Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৮

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৮

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৮
তাসনিয়া নুর

আবইয়াজ নিজের কোমর ধরে আর্তনাদ করে উঠে । আজ বুঝি কোমরটা গেলো, ধীরে ধীরে কোমর ধরে দাঁড়িয়ে উঠে। মাথায় আর সারা শরীরে এখনো সাবানের ফেনার পাহাড়। হুট করে ঘটলো আরেক বিপত্তি গিজার থেকে পানি পরা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফেনার কারনে চোখ খুলা যাচ্ছে না তবুও কোনো রকমে হাতড়ে সামনে গেলো। না কিছুতেই পানি আসছেনা এইবার আস্তে আস্তে বাথরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসলো এক দুইবার চিত্রাকে ডাক দিলো কিন্তু না কোনো সারাশব্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। নিজের রুম থেকে বেরিয়ে পাশে থাকা রুমে ঢুকে হাতড়ে হাতড়ে সামনে যেতে থাকে ইতোমধ্যে কয়েকটা বারি খাওয়া হয়ে গিয়েছে। কোনো রকমে ওয়ারুমের ভিতরে ঢুকতেই সস্ত্বির শ্বাস ফেললো এইখানে পানি আছে তাই মনের আনন্দে শাওয়ার নিতে থাকে ।
আহির চিত্রার বেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে হাতে বনোবিছুটি ঠোঁটে বাঁকা হাসি । হাতা থাকা বনোবিছুটি গুলো বিছানায় ছড়িয়ে দিতে দিতে বলে

— চৈত্রমাসের আগুন এইবার তুই বুঁজবি এই আহিরের সাথে লাগার ফল কি হয়। তোকে আজকে বুঝাবো কত ধানে কত মরিচ হিহিহি।
আহির নিজের হাত ভালো করে ঝেড়ে বেড়িয়ে যায় রুম থেকে এখন মনটা অনেক শান্তি শান্তি লাগছে। যেতে যেতে গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠে
~ও চিত্রা সুন্দরী আজকে তুমি
বোঝবে এই আহির কি জিনিস
যখন লাগিবে শরীরে বনোবিছুটি
বলবে আহির তোমার পাটা দাও
একটু ধরে ক্ষমাটা চেয়েনি~

গানটা গাইতেও কেমন সুখ সুখ লাগছে। ইশ শরীরটা এতো কোতকোতি দিচ্ছে কেনো? বেশি খুশির কারণে? আহির এবার শরীর হেলিয়ে দুলিয়ে নাচতে নাচতে নিজের রুমের দিকে চলে যায়। চিত্রার বাসায় ফিরতে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে তাই রুমে ঢুকেই কাঁধের ব্যাগটা বেডের দিকে ফিক্কা মারে। গায়ে জরিয়ে থাকা টপস টা খুলে বেড়ে গা এলিয়ে দেয় । আহ এখন একটু শান্তি লাগছে, কিন্তু শান্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না গা কেমন চুলকাচ্ছে প্রথমে পিঠে তারপর হাতে এখন সারা শরীরে। তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায় চিত্রা আর সারা শরীর চুল্‌কাতে থাকে তার গায়ে শুধু উপরের কাপড় জরিয়ে আছে। আহির হাত ঘুরিয়ে নাচতে নাচতে চিত্রার রুমের দিকে এসে ভালো করে সামনে না তাকিয়েই বলে উঠে

— আহা আমাদের চৈত্রের আগুনের তাপ বুঝি ফুস হয়ে গিয়েছে যে এমন বারের মতো…
বাকি কথা আর শেষ করা হলোনা আহিরের মুখ হা হয়ে গেলো। চিত্রা আহিরকে দেখে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো কিয়ংক্ষন । হুশ আসতেই চিত্রা আআআআ করে চিৎকার দিতেই আহির তার সাথে চিৎকার দিয়ে উঠে, চিত্রা নিজের চিৎকার থামিয়ে রূঢ় কন্ঠে বলে
— গাধা এইভাবে চিৎকার কেনো করছো।
আহির চিৎকার থামিয়ে বলে
— আমি কখন দিলাম তুইইতো আগে চিৎকার দিলি।
— আহিরের বাচ্চা যা আমার সামনে থেকে।
— আমি তোর বড় একটু তো রেসপ্কেট দিতেই পারিস।
— তুই যাবি নাকি তোর…

