Home Tell me who I am 2 Tell me who I am 2 part 14

Tell me who I am 2 part 14

Tell me who I am 2 part 14
আয়সা ইসলাম মনি

মিরা বুকের ভেতর ধকধকানিটা সন্তর্পণে দমিত করে কণ্ঠে কাঠিন্য মেখে বলল, “সে সুযোগ আর কোথায় পেলাম? তার আগেই তো জাঁহাপনা আমাকে কোলে বসিয়ে পরম মমতায় মেহেদি রাঙাতে শুরু করলেন। তবে সময় করে পড়ে নেব।”
“নাহ, পড়বে না।”
কারানের কণ্ঠের সেই অবিচল প্রত্যাখ্যান মিরার মনে বিস্ময় জাগাল। সে ভ্রূ কুঁচকে কারানের চিন্তাক্লিষ্ট মুখের দিকে অপলক চেয়ে প্রশ্ন করল, “কিন্তু… মানে, আমি পড়লে সমস্যা কোথায়?”
এবার কারান তার কঠোর মুখাবয়বে আকস্মিক কোমলতা আনল। মিরার গালে নিজের গাল ছুঁইয়ে এক তপ্ত নিশ্বাস ফেলে অতি সংগোপনে বলল, “আমি যেদিন তোমার ধরাছোঁয়ার বাইরে, যোজন যোজন দূরে অবস্থান করব, সেদিন এই ডায়েরির পাতায় আমাকে খুঁজে নিও। ওটা এখন আমার কাছে গচ্ছিত রাখো, সোনা।”

কারান মনের গহিনে আওড়ালো, “দুবাইয়ের এই কঠিন মিশনটা ঠিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে। হোয়েন আই রিটার্ন, আই’ল লে মাই সোল বেয়ার বিফোর ইউ, মিরা। আমার আসল পরিচয়, আমার জীবনের অন্ধকার সময়গুলো আর সেই অস্পষ্ট অতীত, সবকিছুই তোমাকে জানাব, সুইটহার্ট।”
মিরা দ্বিরুক্তি না করে বাধ্য মেয়ের মতো ড্রয়ার থেকে ডায়েরিটা বের করে কারানের হাতে তুলে দিল। কারান আলতো হাসিতে ডায়েরিটা খুলতেই তার নিজেরই হাতের একটি পুরোনো পঙ্‌ক্তিতে চোখ আটকে গেল, “তোমাকে নাগালে পেলে আমি ছারখার করে দিতাম, মিসেস আনতারা কৌশিকা চৌধুরি; আমার প্রতিটি র’ক্তকণিকায় তোমার প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রবহমান। তুমি বরং আমার ছায়া থেকেও সহস্র মাইল দূরে থেকো।”
মুহূর্তেই কারানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো, নাসারন্ধ্র স্ফীত হলো এক অজানা আক্রোশে। কিন্তু সম্মুখেই মিরার উপস্থিতিতে সে দ্রুত নিজের অভিব্যক্তি সংবরণ করে ডায়েরিটা সরিয়ে রাখল। এই ডায়েরিটা তার অতীতের দলিল, যা মিরার কোমল হৃদয়ের জন্য এই মুহূর্তে অত্যন্ত বিষাক্ত।

কারান পুনরায় মিরার হাত ধরে এক হ্যাঁচকা টানে তাকে নিজের বাহুবন্দি করল। মিরার মুখাবয়বে ফুটে ওঠা অস্বস্তির রেখাগুলো বলে দিচ্ছিল, কারানের এই একাধিপত্য সে সহজভাবে নিতে পারছে না। ডায়েরিটা পড়ার তীব্র কৌতূহল অবদমিত করার যন্ত্রণা তাকে কুঁড়ে খাচ্ছে। কিন্তু নিজের অতীতও তো সে কারানের কাছে উন্মোচন করেনি, তাই পালটা যুক্তিতে জোর করার কোনো নৈতিক ভিত্তি তার নেই।
কারান মিরার কোমল হাতটি নিজের হাতের ওপর মেলে ধরল। সূক্ষ্ম কারুকার্যে চিরি চিরি পাতার অনন্য ডিজাইনে মেহেদি পরাতে পরাতে গভীর কণ্ঠে জানতে চাইল, “গতকাল রাতের ব্যাপারে কিছু বললে না?”
মিরার কাছে কারান এখন আর কোনো অপাঠ্য পাণ্ডুলিপি নয়; দীর্ঘদিনের সান্নিধ্যে সে কারানের চারিত্রিক বৈচিত্র্যের পাঠোদ্ধার করতে শিখে গেছে। তাই কারানের চোখের অতলান্তিক চাহনি আর ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা ওই রহস্যময় হাসির অর্থ বুঝতে মিরার এক মুহূর্তও বিলম্ব হলো না।
গত রাতের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতিগুলো মিরার মস্তিস্কে এখনো দগদগে। কারানের সেই অপ্রকৃতিস্থ আচরণ, বালিশের নিচে মিরার নিশ্বাস রুদ্ধ করার সেই উন্মত্ত প্রচেষ্টা, আর অধিকার আদায়ের নামে সেই পাশবিক জবরদস্তি—সবই মিরার অন্তরে এক প্রকার নিস্পৃহ বিতৃষ্ণার জন্ম দিয়েছে।
নিজের ক্ষোভকে চেপে রেখে মিরা কঠোর স্বরে প্রশ্ন করল, “কী বলব? সেই জঘন্য স্মৃতিগুলো আবার কেন মনে করাচ্ছ?”

কারান মিরার ললাটের কোনে নিজের মাথা ঠেকিয়ে, একান্ত মনোযোগ দিয়ে ওর হাতে মেহেদির আলপনা আঁকতে আঁকতে নিচু স্বরে বলল, “So none of this matters to you anymore, huh?”
মিরা বিরক্তিভরে মুখটা সামান্য সরাতে চাইল, কিন্তু কারান নিজের মাথা দিয়ে সূক্ষ্ম চাপে তাকে পুনরায় সামনের দিকে স্থির থাকতে বাধ্য করল। মিরা অবাধ্যতা না বাড়িয়ে সামনের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “সেটা কখন বললাম? জাস্ট অভ্যস্ত হয়ে গেছি।”
“গুড গার্ল!”
কারানের শান্ত মুখের শব্দজোড়া মিরার কানে তপ্ত সিসার মতো বিঁধল। মিরা অবজ্ঞার হাসি হাসল। কারানের কাছে এই দ্বিচারিতা কতটা সহজ! যে মানুষটা এই মুহূর্তে পরম মমতায় তার হাতে মেহেদির কারুকাজ করছে, সেই আবার অন্ধকার নামলে জা*নোয়ারের মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করে না। এই বৈপরীত্য মিরার দম আটকে দেয়।

কারান আজ সকাল থেকেই মিরার সান্নিধ্যের জন্য আকুলতা প্রদর্শন করেছিল। তাই মিরাও রাজি হয়ে জানিয়েছে, সে আজ যাবে না। বরং কাল যাবে তার বাবার বাড়ি। কিন্তু মিরা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে, কারানের এই আপাত শান্ত আচরণের আড়ালে কোনো এক গূঢ় পরিকল্পনা ডালপালা মেলছে।
দুপুরের আহার শেষ করেই কারান ‘জরুরি কাজ’ আছে বলে বেরিয়ে গেছে। নির্জন অট্টালিকায় একাকিত্ব যখন মিরাকে গ্রাস করতে উদ্যত হলো, তখন সে সময় কাটাতে বেছে নিল বৃদ্ধ ফরিদ কাকাকে। ফরিদের সাথে গল্পগুজব আর টুকটাক কথা বলতে বলতে সময়ের খেয়ালই ছিল না তার। গোধূলির আলো মুছে গিয়ে যখন চারপাশ তিমিরবরণ রূপ ধারণ করল, তখন মিরার হুঁশ ফিরল।

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। এই অসময়ে স্নানাগারে ঢুকে দীর্ঘ সময় নিয়ে গোসল করল মিরা।
স্নান সেরে সিক্ত শরীরে কেবল একটি তোয়ালে জড়িয়ে কক্ষে প্রবেশ করল। অন্য একটি তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল। হঠাৎ মিরার দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো, তার দুই হাতের তালুর মাঝখানে কারানের নিজ হাতে পরিয়ে দেওয়া নকশায়। আর এক কোণে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে খোদাই করা আছে— ‘MIRAN’। যদিও রেখাগুলো একদম নিখুঁত নয়, তবুও সেই অপটু হাতের ছোঁয়ায় মায়া জড়িয়ে আছে। মিরা অপলক তাকিয়ে রইল সেই নামটির দিকে। এক অজানা আবেশে নিজের ডান হাতের তালুতে ঠোঁট ছোঁয়াল।
হঠাৎ আয়নার প্রতিফলনে মিরার চোখ চড়কগাছ হয়ে গেল। স্নানে যাওয়ার আগে সে বিছানার ওপর নিজের পছন্দের শাড়িটি গুছিয়ে রেখেছিল, কিন্তু এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে এক ধবধবে সাদা লং গাউন। অত্যন্ত দামি স্যাটিন কাপড়ের ওপর রুপালি সুঁতোর সূক্ষ্ম হস্তশিল্প, কোমরের কাছে ঝরঝর করে নেমে এসেছে মুক্তোর কাজ আর হেমলাইনে নিখুঁত লেইসের বুনন।

মিরা বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে এগিয়ে এসে হ্যাংগার থেকে গাউনটি তুলে ধরল। মুগ্ধতার আতিশয্যে সে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই পেছন থেকে এক জোড়া শক্ত বাহু তোয়ালের ওপর দিয়েই তার কোমরে বেষ্টনী তৈরি করল। মিরার পিঠ এখন কারানের সুঠাম বক্ষের সাথে লেপ্টে আছে। তার ঘাড়ের পেলব ত্বকে জমে থাকা অবাধ্য জলের ফোঁটাগুলো, কারান আলতো করে নিজের ঠোঁটে শুষে নিতেই মিরার সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল। আবেশে মিরার চোখের পাতা দুটো ভারী হয়ে বুজে এলো। তার শরীরের সমস্ত ভার অজান্তেই কারানের কাঁধের ওপর নুয়ে পড়তে চাইল। গলার সেই নির্দিষ্ট অংশটি তখন উত্তেজনায় আর লাজুকতায় ঈষৎ আরক্ত।
আজকের চুম্বনটা দীর্ঘ করতে চায়না বলে, কারান অধর তুলে তার কাঁধে থুতনি রেখে মদির কণ্ঠে বলল, “জলদি রেডি হয়ে নাও।”

