কাজলরেখা পর্ব ৫৮
তানজিনা ইসলাম
চাঁদনী সত্যিই আকিব শিকদারকে সবটা বলে দিয়েছে। তবে যতটা সত্য, তার চেয়ে বাড়িয়ে বলেছে অনেক বেশি। যতটা আঁধার হয়তো করেনি, বা বলেনি তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি রঙ চড়িয়েছে সে। কথায় বলে, “সঙ্গদোষে লোহা ভাসে”।চাঁদনীর ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই হয়েছে। আঁধারের সাথে থাকতে থাকতে তার গুটিকয়েক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সে নিজের মাঝে রপ্ত করে নিয়েছে। এই যেমন—মিথ্যাচার, বাড়িয়ে বলা, প্রতিশোধের নেশা, আর একটু-আধটু কূটকাঁচালিও শিখেছে বটে।
কিন্তু চাঁদনী যে সত্যিই আকিব শিকদারকে সব বলে দেবে, আঁধারের কাছে তা ছিল কল্পনাতীত। ওর কাছে চাঁদনী মানে সেই সেদিনের আলাভোলা বাচ্চা মেয়ে, যে এমন কাজ কিছুতেই করবে না। বিয়ের পর প্রথমদিকে চাঁদনী প্রায়ই ভয় দেখাত—”বাবাকে বলে দেব”, “বাবার সাথে চলে যাব”। কিন্তু ও কখনো বলেনি বা যায়নি বলে, আঁধার এবারও ওর কথা আমলে নেয়নি। কিন্তু এবার চাঁদনী সত্যিই নিজের কথা রেখেছে। আকিব শিকদার নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গেছেন ওকে। যাওয়ার আগে চাঁদনী একচোট ঝগড়া করে গেছে আঁধারের সাথে।
চাঁদনীর কোনোকালেই ভয়-ডর ছিল না। আঁধারের সাথে ও সবসময় পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করত। তবে আগে ওর একটা অপারগতা ছিল—চাইলেই ও একা একা চট্টগ্রাম চলে যেতে পারতো না। সেই কারণেই বাবাকে তেমন কিছু বলত না ও। কিন্তু আকিব শিকদার ঢাকা চলে আসার পর থেকে ওর সেই ভয় কেটে গেছে। এমনিতেই বাবার সান্নিধ্যে থাকলে মেয়েদের সাহস কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
আঁধার এখন ভাবছে—কেন ও আকিব শিকদারকে এখানে আনতে গেল! শিকদার বাড়িতে ভাইয়ে-ভাইয়ে সমস্যা হচ্ছিল বলে আঁধারই বুদ্ধি দিয়েছিল যেন আকিব শিকদার ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় ওদের অফিসের একটা ব্রাঞ্চ আছে, আর ফ্ল্যাট নিলে থাকতেও কোনো সমস্যা হবে না। এখন সেই বুদ্ধিই ওর ওপর বুমেরাং হয়ে ফিরে এলো। আঁধার কেন নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে গেল! ও চাঁদনীকে আটকাতে পারেনি। তুমুল ঝগড়াঝাটি করে চাঁদনী বেরিয়ে গেছে। আকিব শিকদারকে সে ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছে, ঢাকা আসার পর আঁধার কীভাবে কষ্ট দিয়েছিল ওঁকে। আর চাঁদনী যেভাবে “ন্যাকা কান্না” কেঁদেছে, তাতে আকিব শিকদার পারলে আঁধারকে মাটির নিচে গেড়ে দিয়ে যেতেন! নেহাত আদরের ভাতিজা বলে পার পেল, অন্য কেউ হলে জেলের ঘানি টানাতেন তিনি।
আকিব শিকদার আঁধারের ওপর চোটপাট দেখিয়ে শেষমেশ চাঁদনীকে নিয়ে চলে গেলেন।
ড্রয়িংরুমের নীরবতা যেন দেয়াল চুইয়ে হাড় অব্দি হিম করে দিচ্ছে। মুখোমুখি বসে থাকা দুটো মানুষের মাঝে বিরাজ করছে এক শ্বাসরুদ্ধকর স্থবিরতা। আঁধারের চোখের মণি আগুনের গোলার মতো জ্বলছে।রক্তজবা চোখ জোড়া দিয়ে ও যেন তটিনীকে ভস্ম করে দিতে চায়। রাগের তীব্রতায় ওর হাতের আর গলার রগগুলো দপদপ করছে, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ও নিজেকে কতোটা কষ্টে সংবরণ করে রেখেছে।
তটিনী মাথা নিচু করে বসে আছে। ওর ভেতরে ভয়, লজ্জা নাকি চরম আতঙ্ক কাজ করছে—তা কেবল ওই জানে। শেষমেশ সাহস সঞ্চয় করে মাথা উঁচিয়ে আঁধারের দিকে তাকাল ও। শুকনো ঢোক গিলে অস্ফুট স্বরে বলল—
—”আমি কী করেছি?”
