Home কাজলরেখা কাজলরেখা পর্ব ৫৫

কাজলরেখা পর্ব ৫৫

কাজলরেখা পর্ব ৫৫
তানজিনা ইসলাম

বেলা বাড়তেই মাহাদী,আমান আর রাবিব এলো। আঁধারের কল করে, ওঁদের ডাকতে হয়নি।ওরা নিজ দায়িত্বে চলে এসেছে। জানে, আঁধার একা সব সামলাতে পারবে না। উপরিউপর নিজেকে খুব শক্তপোক্ত দেখালেও, ভেতরে ভেতরে আঁধার খুব ভিতু একটা মানুষ। এটা ওর বন্ধুরা ছাড়া তো আর কেও জানে না। তটিনী আসেনি। ও আসবে না, আঁধার সেটা ধারণা করেছিলো। ও এখন যাবে শাবিহার কাছে। ওঁকে সামলাবে। মেয়েটা খুব ভালো। আমাদের আশেপাশে কিছু মানুষ থাকে না, যাঁদের কাছে গেলেই একটা পজিটিভ ভাইব আসে তাদের থেকে। ওরা সবার কথা ভাবে। তটিনী তেমন একটা মেয়ে।।তটিনী গতকালকে চাঁদনীর কাছে ছিলো। ওর মনে হয়েছিলো চাঁদনীর ওঁকে দরকার। তখন ও শাবিহাকে বকেছিলো। আজ ওর মনে হচ্ছে শাবিহার ওঁকে দরকার। মেয়েটা ভালো নেই। তাই ও চাঁদনীর কাছে না এসে, শাবিহার কাছে গিয়েছে।

আমান কেবিনের কর্ণারে রাখা কাউচের উপর বসে আছে।
মাহাদী আর রাবির চাঁদনীর ডিসচার্জ করাতে গেছে কাউন্টারে। ওরা এখনো ডিসচার্জ পেপার নিয়ে আসেনি।
আঁধার একপলক ঘুমন্ত চাঁদনীর দিকে তাকিয়ে আবার আমানের দিকে তাকালো। আমান গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। গত রাতে আঁধার ওঁদের তিন বন্ধুকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিলো। রিক আর ওর দুই সহযোগীকে পুলিশ স্টেশন থেকে যেকোনো উপায়ে ছাড়িয়ে, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া। পুরোপুরি মারা যাবে না, কিন্তু মেরে আধমরা করে দিতে হবে। পারলে তিনজনের পুরুষত্ব নষ্ট করে দিতে হবে যেকোনো উপায়ে।জেলে থাকলে, ওরা আরো সেইফ জোনে থাকবে। রিকের বাবা ছেলের গায়ে ফুলের টোকা লাগতে দেবে না। রিকের শাস্তি হওয়া তো অনেক পরের বিষয়। জেলে রাখাই টাফ হবে। এসব ভেবেই আঁধার ওর তিনবন্ধুকে এসব দায়িত্ব দিয়েছিলো।ওরা তিনজন আঁধারের কথানুযায়ী জেলে গেলো, রিককে ছাড়াতে। যে এফেয়ার করেছে সেই যদি এফেয়ার তুলে নেয়, তাহলে তো সহজেই ওঁদের ছাড়ানো যেতো। আঁধার এফেয়ার করেছিলো, ওঁদের ছাড়ানোও আঁধারের পক্ষেই সহজ ছিলো সব চেয়ে। কিন্তু রিকের অবস্থা ওঁদের ভাবনার চেয়ে ভিন্ন ছিলো। ওরা সেখানে সেফ জোনে ছিলো না, উল্টো পুলিশ রা পুলিশের মতোই আচরণ করেছে ওঁদের সাথে।

রাত আলাদা করে ওসিকে কল দিয়ে বলেছিলো, ওঁদের মারতে। মামলার উপর মামলা দিয়ে রেখেছিলো, যাতে ওঁকে ছাড়ানো না যায়। যে কাজটা আঁধার ওঁদের করতে বলেছিলো, সে কাজটা রাত পুলিশকে দিয়েই করালো। আঁধার শুধু এফেয়ার করেছিলো, শাস্তির সব ব্যবস্থা রাতই করেছিলো।
এখন আমান বসে বসে ভাবছে, ও এসব আঁধার কে বলবে কি-না। সামনে বসা ছেলেটা, একটা পাগল।সবকিছুতে সে ওভার রিয়েক্ট করে। এখন আমান যদি বলে এসব, আঁধার এটাই মানতে পারবে না, কেন রাত এসব করবে। চাঁদনী, রাতের কে হয়! আমান একটা সিম্পল কথা বোঝাতে পারবে না, রাতের বাড়িতেই চাঁদনীর সাথে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। ওরা সোশ্যাল একটিভিস্ট। জার্নালিস্ট রা উৎ পেতে থাকে ওঁদের একটা ভুল ডিসিশনের জন্য। যাতে ফলাও করে সেটা প্রচার করতে পারে। সেখানে রাত অবশ্যই চাইবে, নিজের রেপুটেশন ঠিক রাখতে। যাতে সে এটা অন্তত গলা উঁচিয়ে বলতে পারে, যে মেয়েটার সাথে তার বাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটেছিলো, সে মেয়েটার সেইফটির জন্য সে সর্বোচ্চ করেছে। দোষীদের শাস্তি দেওয়ারও সকল ব্যবস্থা করেছে। এখানে চাঁদনীর চেয়েও বেশি রাত নিজের রেপুটেশনের কথা ভেবেছে। এসব আমান কখনোই বুঝাতে পারবে না আঁধারকে। আঁধার নিজে যা বোঝে সেটা। আমানের ভাবনা বোঝার ওর প্রয়োজন নেই।

