হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৭
সাঞ্জেনা শাজ
শান্তা তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরবে। গাড়ি আসেনি আজ। রিকশা করেই চলে যাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই।
দ্বীপ কিছুক্ষণ যাবত শান্তার চলন বলন দেখে এগিয়ে আসলো হাতের সিগারেট ফেলে। কিছুদিন হবে এই বাজে অভ্যাসটা হয়ে গিয়েছে। এর জন্যেও তার কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সামনের সিনিয়র রমনী। তাকে তিলে তিলে পুড়িয়ে মারছে। একদম নিঃশেষ।
দ্বীপকে দেখে শান্তার মেজাজ বিগড়ে গেলো কিছুটা। ইদানীং বাড়িতে খুব বিয়ের প্রস্তাবের ঢল পড়ছে। মা জেঠিমাকে দেখছে এ বিষয়ে কথাবার্তা বলতে। কখন আবার কি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে মেয়ে! এর আগেই বিয়ে দিলে ভালো। তারা তো যে সে পাত্রের কাছে দিবে না। দশটা দেখে একটায় হাত দিবে।
এ নিয়েই গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুর শুনছে সে। মেহরাদ ভাই আসার পর থেকে তা আরও বেড়েছে। বড়োদের মাথায় কি চলছে সেটা তার নিজেরও অজানা। অবাধ্য মনের লাগাম টেনে ধরছে সে। বড্ড বেশরম, বিবেকহীন হচ্ছে তার মন। এটা ঘোর অন্যায়।
ইদানীং বাড়িতে থাকিতেও অসহ্য লাগে। কি যে এক যন্ত্রণায় কেটেছে ভাইয়া আর শুভ্রতাকে ছাড়া!
কই মেহরাদ ভাই এসেও তো শুভ্রতাকে পেলো না। মেয়েটাকে নিয়ে চাচ্চু কোথায় চলে গেলো? রক্তের সম্পর্কই কি আসল? তারা কিছু ছিলো না? শুভ্রতাকি একটি বার একটু যোগাযোগ করতে পারতো না? এভাবে হসপিটাল থেকেই চলে যেতে হলো? একটা বার মেয়েটা ভাইয়ার কথাও ভাবেনি!
কতো সব চিন্তা আসে মেয়েটার মাথায়! আনমনাই রিকশা ডাকার জন্য হাত বাড়ায়। শুভ্রতার প্রতি অভিমানের পাহাড় জমে। মেয়েটা যেভাবে দূরে ঠেলে দিয়ে চলে গিয়েছে, সেভাবে নিজেরও ওকে দূরে ঠেলে দিতে মন চায়। কিন্তু, হায়! বারবার মন টানে ছোট্ট মেয়েটার জন্য। কই চলে গেলো পিচ্চিটা?
“আসুন বাড়ি পৌছে দেই।”
শান্তা দ্বীপকে দেখেও না দেখার মতো রইলো। সব রিকশা ওয়ালা দের উপর ঠাডা পড়েছে আজ! একটাও আসছে না কেন খালি? এই আপদ থেকে কিভাবে মুক্তি মিলবে এখন?
দ্বীপ শান্তার অবগ্যা দেখলো। গভীর চোখ দুটো কেমন নিস্প্রভ। উড়ুউড়ু। চুলগুলো এলোমেলো। শার্টের কলার ঝেড়ে, হাতের তালুতে ঘার ঘষলো একটু। আবারও বলল,
“আমি বাড়িতে পৌছে দিলে অসুবিধে আছে কোন?”
