হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২৪
সাবা খান
ঢাকার ব্যস্ত নগরীর বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা
“ঢাকা সিটি হসপিটালটা” রোজকার মতো আজও মানুষের আর্তনাদ, আশা আর জীবনের শেষ লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে আছে। প্রত্যুষের আলো কাঁচের দেয়াল বেধ করে ভেতরে ঢুকছে নরম হলুদ আভা হয়ে। হাসপাতালের করিডোর জুড়ে শোনা যাচ্ছে কোথাও হুইলচেয়ার ঠেলার শব্দ, কোথাও স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা রোগীর নিঃশ্বাসের ওঠানামা, কোথাও স্বজনদের চোখে লেগে থাকা নির্ঘুম রাতের ছাপ সব মিলিয়ে একটা অদৃশ্য চাপা উত্তেজনা।
হঠাৎ সেই শান্ত, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশটাকে ভেঙে
করিডোরের একপ্রান্ত থেকে ছুটে আসে এক রমণী। তার চুল এলোমেলো, চোখ লাল, শ্বাসপ্রশ্বাস অগোছালো অথচ তার কোনদিকে খেয়াল নেই সে একমনে ছুটে চলছে। চারপাশের সবাই থমকে তাকিয়ে ফিসফিস করে,
–“কি হয়েছে মেয়েটার?’
–“এভাবে দৌড়াচ্ছে কেন?”
–“কোন পেশেন্টের আত্মীয় নাকি?”
সবকিছুই ভেসে আসছে তার কানে, কিন্তু রমণী সেগুলোর তোয়াক্কা না করে সরাসরি কাউন্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তার দুই হাত কাঁপছে, সে এক নিঃশ্বাসে বলতে থাকে,
–“কা..কাল রাতে… একটা পেশেন্ট এসেছে… জ্যাক… নাম জ্যাক… সে কোথায় আছে? প্লিজ… তাড়াতাড়ি বলুন”
তার কথা গুলো কেমন গলায় জড়িয়ে আসছে কান্নারা যেন গলার কাছে জমে আছে। কাউন্টারে বসা ভদ্রমহিলা একটু চমকে ওঠে। পর মুহূর্তে নরম স্বরে শুধায়,
–“ম্যাডাম, আপনি একটু বসুন, পানি খান”
রমণী মাথা নেড়ে তড়িঘড়ি করে বলে,
–“না..না, প্লিজ… আগে বলুন… জ্যাক কোথায়… প্লিজ”
তার চোখে একরাশ আতঙ্ক দেখে কাউন্টারের মহিলা দ্রুত ল্যাপটপে টাইপ করে বলে,
–“হ্যাঁ, গতরাতে একজন ‘জ্যাক’ নামে পেশেন্ট ভর্তি হয়েছে। তিনি এখন ভিআইপি সপ্তম তলার ইমার্জেন্সি ইউনিটে আছেন…..”
এইটুকু শুনতেই রমণী আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে সে ঘুরে দাঁড়িয়ে দৌড়ে চলে যায়। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার ধৈর্য তার নেই তাই সে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকে। প্রতিটা ধাপে যেন তার বুক ভেঙে যাচ্ছে। অবশেষে ভিআইপি ইমার্জেন্সি ইউনিটে পৌঁছাতেই নজরে আসে প্রতিটা দরজার সামনে সিকিউরিটি, প্রতিটা কর্নারে নজরদারি। সে হাঁপাতে হাঁপাতে প্রবেশ করার আগেই হঠাৎ দুজন সশস্ত্র গার্ড সামনে এসে দাঁড়িয়ে গম্ভীর স্বরে বলে,
–“স্টপ, ম্যাডাম”
–“আপনি এখানে যেতে পারবেন না”
রমণী থেমে কাঁপা কণ্ঠে এলোমেলো চিত্তে বলে,
–“আমি… আমি ইবেলিনা”
–“ভিতরে যে আছে, জ্যাক…সে আমার স্বামী”
গার্ডরা একে অপরের দিকে তাকায়। তারপর সন্দিহান গলায় শুধালো,
–“আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই, ম্যাডাম। আপনি এখানে প্রবেশ করতে পারবেন না”
ইবেলিনার চোখ ভিজে ওঠে। সে কান্না জড়িত গলায় বলতে থাকে,
–“প্লিজ… আমাকে যেতে দিন, সে আমার..”
