খান সাহেব পর্ব ১
সুমাইয়া জাহান
সময়টা শীতকাল। চারপাশে কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে রাতের আধার নেমেছে। একরাশ অভিমান আর প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে আছে কালো চুরিদার পরিহিত এক মেয়ে। আজ তার ভীষণ মন খারাপ। মন খারাপের কারণ হলো, এই পুরো দুনিয়াতে তাকে তার মতো করে বোঝার মানুষ নেই। অথচ ভুল বোঝার মানুষের অভাব নেই। তার নিজেকে এত বড় দুনিয়াতে একা মনে হয়। আচ্ছা কেউ কি নেই এই দুনিয়াতে তাকে বোঝার মতো। আর এই সব অভিযোগ সে আকাশ পানে তাকিয়ে চাঁদকে বলছে। সে মনে করে চাঁদ তার একমাত্র সঙ্গী। কারণ চাঁদও তার মতো ভীষণ একা। তার মতো চাঁদেরও কথা বলার মতো কেউ নেই। তাই তার যখন মন খারাপ হয়, সে আকাশ পানে তাকিয়ে চাঁদের সাথে নিজের সব কষ্টের কথা বলে। কারণ দুনিয়াতে এই একটি মাত্র জায়গা যেইখানে সে নিজের সব কষ্টের কথা বলতে পারে। আর অপর পাশ থেকে তার সব কথা নিরব দর্শকের মতো চাঁদ শোনে। কখনও চাঁদ তার প্রতি বিরক্ত হয় না। এমন হাজারো কষ্ট প্রকাশ করার সময় ঘর থেকে তার ডাক পড়ল,
“সুমু মা, এতরাতে বাহিরে কি করিস? ঘরে আয়। অনেক শীত পড়েছে আজ। এমন করে যদি জ্বর-ঠান্ডা বাঁধে, তাহলে পরে তো তোর বাবা বলবে, আমি সারাদিন কি করি? তার দুই মেয়ের খেয়াল রাখতে পারি না। কিন্তু তার মেয়েরা যে কেমন অবাধ্য, এইটা তো আর সে শুনতে চায়না। তার কথা, তার মেয়েরা ভালো। শুধু আমি তাদের ঠিক মতো দেখাশোনা করতে পারিনা। আমার হয়েছে যত যন্ত্রণা। কবে যে বাড়ি ছেড়ে চলে যাব, কেউ টেরও পাবেনা।”
মায়ের এইসব বকবক শুনে প্রচন্ড বিরক্ত সে। আকাশের দিক থেকে নজর সরিয়ে ঘরের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। নিজের রুমে এসে বিছানার উপর বসল। এমন সময় ওর ছোট বোন সামিয়া রুমে এলো।
“আচ্ছা আপু তুমি মাঝে-মাঝে আকাশের পানে তাকিয়ে কি এত ভাবো বলো তো? আম্মু আজ যা রেগেছে না। আজ আমি আর খেতে যাব না। এই যে শুয়ে পড়লাম আর সকালের আগে আমি এই বিছানা আর ঘর ছেড়ে কোথাও নড়ছি না।”
“কেন রে, খেতে কোন যাবি না বোন?”
“তুমি তো জানোই আমাদের আম্মাজান ভাঙা রেডিওর মতো। একবার বাজতে শুরু হলে আর সহজে থামেনা। আজ শুরু হয়েছে তোমার ঠান্ডার মধ্যে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে। আর এর শেষ কোথায় গিয়ে হবে জানো?”
“কোথায়?”
“আমার পড়াশোনাতে গিয়ে। আমি ঠিক মতো পড়িনা। এতোদিনে আমার পিছনে যা টাকা খরচ করা হয়েছে তা দিয়ে হাঁস-মুরগির ফার্ম খুললে, ওই হাঁস-মুরগিও এতোদিন ডিম দিত বা গরুর ফার্ম খুললেও, ওই গরু এতোদিনে বাচ্চা দিত, দুধ দিত। আমাকে নাকি গরুর সাথেও তুলনা করা যায়না। আমাকে গরুর সাথে তুলনা করলে নাকি গরুর মান-সম্মানে লাগে। গরুরও নাকি একটা সম্মান আছে। গরু একটা প্রয়োজনীয় প্রাণী। আর আমি একটা অপ্রয়োজনীয় প্রাণী। আমার রেজাল্ট খারাপ হলে আমার পড়াশোনা বাদ দিয়ে তোমার আগে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিবে, তাও রিকশাওয়ালার সাথে।”
সামিয়ার কথা শুনে হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা সুমুর। কিন্তু এখন ওর সামনে হাসতেও পারবে না সে। সুমু হাসছে এটা দেখলে সামিয়া রাগ করে এখন ওর সাথেও আর কথা বলবে না। ভিষণ জেদি মেয়ে সামিয়া। তাই ওর কথা শুনে ভিষণ করুণার সুরে সুমু বলল,
“থাক, মন খারাপ করিস না বোন। বাবাকে বলে তোর জন্য আরও ভালো ছেলের ব্যবস্থা করব।”
সুমুর কথা শুনে, ও রাগ আর লজ্জা দুটো নিয়েই বলল,
“আপু তুমিও। যাও আর কোনো কথায় বলব না তোমার সাথে।”
“ওরে আমার মিষ্টি বোনটারে। লজ্জা পেয়ে লাল হয়ে গেছে। থাক আর লজ্জা পেতে হবেনা। চল শুয়ে পড়ি। আজ আমিও আর খাব না।”
এমন সময় হাসি বেগম এসে দরজা ধাক্কা-ধাক্কি শুরু করল,
“কি রে? তোরা দরজা লাগিয়ে দিলি কেন? খাবিনা নাকি?”
