Home obsession vs love obsession vs love part 10

obsession vs love part 10

obsession vs love part 10
নিরুর কল্পনারাজ্য

—কোথায় খারাপ লাগছে?
আইয়ুশ ড্রাইভ করতে করতে শুধালো। ঝিলিক উত্তর দিলোনা। পেটে হুট করে একটু বেশিই ব্যাথা হচ্ছে বোধহয়। পেট চেপে সিটে হেলান দিয়ে পড়ে রইলো ঝিলিক। আইয়ুশের চিন্তা বাড়লো। মেয়েটা উত্তর দিচ্ছেনা। বসেছেও ব্যাকসিটে। আইয়ুশ সামনে থেকে নজর সরিয়ে রিয়ার ভিউ মিররে একপল চোখ রাখলো। ঝিলিকের ক্লান্ত মুখখানা নজরে আসতেই বুকের ধুকপুকানি বাড়লো তার। কপালের ভাঁজ দৃঢ় হলো। হুট করে মেয়েটা নেতিয়ে পড়েছে। আইয়ুশ তার পর্যবেক্ষণ করতে করতে বললো,

—পেটে ব্যাথা করছে ঝিলিক?
ঝিলিকের তরফ থেকে এবারও উত্তর আসেনা। আইয়ুশের আতঙ্ক বাড়ে। হুট করে মেয়েটার কী হলো? আইয়ুশ পরপর জিজ্ঞেস করলো,
—উত্তর দাও ঝিলিক, পেটে ব্যাথা করছে? বেশি ব্যাথা করছে? হু?
ঝিলিক বিরক্ত হয়। ঝাঁঝালো স্বরে বলে,
—দরদ দেখাচ্ছেন? এসব ফালতু কথা রেখে যা করছেন তা তে মনোযোগ দিন!
আইয়ুশ শোনেনা বারণ। মনের খচখচানি দ্বিগুণ হচ্ছে তার। আইয়ুশ বলে যায়,
—ঝিলিক, বলো আমাকে! বেশি কষ্ট হচ্ছে? কিছু উল্টা-পাল্টা খেয়েছিলে? বলো আমায়….
ঝিলিক শান্ত চোখে তাকায় এবারে। চোখে যেনো আগুন ঝরছে। আপাতত আইয়ুশের কথায় ওর মাথার মেজাজ খারাপের পর্যায়ে। ঝিলিক দাঁতে দাঁত পিষে জবাব দেয়,

—আদিখ্যেতা বন্ধ করুন। আপনি বরং আল্লাহতায়ালার কাছে শোকর করুন যে আপনার মনস্কামনা হয়তো পূরণ হচ্ছে।
আইয়ুশের হৃদযন্ত্রে কথাখানা ঘায়ের মতো করে জমে গেলো। সে আল্লাহর কাছে শোকর করবে? তার অংশ; তার রক্তের কিছু হলে সে আল্লাহর কাছে শোকর করবে? আইয়ুশ শুষ্ক ঢোক গিললো। কান্না আটকানের অযথা প্রয়াস করলো। ফলস্বরূপ চোখদুটো লাল হয়ে উঠলো। গাড়ির গতি বাড়ালো সে। সাথে হাতের ডেস্ক হাতরে ফোনখানা বের করে কানে ধরলো। এক হাতে ড্রাইভ করতে করতে ফোনে ডক্টরের সাথে কথা বললো,
—হ্যালো, হ্যাঁ! আমি আইয়ুশ মির্জা বলছি। আপনাদের হসপিটালের বেস্ট গায়নোলোজিস্ট কে আনার ব্যবস্থা করুন। ইটস এন ইমার্জেন্সি!
ওপাশ থেকে কী উত্তর এলো শোনা গেলোনা। কথা শেষে-ই ফোনখানা অবহেলায় ফেলে রাখলো পাশের সিটে। কিছুক্ষণের মাঝেই তারা এভারকেয়ার হসপিটালের সামনে এসে পড়লো। আইয়ুশ তড়িঘড়ি করে নেমে ঝিলিকের পাশের ডোর ওপেন করলো। ঝিলিকের পানে হাত বাড়িয়ে দিয়ে ব্যস্ত কন্ঠে বললো,

—হাতটা দাও ঝিলিক!
ঝিলিক চাইলো তার পানে। ক্লান্ত শরীরে নিজে নিজে নেমে আসতে আসতে বিড়বিড় করলো,
—একবার হাত রেখে জীবনের সবচে বড় ভুলটা করেছিলাম, আর ঝিলিক মির্জা এক ভুল দ্বিতীয়বার করেনা।
ঝিলিক নিজে নিজে ক্লান্ত পায়ে হাঁটতে আরম্ভ করলো। আইয়ুশের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো। চোয়াল শক্ত হলো। চলতে থাকা ঝিলিকের পানে চাইলো একবার। আপনমনে আওড়ালো,
—একবার যদি জানতে, তোমায় পেতে ঠিক কতটা ঝড়োত্তাপ পেরোতে হচ্ছে এই আইয়ুশকে–তবে তুমি বোধহয় আমায় এতোটা অবহেলার জন্য নিজেকে অপরাধীর কোঠায় ফেলতে!