ঠিক তখনই ভেতর থেকে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে এসপি। সে ইবেলিনাকে দেখা মাত্রই চিনতে পারে। যদিও সে জ্যাক বা ইবেলিনার বিয়ে সম্পর্কে জানে না তবুও ফিসফিস করে বলে,
–“ইবেলিনা এখানে কী করছে ?”
তরপর এসপি গার্ডদের দিকে তাকিয়ে বলে,
–“লেট হার ইন”
গার্ডরা সাথে সাথে সরে দাঁড়ায়। এক মুহূর্ত দেরি না করে ইবেলিনা দৌড়ে ঢুকে পড়ে সেই রুমের দিকে যেখানে জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে লড়ছে জ্যাক।
ইবেলিনা কালকে রাতেই এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে যন্ত্রমানবের থেকে আর দূরত্ব সহ্য করতে পারছে না। বিয়ের পর থেকে জ্যাকের যখন ইচ্ছা হয় তখন যাবে আর ইবেলিনা দিনের পর দিন তার অপেক্ষায় কাটায়। তাই এক দুঃসাহসিক কান্ড করে বসে রমণী। আজ সকালেই সে জ্যাক কে সারপ্রাইজ দিবে ভেবে সে ভারত থেকে জ্যাককে না জানিয়েই বাংলাদেশে চলে আসে। জ্যাকের সাথে তার যে কয়েকবার কথা হয়েছিল, জ্যাক তাকে বলেছে, সে ব্ল্যাক ম্যানশনে আছে। তাই ইবেলিনা ব্ল্যাক ম্যানশনে গিয়েছিল কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর ঈশানী তাকে সবটা বলাতে সে পাগলের মত ছুটে এসেছে এখানে।
দরজাটা কাঁপা হাতে ঠেলে খুলতেই মুহূর্তেই থেমে যায় রমণীর শ্বাস। নজরে আসে সামনে হসপিটালের সাদা বিছানায় নিঃশব্দে শুয়ে আছে যন্ত্রমানব। তার পুরো শরীর জুড়ে ব্যান্ডেজ, কোথাও কোথাও রক্তের হালকা দাগ এখনো শুকায়নি। মুখে অক্সিজেন মাস্ক বুকটা ধীরে ধীরে উঠানামা করছে যেন প্রতিটা নিঃশ্বাসও যুদ্ধ করে নিচ্ছে। ইবেলিনার চোখ স্থির হয়ে যায় মানবের উপর। সে দাঁড়িয়েই থাকে কিছুক্ষণ মনে মনে ভাবে, এই মানুষটা যে সবসময় শক্ত, দৃঢ়, যে কারো সামনে মাথা নোয়ায় না আজ সে এভাবে নিথর হয়ে পড়ে আছে?
কথাটা ভাবতেই তার চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। কার্নিশ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে। সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে ধীরে ধীরে এগিয়ে বিছানার পাশে বসে পড়ে। কাঁপা হাতে জ্যাকের হাতটা তুলে নেয় নিজের হাতে। অনুভূত হয় ঠান্ডা, অস্বাভাবিক ঠান্ডা। সে কাঁদো কাঁদো সুরে ডেকে ওঠে,
–“জ্যাক, এই অবস্থায় আপনাকে দেখতে হবে এটা আমি স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি”
সে তার হাতটা নিজের গালে চেপে ধরে বলে,
–“জ্যাক, শুনতে পাচ্ছেম আমাকে?
