Home হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ১

হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ১

হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ১
সাবা খান

প্রায় রাতের মধ্যপ্রহর, সময়টা এমন যখন অন্ধকারও নিজের গভীরতা মেপে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর নীরবতা হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক ভারী। ‘এয়ারপোর্ট’ যে জায়গাটা সাধারণত আলো, শব্দ আর মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত থাকে আজ সেখানে এক অদ্ভুত শূন্যতা। দূরে কোথাও একঘেয়ে অ্যালার্মের ক্ষীণ শব্দ, আর মাঝেমধ্যে বাতাসে দুলে ওঠা ঝুলন্ত সাইনবোর্ডের কটকট শব্দ সব মিলিয়ে পরিবেশটা যেন আগাম কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হঠাৎ নীরবতাকে চিরে প্রবেশ করে একদল মানুষরূপী হায়নার দল। মুখে কালো হ্যালোইন মাস্ক, চোখ দুটো কেবল ফাঁকা গর্তের মতো জ্বলছে, হাতে আধুনিক স্নাইপার। কিছু ডিউটিরত গার্ড ছুটে আসে তাদের আটকানোর জন্য কিন্তু গার্ডরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রি**গার চাপা পড়ে। দুইটা গুলি, একটার পর একটা। শব্দটা ধাতব প্রতিধ্বনির মতো ছড়িয়ে পড়ে পুরো এয়ারপোর্ট জুড়ে। প্রথম গার্ডের কপাল ভেদ করে গুলি মস্তিষ্ক ছিন্নভিন্ন করে দেয় সে শব্দ করার আগেই লুটিয়ে পড়ে ঠান্ডা মেঝেতে। দ্বিতীয়জনের চোখে তখনও আতঙ্ক জমে ওঠেনি ততক্ষণে তারও পরিণতি একই।

র*ক্ত ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে মেঝের উপর, সাদা টাইলস লাল হয়ে ওঠে যেন কেউ নিঃশব্দে মৃত্যুর স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে।
তারপর শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। মাঝরাত হওয়ায় লোকজন ছিল কম, কিন্তু যারা ছিল তারা মুহূর্তেই দিশেহারা হয়ে পড়ে। কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ চিৎকার করছে, কেউ লুকোতে চাইছে কিন্তু কোথাও নিরাপত্তা নেই। কেননা লোকগুলো ইতোমধ্যেই চারদিক ঘিরে ফেলেছে। প্রতিটি এক্সিট, প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি পথ বন্ধ। কেউ বাইরে যেতে পারবে না, কেউ ভেতরে ঢুকতেও পারবে না।এয়ারপোর্টটা মুহূর্তেই পরিণত হয় এক জীবন্ত কারাগারে, যেখানে বন্দীরা জানেই না, তাদের অপরাধ কী। কিন্তু এই মৃত্যুর মিছিলের মাঝেও এক রমণী ছুটছে। সে নিজের প্রাণের জন্য নয় তার পেটে বেড়ে ওঠা আরেকটি প্রাণের জন্য, “সানা”

সে প্রথম দেখাতেই চিনে ফেলেছিল তাদের। এরা কারা, কেন এসেছে, সবকিছু তার কাছে অজানা নয়। মিসেস সাইয়েদা আগেই সতর্ক করেছিলেন, এগুলো লরেন্সের ছেলে মার্কান স্টিফেনের লোক।
সানা ব্যাকডোর দিয়ে বেরিয়ে আসে। তার শ্বাস দ্রুত, পা কাঁপছে তবুও থামে না। সামনে অন্ধকার, অজানা পথ তবুও সে দৌড়াচ্ছে। এয়ারপোর্টের পেছনের খোলা মাঠে ঢুকে পড়ে সে, যেখানে প্লেন উঠানামা করে। চারপাশে গভীর অন্ধকার, দূরে ঝোপঝাড়, বাতাসে ঠান্ডা স্রোত। ঠিক তখনই কানে ভেসে আসে এক চিৎকার,
-“ডাইনি, ওঠঠঠঠ….নয়টা বাজে…..”
শব্দটা যেন বজ্রপাতের মতো আঘাত করে তার চেতনায়। এক ঝটকায় সানা চোখ খুলে ফেলে, হাঁপাতে হাঁপাতে উঠে বসে। বুক ধড়ফড় করছে, শরীর ঘামে ভেজা। কয়েক সেকেন্ড সে বুঝতেই পারে না কোথায় আছে। তারপর ধীরে ধীরে বাস্তব ফিরে আসে। রমণী তাড়াতাড়ি নিজের বুকের ডান পাশে হাত রাখে তারপর থমকে যায়। নিজেরই উপর বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করে ওঠে,

