হৃৎস্পন্দন পর্ব ২
সাঞ্জেনা শাজ
বিশাল বড় বাড়ি হওয়ায় জাহানারা বেগমের আরও দু’চার মিনিট সময় লাগলো মেহরাদের রুমে আসতে আসতে। তিনি এসেই দেখলেন দরজা হালকা চাপানো। শুভ্রতাকে ডেকে ভিতরে গিয়ে দেখলেন শুভ্রতা বসা ডিভানে মেহরাদ নেই৷
“মেহরাদ কই শুভ্রতা? তোকে সেই কখন পাঠিয়েছি বলতো মা? ”
“ভাইয়া ওয়াশরুমে মধ্যে….” বলতে বলতেই মেহরাদ বেরিয়ে এলো খট করে দরজা খুলে।
জাহানারা বেগম এগিয়ে গেল ছেলের কাছে। ছেলেটার মুখ চোখ লাল হয়ে আছে। উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
“কি হয়েছে আব্বা? শরীর বেশি খারাপ লাগছে? ”
“জাস্ট মাথাটা একটু ধরেছে মা। তেমন কিছুনা। টেনশন নিয়োনা৷ ” বলতে বলতে বিছানার এক কোনায় গিয়ে বসলো মেহরাদ।
জাহানারা বেগমের উদ্ভীগ্নতা আরও বাড়ল। এই ছেলে তার অনেক কষ্ট, ধৈর্য, প্রতীক্ষার ফল। ছেলেটা সহজে নিজের সমস্যা চাওয়া পাওয়া গুলো মুখ ফুটে বলেনা। মাথা ব্যাথার কথা বলছে যেহেতু তার মানে এ ব্যাথার পরিমাণ খুব বেশি।
তিনি উদ্বিগ্ন স্বরে শুভ্রতাকে ডেকে বলে উঠলেন,
“এই শুভ্রতা মা! জেঠিমার সাথে নিচে আয়তো একটু,তোর মেহরাদ ভাইয়ের জন্য একটু কফি করে দেই।খেলে ভালো লাগবে। ”
শুভ্রতা উঠে দাড়ালো জাহানারা বেগমের সাথে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মেহরাদের কথায় থেমে গেল,
“তুমি অন্য কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিও কফি মা। শুভ্রা এখানেই থাকুক। আমার মাথায় ভিষণ যন্ত্রণা হচ্ছে, একটু মালিশ করে দিক। ” এক হাতে মাথা চেপে বললো মেহরাদ।
জাহানারা বেগম কিছুটা চিন্তিত হলেন। বাড়ি ভর্তি মানুষ। যতই চাচাতো ভাই বোন হোক কেউ কিছু ভাবলে?রাতও তো বেজে গেছে প্রায় বারোটা। তারউপর মেয়েটার বাগদত্তা এই মূহুর্তে বাড়িতে উপস্থিত।
তবে তিনি ছেলেকে না করতে চেয়েও পাড়লেন না। মা’য়েরা বুঝি এমনি হয়! ছেলে মেয়েদের ক্ষেত্রে সব যুক্তি তর্ক বাদ দিয়ে আগে সন্তানের কথাই চিন্তা করে!
অগত্যা তিনি, শুভ্রতাকে রেখেই নিচে গেলেন কফি করে আনার জন্য। এদিকে শুভ্রতা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বিছানার সামনে। দৃষ্টি মেঝেতে নিবদ্ধ। একটু আগের কথা ভাবলে লজ্জায় কুকড়ে যাচ্ছে বারবার মেয়েটা।
“তোকে কি কোলে করে আনতে হবে রে শুভ্রা? নাকি নিচে মামাতো ভাইয়ের জন্য মন আনচান করছে যেতে? থাক লাগবেনা কিছু, যা রুম থেকে বেড়িয়ে যা। আউট!” শেষের কথাটা ধমকেই বললো মেহরাদ।
ভয়ে হকচকিয়ে গেল শুভ্রতা। মাথা উচিয়ে তাকিয়ে দেখল, মেহরাদের চোখ মুখ ইতিমধ্যে আরও লাল হয়ে উঠেছে। ব্যাথাটা বুঝি খুব বেড়েছে! তা-ই তো এমন করছে। নয়তো উনি কি জানেনা, ওনার এই কথা গুলো আমায় কতটা কষ্ট দেয়!
