Home খান সাহেব খান সাহেব পর্ব ২৩

খান সাহেব পর্ব ২৩

খান সাহেব পর্ব ২৩
সুমাইয়া জাহান

ওমান, বুরাইমি শহর
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নাম্বার ওয়ান প্রডিউসার আফতাব চৌধুরী তার ছেলে পার্মানেন্টলি তার কাছে ফিরে আসার উপলক্ষ্যে আজ তার নিজ ম‍্যানশনে গ্রান্ড পার্টির অর্গানাইজ করেছেন। চৌধুরী ম‍্যানশনে আজ মানুষে ভরপুর। অবশ্য এমন পার্টি আফতাব চৌধুরী মাঝে মধ্যেই দিয়ে থাকেন। তবে আজকেরটা বিশেষ। অসংখ্য প্রেস-মিডিয়ার ভিড় হয়েছে আজ। আরিয়ান চৌধুরীকে পার্টিতে উপস্থিত কেউ কখনো সরাসরি দেখেননি। আট বছর বয়সে মৌ সেনের সাথে কোরিয়ার মাটিতে পা রাখার পর খুব একটা ওমানে আসেনি আরিয়ান।

রোজা বেশিরভাগ সময় ওমানেই থাকতো। সে ওমানে নিজের বাবার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে মডেল হিসেবে কাজ করে। খুব বেশি প্রয়োজন পড়লে মা ভাইয়ের সাথে দেখা করতে কেরিয়াতে যেত। ওমানে নিজের বাবার বাসা ছেড়ে অলওরেজ সাহাবাজ খানের বাসায় থাকে সে। শেরাজকে অসম্ভব ভালোবাসে মেয়েটা। কিন্তু রোজার গায়ে পরা স্বভাব একদম পছন্দ করেনা শেরাজ। রোজা দেখতে অসম্ভব সুন্দরী, গায়ে রং দুধে আলতা, রিবন্ডিং করা চুলগুলোতে ব্রাউন কালার করে পিঠ পর্যন্ত কেটে ছোট করে রাখা। অলওয়েজ ওয়েস্টার্ন পরে অভ‍্যস্ত সে। সাহাবাজ চৌধুরী রোজার এমন খোলামেলা স্বভাব একদমই পছন্দ করেন না। বউয়ের ভাইয়ের মেয়ে বলে কিছু বলতে পারেনা তিনি। শেরাজের সাথে অনেকবার বিয়ের কথা উঠলেও ছেলের কানে এই কথা যাবার আগেই সাহাবাজ খান তার স্ত্রী অনন‍্যা খাতুনকে বারণ করে দিয়েছেন। অনন্যা খাতু চান রোজা তার বড়ছেলের বউ হোক। তার ধারণা বিয়ের পর হয়তো রোজা শশুর-শাশুড়ির সামনে আর এমন খোলামেলা পোশাকে ঘুরবে না।