আঁধার উত্তর দিল না, বরং হিমশীতল কণ্ঠে আদেশ ছুড়লো
—”কী কী হয়েছে সব বল আমাকে। একটা ডিটেইলও যেন বাদ না পড়ে।”
আঁধারের কাছ থেকে সত্যি লুকানো আর আগুনের শিখা মুঠোয় রাখা একই কথা। ওর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রখর; কারো চোখ দেখলেই সে মন পড়ে ফেলার অদ্ভুত ক্ষমতা রাখে। চাঁদনীর হঠাং পরিবর্তনে আঁধারের মনে খটকা জেগেছিলো। ঘটনা সব ঘটেছে তো আজকে না, মাঝখানে অনেক দিন কেটেও গেছে। এতোদিন পরেই কেনো চাঁদনীর হঠাৎ শাবিহাকে নিয়ে জোর দিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করলো। শাবিহার ব্যাপারটা ও সেদিন থেকেই বলতো আঁধারকে। আঁধার চুপ করে যেতে বললে, চুপ করে যেতো। আর কথা বাড়াতো না। এতোদিন পরেই কেনো এতোটা চোটপাট। এতোটা ক্ষোভ। চাঁদনীর রাগ, জেদ আঁধার জানে। কিন্তু এবারের টুকু ভিন্ন ছিলো। আঁধারের উপর ওর পূর্ব রাগ তো ছিলো, কিন্তু শাবিহাকে কিছু না বলায় ও বেশি কষ্ট পেয়েছে।
শাবিহাকে আঁধার কিছু বলেনি এমন তো না৷ বলেছে অনেক কিছুই, বন্ধুত্বও ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু চাঁদনী এতো আজগুবি কথা কোত্থেকে জানলো। এতো এক্সেসিভ কল্পনা করে রাখার মেয়ে তো চাঁদনী না। আঁধার কিছু হলেই তটিনী থেকে পরামর্শ নেয়। ওর মনে হয় তটিনী যেভাবে ভালো করে বোঝাতে পারে ওঁকে আর কোনো বন্ধু পারে না। বাকিরা তো সব মজাভেবেই উড়িয়ে দেয়। কিন্তু তটিনী প্রত্যেকটা বিষয় সিরিয়াসভাবে নেয়। ও পরামর্শের জন্য তটিনী কে কল করলো। তটিনীকে কল করার পর ওর কণ্ঠস্বর আর কথা এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গি দেখেই আঁধার বুঝে গিয়েছিল ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। বিশেষ করে চাঁদনীর কথা তুলতেই যখন তটিনী মুখের উপর কলটা কেটে দিল, তখনই আঁধারের সন্দেহ নিশ্চিত বিশ্বাসে রূপ নিল।
আঁধার জানে তটিনী শাবিহার ভাই রাতকে পছন্দ করে। শাবিহা জানুক না জানুক, আঁধার ঠিকই জানে। আবার তটিনীর পুরনো সম্পর্কের অতীতটাও আঁধারের নখদর্পণে। আঁধার কাউকে সরাসরি শাসাতে চায় না, কিন্তু নরম কথায় কাজ না হলে সে ‘ব্লাকমেইল’ করতেও পিছপা হয় না। সে খুব ভালো করেই জানে তটিনীর কোন দুর্বল জায়গায় আঘাত করলে মুখ খুলবে।এখন পুরোনো সম্পর্ক আর নতুন ভালোবাসা মিলিয়ে ভয় দেখালে, সেখানে তটিনীর ভয় পাওয়া নিশ্চিত। আঁধার সবাইকে ভয় দেখাতে খুব ভালোবাসে।
