খান সাহেব পর্ব ৮২ (২)
সুমাইয়া জাহান
সকাল হতেই খান ম্যানশন ধীরে ধীরে জীবন্ত হয়ে উঠল। সূর্যের কোমল রোদ গ্লাসের জানালা দিয়ে ঢুকছে, হালকা আলোর লাইন বেডরুমের মেঝেতে খেলা করছে। সুমু বেডে বসে আছে, তার পাশে ছোট্ট সিমরান আর শেরান শুয়ে আছে। সুমুর চোখে ক্লান্তি, কিন্তু শিশুগুলোর জন্য তার মন কাঁপছে। তার দুপাশে দুজন নার্স দাঁড়িয়ে আছে। দুজনেই সতর্ক চোখে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। একজনের চোখ সবসময় সুমুর অসুস্থ শরীরের দিকে, আর অন্যজনের দুই শিশুর দিকে। সুমু কিছু করতে গেলে সাথে সাথে তারা দুজন সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত। সুমুকে কালরাতেই খান ম্যানশনে নিয়ে আসা হয়েছে। শেরাজ, সুমুর দেখাশোনা করার জন্য সাথে করে দুজন নার্সকেও নিয়ে এসেছে। সুমুর চোখে বিরক্তি, তবে সেটা অম্লান। তার কোনোভাবেই এসব ভালো লাগছে না। নার্স দুজনকে দেখে তার নিজেকে আরও বেশি অসুস্থ মনে হচ্ছে, তবে শেরাজের ওপর রাগ করে মুখে কিছুই বলতে পারছেনা সে। শেরাজ বেলকনিতে বসে কাজ করছে, ল্যাপটপে চোখ গুঁজে কাজের মধ্যে মগ্ন। কিন্তু মাঝে মাঝে সে কাজের ফাঁক দিয়ে সুমুর দিকে আর তার সন্তানদের দিকে নজর রাখছে।
শেরাজ রুমে ঢুকল। ল্যাপটপটি ধীরে রাখল, যেন কোনও শব্দ বাচ্চাদের ঘুম বা শান্তিকে ব্যাহত করতে না পারে। কাবার্ড খুলে চেঞ্জের কাপড় বের করল।
“সুমু, আমাকে একটু বেরোতে হবে,” সে বলল, কণ্ঠে অল্প চাপ থাকা স্থিরতা তার। “আমি দু’ঘন্টার মধ্যে ফিরে আসব। তুমি নিজের খেয়াল রেখো।”
সুমু কোনো কথা বলল না। শেরাজ একপলক তাকিয়ে থেকে বলল,
“নিরবতায় বিষ থাকে।”
সে সুমুর দিকে আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ধীরে ওয়াশরুমের দিকে এগোল। পাঁচমিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে বেরিয়ে এলো। আর কোনো কথা না বলে, নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।
গার্ডেনের দূরে গাড়ির শব্দ মিলিয়ে গেলে সুমু ধীরে বেড থেকে উঠে দাঁড়াল। তার শরীর এখনও ক্লান্ত, পেটে নতুন স্টিচ, চোখে অল্প অন্ধকাররেখা। নার্স দুজন তৎক্ষণাৎ তার দিকে এগোল। হাত বাড়িয়ে ধরতে চাইল। কিন্তু সুমু তাদের দিকে না তাকিয়ে, শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“আমি একাই পারব।”
নার্সরা একে অপরের দিকে তাকাল। দুজনেই সরে গেল। কিছু বলতে চাইলেও সুমুর দৃঢ়তা দেখেই চুপ রইল। সুমু ধীরে ধীরে বেডরুমের মেঝে পেরিয়ে বেলকনিতে এসে দাঁড়াল। পেছনের দিকে একবার ঘুরে বেডের দিকে তাকাল। ছোট্ট সিমরান আর শেরান ঘুমিয়ে আছে। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে তার হৃদয় মৃদু কম্পিত হলো। সামনে ঘুরে তাকিয়ে রেলিং ধরে দাঁড়াল। হঠাৎ তার চোখ গেল নিচে। শাহরুখ আহত অবস্থায় খান ম্যানশনে ঢুকল। ভ্রু কুঁচকে গেল সুমুর। সে আবারও রুমে এলো। নার্সদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনারা দুজন ওদের একটু খেয়াল রাখবেন। আপনি একটু আসছি।”
নার্স দুজন কিছু বলার আগেই সুমু বেরিয়ে গেল রুম থেকে। সে ধীরে হেঁটে নিচে এলো। ড্রয়িংরুমে এখন কেউ নেই। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা যার যার মতো বেরিয়ে গেছে আর মহিলারা সকলে যার যার রুমের মধ্যে আছে। সুমু সোফার কাছে এসে দাঁড়াল। শাহরুখ সুমুকে দেখে নিজের পা লুকিয়ে বলল,
“আরে ভাবিজি, দাঁড়িয়ে আছেন কেন? বসুন!”
সুমু বসল না। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হালকা গম্ভীর গলায় বলল,
“পায়ে কি হয়েছে?”