ড্রয়িংরুমের পার্টি সকলে উপস্থিত। অনন‍্যা খাতুনও এসেছে। তার সেই তার ছোট্ট ছেলে রিয়াজও এসেছে। আর কেউ আসেনি তার সাথে। সাহাবাজ খান এইসব পছন্দ করেন না, বলে তাকে বারবার বলেও পার্টিতে আনতে পারেননি অনন্যা খাতুন।
আরিয়ান এখনো পার্টিতে এসে উপস্থিত হয়নি। সে ভিআইপি মানুষ। আর ভিআইপিরা অলওয়েজ সবার শেষ এন্ট্রি নেয়। পার্টির সকলে তার অপেক্ষায় বসে আছে। ওমানে ফিরে অনেকবার শেরাজের সাথে কন্ট্রাক করার চেষ্টা করেছে আরিয়ান। ইভেন সারবাজ, আরবাজকেও পযর্ন্ত কল করেছে। ওদের সাথে কথা হলেও শেরাজের সাথে এখন পযর্ন্ত কথা হয়নি তার। শেরাজের এমন ইগনোর আরিয়ানের রাগ বাড়িয়ে দিলেও নিজেকে যথেষ্ট শান্ত রেখেছে সে।
ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছে আরিয়ান। পরনে ব্ল‍্যাক ব্লেজার। ফর্সা শরীরে ব্ল‍্যাক কালারটা আরো বেশি উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বা’হাতে ব্ল‍্যাক রোলিক্স ঘড়ি, চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করে রাখা, তবুও কপালের ওপর কিছু চুল ফেলে রেখেছে। ডানপাশের ভ্রু’তে রুপার চিকন রিং পরা, ডানহাতে রুপার ব্রেসলেট পরা, গলায় রুপার মোটা চেন, বা’হাতের প্রতিটি আঙুলে ব্ল‍্যাক রিং পরা, ডানহাতের তর্জনী, মধ‍্যমা আর অনামিকা আঙুলে একই ডিজাইনের রিং পরা। আপাতত মুডটা বিগড়ে থাকলেও, মুডটাকে ফ্রেশ, ঠান্ডা রাখার ট্রাই করছে সে। আরিয়ানের ফোনটা তখন থেকে বেজেই চলেছে।

স্ক্রিনের ওপর “এন‍া” নামটি ভেসে উঠছে বারবার। কিন্তু সেদিকে কোনো ভ্রু’ক্ষেপ নেই আরিয়ানের। এমন হাজারো সুন্দরী মেয়ে তার জন‍্য পাগল। সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে সকলে গসিপ করে। প্লে’বয় নামে সকলের কাছে আরও বেশি পরিচিত সে। তবুও মেয়েরা তার জন‍্য পাগল। আরিয়ানের কাছে মেয়ে মানুষ টাইমপাস আর একটা রাতের বেড পার্টনার মাত্র। রোজ রাতে নিউ নিউ মেয়ে তার বেড পার্টনার হয়। এক জিনিস দুবার টেস্ট করেনা সে। আজ পযর্ন্ত এক মেয়ে নিয়ে দু’বার বেডেও যায়নি। মেয়েরাও তার সাথে একটা রাত কাটানোর জন‍্য মরিয়া হয়ে থাকে। কোনো মেয়ে আরিয়ানকে খুশি করতে পারলে, আরিয়ানও সেই মেয়েকে খুশি করে দেয়। মেয়েটার প্রাপ‍্য দামের থেকে চারগুন বেশি দাম দেয়। কোরিয়াতে অলওয়েজ রাতটা তার বারে, হোটেলে, নিজের বাংলো বাড়িতে মেয়েদের সাথে কাটে। আরিয়ানের ভাষ‍্যমতে, “পৃথিবীর সবথেকে বড় নেশা, মেয়ে নেশা।

আর নেশা করতে আরিয়ান চৌধুরী সব থেকে বেশি ভালোবাসে।” ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেক পপুলার হিরোইনদের সাথে প্রেমের সম্পর্কেও জড়িয়েছে সে। তবে কোনো মেয়ের সাথে একমাসের বেশি রিলেশনে থাকার রেকর্ড নেই আরিয়ানের। সোশ্যাল মিডিয়াতে সে একজন কমন পারসন সকলের গসিপ করার জন‍্য। তাকে নিয়ে প্রতিদিন নতুন নিউজ সোশ্যাল মিডিয়াতে রোজ ভাইরাল হয়। বেড পার্টনার হিসেবেও বেস্টটাই চুজ করে সে। তার বেড পার্টনার হতে হলে মেয়েটাকে ভার্জিন হতে হবে। সুন্দরী হতে হবে। লজ্জা থাকতে হবে। কিন্তু, আরিয়ানের সামনে মেয়েরা আসলেই লজ্জাশরম ভুলে গিয়ে নির্লজ্জের মতো আচারণ শুরু করে। এরজন‍্য অনেক মেয়ে আরিয়ানের একরাতে বেড পার্টনার হওয়ার থেকেও রিজেক্ট হয়েছে। একটা মেয়েকে ছুঁতে গেলে সে যদি লজ্জায় কুঁকড়ে না যায়, তাহলে নাকি তার সাথে রাত কাটিয়ে মজা পায়না আরিয়ান। সবকিছু মেয়েটার ইচ্ছেতেই হবে, তবে যখন কিছু করতে যাবে তখন মেয়েটার রিয়েকশন থাকবে এমন যে, তার সাথে জোর করে সবকিছু করা হচ্ছে, আর তাই সে পালাতে চাইছে। এতেই নাকি আরিয়ান খুশি হয়। শরীরে অন‍্যরকম এনার্জি পায় সে। মেয়ের হাতে বড় নখ থাকা যাবেনা।