-“ধূর…হার্ট তো বাম পাশে থাকে… আমিও না”
তারপর এলোমেলো চুলগুলো কোনোভাবে পেচিয়ে, নিজের নাকের পাটাতন ফুলিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে পাশের রুমে ঢুকে পড়ে। সে ভেবেছিল আজ অফিস ছুটি নিয়েছে তাই সারাদিন ঘুমাবে। কিন্তু সকাল হতেই শুরু হয়ে গেছে সেই কালনাগিনীর অত্যাচার। কেন যে তাকে নিজের সাথে নিয়ে আনতে গেলো।
সানা তার কক্ষে গিয়ে শক্তকণ্ঠে কিছু বলার পূর্বেই সামনের রমণীকে দেখে তার চোয়াল ঝুলে পড়ার উপক্রম। সে সামনে এগিয়ে গিয়ে তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে তীক্ষ্ণ চোখে পর্যবেক্ষণ করে। সামনে থাকা রমণী এমন ভাবে সেজে আছে যেন সে কোন ফ্যাশন শোতে এসেছে, মুখে ভারী মেকআপের আস্তরণ, দামী পোশাক। এদিকে ঈশানীর সেদিকে খেয়াল নেই সে নিজের কাঁধ সমান চুলগুলোকে বারবার নাড়িয়ে দেখছে আর উচ্ছ্বাস করা কণ্ঠে প্রশ্ন করে,
-“চমকে গেছিস তাই না? এখন বল, আমাকে কেমন লাগছে? একদম প্রিন্সেস ডায়না?
তার আনন্দের উপর এক বালতি জল ঢেলে সানা প্রত্যুত্তর করে,

-“একদম প্রিন্সেস ডাইনি”
ঈশানীর ঠোঁটের হাসি মুহূর্তে মিলিয়ে গেল,
-“ওটাতো তুই, আমি না”
-“এসব ছাড়, এত সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছিস সেটা বল?”
-“তুই আবারো ভুলে গেছিস? আজ আরভির স্কুলের প্রথম দিন। ওর ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে। আর দেখিস, ও ফার্স্ট হবে, আমি পড়িয়েছি ওকে”
-“আমার সেটা খুব ভালো করে মনে আছে। কথা সেটা না কথা হলো, স্কুলে যাবে ভীর তাহলে তুই কেন সাত সকালে উঠে সেজেগুজে বসে আছিস?”
ঈশানীর মুখে আবারো হাসি ফুটে ওঠে। সে নিজেকে আয়নাতে দেখে বলে,
-“যাতে সবাই দেখে চমকে যায় আরভির আন্না এত স্মার্ট, ফ্যাশনেবল, দ্য বিউটি কুইন…”
তাকে হাত উঁচিয়ে থামিয়ে সানা বলে,

-“ব্যাস আমি বুঝে গেছি, ছেলেকে পড়াতে না, নিজের জন্য জামাই খুঁজতে যাচ্ছিস। কিন্তু তোর ড্রেস এত ছোট কেন?”
এই বলে সানা ঈশানীর হাঁটুর একটু উপরে থাকা টপস কে টেনে নিচে নামাতে থাকে। এদিকে ঈশানী বিরক্ত হয়ে খেঁকিয়ে ওঠে,
-“আরে ছাড়, ছাড় বললাম ডাইনি আমায়। এটা ফ্যাশন”
-“এটা ফ্যাশন না, ফেটে গেছে তোর”
-“তুই ছাড়বি কি না?”
-“না…”
-“ডাইনির বাচ্চা”
তাদের দুজনের কথা কাটাকাটির মধ্যে আসে একটা বাচ্চার বিরক্তি মাখা কণ্ঠস্বর,