সে এগিয়ে গেল মেহরাদের কাছে, বেড সাইডের ছোট্ট ড্রয়ার থেকে একটা মলম বের করতে যাবে তার আগেই শুভ্রার হাত চেপে ধরলো মেহরাদ। লাল লাল চোখ নিয়ে তাকিয়ে বললো,
“জবাব দিচ্ছিস না কেন?ঠিক বলেছি আমি তাইনা? যাহ বেড়িয়ে যা এখান থেকে। ” ছুড়ে ফেলে দিলো শুভ্রার চিকুন হাত খানা।
টলটলে চোখে তাকালো শুভ্রা মেহরাদের দিকে। বহু কষ্টে বললো,
“কেন বারবার কথার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করতে চাইছেন আমায়? বলবেন একটু দয়া করে? আপনি জানেন না আমার জবাব? ”
শুভ্রতাকে হাত দিয়ে টেনে একদম কাছে এনে দাড় করালো মেহরাদ। হিসহিসিয়ে বললো,
“আমি জানিনা, কিচ্ছু জানিনা। তুই জানা আমায়। রায়হানের সাথে বসে বসে তোর আড্ডা দিতে হবে কেন? তোর মামা মামিদের পিছন পিছন তোর ঘুর ঘুর করতে হবে কেন? আর কেউ নেই এই তালুকদার বাড়িতে তাদের দেখা শুনার জন্য! বিশ্বাস কর! তোকে রায়হানের পাশে দেখলে আমার ভিতরে আগুন জ্বলে উঠে। সে তুলনায় তোর এই ক্ষতবিক্ষততা তুচ্ছ! মামুলি! ”
কিছু বলতে পাড়লো না শুভ্রতা। তাদের এ সম্পর্ক হালাল হলেও সকলের কাছে তা নিষিদ্ধ। কারণ সে যে আগেই কারো বাগদত্তা হিসেবে ঠিক করা ছিল। তার মামাতো ভাই রায়হান খান তার হবু বাগদত্তা। চাইলেই তাদের এড়ানো যায়না। তাকে এড়াতে দেয়না তার মা মিসেস রিমা খান।
সম্পর্কের গন্ডিতে তার বুঝদারের পর থেকে খুব কমিই মধুর সম্পর্ক আছে তার মা’য়ের সাথে। অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুর্ঘটনায় তাদের সম্পর্কে ধরা ফাটল থেকে সে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। খুব করে গুটিয়ে নিয়েছে।
তার মা’য়ের হ্যাঁ তে হ্যাঁ না তে না পর্যন্তই তাদের কথার সীমাবদ্ধতা। তার মানে এই না যে, সে তার মা’কে ভালবাসেনা! খুব ভালোবাসে! তাইতো বুকে পাথর চেপেও সব কিছু অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
এই যে, মামা মামি আসার পর থেকে মা তাদের খাতির যত্নের পাশা পাশি তাকেও রায়হান ভাইয়ের আশে পাশে রেখেছে। সে কিচ্ছুটি বলতে পারেনি। শুধু কলের পুরুলের মতো করে গেছে সব। আর সে জানে, মেহরাদ ভাইয়াও এসব দেখেয় রেগে আছে।
মেহরাদের কথাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে হাতে মলম নিয়ে বিছানার উপর উঠে বসলো শুভ্রতা। একটা বালিশ এনে সামনে রেখে সেখানে শুয়ে পড়তে বললো মেহরাদকে। তবে মেহরাদ শুলোনা। শক্ত চোখে শুভ্রতার দিকে তাকিয়ে থেকে ছুড়ে ফেলে দিল বালিশটা বিছানার একপাশে। ধপ করে শুভ্রতার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো।
শুভেতার শীরদ্বারা বেয়ে শীতল স্রুত ভয়ে গেল। তলপেটটা মেমন মুচড়ে উঠলো। মেহরাদের হাত দুটো কোমড় জড়িয়ে ধরতেই পা’য়ের তলা দুটো শিরশির করে উঠলো। নিজেকে কেমন বেসামাল ঠেকছে তার। দম বন্ধ করে বললো,