একবার শুধু একবার চোখ খুলে তাকান, দেখুন আমি… আমি এসেছি আপনার কাছে। আমি আর পারছিলাম না, জানেন? এই দূরত্ব, এই অপেক্ষা, প্রতিটা রাত যেন আমার বুক চিরে যাচ্ছিল। আপনি ছিলেন না, আপনার কণ্ঠ ছিল না, আমি একা হয়ে যাচ্ছিলাম জ্যাক”
তার সারা শরীর কাঁপছে। কথাগুলোও ঠিকমতো বেরোচ্ছে না। তারপরও আলতো হাতে চোখ মুছে মুখে হাসি টেনে বলে,
–“তাই, আমি ভেবেছিলাম আজকে আপনাকে সারপ্রাইজ দিবো। হঠাৎ আপনার সামনে গিয়ে দাঁড়াবো। আপনি অবাক হয়ে যাবেন, হয়তো একটু রাগ করবেন, তারপর… তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরবেন”
তারপর কিছু একটা ভেবে রমণীর ঠোঁটের হাসি মিলিয়ে যায়। আবারও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সে,
–“কিন্তু এটা…এটা কি দেখাচ্ছেন আপনি আমাকে? এইটা কি আমার প্রাপ্য ছিল, মিস্টার ফরেনার, বলুন”
সে জ্যাকের হাতটা আরও শক্ত করে ধরে তার চওড়া বুকে মাথা রেখে আওড়ায়,
–“আমি… আমি সব ছেড়ে চলে এসেছি জ্যাক, সব। শুধু আপনার জন্য। একবারও ভাবিনি কি হবে, কিভাবে আসবো, কেউ থাকবে কিনা, কিছুই ভাবিনি। শুধু একটা জিনিস জানতাম। আপনার কাছে যেতে হবে, আপনাকে ছুঁতে হবে”
এটুকু বলেই তাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে তার বুকে গুঁজে দিল। রমণীর অশ্রুতে জ্যাকের শার্ট ভিজে যায়। তবুও সে থামে না এক নিঃশ্বাসে বলতে থাকে,
–“জানেন, আমি খুব করে চাইছিলাম আপনাকে ঘৃণা করতে এজন্যই বোধহয় তকদির আপনাকেই আমার সবকিছু বানিয়ে দিল, আমার শ্বাস, আমার বেঁচে থাকা, আমার প্রতিটা সকাল, প্রতিটা রাত। আমি আর কোথাও যাব না আপনাকে ছেড়ে। আর দূরে যাব না, আপনি চাইলেও না। প্রয়োজনে আপনার সাথে মৃত্যু করে নেব”
রমণী আরও এটা সেটা বলে বিড়বিড়ায়। কিন্তু বিপরীত পাশ থেকে নীরবতা ছাড়া আর কিছুই আসে না। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই সে উঠে বসে। সে ধীরে ধীরে জ্যাকের হাতটা তুলে নিজের উদরের উপর রাখে। তার চোখ টলমল করছে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ঠোঁটে হাসি টেনে আওড়ায়,
–“জ্যাক, অনুভব করতে পারছেন?
এখানে আমাদের ভালোবাসা বড় হচ্ছে। আমাদের একটা ছোট্ট পৃথিবী, আপনার আর আমার। আপনি, বাবা হতে চলেছন, মিস্টার ফরেনার। শুনতে পাচ্ছেন? আপনি বাবা”
সে আবার কেঁদে ফেলে,
–“আপনি তো বলেছিলেন, আপনি সবসময় আমার পাশে থাকবেন। তাহলে এখন আমাদের বাচ্চার পাশে কে থাকবে?
ওকে আপনি কোলে নিবেন না?
ওর ছোট ছোট হাত আপনি ধরবেন না?
ও যখন ‘পাপা’ ডাকবে আপনি শুনবেন না?”
সে আবারও তার বুকে মুখ গুঁজে কান্না জড়ানো কণ্ঠে বিড়বিড়ায়,
–“জ্যাক প্লিজ, চোখ খুলে দেখুন না একবার।
আমি এসেছি, আপনার মোরনি জান, আপনার কাছে ফিরে এসেছে”
বিপরীতে কোন সাড়া শব্দ নেই, পুরো কক্ষ নিঃশব্দ। আর এই নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে শোনা যাচ্ছে এক রমণীর কান্না।
কোর্টের ভেতরে প্রবেশ করতে আরজে ও সানার দেখা হয় সোফিয়ার প্রসিকিউটর আরমান শিকদারের সাথে। তিনি আরজেকে দেখে এগিয়ে এসে তার সাথে হ্যান্ডশেক করেন। আরজে একবার সানার দিকে তাকায়, যে এখনো ভাবনায় ডুবে আছে। রমণীর চোখে এখনো এক অদ্ভুত বিভ্রান্তি। সে এখনো বুঝে উঠতে পারছে না, জনগণ কেন আরজেকে কিছু করলো না। সে তো সকালে ভিডিও তে দেখেছে, কিভাবে জনতা সোফিয়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, কিভাবে ক্ষোভ আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। তাহলে আরজে কে দেখে এত নীরব হয়ে গেল কেন?
আরজে কিয়ৎকাল তাকিয়ে কিছু না বলে কাইলিনকে ইশারা করে সানার খেয়াল রাখতে। কাইলিন মাথা নাড়িয়ে “হ্যাঁ” বোঝায়। তারপর আরজে প্রসিকিউটরের সাথে কথা বলতে একটু অদূরে চলে যায়। এদিকে সানা এখনো নিজের ভেতরের অস্থিরতা নিয়ে লড়ছে। তার মাথার ভেতর যেন হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে,
কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যে?