-“রিক আর ওর চ্যালাপ্যালারা কোথায়?”
আঁধারের প্রশ্নে, আমান ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো।
-“জেলে।”
-“কাহিণী কী? তোদের না একটা কাজ দিলাম আমি। পুলিশ স্টেশনে গিয়ে, ওইসব কি বলছিলি?”
-“যে কাজটা আমাদের দিয়েছিস, সেটা পুলিশরা অলরেডি করে ফেলেছে। ওঁকে ছাড়ানো এখন ইজি না। অনেক ধারায় মামলা পরেছে ওর উপর।”
-“এসব তো বলেছিস কালকে। কিন্তু এসব করেছে কে? রিকের বাবা যথেষ্ট পাওয়ারফুল। এতোসব তার ছেলের সাথে করা ইজি না।

-“আমাদের এমপি মহোদয় মানে শাবিহার বড় ভাই নিজ তাগিদে সবকিছু করলো। এখন ওসির তো এতো হেডাম নেই তাই না, এমপির কথার উপর যাবে।”
আঁধার নিষ্প্রাণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো আমানের দিকে। আমান মনে মনে প্রস্তুতি নিলো, আঁধারকে সব নিজের পয়েন্ট অফ ভিউ দিয়ে ব্যাখ্যা করার জন্য। কিন্তু আঁধার কোনো কিছু বললো না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
-“ভালো হলো। খুব উপকার করলো আমার সে। ধন্যবাদও দিলাম না।”
আমান অবাক দৃষ্টিতে তাকালো। কিছু বলতে যাবে, তার আগে মাহাদী আর রাবিব ডিসচার্জ পেপার হাতে নিয়ে ঢুকলো।চাঁদনী তখনও ঘুমাচ্ছিলো।ওঁকে ঘুম থেকে তুললো না আঁধার। ওভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় পাজাকোলে তুললো ওঁকে। ক্যানুলা লাগানো হাতটা, আলতো হাতে বুকের সাথে চেপে ধরলো । এই যে ছোট হাতটার শিরা উপশিরা দিয়ে যতবার রক্ত চলাচল করে। ততবার আঁধারের হৃদয়ের ধুকপুকানি দ্রুত হয়। আঁধার বিরবির করে বললো
-“আমায়, মায়ায় জড়ানো যায়। নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।”

রাতের, এহসান বাড়িতে ফিরতে ফিরতে বেলা বারোটা বাজলো। পুলিশ স্টেশন থেকে ওঁকে একটু কাজে যেতে হয়েছিলো। এখন ওর শাবিহার সাথে বোঝাপড়া আছে। ও কাল রাতে শাবিহাকে কিচ্ছু বলেনি। কিন্তু ও না বলে ছেড়ে দেবে না। ওর কাছে প্রমাণ নেই, শাবিহার বিরুদ্ধে। আবরার প্রমাণ ছাড়া কিছু না করলেও, ও জানে শাবিহা ওর কাছে অস্বীকার যাবে না। শাবিহা ওঁকে মিথ্যা বলে না।

কিন্তু সিড়ি বেয়ে দোতলায় যাওয়ার পর, ও দেখলো শাবিহার রুমের সামনে জটলা বেঁধে আছে। সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে, শাবিহার কক্ষের বাইরে দরজায় বারি দিচ্ছে। রাত তটিনীকেও দেখলো দরজার বাইরে। বারান্দার বিশৃঙ্খল অবস্থা। কবিতা এহসান দরজায় বারি দিয়ে, চেঁচিয়ে ডাকছেন শাবিহাকে। রাত কপালে কয়েকভাজ ফেলে তাকালো।দাঁড়িয়ে থাকা সার্ভেন্টদের মধ্য থেকে একজন কে ডাকলো। রাতকে ঘটনার অদ্যোপান্ত জানালো সে। শাবিহা গতরাত থেকে রুমবন্দী হয়ে বসে আছে। মেয়েটা শেষ রাতের দিকে কক্ষে ঢুকে দরজায় খিল দিয়েছিলো।সে দরজা এখনো খোলেনি। রাত গম্ভীর দৃষ্টিতে এগিয়ে গেলো দরজার দিকে। ওঁকে দেখেই কবিতা এহসান দরজার কাছ থেকে সরে গেলেন। রাতকে উনি সহ্য করতে পারেন না, এটা যেমন সত্যি। তেমন সত্যি হচ্ছে ওনি সকাল থেকে অদৃষ্টে রাতকে খুঁজে চলেছেন।শাবিহা সহি সালামত থাকলে একমাত্র রাতের গলা শুনেই বের হবে, এটা ওনার জানা কথা। ওনার ছেলে মেয়ে দু’টো রাতের জন্য পাগল। নিজের বাপের প্রতিও এতোটা সম্মান নেই তাদের যতটা রাতের প্রতি আছে! সাদিক এহসান বাড়িতে নেই। রেহান অদূরে, দেওয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে আছে। ওর মুখটা করুণ।এ বাড়ির নাটক দেখতে দেখতে ক্লান্ত ও। প্রতিটা সদস্য কী করে দু’দিন পরপর এসব শুরু করে, ও বুঝতে পারে না। ও যে কবে রাতের সাথে চট্টগ্রামে চলে যেতে পারবে। রাত একপলক ওর দিকে তাকালো। আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে, শক্ত হাতে দরজায় দু’টো বাড়ি বসালো। শক্ত গলায় ডাকলো