“কেউ এসে পড়বে তো৷ ”
“আসুক! ”
“প্লিজ এমন করবেন না। বাড়ি ভর্তি মানুষ কেলেংকারী হয়ে যাবে। ”
“হোক! ”
“আপনি তো এমন কখনো করেননি, আজ এমন পাগলামি করছেন কেন? ”
“তোর জন্য করছি। তোর জন্য আমি সব সময়ই বেপরোয়া, পাগল, উন্মাদ। ”
শুভ্রতার জামায় আবৃত নরম কোমল উদরে ঠোঁট চাপলো মেহরাদ। শিউরে উঠলো শুভ্রতা।তড়িৎ খামচে ধরলো মেহরাদের মাথার পিছনের চুল। নিশ্বাস আটকে রেখেছে মেয়েটা। মেহরাদের এলোমেলো স্পর্শতে তার শরীর নেতিয়ে আসছে আজ। বার বার সায় দিচ্ছে। এই পাগল করা ছোঁয়া সারা অঙ্গে লেপ্টাতে ইচ্ছে করছে।
মেহরাদের উন্মাদনা বেড়েয় যাচ্ছে। নিজের হালাল করা প্রেয়সী থেকে কতটা দূরে রাখা যায় আর? এই মেয়েটার কাছে গেলেই তার শরীরের সর্বাঙ্গে ধ্বংসাসি আগুন জ্বলে উঠে। সে আগুনে এই মেয়েটাকেও পুড়িয়ে সম্পূর্ণ নিজের করে নিতে মন চায়। একদম নিজের!
শুভ্রতার শুভ্র রঙা উদর খানা উন্মুক্ত করলো মেহরাদ। সেখানে নাক ঘষতে ঘষতে বললো,
“তোকে আমার নিজের দহনে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিতে ইচ্ছে হয়রে শুভ্রা। খুব ইচ্ছে হয়। হবিতো আমার সাথে ছাড়খার?”
জবাব দিলনা শুভ্রা। আরও শক্ত করে চেপে ধরলো মেহরাদের মাথার চুল। নিশ্বাস ফেলছে খুব ক্ষীন ভাবে।
“আপনি থামুন দয়া করে। মলমটা লাগাতে দিন, তাহলে ভালো লাগবে আপনার। এসব পাগলামি বন্ধ হবে। ”
“এসব মলম টলমে কিচ্ছু হবেনা। তুই আমার পাগলামির সাথে সাথ দে তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ”
“আপনি বুঝতে পাড়ছেন না মেহরাদ ভা….” আর বলতে পারলো না শুভ্রতা।
উন্মুক্ত উদরে ছোট ছোট ভেজা চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে মেহরাদ। ঘোর লাগা কন্ঠে আওড়াচ্ছে,
“উমম!শুধু মেহরাদ ডাক। মেহরাদ..!”
নিশ্বাসের গতি বেড়ে গেল শুভ্রতার। এ মামুষটা তাকে পাগল বানিয়ে দিচ্ছে। তার নারী সত্ত্বা সমস্ত বাদ ভেঙে এই পাগলামোর সাথে সায় দিতে চাচ্ছে। নিজের ভালোবাসার মানুষের উত্তপ্ত ছোঁয়ায় বেসামাল হচ্ছে।
বাহিরে কারো পায়ের শব্দ পেল শুভ্রতা। মেহরাদকে টেনে সড়াতে চাইল কিন্তু মেহরাদ সড়ছে। শুভ্রতা অনুরোধে সুরে বললো,
“কেউ আসছে, প্লিজ ছাড়ুন। প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ। ”
“জান ডাক! ”
“আমার জান, কলিজা, ভালোবাসা ছাড়ুন আমায় প্লিজ! কেউ আসছে এদিকে। ”
মেহরাদ হেসে ফেললো। তার মনে হলো তার অর্ধেক মাথা ব্যাথা সেড়ে গেছে বোধহয়। তাও সেভাবে থেকেই বললো,
“আর তোকে ঐ রাইহান্নার আশে পাশে দেখবো? ”
শুভ্রতার তৎখনাত জবাব,–“নাহ! কক্ষনো না। ”
“রাতে রুমের দরজা খুলে রাখবি, আমি যাব। মাথায় থাকবে!!”