শাহরুখ যেন থতমত খেলো এমন প্রশ্নে। হেসে বলল,
“তেমন কিছুনা, ভাবিজি। ওই খেলতে গিয়ে একটু লেগেছে।”
সুমু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“খেলতে গিয়ে পায়ে লেগেছে, বুঝলাম। কিন্তু ঠোঁটের কাছে কীভাবে লাগল?”
শাহরুখ চোখ সরিয়ে নিল। সে বলার জন্য আর কিছু খুঁজে পেলনা। সুমু গিয়ে বসল শাহরুখের পাশে। একটু সময় নিয়ে বলল,
“শাহরুখ, আমি বাচ্চাদের রুমে রেখে এসেছি। আমার হাতে সময় কম। সবটা কি তুমি নিজে আমাকে বলবে, নাকি আমি অন্যভাবে জেনে নিব?”
শাহরুখ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“আমি কখনও এই এরিয়ার ছেলেদের সাথে খেলি না। আমি তো অলওয়েজ একাডেমিতে খেলি। তবে কিছুদিন যাবত এই এরিয়ার কিছু ছেলে আমাকে বিরক্ত করছিল। ওরা আমার একাডেমিতে খেলাটা সহ্য করতে পারেনা। সেদিন আমি একাডেমি থেকে ফেরার সময় ওরা আমার পথ আটকালো। আমি ওদের কারণ জিঙ্গাসা করতেই ওরা বলল, ‘ওদের সাথে একদিন একটা ম্যাচ খেলতে।’ আমি প্রথমে না করে দেই। কিন্তু ওরা আমাকে টিজ করে কথা বলছিল। ওদের মুখের ওপর জবাব দেওয়ার জন্য আমি রাজি হয়ে যাই। আজ ওদের সাথে ম্যাচ ছিল। প্রথম দিকে সবকিছু ঠিক ছিল। কিন্তু দুই ওভার খেলার পর ওরা আমার সাথে ঝামেলা শুরু করে। আমি জানি ওরা ইনটেনশনালি এসব করেছে। কারণ নেক্সট উইক আমার ক্লাবে ম্যাচ আছে। ওরা ইচ্ছা করে আজ আমার সাথে ঝামেলা করেছে, কারণ আমি যাতে ক্লাবের ম্যাচটা খেলতে না পারি। এরজন্য আজ ওরা ইচ্ছে করে আমার সাথে ঝামেলা করে আমার পায়ের এতবড় ক্ষতি করে দিল।”
“তোমার ব্রো’কে জানিয়েছ?”
শাহরুখ ভয় পেয়ে থতমত খেয়ে বলল,
“ব্রো’কে জানালে অনেক ঝামেলা হবে। ব্রো হয়তো ওদের মেরেই ফেলব।”
সুমু দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“চলো!”
শাহরুখ মাথা তুলে সুমুর দিকে তাকিয়ে বলল,
“কোথায় ভাবিজি?”
“যেখানে খেলছিলে, সেখানে।”
“কিন্তু কেন?”
“আমি বলেছি তাই!”
“ভাবিজি, আপনি কেন যাবেন? আপনি অসুস্থ। এসব নিয়ে আর বাড়াবেন না।”
সুমুর কানে যেন কোনো কথা গেল না। সে ফোনে কোথাও একটা টেক্সট করল। মুহুর্তেই নাতাশা, ইনায়া আর ইশিতা নিচে নেমে এলো। সুমু ওদের দেখে বলল,
“ইশিতা, তুমি আমার রুমে গিয়ে বেবিদের খেয়াল রাখো। আর ইনায়া, নাতাশা— তোমরা আমার সাথে চলো।”
ইশিতা, সিমরান আর শেরানের কাছে চলে গেল। ইনায়া তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে সুমুর সামনে দাঁড়াল।
“তুমি যাচ্ছো মানে? একদম না! তুমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হও নি।”
সুমু থামল না। সে ধীরে বলল,
“ইনায়া, কেউ যদি তোমার ভাইয়ের রক্ত ঝরায়, তুমি কি ঘরে বসে থাকতে পারবে?”
ইনায়া থমকে গেল। নাতাশা ততক্ষণে সুমুর পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল,
“ম্যাম, আমি জানি আপনি যা করছেন তা ঠিক, কিন্তু এখন আপনার শরীর…”
সুমু মাঝপথে থামিয়ে দিল তাকে।
“আমার শরীর আমি জানি, নাতাশা। আমি যদি আজ না যাই, কাল শাহরুখের সাহসটাই ভেঙে যাবে। ওর মনে হবে, ও একা।”
নাতাশা আর ইনায়া একে অপরের দিকে তাকাল। ইনায়া আস্তে বলল,
“তাহলে, চলো।”
তিনজন ধীরে গেটের দিকে এগোলো। শাহরুখও বাধ্য হয়ে তাদের সাথে চলল। ইনায়া বাহিরে এসে বলল,
“ড্রাইভারকে বলছি, গাড়ি স্টার্ট করুক।”
সুমু মাথা নাড়ল। তিনজনে গাড়িতে উঠে বসল। গাড়ি ধীরে বেরিয়ে গেল খান ম্যানশনের গেট দিয়ে।
সুমু, ইনায়া আর নাতাশা মাঠে পৌঁছালো। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল কিছু ছেলেপেলে হাসিঠাট্টা করছে, কেউ আবার মোটরবাইকে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। বাতাসে কেমন একটা অশান্তি ছড়িয়ে আছে। সুমুদের সাথে শাহরুখকে দেখে একটা ছেলে হেসে বলল,
“ওই যে, আমাদের ক্রিকেটার ভাই মনে হয় লেডি গুন্ডা নিয়ে এসেছে।”
অন্যরা হো হো করে হেসে উঠল। ইনায়া এগিয়ে এসে কঠিন গলায় বলল,
“চুপ করো! আমরা তোমাদের থেকে বয়সে অনেক বড়। সম্মান দিয়ে কথা বলো।”
কিন্তু সুমু থামাল ইনায়াকে। সে ধীরে, খুব শান্তভাবে সামনে এগোল। চোখে কোনো ভয় নেই, বরং এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।
“তোমরাই শাহরুখকে মেরেছ?”