কোনটা মানুষ, আর কোনটা মুখোশ?
হঠাৎ তার বিভ্রম ছুটিয়ে কানে আসে পরিচিত এক কণ্ঠস্বর,
–“সুনেহনা”
নামটা শ্রবণ হতেই রমণী সাথে সাথে বুঝতে পারে কে এটা? সানা তাকে ‘সুনেহনা’ বলে ডাকতে বারবার নিষেধ করেছে, তবুও তিনি ডাকবেন। সামনে তাকাতেই নজরে আসে মিসেস দিলরুবা খানম। তুনি ঠোঁটে মমতামিশ্রিত হাসি ফুটিয়ে বলেন,
–“তুমি ফাইনালি এসেছ। আমি আবার ভেবেছিলাম আরজে তোমাকে আসতে দেবে না”
সানা হাত নেড়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে বলে,
–“আমি আসতে চাইলে কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না”
বিপরীতে দিলরুবা খানম হালকা হেসে বলেন,
–“দেটস লাইক মাই ডটার। আরভি কোথায়?”
–“আরভি ঈশানীর কাছে”
–“ও আচ্ছা। বাই দা ওয়ে, তুমি ওই বিষয়টা নিয়ে ভেবেছো কিছু?”
তার বলা প্রশ্ন টা কানে পৌঁছাতেই সানার ঠোঁটের হাসি মিলিয়ে যায়। তার মুখটা ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে, যেন রক্ত সরে যাচ্ছে ভেতর থেকে। সে একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলে,
–“আমি আর পালাতে চাই না”
সানা কথা শেষ করতে না করতেই বিপরীত দিক থেকে দ্রুত আসে উত্তর,
–“সানা, আর ইউ ম্যাড? তুমি এখানে থাকলে ওরা আবার আরভিকে নিয়ে যাবে। তুমি বুঝতে পারছ না, চারদিকে আরজের শত্রুর অভাব নেই…..”
ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে আসে কারো দাঁত চেপে বলা তাচ্ছিল্যের কণ্ঠ,
–“বাহ… সেকেন্ড মাদার ইন ‘ল’ বাহ, কী দারুণ, ব্রেন ওয়াশ। আপনাকে ব্রেন ওয়াশের জন্য একটা নোবেল দিলেও কম হবে। হ্যাঁ, তবে অস্কার দিলে হয়তো একটু উন্নতি হবে”
মিসেস দিলরুবা খানম চমকে পিছনে তাকান নজরে আসে আরজে। যে দিকে রক্তচক্ষু তে তাকিয়ে এগিয়ে আসছে। যেন সেখানে জমে আছে বহু বছরের দহন। সে এগিয়ে এসে এক টানে সানাকে নিজের দিকে টেনে নেয়। মিসেস দিলরুবা খানমও এবার অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ কটমট করে বলেন,
–“ভদ্রভাবে কথা বলো, আরজে”
আরজের ঠোঁটে তিক্ত হাসি ফুটে ওঠে,
–“পৃথিবীতে আপনি একমাত্র মাদার ইন ল, যে নিজের মেয়েকে জামাইয়ের থেকে দূরে রাখছেন। তার উপর আবার সম্মানও চাইছেন”
এই কথাগুলো যেন ছুরি হয়ে বিঁধে যায় দিলরুবা খানমে মনে। সানা বিরক্ত সূচক দৃষ্টিতে একবার তাকিয়ে নিজের হাত ছাড়িয়ে সামনে চলে যায়। সে আর এই টানাপোড়েনে থাকতে চায় না। এদের এই সংঘর্ষ নতুন কিছু না। এর আগেও চায়নায় ‘ব্ল্যাক লোটাস ভিলাতে একমাস থাকার সময় যতবারই মিসেস দিলরুবা খানম সানার সাথে দেখা করতে এসেছেন, ততবারই আরজে এমন আচরণ করেছে তাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও।
আরজে সানার পিছু নিতে নিতে দিলরুবা খানম কে শুনিয়ে জোরে বলে ওঠে,
–“কি দিনকাল আসলো, বউচোরকেও সম্মান দিতে হবে”
মিসেস দিলরুবা খানমের চোখে আগুন জ্বলে ওঠে। তিনি মুখ ফুটে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আরজে আর একবারও পিছনে না তাকিয়ে চলে যায় ভিতরে। তিনি দাঁত চেপে সেই অপমান টা গিলে ফেলেন।