-“কী বলবো?” অবুঝ স্বরে প্রশ্ন করলো তটিনী। আঁধার ধুম করে চাপড় বসালো সামনের গোল কাঁচের টেবিলে। তটিনী পিছিয়ে গেলো। আঁধার ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
-“শাবিহার সাথে চাঁদনীর দেখা কী করে হয়েছে বল আমাকে। হঠাৎ করে ওর মাথায় এসব ঢুকলো কী করে! চাঁদনী এসব ভাবার মেয়ে না। কিন্তু ও ভেবেছে যখন, তার মানে ওর মাথায় এসব কেও ঢুকিয়েছে।”
-“আমি কী করে জানবো? আমি জানি না কিছু।”
-“জানিস না? ওওওও। কিন্তু আমি তো জানি তোর অতীত। তোমার টিনএজ ভালোবাসার কথা, আবরার ব্রো কে কল করে বলবো নাকি!শুনেছি খুব পছন্দ করিস তাকে।”
তটিনী চকিতে তাকালো। জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
-“মিথ্যা জানিস। আমি কাওকে পছন্দ করি না।
-“তাই না-কি। তাহলে তার নাম নেওয়া মাত্র চলে এলি যে। নাটক করবি না একদম, তনু। শাবিহা তোর কতোটা ক্লোজ, সেটা জানি না আমি? দুনিয়া উল্টে গেলেও তুই ওর পাশ ছেড়ে নড়িস না। অথচ ওর চাঁদনীর সাথে কখন কথা হয়েছে, সেটা জানিস না তুই। এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে!”
তটিনী মাথা নিচু করে বসে থাকলো। ক্ষণকাল বাদে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
-“শাবিহা, চাঁদনীর সাথে ওর কলেজে দেখা করতে গিয়েছিলো।”
আঁধার অবাক হলো না। ও এমনটায় ভেবেছিলো। ওর কল্পনা জল্পনা কোনো একটা ঘটনা নিয়ে, অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যায়। ওভার থিংকিং করতে করতে, এসব বিষয় দুধভাত হয়ে গেছে ওর জন্য।
-“ওর সাথে আর কে ছিলো? একা গিয়েছিলো?”
তটিনী বুঝলো, আঁধার ওঁকে ইঙ্গিত করছে। কারণ শাবিহা একা যাবে না। ও যেখানেই যায়, তটিনীকে সাথে করে নিয়ে যায়। তটিনী সুক্ষ্ম স্বরে উত্তর দিলো
-“আমিও, সাথে ছিলাম।”
-“হু, এটাই জানতে চাচ্ছি। তারপর,
-“এসব জেনে কী করবি? চাঁদনী চলে গেছে, ওঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আয়। জানলেও তো তুই অতীত বদলাতে পারবি না।”
-“জেনে কী করবো সেটা তোকে জানতে হবে না। তোর বান্ধবীকে এতো সহজে ছেড়ে দেবো না আমি। এটুকু তো চিনেছিস আমাকে। অতীত বদলাতে না পারলেও, ভবিষ্যত বদলাতে পারবো। ভবিষ্যতে যাতে তোর বান্ধবী এসব ফালতুমি করতে না পারে, সেটার একটা ব্যবস্হা করতে হবে না!