-“শাবিহা।” ভেতর থেকে কোনো উত্তর এলো না।
রাত আবার ডাকলো
-“শাবিহা।দরজা খোল। আমি জানি তোর কিচ্ছু হয়নি। আমি জানি তুই আমার কথা শুনছিস। শুনছিস যখন কথা অমান্য করবি না। দরজা ভেঙে ঢুকতে হলে বেশি খারাপ হবে। শেষবার বলছি দরজা খোল।”
রাত আরেকবার ডাকতে গেলো। কিন্তু ডাকার আগেই, দরজা খুলে গেলো৷ শাবিহা বেরিয়ে এলো কক্ষ থেকে। ওর চুলগুলো এলোমেলো। বেবিহেয়ারগুলো এসে পরেছে মুখের উপর। চোখদুটো ফুলে গেছে, কাঁদতে কাঁদতে। সবকিছু মিলিয়ে বিধ্বস্ত অবস্থা ওর। রাতের কপালে ভাজ পরলো। এখনো তো ও শাবিহাকে শক্ত করে কিছু বলেইনি। তাহলে? মেয়েটা এমন অবস্থা করেছে কেন নিজের?
শাবিহার গায়ে এখনো পার্টির পোশাক। মুখে এখনো হালকা মেকআপ। যদিও বেশিরভাগ, সাজগোছ চোখের জলে ধুয়ে গেছে। তবুও রাত স্বাভাবিক গলায় বললো

-“সবাই যাও এখান থেকে। আমি একা কথা বলবো ওর সাথে।”
কবিতা এহসান বললেন
-“কী হয়েছে ওর? এভাবে কাঁদছে কেনো? কে কি বলেছে আমার মেয়েকে!”
রাত ওনার দিকে না তাকিয়ে বিমূঢ় স্বরে বললো
-“আমি কথা বলছি ওর সাথে। আপনি এখন যান।”
-“ও কাল রাত কিচ্ছু খায়নি আবরার।”
-“ওঁকে দেখে মনে হচ্ছে আপনার, ও খাওয়ার অবস্থায় আছে!”
রেহান, এগিয়ে এসে কবিতা এহসান কে নিয়ে গেলো। সার্ভেন্টরাও চলে গেলো ধীরে ধীরে। কিছু সময়ের মধ্যেই বারান্দা খালি হয়ে গেলো।
তটিনী গেলো না। ও একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকলো। ওর শাবিহার সাথে কথা বলা দরকার। ও এটাই আশা করেছিলো। আঁধার ওঁকে কিছু তো বলেছে। কিন্তু কি এমন বলেছে যে মেয়েটার এমন বিধ্বস্ত অবস্থা। রাত একপলক তটিনীর দিকে তাকালো। কিন্তু যেতে বললো না।

শাবিহা ধীর পায়ে কক্ষে গিয়ে মেঝের উপর জায়গা করে বসলো। রাত কক্ষে ঢুকে অবাক হলো না। কিন্তু তটিনী চমকালো। কক্ষের অবস্থা বেহাল করে ছেড়েছে শাবিহা। কক্ষের একটা কাঁচও আস্ত নেই।ভেঙে টুকরো হয়ে ছিটিয়ে আছে ফ্লোরে। পর্দা, বেডশিট সহ বিভিন্ন জিনিস মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বালিশের তুলো উড়ছে কক্ষ জুড়ে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে হাতের কাছে যা পেয়েছে, তাই ছুঁড়ে মেরেছে ফ্লোরে।একের পর এক জিনিস ভেঙে ক্ষান্ত হয়ে, তারপর কান্নাকাটি শুরু করেছে। কিন্তু হয়েছে টা কি মেয়েটার? এমন করছে কেনো ও?”
রাত প্রথমেই প্রশ্ন ছুড়লো,
-“কাঁদছিলি কেন এভাবে?”
……….
-“উত্তর দে। কী সমস্যা হয়েছে? ক্ষতি তো হয়েছে চাঁদনীর! তুই কেনো এভাবে কান্নাকাটি করে অবস্থা খারাপ করে ফেলছিস?”
শাবিহা এবারে ভেজা চোখ তুলে তাকালো। নাক টেনে বললো

