Tell me who I am 2 part 16 (2)
আয়সা ইসলাম মনি
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে কারানকে উদ্দেশ্য করে ইব্রাহিম বললেন, “কনট্রাক্ট পেপারে না হয় কাল সকালেই সই করি, মিস্টার চৌধুরি? আই হ্যাভ অ্যান ইমার্জেন্সি টু অ্যাটেন্ড।”
কারান মনে মনে এটাই কাম্য করছিল, যেন পেপারে সই না করতে হয়। সে অত্যন্ত মার্জিত ভঙ্গিতে করমর্দন করে বলল, “ডেফিনেটলি, শেখ সাহেব। বিজনেস ওয়েটস ফর নো ওয়ান, বাট ফ্যামিলি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কামস ফার্স্ট। আমি আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকব।”
কারান তার ডুকাটি প্যানিগেল ভি-ফোর সুপারবাইকের এক্সিলারেটরে সজোরে মোচড় দিল। ইঞ্জিনের গর্জন স্তব্ধ রাত্রিকে চিরে প্রকম্পিত করে তুলল। তার পরনে ডেইনিজ ব্র্যান্ডের কুচকুচে কালো লেদার জ্যাকেট। হাতে কার্বন ফাইবার প্রোটেকশনযুক্ত রাবার গ্লাভ্স, আর মাথায় ম্যাট ব্ল্যাক অ্যারাই হেলমেট।
কারান ভিশন ভাইজারের ভেতর দিয়ে সামনের দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে বলল, “ফারহান, লোকেশন কি এখনো ওই একই কোঅর্ডিনেটসে স্থির?”
ফারহান তখন মার্সিডিজ মেব্যাক-এর স্টিয়ারিং হুইলে এক হাত রেখে অন্য হাতে ড্যাশবোর্ডে সেট করা ল্যাপটপের এনক্রিপ্টেড ম্যাপে চোখ বোলাচ্ছে। গাড়ির স্পিডোমিটারে কাঁটা তখন ১৮০ কিমি/ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। ফারহান উত্তর দিল, “ইয়েস, রেড ডটটা আজমান বর্ডারের ওই জং ধরা পুরোনো জুট মিলের ভেতরই ব্লিংক করছে। বাট হিয়ার ইজ দ্য ট্রাবল, বিল্ডিংয়ের চারপাশে ওরা হাই-ফ্রিকোয়েন্সি লেজার সেন্সর গ্রিড বসিয়ে রেখেছে। আর সবচেয়ে অ্যালার্মিং নিউজ হলো, গত এক ঘণ্টায় এই আইপি থেকে তিনটা বিটকয়েন ট্রানজ্যাকশন দেখা যাচ্ছে। ব্লকচেইনে ট্রানজ্যাকশনগুলো এখনও আনকনফার্মড অবস্থায় আছে, বাট এগুলো কনফার্ম হওয়া মানেই ডিল ফাইনাল। তার মানে ওরা মেয়েগুলোকে আজ রাতেই বর্ডারে শিফট করার জন্য লজিস্টিকস রেডি করছে।”
“অর্থাৎ আমাদের হাতে সময় প্রায় জিরো।” কারান বাইকটিকে ৪৫ ডিগ্রি অ্যাংগেলে ঝুঁকিয়ে একটি দ্রুত বাঁক নিল। টায়ারের সাথে রাস্তার ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি বের হওয়ার উপক্রম।
“ফারহান, তুই জ্যামার রেডি কর। আমরা পেরিমিটারে ঢোকা মাত্রই যেন পুরো এলাকার সেলুলার আর স্যাটেলাইট সিগন্যাল ডেড হয়ে যায়।”
ফারহান গাড়িটিকে জুট মিল থেকে অন্তত এক মাইল দূরে একটি বালিয়াড়ির আড়ালে ব্রেক কষল। টায়ার ঘষার তীক্ষ্ণ শব্দ মরুভূমির নির্জনতায় প্রতিধ্বনিত হলো। সে দ্রুত পেছনের সিট থেকে তার সিগন্যাল জ্যামার কিট বের করতে করতে বলল, “ওই কাইল্লা কি তোর সাথে আছে? মানে এমেকা?”