কারানের উষ্ণ নিশ্বাস মিরার ঘাড়ের স্পর্শকাতর অংশে বিঁধতেই সারা শরীরে শিহরন বয়ে গেল। কারান মানুষটা যতটাই উদ্ভট কিংবা রহস্যময় হোক না কেন, তার সান্নিধ্য মিরাকে এক নিমেষে সব তিক্ততা ভুলিয়ে দেয়। এক অব্যক্ত ভালো লাগায় মনটা ভরে ওঠে। সে অন্তত মিরার কোনো ক্ষতি করবে না, এই বিশ্বাস মিরার আছে।
মিরা চোখ খুলে আলতো হেসে প্রশ্ন করল, “কিন্তু… গাউন কীসের জন্য, কারান?”
“হোয়াই আর ইউ কোয়েশ্চনিং মি? যেটা বলেছি, সেটা করো।”
কারানের কণ্ঠে সেই পরিচিত আধিপত্যের সুর শুনে মিরা মুখ বাঁকিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই পুনরায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেল। কারান ইতোমধ্যেই নিজেকে অত্যন্ত আভিজাত্যের সাথে সাজিয়ে নিয়েছে। নিখুঁত কাটের সাদা ব্লেজার, অফ-হোয়াইট ওয়েস্টকোট, যত্ন করে বাঁধা টাই, জেল দিয়ে পেছনে আঁচড়ানো চুল, কবজিতে ভারী ডায়ালের ঘড়ি আর পকেটে গোঁজা সেই র*ক্তবর্ণের গোলাপটি সাদা পোশাকের মাঝে বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে মিরা একরাশ আবেশ নিয়ে অবচেতনভাবেই বলে ফেলল, “অত্যধিক হ্যান্ডসাম লাগছে আমার হাজব্যান্ডকে।”

কারান ঘোরলাগা চোখে মিরার দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে আদেশ করল, “চুমু খাও।”
মিরা কালক্ষেপণ না করে কারানের ওষ্ঠাধরে আলতো স্পর্শের অভিপ্রায়ে মুখ বাড়াতেই, কারান হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তার ঠোঁটযুগল নিজের মত্ততায় কুক্ষিগত করে নিল। অতর্কিত এই আক্রমণে মিরার নেত্রপল্লব বিস্ময়ে প্রসারিত হলো। কয়েক মুহূর্তের সেই তীব্র দহন শেষে কারান যখন তাকে মুক্তি দিল, মিরা তখন হাপরটানা নিশ্বাসে কারানের দিকে দৃষ্টিপাত করল। কারানের চোখেমুখে তখনো মাদকতা বিদ্যমান।
মিরা কারানের এই উদ্দাম স্বভাবের সাথে সুপরিচিত। তাই সে কোনো প্রকার সংকোচ না করে কারানের সম্মুখেই নিজের বক্ষদেশ থেকে তোয়ালেটা অবমুক্ত করে দিল।
কারান তৃষ্ণার্ত চোখে মিরার অনুপম শারীরিক গঠন অবলোকন করতে লাগল। কটিদেশের সূক্ষ্ম ভাঁজ, গ্রীবাদেশের মোহনীয় রেখা, বিউটিবোন কিংবা উন্নত বক্ষযুগলের প্রতিটি ভাঁজ যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কারানের ওষ্ঠের এক কোণ কিঞ্চিৎ উঁচু হলো, অবলীলায় সে একবার ঢোক গিলল। তার শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ক্রমশ প্রখর হতে শুরু করল।

তার অন্তরাত্মা বারবার সায় দিচ্ছিল মিরাকে পুনরায় শয্যাশায়ী করে নিজের দহন প্রশমিত করতে।
এতটা ব্যাকুলতা সত্ত্বেও কারান নিজের দুই হস্ত মুষ্টিবদ্ধ করে আত্মসংযমের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করল। কারণ বাংলাদেশ আগমনের পূর্বরাতে সে অত্যন্ত কঠোরভাবে মিরাকে নিজের করে নিয়েছিল। মিরার সেই যন্ত্রণাকাতর মুখচ্ছবি এবং সুখকর বেদনায় কুঁকড়ে যাওয়া দেহলতা কারানের হৃদয়ে এখনো গেঁথে আছে। সে জানে, আজ যদি পুনরায় তার দেহের গুরুভার মিরার ওপর অর্পিত হয়, তবে মিরা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে।
কারান আপনমনে আওড়ালো, “নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাটা আজ যতটা কঠিন মনে হচ্ছে, আগে কখনও এমন হয়নি মিরা। তুমি জানো না, তুমি এই মুহূর্তে কতটা মারাত্মক দেখাচ্ছ। আমার যুক্তিগুলো সব ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে।”
কারানের সামনেই মিরার সজ্জা প্রায় শেষের পথে। ওদিকে কারান ডিভানে এক পায়ের উপর আরেক পা তুলে হেলান দিয়ে বসে ছিল; এক হাতের কনুই হাতলে ঠেকানো। সে কামুক দৃষ্টিতে মিরার প্রতিটি সূক্ষ্ম নড়াচড়া অবলোকন করছিল। তার দন্তপঙক্তি একে অপরের ওপর প্রবল চাপে পিষ্ট হচ্ছিল; নিজের কামনার রথকে সংযমের শিকলে বেঁধে রাখার এক আপ্রাণ প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছিল তার পেশিবহুল অবয়বে। কিন্তু এদিকে মিরার পোশাকের পশ্চাৎভাগের চেইনটি উন্মুক্ত রয়ে গিয়েছিল। সে বহু চেষ্টা করেও নাগাল পাচ্ছিল না।
কারান ওষ্ঠদ্বয় গোল করে একটি দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে ডিভান থেকে উঠে মিরার সন্নিকটে এগিয়ে গেল। তার এলোকেশগুলো সযত্নে সরিয়ে কাঁধের একপাশে রাখল। এরপর কিঞ্চিৎ নত হয়ে নিজ অধরের ভাঁজে চেইনটি আঁকড়ে ধরল, এবং অতি সন্তর্পণে সেটি টেনে উপরে তুলে দিল।
মিরা অতি কষ্টে নিজেকে প্রকৃতিস্থ করে চট করে ঘুরে দাঁড়িয়ে কারানের সেই নেশাতুর চোখের দিকে তাকাল। দুই অতিমানবিক সৌন্দর্যের অধিকারী একে অপরের দিকে অপলক চেয়ে রইল কিছুক্ষণ। অবশেষে মোহাচ্ছন্ন ভাব কাটিয়ে মিরা স্মিত হেসে শুধালো, “কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
“জান্নাতে।”
মিরা ভ্রূকুটি করলেও কারান তাকে কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ দিল না। হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়িতে।

[গল্পের এই অংশটি চাইলে স্কিপ করতে পারেন। এখানে কিছু অতিরিক্ত ফ্যান্টাসি যুক্ত করা হয়েছে।]
গাড়ি থেকে নামার পর থেকেই মিরার নেত্রপল্লব বিস্ময়ে স্থির হয়ে আছে। সামনের পথটি যেন মহাকালের সমস্ত ঐশ্বর্য দিয়ে সাজানো এক বিলাসিতার স্বর্গপথ। মোশন সেন্সরের প্রভাবে কৃত্রিম আলো জ্বলে উঠতেই রাস্তার দুপাশে বিছানো অগণিত রুবি পাথর প্রজ্বলিত হয়ে উঠল। তার ওপর ছড়িয়ে থাকা তাজা গোলাপের পাপড়িগুলো সেই স্নিগ্ধতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে মিরার দৃষ্টি আপাতত নিবদ্ধ হলো রাস্তার প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই অবিশ্বাস্য স্থাপত্য ‘মিরান প্যালেস’ এর ওপর। প্রাসাদটির প্রতিটি দেয়াল নির্মিত হয়েছে বিশ্বের দুর্লভতম ‘হোয়াইট ডায়মন্ড মার্বেল’ দিয়ে। মনে হচ্ছে পুরো ভবনটি নিজেই আলোর উৎস। বিশালাকার গম্বুজগুলো তুষারশুভ্র, অথচ তাদের ভেতর দিয়ে বিচ্ছুরিত হচ্ছে মায়াবী নীল আভা। প্রাসাদের চারপাশ ঘিরে থাকা জলাধারগুলো তরল রূপায় পূর্ণ। তার বুকে ভেসে থাকা স্বর্ণালী লণ্ঠনগুলো মন্দ বাতাসে দুলছে।

কিন্তু এই অলৌকিক সৌন্দর্যের মাঝে মিরা স্বয়ং এক জীবন্ত বিস্ময়। তার পরনের দুগ্ধ-শুভ্র স্যাটিন গাউনটি তন্বী দেহের প্রতিটি বাঁক বেয়ে জলপ্রপাতের অবাধ্য ধারার মতো আছড়ে পড়ছে চরণে। গাউনটির অফ-শোল্ডার কারুকাজ, তার সুডৌল গ্রীবা আর মসৃণ কাঁধের লাবণ্যকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কণ্ঠলগ্নে শোভা পাচ্ছে হীরের কণ্ঠহার। একপাশের চুলে বসানো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হীরের পুঁতিগুলো দেখে মনে হচ্ছে শরতের আকাশে কয়েকটা জ্যান্ত নক্ষত্র এসে তার কেশরাশিতে আশ্রয় নিয়েছে। তাকে নিছক ‘সাদা পরী’ বললেও তো তার সৌন্দর্যের অবমাননা করা হয়; কোনো ডিজনি রাজকন্যার রূপও হয়ত মিরার এই অনিন্দ্য আবেদনের কাছে ম্লান।
মিরার এই মোহাবিষ্ট স্তব্ধতা ভাঙল কারানের কণ্ঠস্বরে, “দীর্ঘ আট মাসের নিরলস সাধনার ফল এটি। শুধুমাত্র এই বিস্ময়টুকু উপহার দেব বলেই তোমাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলাম। নতুবা এক মুহূর্তের জন্যও তোমাকে নিজের চোখের আড়াল করার দুঃসাহস আমি দেখাতাম না।”
মিরা যেন কোনো স্বপ্নিল জগতে বিচরণ করছিল। গাউনের সুদীর্ঘ ঘের সামলে নিয়ে সে মোহনীয় দৃষ্টিতে কারানের দিকে তাকালো। ওষ্ঠে হালকা হাসির রেখা ফুটিয়ে সে উত্তর দিল, “আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, ইতিহাসের কোনো মহীয়সী নারী যা পায়নি, এমনকি মমতাজও যা পেয়ে ধন্য হতে পারেনি, আজ মিসেস মিরা চৌধুরি সেই অমূল্য উপহারটি পেয়েছে।”

