের পকেটে ভরতে যাবে ফোন টা এমন সময় কারো সাথে প্রচণ্ড ভাবে ধাক্কা লাগলো। তূর্ণ দু কদম পিছিয়ে গেলো,হাত থেকে পরে গেলো ছিটকে ফোনটা দূরে কোথাও। তূর্ণ তাকিয়ে দেখলো একটা পুরুষ মানুষ। সে বিরক্ত চাহনি তূর্ণর উপর নিক্ষেপ করলো। তারপর চলে গেলো। তূর্ণ এদিকে তার ফোন টা খুঁজতে লাগলো। কোথায় ছিটকে পরলো গিয়ে?
রুমাইসা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে রীতিমত বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলো। ফের আবার ফোন করতে নিলে এমন সময় একটা লোক হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে রুমাইসার পেছনে দাঁড়ালো । রুমাইসা হকচকিয়ে গেলো। রুমাইসা কে এসেছে তা দেখার জন্য পেছন ফিরতেই লোকটা মুখ থেকে মাক্স আর চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে বলল-

“ আমি তূ..তূর্ণ রুমাইসা। ”
রুমাইসার চোখ কপালে উঠে গেলো। নিজের চোখ কে বিশ্বাস হলো না। এই লোক তূর্ণ! এই সেই তূর্ণ!
“ আপনিই তূর্ণ! ”
“ হুমম। ”
“ আমি আপনাকে আগেও দেখেছি। ”
“ মনে করো তো কোথায় দেখেছো। ”
রুমাইসা মনে করার চেষ্টা করলো।
“ সেদিন বৃষ্টিতে ভেজা কালিন আপনার সাথে রাস্তায় ধাক্কা লাগায় আমাকে ইডিয়েট বলে চলে গিয়েছিলেন।”
লোকটা হাসলো। রুমাইসা মুগ্ধ হয়ে গেলো সেই হাসি দেখে। কি সুন্দর সেই হাসি। আর এই লোক কিভাবে ভেবেছিল রুমাইসা তাকে রিজেক্ট করবে! এত সুন্দর সুদর্শন পুরুষ কে কেউ রিজেক্ট করে?
লোকটা হাত বাড়িয়ে দিলো। রুমাইসা ইতস্তত করে বা হাত টা বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ আপনার কন্ঠস্বর টা একটু অচেনা ঠেকছে। ”
“ হাল্কা সর্দি লেগেছে কি না সেজন্য। ”
“ আপনার কিন্তু সাদা শার্ট পড়ে আসার কথা ছিলো। ”
“ সাদা শার্ট টায় আজ কফি পড়ে গিয়েছিল আসার পথে। তাই চেঞ্জ করে আসতে হলো। এখন বলো আমাকে তোমার পছন্দ হয়েছে?”
রুমাইসা টেনে বলল-

“ খুউউউব। ”
লোকটা রুমাইসা কে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল-
“ এবার যাওয়া যাক তাহলে?”
“ কোথায়?”
“ আমি যেখানে নিয়ে যাব। ডোন্ট ওয়ারি,সন্ধ্যার আগেই তোমাকে বাড়িতে দিয়ে আসবো। ”
“ কোথায় সেটা তো বলুন। ”
“ আমার মনের দেশে। যাবেন না ম্যাডাম?”
“ অবশ্যই যাব। ”
লোকটা রুমাইসা কে নিয়ে বাহিরের দিকে যাওয়ার জন্য হাঁটা দিলো। ওপর পাশের সারি দিয়ে ঠিক সেই সময় তেহরান ভেতরের দিকে দৌড়ে যেতে লাগলো। হয়তো পাশ ফিরে তাকালে সে রুমাইসা কে দেখতে পেত।
রুমাইসা কে নিয়ে লোকটা গাড়িতে উঠলে সোলেমানের গার্ডরা সোলেমান কে ফোন করে বলল-
“ স্যার ম্যাডাম তো একটা লোকের সাথে গাড়িতে উঠে যাচ্ছে। কি করবো?”
“ দূর থেকে ফলো করবে। ”
সোলেমান ফোন কে’টে দিয়ে তূর্ণ কে ফোন করলো। রুমাইসার দিকে তূর্ণ নামের লোকটা ফোন দেখিয়ে বলল-

