Home অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ১১

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ১১

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ১১
Sathi

“” জেহেফিল সেতুর পরিবারের ছবিটাকে দুই ভাগ করে সেতুর প্রতিচ্ছবি দিকে তাকিয়ে বলে।
__ এই জীবনে আমার কাছ থেকে ছাড় পাবেনা।
“বলেই ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। ফ্রেশ হয়ে নিজেকে তৈরি করে নিচে যায়। নিচে আসতেই দেখে সবাই তার অপেক্ষায় ছিল। এসে এখানে বসতেই তার পাশে ধাম করে আদনান এসে বসে যায়।আদনানকে দেখে এরিন মুখ বাঁকিয়ে স্পষ্ট খোঁচা দিয়েবলে।

__ আম্মু, জামাই এসেছে। জামাই আ*দর করো।
” এরিনের কথায় হেসে জেহেফিল বসা থেকে উঠে রুমের ঝাড়ুটা নিয়ে এসে মায়ের হাতে দেয়। এই ঝাড়ু এখনো ইউজ করেনি, তাই এটাই বেস্ট আদনানের জন্য। সে জন্য এটা মায়ের হাতে দিয়ে ঠোঁটে চওড়া হাসি ঝুলিয়ে বলে।
__ মামনি, নাও জামাই আ*দর করো।
” জেহেফিলের এমন কাজে মামনি আর আদনান দুজনেই অবাক হয়ে যায়। এরিন নিজেও অবাক হয়,ভাই এমন কিছু করবে ভাবেনি। তবে আদনানের দিকে তাকিয়ে ভিলেন হাসি হেসে বলে।
__ ভাইয়া উনি তো, আম্মুর আদরের জামাই, তাই এটা দিয়ে আ*দর করতে পারবে না। আমাকে দাও, আমি করছি আদর।
” বলেই এরিন ঝাড়ু হাতে নিতেই আদনান এক লাফে দূরে সরে জেহেফিলের পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়।
ভরসায় স্থান পেয়ে নিশ্চিত হয়েছিল কিছু হবেনা। কিন্তু সেই সুযোগে জেহেফিল তাকে ধরে রেখে বলে।

__ বনু, মা*র, আমি ধরে রেখেছি।
” জেহেফিলের এমন পল্টি মারায় আদনান অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। যে তাকে বাঁচাবে ভেবেছিল, সেই কিনা ফাঁসিয়ে দিলো। ছাড়া পেতে চাইলেও পারে না। সেই সুযোগে এরিন এক ঝাড়ুর বাড়ি মা*রে একদম আদনানের পাছায়।
__ আহ্।
” এমন জোরে চিৎকার দেয় আদনান যে ভাই-বোন দুজনেই ভয় পেয়ে যায়।জেহেফিল ছেড়ে দিয়ে বোনকে বলে।
__ টুনি, টুনাকে ছেড়ে দে। মনে হয় আদরের প্রভাব একটু বেশি হয়ে গেছে।
__ ও এটার যোগ্য। কত মেয়ের মন নিয়ে খেলছে,তাই এটা প্রাপ্য।
” বলেই এরিন ঝাড়ুটা রেখে নিজের চেয়ারে বসে যায়। তার চোখে এখনও রা*গের আগুন, যখন থেকে শুনেছে শিপার সাথে রিলেশন আছে, তখন তাকে রাগে শ*রীর জ্বলছিল।এখন একটু মনকে শান্ত করতে পেরেছে।
“বোনকে দেখে, আদনানকে ছেড়ে জেহেফিল নিজেও বসে। আদনান দুই ভাইবোনকে রাগি চোখে তাকিয়ে উপরে চলে যেতে গেলে। জেহেফিল হাত ধরে থামিয়ে দিয়ে বলে।

__ নাস্তা করবি না?
__ দুই ভাইবোন তো, সকাল সকাল সেই নাস্তা করিয়ে দিলি, আর প্রয়োজন হবেনা।
” বলেই আবার যেতে গেলে জেহেফিল জোর করে বসিয়ে দেয়। তারপর মামনির দিকে তাকিয়ে বলে।
__ মামনি, এবার সত্যি সত্যি জামাই আ*দর করো। বেচারা একটু বুঝুক কার পাল্লায় পড়েছে।
” কথাটা বলে এরিনকে চোখ টিপ দেয়। এরিন মুচকি হেসে মায়ের দিকে তাকায়। পরিস্থিতি যেন আবারো আদনানের বিপক্ষে চলে যায়। গণ্ডগোল আছে আদনান বুঝছে, তবে কি গণ্ডগোল বুঝতেচেনা। কিছুক্ষন পর মামনির কাজ দেখে বুঝতে পারে আসলে কি গণ্ডগোল।
” মামনি জেহেফিল আর এরিনের ইশারা বুঝে,যত রকমের আইটেম আছে সবগুলো আদনানের প্লেটে তুলে দেই।
” এত খাবার দেখে আদনান চোখ বড় বড় করে তাকায়। তবে সে বুঝেছে, এটা ভালোবাসা না, প্রতিশোধের অন্য রূপ। ভাই-বোন দুজনকে দেখে মুচকি হেসে খেতে শুরু করে।
” জেহেফিল আদনানকে হাসতে দেখে অবাক হই। তবে তাকে আর কিছু না বলে, নিজেও খেতে খেতে বলে।
__ আজ বিকেলে সেতুর বাসায় যাবো, বিয়ের তারিখ ঠিক করতে। সবাই রেডি থেকো।
” গম্ভীর কণ্ঠে বলা কথায় মুহূর্তেই সবাই সিরিয়াস হয়ে যায়।সবাই মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়। সবার সম্মতি দেখে সে খুশি মনে খেতে থাকে ।