অথচ সেসব আর মুখ ফুটে বেরোলো না। ঝিলিক ধীর-সুস্থে হেঁটে হসপিটালে গেলো। পেছন পেছন আইয়ুশও গেলো। গিয়েই মিসেস. রেহানার সাথে দেখা করলো। মিসেস রেহানা সঙ্গে সঙ্গেই ঝিলিককে আল্ট্রা করানোর পরামর্শ দিলো। ঝিলিকও তার আদেশমতো আলট্রাসাউন্ড করাতে গেলো বাচ্চার। আইয়ুশ সেসবের ব্যবস্থা করলো। বেচারার দৌড়াদৌড়িতে ঘাম ছুটলো। ফর্সা মুখে বিন্দু বিন্দু ঘামের রেখা ভেসে উঠলো। আইয়ুশ ভেতরে যেতে চাইলো। অথচ বাধ সাধলো হসপিটালের অদূরে থাকা এক লোক। কালো পোশাকে আবিষ্ট এক লোক। তার দিকেই চেয়ে। আইয়ুশ তার দিকে ফিরতেই সে আড়ালে চলে এলো। পরপর-ই তার মনে হলো-তার প্রতিটি পদক্ষেপ কেও খুব সূক্ষভাবে অবলোকন করছে। আইয়ুশ সেদিকপানে তাকিয়ে রইলো। ঝিলিকের নজর আইয়ুশের পানে গেলো। সে-তো ভেবেছিলো অন্তত আইয়ুশের তার অংশকে দেখার তৃষ্ণা থাকবে। ঝিলিক কাঁচের আস্তরণ পেরিয়ে বাহিরে চোখ রাখলো। ভেতরে ওর আলস্ট্রাসাউন্ড চলছে। ডক্টর মনিটরে বাচ্চাটাকে চেক করছে। আইয়ুশ তখন অন্যত্র ফিরে। ঝিলিক নিজমনে আওড়ালো,

—তোমার নিজের রক্ত-ই তোমার এতো অনীহার যে সামান্য ওকে দেখার তৃষ্ণাও তোমার জন্মালোনা? অথচ এই তুমি নাকি একসময় আমায় স্বপ্ন দেখিয়েছিলে-একটা সুখী সংসারের!
ঝিলিকের মন তাকে তাচ্ছিল্য করে উঠলো। ধিক্কার দিয়ে বললো,
—আর কতো নিচে নামবে ঝিলিক? যে তোমাকে ত্যাগ করেছে তার কাছে ঠিক আর কতবার নত হবে? ঠিক আর কতবার আশাহত হলে তুমি তার কাছ থেকে সম্পূর্ণ আশা হারিয়ে ফেলবে?
অথচ ঝিলিকের কাছে এসবের উত্তর নেই। ঝিলিক মনিটরে থাকা বাচ্চাটার পানে চাইলো। ছোট্ট একটা প্রাণ। কী সুন্দর সে দৃশ্য! অবশ্য মাংসের দলা বৈকি কিছুই দেখার মতো নেই। তবু সদ্য মাতৃত্ব অনুভবের সুযোগপ্রাপ্ত ঝিলিকের কাছে তা অপরূপ এক দৃশ্যের চেয়ে কম কিছু মনে হলোনা। সে যখন তার বাচ্চার প্রথম ছবি দেখাতে মত্ত ছিলো তখন বাহিরে থাকা আইয়ুশ তাকে দেখায় মত্ত! অথচ সেখবর রমণী পেলোনা।।আইয়ুশের চোখ হঠাৎ মনটরে পড়তেই সে স্তব্ধ হলো। অনুভব করলো পিতৃত্বের স্নেহময়ী স্বাদ। কেও যেনো তাকে একটুকরো স্বর্গ দেখিয়েছি। তার প্রাণ জুড়িয়ে উঠলো। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো অল্প প্রশান্তির হাসি। কিছুক্ষণের মাঝেই আল্ট্রাসাউন্ড শেষ হলো তার। ডক্টর তাকে তার চেম্বারে নিয়ে গেলেন। ঝিলিক উদ্বীগ্ন স্বরে শুধালো,

—ইজ এভ্রিথিং ফাইন ডক্টর? মাই বেবি ইজ ওকে না?
ঝিলিকের উদ্বীগ্নতায় হাসলেন মিসেস রেহানা। পাশে বসে থাকা আইয়ুশের পানে চাইলেন। বললেন,
—স্ত্রী বাচ্চাকে নিয়ে খুব সতর্ক দেখছি!
—আমি ওনার স্ত্রী নই ডক্টর।
ঝিলিকের এমন শীতল বাণীতে মিসেস রেহানা এবং আইয়ুশ দুজনের কপালেই ভাঁজ পড়ে। মিসেস রেহানা ভ্রু কুঁচকে শুধালেন,
—তাহলে কী হন উনি আপনার?
—ভাই!
আইয়ুশ তড়িতে তার পানে ফিরলো। আবারও ভাই? শালার কপালটা-ই খারাপ তার! ডক্টর অবাক হলেন। তার বিস্ময়তা লুকিয়ে তিনি বললেন,

—ওহ, আচ্ছা! স্যরি, স্যরি। আপনার এমন হওয়ার কারণ স্ট্রেস! আপনি কী এ’কদিনে কিছু নিয়ে খুব বেশি স্ট্রেস ছিলেন?
ঝিলিক থম মেরে রইলো। উত্তর দিলো,
—হ্যাঁ ছিলাম।
—আপনার স্ট্রেস তুলনামূলক বেশি ছিলো তাই এমন হয়েছে। তবে এরকম হতে থাকলে মিসক্যারেজের সম্ভাবনা থাকবে।

obsession vs love part 9

ঝিলিকের ভয় হলো। সে মাথা নাড়লো। ডক্টর আরও কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে তাদের বিদায় দিলেন। রাস্তাতে আসার সময় তাদের মাঝে কোনো কথা হলোনা। ঝিলিক ছিলো তার ভাবনায় আর আইয়ুশ..আইয়ুশ তার ভাবনার উৎসের পানে চেয়ে। বাড়িতে পৌঁছে গেলো তারা বেশ কিছুক্ষণের মাঝে। পৌঁছেই স্তব্ধ হলো দুজনেই……..

obsession vs love part 10 (2)