“ দেখছো তোমার ভাইয়া আমাকে ফোন দিচ্ছে। ”
“ কথা বলুন। ”
“ না সরাসরি গিয়ে কথা বলবো সামনা-সামনি। ”
তূর্ণ ফোন কেটে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করলো-
“ বলেন?”
“ রুমাইসা কে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ তুমি?”
“ কাছেই। আপনি চিন্তা করবেন না,সন্ধ্যার আগে দিয়ে আসবো ভিলায়। ”
“ ঠিক আছে। সাবধানে এসো। ”
সোলেমান চিন্তামুক্ত হয়ে একটা ঘুম দিলো। সেই ঘুম গিয়ে ভাঙলো সন্ধ্যার অনেকটা পরে।,মেহরিনের গলায়। সোলেমান উঠে বসলো। ফোনে সময় দেখে বলল-
“ রুমাইসা এসে গেছে?”
মেহরিন না জানালো।
” তেহরান ভাইয়া এসেছে। আপুকে খুঁজছে। বলছে আপু বাসায় এসেছে কি না। ”
সোলেমানের কপালে কয়েকটা ভাজ পরলো। অজানা এক ভয়ে বুকটা কেঁপে উঠলো। রুম থেকে বেরিয়ে ছুটে নিচে আসলো। তেহরানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল-

“ আমার বোন কোথায় তেহরান? একা ফিরেছো কেনো তুমি?”
তেহরান শুষ্ক ঠোঁট টা ভিজিয়ে নিয়ে বলল-
“ রুমাইসা কে আমি পাই নি ভাইয়া। আমি পুরো আলতা দিঘি উদ্যান টা ঘুরেছি। কিন্তু রুমাইসা কে আমি পাই নি। ”
সোলেমান এবার রেগে উঠলো।
“ মিথ্যা বলছো কেনো তেহরান? তোমার সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে। তুমি রুমাইসা কে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলে গাড়িতে করে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। তুমি নিজে আমাকে বলেছো সন্ধ্যার আগে রুমাইসা কে নিয়ে আসবে ভিলায়। তাহলে এখন এটা বলছো কেনো? ”
“ ভাইয়া সত্যি আমি রুমাইসা কে পাই নি। পাই নি বলেই তো ছুটে এসেছি। যেখানে আমি রুমাইসা কে পাই নি সেখানে গাড়িতে করে কোথায় নিয়ে যাব? আর আপনাকে আমি কিভাবে বলবো ফোনে? আমার তো ফোনটাই হারিয়ে গেছে। ”
সোলেমান মেসেজ গুলো দেখালো তেহরান কে। তেহরান বলল সে করে নি এই মেসেজ গুলো। সোলেমান তাড়াতাড়ি করে রুমাইসা কে ফোন করলো। ফোন রিসিভ হলো না। টানা কয়েকবার করলো। ফলাফল একই। সোলেমান এবার তার গার্ডদের ফোন করলো। তার গার্ডরা ফোন রিসিভ করছে না। সোলেমান বারবার ফোন করলো। রিসিভ হলো না। সোলেমানের মাথা হ্যাঙ হয়ে গেলো এবার। বিশ্রী ভাষায় বকা দিলো –

“ মাদা**দ খা**কির পোলারা ফোন ধর। আমার বোন কোথায় আছেরে খা**কির পোলারা। ধর না ফোন টা। ”
না ধরলো না কেউ ফোন। বেজে বারবার কেটে যাচ্ছে। সোলেমান পাগল হয়ে যেতে লাগলো। হাতের ফোনটা সজোরে ফ্লোরে নিক্ষেপ করে চিৎকার করে বাবা আর দাদা কে ডাকলো। ছেলের চিৎকার শুনে আমিরুল সুলতান আর আনোয়ার সুলতান বেরিয়ে আসলো। সোলেমান হুংকার দিয়ে বলল-
“ আমার বোন কে আমি পাচ্ছি না ফোনে। রুমু কোথায় আছে জানতে পারছি না। রুমু আমার নেটওয়ার্কের বাহিরে চলে গেছে বাবা। আমার বোন কে আমার সামনে আনার ব্যবস্থা করো । দাদা পুরো দেশ লণ্ডভণ্ড করে হলেও আমার বোন কে আমার চাই। ওর কিছু হলে কিন্তু আমি সব জ্বালিয়ে তচনচ করে দিব বলে রাখছি। ”
আমিরুল সুলতান বলল-