-“উফ.. মম, আন্না, তোমাদের দুজনের জন্য আমার গেম খেলতে প্রবলেম হচ্ছে”
দুই রমণী দরজার দিকে তাকাতেই নজরে আসে সাড়ে পাঁচ বছরের একটা নাদুস নুদুস বাচ্চা ছেলে। ছেলেটাকে একবার দেখলেই মনে হয় যেন সময় পিছিয়ে গেছে, যেন আরজের ছোটবেলার প্রতিচ্ছবি আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর মিলটা আসে তার রাগে, যখন সে কোনো কিছুর জন্য জেদ ধরে, অথবা কেউ তার কথা না শোনে তখন তার ছোট্ট মুখটা শক্ত হয়ে যায়, চোয়াল আটকে যায় ঠিক আরজের মতো। এমনকি ডার্ক ব্রাউন চোখজোড়াও,
“রিশভীর জাওয়ান”
যার কানে লাগানো ইয়ারফোন ও হাতে মোবাইল ফোন, চোখে মুখে বিরক্তিকর ভাব স্পষ্ট। ঈশানী একপলক তার দিকে তাকিয়ে তড়িঘড়ি করে বলে,

-“আরভি, সোনা তুমি এখনো রেডি হওনি”
বিপরীতে আরভি গো ধরে বসে,
-“আমি এভাবেই ঠিক আছি, এভাবেই যাব”
-“না সোনা, গিয়ে শার্ট পরে নাও হ্যারি আপ”
কিন্তু সামনের রমণী তার তীব্র বিরোধিতা করে ওঠে,
-“ও শার্ট না টি-শার্ট পরে যাবে”
-“ও শার্ট পরবে”
-“না টি-শার্ট”
দুই রমণী আবারো এই নিয়ে বেঁধে গেল। এদিকে আরভি দাঁড়িয়ে অভিজ্ঞদের মত মাথা দুদিকে নেড়ে আবারো নিজের কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু তাদের দুজনের কথা থেমে যায় যখনই কানে আসে,
-“আমার চ্যাম্প, ও লুঙ্গি পরে যাবে”
দুই রমণী হঠাৎ নাক মুখ কুঁচকে তাকায় দৃষ্টি আটকায় হাতে একটা লুঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসা এসপিকে। যে একগাল হেসে আওড়ায়,

-“আব্বে ইয়ার, আমরা চায়নাতে আছি তার মানে এটা না আমরা বাঙালি সংস্কৃতি ভুলে যাব। দেখ, আমি এখানকার কতগুলো গ্রামের মার্কেট ঘুরেও একটা লুঙ্গি পাইনি। তাই বলে কি সংস্কৃতি থেমে যাবে, একদমই না। ওই খুশদিলে মেয়ের শাড়ি কেটে লুঙ্গি বানিয়েছি আমি। আরভি এটাই পরবে, তাইনা মিসেস নাগিন……”
এসপির মুখ থেকে মিসেস নাগিন বের হতে দেরি কিন্তু ঈশানীর চিৎকার করতে দেরি হয়নি,
-“মিস…. মিস নাগিন.”
এসপি বুকে হাত দিয়ে বলে,
-“সরি মিস, মিস লুঙ্গি, আই মিন শুধু লুঙ্গি, ফাইনাল”
সানা মানতে নারাজ সে জোর গলায় বলে,
-“তোর বউয়েরটা তুই পরে বসে থাক, আমার ছেলে টি-শার্টই পরবে”
ঈশানী তার থেকেও জোরে বলে,
-“শার্ট….”
-“লুঙ্গি….”
-“টি-শার্ট….”

এক জনের থেকে আরেক জন আরও জোরে চিৎকার করছে। তাদের চিৎকারে পাশের রুম থেকে নিজের আট মাসের ভারি পেটটাকে নিয়ে ধীরে ধীরে বহু কসরতে হেঁটে আসে সানিতা। কেননা সে জানে এই তিনজন কখনো থামবে না। আরভি বাচ্চা হয়েও চুপচাপ, গম্ভীর হয়ে থাকে, আর এরা বুড়ো হয়েও সারাদিন ঝগড়া ঝাঁটি চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। কখনো তো তার মনে হয় বাচ্চা আরভি নয় বাচ্চা হলো এরা। সে এসে একটু জোরে বলে,
-“না ও টি-শার্ট পরবে, না লুঙ্গি, আর না শার্ট, আরভি স্কুলের ড্রেস পরে যাবে”
এসপি সানিতাকে দেখেই তড়িঘড়ি করে হাতে থাকা তার কাপড় কেটে বানানো লুঙ্গিটা পিছনে লুকিয়ে ফেলে, কেননা সানিতা এটা দেখলে তার আর রক্ষা নেই। তার দিকে এগিয়ে গিয়ে চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করে,
-“সানি তুই কেন আসতে গেলি এভাবে?”
-“না হলে তোমরা সারা বাড়ি মাথায় তুলতে, আরভির আজ আর স্কুলে যাওয়া হবে না”
সে আরভির দিকে তাকিয়ে বলে,
-“আরভি ছোট মার সাথে চলো”
সানিতা আরভিকে নিয়ে চলে গেল, এদিকে দুই রমণী এসপির দিকে ক্ষ্যাপা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মুচকি মেরে চলে যায়। এসপি হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মানে সে কি করলো সে নিজেই বুঝতে পারছে না।