-“আমি করিনি ভাইয়া বিশ্বাস করো। করিনি আমি কিচ্ছু। কোনো প্রমাণ ছাড়াই সবাই আমাকে ব্লেম করে যাচ্ছে। আমার অপরাধ বলো? আমি তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। রিক আমার বন্ধু ছিলো বলে, ওর দোষের ভাগীদার হয়ে যেতে হবে? এটা কেমন বিচার?”
-“সবাই ব্লেম করছে তাই তুই কান্নাকাটি করে অবস্থা খারাপ করে ফেলবি? এতোটা সেন্সিটিভ তো তুই না। কি হয়েছে বলবি? খোলাসা করে বল, হয়েছে টা কি!”
রাত খুব শান্ত স্বরে বললো। শাবিহা ভঙ্গুর গলায় বললো
-“নিজের মানুষ গুলোই যখন বিপক্ষে চলে যায়, তখন সহ্য হয় না রে ভাইয়া। আমার নিজের মানুষগুলোই আমাকে বুঝছে না। সত্য মিথ্যা যাচাই না করে অপরাধী বানাচ্ছে।
অন্ধকার তো বন্ধুত্বই ভেঙে দিলো।”

তটিনী আঁতকে উঠলো। আঁধার বন্ধুত্ব ভেঙে দিয়েছে মানে! ছেলেটা কি জানে না, ওঁদের বন্ধুত্ব শাবিহার জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ! মেয়েটা কীসের এতো বড় শাস্তি পাবে, যেখানে ওর দোষের কোনো প্রমাণই নেই। তটিনীর মন মানছে না, শাবিহা এমন করতে পারে। অন্তত ও শাবিহাকে যতটুকু জানে, তাতে শাবিহার এসব ভাবনায়ও আসার কথা না।শাবিহা ওর পিচ্চি কালের বন্ধু, একসাথে বড় হয়েছে ওরা। তটিনীর বিশ্বাস শাবিহা এসব করেনি। তাহলে কেনো আঁধার শাবিহাকে এতো বড় শাস্তি দেবে? মেয়েটা ওঁদের বন্ধুত্ব টাকে কতো টা ভালোবাসে, সেটুকু অন্তত ভাবতে পারতো আঁধার। শাবিহার কথা না-হয় না-ই ভাবলো। মেয়েটার পাগলামি এখন ও কীভাবে সামলাবে।
-“ভালো করেছে। আমি আঁধার থেকে এটাই এক্সপেকটেশন রেখেছিলাম। যদিও আমি ওঁকে চিনি না, কিন্তু আমার মনে হয়েছিলো, ও চাঁদনীর দিকে তাকিয়ে এটাই করবে তোর সাথে। তোর বন্ধুত্বের চেয়েও ওর ওয়াইফের সেইফটি ওর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। যেসব বন্ধুদের সান্নিধ্যে থেকে নিজের মানুষের ক্ষতি হয়, সেসব বন্ধুদের ত্যাগ করা উচিত।”

রাত এবারও খুব ঠান্ডা গলায় বললো। শাবিহা অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে। ওর নিজের ভাই ওর সাথে পাষাণের মতো আচরণ করছে, বাইরের একটা মেয়ের জন্য। ও তবুও নিজেকে সামলে ভেজা গলায় বললো
-“তুমিও আমাকে বিশ্বাস করছো না ভাইয়া। তুমি আমাকে ছোটবেলা থেকে দেখছো না! তোমার মনে হয় তোমার বোন এমন করতে পারে?”
-“আবেগে পরে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে! আমি জানি না, তুই কতোটা জেদী?নিজের প্রিয় জিনিসগুলোকে পাওয়ার জন্য তুই কতোটা ডেস্পারেট হয়ে যাস, সেটা আমার চেয়ে ভালো কে জানবে!”
-“আমি ডেস্পারেট হই, কিন্তু আরেকজনের ক্ষতি করি না। আর তুমি আমাকে অনেকবার বুঝিয়েছো আঁধারকে ভুলে যেতে। আমি চেষ্টা করছি। আমি তোমার কথা রাখবো না তা কী করে হয়!”

-“তুই সত্যিই এখানে জড়িত নেই, বনু?”
-“না। সত্যি। আঁধার আমাকে বিশ্বাস করলো না।”
রাত গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
-“আমাকে ছুঁয়ে বল, তুই এই ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নেই। কসম করে বল, তুই এ ব্যাপারে কিচ্ছু জানতিস না।”
শাবিহা টলমলে দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো রাতের দিকে। অনেক্ষণ চুপ করে বসে থাকলো। ঢোক গিলে, রাতের হাত ধরে বললো
-“কসম করে বলছি, এখানে আমার কোনো ধরণের ইনভলভমেন্ট নেই। আমি কিচ্ছু জানতাম না।”
রাত বুকে আগলে নিলো ওঁকে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো

-“শান্ত হ। আমি বিশ্বাস করলাম, তুই করিসনি কিছু। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমার একটা কথা রাখ শাবু। আমি তোর জন্য একটা ছেলেকে ঠিক করেছি। তোকে আমি এভাবে ছেড়ে দিতে পারছি না। তুই আমাকে নিজের কেমন ভাই ভাবিস আমি জানি না। এটাও জানি না তোর জীবনের ডিসিশন নেওয়ার অধিকার আমাকে দিয়েছিস কি-না। কিন্তু আমি তোকে নিজের বোন ভাবি। আমাদের মধ্যে কখনো সৎ শব্দটা আসেনি। সেই ভাই হওয়ার অধিকার থেকে চাচ্ছি, আমি তোকে বিয়ে দেবো। নয়তো তুই আরো পাগলামি করবি ফিউচারে। তোর বিয়ে, আমার ঠিক করা পাত্রের সাথে হবে। আর তুই ভেবে নিবি আঁধার নামে কেও তোর জীবনে ছিলো না।”

রাত শাবিহার উত্তর জানতে চায়লো না। শাবিহা অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। রাত উঠে দাঁড়ালো। তটিনী দরজার কাছে দাড়িয়ে ছিলো। রাতের তাকানো দেখে মাথা নিচু করে ফেললো। রাত বেরিয়ে যেতে নেবে, তটিনী তার আগে এসে শাবিহার কাছে, বিছানায় বসলো। ও কিছু একটা বলছিলো শাবিহাকে। রাত শুনতে পেলো না সেসব। কারণ ও ততক্ষণে দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে এসেছে। রাত পিছু ফিরে বিষাদ হাঁসলো। বললো
-“তুই আমাকে ছুঁয়ে মিথ্যে বললি রে শাবিহা। তুই মনে করিস না, আমি তোকে শাস্তি দিলাম না! তোর শাস্তির আওয়াজ হবে না,দেখাও যাবে না। এই বিয়েটা তোর সবচেয়ে বড় শাস্তি হবে। তোর ভালো করেই না-হয় তোকে শাস্তি দিলাম আমি।”

আঁধার বেলকনির রেলিঙের সাথে হাত ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছে।একটু আগেই গোসল সেরে বেরিয়েছে ও। চুপচাপ তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। রাত আটটা বাজবে হয়তো। চাঁদ উঠেছে আজ।দ্যোতি ছড়াচ্ছে চারিদিকে। একটু আগেই বৃষ্টি থেমেছে।সতেজ, ঠান্ডা হালকা বাতাস বইছে।প্রিয়মের গা ছুয়ে দিচ্ছে তা।চুলগুলো কপালের উপর লেপ্টে আছে ওর।বাইরে শান্ত দেখালেও ভেতরে ভেতরে চিন্তার শেষ নেই আঁধারের। চাঁদনীর কষ্ট শান্তি দিচ্ছে না ওঁকে। একসময় ও নিজেও অনেক কষ্ট দিয়েছে মেয়েটাকে।কিন্তু ওর সমস্যা হচ্ছে ও হাজার কষ্ট দিয়ে জর্জরিত করে ফেললেও, অন্য কেও কষ্ট দেবে সেটাই মানতে পারে না ও। আধারের এসব ভাবনার মাঝেই কেও একজন পেছন থেকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরলো ওঁকে। আঁধার হকচকিয়ে গেলো।

আবার, কে বুঝতে পেরে শান্ত হয়ে গেলো নিমিষেই। ওদের হসপিটাল থেকে ফিরতে ফিরতে বেলা বারোটা বেজে গিয়েছিলো। চাঁদনীকে আঁধার ঘুমন্ত অবস্থায় এনেছিলো, ওর ঘুম ভেঙেছিলো দুপুরে। ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়ার পর, ও বিকেলের দিকে ঘুমিয়েছিলো আবার। উঠেছে এখন। মেয়েটা খালি ঘুমোচ্ছে একটু পরপর। মেডিসিনের প্রভাব এখনো কাটেনি। তারউপর চাঁদনী এমনিতেই উইক। চাঁদনী ওর মাথা, আঁধারের পিঠে ঠেকিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলো ওঁকে। আঁধার ওর হাতটা ধরে সামনে আনলো। চাঁদনীর মুখে ঘুমঘুম ভাব। আঁধার উদাস হয়ে ওর কাঁধে মাথা রাখলো। বললো

-“ঠিক আছিস তুই, জান?”
-“হু, আমার কি হবে?”
-“ইজ এভরিথিং ওঁকে?”
-“হুম।”
-“কিছু নিয়ে আপসেট ফিল করছিস?”
-“না তো।”
আঁধার ডাকলো ওঁকে আবার
-“চাঁদ।”
-“হু।”
-“ভয় কেটেছে?”
-“তুমি আমার সাথে থাকলেই, আমার আর কোনো ভয় থাকবে না।”
-“সত্যি! এতো বিশ্বাস করিস আমাকে? আমি তো বিশ্বাসের যোগ্য না। আমি তোর পাশে থেকেও তোকে প্রটেক্ট করতে পারলাম না। কতোবড় বিপদের হাত থেকে বেঁচেছিস। খুব খারাপ লাগছে, জানিস।”