শান্তা কপাল কুচকে বিরক্ত চোখে তাকালো একবার । কোন জবাব না দিয়েই হাটা শুরু করে দিলো। সে হেটেই চলে যাবে। ম’রার গাড়ি সব, মরে পড়ে থাকুক। সময় মতো কিছুই পাওয়া যায় না।
দ্বীপ ওর হেটে চলে যাওয়া দেখলো। একটু দূরে হেটে গিয়ে নিজের বাইকে উঠে, পিছনের রাস্তা ধরে গিয়ে একটা খালি রিকশা সহ আবারও শান্তার সামনে হাজির হলো। শান্তা চোখ মুখ অন্ধকার করে দাঁড়িয়ে। অন্যদিকে চেয়ে কর্কশ কন্ঠে বললো ,
“বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু? ভাইয়া দেশে ফিরেছে জানা হয়েছে নিশ্চয়ই? কলিজা চিরে হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, মেহরাদ তালুকদার। আশা করি মাথায় থাকবে।”
“আমিও কোন এক জনের জন্য, কলিজা কেন? জান প্রান, কিডনি, ফুসফুস সব দিয়ে দিতে পাড়ি। যুদ্ধ কেন? এই চোখ দুটো আমার চোখে চোখ রাখুক শুধু । এটাই যথেষ্ট। ব্যাস।” ভাবলেশহীন ভাবে বললো দ্বীপ।
শান্তাকে রিকশার দিকে ইশারা করে বলল,
“বাইকে যাবেন না ভালো করেই জানি। রিকশায় উঠুন। অনেকটা পথ। রোদ কড়া। অসুস্থ হয়ে পড়বেন। জেদ করবেন না দয়া করে।”
শান্তা অনড়ভাবে দাঁড়িয়ে রইলো। দ্বীপ হালকা গলায় হাসলো, সামান্য ঠোঁট বাকিয়ে। শান্তা দেখে চোখ ফিরিয়ে নিলো। দ্বীপ আবারও বললো,
“আপনি একাই যাবেন। আমি যাচ্ছি না তো। উঠুন। ”
শান্তা এবার সত্যি সত্যিই উঠলো। দ্বীপ হেসে মাথা নাড়িয়ে রিকশা ওয়ালাকে মানি ব্যাগ হাতরে ভারার টাকা বের করতে গেলে শান্তা নিষেধ করে দিলো। সে দিবে জানালো। দ্বীপ শুনলো না সে বারন। নিজেই ভারা মিটিয়ে শান্তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি কি কোন দিন বুঝবেন না? যেদিন বুঝবেন, আমার এ কষ্ট গুলো কি দিয়ে পুষিয়ে দিবেন, সিনিয়র? একটু ভেবে রাখবেন। ”
রিকশা ছেড়ে দিলো। দ্বীপ তাকিয়ে রইলো সেখানটায় দাঁড়িয়েই। শান্তা দু হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে। দাতে দাত লেগে যাওয়ার মতো। হৃদয়ে হাতুড়ি পেটা হচ্ছে। অস্বাভাবিক মাত্রাহ ধুকপুকানি। আর এই ধুকপুকানিতেই তার ভয়। অতি মাত্রায় ভয়? হৃদয়ের এ মাতাল ঝড়ো হাওয়ায় যে সে নিজের সর্বনাশ দেখে!
মেহরাদ আজ শুভ্রতাদের কলেজ থেকে ঘুরে এসেছে।
টিচারদের সাথে কথা বলে এসেছে। সামনেই বোর্ড এক্সাম। আর দু’দিন বাকি। শুভ্রতার বোর্ড এখানেই। কোন ট্রান্সফার নেওয়া হয়নি। সুতরাং, এক্সাম এখান থেকেই দিতে হবে। এই একটাই অপশন খুঁজে পেলো সে বেইমান নারীকে খুঁজে পেতে। বুকটা তীব্র হাহাকারে পুড়ে, মেয়েটার বেঈমানীর কথা মনে পড়লে। মেহরাদ এ ধৃষ্টতার কি শাস্থি দিবে? সে নিজেও জানে না। কিন্তু মেয়েটার প্রতি দিন দিন তীব্র ঘৃনা জন্ম নিচ্ছে। গাঢ় এক অভিমানের আস্তরণ পড়ছে হৃদয়ে। বার বার এ পুড়ে যাওয়া মন জপে উঠছে, বেঈমান, বেঈমান, বেঈমান।
আসার পর থেকে এদিক সেদিক দৌড়া দৌড়িই করছে মেহরাদ। আলতাফ তালুকদার বড্ড নারাজ ছেলের কর্মকান্ডে। ছেলে অফিসে এসেছে শুনেই ছেলের ক্যাবিনে ছুটে এসেছেন। রুষ্ট স্বরে জবাব চাইলেন,
“এসব করার জন্য সুস্থ হয়ে এসেছো? বাড়িতে তোমার মা কান্নাকাটি করে, আর তুমি সারাদিন পাগলের মতো ছুটে বেড়াচ্ছো। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছো তুমি। সেই খেয়াল আছে নিজের? আর কতো চিন্তায় রাখবে মা বাবাকে!” শেষের কথাটা খুব অসহায় শুনালো ওনার মতো শক্তপোক্ত মানুষের কন্ঠে। ছেলেকে একবার মৃত্যু পথ থেকে ফিরে আসতে দেখে ছেলেকে নিয়ে বড্ড ভয় তার এখন!
“চিন্তা করো কেন, তোমরা? আমি ছোট? জানো তো কেন পাগলের মতো ছুটি! বারবার কেন জিজ্ঞেস করো!”