কারণ নিজের শরীরে কোনো স্পর্ট পছন্দ করেনা আরিয়ান। অন্যের ব‍্যবহার করা জিনিস আরিয়ান চৌধুরী তার সীমানার মধ্যেও আসতে দেয় না। তার ভাষ‍্যমতে, “যেখানে সে নিজের ইউজ করা কোনো মেয়েকে একটা রাতের বেশি বেডে নেয়না। সেখানে অন্যের ইউজ করা কোনো মেয়েকে তো আরিয়ান নিজের বাড়ির সার্ভেন্টের কাজও দিবেনা।” শুধু একটা মানুষের সবকিছুর ওপর আরিয়ান চৌধুরীর এক আকাশ সম-পরিমান লোভ। সেই কাঙ্ক্ষিত ব‍্যক্তিটির যেকোনো জিনিসের প্রতি এই লোভটা তার ছোটবেলা থেকেই জন্মেছে। না দিতে চাইলে জোর করে মিথ্যা কান্না কেঁদে হলেও সেই জিনিসটা নিজের করে ছেড়েছে। আর যেটা নিতে পারেনি, সেটা নিজ হাতে ধ্বংস করেছে।
ভাবনা থেকে বেরিয়ে আরিয়ান ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ করতেই ওপর পাশ থেকে এনা বলল,
“হোয়াট হ‍্যাপেন বেবস্? হোয়াই ডোন্ট ইউ পিকআপ মাই কল?” (কি হলো, বেবস? তুমি কেন আমার কল ধরছো না?)
আরিয়ান কিছুটা রাগিস্বরে বলল,
“এনা! হোয়াই আর ইউ ডিস্টার্ব মি? আই এম ভেরি বিজি নাউ। প্লিজ, ডোন্ট কল নাউ। আই উইল কল ইউ লেটার, বাই।” (এনা! তুমি কেন আমাকে বিরক্ত করছো? আমি এখন খুব ব্যস্ত। অনুগ্রহ করে এখন কল করো না। আমি পরে তোমাকে কল করব, বাই।)
এনাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কলটা কেটে দিয়ে ফোনটা পকেটে পুরে রুম ছেড়ে বিরিয়ে গেল আরিয়ান।

রাতের আকাশে চাঁদটা থালার মতো উঠেছে। চারপাশটা চাঁদের আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। রাহিনরা সমুদ্রের পাড়ে মাদুর বিছিয়েছে। মাদুরের ওপর নানান রকমের রান্নার সরজ্ঞাম রেখেছে। গাছের টুকরো দিয়ে ঘরের চালের মতো সেইপ দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে। সুমু সামিয়াদের সাথে বসে আছে। শেরাজ অন্য সাইডে হাতে গ্রিন টি নিয়ে বিষণ্ন মনে আগুনের শিখার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবছে। আইয়ুব আর রাহিন বারবিকিউ বানাতে ব‍্যস্ত। অমিত, নিহাল, সারবাজ, আরবাজ, রিয়াদরা সকলে মিলে ব‍্যাডমিন্টন খেলায় ব‍্যস্ত। স‍্যান্ডিও আছে ওদের সাথে।
সুমু অনেকক্ষণ ধরেই খেয়াল করছে শেরাজকে। সে সামিয়াদের কিছু না বলে কাথার মাঝেই ওদের থেকে সরে শেরাজের পাশে এসে বসল। শেরাজ সুমুর উপস্থিতি টের পায়নি এখনো।