-“এখনো এসব ভাবছো কেন? তুমি বাঁচিয়ে নিলে তো আমাকে আঁধার ভাই।”
-“তোর জন্য আমি কিছুই করতে পারলাম না রে চাঁদনী। যারা তোর সাথে এমন করেছে, যারা তোকে এতোটা ট্রমায় ফেলে দিয়েছে, তাঁদের ভয়ঙ্কর শাস্তি দিতে পারলাম না।”
আঁধারের কন্ঠে অপরাধবোধ। চাঁদনী অবুঝ দৃষ্টিতে তাকালো। আঁধার হাত দিয়ে টেনে কাছে আনলো ওঁকে। বুকের সাথে লাগিয়ে মাথার উপর ঠোঁট ছোয়ালো। চাঁদনীর পায়ের ব্যাথা কিছুটা কমেছে। তবুও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে ও। আঁধার ওর পায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
-“হেঁটে এলি কেনো? আমাকে ডাকলেই তো হতো।”
-“আমি তোমাকে না দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। রুমের লাইটও অফ। তাই না ডেকে, খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছি।”

-“ওও, তোর তো আবার ভুতের ভয়। কিছু খাবি? খিদে পেয়েছে?”
-“নাহ। সারাদিন শুয়ে, বসে থাকি। খিদে পায় না তো।”
-“পায় না কেনো? সেই দুপুরে খেয়েছিস। কিছু বানিয়ে দিই?”
-“না।”
-“রুমে আয়।”
আঁধার, চাঁদনীকে ধরে ধরে রুমে নিয়ে গেলো। চাঁদনী বিছানার উপর বসলো। আঁধার কক্ষের লাইট জ্বালিয়ে, তাকালো ওর দিকে। চাঁদনীর থুতনিতে কেঁটে গেছে,দাঁতের দাগ বসে গেছে সেখানে। রক্ত জমাট বেঁধে আছে।
আঁধারের গা জ্বলে যায়, এসব চোখে পরলে। ও দেখতে চায় না, সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এভয়েড করতে। কিন্তু পারে না। চোখে পরলে আরো খুঁটিয়ে দেখে। চাঁদনীর অবস্থা ওঁদের চেয়েও নিজের উপর রাগ উঠে বেশি। আঁধার হাত বাড়িয়ে সন্তপর্ণে আঁকড়ে ধরলো চাঁদনীর থুঁতনি। চাঁদনী কিছু বলার আগে শক্ত করে চুমু খেলো থুতনিতে।আঁধার সবসময় চাঁদনীর থুঁতনিতে চুমু খায়, আর সেখানেই ক্ষত বসিয়েছে ওরা। এটা যে আঁধারের জন্য কতো বড় পেইন, ও বোঝাতে পারছে না।

আঁধার, চাঁদনীর সাথে ঘেঁষে বসলো। চাঁদনী একপলক আঁধারের দিকে তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে ফেললো। এ মুহুর্তে আঁধারের চোখের ভাষা বুঝতে চাঁদনীর কষ্ট হয় না। ও নরম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এমনিতে আঁধার এভাবে চাঁদনীর দিকে তাকায় না। তাকালে চাঁদনী এলোমেলো হয়ে যায়। চাঁদনী এ সময়টাতে খুব সেন্সিটিভ হয়ে পরে।ও বুঝতে পারে না ওর ভালো লাগা বা খারাপ লাগা। ও শুধু বোঝে ওর অন্যরকম লাগে। সবসময়ের মতো স্বাভাবিক থাকতে পারে না।

চাঁদনী সিক্ত দৃষ্টি তুলে তাকালো।কোটরে থইথই অশ্রু জমলো ওর নিমিষেই। নিঃশব্দে, শ্বাস ফেলে হাসলো আঁধার।দুহাত বাড়িয়ে গাল দু’টো মুছে দিলো।নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরলো।ছুটতে চাইলো না চাঁদনী। সবসময়ই তো ছুটতে চায়। আজ নাহয় এভাবে বুকের সাথে লেপ্টে থাকলো। আঁধার যে বেঁধে রাখলো ওঁকে নিজের সাথে।হার মেনে যায় চাঁদনী। সবসময় হেরে যায় এ মানুষটার কাছে।চাঁদনী গুটিয়ে থাকলো ওর বুকে।
আঁধার তাকালো।ঘুমের ফলে চাঁদনীর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পরে আছে মুখের উপর।ইশ কি মায়াবী লাগছে মেয়েটা কে!আঁধারের বুক কাঁপে!দৃষ্টি হয় এলোমেলো!নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে!
ওর ভেজা চোখ দু’টো মুছিয়ে দিলো আঁধার।নরম স্বরে বললো

-“কাঁদিস না!”
চাঁদনীর গলার দাগগুলোতে চোখ যায় বারংবার ওর। আঁধারের খারাপ লাগে। খারাপ লাগাটুকু নিঃশেষ করে ফেলতে, চাঁদনীর গলায় মুখ গুজলো আঁধার। কাঁধের উপর, বিক্ষিপ্ত চঞ্চল শ্বাস ফেললো।গভীর গলায় বললো
-“চুপ। কাঁদতে মানা করেছি।”
-“গোসল করে এসেছো তুমি মাত্র!”
নিভু গলায় বললো চাঁদনী। আঁধার ওভাবেই, মাথা না তুলে বললো
-“তো? আরেকবার করবো গোসল।এমনিতেই আজকে অসহ্যরকমের গরমে, তিনবার গোসল করেছি। চারবার না-হয় করলাম।সেটা কোনো ব্যাপার না!”

