Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৫

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৫

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৫
রূপন্তী সরকার

ইয়াশফার মুখ ভর্তি চকলেট মেয়েটা দম নিতে পারছে না। মনে হচ্ছে এবার জীবনটা বেরিয়েই যাবে। ঋষভ গাড়ি চালাতে চাতে ইয়াশফার দিকে নজর দিলো। ইয়াশফা ওয়াক করে উঠতেই ঋষভ গাড়ি জোড়ে ব্রেক কষে ওর হাত ইয়াশফার মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে বললো “এইখানে ফেলো ফাস্ট” ইয়াশফা ওর মুখের সবটুকু খাবার ঋষভের হাতের উপর ফেলে দিলো। ঋষভ চকলেট গুলো একটা গাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে ইয়াশফাকে পানি এগিয়ে দিলো। ইয়াশফা ড্যাবড্যাব করে ঋষভের দিকে তাকিয়ে আছে। লোকএার কি ঘৃনা নেই? ওর মুখের থুথু সহ খাবার গুলো কিভাবে হাতে নিলো। ছিহ ভাবতেই তো ঘিনঘিন লাগছে। ইয়াশফা ঋষভকে পানি দিয়ে বললো “হাত ধূয়ে নিন” ঋষভ কোনো কথা বললো না।

ইয়াশফা চুপ করেই ছিলো একটু পর ওর মনে হলো এই লোকটা কতো বেয়াদব কেমন করে ওর মুখে চকলেট ঠুসে দিলো। ইয়াশফা যদি মরে যেতো তখন কি হতো? রাগে শরীর জ্বলে উঠলো ওর। মন চাইছে একটা মুটকি মেরে এই জলহস্তীকে মেরে ফেলতে। কিন্তু তা তো সম্ভব না লোকটা আস্ত বেয়াদব। এসব ভাবতে ভাবতেই গাড়িটা এসে জ্যামে আটকালো। ঋষভ বিরক্তি নিয়ে রাস্তার দিকে তাকালো। ইয়াশফা মুখ ফুলিয়ে জানালার দিকে তাকালো। ও দেখতে পেলো একটা পুলিশের গাড়ি। ও একবার ঋষভের দিকে তাকালো। ওর মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি আসলো। ইয়াশফা চেচিয়ে পুলিশকে ডেকে উঠলো। ঋষভ হকচকিয়ে ইয়াশফার দিকে তাকালো ইয়াশফা চিৎকার করে পুলিশ কে বলছে “আমাকে বাঁচান দেখুন এই জলহস্তী কুমরোমুখো থোবরাব্যাকা লোকটা আমাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে প্লিজ বাঁচান পুলিশ”

ঋষভ ইয়াশফার কথায় অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলো। এই মেয়ে বলে কি এসব ওর কি মাথা ঠিক আছে? ঋষভের মাথা গরম হয়ে গেলো। ও ইয়াশফার মুখ চেপে ধরে বললো
“চুপ করো বেয়াদব আর একটা ফালতু কথা বললে জ্যান্ত কবর দিবো”
ইয়াশফা ঋষভের হাতের তালু তে কামড় দিয়ে আবারো পুলিশকে ডেকে বললো “দেখেছেন কিভাবে আমার মুখ ঠেসে ধরেছে আমাকে এখন নিয়ে গিয়ে পাচার করে দিবে। আমাকে বাঁচান”
পুলিশ গুলো গাড়ি থেকে নেমে ঋষভের গাড়ির কাছে আসলো। আশেপাশে আরো কিছু লোক জড়ো হয়েছে। সবাই কৌতূহল নিয়ে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে আছে। ঋষভ রেগে ইয়াশফার দিকে তাকালো। ইয়াশফা এক সাথে এতো লোক আসতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো। ও মনে হয় আজকে একটু বেশিই করে ফেললো। পুলিশ ঋষভকে গাড়ি থেকে বের হতে বললো। ঋষভ বের হলো। এরপর একটা পুলিশ ইয়াশফাকে বের হতে বললো। ঋষভ পুলিশের তাকিয়ে রাগি গলায় বললো “ও বের হবে না।”
একজন পুলিশ এগিয়ে এসে বললো “কেনো বের হবে না? চপনি মেয়েটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?”
ঋষভ কোনো উত্তর না দিয়ে ইয়াশফার দিকে তাকালো। ইয়াশফা গাড়ির দরজা খুলে বের হতে নিলে ঋষভ ঠাসস করে দরজায় বারি দিয়ে বললো “গাড়ি থেকে এক পা বাহিরে রাখলে আই সোয়ার তোর কলিজা টেনে ছিড়ে ফেলবো”