“ভীর নিবাস” এর ড্রয়িং রুমের মাঝখানে বসে আরভি নিজের জুতা পরার চেষ্টা করছে, কিন্তু ফিতা বারবার খুলে যাচ্ছে। তার কপাল কুঁচকে আছে একদম আরজের মতো সেই একরোখা ভঙ্গি। এসপি এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসে,
-“দাও, আমি বেঁধে দিই”
আরভি সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নেয়,
-“না, আমি নিজে করবো”
এসপি হালকা হেসে মাথা নাড়িয়ে বলে,
-“ঠিক আছে, করো”
কিছুক্ষণ পর অবশেষে জুতা পরে উঠে দাঁড়ায় সে। ছোট্ট স্কুল ড্রেস, পিঠে ব্যাগ মনে হচ্ছে ছোট্ট কোনো সৈনিক যুদ্ধের ময়দানে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে ঈশানী আরেকবার গিয়ে নিজের মেকআপ আবার দেখে এসেছে, সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। সানা এখন তাদের সাথে যাবে না, পরে যাবে। তার নাকি রেডি হতে দুই ঘন্টা লাগবে, ছেলের স্কুলে প্রথম দিন সেও সেজেগুজে যাবে, সে কেন এভাবে যাবে। কিন্তু দেরি হয়ে যাবে বলে এসপি আর ঈশানী নিয়ে যাবে। এসপি তার দিকে তাকিয়ে বলে,

-“লেটস গো মাই চ্যাম্প, দেরি হয়ে যাচ্ছে”
ঈশানী তার হাত ধরে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। ঠিক তখন কোথা থেকে সানা দৌড়ে এসে তাদের সামনে দাঁড়ায়। এসপি তাকে দেখা মাত্রই নাক মুখ কুঁচকে প্রশ্ন করে,
-“কিরে তুই এখনো রেডি হোসনি? এতক্ষণ কি করছিলি?”
-“আমি কি তোর মত, যে শুরু হতেই শেষ। আমার ব্রাশ করতেই দশ মিনিট লাগে”
এসপি অবাক সুরে আওড়ায়,
-“দশ মিনিট!! রাণী কটকটি, যদি কৃপা করে আপনার হীরার মত দাঁতগুলো দেখাতেন জীবন ধন্য হতো। যেগুলো দশ মিনিট লাগিয়ে আপনি শুধু ঘষামাজা করেন”
-“এক শর্তে দেখাব, তাড়াতাড়ি পাঁচ কোটি বের কর”
এসপি একলাফে দু কদম পিছিয়ে যায়,

-“মাফ কর আমার মা, এই টাকা দিয়ে আমি নিজের দাঁত হিরা লাগিয়ে নিব”
-“আরে ধুর এখন এসব ছাড়, আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে এসেছি ভীরকে”
তার চোখ মুখ দেখে এমন মনে হচ্ছে সে কোন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবে। এসপি আর ঈশানী দুজনেই থমকে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু তাদের ভাবনার উপর এক বালতি জল ফেলে সানা আরভির গালে হাত রেখে বলে,
-“ভীর, স্কুল যাচ্ছ, জাস্ট রিমেম্বার মেয়েদের মন না লুটে, ব্যাংক লুটের চিন্তা করবে। তাহলে একদিন
তুম বানোগে কারোরপতি
অর হাম বানেগা কারোরপতি মা”
এসপি নিজের চোয়াল ফাঁক করে তাকিয়ে আছে। সানার এমন উপদেশ শুনে ঈশানী সাথে সাথে দাঁত খিঁচিয়ে বলে,
-“এই ডাইনি তুই আমার আরভিকে কি শিখাচ্ছিস?”
সানা তার কথা উড়িয়ে দেওয়ার মতো হাত নেড়ে বলে,