সুমু আলতো হাতে শেরাজের কাঁধে হাত রাখল। শেরাজ আগুনের দিক থেকে চোখ সরিয়ে সুমুর দিকে তাকাল। সুমু ঘন ঘন চোখের পল্লব নাড়ল। সে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার খান সাহেবের দিকে। শেরাজ আলতো হেসে আবারও আগুনের শিখার দিকে তাকিয়ে চায়ের কাপে ছোট্ট একটা চুমুক বসাল। হঠাৎ সারবাজ, শেরাজকে ডাক দিল ব‍্যাডমিন্টন খেলার জন্য। শেরাজ বারন করে দিতেই সুমু শেরাজের হাত ধরল। সে তার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিচে রেখে তাকে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। দুজনে এগিয়ে গেল সারবাজদের কাছে। সারবাজ আর নিহাল তাদের দুজনের র‍্যাকেট সুমু আর শেরাজের হাতে দিয়ে দিল। শীতের রাতে কুয়াশা উড়িয়ে দুজন ভালোবাসার মানুষ ব‍্যাডমিন্টন খেলায় মেতে উঠল। সারবাজ তাদের এমন সুন্দর দৃশ‍্য দেখে, সুমুর পিছন থেকে ভিডিও শ‍ুট করল। সারবাজ ওখানে দাঁড়িয়েই ভিডিওটা এডিট করে সুন্দর একটা গান এড করে হোয়াটসঅ‍্যাপে শেরাজকে সেন্ড করে দিল।

ব‍্যাডমিন্টন খেলা শেষ। এদিকে বারবিকিউ ও রেডি। টমেটো ক‍েচান দিয়ে তৃপ্তি করে সকলে বারবিকিউ খেলো। ছোট্ট পিকনিক শেষে সকলে আবার ও ব‍্যাডমিন্টন খেলার ব‍্যস্ত হলো। রাহিন আর সামিয়া খেলার সময় সারবাজ ওদের ভিডিও ক্লিপ নিল। কিন্তু, বিপত্তি বাঁধলো আইয়ুব আর নাজমিনের বেলায়। আইয়ুব কর্ক নাজমিনের গায়ে ছুঁড়েছে। নাজমিন রাগের চোটে র‍্যাকেট নিয়ে ছুটছে আইয়ুবের পিছনে। সারবাজ ওদের দৌড় দৌড়ির ভিডিও ক্লিপ নিল। সুমুরা আজ আটকাচ্ছেনা নাজমিনকে। সকলে মিলে ওদের কান্ড দেখে হাসছে। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হাঁপিয়ে উঠেছে নাজমিন। সে ধপাস করে বালির ওপর বসে পড়ল। আইয়ুব দৌড়ে এসে নাজমিনের পাশে বসে নাজমিনের কাঁধে মাথা রেখে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ল। নাজমিন রাগি লুক নিয়ে আইয়ুবের দিকে তাকিয়ে সরে বসল। ওমনি আইয়ুব ধপাস করে বালির ওপর পড়ে গেল। আইয়ুব কিছু বলতে যাবে তার আগেই নাজমিন উঠে চলে গেল। ওদের খুনশুটি শেষ হতেই রাহিনরা রিসোর্টে ফিরে যাবার জন‍্য সবকিছু গুছিয়ে গাড়ির ডিকিতে তুলে নিল। একে একে সকলে গাড়িতে উঠে পড়ল। সুমু গাড়িতে উঠতে যেতেই শেরাজ বাঁধা দিল। সে রাহিনদের উদ্দেশ্যে বলল,