কারান স্নিগ্ধ হেসে আচমকাই মিরাকে সযত্নে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। স্বামীর গলায় দুই হাত জড়িয়ে দিয়ে মিরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কারানের সুপুরুষ চেহারার দিকে। কারানও তার নয়নমণিকে দুচোখে ধারণ করে ধীর পদক্ষেপে প্রাসাদের পানে এগোতে লাগল।
তাদের আগমনে প্রাসাদের বিশাল দরজাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেল। কারান তাকে আলতো করে নিচে নামিয়ে দিলে মিরার বিস্ময় এবার চরমে পৌঁছাল।
প্রাসাদের সিংহ দরজাটা নির্মিত হয়েছে স্বচ্ছ টেম্পার্ড গ্লাস এবং স্বর্ণের সংমিশ্রণে। মিরার পদতলের মেঝেটি একটি অত্যাধুনিক স্মার্ট স্ক্রিন। তার প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে সাথে মেঝের নিচে সজীব পদ্ম ফুটে উঠছে, আবার পরক্ষণেই তা নীল জলরাশির মায়াবী ঢেউয়ে রূপান্তরিত হচ্ছে। উপরের ছাদটি পৃথিবীর বৃহত্তম ইনডোর অ্যাকোরিয়াম। যার কাচের ওপারে খেলা করছে বিরল সব সামুদ্রিক প্রাণী আর বর্ণিল মীনদল।
এদিকে মিরার এই বিমোহিত রূপ, ব্যাকুল চোখে পর্যবেক্ষণ করছে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন সেই পুরুষ কারান। সে তার স্বভাবজাত গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল, “এখনো তো সারপ্রাইজ দেখানো হলো না, বেগম।”
মিরা একরাশ বিস্ময় নিয়ে পিছন ফিরে শুধালো, “আরো সারপ্রাইজ আছে নাকি? আমার তো মনে হচ্ছে এই রাজমহলই আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো বিস্ময়!”
কারান তার দিকে এক পা এগিয়ে এসে বলল, “তোমার জন্য আমার ভালোবাসার কোনো শেষ নেই মিরা, আর তাই আমার দেওয়া উপহারের তালিকাটাও বড্ড দীর্ঘ।”

তারপর মিরার হাতটি নিজের হাতের মুঠোয় নিল।প্রাসাদের সুউচ্চ খিলান পেরিয়ে তারা প্রবেশ করল এক নিভৃত কক্ষে। কক্ষের মধ্যখানে বিশাল এক অবয়ব র*ক্তিম সিল্কের আবরণে ঢাকা। মিরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কারানের দিকে তাকাতেই, কারান চোখের পল্লবে কাপড়টি সরানোর ইঙ্গিত দিল। মিরা কম্পিত হাতে সিল্কের সেই অবগুণ্ঠন এক টানে সরিয়ে ফেলতেই তার বিস্ময় যেন সপ্তাকাশ স্পর্শ করল। সম্মুখে দণ্ডায়মান এক অত্যুজ্জ্বল ভাস্কর্য; আর সেটি অন্য কারো নয়, স্বয়ং মিরার।
মিরার মনে হলো তার হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেছে। ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে পৃথিবীর দুষ্প্রাপ্যতম ‘ট্রান্সলুসেন্ট ওনিক্স’ এবং ‘হোয়াইট জেড’ দিয়ে। ভাস্কর্যের মিরা করতলদ্বয়ে আগলে রেখেছে এক মায়াবী চাঁদ। এটি তৈরি হয়েছে মহাকাশ থেকে আনা আসল চাঁদের ধুলো আর ল্যাব্রাডোরাইট পাথর দিয়ে। সেই চাঁদের গায়ে গভীর খাদ আর ধূসর কলঙ্কগুলোও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূর্তির নয়নপল্লবে এবং শুভ্র গাউনের কারুকাজে খচিত হয়েছে সহস্রাধিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হীরা।

ভাস্কর্যের মিরা তার কপাল সেই শীতল চাঁদের গায়ে ঠেকিয়ে রেখেছে। তার আধখোলা ওষ্ঠাধরে ব্যবহার করা হয়েছে পিঙ্ক ট্যুরমালাইন। ভাস্কর্যটি এতটাই বিশাল যে, মিরা তার পায়ের কাছে দাঁড়ালে নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে।
মিরা যখন অবিশ্বাসের ঘোর নিয়ে সেই চন্দ্ররানির দিকে তাকিয়ে ছিল, তখনই কারানের সম্মোহনী কণ্ঠস্বর তার কর্ণের খুব কাছে অনুরণিত হলো, “আর রিয়াল চাঁদ দেখবে?”
এবার কারান কি মিরাকে কোনো টেলিস্কোপের কাছে নিয়ে যাবে, নাকি প্রাসাদের ছাদটা আপনা-আপনি সরে গিয়ে আসমানের আসল চাঁদকে তার সামনে নামিয়ে আনবে?
সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কারানের দিকে তাকালো। বিস্ময়ের তীব্রতা তার বাকশক্তি কেড়ে নিয়েছে। কারান মিরার চিবুক আলতো করে উঁচিয়ে সামনের দিকে ঘুরিয়ে ধরতেই, মিরার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো সামনের দেওয়ালে।
সেখানে বিরাজমান এক বিশালকায়, হিরণ্ময় আয়না। মিরা নিজের অস্তিত্বকে যেন নতুন করে আবিষ্কার করল। ধবধবে শ্বেতশুভ্র গাউনে মিরাকে মনে হচ্ছিল কোনো তুষারধবল রূপকথার দেশ থেকে আসা এক অনিন্দ্যসুন্দরী পরী। গলার সূক্ষ্ম নেকলেসটি তার গলার খাঁজে চিকচিক করছে। কারানের নীল চোখের মণি আর মিরার বিস্ময়ভরা হ্যাজের চোখের দৃষ্টি আয়নায় একে অপরের সাথে মিলিত হলো।

কারান কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে আয়নার দিকে তর্জনী নির্দেশ করে বলল, “দেখুন, মহারানি, দেখুন আমার চাঁদকে।”
মিরা অপলক দৃষ্টিতে আয়নার দিকে তাকিয়ে রইল। কারানের সম্বোধন আজ তার কাছে নিছক উপমা মনে হলো না। আয়নার সেই নারীটি যেন সত্যই এক পূর্ণিমার চাঁদ, যার ঔজ্জ্বল্যের সামনে আকাশের চাঁদও আজ ঈর্ষাতুর হতে বাধ্য।
কারান গ্রীবা সঞ্চালন করে ঊর্ধ্বপানে তাকালো। প্রাসাদের কাচের ছাদটি অতিপ্রাকৃত স্বচ্ছতায় বন্দি করেছে অনন্ত নীলাকাশকে। তার ঠিক মধ্যগগনে পূর্ণিমার চাঁদ আজ মায়াবী স্নিগ্ধতা বিচ্ছুরণ করছে। কারান সেই রুপালি জ্যোতির দিকে তাকিয়ে দম্ভভরে উচ্চারণ করল, “ও আকাশ, তাকিয়ে দেখো, তোমার চাঁদ বেশি সুন্দর, নাকি আমার চাঁদ?”
পরক্ষণেই নিজের কণ্ঠস্বরকে আরও সুদৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ করে সে যোগ করল, “অবশ্যই আমারটা।”
মিরা মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় ঊর্ধ্বাকাশে দৃষ্টিপাত করল। চন্দ্রের এমন স্নিগ্ধ ধবল রূপ সে ইতঃপূর্বে কখনো অবলোকন করেনি। কিন্তু কারানের সেই তপ্ত চাহনি আর বাকচাতুর্য তাকে এক গভীর অতলে তলিয়ে দিল। সে কি সত্যিই ওই আকাশের নক্ষত্ররাজির চেয়েও মোহনীয়?
মিরা ওষ্ঠাধরে এক চিলতে স্নিগ্ধ হাসি ফুটিয়ে তার প্রিয়তম পতির দিকে ফিরে তাকালো। কারান তখনও অপলক তৃষ্ণার্ত চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তার মানে কারান আগে থেকেই মিরাকে চাঁদ দেখানোর জন্য এগুলো বানিয়ে রেখেছিল।

মিরা ঢোক গিলে আপনমনে শুধালো, ​”তোমার প্রভাব এতটা তীক্ষ্ণ কেন, কারান? তুমি তো আমার সাথে সাথে আমার বাকশক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছ। আমি মুখ খুলতে পারছি না; আর যদি খুলিও, এই বিশালতার সৌন্দর্য বর্ণনা করার মতো কোনো ভাষা কি আদৌ এই পৃথিবীতে আছে?”
কারান এগিয়ে এসে মিরার কোমল হাতটি পুনরায় তুলে ধরে পূর্বের কক্ষে নিয়ে গেল, যেখানে অপেক্ষমাণ এক হিরণ্ময় রাজসিংহাসন।
সিংহাসনের পার্শ্বে একটি মখমলের স্তম্ভের ওপর রাখা ছিল বিষ মিশানো এক ভয়ংকর অথচ অনিন্দ্যসুন্দর ছুরি। তার মুষ্টিটি নিরেট স্বর্ণে মণ্ডিত এবং তাতে বসানো এক প্রকাণ্ড নীলকান্তমণি।
সেই স্তম্ভের উপরই রাখা রাজমুকুটটি তুলে কারান অতি সাবধানে মিরার মস্তকে স্থাপন করল। মুকুটের কেন্দ্রস্থলে রম্বস আকৃতির একটি রক্তিম প্রকোষ্ঠ, যার অভ্যন্তরে থরথর করে কাঁপছে স্বয়ং কারানের উষ্ণ র*ক্ত। মুকুটের চূড়ায় শিকলবন্দি একটি জীবন্তপ্রায় র*ক্তগোলাপ, আর সারা শরীর জুড়ে রুবি পাথর বসানো।
মুকুটের সেই গুরুভার মিরাকে এক নিমেষে এক ভিন্ন সত্তায় রূপান্তরিত করল। সে সিংহাসনের হিরণ্ময় হাতলে হাত রেখে, এক পায়ের ওপর অন্য পা তুলে বসল। তার অবয়বে ফুটে উঠল আধুনিক কোনো রানি ভিক্টোরিয়ার দম্ভ।
কারান সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল। প্রাসাদের প্রশস্ত হলের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে দুই বাহু প্রসারিত করে মেঘগম্ভীর স্বরে ঘোষণা করল, “আজ থেকে এই প্রাসাদ, এই নগরী, এমনকি এই ভূখণ্ডের একচ্ছত্র পার্থিব অধিপতি আপনি, মহারানি মিরা চৌধুরি।”