হাইকোর্টের সেই বিশেষ কক্ষটা আজ আর সাধারণ কোনো আদালত কক্ষ নেই। উঁচু ছাদের বিশাল হলরুম, গাঢ় কাঠের দেয়াল, সামনের উঁচু ডায়াসে বিচারকের আসন, মাঝখানে আসামির কাঠগড়া যেটা লোহার বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা, এটার চারপাশে সশস্ত্র নিরাপত্তা, ইন্টারপোল, স্পেশাল ফোর্স, প্রতিটা কোণে স্নাইপার নজর রাখছে।
প্রেস গ্যালারি এতক্ষণে ভরে ওঠেছে দেশি বিদেশি সাংবাদিকে এদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়াই বেশি। ক্যামেরার লেন্সগুলো একের পর এক ঝলসে ওঠছে যেন শিকারীর চোখ। আর পুরো কক্ষ জুড়ে একটা অদ্ভুত চাপা উত্তেজনা।
এক এক করে সবাই প্রবেশ করতে থাকে। প্রথমে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইনজীবী, ইন্টারপোল অফিসাররা। তারপর সিতারা আদিল, তালহা আদিল তারপর সারহাদ চৌধুরী প্রবেশ করে। সে নিজের আসনে বসে চারপাশে একবার দৃষ্টি বুলায়। তার কিছুক্ষণ পর প্রবেশ করে মিসেস দিলরুবা খানম। সে বসতে বসতেই একবার দরজার দিকে তাকায় আর ঠিক তখনই প্রবেশ করে আরজে এবং সানা। আরজেকে দেখা মাত্রই দিলরুবা খানমের চোখে ভেসে ওঠে গত রাতের দৃশ্য।
তার কেবিনে ফাইল ছুঁড়ে যখন তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন,
–“আরজে, ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট”
আরজে তখনও শান্ত ছিল সে কিছু না বলে ফোনটা এগিয়ে দেয়। দিলরুবা খানম বিরক্ত হয়ে ফোনটা নেন। আর স্ক্রিনে চোখ পড়তেই তার মুখের রঙ পাল্টে যায়। কেননা তার নজরে আসে ফাইলের পর ফাইল, প্রমাণের পর প্রমাণ, তার নিজের নাম,।তার স্বামীর তৈরি এজেন্সি ব্যবহার করে অবৈধ অপারেশন, মানি লন্ডারিং, আন্ডারগ্রাউন্ড ডিল সবকিছু একদম নিখুঁতভাবে সাজানো। তিনি দন্ত চেপে আওড়ান,
–“এগুলো, তুমি কোথায় পেলে?”
বিপরীত প্রান্ত থেকে আসে নির্বিকার কণ্ঠস্বর,
–“মিসেস খানম, আপনি তো জানেন, অন্ধকারে ঢুকতে হলে, অন্ধকারকেই ব্যবহার করতে হয়”
–“তুমি এসব দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছো?”
–“মে বি, শব্দটা আপনি বলেছেন, আমি না”
–“তমি এটা করতে পারবে না”
–“আমি অনেক কিছুই করতে পারি, যেগুলো আপনি কল্পনাও করতে পারেন না”
দিলরুবা দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা সহ্য করে নিল। কেননা এই মুহূর্তে আরজের সাথে কথা বাড়ানো ঠিক হবে না। তার সাথে রাশেদ মাহবুব জড়িত। যদি কোনমতে অপারেশন ক্যান্সেল হয়ে যায় তাহলে তাদের সম্পূর্ণ পরিশ্রম বৃথা যাবে। যদি এই প্রমাণ গুলো লোপাট করে দেওয়া যায়। যেই ভাবা সেই কাজ। আরজে হাত বাড়িয়ে নিজের ফোনটা নেওয়ার আগেই দিলরুবা খানম একটানে ফোনটা নিয়ে দেওয়ালে জোরে আঁচড়ে মারেন। তার এই কান্ড দেখে আরজে হঠাৎ শব্দ করে হেসে পকেট থেকে চার পাঁচটা চিফ বের করে তার সামনে রেখে বলে,
–“চাইলে এগুলো কেও ভাঙতে পারেন। এতেও আছে”
দিলরুবা খানম বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে দন্ত খিঁচিয়ে বলে,
–“কী চাই ডিরেক্ট বলো?”