“না আম্মু আজ রাতে আর খাব না। কাল তো খুব সকালে উঠতে হবে। মাইশা আপুর বিয়ে। মামাদের বাসায় যেতে হবে। তাই আজ আমরা দুইবোন তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম।”
হাসি বেগম আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন। সুমু আর সামিয়া ও ঘুমিয়ে পড়ল।
“হ্যালো মা!”
“কিরে বাবা? তুই কি তোর বোনের বিয়েতে আসবি না? এই শুক্রবার তোর বোনের বিয়ে। আর তোদের আসার কোনো খবর নেই।”
“আরে মা! তুমি ভাবলে কি করে? মাইশা আপুর বিয়ে আর আমি আসব না। এইটা কখনও হয় বলো? আমি আসব আর সাথে কিছু স্পেশাল গেস্ট নিয়ে আসব। তুমি কোনো চিন্তা করো না। আমি সময় মতো ঠিক চলে আসব।”
রাইশা মিনা বেগমের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে বলল,
“ভাইয়া ওই স্পেশাল গেস্ট কি তোমার বন্ধুরা?”
“হ্যাঁ বোন!”
“আচ্ছা ভাইয়া, তোমার বন্ধু শেরাজ ও কি আসবে? ভাইয়া জানো, আমি আর আমার সবগুলো বন্ধু তার অনেক বড় ফ্যান। উনি অনেক হ্যান্ডসাম। হি ইজ মাই ক্রাশ।”
“এই শোন ছোট ছোটোর মতো থাকবি। নিজের বড় ভাইয়ের বন্ধুর ওপর ক্রাশ খেয়ে বসে আছিস তুই। অনেক বেশি পেকেছিস তুই। দাঁড়া বাবাকে বলে মাইশা আপুর পরে তোর বিয়ের ব্যবস্থা করছি আমি।”
“একদম বাজে কথা বলবে না ভাইয়া। আমি এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো না। মা নাও তো তোমার ছেলের সাথে তুমি কথা বলো।”
“ঠিক আছে, বাবা! এখন আমি রাখি। বাসায় এখনই মেহমানদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। অনেক কাজ পরে আছে।”
“আচ্ছা মা। আল্লাহ হাফেজ।”
চুয়াডাঙ্গার, দর্শনায় নিজের দুই ছেলে রাহিন, রাইফ, দুই মেয়ে মাইশা, রাইশা, স্ত্রী মিনা বেগমকে আর মা আশাবানুকে নিয়ে থাকেন আনোয়ার সাহেব। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। নিজ এলাকায় অনেক সম্মানীয় একজন মানুষ তিনি। এই শুক্রবার তার বড় মেয়ে মাইশার বিয়ে। অনেক স্বনামধন্য পরিবারে বিয়ে হচ্ছে তার। আনোয়ার সাহেবের বড় ছেলে রাহিন নিজের ব্যবসার জন্য ওমান থাকে। মেয়ে রাইশা দশম শ্রেণির ছাত্রী। আর ছোট ছেলে রাইফ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
আনোয়ার সাহেবের যখন পনেরো বছর বয়স তখন তার বাবা মতিউর সাহেব পরলোকগমন করেন। বাবা মারা যাবার পর দুই বোন, ছোট ভাই আর মাকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটায় তিনি। দুই বোনকে নিজ এলাকায় বিয়ে দেন তিনি। বড় বোন হাসির বিয়ের পর হাসি বেগম তার স্বামী শামীম সাহেবকে নিয়ে নিজ শশুর ভিটায় পাড়ি জমান। দুই মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে সুখে আছেন হাসি বেগম। বড় মেয়ে সুমাইয়া অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী আর ছোট মেয়ে সামিয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী।
অপরদিকে, ছোট বোন খুশি তার স্বামী ইফতিয়াক সাহেব আর দুই মেয়ে নিয়ে ভালো আছেন। খুশি বেগমের বড় মেয়ে ইফতিয়া ইন্টার শেষ করে এখন এডমিশনের অপেক্ষায়। আর ছোট মেয়ে তিশা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আনোয়ার সাহেবের ছোট ভাই রিসাত এখনো বিয়ে করেননি। কাজের সূত্রে দুবাইতে থাকেন তিনি। পারিবারিক ব্যবসা থাকার পরেও আনোয়ার সাহেব তার চাকরি থেকে অবসর নেন নি। কারণ তিনি মনে করেন, এই চাকরিটা তার কষ্টের দিনে পরম বন্ধু ছিলেন। তাই যতই পারিবারিক ব্যবসা থাকুক না কেনো তিনি এই চাকরি ছাড়বেন না।