মিরাও রাজকীয় মহিমায় শির উঁচু করল। কারান তার প্রেয়সীর এই দৃপ্ত ভঙ্গিমায় উল্লসিত হয়ে পুনরায় সিঁড়ি আরোহণ করল। এরপর অতিনাটকীয় ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে বসল। পরম মমতায় তার জুতো জোড়া উন্মোচন করে পাশে রাখল। মিরার নগ্ন চরণে ওষ্ঠ স্পর্শ করল, এবং ললাট ছুঁইয়ে কুর্নিশ জানালো। কারান নিজের হস্ত নিজের বক্ষস্থলে স্থাপন করে কোনো এক বিশ্বস্ত সেনাপতির ন্যায় নতশিরে বলল, “হুকুম করুন, আমার মহারানি ভিক্টোরিয়া।”
কিন্তু কারানের এই বিনয় মিরার হৃৎপিণ্ডে তীরের মতো বিঁধল। তার হৃদয়ের রাজা কেন প্রজার মতো মস্তক অবনত করবে? আবেগের প্লাবনে মিরার সকল বাঁধ ভেঙে গেল; সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
সিংহাসন ত্যাগ করে সে ক্ষিপ্রগতিতে সেই বিষাক্ত ছু*রিটি হাতে তুলে নিল। কারানকে জড়িয়ে ধরে ছু*রিটা তার হাতে সমর্পণ করে নিজের উদরের ওপর চেপে ধরল। রুদ্ধকণ্ঠে বলল, “কারান, এই ঐশ্বর্য আর সিংহাসনের ভার বহন করার শক্তি আমার নেই। যদি কখনো দেখো আমি তোমার সাথে অন্যায় করেছি, তবে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করো না। এই বিষাক্ত ইস্পাতের ফলাটি আমার পাঁজরে আমূল বিঁধিয়ে দিও। তোমার হাতে বরণ করা সেই মৃ’ত্যুই হবে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ রাজ্যাভিষেক।”

কারান অস্ত্রটি সরিয়ে রাখল। মিরাকে নিবিড়ভাবে আলিঙ্গন করে তার কেশদামের সুবাস নিতে নিতে ফিসফিস করে বলল, “রানিরা লয় হতে জানে না প্রিয়তমা, তারা শাসন করতে জানে, মা’রতে জানে। যাও, নিজের আসনে আসীন হও।”
মিরা অশ্রুসিক্ত নয়নে ম্লান হাসল। কারানের বক্ষলগ্নে মুখ লুকিয়ে বলল, “আমি তো আমার শ্রেষ্ঠ আসনেই বসে আছি।”
কারণ সে তার স্বামীর কোলেই বসে আছে। কারান সশব্দে হেসে উঠল। মিরাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে সে নিজেই সিংহাসনে উপবেশন করল, এবং তার কোলটিই হয়ে উঠল মিরার রাজসিংহাসন। কারান এক হাতে সিংহাসনের হাতল আঁকড়ে ধরে অন্য হাতে তার সাম্রাজ্যের অধীশ্বরীকে আগলে রাখল।
মিরা কারানের অবাধ্য কেশগুচ্ছের মাঝে আঙুল চালাতে চালাতে এক দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বলল, “প্রজাহীন এক নিঃসঙ্গ রাজা-রানি আমরা। তাই না?”
“প্রজা লাগবে তোমার? শুধু একবার হুকুম করো, পুরো এ.কে টিমকে তোমার পায়ের নীচে মাথা নত করাব। এই শহর তোমার চরণে গড়াগড়ি খাবে।”
মিরা তার গ্রীবাদেশ জড়িয়ে ধরল।
“আমি জানি তুমি মাফিয়া নও, কিন্তু তবে তুমি আসলে কে, কারান? কার অসীমত্বের গহ্বরে আমি নিজেকে বিলীন করলাম?”
কারান কোনো শাব্দিক উত্তর দিল না। তার ওষ্ঠাধরে ঝুলে থাকা সেই রহস্যময় ও গূঢ় হাসিটিই জানান দিচ্ছিল, সে এমন এক সম্রাট, যার সাম্রাজ্যের পরিধি সাধারণ মর্ত্যলোকের কল্পনারও অতীত।

প্রাসাদের এই আলোকোজ্জ্বল মায়াজাল থেকে বহু দূরে, অন্ধকারের এক নিভৃত কোণে দাঁড়িয়ে কেউ একজন দূরবীনের সাহায্যে এই দৃশ্যপট পর্যবেক্ষণ করছিল। প্রাসাদের অভ্যন্তরের নিভৃত মুহূর্তগুলো তার দৃষ্টিগোচর না হলেও, কারান যে মিরার জন্য এক অতিপ্রাকৃত রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলেছে, তা তার নজর এড়ায়নি। সে ছাদে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। তার গম্ভীর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হলো, “সিংহের সাথে চিতাবাঘের এই র*ক্তক্ষয়ী সংগ্রামে বিজয়ের শ্রেষ্ঠ ট্রফি হবে আমার ব্লাকরোজ।”
এতটুকু বলে সে সংকুচিত দৃষ্টিতে প্রাসাদের দিকে তাকালো। সেই অট্টালিকা যতটা জৌলুস ছড়াচ্ছিল, তার চেয়েও অধিক তীব্রতায় জ্বলছিল তার দু-চোখ। রাগে ও ঈর্ষায় তার ললাট এবং গ্রীবাদেশের নীল শিরাগুলো স্ফীত হয়ে উঠেছে। মুষ্টিবদ্ধ হাত দুটিতে নখ যেন মাংস ভেদ করতে চাইছে। দীর্ঘ সময় পর সে ঘাড় এদিক-ওদিক বাঁকিয়ে মটমট শব্দ তুলল। তারপর ফুঁসতে ফুঁসতে নিচে নেমে এলো।

নিচে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পুনরায় সেই নারকীয় দৃশ্যের অবতারণা উন্মোচন হলো। দুটি স্ট্রেচারের ওপর এক যুগলকে ন*গ্ন করে শৃঙ্খলিত করে রাখা হয়েছে। পুরুষটিকে নিরেট লৌহ শিকলে আর নারীটিকে বডি স্ট্র্যাপসের করাল বন্ধনে বন্দি করা হয়েছে। শেফ সেই নারীর ন*গ্ন দেহের দিকে লোলুপ ও বিষাক্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। বন্দিদের মুখাবরণ এমনভাবে রুদ্ধ যে, কেবল অস্ফুট আর্তনাদ ছাড়া অন্য কোনো শব্দ বের হওয়ার জো নেই। তাদের নয়নদ্বয় থেকে অশ্রুধারা প্লাবিত হচ্ছিল। পূর্বের ন্যায় সময় নিয়ে হ*ত্যা করার ধৈর্য আজ শেফের নেই। সে এখন উন্মত্ত তৃষ্ণায় হাহাকার করছে; মিরাকে না পাওয়ার দহন তাকে এক ম*রণঘাতী পিশাচে রূপান্তরিত করেছে। সে কতক্ষণ তাদের ছটফটানি আর প্রাণভয়ে কম্পিত হওয়া উপভোগ করল। এরপর অত্যন্ত মন্থর গতিতে নারীটির মস্তকের দিকে ঝুঁকে পড়ল। ভয়ে নারীটির হৃৎপিণ্ড যেন স্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার উপক্রম করল। নারীটি কিছুক্ষণ পূর্বের সেই উন্মত্ত গোঙানি থামিয়ে টলটলে চোখে শুধু শেফের দিকে তাকিয়ে রইল।
শেফ কোনো বাক্য ব্যয় না করে পার্শ্ববর্তী একটি কেদারা টেনে দুই পা ফাঁক করে বসল। শার্টটি উন্মোচন করতেই তার সুঠাম দেহের ওপর অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হলো। এ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং মিরাকে না পাওয়ার তীব্র দহনে সে নিজ হাতেই ব্লে*ড দিয়ে এই ক্ষ*তগুলো সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ তার সেই পাষাণ মুখচ্ছবি কিছুটা কোমল হয়ে এলো। শায়িত নারীটির দিকে তাকিয়ে সে শীতল কণ্ঠে বলল, “I have a little gift for you, before you d*ie.”

এতক্ষণ প্রাণপণে সংবরণ করে রাখা নারীটির রুদ্ধ কান্না পুনরায় বাঁধ ভেঙে গেল। শেফ ঠান্ডা মুখাবয়বে চেয়ার ছেড়ে উঠে মেয়েটার স্ট্রেচারটি টেনে নিয়ে গেল এক অন্ধকার কক্ষের ভেতর। শেফ একটি মোমবাতি প্রজ্বলিত করল। সেই শিখার আলো যখন কক্ষের সম্মুখের দেওয়ালে পড়ল, মনে হলো অন্ধকারের হৃৎপিণ্ড চিরে কোনো স্বর্গীয় উদ্যানের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
ক্যানভাসের ভেতর আঁকা মোমবাতিটি থেকে নির্গত আলো এতটাই বাস্তবিক যে, বাইরের আসল মোমবাতির শিখা আর ছবির আলোর শিখার মধ্যে তফাত করা দায়। ক্যানভাসের ওপর অঙ্কিত মিরার দুগ্ধশুভ্র ত্বক, ললিত চিবুক আর চোখের মণির উজ্জ্বলতা তাকে নিশীথিনীর রানিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আকাশি গাউন পরিহিত মিরা উপবিষ্ট আছে অসংখ্য কালো গোলাপের অরণ্যে; যাদের প্রতিটি পাপড়িতে জমে আছে কাল্পনিক শিশিরবিন্দু। পেইন্টিংটির সবচেয়ে রহস্যময় অংশ হলো মিরার আঁখিযুগল। সে বক্র হেসে এমনভাবে তাকিয়ে আছে, যেন সমগ্র মহাবিশ্ব উপেক্ষা করে সে কেবল শেফকেই পর্যবেক্ষণ করছে। মিরার বক্ষদেশের বসনের পরিবর্তে অঙ্কিত হয়েছে একটি কৃষ্ণগোলাপ, যার প্রতিটি পাপড়ি থেকে র*ক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। তার র*ক্তিম ওষ্ঠাধরের কোণে একটি প্রজাপতি ডানা স্থির করে বসে আছে। আর এই প্রজাতির জায়গায় নিজেকে কল্পনা করেই অঙ্কন করেছে শেফ।