আহির বুঝতে পারে চিত্রা আজকে সেই ক্ষেপেছে তাই কথা না বাড়িয়ে পালিয়ে যায় সেখান থেকে। চিত্রা মাথা ধরে বসে পরে ছিহ কি বাজে একটা পরিস্থিতিতে পড়লো আজকে সে আর ওই গাধা ধ্যাত…
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পরিপাটি করছে মেহু তখন পিছন থেকে দরজা খুলার শব্দে আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখে আবইয়াজ ওয়াশরূম থেকে বের হচ্ছে, চুল থেকে টুপটাপ পানি পরছে ফর্সা লোমহীন বুকে পানির দানাগুলো চিক্‌চিক্‌ করছে । মেহু সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়। আবইয়াজ মেহুকে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে

— আমার রুমে দাঁড়িয়ে আমার দিকে এইভাবে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে কেন আছিস?
মেহু আবইয়াজের চোখে চোখ রেখে বলে উঠে
— নিজে এইভাবে বনের জংলীর মতো অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর আমি তাকালেই দোষ?
— তোর মধ্যে কি সরমলজ্জা বলতে কিছু নেই? কোথায় নিজের দৃষ্টি নিচের দিকে করে আমাকে বলবি কি করছেন এইভাবে কেনো আমার সামনে এসেছেন হেন তেন ওই মুভিতে যেরকম করে আর তুই কিনা ছ্যাহ । কোথায় গেলো আজ মানবতা ছ্যাহ…
মেহু নিজের হাত বুকে আড়াআড়ি ভাবে রেখে বলে
— আপনি দেখাতে পারলে আমার দেখতে কোনো সমস্যা হবে?
— তোর সাথে কথা বলাই বেকার সর ।
আবইয়াজ গটগটিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

আহির দৌড়ে নিচে এসে সোফায় গা এলিয়ে দেয়। কারো নিঃশ্বাসের শব্দে ডান দিকে মাথা ঘুরিয়ে দেখতে পায় মাহির দু পা ছড়িয়ে দু হাত সোফার উপর দিয়ে এলিয়ে শুয়ে আছে । আহির কিছু একটা বলতে গিয়ে চুপ হয়ে যায়। ঠিক সে সময় তাদের সামনে এসে হাজির সালেহার ছেলে মন্টু, বয়স পনেরো বছর। মন্টু আহির ও মাহিরের সামনে গিয়ে উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে
— আহির ভাই মাহির ভাই আমি একটা নতুন অনেক সুন্দর গান শিখছি আপনাগরে খাইয়া শুনাই ।
মাহির আরমোরা ভেঙে উঠে বলে
— ঠিক আছে শুনা তবে আমাকে আগে এক গ্লাস পানি খাওয়া।
মন্টু দৌড়ে গিয়ে পানি এনে মাহিরকে দিয়ে বলে
— এহন গাই ভাই?
— হুম গা ।
মন্টু নিজের গলা ভালোভাবে খাকারি দিয়ে গেয়ে উঠে

একটু দাঁড়ায় যা হান্সি আইয়া
একটু দাঁড়ায় যা চকলেট খাইয়া
চুমু আইন্না উম্মা দিয়া বিস্কুটদি লড়তাছে..
হায়াত চিংরি পিংপিং ফং
ব্যাডমিন্টন মাইরা খাইয়ালা
একটু চুমুদো কামড়াইয়া কামড়াইয়া
বিস্কুট দি আবার লড়তাছে

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৭

মন্টুর গান শুনে মাহিরের মুখে থাকা পানি দুই সাইড দিয়ে বেয়ে বেয়ে পড়ছে। আহির হাসতে হাসতে বলে উঠে
— বেচারা গানটারে ধর্ষন করে দিলো রে।
মাহির মুখটাকে কাদুকাদু করে বলে উঠে
— গানটা আমার পছন্দের ছিল এখন শুনতে গেলে দেখা যাবে চিংড়ি বিস্কুট এইগুলাই মাথায় ঘুরছে । এইটা তুই কি করলি ভাই।
ঠিক তখন দরজায় আগমন ঘটে………….

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৯