আরজে কিছু না বলে উঠে দরজার দিকে যেতে যেতে বলে,
–“সব ফাইল থেকে, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া, ইন্টারপোল, দেশের সব রিপোর্ট সব জায়গা থেকে “দ্য জেবি কিং” নামটা ক্লিয়ার হবে”
বিপরীতে ভদ্রমহিলা ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ঝুলিয়ে বলে,
–“এসব সানার জন্য করছো তাই না?”
আরজে পা থামিয়ে কিছুক্ষণ নীরব থেকে তারপর গম্ভীর কণ্ঠে শুধালো,
–“ড্যাডের ডেড বডিটা ঠিক জায়গায় পাঠিয়ে দিবেন। যদি আমাকে আনতে হয় তাহলে আপনার ফার্ম হাউসের অস্তিত্ব থাকবে না”
এটুকু বলেই সে বেড়িয়ে যায় আর পিছনে পড়ে থাকে এক প্রৌঢ়া নারী যে আরজের দিকে অবিশ্বাসের ন্যায় তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবছেন, আরজে কীভাবে জানলো ইকবাল জাওয়ানের ডেড বডি তার কাছে রাখা। তার থেকে বড় কথা, সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ব্যাপারে তল্লাশি চালানোর জন্য তাদের সাথে মিশে যেসব কাজ করেছে আরজে সেগুলোর একটা ফাইল বানিয়ে ফেলেছে। আর যদি সেটা একবার পাবলিশ হয়ে যায় তাহলে সারা পৃথিবীর মানুষ সোফিয়ার মতো তার মৃত স্বামী কেও ছিঃ ছিঃ করবে কেননা জাইফেরা তার স্বামীর তৈরী। তিনি টেবিলের উপর অবহেলায় পড়ে থাকা চিফ গুলোর দিকে একবার তাকান তার মানে আরজের কাছে এমন আরো অনেক আছে।
দিলরুবা খানম কিয়ৎকাল ভেবে দেখলেন। নাহ আর কোন রাস্তা নেই। তাই তিনি নিজে আরজের নাম সব জায়গা থেকে হটিয়ে দিয়েছেন। তাই আজ সকাল থেকে সোফিয়ার যতগুলো ভিডিও, অডিও, ফাইল, ছবি ভাইরাল হয়েছে তার কোথাও আরজে নেই। তাই জনগণের মনে তার জন্যও একটা সফট কর্ণার তৈরি হয়েছে এজন্যই তারা একটু আগে এমন আচরণ করেছে।
দিলরুবা খানমের চোখ আবার বাস্তবে ফিরে আসে। সে একবার চোখে কঠোরতা, অপমান, রাগ নিয়ে তাকায় আরজের দিকে বিপরীতে আরজে কোন দিকে না তাকিয়ে শুধু সানার হাত ধরে হেঁটে যায় সারহাদের সামনে দিয়ে। এক মুহূর্তের জন্য সারহাদ চোখ তুলে তাকায়। আর সামনের দৃশ্য দেখে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়। আরজে হালকা বাঁকা হাসি দিয়ে একটাও শব্দ না করে সে নিজের জন্য আগে থেকে রাখা ভিআইপি আসনে বসে পড়ে সানাকে নিয়ে।
হাইকোর্টের সেই ভারী কক্ষে হঠাৎ করেই আরেক দফা উত্তেজনায় কেঁপে ওঠে। দরজার বাইরে প্রথমে শোনা যায় ভারী বুটের শব্দ। তারপর লোহার দরজা খুলে প্রথমেই চারপাশে সশস্ত্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
ধীরে ধীরে ভেতরে আনা হয় সোফিয়া জাওয়ানকে। তার দুই পাশে ইন্টারপোল অফিসার, পেছনে স্পেশাল ফোর্স, মাথার উপরে নজরদারি। এত কিছুর পরও সোফিয়ার মুখের রং বদলায়নি আর না হাঁটার ভঙ্গি। মাথা উঁচু, চোখে সেই পুরোনো অহংকার, ঠোঁটে ফিকে, রহস্যময় হাসি এখনো দৃশ্যমান। যেন এই কক্ষ, এই বিচার সবকিছুই তার কাছে তুচ্ছ। সোফিয়ার চোখ একবার পুরো কক্ষ ঘুরে আসে আর ঠিক তখনই তার দৃষ্টি আটকে যায় আরজের উপর। এক মুহূর্ত শুধু মা আর ছেলের চোখাচোখি হয়, দুজনের চোখের ভাষায় কোন রাগ নেই, কোন ভালোবাসাও নেই শুধু অদ্ভুত এক শীতলতা। আরজে অভিব্যক্তিহীন স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সানা পাশ থেকে একবার তাকিয়ে কিছু না বলে আবার সামনে তাকায়।
সোফিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। তার হাতকড়া খুলে দেওয়া হয় কিন্তু চারপাশের অস্ত্রগুলো এখনো তাক করা। কিয়ৎকালের মধ্যেই বিচারক প্রবেশ করেন। উঁচু আসনে বিচারক বসে গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,
–“কোর্ট ইজ ইন সেশন”
দুই পক্ষের আইনজীবী দাঁড়ায়। সোফিয়ার পক্ষে একজন নামকরা ডিফেন্স লয়ার। আর বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মিস্টার রফিকুল ইসলাম। ডিফেন্স লয়ার বলতে শুরু করেন,
–“মাই লর্ড, আমার মক্কেল একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী…”
রাষ্ট্রপক্ষের লয়ার সাথে সাথে থামিয়ে দিয়ে বলে,
–“অবজেকশন, মাই লর্ড। এই ‘সম্মানিত’ শব্দটা এখানে প্রযোজ্য না”
এবার বিচারক থেকে আওয়াজ আসে,
–“প্রসিড”
ডিফেন্স লয়ার দন্ত চেপে আওড়ায়,
–“আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ সাজানো, ভিত্তিহীন”
রাষ্ট্রপক্ষের লয়ার হালকা হেসে বলে,
–“তাহলে আজ আমরা সত্যটা দেখাবো”
তিনি ইশারা করতেই কক্ষের লাইট কিছুটা ম্লান করে দেওয়া। বড় স্ক্রিন অন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের লয়ার সামনে এগিয়ে এসে বলেন,
–“মাই লর্ড, আমি কিছু প্রমাণ পেশ করতে চাই”
স্ক্রিনে প্রথমে ভেসে ওঠে সোফিয়ার অন্ধকার ল্যাবের ফুটেজ। যার মধ্যে সে তার ড্রাগস ‘ম্যানবিস্ট’ কীভাবে বিভিন্ন এজের মানুষ ও বাচ্চাদের উপর পরীক্ষা চালাচ্ছেন, সাথে ভেসে আসছে মানুষদের চিৎকার, রক্ত, বিকৃত শরীর। তারপরের ভিডিও ক্লিপে শিশুদের ওপর ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, তাদের চোখ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, শরীর কাঁপছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মানুষ থেকে কিছু একটা অন্যকিছুতে পরিণত হচ্ছে। পুরো কক্ষ নিঃশব্দ। কারো কারো নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। এসব ভিডিও গুলো তালহা আদিলের ক্যামেরায় রেকর্ডিং করা হয়েছিল। সে ফ্ল্যাটে এসে আগে এগুলোকে সার্ভার থেকে কালেক্ট করেছে। তারপর অডিও চালু হয়। যেখানে ভেসে আসে সোফিয়ার কণ্ঠ,
–“হিউম্যানিটি ইজ এ উইকনেস”
–“মেয়ে গুলোকে রাশিয়াতে পাঠাও আর বাচ্চা গুলোকে ভারতে”
তারপর স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একের পর এক ছবি, অবৈধ অস্ত্র চুক্তি, বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের সাথে গোপন মিটিং, মানি লন্ডারিংয়ের ডকুমেন্ট। মিস্টার রফিকুল ইসলাম গম্ভীর কণ্ঠে শুধালেন,
–“মাই লর্ড, এগুলো শুধু শুরু। এই নারী শুধু একজন অপরাধী না, তিনি একটা সংগঠিত অন্ধকার সাম্রাজ্যের প্রধান”
কক্ষ জুড়ে চাপা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিচারক হাতুড়ি ঠুকে বলেন,
–“অর্ডার, আপনার কোন সাক্ষী আছে?”
–“জি মাই লর্ড, আমি প্রথম সাক্ষীকে ডাকতে চাই। মিসেস সানা”
সানা ধীরে ধীরে উঠে কাঠগড়ার সামনে এসে দাঁড়িয়ে শপথ নেয়। রাষ্ট্রপক্ষ তার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে,
–“আপনি কি আসামিকে চেনেন?”
–“জি”
–“তিনি আপনার সাথে কি করেছেন?”