মিরার সুকোমল আঙুলগুলো একটি কৃষ্ণগোলাপের ডাঁটা আঁকড়ে ধরে আছে; তার নাসিকার ভঙ্গিমা বলে দিচ্ছিল সে সেই পুষ্পের ঘ্রাণে আবিষ্ট।
স্ট্রেচারে শৃঙ্খলিত নারীটি তার আসন্ন মৃ*ত্যুভয় ভুলে গিয়ে অপলক নেত্রে সেই চিত্রকর্মের দিকে তাকিয়ে রইল। শেফ যখন তার প্রকম্পিত অঙ্গুলি দিয়ে ছবির মিরার চিবুক স্পর্শ করল, তার মনে হলো তার ব্ল্যাকরোজ বুঝি এই এখনই এক দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে নয়নপল্লব নিমীলিত করবে।
শেফ কিছুক্ষণ সেই চিত্রপটের দিকে তাকিয়ে থেকে পিছনে মুখ না ফিরিয়েই গম্ভীর ও শীতল কণ্ঠে প্রশ্ন করল, “হোয়াট্‌স ইয়োর টেইক, কোনো পুরুষের পক্ষে কি সম্ভব ওর প্রেমে না পড়া?”
তড়িৎ গতিতে সে পিছনে ফিরল। ওদিকে সেই বন্দি নারীও মিরার সেই রূপমাধুর্যে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল। সে যান্ত্রিকভাবে হ্যাঁ-সূচক মস্তক নাড়াল। শেফ তখন সেই স্ট্রেচারের পার্শ্বে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, দুই বাহু বক্ষে ভাঁজ করে মিরার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, “প্রথমবার যখন ওকে দেখলাম, মনে হয়েছিল কোনো নশ্বর মানবী নয়, বরং অলৌকিক কোনো তুষারশুভ্র পরীর সম্মুখীন হয়েছি। ওর এই অতিপ্রাকৃত সৌন্দর্যের তেজে আমার চোখদুটো যেন অন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।”

পরক্ষণেই শেফ এক ঝটকায় মেয়েটির মুখের একদম কাছে হাঁটুতে ভর দিয়ে ঝুঁকে দাঁড়ালো। তার র*ক্তাক্ত চোখে উন্মত্ত তৃষ্ণা স্পষ্ট দৃশ্যমান। মেয়েটার ললাট বেয়ে নেমে আসা ঘর্মবিন্দুগুলো তখনো মুক্তোদানার মতো কম্পমান। শেফ নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা সেই সিক্ত কণাটিকে অপসরণ করে, টোকা মেরে শূন্যে ছুঁড়ে দিল। সেই অতর্কিত স্পর্শে মেয়েটির দেহবল্লরী কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠল। শেফ এবার ফিসফিস করে বলল, “তোমার কি মনে হয় না, তোমার অকিঞ্চিৎকর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহারটি আজ আমি তোমাকে দিয়েছি?”

সেই নারীটিও মিরার সেই রূপের জাদুতে এতটাই বিমোহিত ছিল যে, সে পুনরায় মস্তক নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। শেফের ওষ্ঠাধরে এক কুটিল ও পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। এই প্রদর্শনী ছিল তার নিজের উন্মাদনাকে যৌক্তিক প্রমাণ করার এক চূড়ান্ত প্রয়াস। অর্থাৎ মিরার এই রূপ কেবল তার একার ভ্রম নয়; এটি নারীদেরও স্তব্ধ করে দেয়।
শেফ হঠাৎ দূরে সরে গিয়ে পাশের কক্ষ থেকে কিছু যান্ত্রিক সরঞ্জাম ভর্তি স্টিলের ট্রে নিয়ে এলো। এরপর কক্ষের দেওয়ালে প্রজেক্টরের নীল আলোয় একটি পুরোনো ভিডিয়ো সচল করল। মালদ্বীপের সেই নীল জলরাশির পটভূমিতে দেখা গেল কারান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মিরার কটিদেশ জড়িয়ে তাকে নিজের শরীরের সাথে একীভূত করে নিচ্ছে। তারপর তাদের ওষ্ঠদ্বয় একে অপরের মাঝে লীন হয়ে গেল এক দীর্ঘ ও গভীর চুম্বনে।
এতক্ষণ যে শেফ বরফের মতো শীতল ছিল, তার মস্তিষ্কে এবার আগ্নেয়গিরির উদ্‌গিরণ শুরু হলো। ঈর্ষার বিষে তার ললাট এবং গ্রীবাদেশের শিরাগুলো ফুলে উঠল। তার দ্রুত ও তপ্ত নিশ্বাসের ফোঁস ফোঁস শব্দে সেই বন্দি নারীটির সম্মোহন টুটে গেল। সে আতঙ্কিত চোখে শেফের দিকে তাকাতেই দেখল এক সাক্ষাৎ যমদূতকে। যা দেখে নারীটি উন্মত্তের মতো ছটফট করতে শুরু করল, যার ফলে স্ট্রেচারটি শব্দ করে নড়তে লাগল।
শেফ তার সরঞ্জাম থেকে একটি ভারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্যাপলার গান তুলে নিল। সে অত্যন্ত ধীর গতিতে স্ট্যাপলারের মুখটি নিজের বাম হাতের তর্জনীর ডগায় চেপে ধরল।

ঠাস করে একটি তীক্ষ্ণ শব্দ হলো। লোহার স্থূল পিনটি নখ ভেদ করে আঙুলের অস্থির গভীরে আমূল বিঁধে গেল। অথচ শেফের মুখে কোনো বেদনার চিহ্ন নেই, চোখে কোনো পলক নেই। একে একে বৃদ্ধাঙ্গুলি থেকে কনিষ্ঠা, প্রতিটি আঙুলের ওপর সে সেই লৌহশলাকাগুলো বিঁধিয়ে দিতে থাকল। পিনগুলো যখন মাং*সপেশি চি*রে হাড়ের মজ্জায় প্রবেশ করছিল, তখন শেফের আঙুল দিয়ে তপ্ত ও ঘন র*ক্ত টপ টপ করে মেঝেতে পড়তে থাকল।
প্রজেক্টরের পর্দায় তখন কারান মিরার গ্রীবাদেশে নিজের ওষ্ঠাধর নিমজ্জিত করছে। সেই দৃশ্য অবলোকন করা মাত্র শেফের উন্মাদনা সকল সীমা অতিক্রম করল। সে পৈশাচিক ক্ষিপ্রতায় নিজের হাতের তালু বরাবর প্রকাণ্ড এক স্ট্যাপলার পিন বিঁধিয়ে দিল। লোহিত র*ক্তে তার হাত প্লাবিত হলেও তার স্থির নয়নযুগল প্রজেক্টরের পর্দার দিকে নিবন্ধ, যেখানে কারানের হস্ত তখন মিরার বসনের অন্তরালে বিচরণ করছে। প্রজেক্টরের নীলচে আলোয় শেফের অবয়বকে কোনো প্রেতাত্মার ন্যায় বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। সে তার সেই র*ক্তাক্ত অঙ্গুলি দিয়ে ললাট ও গাল বেয়ে পড়া ঘাম আর র*ক্ত মুছে নিচ্ছে, যা তাকে আরো বীভৎস করে তুলেছে।

স্ট্রেচারে শৃঙ্খলিত নারীটি এই অতিপ্রাকৃত আত্মনিপীড়ন দেখে ভীতিতে কুঁকড়ে যাচ্ছিল; সে উপলব্ধি করল, যে ব্যক্তি নিজের অস্থি চি*রে লৌহশলাকা বিঁধিয়ে দিতে পারে, তার নিকট অপরের জীবনের মূল্য তৃণসম।
শেফ এবার এক ধারালো সাঁড়াশি তুলে নিল। ভিডিয়োতে কারান যখন মিরাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল, শেফ তখন নিজের সেই পিনবিদ্ধ আঙুলগুলোর একটি থেকে নখটি সমূলে উপড়ে ফেলল। চ্যাক করে এক তীক্ষ্ণ শব্দে কাঁচা মাংসের তলা থেকে র*ক্ত বিচ্ছুরিত হলো। শেফের ওষ্ঠাধর থেকে কোনো আর্তনাদ নির্গত হলো না, কেবল দন্তঘর্ষণের কর্কশ শব্দ সেই নিস্তব্ধ প্রকোষ্ঠে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করল। সে এবার একটি ভারী লৌহ হাতুড়ি তুলে নিজের সেই থ্যাঁতলানো ও পিনবিদ্ধ আঙুলগুলোর ওপর সজোরে আঘাত করতে শুরু করল। লৌহশলাকাগুলো হাড়ের গভীরে মজ্জা ভেদ করে প্রবেশ করল। তার হাত তখন মাংস আর র*ক্তের পিণ্ড মাত্র।
সে মন্থর পায়ে এগিয়ে গেল। পকেটে বাম হাতটা আলগোছে গোঁজা। দেয়ালে মিরার তৈলচিত্রটার ওপর তার লোলুপ দৃষ্টি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল।

​এরপর নিজের সেই র*ক্তরঞ্জিত ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল। বুড়ো আঙুলটা যখন ছবির মিরার ঠোঁট স্পর্শ করল, স্পর্শের সাথে সাথেই নিস্প্রাণ ক্যানভাসের ঠোঁট দুটো গাঢ় লাল হয়ে উঠল। পরক্ষণেই এক ফোঁটা জীবন্ত র*ক্তকণিকা সেই ঠোঁটের কোণ বেয়ে চিবুক গড়িয়ে নামতে শুরু করল।
সেই বন্দি নারীটির অশ্রুধারা তখন বিরামহীনভাবে পড়তে থাকল। সে মনে মনে ডুকরে উঠল, “হে আল্লাহ! এ কোন জানো*য়ার? এর কি বিন্দুমাত্র অনুভূতি নেই?”
সে অসহায়ের মতো প্রার্থনা করতে শুরু করল।
শেফের র*ক্তবর্ণ চক্ষুদ্বয় উন্মত্ত শ্বাপদের ন্যায় জ্বলছিল। তার এক হাতে তখন র*ক্তমাখা সেই স্ট্যাপলার গান, এবং এগিয়ে এসে আরেক হাতে পাশের ট্রে থেকে তুলে নিল একটি শানিত স্টিলের চিমটা। সে সেই নারীটির ওপর ঝুঁকে এলো; চিমটা দিয়ে তার ঊর্ধ্ব ও নিম্ন নয়নপল্লব সজোরে টেনে ধরল। নারীটি অসহ্য যন্ত্রণায় অস্ফুট গোঙানি দিলেও শেফ ছিল পাষাণবৎ।