আঁধার মাথা তুলে তাকালো চাঁদনীর দিকে।ওর মুখটা লাল হয়ে গেছে!সিক্ত চোখজোড়া বড্ড টানছে ওঁকে।চাঁদনীর কপালের উপর ঠোঁট ছোয়ালো আঁধার।জিহ্বার উষ্ণ স্পর্শে ভিজিয়ে ফেললো ওর কপাল।চাঁদনী নাক কুঁচকে ফেললো।এই বিষয়টা কেমন জানি লাগে ওর!আশ্চর্য! এমনি চুমু খাওয়া যায় না!এভাবে লালা লাগিয়ে দাওয়ার মানে কী! চাঁদনী স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে।কিন্তু ওর অনীহা টুকু আঁধারের দৃষ্টি এড়ায় না।অকস্মাৎ গলা চেপে ধরার মতো চাঁদনীর গলায় হাত রাখলো আঁধার। চাঁদনীর গলায় সহনীয় চাপ দিয়ে দৃঢ় স্বরে বললো
-“আমার ছোয়া ভালো লাগে না, তোর?”
চাঁদনী নাক কুঁচকে রইলো।আঁধার ওর গালে চুমু খেয়ে বললো
-“কপালে ঠোঁট ছোয়ালাম, তাতেই এই অবস্থা! ঠোঁট ছুলে কী করবি,জান?”
চাঁদনী লজ্জা পেলো।মিনমিন করে বললো

-“সরি!আমার একচুয়ালি….
আর বলতে দিলো না চাঁদনী।তার আগেই ওর ঠোঁটজোড়া আঁকড়ে ধরলো আঁধার।চাঁদনী সামলে উঠতে পারলো না! আঁধার নিজের ঠোঁট দ্বারা পিষে দিচ্ছে ওর ঠোঁট। ভালোবাসছে কম, শাস্তি দিচ্ছে বেশি।ব্যাথার চোটে ভালো লাগার অনুভূতি টা অনুভব করতে পারছে না,চাঁদনী ।চোখের কার্ণিশ বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে ওর।ইচ্ছে করে এমন করছে ছেলেটা!ও এমনই করে। ভালোবাসে, না শাস্তি দেয় চাঁদনী বুঝতে পারে না। কিন্তু এখন তো ও শাস্তি পাওয়ার মতো কিছু করেনি। তাহলে কেন শাস্তি দিচ্ছে আঁধার!
কিন্তু চাঁদনী তো জানে, আঁধারের ভালোবাসাটাই ওর জন্য শাস্তি। আঁধার ভালোবাসে কম, অধিকার রচায় বেশি।
আঁধার থামলো,অথচ এক চুমুতেই কাহিল হয়ে পরলো চাঁদনী।আঁধার ওর ঘাড়ের, থুতনির দাগগুলোতে ঠোঁট ছোয়ালো গভীর ভাবে। শুষে নিতে চাইলো ওর সব দুঃখ, অসহায়ত্ব। নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়লো, ওঁকে পোড়ানো দাগগুলো। বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো ওঁকে। গভীরভাবে চুলের ঘ্রাণ নিয়ে নেশালো কন্ঠে আওড়ালো
-“সে দেট ইউ লাভ মি!”
চাঁদনী উত্তর দিবে কী, শ্বাস নিতেই জানপ্রাণ কাহিল হয়ে যাচ্ছে ওর।

মধ্যরাত!চাঁদনী গভীর ঘুমে।ওর দুর্বল দেহ আঁধারের বুকের সাথে লেপ্টে আছে।অথচ আঁধারের চোখে ঘুম নেই।ও মনোযোগী দৃষ্টিতে পলকহীন চাঁদনীর দিকে তাকিয়ে আছে।বামহাত বালিশের উপর, মাথার নিচে রেখে আধশোয়া হয়ে আছে। ডান হাতে আদুরে হাতে চাঁদনী চুল টেনে দিচ্ছে।
ওর মেজাজ এখনো বিগড়ে আছে। দাগগুলো শান্তি দিচ্ছে না ওঁকে। পুলিশ ওই রিককে যতোই মারুক, যন্ত্রণা দিক। আঁধার শান্ত হতে পারছে না। মনে হচ্ছে দাগগুলো, আর নখগুলো নিজে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা না পর্যন্ত ওর কলিজা শান্ত হবে না।
চাঁদনীর নরম হাতটা ওর গালের সাথে লাগিয়ে রাখলো আঁধার।চাঁদনী চোখের পাতা টেনে খুললো।আঁধার আরেকটু ঘনিষ্ঠতা বাড়ালো ওর সাথে।চাঁদনী ঘুমোঘুমো কন্ঠে বললো