আঁধার এবার খানিকটা শান্ত হয়ে, কিন্তু তীক্ষ্ণ স্বরে বললো
—”দেখ, আমি চাইলেই চাঁদনীর বান্ধবীদের জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে পারতাম কী হয়েছে। যেহেতু কলেজে দেখা হয়েছিলো ওঁদের, স্বাভাবিক চাঁদনীর ফ্রেন্ড রাও ছিলো সেখানে। কিন্তু আমার নিজের বান্ধবী যেহেতু সেখানে উপস্থিত ছিল, তাই আমি তোর থেকেই শুনতে চাচ্ছি। এ টু জেড সব বলবি আমাকে, একটা শব্দও যেন বাদ না যায়।”
তটিনী দোনোমনা করছিল। মনে মনে কথা সাজাচ্ছিলো,কোনটা বলবে আর কোনটা এড়িয়ে যাবে। কিন্তু আঁধারের বাজপাখির মতো দৃষ্টির কাছে সেই পরিকল্পনা ধরা পড়ে গেল। তটিনী ঢোক গিলে বলতে শুরু করলো ওঁকে। ঘটনা বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও, তটিনী এ টুজেড সবই বললো ওঁকে। কারণ আঁধার একশোটা প্রশ্ন করে জেরা করছিলো। তটিনীর চোখে-মুখে অপরাধবোধ আর শাবিহার কাণ্ড মনে করার ভীতি দেখে, কথা বলার এক পর্যায়ে আঁধার আচমকা সোফা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠে, গর্জে বললো
—”ওয়েট, ওয়েট! ও চাঁদনীকে মেরেছে? শাবিহা কি গায়ে হাত তুলেছে ওর?”
আঁধারের এই আকস্মিক চিৎকারে তটিনী কেঁপে উঠল। ঘরের বাতাস যেন এক নিমেষে আরও তপ্ত হয়ে উঠল। তটিনী তড়িঘড়ি করে সজোরে ডানে-বায়ে মাথা নেড়ে বললো
—”না, না। মারেনি। মারতে চেয়েছিল, আমি ধরে ফেলেছি।”
আঁধার শান্ত হলো না; বরং আরও ক্ষিপ্ত স্বরে বললো
—”যেভাবেই হোক, মারতে চেয়েছিল তো! তুই না ধরলে তো মেরেই দিত। ওই মেয়ের সাহস কী করে হয় আমার চাঁদের গায়ে হাত তোলার? একে তো নিজে দোষ করেছে, তার ওপর চোটপাটও দেখাচ্ছে! ওঁকে সেদিন ছাড় দিয়ে আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। বন্ধুত্ব ভাঙাটা একমাত্র শাস্তি হতে পারে না। ও এরচেয়ে ওর্সট ডিজার্ভ করতো। বেয়াদব একটা!”
তটিনী ঢোক গিলে তাকালো ওর দিকে। আঁধারের এ রাগটাই ভয় পেয়েছিলো ও। এখন এ পরিস্থিতি কী করে সামাল দেবে ও।রাগে ফোঁস ফোঁস করতে থাকা আঁধার হঠাৎই বাঁকা হেসে ধিক্কার দেওয়ার কণ্ঠে বললো
—”তোর বান্ধবী তাহলে স্বীকার করেছে ও জড়িত ছিল? ওই ইন্ধন জুগিয়েছে?”
তটিনী অসহায় বোধ করল। কণ্ঠে জড়তা নিয়ে বললো
—”হ্যাঁ, আমার সামনেই। আমি ভাবতে পারিনি শাবিহা এভাবে সব অকপটে বলে দেবে। ও চাঁদনীকে আরও অনেক উল্টাপাল্টা কথা বলেছে।”
আঁধার কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন করলো
—”তুই কিছু বলিসনি, তনু? তুই কী করছিলি? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিলি?”