আলতাফ তালুকদার চুপ করে রইলেন কিয়ৎক্ষন। ছেলের বরাবর চেয়ারে বসে আলতো গলায় বললেন,
“নিখুজ হওয়া মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়। চলে যাওয়া মানুষকে নয়। ”
“আমার জবাব চাই বাবা।”
“কিন্তু কিভাবে? ”
“আই হ্যাভ মাই ওন ওয়ে। ”
দমে রইলেন আলতাফ তালুকদার। ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। পিতৃিস্নেহে দু চোখ ভরে উঠলো। মনে পড়লো, সিঙ্গাপুর একটা সময় আতংকে থাকতো, কখন না হয় ছেলের শেষ সংবাদ কানে আসে!
সেসব দিনের কথা মনে পড়তেই বুকটা ধ্বক করে উঠলো ওনার। কতো অজানা সত্য ছেলেকে এখনো জানতে দেয়নি তিনি! সেগুলো বলতে চেয়েও পিতৃস্নেহ গলা চেপে ধরলো। হুশিয়ারী দিয়ে জানালো,
‘আবার ছেলেকে হাড়াতে চাস! দূরেই রাখ এসব থেকে। ‘
চুপ করেই মাথা নিচু করে রইলেন। বুকটা অজানা হাহাকারে ভরে গেলো।
তালুকদার বাড়িতে হুট করেই অতিথিদের আগমন ঘটেছে সন্ধ্যার পর। আদনানদের বাড়ি থেকে ওর মা এবং ভাবি এসেছে, বাবা এসেছে। উদ্দেশ্য মেহরাদকে দেখিতে। মেহরাদের এলোমেলো ছুটা ছুটিতে এখনো ছেলেটাকে দেখে যেতে পারেনি তারা কেউ।
আজ বাসায় আছে, শুনে চলে এসেছে। সেই সাথে উদ্দেশ্যেও আছে একটি। পবিত্র উদ্দেশ্য।
আদনান মেহরাদ ড্রয়িং রুমে ওনাদের সাথে বসে কিছুক্ষণ কথা বলে উপরে উঠে চলে এসেছে। বড়ো রা কথা বলছে। সোহানা পড়া ছেড়ে অতিথিদের আগমন শুনে, নিচে নামলো এক ফাঁকে। ওনাদের হাসি মুখে সালাম জানিয়ে কিচেনে যেতে শান্তাকেও সেখানে দেখলো।
ফল কাটছে। আজ স্বপ্না খালা অনুপস্থিত। দুই জা শান্তাকে ফল গুলো নিয়ে আসতে বলে ড্রয়িং রুমে সেখানে গিয়েছে। বাড়ির মেঝো গিন্নি চলে আসলেন পরক্ষণেই। খুব তড়িঘড়ি করেই আরও একটি নাস্তা আইটেম বানানো শুরু করলেন।
সোহানা এদিক সেদিক চোখ ঘুরিয়েও কোথাও দেখলো না আদনানকে। একটা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“আর কেউ আসেনি?”
“আর কে আসবে? কার আসার কথা? ” শান্তা জিজ্ঞেস করলো ফল কাটতে কাটতেই।
সোহানা ঠোঁট চোখা করে চুপ করে রইলো। বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়িয়ে মুখ সংযত করলো। ভাইয়ের অনপুস্থিতে যে মানুষটা তাদের সব কিছুতে দায়িত্ব নিয়ে আগলে রেখেছে, তার চোখ সেই মানুষ টাকে খুজছে। আনমনেই। বোনকে ছাড়া পরিক্ষা দিতে বসবে সেই কালো মেঘের ঘনঘটা একটু ঝাপসা হয়েছিলো তার দর্শন পাবে বলে। এখন আবার একটু মেঘ জমা হলো নতুন করে, মন আকাশে।
সিদ্ধান্ত নিলো, চা টা শেষ করেই আবার গিয়ে পড়তে বসে পরবে। আর সময় নেই তেমন হাতে। এর মধ্যেই জাহানারা বেগম তড়িঘড়ি করে কিচেন রুমে আসলো। মেঝো জা’য়ের উদ্দেশ্যে বললো,