-“ঘুমাওনি আঁধার ভাই?”
-“নাহ।ঘুম আসছে না।তুই কেন উঠে গেছিস?”
-“জানি না, ঘুম ভেঙে গেলো!”
-“লাইটের জন্য। লাইট বন্ধ করে দিই? তোর একটু ভালোভাবে ঘুমানো দরকার।”
-“না,থাকুক! ভয় লাগবে।”
-“কেমন খাচ্চোর তুই! পুরো সময় তুই আমারে লাইট বন্ধ করতে দিলি না। এতো ভয় কীসের? আমি আছি তো চাঁদ! আমি থাকতে কীসের ভয়?”
চাঁদনীর মলিন মুখের দিকে তাকালো আঁধার। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো
-“ঠিক আছিস?”
-“হু!”
মুখে হ্যাঁ বললেও চাঁদনীর চোখে পানি চিকচিক করছে। ওর মুখের অবস্থাও ভালো না। অমাবস্যা নেমেছে আদলে। আধার অপরাধী কন্ঠে বললো

-“সরি রে!”
-“কেনো?”
-“কাঁদছিস যে।কাঁদালাম তো তোকে আবার।”
-“কই কাঁদছি?”
-“দেখছি না আমি?বেশি খারাপ লাগছে?”
-“না।ঠিক আছি!”
-“অশান্তি লাগলে বল। ঠিক লাগছে না আমার তোকে।”
-“অশান্তি লাগলে, কি করবা?”
-“তোর অশান্তি আরো বাড়ায় দিবো। তোর শান্তি সহ্য হয় না আমার।”
বাঁকা হাসলো আঁধার। আবার চাঁদনীর ঘাড়ে আঙুল ছুঁইয়ে বললো
-“এই দাগগুলো কবে যাবে?”
-“কী সমস্যা করছে এ দাগগুলো? কতোবার বলেছো একটা কথা!”
-“চোখে খুব লাগছে যে দাগগুলো। নেওয়া যাচ্ছে না। এ দাগগুলোর জন্যই, শুধু শুধু তোকে কাঁদতে হলো।”
-“জেদ করে করলে এসব?জেদের বশে করলে? এতো জেদ তোমার আঁধার ভাই?এতো!”
আঁধার মলিন হাসলো। নিজের সাথে আরেকটু জড়িয়ে নিলো চাঁদনীর।চাঁদনী হাত রাখলো আঁধারের পিঠে।বুকে মুখ গুঁজে বিরবির করে বললো

-“ভালোবাসা না জেদ? কোনটা?”
-“ভালোবাসা।”
-“মিথ্যা কেনো বলছো? জেদ করে করলে তো সব।”
-“ভালোবাসা টা দেখলি না?”
-“কষ্ট দেওয়া টা দেখলাম শুধু। আর জেদটা। ভালোবাসা টের পেলাম না।”
-“আরেকবার দেখাই ভালোবাসা। এবার মনোযোগ দিয়ে দেখবি, কেমন!”
আঁধার গাল বাঁকিয়ে হেঁসে তাকালো, চাঁদনীর দিকে। চাঁদনী অসম্ভব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আঁধার শব্দ করে হাসলো। ওঁকে আরেকটু জ্বালাতে বললো

কাজলরেখা পর্ব ৫৪

-“না, থাক। ছোট মানুষ তুই। বেশি ভালোবাসা নিতে পারবি না। এমনিতেই অসুস্থ লাগছে তোকে।”
-“মজা নাও, তা-ই না!”
-“না তো। সিরিয়াসলি বলছি। আমার বিষাক্ত ভালোবাসা খুব ভারী পরে তোর উপর।সহ্য করতে কষ্ট হয় তোর। এর চেয়ে ভালো না, আমিই রয়েসয়ে থাকি।নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করি। আফটার অল তোর কষ্ট তো আমারই।”

কাজলরেখা পর্ব ৫৬

9 COMMENTS

  1. উফ আপু একটা একটা বর্গ পর্ব কতবার দিবেন এর থেকে ভালো না সবগুলো একসাথে দেওয়া প্লিজ আপু নেক্সট পার্ট 🥺🙏

  2. আপু পরের পাঠটা তাড়াতাড়ি দিয়েন প্লিজ🙏🙏🙏

  3. বলছিলাম যে আপু প্লিজ প্লিজ আমার এই রিকোয়েস্টটা রাখেন আসলে আমরা তো পুরাটা গল্পে শুধু আদারের ভালোবাসায় দেখলাম প্লিজ আপনি এখন চাঁদনীর ভালোবাসাটাও দেখান প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ আপু আমার এই রিকোয়েস্ট রাখেন প্লিজ আপু 🤗🙏

  4. আপু প্লিজ পড়ার পাঠগুলো তাড়াতাড়ি দিয়ে দেন 😑🙏

  5. আরে আপু আপনি দয়া করে নেক্সট পার্ট দিন প্লিজ 🙏🥺

Comments are closed.