—”আমি ওকে অনেক কিছু বলেছি রে আঁধার। কিন্তু চাঁদনীর সামনে না। মেয়েটা অনেক ভেঙে পড়েছিল। আমি শাবিহাকে টেনে বাইরে নিয়ে এসেছিলাম।”
—”শাবিহাকে এত সহজে ছেড়ে দেওয়া আমার উচিত হয়নি। আমি মনে করেছিলাম, সেদিনই সব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু শাবিহা শেষ করতে দিলো না। ও প্রতিশোধ নিলো তাই না! ও কী জানে না, আমার প্রতিশোধপরায়ণতা ও সহ্য করতে পারবে না। যেচে মারা খেতে এসেছে। সমস্যা নেই। কতো ধানে কতো চাল আমিও ওঁকে দেখাবো। তুই কী করবি ভাব! এখনো কি, তুই তোর বান্ধবীর পক্ষ নিবি?”
তটিনী কিছু বললো না। আর কিছু বলার মতো ভাষাও ওর ছিল না। শাবিহা যে এতটা নিচে নামবে, তা ওর কল্পনাতেও ছিল না। ওর হয়ে না সাফাই গাওয়া যায়, না বিচার করার মতো অবস্থা ওর আছে। নিজেকেই বুঝ দেওয়া যেখানে মুশকিল, সেখানে আঁধারকে ও কী বলবে!
চাঁদনীকে নিয়ে ঝামেলার দিন শাবিহার অনেক ‘সিক্রেট’ আঁধারের হাতে এসেছিল। ও সেদিনই চায়লে পারত শাবিহার এই অহংকার আর মিথ্যাচার ভেঙে চুরমার করে দিতে, কিন্তু ও করেনি।
শাবিহা উপরিউপর যেমনটা দেখাতো, ভেতরে ভেতরে ও তেমনটা ছিলো না। ও মূলত মাকাল ফল। ওর ভার্সিটির বন্ধুদের সামনে ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। কিন্তু বাইরের বন্ধুগুলোর সামনে ওর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। সে বন্ধুদের সাথে আঁধারেরও বন্ধুত্ব ছিলো। আঁধার এখনো মানে, ওঁদের পাল্লায় পরেই ও এতোটা বিগড়েছে। নয়তো ওর এতোটা খারাপ হওয়ার কথা ছিলো না। ওর ভার্সিটির ফ্রেন্ড রা যথেষ্ট ভালো। উল্টো ওঁকেই সব খারাপ কাজ থেকে বাচাতো।
আঁধারের বোঝা উচিত ছিলো, ওর বন্ধুরা যখন এমন, তখন ওর ওপরও তাদের কিছুটা প্রভাব পড়বে। শাবিহা আগে থেকেই খারাপ ছিলো—আঁধার তা বলবে না।তবে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সে অনেকটা বিগড়ে গিয়েছিল। চারটা বছর আঁধার একটা ইনোসেন্ট মুখের ধোঁকা খেয়ে গেল। শাবিহার বন্ধুরা যাদের ছায়াও আঁধার মাড়াত না, তাদের সাথেই ভাব জমিয়ে এসব প্রমাণ জোগাড় করতে হয়েছিল ওকে। আঁধার সেদিনই বন্ধুত্ব না ভেঙে শাবিহাকে ভেঙে দিতে পারত, কিন্তু ও সংবরণ করেছিল। প্রমাণ গুলো জোগাড় করতে ওঁকে বেশ কসরত করতে হয়েছে। আঁধার বিশ্বাস করতে পারছিলো না, শাবিহা এতোটা খারাপ কাজ করতে পারে। আঁধার যা ছিলো, তা ও কখনো লুকায়নি। কিন্তু শাবিহা লুকিয়ে গেলো। এতোগুলো বছর মুখোশ পরে থেকে গেলোম। ও যেদিন আঁধারের সামনে ভালোবাসার বুলি আওড়েছিলো। আঁধার চায়লেই পারতো ওর মুখ বন্ধ করে দিতে। আঁধার খারাপ হয়নি সেটা ও বলবে না। ওউ নিজেও বিগড়েছে। কিন্তু শাবিহার মতো ধোঁকা দেয়নি। শাবিহার মতো এতোটাও খারাপ হতে পারেনি ও।