সানা এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে তারপর খুলে
সোজা সোফিয়ার দিকে তাকায় যে এখনে আসার পর একবারও কারো দিকে তাকায় নি। সে এখনো একমনে বিড়বিড়াচ্ছে ইকবাল জাওয়ানের নামে যেন এই বিচারসভা, এই কক্ষ চারদিকে এত কিছু এগুলোতে তার কিছু যায় আসে না। তার চোখে না ভয় না আতঙ্ক। কেননা তার মৃত্যুতে কোন ভয় নেই। আজ যদি তার ফাঁ*সিও হয়ে যায় তাতেও তার কোন আফসোস থাকবে না। তার শুধু একটাই চিন্তা,
“ইকবাল জাওয়ান”
সানা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলতে শুরু করে,
–“মিসেস সোফিয়া জাওয়ান আমার সন্তানের পিছনে লেগেছিল। একবার না, দুইবার না, অনেকবার আমার সন্তানকে অপহরণের চেষ্টা করেছে। আমার ছেলেকে তার পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করতে চেয়েছিল। সে একটা শিশু কিন্তু তার কাছে সে শুধু একজন উত্তরাধিকারী”
তারপর রমণী আরজের দিকে তাকিয়ে বলে,
–“আমি নিজের চোখে দেখেছি কিভাবে সে মানুষকে তার এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে দানব বানায়”
–“আপনি কি নিশ্চিত, এই সব কাজ সে-ই করেছে?”
–“হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত”
পুরো কক্ষ নিঃশব্দ হয়ে যায়। সবাই তাকিয়ে আছে সানার দিকে। সোফিয়া জাওয়ান এখনো ঠোঁটে সেই হালকা হাসি ধরে রেখেছে। যেন এই সব অভিযোগ তার কাছে কিছুই না। আর দূরে বসে আরজে তাকিয়ে আছে সানার দিকে স্থির, নিঃশব্দ। তার চোখে কি চলছে তা কেউ পড়তে পারছে না।
সানা কাঠগড়া থেকে নেমে আসে। কক্ষটা তখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে একটা সত্যের পর আরেকটা সত্য বেরিয়ে আসার। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবার দাঁড়িয়ে বলে,
–“মাই লর্ড, আমি পরবর্তী সাক্ষীকে ডাকতে চাই, মিস্টার তালহা আদিল”
তালহা এসেও একই স্বগোতক্তি করে। তার সাথে সোফিয়া কী কী করেছিল সে আই উইটনেস হিসেবে সবটা বলে। তারপর এক এক করে ডাকা হয় ওইসব মন্ত্রীদের যারা সোফিয়ার সাথে জড়িত ছিল। তারা মাথা নিচু করে দাঁড়ায়। কেউ চোখ তুলে তাকাতেও পারে না। তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ থাকার কারণে স্বীকার করে।
জনগণের গুঞ্জন, ঘৃণা, রাগ সবকিছু যেন দেয়ালের ভেতরেও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এইসবের মাঝেও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সোফিয়া জাওয়ান একেবারে নির্বিকার। তার চোখ শূন্য, ঠোঁটে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। সে যেন এখানে নেই। তার ঠোঁট নাড়িয়ে আস্তে বের হয়,
–“ইকবাল…ইকবাল কোথায়”
তার পুরো অস্তিত্ব এখন একটাই জায়গায় আটকে ইকবাল জাওয়ান। রাষ্ট্রপক্ষ আবার দাঁড়িয়ে বলে,
–“মাই লর্ড, আমার শেষ সাক্ষী, জিহাদ”
দরজা খুলে জিহাদ প্রবেশ করে। আর সোফিয়া তাকে দেখামাত্রই তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। এক ন্যানো সেকেন্ড দেরি না করে হাত মুষ্টিবদ্ধ দাঁড়িয়ে কারো বা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে চিৎকার করে ওঠে,
–“আমার ইকবাল কোথায়?
কোথায় রেখেছিস ওকে?”
জিহাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু না বলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে একে একে সবকিছু স্বীকার করে, ডাটা, গোপন ল্যাব, অপরাধ, খুন সব। শেষে সে সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে ধীরে বলে,
হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২৩
–“আপনি যা করেছেন, তার শাস্তি হওয়া উচিত”
কক্ষটা নিস্তব্ধতায় চেয়ে যায়। বিচারক সামনে ঝুঁকে সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলে,
–“মিসেস সোফিয়া জাওয়ান, আপনার কিছু বলার আছে?”
সোফিয়া ধীরে মাথা তোলে চারপাশে তাকায়।
একবার আরজের দিকে তাকায় তারপর একটা শব্দও না বলে হাত নেড়ে ‘না’ বোঝায়। বিচারক হাতুড়ি হাতে নেন। পুরো কক্ষ নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে রায়ের জন্য।