সে পর্দার দিকে ইঙ্গিত করে গর্জন করে উঠল, “তাকিয়ে দেখো! আমি একা কেন এই দহন সহ্য করব? তুমিও দেখো আমার ব্ল্যাকরোজকে। মিরা কীভাবে অন্য পুরুষের ওষ্ঠাধর নিজের মুখে পুরে নিচ্ছে!”
বলামাত্রই সে স্ট্যাপলার গানটি মেয়েটির ভ্রূর ঠিক নিচে স্থাপন করল। ঠাস করে একটি পিন চোখের পাতার মাংস ও অস্থির সংযোগস্থলে গেঁথে গেল। মেয়েটির চোখের পাতা এখন চিরস্থায়ীভাবে খোলা, সে চাইলেও এখন আর চোখ বন্ধ করতে পারবে না। তাকে এই নরক দেখতেই হবে।
শেফ থামল না। সে এবার মেয়েটির ন*গ্ন বক্ষস্থলের কোমল মাংসে স্ট্যাপলার দিয়ে ‘M’ (Mira) অক্ষরটি খোদাই করতে শুরু করল। প্রতিটি পিন যখন কোমল মাংসপেশি বি*দীর্ণ করছিল, মেয়েটির তনু তড়িৎপৃষ্ঠ বাইন মাছের ন্যায় স্ট্রেচারে আছাড় খেতে লাগল। র*ক্ত ছিটকে পড়ে তার ও শেফের বক্ষদেশ লা*লবর্ণ ধারণ করল।
শেফ সেই পিনবিদ্ধ ক্ষতের ওপর হাতুড়ি দিয়ে আলতো আ*ঘাত করতে লাগল, যাতে যন্ত্রণার প্রতিটি তরঙ্গ মেয়েটির কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের গভীরতম প্রকোষ্ঠে পৌঁছে যায়।

ভিডিয়োতে কারান যখন মিরার ঊরুর ওপর অধিকার স্থাপন করল, শেফ তখন স্ট্যাপলার গানটি দিয়ে মেয়েটির যৌ*না**ঙ্গের সংবেদনশীল চর্ম ও টিস্যুতে এলোপাথাড়ি পিন বিঁধিয়ে দিতে থাকল। পিনগুলো চামড়া ফুটো করে ভেতরের নরম টিস্যুগুলো ছিঁড়ে ফেলছে। র*ক্ত আর চর্বির মিশ্রণে মেয়েটির নিচের অংশ এখন এক বীভৎস ক্ষতবিক্ষত গর্তে পরিণত হয়েছে।
মেয়েটির অশ্রু তখন শুকিয়ে গিয়ে সেখানে কেবল র*ক্তের লোহিত রেখা বিদ্যমান। সে অবলোকন করছিল এক এমন দানবকে, যার নিকট র*ক্তই হলো পরম উপাসনা।
শেফ তার র*ক্তাক্ত জিহ্বা দিয়ে মেয়েটির ওষ্ঠের কোণে জমে থাকা র*ক্ত লেহন করল, এবং তার সেই থ্যাঁতলানো হাতটি মেয়েটির মুখে বুলিয়ে দিল। সেই স্পর্শে মেয়েটির শরীর ঘৃণায় ও আতঙ্কে শিরশির করে উঠল। এই দৃশ্য দেখে শেফ ওষ্ঠাধরের এক কোণ উঁচু করে পৈশাচিক হাসি ফুটিয়ে তুলল।

শেফ এবার স্টিলের ট্রের উপর রাখা ভাইব্রেশন মেশিনটি তুলল। হাতের সেই কম্পমান ভাইব্রেশন মেশিনটি যখন ন*গ্ন নারীটির যৌ**না*ঙ্গের অতি সংবেদনশীল টিস্যুর ওপর সজোরে চেপে বসল, তখন তার দেহটি এক ধনুকাকার বক্রতায় আড়ষ্ট হয়ে গেল। পেশিগুলোর অস্বাভাবিক সংকোচনে তার ধমনিগুলো নীলবর্ণ ধারণ করে স্ফীত হয়ে উঠল, এবং নয়নযুগল কোটরচ্যুত হওয়ার উপক্রম হলো। তার নিঃশব্দ আর্তনাদটা গলার ভেতর দলা পাকিয়ে গুমরে মরছে। শেফের নিস্পৃহ মুখাবয়বে মোমবাতির কাঁপা কাঁপা আলো-ছায়ার খেলায় তাকে পৈশাচিক রূপ দিয়েছে।
সে এবার যন্ত্রের স্তূপ থেকে ড্রিল মেশিনটি উত্তোলন করল। যন্ত্রটি সচল করতেই তার তীব্র ঘর্ঘর ধ্বনি কক্ষের স্তব্ধতা বিদীর্ণ করল। শেফ অত্যন্ত ধীরলয়ে ড্রিল মেশিনটি নারীটির যৌ*না**ঙ্গের প্রবেশপথের ঠিক সন্নিকটে নিয়ে এলো। ঘূর্ণায়মান ফলার তীব্র আবর্তনে সৃষ্ট উত্তপ্ত বাতাস যখন সেই আর্দ্র ও সংবেদনশীল চর্ম স্পর্শ করল, মেয়েটি তখন মৃ*ত্যু যন্ত্রণার চরম শিখরে পৌঁছালো।

কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে শেফের মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো অদ্ভুত ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। ড্রিলের ফলাটা আর এক ইঞ্চি এগোলেই মাং*স চি*রে ভেতরে ঢুকে যেত, কিন্তু শেফ স্থির হয়ে গেল। তার র*ক্তাভ ও ঘোলাটে দৃষ্টির সম্মুখে স্ট্রেচারে শায়িত সেই নারীটির অবয়ব বিলীন হয়ে সেখানে ফুটে উঠল তার আরাধ্য ‘ব্ল্যাকরোজ’ মিরার প্রতিচ্ছবি।
সে এক উন্মত্ত ঘোরের মধ্যে ডুবে গেল। তাই অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রিল মেশিনের ফলাটা মেয়েটির যৌ**না*ঙ্গের ঠিক ওপরের সূক্ষ্ম চামড়ায় আলতো করে ছোঁয়াল। তপ্ত লোহার স্পর্শ আর ঘর্ষণে চামড়া পোড়া উৎকট গন্ধ নাকে আসতেই শেফের মুখে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।
সে নিচু হতেই তার তপ্ত নিশ্বাস মেয়েটার ঘাড়ের ওপর আছড়ে পড়ল। শেফ সম্মোহনী গলায় বিড়বিড় করে উঠল, “ওহ, মাই ব্ল্যাকরোজ… হেই, লিটল ফায়ার… তোমার ভেতরের এই আগুনটাই তো আমি নেভাতে চেয়েছিলাম।”
শেফ দেখতে পাচ্ছিল মিরা তার নিচেই শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে, আর সেই ধ্বংসলীলা দেখে সে অসম্ভব তৃপ্তি পাচ্ছে। অকস্মাৎ শেফের সুঠাম ও প্রকাণ্ড দেহের গুরুভার যখন সেই তন্বী নারীটির ওপর আপতিত হলো, তখন তার শ্বাসবায়ু রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। শেফ দন্তরাজি ব্যবহার করে তার গ্রীবাদেশ ও কণ্ঠনালি থেকে মাংসের পিণ্ড খুব*লে নিল। ফিনকি দিয়ে নির্গত উষ্ণ র*ক্ত শেফের মুখমণ্ডল ও ব*ক্ষস্থলে লেপটে গেল। মেয়েটি যন্ত্রণায় উম উম শব্দে তীব্র আর্তনাদ করল।

নির্দয় শেফ ক্ষান্ত হলো না। সে এক টানে নারীটির মুখের বাধন খুলে ওষ্ঠাধর দংশন করে মাংসের অংশ বিশেষ বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। মেয়েটি ‘আআআ’ শব্দে গলা ফেটে যাওয়ার মতো করে চিৎকার করে উঠল। শেফ এবার আরও ক্ষিপ্রতায় নারীটির বক্ষস্থলে দন্তস্ফুট করতে শুরু করল। প্রতিটি কা*মড়ে নারীটির চর্ম বিদীর্ণ হয়ে লা*ল মাংসপেশি দৃশ্যমান হলো। বক্ষদেশের চারপাশের কোমল চর্ম ফেটে গিয়ে সেখানে এক র*ক্তাক্ত গহ্বরের সৃষ্টি হলো। নারীটি যন্ত্রণার এমন এক অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হলো, যেখানে চেতনা আর কোনো সংকেত গ্রহণে সক্ষম নয়। তার শরীরের চর্ম এখন ছিন্নভিন্ন হয়ে দুলছে, যার অন্তরাল থেকে শুভ্র অস্থির অংশ উঁকি দিচ্ছে।

শেফ এক নিমিষে নিজের ট্রাউজার খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিল, ফলে তার দুগ্ধশুভ্র পদযুগল সেই তিমিরমাখা প্রকোষ্ঠে উদ্ভাসিত হলো। তার পৈশাচিক কামনায় স্ফীত পুরু**ষা*ঙ্গটি সে বন্দি নারীটির র*ক্তাক্ত ও ছিন্নভিন্ন যৌ*না**ঙ্গে প্রচণ্ড বেগে প্রবেশ করাল। প্রতিটি পৈশাচিক ধাক্কায় নারীটির কণ্ঠনালি থেকে রুদ্ধ ও অস্ফুট আর্তনাদ নির্গত হচ্ছিল।
সবচেয়ে হাড়হিম করা মুহূর্তটি এলো যখন শেফ তার দন্তরাজি দিয়ে নারীটির যৌ*না**ঙ্গে দংশন করল। সে কেবল কা*মড় দিয়েই ক্ষান্ত হলো না, বরং দাঁত দিয়ে সেই কোমল মাং*সে কা*মড়ে ধরে সজোরে টান দিতে লাগল। মুহূর্তের মধ্যে সেই সংবেদনশীল অ*ঙ্গটি ছিন্নভিন্ন হয়ে এক র*ক্তা*ক্ত গহ্বরে পরিণত হলো। য*ন্ত্রণার চরম শিখরে পৌঁছে নারীটি সর্পের ন্যায় কুঞ্চিত হয়ে ছটফট করতে লাগল। শেফের দং*শনে যৌ*না**ঙ্গ তখন এক মাংসের স্তূপে পরিণত হয়েছে; সেখান থেকে লোহিত র*ক্তধারা স্ট্রেচার বেয়ে মেঝেতে চুঁইয়ে পড়ে এক প্রকাণ্ড র*ক্তপুষ্করিণী তৈরি করল।