-“চুপ কর, জীবনে যেটা বেশি কাজে লাগবে সেটাই শিখাচ্ছি।
প্যায়সো কা বিনা জিন্দেগী,
চিনি ছাড়া জিলাপির মত
না মুখে নিতে পারবি,
না ফেলে দিতে পারবি”
রমণীর মুখে এমন যুক্তি শুনে দুজনেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে, না মানে এর বিপরীতে কি বলা যায় তারা ভেবে উঠতে পারছে না। কিন্তু সানার কাছে এত সময় নাই। সে শেষবারের মতো আরভির কপালে চুমু রেখে আবারো ভিতরে চলে যায়। এসপি সেদিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে,
-“তাড়াতাড়ি আসবি, ঐ আটা ময়দা যা মাখার সব ওখানে গিয়ে মাখিস”
-“আচ্ছা, তোর বউয়ের গুলা মেখে আসছি”
এই বলে সানা নিজের রুমে গিয়েও বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি স্থির নিচের দিকে, যেখানে দেখা যাচ্ছে আরভিকে। তার ছোট্ট পা ফেলে ফেলে হাঁটা, মাঝে মাঝে পেছনে তাকানো, ঈশানীর হাত শক্ত করে ধরে থাকা। সানার বুকটা হালকা করে কেঁপে ওঠে।তার চোখের কোণ টা ভিজে ওঠে। সে খুব আস্তে ফিসফিস করে,

-“আজ আমার ছেলেটা স্কুলে যাচ্ছে…”
নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আরভি হঠাৎ উপরে তাকায়,
-“মম, আমি যাচ্ছি”
সানা জোর করে নিজের ঠোঁটে হাসি টেনে হাত নাড়িয়ে বলে,
-“গুড বয়… সাবধানে যেও”
ঈশানী আরভি কে পিছনের সিটে বসিয়ে সে বিপরীত দিকের দরজা খুলতে যাবে এমন সময় এসপি তাকে ডেকে ওঠে,
-“মিসেস নাগিন, ওর ব্যাগটা……”
এসপিকে বাক্য সম্পন্ন করতে না দিয়ে ঈশানি ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দন্ত চেপে চিৎকার করে ওঠে,
-“মিস, মিস নাগিন…..”
এসপি দুই হাত পরাজয়ের ভঙ্গিতে উপরে তোলে বলে,
-“সরি, সরি, মিস ব্যাগ মানে মিস নাগিন প্লিজ আপনি উঠুন আগে, পরে ব্যাগ জাহান্নামে যাক”
ঈশানী তার দিকে র*ক্ত চক্ষু নিক্ষেপ করে দাঁত কিরমির করে পিছনের সিটে আরভির সাথে উঠে বসে গেল। গাড়ি চলতে শুরু করে উদ্দেশ্য,

“চায়না, লিনহুয়া একাডেমি”
বাড়িটা আবার নিঃশব্দ হয়ে যায়। সানা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে সেখানটায় একদম স্থির হয়ে। তারপর ধীরে ধীরে ঘুরে নিজের রুমে ঢোকে। এই গুছানো রুমের একটা জায়গা আছে যেখানে সময় থেমে আছে,
আলমারির ভেতরে। সে ধীরে আলমারিটা খোলে ভেতর থেকে একটা ফ্রেম বের করে, আরজের ছবি। রমণী কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে চুপচাপ। তার আঙুল কাঁপতে কাঁপতে ছবিটার উপর ছুঁয়ে যায়। কণ্ঠ থেকে বের হয়,
-“দেখছেন…? আমাদের ছেলে আজ প্রথমবার স্কুলে গেল। আপনি একদিন বলেছেনন, ওকে নিজের হাতে স্কুলে দিয়ে আসবেন”
ধীরে হালকা একটা তিক্ত হাসি আসে তার ঠোঁটে,
-“দেখলেন… শেষ পর্যন্ত আমি-ই দিয়ে পাঠালাম। একদম আপনার মতো হয়েছে ও, ওর চোখ, ওর জেদ, ওর চুপ করে থাকা।
সানা একটু থেমে ফের বলে,