আঁধার ল্যাপটপ সামনে নিয়ে বসল। শাবিহার কুকীর্তির অনেক প্রমাণ আর ছবি আছে পেনড্রাইভে। তটিনী তো ওইদিন বললোই ওর বড় ভাই,ওর বিয়ে ঠিক করেছে। এবার হয়তো শাবিহা মুভ অন করতে পারবে। আঁধার নিজেও চায়দো শাবিহা মুভ অন করুক। কিন্তু যে নিজ তাগিদে মারা খেতে যায়, আঁধার তাকে সাহায্য করবে মারা খেতে। কিন্তু ছেলে কে তটিনী জানে না। আঁধার সে ছেলের নাম্বারও জোগাড় করে ফেলেছে।এসব ওর বাঁহাতের কাজ৷ খুঁজে খুঁজে মানুষের সিক্রেট বের করে জায়গা বরাবর আঘাত করা। যে মেয়ে চাঁদনীকে এতজনের সামনে অপমান করেছে, আঁধার না হয় ওর হবু বরের সামনেই ওকে নামিয়ে দিল! আঁধার সবকিছু সেন্ড করলো শাবিহার ফিয়ন্সে কে। শাবিহার বাবাকে পাঠাতে গিয়েও আঁধার পিছু হটল। না থাক, বাবা না। অপূর্ব শিকদারের কথাটা মনে আসলো ওর। ওর বাবা,যখন ওর বিগড়ে যাওয়া সম্পর্কে জেনেছিলেন, তখন কী যে কষ্ট পেয়েছিলেন মানুষটা! মানতেই পারেনি। যেখানে ও ছেলে হওয়া সত্বেও ওর বাবা পাগল প্রায় হয়ে উঠেছিলো ওর অধপতনের কথা শুনে। সেখানে শাবিহার বাবা, কী করে মানবে। একটা মানুষকে এতোটা কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে নাম। ওর শাস্তি ওর বাবা কেনো পাবে!কিন্তু ভাইকে তো দেওয়াই যায়!
কাজলরেখা পর্ব ৫৭ (২)
আঁধার শাবিহার ভাইয়ের সাথে সাথে শাবিহাকেও আনব্লক করে সেসব পাঠালো। ও শাবিহার সাথে বন্ধুত্ব ভাঙার পরপরই, ওঁকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছিলো। নিজের গোপন সত্য দেখার মতো ভয় আর আতঙ্ক আর দ্বিতীয়টি হয় না। শাবিহা ভয় পাক। আতঙ্কিত হোক। চাঁদনী কে যতোটা কষ্ট দিয়েছে তার চেয়েও বেশি কষ্ট পাক। ও শেষ বার বন্ধুত্ব রেখেছিলো, কিন্তু শাবিহা নিজের হাতে সব শেষ করে দিয়েছে। সব কাজ শেষ করে আঁধার শাবিহার নম্বর ব্লক করে দিল। তবে ব্লক করার আগে শেষবারের মতো একটি মেসেজ পাঠালো
-”তুমি মিথ্যার আসর সাজিয়েছিলে। ভালোমানুষির অভিনয় করেছিলে। মুখোশ পরেছিলে। আমি তোমাকে এতদিন কিছু বলিনি। কিন্তু আজ তুমি আমার খুব কাছের একটা মানুষকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিলে। আমার খুব প্রিয় একটা মুখ কে আমার থেকে কেড়ে নিলে। আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারছি না, শাবিহা। আর, তোমাকে খুব করে ঘৃণা করছি।”

Ei upponash ta just wow. But onek deri kore ekta porbo ashe. so, plz taratari next part gula den. We can’t wait 🙁
Samee
প্লিজ আপু পরের পর্ব দে🙏🥹🥹
দেন না প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ 🙏🥹❤️🩹
Please 🙏❤️
Baler writer 10din por por El episode dei
Next partttttttttt😩😭
Next parttttttttttttttttt plzzzzzzzzz
Apu uponnash ki ses
আপু এতদিন হয়ে যাচ্ছে এবার তো দেও পরের পাঠ🙏🙏