“তোরা যা। আমরা একটু পরে আসছি।”
রাহিন সম্মতি জানিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। একটা গাড়ি শেরাজদের জন্য পড়ে রইল। ওরা চলে যেতেই শেরাজ সুমুর হাত ধরে সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে বসল। সুমু শেরাজের কাঁধে মাথা রেখে বসল। শেরাজ তার হাত দিয়ে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখল সুমুকে। সমুদ্রের পানির ওপর চাঁদের আলো চিকচিক করছে। সুমু সমুদ্রের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
“আপনার কি হয়েছে, খান সাহেব?”
“কিছুনা।”
“তাহলে কি নিয়ে এতো ভাবছেন আপনি?”
“ভাবছি তোমাকে নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ওমানে ফিরে যেতে হবে। ব‍িজনেসের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। স‍্যান্ডিও এখানে। না জানি ওদিকে কি হচ্ছে। তার ওপর…”
থেমে গেল শেরাজ। সুমু বাকিটা শোনার জন্য আর প্রশ্ন করল না শেরাজকে। সুমু জানে, তার খান সাহেবের যখন ইচ্ছে করবে, তখনই কথাটা সে নিজে থেকেই পুরো শেষ করবে।
শেরাজ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ করে বলল,
“ভিজবে সুইটহাট?”
সুমু অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল,
“ভিজবো মানে?”

শেরাজ উঠে দাঁড়িয়ে সুমুর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। সুমু শেরাজের হাত ধরে উঠে দাঁড়াল। শেরাজ সুমুর হাত ধরে এগিয়ে গেল সমুদ্রের পানির দিকে। সুমু শেরাজকে পানির দিকে এগিয়ে যেতে দেখে ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। শেরাজ সুমুর হাত ছেড়ে দিয়ে পা থামিয়ে ফেলল, তবে সুমুর দিকে ফিরে তাকাল না। সুমু বড় বড় করে দু’বার নিঃশ্বাস ছেড়ে চট করে শেরাজ হাত আকড়ে ধরে নিজে থেকেই তাকে নিয়ে এগিয়ে গেল সমুদ্রের পানির দিকে। বুক সমান পানিতে নামল দুজনে। শীতের রাতে পানি ভীষণ ঠান্ডায় হওয়ায় সুমু কাঁপতে লাগল। শেরাজ তার বলিষ্ঠ দু’হাতের বাহুতে সুমুকে এমনভাবে আগলে রাখলো, যেন ছেড়ে দিলেই কোথায়ও হারিয়ে যাবে। হঠাৎ সে সুমুর দিকে নেশাগ্রস্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
“ভয় পেয়েও নামলে কেনো পানিতে?”
সুমু মৃদু হেসে বলল,
“সুমুর সাথে সুমুর ঢাল রয়েছে। সুমু জানে, এই ঢাল সুমুকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করবে। এই ঢালের ভরসায় শুধু পানি কেনো, আগুনকেও ছুঁয়ে দিতে রাজি আছে সুমু। শেরাজ খান নামক এই ঢাল যেমন সুমুকে আগুনে পুড়তে দেবেনা, তেমন এই পানিতেও ডুবে যেতে দেবেনা। এইটুকু বিশ্বাস তো চোখ বন্ধ করে সুমু এই শেরাজ খান নামক ঢালটার প্রতি রাখে।”
শেরাজ মুচকি হেসে সুমুর ব‍‍্যথা জড়িত ফুলে থাকা ওষ্ঠ নিজের দখলে নিল। সুমু চুপচাপ শেরাজের পিঠ আকড়ে ধরে তার ভালোবাসার ছোঁয়া অনুভব করতে লাগল।