“ তূর্ণ কে ফোন কর। ও কে জিজ্ঞেস কর। ”
সোলেমান তেহরানের দিকে তাকালো। তেহরান ভাঙা গলায় অনেক কষ্ট করে বলল-
“ আ…আমিই তূর্ণ আঙ্কেল। আমি পাই নি খুঁজে আমার রুমাইসা কে। পুরো টা উদ্যান আমি পাগলের মতো খুঁজেছি। মাইক দিয়ে চিৎকার করে করে খুঁজেছি। রুমাইসা কে পাই নি। আমি পরে ভাবলাম ও হয়তো চলে এসেছে ভিলায়। সেজন্য আমি ভিলায় ছুটে আসলাম জানতে। কিন্তু রুমাইসা তো আসে নি। কার সাথে চলে গেলো রুমাইসা! ও কি গলার স্বর টাও চিনতে পারে নি?
আমিরুল সুলতান, আনোয়ার সুলতান অবাক হলো। তাদের সব ছেলেপেলে থেকে শুরু করে সকল পুলিশ দের নামিয়ে দিলো রুমাইসা কে খুঁজার জন্য। রুমাইসা কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শুনে আফিয়া সুলতানের অলরেডি শরীর খারাপ হয়ে গেছে। ইয়াসিন সোলেমান তেরহান, আমিরুল সুলতান, আনোয়ার সুলতান বেরিয়ে গেছে রুমাইসা কে খুঁজতে।
মেহরিন শাশুড়ীর মাথার কাছে বসে আছে। হুট করে কি হয়ে গেলো এটা? তূর্ণই তেহরান! তেহরানের নাম তূর্ণ! কখনো তো ডাকতে শুনে নি এই নামে। শাশুড়ী বারবার বিরবির করে জিজ্ঞেস করছে-

“ রুমাইসা ফিরেছে বাড়িতে? সোলেমান নিয়ে এসেছে আমার রুমু কে? রুমু বাহিরে থাকে না কখনো রাত করে। জানে মা দুশ্চিন্তা করবে। ও এখনও আসে নি? মেহরিন সোলেমান কে ফোন করে জিজ্ঞেস করো না আমার মেয়েটা কোথায় আছে। ”
সোলেমানের ফোন তো বসার ঘরে ফ্লোরে ভেঙে পড়ে আছে। সোলেমান ফোন করলো ইয়াসিন কে। জিজ্ঞেস করলো রুমাইসার খোঁজ পেয়েছে কি না। ইয়াসিন জানালো পায় নি। মেহরিনের বুকটা অসার হয়ে আসলো। বারবার আল্লাহ কে ডাকতে লাগলো- রুমাইসার যেন কিছু না হয়। ও যেন সুস্থ থাকে আল্লাহ যেন রুমাইসা কে তাদের কাছে সহিসালামত ফিরিয়ে দেয়।
কিন্তু সব চাওয়া কি আর পূরণ হয়? না হয় না। যদি চাওয়া মাত্রই সব পাওয়া যেত তাহলে এই দুনিয়ায় কেউ অসুখী থাকতো না। হয়তো মেহরিনের আজকের পার্থনা টাও পূরণ হবে না। আল্লাহ তায়ালা কবুল করবে না। হয়তো রুমাইসা আর আসবে না ফিরে তাদের মাঝে। সেজন্যই বুঝি দূরের কোনো এক জঙ্গল থেকে র’ক্তাক্ত দেহের সাথে ভেসে আসছে রুমাইসার এক করুন আর্তনাদ তার ভাইয়ের উদ্দেশ্যে…

দাহশয্যা পর্ব ৯০

~ নির্দয় বিধি রে.. তুমিই সদয় হইয়া
ভাইরে আইনো নইলে আমার
পরান যাবে জ্বইলা… তোরা কে যাস
কে যাস রে…..

দাহশয্যা পর্ব ৯০ (৩)