ইয়াশফা বের হলো না। পুলিশ ঋষভকে বললো “আপনার এতো বড়ো সাহস আপনি আমাদের সামনে ওকে ধমকাচ্ছেন? কে হয় উনি আপনার? আপনি কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন উনাকে?”
ঋষভ রেগে পুলিশকে বললো “আপনার কাছে জবাবদিহি করতে হবে?”
পুলিশ ঋষভের দিকে তাকিয়ে বললো “অবশ্যই করতে হবে। মেয়োটাকে ভালোই ভালোই ছেড়ে দিন আর আপনার নাম কি বাসা কোথায়?”
ঋষভ আশেপাশে মানুষের দিকে তাকালো ওরা অধীর আগ্রহ নিয়ে তামাশা দেখছে। মনে হচ্ছে রাস্তায় সিনেমা চলছে। জ্যাম অনেক আগেই ছেড়ে গেছে তবে পুলিশ রাস্তা আটানোর কারনে আবারো জ্যাম লেগে গেছে। পুলিশ ইয়াশফাকে বললো

“মা বের হয়ে আসো। ও কিভাবে তোমাকে নিয়ে যায় আমিও দেখবো।”
ইয়াশফা ঋষভের দিকে তাকালো। ঋষভ সাইডে তাকিয়ে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে। ইয়াশফা বললো “আমি উনাকে চিনি আঙ্কেল”
পুলিশ ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো “চিনো এটা আগে বললেই হতো। অযথা আমাদের সময় নষ্ট কেনো করালা? আর এটা তোমার ভাইয়া হয়?”
ইয়াশফা মাথা নামিয়ে নিলো। পুলিশ ঋষভের উদ্দেশ্য বললো “এটা যে তোমার বোন হয় আগে বললেই হতো।”
ঋষভ এমনিতেই রেগে বোম হয়ে ছিলো। পুলিশের কথা শুনে৷ জনগণের সামনে চিৎকার করে “বোন না বউ হয় আমার। ও আমার বউ শুনতে পেয়েছেন? কানে ডুকিয়ে নিন”
ঋষভ রাস্তায় ভির করে দাড়িয়ে থাকা লোকদের উদ্দেশ্য বললো ” আপনাদের তামাশা দেখা শেষ হলে এখন যান।”
পুলিশটার মুখ চুপ হয়ে গেলো। উনি ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো “এতোটুকু বউ আপনার? আপনি কি বাল্যবিবাহ করেছেন?”

ঋষভ কটমট করে পুলিশের দিকে তাকাতেই উনি চলে গেলো।
ঋষভ গাড়িতে উঠেই ইয়াশফার গালে ঠাসস ঠাসস করে থাপ্পড় বসালো। ইয়াশফা থাপ্পড় খেয়ে চুপ করে আছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। অন্য সময় হলে হয়তো ওই ও দুই চারটা পাল্টা জবাব দিতো। ঋষভ জোড়ে জোড়ে গাড়ি চালিয়ে বাড়িতে আসলো। ইয়াশফার হাত ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামালো। এরপর হিরহির করে টানতে টানতে রিদের সামনে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিলো। রিদের সামনেও ঠাস ঠাস করে থাপ্পড় দিয়ে রিদকে বললো “তোমার গুনধর বউমা উফসস সরি তোমার গুনধর এটাম বোম কি করেছে শুনো ওর থেকে”
ইয়াশফা গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। গাল দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে মনে হয়। এটা তো কথা ছিলো না। গাড়িতে তো দুটা থাপ্পড় দিলোই তাহলে এখন কেনো থাপ্পড় মারলো? রিদ ইয়াশফাকে এক হাতে জড়িয়ে নিয়ে বললো “তুমি আমার মেয়েকে মারলা কোন সাহসে?”