“থাকবে। থাকবে। এখন প্লিজ ছাড়ুউউন। ”
শুভ্রতাকে ছেড়ে দেওয়ার আগে উদরের কেন্দ্রবিন্দুতে ছোট্ট করে কামড় বসিয়ে দিল মেহরাদ। উঠে বসে শুভ্রতার দিকে চেয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসলো নির্লজ্জ হাসি।
শুভ্রতার ফর্সা মুখশ্রী খানা রাগে লজ্জায় লাল টমেটো। মেহরাদের হাসিতে আরও লজ্জা পেল। তবুও মুখ মোচড়াল একটু। সয়তানটা,তাকে পেয়ে বসেছে। কিভাবে নিজের মতো সব আদাই করে নিল।
এদিকে মেহরাদ কপালে ভাজ ফেলে চোখ সরু বললো,
“কিরে..মুখ ঝামটা দিলে কেন? আবার দিয়ে দেখ তো! ”
“একশো বার দিব। আপনি একটা সুবিধাবাদী মিয়া। ” কটমট করে বলে উঠলো শুভ্রতা।
“দাড়া….” শুভ্রতার ঘার চেপে ধরে ছোট্ট ঠোঁট জোরা দখল করে নিল মেহরাদ। ছোট্ট ছোট্ট কামড়ও দিল। এদিকে শুভ্রতা অবাকের শেষ পর্যায়ে। এ লোকের ভয় ডর নেই? কেউ এসে দেখে ফেললে!সে এতো তোতাপাখির মতো সব স্বীকার করে মেনে নিল কেন!
মেহরাদ ছেড়ে দিল শুভ্রতাকে। হাপাচ্ছে শুভ্রতা। চট করে বিছানা থেকে নেমে গেল। এ লোকের বিশ্বাস নেই। আবার কি করে বসে!
মেহরাদ আঙুলে তুরী বাজালো। ঠোঁট মুছতে মুছতে একটু রাগী চোখে মেহরাদের দিকে তাকালো শুভ্রতা। তাকাতেই মেহরাদ বলে উঠলো,
“যতোবার আমার সামনে মুখ মুচড়াবি ততোবার চুম্মাহ খাবি। আবার মুচড়ে দেখ,, ”
শুভ্রতাকি শুনার মেয়ে। সে আবার মুখ মুচড়া দিল। দিয়েই দৌড়! মেহরাদ চোখ কপালে তুলে বললো,
“কত্তো বড় সাহস! এটা তুই পাওনা রইলি। এবার পেলে তোর মামার গুষ্টি ভুলিয়ে দিব।”
শুভ্রতা যেতে যেতে তার জেঠাতো বোন সোহানাকে দেখলো। তার মেজো জেঠ আকরাম তালুকদারের দুই মেয়ে এক ছেলে। শান্তা, সোহানা, সাফি। শান্তা আপু ভার্সিটিতে পড়ে, সোহানা আর আমি একই কলেজে পড়ি। আর সস্ফি সবে সিক্সে পড়ে। বহুত বিচ্ছু! মেহরাদ ভাইয়ের চেলা বলা যায় এটাকে। আমরা বোনেরে কিছু করলেই ভাইয়ার কাছে নালিশ করে উদম ঝাড়ি খাওয়ায়। বিচ্ছুর বিচ্ছু!
সোহানা কফি হাতে টুকুর টুকুর পা করে আসছে। মেয়েটা কফি নি পরে যায় তাই আস্তে ধীরে হেটে আসছে। শুভ্রতাকে দেখেই বললো,
“সেই কখন এসেছিস যাওয়ার নাম নাই। আমি এই কফি টফি নিয়ে হাটতে পাড়ি? পরলেই ভাইয়া রাম ধমক দেবে। নে ধর। ”
মেয়েটা এত্তো কাম চোরা!!
হৃৎস্পন্দন পর্ব ১
“অসম্ভব! আমি এইমাত্র আসছি তুই যা। রাখবি আর আসবি। আমি গেলাম। ” তড়িঘড়ি করে বলেই এক দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা দয়ে দিল। কতো করে বেচে এসেছে এখন গেলে আর রক্ষে নেই।
তাদের সকল ভাই বোনদের রুম দু’তলাতেই। বড়রা সবাই নিচ তলায় থাকে। আর গেস্ট আসলে তিন তলার রুম গুলো খুলে দেওয়া হয়। অবশ্য সেখানেও মেহরাদ ভাইয়ার জন্য আলাদা পরিপাটি রুম রাখা আছে। যখন মর্জি তখন যায়।