-“আমি ভয় পাই জানেন, খুব ভয় পাই…
যদি ও আপনার মতো হয়ে যায়… একটা দানব।
যেই অন্ধকার থেকে বাঁচাতে আমি সব ছেড়ে চলে এসেছি সেই অন্ধকার যদি….. ”
এটুকু বলেই সে থেমে যায়। তড়িঘড়ি করে মাথা নাড়িয়ে বলে,
-“না…না, আমি ওকে আপনার মতো হতে দেব না, আমি ওকে এই অন্ধকার থেকে দূরে রাখবো। আপনি আপনার পাপের সাম্রাজ্য নিয়ে থাকেন, আর আমি আমার ছেলে নিয়ে”
ধীরে ধীরে ছবিটা আবার আলমারিতে রেখে দেয়। আলমারি বন্ধ করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর হঠাৎ যেন নিজেকে শক্ত করে নেয়। ড্রয়ার খুলে একটা কালো শাড়ি বের করে, এখানে শাড়ি পাওয়া যায় না। এটা ঈশানী তার জন্য কোথা থেকে নিয়ে এসেছে যেটা কোনদিনও পড়া হয়নি তবে আজ পড়বে ছেলের জন্য। চলে যায় ওয়াশরুমের দিকে।

চারদিক নিস্তব্ধ, বিশাল বক্সিং রিংটা যেন ফাঁকা একটা যুদ্ধক্ষেত্র পরিণত হয়েছে। চারপাশে কোনো দর্শক নেই, কোনো শব্দ নেই, শুধু হালকা আলো আর ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ। বাতাসে ঘামের গন্ধ মিশে আছে, মেঝেতে পুরনো আঘাতের দাগ। রিংয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বলিষ্ঠ মানব। তার চোয়াল শক্ত করে আটকানো, শিরাগুলো ফুলে উঠেছে কপাল আর গলায়। ঘামে ভেজা শরীরের প্রতিটি পেশী স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ঠোঁট ফেটে গেছে, গালের পাশে লালচে দাগ। তবুও তার চোখ শান্ত, অস্বাভাবিকভাবে স্থির। সামনে তার প্রতিপক্ষ একজন অভিজ্ঞ ফাইটার।
রিংয়ের এক পাশে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে কাইলিন। সাথে কয়েকজন গার্ড। সে চুপচাপ দেখছে, ফাইট শুরু হয় ধীরে। আরজে প্রথমে আঘাত করছে খুব নিয়ন্ত্রিত ভাবে। সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষ আঘাত করে বসে তাকে। এক ঘুষি এসে লাগে আরজের মুখে। মাথা সামান্য কেঁপে ওঠে, ঠোঁটের কোণ দিয়ে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আরজে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, যেন এসব তার কাছে কিছুই না।
ঠিক তখনই দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে জ্যাক। সে দ্রুত এগিয়ে আসে রিংয়ের পাশে, ঠান্ডা স্বরে আওড়ায়,

-“বস, রাশিয়ান স্মাগলাররা মুভ করেছে। তারা স্নাইপার সেট করেছে এখনই। তারা ডিল করতে চায়, কিন্তু নিজেদের রুলে”
বিপরীত প্রান্ত থেকে কোন প্রত্যুত্তর আসে না। আরজের চোখ এখনো প্রতিপক্ষের ওপর, হাত চলছে ধীরে, নিয়ন্ত্রিত ভানে। যেন বাইরের কোনো শব্দই তার কানে পৌঁছাচ্ছে না। প্রতিপক্ষ আবার সুযোগ পেয়ে আঘাত করে। এবার আরও জোরে। আরজের মাথা একপাশে ঘুরে যায়, কিন্তু সে আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। চোখে কোনো রাগ নেই, শুধু ফাঁকা একটা স্থিরতা।
জ্যাক আবার বলে,
-“আমাদের লোকজন পজিশনে আছে, কিন্তু ওরা আগে শট নিতে পারে”
এবারও কোন উত্তর আসল না, শুধু গ্লাভসের শব্দ, শ্বাসের শব্দ আর ধীরে চলা লড়াই। জ্যাক এক সেকেন্ড থামে। তারপর একটু নিচু স্বরে বলে,
-“বস… ম্যামের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি”
এই কথাটা বলার সাথে সাথে সবকিছু যেন থেমে যায় এক মুহূর্তের জন্য। আরজের হাত থেমে যায়। ধীরে ধীরে সে চোখ তুলে সামনে তাকায়। তার চোখে সেই আগের শূন্যতা নেই এবার সেখানে জমে ওঠে ঠান্ডা, ভয়ংকর কিছু। পরের মুহূর্তেই,
“ধপ”