ঋষভ ইয়াশফার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে বললো “ওর থেকেই শোনো ওকে কেনো মারলাম”
রিদ ইয়াশফাকে জিজ্ঞেস করতেই ইয়াশফা বলে দিলো। রিদ ঋষভের দিকে তাকিয়ে বললো “তুমি ধামরা হয়ে আমার কথা শুনো না আর ও বাচ্চা মেয়ে একটু কথা না শুনলেই তুমি মারবা? ও মজা করে ওমন করেছে। তুমি ওকে মারলা কোন সাহসে সেটা বলো”
ঋষভ ওর বাবার কথায় অবাক হচ্ছে। এটা কি করে ওর বাবা হলো? এটা ওর বাবা নাকি শত্রু? ওর বউটাকে ওর বাবাই নষ্ট করছে। ঋষভ কিছু বললো না। ইয়াশফা চুপ করে দাড়িয়ে আছে। থাপ্পড় গুলো বেশ জোড়েই লেগেছো। মিহি এতোক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে ছিলো। মিহি এসে ইয়াশফাকে বললো “আজকে যেটা করেছো একদম ঠিক করো নি। তোমার এমনটা করা একদম উচিৎ হয় নি। তুমি জানো এর থেকে কতো ঝামেলা হতে পারতো? এরপর থেকে এমন মজা যেনো না করা হয়”

ইয়াশফা কোনো কথার উত্তর দিলো না। ঋষভ ঘরে চলে গেলো। রিদ ইয়াশফার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো “মা ঘরে যাও আমি রাতে আসার সময় আইসক্রিম নিয়ে আসবো ঠিক আছে?”
ইয়াশফা ঘরে চলে গেলো। এক ভাবে বসে আছে। কান্না ও পাচ্ছে না। ওর মনে হলো একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার। ও শাওয়ার নিতে চলে গেলো। প্রায় এক ঘন্টা ধরে শাওয়ার নিলো। টাওয়েল দিয়ে কোনোরকম চুল মুছে টাওয়েল সোফার উপর ফিকা মেরে ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো। চুল থেকে টপটপ করে জল পড়ছে। ভিষণ মাথা ব্যাথা করছে। ঘুম ঘুম ও পাচ্ছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৪

এইদিকে অনেকক্ষণ হয়ে গেলো ইয়াশফা নিচে নামে নি। খাবার খেতেও নামে নি। মিহি ভাবলো ইয়াশফা হয়তো মন খারাপ করেছে। তাই নিজেই খাবার সাজিয়ে ইয়াশফার রুমে নিয়ে গেলো। রুমের দরজা ভেড়ানো। মিহি গিয়ে দেখলো ইয়াশফা ঘুমিয়ে আছে। খাবার টেবিলের উপর রেখে ইয়াশফার মাথার কাছে বসলো। গায়ে হাত দিয়ে বুঝলো গায়ে জ্বর এসেছে। মাথার চুল ও ভেজা। অসময়ে শাওয়ার নিয়ে এমন হলো নাকি ঋশের থাপ্পড় খেয়ে এমন জ্বর আসলো কিছুই বুঝলো না। মিহি ইয়াশফা আসতে করে ডাক দিয়ে বললো ” মা উঠো”
ইয়াশফার কোনো সারা শব্দ আসলো না। মিহি নিচ থেকে একটা বাটিতে করে জল এনে রুমাল ভিজিয়ে ইয়াশফার কপালে দিয়ে দিতে লাগলো….

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৬

1 COMMENT

Comments are closed.