শেফ সেই বিচ্যুত মাংসখণ্ড মুখে নিয়ে চিবোতে চিবোতে বিকৃত উল্লাসে চোখ বুজে গোঙাতে লাগল, “মাই ব্ল্যাকরোজ… মাই লিটল ফায়ার…”
দীর্ঘক্ষণব্যাপী এই অমানুষিক নির্যাতনের পর শেফ যখন দাঁড়িয়ে গেল, তার সমগ্র তনু তখন মানুষের উষ্ণ র*ক্তে অভিষিক্ত। তার পুরু*ষা**ঙ্গটি র*ক্তের চাপে, এবং উত্তে*জনায় এমনভাবে ফুলে উঠেছে যে মনে হচ্ছে এখনই চামড়া ফেটে র*ক্ত ঝরবে। শেফ তার র*ক্তা*ক্ত পু*রুষা**ঙ্গটি বের করে আনতেই সেই বিধ্বস্ত যৌ**না*ঙ্গ থেকে দলা দলা র*ক্ত আর চ্যুত টিস্যু নির্গত হলো।
অথচ তার নয়নযুগলে অনুশোচনার লেশমাত্র নেই। স্ট্রেচারে শায়িত নারীটির দেহ তখন নিস্পন্দ; তার চোখ দুটো এখন স্থির, মণি দুটো ওপরের দিকে উলটে গেছে। সে বেঁচে আছে কি না বোঝা দায়।

কিন্তু শেফের বিনাশী তৃষ্ণা তখনও অতৃপ্ত। কপাল বেয়ে র*ক্তের ধারাটি ধীরলয়ে ভ্রূতে এসে ঠেকেছে। নোনতা আর উষ্ণ সেই স্রোত তার সারা মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। শেফ এগিয়ে গিয়ে পাশের কক্ষ থেকে টিস্যুর বাক্স আনল। সেখান থেকে দুটো টিস্যু তুলে তার র*ক্তা*ক্ত হাত দিয়ে নিজের পু*রু*ষা*ঙ্গের র*ক্ত মুছে নিয়ে ছবির মিরার দিকে তাকাল। র*ক্তে সিক্ত টিস্যু দুটো দুমড়েমুচড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিল। তার বাঁকা হাসিতে স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, এই র*ক্তক্ষয়ী উৎসব কেবল শুরু। সে পুনরায় সেই ড্রিল মেশিনটি হস্তে গ্রহণ করল। এবারের লক্ষ্য আরও অধিক বীভৎস। শেফ ঘূর্ণায়মান ড্রিলের দীর্ঘ ফলাটি সচল করে সরাসরি নারীটির সেই ক্ষতবিক্ষত যৌ**না*ঙ্গে*র গভীর গহ্বরে প্রবেশ করিয়ে দিল। লৌহশলাকা যখন জরায়ুর প্রাচীর আর অন্ত্র বিদীর্ণ করে ভেতরে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন অস্থি ও মাংসের ঘর্ষণে কর্কশ মড়মড় শব্দ প্রকোষ্ঠের দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। নারীটির উদর অভ্যন্তরীণ চাপে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো।

র*ক্ত আর চর্বির মিশ্রণ ড্রিলের ফলায় আটকে চারদিকে ছিটকে পড়ছে, এমনকি দেওয়ালে থাকা মিরার সেই সুন্দর ছবিতেও র*ক্তের ফোঁটা গিয়ে লাগল। শেফ ড্রিলটা সরিয়ে নিয়ে নিজের দুই হাত মেয়েটির পেটের সেই বিশাল ক্ষ*তের ভেতর ঢুকিয়ে দিল। সে পশুর মতো টেনে হিঁচড়ে ভেতরের নাড়িভুঁড়ি আর অন্ত্রের অংশগুলো বাইরে বের করে আনতে লাগল। প্রতিটি টানে মেয়েটির মেরুদণ্ড স্ট্রেচারের সাথে সজোরে আছাড় খাচ্ছিল। শেফ সেই গরম র*ক্তমাখা অন্ত্রগুলো নিজের গলায় প্যাঁচিয়ে নিয়ে উন্মত্তের মতো হাসতে লাগল। সে যেন মিরার জন্য এক র*ক্তস্নাত মালা তৈরি করেছে। এরপর সে তার দাঁ*ত বসাল মেয়েটির উন্মুক্ত তলপেটের কোমল মাং*সে। কা*মড়ে এক বিশাল চাকা মাংস ছিঁ*ড়ে নিয়ে সে সেটাকে চিবোতে চিবোতে সরাসরি মেয়েটির চোখের ওপর থুতু দিয়ে ফেলে দিল। তার পু*রুষা**ঙ্গটি তখনও পৈশাচিক উত্তেজনায় কাঁপছে, যা সে বারবার মেয়েটির দেহের বিভিন্ন গভীর ক্ষতস্থানে ঘষতে লাগল।

মেয়েটির দেহ এখন কেবল একটা হাড়গোড়ের কঙ্কালসার স্তূপ, যার চামড়াগুলো ঝুলছে ঝালরের মতো। তার চোখের মণি এখন স্থির, যন্ত্রণার চরম সীমা পার করে সে এখন এক অনন্ত শূন্যতায় হারিয়ে গেছে। শেফ তার রক্তা*ক্ত মুখটা মেয়েটির কানের কাছে নিয়ে গেল, যেখানে একটু আগে সে কা*মড়ে কানটা ছিঁড়ে নিয়েছে।
গলা নামিয়ে সে বলে উঠল, “All of you… I will possess every inch of you, Mira. No one can ever separate you from me, my little fire.”
পার্শ্ববর্তী প্রকোষ্ঠে নিজের প্রেমিকার ওপর চলা অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিটি আর্তনাদ, ভেসে আসা সেই করুণ গোঙানি, আর স্ট্রেচারের চাকার ঘড়ঘড় শব্দে যুবকের মস্তিস্কে প্রলয় শুরু হলো। প্রবল আক্রোশে উন্মত্তের ন্যায় সে হাতের বন্ধন ছিন্ন করতে চাইল, কিন্তু লৌহকঠিন সেই বাঁধন আরও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করল তার কব্জিতে। তার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল, কিন্তু শক্ত বাঁধন আর মুখের টেপ তাকে কেবল এক অসহায় দর্শক বানিয়ে রেখেছে। পাশের ঘরের সেই বীভৎস যজ্ঞ যখন সমাপ্ত হলো, তখন সেখান থেকে ভেসে আসা র*ক্তের সেই উৎকট ভ্যাপসা গন্ধ আর শেফের পাদচারণার ভারী শব্দ জানান দিচ্ছিল যে, মৃ*ত্যুর পরবর্তী গন্তব্য এবার এই নিরপরাধ যুবকটির।

শেফ যখন ট্রাউজার পরিধান করে কক্ষের দ্বারে এসে হেলান দিয়ে দাঁড়াল, তাকে আর মানুষ বলে চেনা যাচ্ছিল না। তার সাদা চামড়া এখন মানুষের র*ক্তে রাঙানো, বুকের লোমে জমাটবদ্ধ র*ক্ত শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে। তার হাতে ধরা সেই র*ক্তমাখা ড্রিল মেশিনটাতে তখনও মেয়েটির মাংসের ছোট ছোট কুঁচি ঝুলে আছে।
শেফ কোনো কথা বলল না। তার নয়নযুগলে আজ বিষাদময় উন্মাদনা। তার হৃদয়ে দহনশীল ঈর্ষা জন্মেছে, সে মিরাকে কোনো ঐশ্বর্য প্রদান করতে পারছে না, অথচ কারান তাকে সমগ্র মহাবিশ্বের রাজত্ব অর্পণ করছে। এই ভাবনায় তার মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো এক প্রলয়ংকরী অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হলো। সে ধীরপদে অগ্রসর হয়ে যুবকটির সম্মুখে হাঁটু গেড়ে বসল। তার হাতের সেই ঘূর্ণায়মান যন্ত্রটি দেখেই ন’গ্ন যুবকটি মর*ণপণ ছটফটানি শুরু করল। ছেলেটি উন্মত্তের মতো মাথা ঝাঁকাচ্ছে, তার নয়নদ্বয় দিয়ে র*ক্তের ন্যায় উত্তপ্ত অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল।

শেফ অত্যন্ত পাশবিকভাবে যুবকটির পু*রুষা**ঙ্গটি নিজের বজ্রমুঠিতে আবদ্ধ করল। ড্রিল মেশিনের সুইচ অন করতেই তার তীক্ষ্ণ ফলাটি এক কর্কশ শব্দে ঘূর্ণন শুরু করল। শেফ সেই ঘূর্ণায়মান ফলাটি সরাসরি যুবকটির পু*রুষা**ঙ্গের মধ্যভাগ বরাবর প্রবিষ্ট করিয়ে দিল। ড্রিলের ফলাটি পেশি, স্নায়ু আর সংবেদনশীল টিস্যুগুলো ছিন্নভিন্ন করে নির্গত হলো। লোহিত র*ক্ত ফিনকি দিয়ে উঠে শেফের ললাট ও গাল প্লাবিত করল, কিন্তু সে নয়নপল্লব পর্যন্ত পিটপিট করল না। ড্রিলটি বারবার বের করে এনে সে বিভিন্ন কোণ থেকে গভীর ছি*দ্র করতে লাগল। প্রতিটি আঘাতে পুরু*ষা**ঙ্গের সংবেদনশীল কোষগুলো চূ*র্ণবিচূ*র্ণ হয়ে যাচ্ছিল। যুবকটি যন্ত্রণার তীব্রতায় স্ট্রেচারের ওপর মৃগী রোগীর ন্যায় আছাড় খেতে লাগল। উম উম শব্দে গোঙাতে থাকল তীব্রভাবে। তার হাতের রগগুলো ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম। ড্রিলের প্রতিটি ঘূর্ণনে গরম র*ক্ত ফোয়ারার মতো ছিটকে সিলিং পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছিল।