একটা ভয়ংকর জোরে পাঞ্চ, তার প্রতিপক্ষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোজা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। পুরো রিং কেঁপে ওঠে সেই আঘাতে। লোকটা আর উঠতে পারে না। নীরবতায় ছেয়ে যায় পুরো কক্ষ। আরজের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। তার বুক ওঠানামা করছে, চোখ এখনো নিচের দিকে স্থির।একটাও কথা না বলে সে ঘুরে দাঁড়ায়। রিং থেকে নেমে আসতে আসতে হাতের গ্লাভস খুলতে থাকে ধীরে ধীরে যেন ভেতরের ঝড়টা সে নিজেই আটকে রাখছে।
ঠিক তখনই দরজাটা আবার ধীরে খুলে যায়।
ভেতরে প্রবেশ করে রওনাক। পা রাখতেই সে থমকে দাঁড়ায়। চারপাশের ভারী নীরবতা, মেঝেতে পড়ে থাকা অচেতন ফাইটার, আর রিংয়ের পাশ থেকে নামতে থাকা আরজে সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশটা যেন শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠেছে। রওনাকের গলা শুকিয়ে আসে। সে অজান্তেই একটা ফাঁকা ঢোক গিলে ফেলে। চোখ সরাতে পারে না আরজের দিক থেকে। এই মানুষটা একসময় সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল। হাসিখুশি, ভদ্র, ফ্যানদের সাথে মিশে থাকা সবাই তাকে ভালোবাসতো। ইন্ডাস্ট্রিতে তার নাম ছিল

“সবচেয়ে ভদ্র হিরো”
কিন্তু এখন…এখন সে সম্পূর্ণ আলাদা। চোখে কোনো অনুভূতি নেই, মুখে কোনো কথা নেই, চারপাশে একটা ভয়ংকর চাপা অন্ধকার। মানুষ এখন তাকে সামনে থেকে কম, পেছনে বেশি আলোচনা করে একটা নামেই ডাকে, “ব্যাড বয়”, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির গ্যাংস্টার”
সানা তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর প্রথমদিকে সে পাগলের মতো খুঁজেছে। শহরের প্রতিটা রাস্তা, প্রতিটা কোণ, প্রতিটা ভিড়ের মাঝে সে শুধু একটা মুখই খুঁজেছে সানার। এয়ারপোর্ট, রেলস্টেশন, হাসপাতাল, হোটেল কোথায় যায়নি সে? কিন্তু না, কোথাও কিছুই মেলেনি।
দিন গড়িয়েছে, মাস কেটেছে, তারপর বছর। কিন্তু তার খোঁজ থামেনি। শুধু পদ্ধতি বদলেছে। আগের মতো আবেগে না, এখন সে খুঁজে ঠান্ডা মাথায়, হিসেব করে, পরিকল্পনা করে। তার চারপাশে এখন এমন এক শক্ত বলয় তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ সহজে ঢুকতে পারে না। কেউ তার ভেতরের মানুষটাকে দেখতে পায় না।
রিজভী কয়েকবার চেষ্টা করেছে তাকে আগের মতো ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু আরজে শুধু চুপ থেকেছে। তার চুপ থাকাটাই এখন তার সবচেয়ে বড় উত্তর। সে আর আগের মতো কথা বলে না, হাসে না, কারো সাথে মিশে না। কাজ আর নিজের দুনিয়ার বাইরে সে কিছুই রাখে না। কিন্তু একটা জিনিস এখনো বদলায়নি,