” জেহেফিল খাওয়া শেষ করে তাকিয়ে আছে আদনানের দিকে, সবার একই অবস্থা,আদনান ধীরে ধীরে খাচ্ছে, যেন পিঁপড়া খাবার খাচ্ছে। আদনান বুঝতে পারে সবাই তাকিয়ে আছে। মাথা তুলে তাকায়। খোঁচা দিয়ে বলে।
__ এমন গুষ্টিশুদ্ধ নজর দিচ্ছো কেন? পেট খারাপ করিয়ে ছাড়বে দেখছি।
__ বেশি কথা না বলে,তাড়াতাড়ি খাবার শেষ কর। কাজ আছে।
__ শেষ করার মতো খাবার দিয়েছিস?
__ বেশি কথা না বলে শেষ কর।
” জেহেফিলের কথায় আদনান আশেপাশে তাকায়। একবার দরজার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে হঠাৎ উঠে দৌড়াতে দৌড়াতে চিৎকার দিয়ে বলে।

__ আমি বাইরে অপেক্ষা করছি, তুই আয়।
” বলেই চোখের পলকে বাড়ির বাইরে চলে যায়।
তার এমন কাজে সবাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষন পর সবাই ব্যাপারটা বুঝতেই,তিনজন একসাথে হেসে ওঠে। হাসতে হাসতেই জেহেফিল বলে।
__ আমি যাচ্ছি। কাজ আছে আমার। সবাই তৈরি হয়ে থেকে।
” বলেই সে বেরিয়ে যায়।বাগানে আসতেই দেখে আদনান দাঁড়িয়ে আছে।রোদ পড়েছে হালকা, তার মাঝে গাড়িতে না ডুকে দাঁড়িয়ে আছে। পাশে গিয়ে জেহেফিল মিটমিট করে হেসে বলে।
__ কিরে, কেমন লাগলো জামাই আ*দর?
__ জঘন্য।
__ আমার বোনের পেছনে লাগার মজা বুঝলি?
” বলেই এক -চাপড় মা*রে তার কাঁধে।দাঁত চেপে আদনান সহ্য করে বলে।
__ তোর বোনের পেছনে আর জীবনে লাগবো না। তবে প্রেমের লিস্ট এখনো শেষ হয়নি।
আর ভাই, জীবনে যদি ১০/১২ হাজার প্রেম না করি তাহলে জীবনের মজা কী?
” জেহেফিল বুঝতে পারে, আদনানের কাছে ভালোবাসা মানে খেলনা মাত্র।জেহেফিল গাড়িতে উঠতে উঠতে বলে।
__ যেদিন নিজে যখন সত্যি সত্যি কারো, মায়ায় আটকে যাবি, সেদিন বুঝবি প্রেম-ভালোবাসা আসলে কী জিনিস।
” জেহেফিল খুব গুরুত্ব দিয়ে বলা কথা, কিন্তু আদনানের কানে যায় না। তার কাছে প্রেম মানে, ঘুরো, ফিরো, মন উঠলে ছেড়ে দাও।যেমনটা সে এরিনসহ আরও অনেকের সাথে করেছে।

” সেতু ঘুমিয়ে আছে এখনো। আর সেই সুযোগে মিতু তার রুমে পানির গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে দুষ্টুমি, ঠোঁটে চাপা হাসি নিয়ে ক্যাউন্ট করা শুরু করে।
__এক, দুই, তিন গুনে, ছুড়ে মা*রে সেতুর মুখের উপর পানি গুলো।
” ঘুমের মাঝে হঠাৎ ঠান্ডা পানি মুখে পড়তেই সেতু চমকে উঠে বসে। ঘুমভাঙা চোখে সামনে তাকিয়ে দেখে, মিতু দাঁড়িয়ে আছে।ব্যাপারটা বুঝতে দেরি হয়না তার, রাগে চিৎকার দিয়ে বলে।
__ এই শা*কচুন্নি!ও।
” বলতেই মিতুকে কে কে। এক দৌড় দিতে দিতে বলে।
__ নিচে অপেক্ষা করছি। তাড়াতাড়ি আয়, ভাইয়াও এসেছে।
” সেতু কিছু বলার আগেই সে চলে যায়। বিরক্তিতে সেতু একটা গালি দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।
তবে মনে মনে খুশিও, কারণ মিতু এসেছে মানেই হয়তো “মেঘ”ও এসেছে। আর ভাইয়া মানে যে মেঘ সেটা জানে।