পার্টি পুরো জমে উঠেছে চৌধুরী ম‍্যানশনে। সকলে বিয়ার, ওয়াইনের গ্লাস হাতে নিয়ে ড‍্যান্স করছে। সব ধরনের অ‍্যালকোহল পার্টিতে এরেঞ্জ করে রাখা হয়েছে। আরিয়ানের পার্টির মধ্যে এন্টি নেওয়ার সময় পুরো স্পটলাইট তার ওপর ছিল। প্রেস, মিডিয়া এসে ঘিরে ধরেছিল তাকে। আরিয়ানের বডিগার্ডরা সবটা সামলে নিয়েছে। ওমান শহরের অনেক বড় বড় হিরো, হিরোহন, প্রডিউসাররা উপস্থিত আছে আজ এই পার্টিতে।
অনন্যা খাতুন আগে থেকেই এই সবকিছুতে অভ‍্যস্ত, তাই তার বেশি একটা সমস্যা হচ্ছেনা পার্টি অ‍্যাটেন্ড করতে।
ড্রয়িংরুমের একসাইডে বারের মতো করে সব রকমের অ‍্যালকোহল রাখা হয়েছে। সেখানে দুজন ওয়েটার দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান চৌধুরী হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে বসে বসে ওয়াইন খেয়েই যাচ্ছে। যখনই গ্লাস ফাঁকা করে রাখছে, আবারও ওয়েটার গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে দিচ্ছে। দূর থেকে একটা মেয়ে বার বার আরিয়ানের দিকে তাকাচ্ছে। আরিয়ান বিষয়টা লক্ষ‍্য করলেও তেমন একটা পাত্তা দেয়নি। হঠাৎ মেয়েটি হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে এগিয়ে এলো আরিয়ানের দিকে। আরিয়ানের গার্ডরা আটকালো মেয়েটিকে। আরিয়ান হাত দিয়ে ইশারা করতেই সরে গেল গার্ড দুজন। মেয়েটি এসে আরিয়ানের সামনে দাঁড়াল। আরিয়ানের সামনে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“হেই, হ‍্যান্ডসাম ম‍্যান! ড‍্যান্স উইথ মি?”
আরিয়ান কোনো কথা বলল না। মেয়েটিকে পূর্ণদৃষ্টিতে দেখে বাঁকা হাসল সে। এক চুমুকে পুরো গ্লাসটা ফাঁকা করে মেয়েটির হাতে হাত রেখে উঠে দাঁড়াল। মেয়েটি খুব খুশি হলো। মেয়েটি আরিয়ানকে নিয়ে সবার সাথে মিশে গিয়ে ড‍্যান্স করতে লাগল। পার্টির অনেকে মেয়েটির ভাগ‍্য দেখে আফসোস করল। আবার অনেক বলল, “নেহা সেনগুপ্ত ওমানে খুব ফেমাস একজন হিরোইন। তার সাথে আরিয়ান চৌধুরীর মতো হিরো ড‍্যান্স করতেই পারে।” ড‍্যান্স করতে করতে আরিয়ান আর নেহা পার্টি থেকে হঠাৎ গায়েব হয়ে গেল।

খান সাহেব পর্ব ২২ (২)

আরিয়ানের ড্রাইভার গাড়ি ড্রাইভ করছে। আরিয়ান আর নেহা ব‍্যাকসিটে বসে একে অপরের গায়ের সাথে মিশে আছে। আরিয়ানের হাতে বিয়ারের বোতল। আপাতত দুজনের শেষ গন্তব্য কোনো এক ফাইভ স্টার হোটেলের বেড। তবে তার আগে অবশ্যই আরিয়ান চৌধুরী মেয়েটিকে পরিক্ষা করে নিবে। যদি মেয়েটি অন্যের ইউজ করা হয় তাহলে অন‍্য মেয়ের ব‍্যবস্থা করে নিবে আরিয়ান চ‍ৌধুরী।

খান সাহেব পর্ব ২৪