কারান এখন হাইওয়ে ছেড়ে মাটির কাচা রাস্তায় নেমেছে। বাইকের হেডলাইটের তীব্র আলোয় ধুলোর মেঘ উড়ছে।
“না, ওকে আমাদের সেফ-হাউস ল্যাবে পাঠিয়েছি। ভেতরে মেয়েগুলোকে হয়ত কোপ ড্রাগস দিয়ে সেন্সলেস করে রাখা হয়েছে। ওদের নার্ভ সিস্টেম সচল করার জন্য এমেকা কিছু হাই-পোটেন্সি অ্যান্টিডোট আর নিউরো-বুস্টার ড্রিপ রেডি করেছে। ওগুলো নিয়ে ও সরাসরি স্পটে আসবে।”
“তোর আসতে আর কতক্ষণ লাগবে? আমি পজিশন নিয়ে নিয়েছি।”
ফারহান ল্যাপটপের এন্টার কি-তে চাপ দিল। তার জ্যামারের অ্যান্টেনাগুলো সচল হতে শুরু করেছে।
“ফারহান, আই উইল বি দেয়ার ইন টেন মিনিটস। জ্যামার ফুল পাওয়ারে চালা। আয়লার সিগন্যাল যেহেতু ড্রপ করেছে, উই মাস্ট অ্যাজিউম শি ইজ ইন আ লাইফ-অর-ডেথ সিচুয়েশন। আমি ভেতরে ঢোকা মাত্রই তুই ব্যাকআপ পুলিশ ফ্রিকোয়েন্সি আর ইন্টারপোলের রেডিয়ো চ্যাট মনিটর করবি।”
একটু থেমে কারান বাইকের গতি কিঞ্চিৎ কমিয়ে আনল। চারপাশের থমথমে অন্ধকার তাকে কুডাক দিচ্ছে। সে ধীরস্থিরভাবে বলল, “ফারহান, আই হ্যাভ আ স্ট্রং গাট ফিলিং যে আমরা একটা ডেথ ট্র্যাপে পা দিতে চলেছি।”
ফারহান হকচকিয়ে গিয়ে স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল। “মানে কী? কীভাবে বুঝলি?”
“এত সহজে ইব্রাহিমের মতো ধুরন্ধর শেয়াল আমাদের এই লোকেশন ট্রেস করতে দেবে? অসম্ভব! ইট ফিলস টু ইজি, ফারহান।”
ফারহান কপালে জমা ঘাম হাতের উলটো পাশে মুছে বিড়বিড় করল, “তাহলে কি ফিরে যাবো? বাট রিমেম্বার, আয়লাকে ট্র্যাপে ফেলা এত সহজ না। তুই দেখিস, একটু পরই আয়লার সাথে আমরা কানেক্টেড হয়ে যাবো।”
“এটা তোর ওভার-কনফিডেন্স, ফারহান। ইমোশন দিয়ে লজিক ঢাকিস না। আর যেহেতু আমাদের কাছে আর কোনো অল্টারনেটিভ নেই, আমাদের এই সিংহের গুহায় ঢুকতেই হবে।”
কারান বাইকটি ঝোপের আড়ালে পার্ক করে সন্তর্পণে এগোতে থাকল।
গুদামঘরের বিশাল জং ধরা লোহার দরজাটা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই একটা গুমোট গন্ধ নাকে এলো। ঠিক তখনই ওপরের তলা থেকে পৈশাচিক অট্টহাসি ভেসে এলো।
“সারপ্রাইজ!”
কারান আর ফারহান পেছনে তাকাতেই দেখল কয়েক ডজন অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত গার্ড তাদের ঘিরে ফেলেছে। আর তাদের সামনে দুই হাত মেলে ধরে শয়তানি হাসিতে ফেটে পড়ছে জেহের। মেঝেতে র*ক্তাক্ত অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে আছে এমেকা। তার সুঠাম দেহটা এখন সেরেফ একটি জড়পিণ্ড।
Tell me who I am 2 part 16
জেহেরের চোখে নিষ্ঠুর উল্লাস। সে তীক্ষ্ণ স্বরে বলে উঠল, “মিস্টার কারান চৌধুরি, আপনারা ভেবেছিলেন শেখ ইব্রাহিমের সাম্রাজ্যে এসে আপনারা চোর-পুলিশ খেলবেন? ওয়েলকাম টু ইওর ডেথবেড।”
কারানের চোখের মণি মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। শিকার করতে এসে তারা নিজেরাই এখন এক র*ক্তক্ষয়ী ফাঁদে বন্দি।