এই বছর বেস্ট বিজনেসম্যানের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ওমানের এস.কে ফ্যাশান গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির মালিক শেরাজ খান। এই নিয়ে তার বন্ধুরা আজ রাতে গ্রান্ড সেলিবেশনের প্লান করছে। কিন্তু যার জন্য এত বড় পার্টির আয়োজন করা হচ্ছে, তার মধ্যে কোনো হেলদোল নেই। কারণ এইসব অ্যাওয়ার্ড তার জন্য নতুন কিছু না। প্রতিবছর সেরা বিজনেসম্যান বা টিকটক, ইউটিউব—কোনো না কোনো প্লাটফর্ম থেকে সে অ্যাওয়ার্ড পেয়েই থাকেন।
একজন সফল বিজনেসম্যানের পাশাপাশি একজন ভালো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে তার লাখ লাখ ফলোয়ার। দেশের বিভিন্ন জায়াগার মানুষ তাকে ফলো করেন। হাজারো মেয়ের ক্রাশ তিনি। তার বডি ফিটনেস, স্মার্টনেস, হাঁটা-চলা, কথা বলার ধরন—সবকিছুই চোখে তাক লাগানোর মতো। একজন হিরোর থেকে কোনো অংশেই বেশিবই কম না। অনেকবার ফীল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে ডাক এসেছে তার। কিন্তু তিনি বার বার রিজেক্ট করেছেন। অভিনয়ের জগতে তিনি পা রাখতে চায়না। আফগানিস্তানে জন্ম হলেও পুরো পরিবার নিয়ে তিনি ওমানে বুরাইমি শহরে থাকেন।
তার সাথে তার পুরো ফ্রেন্ড সার্কেলও ওমানে থাকে। আইয়ুব, নিহাল, সাইফ, অমিত, সারবাজ, আরবাজ, রিয়াদ, ফাহিম, রাহিন, রিসান পুরো একটা গ্যাঙ্গ বললেই চলে। আর এই পুরো গ্যাঙ্গের মূল মাথা শেরাজ খান। বাহিরে আর তার কাজের জায়গাই যতই কঠোর মানুষ মনের মানুষ হোক না কেনো। নিজের পরিবার আর নিজের ফ্রেন্ডেদের কাছে একজন নরম আর দুষ্টু মনের মানুষ তিনি। যেমন এখন এতো টায়ার্ড থাকার পরেও তিনি রেস্ট নিতে পারছেন না। বন্ধুরা সবাই মিলে তাকে ঘিরে ধরেছেন পার্টির জন্য। সপ্তাহে একটা দিন তিনি একঘন্টা লাইভে তার ফ্যানদেন সাথে কাটান। তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেন। হাসি মজা করেন ফ্যানদের সাথে। বাকি দিনগুলো তিনি বিজনেস, ওয়ার্কআউট, আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে কাটান। প্রফেশনাল মানুষ হওয়ায় বাংলা, ইংলিশ, উর্দু, হিন্দি আরও অনেক রকমের ভাষা জানেন তিনি। পাস্ত তাদের জাতীয় ভাষা। তিনি যখন লাইভে আসেন সবগুলো ভাষাই তাকে কমবেশি ব্যবহার করতে হয়। কাজের বাহিরে তার ভিডিও বানানো আর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ভালো লাগে।
আইয়ুব হেসে বলল,
“দোস্ত আজ সারারাত পার্টি করব আমার। আমাদের শেহু বেবী অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। এক গ্রান্ড সেলিব্রেশন তো বানতাহে।”
“আমি কি এই প্রথমবার অ্যাওয়ার্ড পেলাম—যে তোরা এত লাফাচ্ছিস। প্লিজ, আজ আমাকে ছেড়ে দে। আমি অনেক টায়ার্ড।”
সাইফ বলল,
“না, না! এইটা বললে তো হবে না। অ্যাওয়ার্ড যতবারই পাস না কেনো। আমাদের জন্য পার্টি তোকে দিতেই হবে। কিরে রাহিন, তোর মন খারাপ কেন? প্লিজ, তুইও শেরাজকে কিছু বল।”
আইয়ুব আবারও বলল,
“আরে বুঝিস না, ওর বোনের বিয়ে। আমাদের যেতে বলেছে ও। এখন আমরা সবাই যাবার জন্য রেডি। শুধু আমাদের হিরো যেতে রাজি হচ্ছেন না। আচ্ছা! শেরাজ কি সমস্যা তোর? প্লিজ চল না। দেখ আমরা তো সময় পেলেই এইদেশ ওইদেশ ট্যুর মারি। তাহলে, এখন যেতে তোর কি সমস্যা?”