” অনেকক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে সুন্দর করে রেডি হয় কলেজ যাওয়ার জন্য সেতু। আয়নায় নিজেকে দেখে, মুখে একটু হাসি ফুটে ওঠে।ভালো লাগছে দেখতে, ভেবেই ফুঁ দিয়ে সামনের চুল গুলো উড়িয়ে দেই। সব ঠিকঠাক দেখে কলেজ ব্যাগ কাঁধে নিয়ে নিচে নামে।

” নিচে আসতেই দেখে, মেঘ বসে আছে।
ঠিক যেমনটা সে ভেবেছিল। দৌড়ে গিয়ে সামনে দাঁড়ায় সেতু।
” মেঘ স্তুকে দেখে দাঁড়িয়ে যায়। প্রতিবারের মতো হাত বাড়িয়ে দেয়, আর মুহূর্তেই সেতু ঝাঁপিয়ে পড়ে তার বু*কে।
__ কেমন আছো ছাগলের চার নাম্বার বাচ্চা?
__ বিন্দাস আছি। গরুর ৭ বাচ্চার মা,তুই কেমন আছিস? পড়ালেখা সব ঠিকঠাক তো?
” কথাটা শুনেই সেতু মুখ ফুলিয়ে দূরে সরে যায়।
__ এসে সেই পড়ালেখার কথা জিজ্ঞেস করতে হলো?
__ আরে রাগ করছিস কেন? এমনি জিজ্ঞেস করলাম।
” বলেই ফোলানো সেতুর গালে টোকা দেয়। তাদের এই দুষ্টুমি দেখে সবাই হেসে ওঠে।মারুফ চৌধুরী মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে।ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে দুইজন। তাইতো একটা অদৃশ্য বন্ধন যেন তাদের ঘিরে রেখেছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন।
__ বসো, সবাই নাস্তা করো।
” উনার কথায় সবাই বসে পড়ে। তবে অধিতের মুখে হাসি নেই।কারণ, জেহেফিলের পাঠানো ভিডিও নিয়ে টেনসনে আছে। এইগুলো তার জীবন শেষ করে দিতে পারে।জেহেফিল একজন সিআইডি অফিসার, তার কাছে এসব কিছুই কঠিন না।
ভাবতেই অধিরের ভয় বেড়ে যায়।

“” নাস্তা শেষে সেতু, মিতু আর মেঘ বের হয় কলেজের উদ্দেশ্যে। সেতু মেঘকে থাকতে বলেছিল,
কিন্তু সে বলেছে।
__”তুই না থাকলে ভালো লাগবে না। আগে তুই কলেজ থেকে আয়।
” তাই বাধ্য হয়ে রাজি হয়েছে সেতু। প্রায় ৮ মাস আমেরিকায় ছিল মেঘ।কাজ শেষ করেই ফিরে এসেছে ভাবে সেতু। তবে সত্যিটা সেতু জানে না।এটা যে তার ভাবনার বিপরীত।
” কলেজে এসে সেতু আর মিতুকে নামিয়ে দেয় মেঘ।
গাড়ি থেকে চকলেট বের করে সেতুর ব্যাগে ঢুকিয়ে দিতে দিতে মেঘ বলে।
__ নে, তোর জান গুলোকে।
__ থ্যাংক ইউ।

“বলেই সেতু সাথে সাথে একটা খুলে মুখে দেয়। তার কাণ্ড দেখে, ভাই-বোন দুজনেই হেসে ওঠে।মেঘকে বিদায় নিয়ে সেতু মিতু চলে যায় ক্লাসে। মেঘ তাকিয়ে থাকে, যতক্ষণ দেখা যায়।
” বিকাল ৪টা।
” সেতুর বাড়িতে জেহেফিল তার পরিবার নিয়ে বসে আছে।কিন্তু সেতুর কোনো খোঁজ নেই। অনেক ফোন দিয়েছে, কিন্তু ফোন বন্ধ। কলেজ থেকে ফেরেনি বলছে বাসায়।।সবার মুখে দুশ্চিন্তা।একসময় জেহেফিল থাকতে না পেরে, উঠে দাঁড়ায়।তার তীক্ষ্ম চোখে, সেতুর বাবা-ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠে।
__ যদি দেখি আমার সাথে কোনো চালাকি হয়েছে,
তবে আমি কাউকে ছাড়বো না।
” হুমকিটা দিয়ে আদনানকে ইশারা করে জেহেফিল বেড়িয়ে যায়।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ১০

” অন্যদিকে”অন্ধকার একটা বাড়ির মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে সেতু।তার কোনো হুশ নেই।ছুটির পর বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে মুরের কাছে আসতেই,হঠাৎ পিছন থেকে কেউ মুখ চেপে ধরে। তারপর, অন্ধকার কি হয়, কথায় আসে জানেনা। এখনো জ্ঞান ফেরেনি।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ১২