“ওনারা, আদনানের জন্য শান্তার হাত চাচ্ছে। শান্তাকে রেডি হয়ে একটু ওনাদের সামনে আসতে বল। আদনান আমাদের শান্তার জন্য সুযোগ্য পাত্র। মেহরাদের বন্ধু। মেহরাদের অনপুস্থিতে কিভাবে আমাদের আগলে রেখেছে । সেই কবে কার বন্ধুত্ব দুই পরিবারের। এতে অনেক ভালো হবে রে ছোট। আমার শান্তার জন্য ভালো লাগছে। ওঁকে রেডি হয়ে আসতে বল।” হরবর করে তিনি এসব বলতে বলতেই সোহানার হাত থেকে গরম চা’য়ের কাপ স্ব শব্দে পড়ে গেলো ফ্লোরে। সঙ্গে সঙ্গে দ্বীখন্ডিত হলো। গরম চা পড়ে মেয়েটার পা’য়ের চামড়া পুড়ে যাওয়ার উপক্রম৷ অথচ, মেয়েটা অবাক স্তব্দ চোখে তাকিতে বড় জেঠিমার দিকে। কথা গুলো কানে ভাসছে।
এদিকে আচমকা অনাকাঙ্ক্ষিত এক সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় নিজের আঙুল কেটে বসেছে শান্তা। আচমকাই হয়েছে সব৷ হতবুদ্ধ দু জা। শান্তার আঙুল থেকে গলগল করে রক্ত ঝড়ছে। মেয়েটা চেচালো ব্যাথায়। সকলেই আতংকিত হলো। ক্ষত গভীর বুঝে হুটোপুটি শুরু হলো বাড়ি জুড়ে ফার্স্ট এইড বক্সের জন্য।
উপর থেকে আদনান মেহরাদ ছুটে আসতেই, মেহরাদ সিড়ি থেকেই আবার ফার্স্ট এইড বক্স আনতে রুমে চলে গেলো না দেখে এদিকের অবস্থা। আদনান কিচেনে গিয়ে শান্তার আঙুলের এ অবস্থা দেখে বড্ড বকাঝকা করলো ওঁকে। শক্ত করে আঙুল চেপে ধরে, সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসলো।
সোহানা যতক্ষণ পারলো শুধু আদনানকে দেখে গেলো। শান্তার প্রতি অঘাত ক্যায়ার টুকু দেখে গেলো। টেনসড হতে দেখলো। সুন্দর করে আঙুল চেপে ধরে রাখলো। শান্তাকে ঘাবড়াতে নিষেধ করলো। সাহস দেওয়া দেখলো। যত্ন করা দেখলো।
আনমনাই এক ফোটা চোখের জল গড়ালো মেয়েটার। বুকের মধ্যে খানিটায় তীব্র চাপ অনুভব হচ্ছে। নিজের চিৎকার করে কাদার মতো অনুভূতি হচ্ছে। গলায় শক্ত কিছু চেপে বসেছে। এইসব প্রতিক্রিয়া কি পা ঝলসে যাওয়ায় নাকি হৃদয় পুড়ে যাওয়ার মেয়েটা তা গুরুত্ব দিলো না।
এক টা পায়ে তীব্র জ্বলুন অনুভব হলো। চোখের নোনাপানি নিয়েই নিচের দিকে তাকাতে তা গড়িয়ে পড়লো গরম চা পরে কুচকে যাওয়া লাল চামড়ায়।
সঙ্গে সঙ্গে চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো মেয়েটা। ছটফটে প্রানী গুলো মাঝে মাঝে খুব শান্ত হয়ে যায়। এতটা যে, তীব্র আঘাতেও রা করতে ভুলে যায়। এ ব্যাথায় তালুকদার বাড়ি মাথায় তুলে রাখার মতো মেয়েটা আজ একেবারে নিশ্চুপেই পা টেনে উপরে উঠে গেলো।পায়ের তীব্র জ্বলুনে ঠোঁট কামড়ে ভিতরের আর্তনাদ আটকাচ্ছে।
সকলের ব্যাস্ততা দেখলো, বোনকে নিয়ে। তা-ও ভালো, সে চায় আপাতত সকলের আড়ালে থাকতে। না হলে সে কেদে দিবে। আহাজারি করে উঠবে, শুভ্র কাচের মতো ঝনঝন করে মন ভাঙ্গে যাওয়ার কারণে। কিন্তু এটাতো সে কাউকে দেখাতে চায় না।
হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৬
কেউ তো তার সাথে কমিটেড ছিলো না! সে নিজেই মন হাড়িয়েছে। এই কষ্টও শুধু তারই পাওনা। এ কষ্ট উপভোগও তার একারই করার কথা। তার অযাচিত বাচ্চা অনুভূতির জন্য সকলের সুন্দর আনন্দ, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নষ্ট না হোক। তার কিশোরী বয়সের মন হাড়ানো মানুষটার কাছে তার বোন ভালো থাকুক। কিছু ভালোবাসা এক পাক্ষিক থাকে, যেগুলো কষ্ট টেনে আনে। এগুলো অপ্রকাশিতই ভালো। খুব ভালো।