“দেখ তোরা তো জানিস, আমি কাজের জায়গায় অনেক সিনসিয়ার একজন মানুষ। এখন আমার হাতে সময় নেই।”
নিহাল বলল,
“ভাই কাজ তো তুই বিডিতে গিয়েও করতে পারবি। আর তোর পি.এ স্যান্ডিকে তুই কাজের দায়িত্ব দে।”
রিসান অনুরোধ করে বলল,
“চল না ভাই। আমাদের তো এখন পযর্ন্ত বিডি দেখা হয়নি। এই সুযোগে বিডিটাও আমাদের দেখা হয়ে যাবে।”
সারবাজ বলল,
“আমাদের তো আর যাওয়া হবে না তাইনা? যদি এই রাহিন মারা গেলে যায়, তখন তো আর আমরা আনন্দ করতে পারব না। কোথায়ও ঘুরতে যেতে পারব না। শুধু কান্না করার জন্য যাব।”
সারবাজের কথা শুনে রাহিনের স্ট্রোক করার অবস্থা। রাহিন সারবাজের কানের কাছে গিয়ে বলল,
“একটা জলজ্যান্ত অবিবাহিত শিশুকে তুই এভাবে মেরে ফেলতে চাইছিস? আমি এখনো বিয়ে বাসর কোনোটাই করিনি দোস্ত। প্লিজ এইভাবে বলিস না।”
“আরে এইটা তো আমি শেরাজকে রাজি করানোর জন্য বলেছি।”
“তাই বলে আমাকে মেরে ফেলবি? আমি এখনো বাসর করিনি। ছেলে-মেয়ের মুখ দেখিনি। আমার বউটা বিয়ের আগেই বিধবা হয়ে যাবে দোস্ত।”
“শা*লা বিয়ে করতে পারলি না আবার বাসর, ছেলে-মেয়ের স্বপ্ন দেখিস? তুই দেখিস, তুই যাকে বিয়ে করবি পুরো পৃথিবীতে ওই মেয়ের জন্ম হবে না।”
“এমন অভিশাপ দিস না দোস্ত।”
“আচ্ছা দাঁড়া, শেরাজ কি বলে শুনি। তুই একটু কাঁদো- কাঁদো মুখ করে রাখ। যাতে ও রাজি হয়ে যায়।”
“এই তোরা দুজন তখন থেকে কানে-কানে কি বলছিস রে?”
“আরে রাহিন বলছিল, শেরাজ আমাদের সাথে না গেলে আমি ফিনাইল খেয়ে সুইসাইড করব।”
“আমি জানি আমাকে রাজি করানোর জন্য তোরা এইসব বলছিস। থাক তোদের আর নাটক করতে হবে না। এই রাহিন কবে যাবি তুই?”
“মানডে।”
“ওকে! ফ্লাইটের টিকিট কাট। আর কাল বেরবো শপিং করতে। নিউ কান্ট্রিতে যাচ্ছি—অনেক কিছু কিনতে হবে।”
শেরাজের সম্মতি পেয়ে পুরো বন্ধুমহলে হৈহ-হুল্লুর পড়ে গেল।
ফাহিম হেসে বলল,
“রাহিনের তো তাহলে ঈদ। এতোদিন পর নিজের বাচপান কা পেয়ারকে দেখতে পাবে।”
অমিত বলল,
“এই রাহিন, তুই ওর সাথে ফোনে কথা বলতে পারিস না?”
ফাহিম বলল,
“আরে শা*লা পিচ্চি একটা মেয়েকে ভালোবাসে। রাহিনকে তো পাত্তাই দেয়না।”
আইয়ুব বলল,
“এই তোরা বেচারাকে জ্বালানো বন্ধ কর। আজ সারারাত পার্টি হবে। কাল সারাদিন শপিং। আর নেক্সট ডে?”
সবাই একসাথে বলল,
“উই আর গোয়িং টু বাংলাদেশ।”