শেফ এবার যন্ত্রটি সরিয়ে রেখে যুবকটির সেই র*ক্তা*ক্ত ও বিধ্বস্ত জন*না**ঙ্গের ওপর পা উঁঠিয়ে তার র*ক্তমাখা বুট জুতো দিয়ে সজোরে চাপ দিল। যে অংশটি দিয়ে সে তার প্রেমিকাকে ভালোবাসা দিত, সেই অংশটিই এখন এক দলা থ্যাঁতলানো মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। শেফ দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠল, “কারান তো এভাবেই মিরাকে সুখ দিচ্ছে, যেটা আমার দেওয়ার কথা ছিল। কারানের আগমনের বহু পূর্বেই তো তোমাকে আমি দেখেছিলাম, মিরা। তবে তুমি কেন আমার হলে না?”
একটু থেমে এক ভ্রূ উঁচিয়ে বাঁকা হেসে যোগ করল, “ইশ! ভুল বলে ফেললাম, তুমি তো আমারই চিরস্থায়ী বন্দিনী।”
যুবকটির আর্তনাদ যখন নিস্তেজ হয়ে এলো, শেফ তখন ড্রিল মেশিনটি তার অ*ণ্ড*কো*ষের অস্থির সংযোগস্থলে স্থাপন করল। ঘর্ঘর শব্দে চামড়া ফেটে যেতে থাকল, এবং অভ্যন্তর থেকে শ্বেতশুভ্র মজ্জা র*ক্তের সাথে মিশে পিচ্ছিল ও বীভৎস তরল হয়ে নির্গত হতে লাগল। র*ক্তের স্রোত তখন যুবকটির উরু বেয়ে মেঝেতে জমাটবদ্ধ র*ক্তের পুকুর হতে থাকল। শেফ তার র*ক্তা*ক্ত আঙুলগুলো সেই গভীর ক্ষতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগল। যেন সে কোনো খেলনা নিয়ে খেলছে। তার হাতে ধরা ড্রিল মেশিনটি এখন র*ক্ত আর মাংসে জ্যাম হয়ে গেছে।

ছেলেটির শরীর এখন কেবল যন্ত্রণার কম্পনে কাঁপছে। অক্ষিগোলকের র*ক্তনালীগুলো যন্ত্রণায় ফেটে গিয়ে চোখ দুটো র*ক্তজবার ন্যায় লা*ল বর্ণ ধারণ করেছে। শেফ উঠে দাঁড়িয়ে যুবকটির কর্ণের কাছে মুখ নিয়ে হিমশীতল কণ্ঠে ফিসফিস করল, “I’m sending you to your girlfriend. Permanently.”
শেফ এবার সেই বিনাশী যন্ত্রটি যুবকটির তলপেটের দিকে পরিচালিত করল। সে চাইল না মৃ*ত্যু এখনই তাকে এই নরকযন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি দিক। সে চাচ্ছিল যুবকটি যেন তার প্রেমিকার ন্যায় তিলে তিলে নিজের বিলীন হওয়া প্রত্যক্ষ করে। শেফ এবার ড্রিল মেশিনটি চালিয়ে একদম জ*ননে*ন্দ্রি*য়ের মূল থেকে বিদীর্ণ করতে শুরু করল। ঘূর্ণায়মান ফলাটি তখন মূত্রনালী আর সূক্ষ্ম তন্তুসমূহ ছিঁড়ে অস্থির গভীরে আ*ঘাত করল। ছেলেটি যন্ত্রণার এমন স্তরে পৌঁছে গেছে যে তার গলা দিয়ে আর আওয়াজ বেরোচ্ছে না, কেবল শরীরটা ধনুকের মতো বেঁকে ঝুলে আছে।
শেফ ড্রিল মেশিনটা পাশে সরিয়ে রেখে তার কোমরের বেল্ট থেকে একটা ধারালো ছু*রি বের করল। সে ছেলেটির সেই র*ক্তা*ক্ত ছি*দ্রপথে ছু*রিটা ঢুকিয়ে দিয়ে ডানে-বামে ঘুরাতে থাকল। ছেলেটির তলপেটের চামড়া ফালি ফালি হয়ে খুলে পড়তে লাগল। শেফ সেই উন্মুক্ত ক্ষতস্থানে নিজের র*ক্তমাখা হাত ঢুকিয়ে ভেতরের অন্ত্রগুলো টেনে বের করার চেষ্টা করতে লাগল।

প্রতিবার যখন ছেলেটি যন্ত্রণায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হচ্ছে, শেফ তাকে সজোরে চড় মেরে জাগিয়ে রাখছে। সে চায় ছেলেটি প্রতিটি সেকেন্ডের মৃ*ত্যুযন্ত্রণা অনুভব করুক। শেফ এবার ছেলেটার সেই স্ফীত ও র*ক্তমাখা পু*রুষা**ঙ্গটি ছেলেটির তলপেটের সেই বিশাল ক্ষতবিক্ষত গর্তের ভেতরে ঘষতে লাগল।
ছেলেটির শরীরের প্রতিটি রগ এখন ছিঁড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। তার গো*পনা**ঙ্গ এখন কেবল এক দলা থ্যাঁতলানো র*ক্তমাখা কাদা। শেফ আবার ড্রিল মেশিনটা তুলল, এবার সেটার লক্ষ্য ছেলেটির বুক। সে চায় পাঁজরের হাড় চিরে ফুসফুসটা বের করে আনতে। কিন্তু সহসা শেফের মুখাবয়ব কঠিন হয়ে উঠল। সে স্থির করল, আজ আর সময়ক্ষেপণ করবে না। সে রান্নাঘর থেকে একটা পাত্রে করে সেই বিশেষ রাসায়নিক মশলা নিয়ে এলো। যুবকটির দেহে সেই মশলা লেপন করতে থাকল, যা মানুষকে হিং*স্র উন্মাদনায় রূপান্তরিত করে।

সেই রাসায়নিক দ্রব্যটি যুবকটির কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সম্পূর্ণ অধিকার করে নিল। এটি এমন এক মা*রণাস্ত্র, যা মস্তিষ্ক থেকে যন্ত্রণার অনুভূতি মুছে দিয়ে সেখানে এক সর্বগ্রাসী আত্মভক্ষণের ক্ষুধা জাগ্রত করে। শেফ যখন ছেলেটির শিকলগুলো খুলে দিল, ছেলেটি পালানোর চেষ্টা করল না—পশুর ন্যায় নিজ হস্তের কবজিতে দন্তস্ফুট করল। অস্থির মড়মড় শব্দে মাংস বিশ্লিষ্ট হলেও তার ওষ্ঠাধরে ফুটে উঠল পৈশাচিক ও প্রসন্ন হাসি। সে উন্মাদের ন্যায় নিজ নখ দিয়ে উরু ও তলপেটের চর্ম চি*রে ফালি ফালি করতে শুরু করল।

উষ্ণ র*ক্তে তার সমগ্র দেহ ভিজে একাকার; মেঝের ওপর স্তূপীকৃত হয়ে আছে নিজেরই দেহ থেকে ছিঁ*ড়ে আনা মাংসের পিণ্ড। ছেলেটি নিজের র*ক্ত নিজেই লেহন করছে। নিজ হস্তের মাংস চিবোতে চিবোতে তার স্বাদ আস্বাদন করছিল। র*ক্তধারা তার চিবুক বেয়ে উদরের সেই ক্ষত*বি*ক্ষত গহ্বরে গড়িয়ে পড়ছিল। সে নিজের র*ক্তা*ক্ত নখগুলো দিয়ে তলপেটের সেই ছি*দ্রগুলো টেনে আরও বৃহৎ করতে লাগল। নাড়িভুঁড়ি টেনে বের করার সময় তার কণ্ঠ দিয়ে কোনো আর্তনাদ নয়, বরং তৃপ্তির গোঙানি নির্গত হচ্ছিল। শেফ এই দৃশ্য অবলোকন করল নির্লিপ্ত চোখে।
শেফ পার্শ্ববর্তী প্রকোষ্ঠে পুনরায় প্রবেশ করল। সেখানে সেই নারীটি তখন কেবল এক দলা যন্ত্রণার পিণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। শেফ তার পকেট থেকে এক ভারী ক্যালিবারের বন্দুক নিষ্কাশন করল। সে বন্দুকের নলটি সরাসরি নারীটির সেই লন্ডভন্ড ও ছিন্নভিন্ন যৌনা*ঙ্গে**র মুখে সজোরে চেপে ধরল। ধাতব নলের সেই শীতল স্পর্শ নারীটির তনুতে শেষবারের মতো শিহরন জাগাল। কক্ষটি হঠাৎ এক প্রলয়ংকরী শব্দে কেঁপে উঠল।

Tell me who I am 2 part 13

পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে নির্গত বুলেটটি নারীটির পেলভিক অস্থি চূর্ণ করে মেরুদণ্ড ভেদ করে বেরিয়ে গেল। নিমিষেই সকল স্পন্দন স্তব্ধ হলো। নারীটির সেই বিশালাকার নেত্রদ্বয় স্থির হয়ে গেল; কেবল গাল বেয়ে অন্তিম এক ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ল।
সব শেষ করে শেফ তার গোপন কক্ষে ফিরে এলো। একটি প্রাচীন কাষ্ঠ নির্মিত বাক্স উন্মোচন করতেই নীল ডায়মন্ডের ব্রেসলেটটি মোমবাতির শিখায় দ্যুতি ছড়ালো। এটি পুরুষালি গড়নের হলেও এর আভিজাত্য ছিল অতুলনীয়। শেফ অত্যন্ত সাবধানে সেটি নিজের কবজিতে পরিধান করল। হীরকখণ্ডের ওপর নিজের র*ক্তমাখা আঙুল বুলিয়ে সে গম্ভীর ও রহস্যময় স্বরে বিড়বিড় করল, “তোমাকে যদি নাগালে পেতাম, তবে নিজ হাতে তোমার অস্তিত্ব বিলীন করতাম, মিসেস আনতারা কৌশিকা চৌধুরি।”

Tell me who I am 2 part 15