“সে এখনো সানাকে খুঁজে”
তার মন এখনো বিশ্বাস করে,
-“সানা কোথাও আছে, তার থেকে পালিয়ে”
কিন্তু সেই বিশ্বাসের সাথে সাথে আরেকটা জিনিসও জন্ম নিয়েছে ‘রাগ’ ভয়ংকর, নিঃশব্দ, জমাট বাঁধা রাগ। নিজের ওপর, সময়ের ওপর আর সবচেয়ে বেশি সানার ওপর।
এদিকে রওনাকও ঈশানীকে অনেক জায়গায় খুজেছে। শেষমেশ সে জানতে পারে, ঈশানী নিজ থেকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দিয়েছে। তার নাকি মানসিক শান্তি লাগবে। এখানে থাকলে তার মা বাবা ভাইদের কথা মনে পড়বে তাই সে বিশ্বটাকে ঘুরে দেখতে চায়। একদিন ঘুরা শেষে ভালো লাগলে নিজ থেকেই ফিরে আসবে আর রওনাক আজ ছয় বছর ধরে বসে আছে সেই দিনের অপেক্ষায়।
রওনাক ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। তার পায়ের শব্দ পর্যন্ত যেন এই নীরবতার মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট শোনা যায়। আরজে তখন গ্লাভস খুলছে। তার হাতের শিরাগুলো টানটান, মুখে এখনও আগের আঘাতের দাগ, কিন্তু সে সেগুলো যেন অনুভবই করছে না।
রওনাক একটু দূরে দাঁড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সাহস জোগাড় করে বলে,

-“স্যার”
বিপরীতে কোনো সাড়া নেই। আরজে থামে না, তাকায়ও না। রওনাক আবার বলে,
-“কালকে আপনার অ্যাওয়ার্ড শো, সব রেডি আছে। মিডিয়া, প্রেস সবাই থাকবে”
আরজের হাত থামে না। সে যেন শুনছে, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। রওনাক এবার গলার স্বর আরও নিচু করে বলে,
-“আর… আপনার নতুন মুভি
“ব্ল্যাক নাইট”
শুটিং স্টার্ট হবে কয়েকদিন পর। এইবার আপনি ‘ডন’ মানে হিরো নয় ভিলেনের রোলে থাকবেন। পুরো প্রজেক্টটা বড় আর শুটিং হবে…..
“চায়নাতে”
এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা আরও ভারী হয়ে যায়। সবাই যেন অপেক্ষা করছে আরজে কিছু বলবে কিনা। রওনাকের বুক ধড়ফড় করছে। তার হাতের তালু ঘামে ভিজে গেছে। তারপর খুব ধীরে, কোনো আবেগ ছাড়া, আরজের কণ্ঠ থেকে ছোট্ট একটা শব্দ বের হয়,

-“হুম”
এরপর আর কিছু না বলে, না তাকিয়েই, সে সামনে এগিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যায় রওনাকের। দরজার সামনে গিয়ে নিজের পা থামিয়ে পিছন না ফিরেই বলে,
-“কাই….”
এটুকু বলতেই কাইলিন বুঝে বাকিটা বলে,
-“বস, আমি সব রেডি করছি”
আরজে দরজাটা খুলে সে বাইরে বেরিয়ে যায়। ধীরে ধীরে দরজাটা বন্ধ হয়ে যায় তার পেছনে,
“ঠাস”
শব্দটা যেন সবার বুকের ভেতর গিয়ে লাগে। কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনো কথা বলে না। তারপর একসাথে যেন পুরো রুমটা শ্বাস নেয়।রওনাক সামনে তাকিয়েই জমে যায়।রিংয়ের মাঝে পড়ে আছে লোকটা একেবারে নিস্তেজ, কোনো নড়াচড়া নেই। তার চোখ বড় হয়ে যায়। আতঙ্কিত স্বরে আওড়ায়,

-“ও… ও তো অজ্ঞান হয়ে গেছে”
জ্যাক ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকায়। এক সেকেন্ড শুধু তাকিয়েই থাকে। তারপর বিরক্ত হয়ে জোরে হাঁক ছাড়ে,
-“শিট ম্যান, ওকে হসপিটালে নিয়ে যাও”
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো তড়িঘড়ি করে রিংয়ের দিকে দৌড়ে যায়। জ্যাক ঠোঁট কামড়ে নিচু স্বরে গালি দিয়ে বলে,
-“হারবে জেনেও কেন যে মরতে আসে এরা”

হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২

2 COMMENTS

  1. গল্পের প্রথমের দিকে ভালো না হলে মনে হয় আর পড়বোনা।

    এটা সেই রকমের একটি গল্প।

    এই এপিসোড পড়ার আরোহ হলো না।

  2. এই এপিসোড পড়ার পারে আর পড়ার ইচ্ছে করছে না।

Comments are closed.