একটা ছেলে ঠোঁটে হাসি টেনে বলল,
“ও নিজেই মার খেয়েছে, ভাবিজি। খেলা বুঝে খেললে হয়তো…”
সুমু তার কথার মাঝেই থামিয়ে দিল।
“খেলা যখন মাঠ ছাড়িয়ে রক্তে মেশে, তখন সেটা খেলা থাকে না। তখন সেটা কাপুরুষতা হয়। তোমাদের সাহস কীভাবে হলো আমার ভাইয়ের গায়ে হাত দেওয়ার?”
ছেলেগুলোর হাসি মিলিয়ে গেল। কেউ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, কেউ আবার চোখ নামিয়ে নিল। একজন এগিয়ে এসে বলল,
“আমাদের ইচ্ছে হয়েছে, তাই মেরেছি। আমরা কাউকে ভয় পাই না, বুঝলেন ভাবিজি? বেশি বাড়াবাড়ি করলে আপনাকেও…”
কথা শেষ করার আগে ছেলেটির গালে চড় মারল সুমু। ছেলেটি রক্তচক্ষু নিয়ে সুমুর দিকে তাকিয়ে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সুমু চোখ রাঙিয়ে বলল,
“চোখ নিচে!”
ছেলেটি দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আপনি আমার গায়ে হাত তুললেন? আপনাকে তো…”
“যদি এক বাপের সন্তান হয়ে থাকিস, তাহলে গায়ে হাত লাগিয়ে দেখা”, কড়া গলায় বলল সুমু।
এক মুহূর্তে মাঠের চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। বাতাসও যেন থমকে গেল সুমুর কণ্ঠের তেজে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা প্রথমে এগিয়ে আসতে গিয়েও থেমে গেল, যেন সুমুর চোখে এমন কিছু আছে, যা কোনো পুরুষের রাগের চোখের চেয়ে কম না। ইনায়া আর নাতাশা দুজনেই সুমুর পেছনে দাঁড়িয়ে, তীব্র উদ্বেগে তাকিয়ে আছে। শাহরুখ সুমুর পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
“ভাবিজি, থাক! আমি দেখছি।”
সুমু শান্তভাবে মাথা নাড়ল,
“না শাহরুখ, আজ নয়। আজ আমি দেখব।”
সামনে থাকা ছেলেরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস শুরু করল। একজন হেসে বলল,
“এই মহিলা মনে হয় খান পরিবারেরই। কিন্তু ভয় পাই না আমরা।”
হঠাৎ দূর থেকে গাড়ির শব্দ ভেসে এলো। কালো রোলস-রয়েস মাঠের কিনারায় এসে থামল। গাড়ির দরজা খুলতেই সবাই চুপ হয়ে গেল। শেরাজ গাড়ি থেকে নামতেই ছেলেগুলো সব দৌড়ে পালালো। শেরাজের সাথে থাকা বডিগার্ড দুজন ছেলেগুলোকে আটকানোর জন্য এগিয়ে যেতেই শেরাজ তাদের বাঁধা দিল। সে চোখ ঘুরিয়ে সবগুলো ছেলের মুখ ভালো করে দেখে রাখল। সে এগিয়ে এলো সুমুর কাছে।
“সুইটহার্ট…”
সুমু তাকাল।
“খান সাহেব, ওরা শাহরুখকে মেরেছে।”
শেরাজ কোনো কথা বলল না। সে একবার শাহরুখের দিকে তাকিয়ে সুমুর হাত ধরে বলল,
“চলো, বাড়িতে চলো!”
সুমু যেন অবাক। শেরাজ সবাইকে গাড়িতে উঠতে বলে, সুমুকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাকে টেনে গাড়ির কাছে নিয়ে এলো। কড়া গলায় বলল,
“এই অবস্থা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার মতো এতো সাহস কে দেয় তোমাকে?”
সুমু তাকিয়ে রইল শেরাজের দিকে। শেরাজ গাড়ির দরজা খুলে দিল। সুমু আর কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসল। শেরাজও বিনাবাক্যে গাড়িতে উঠে বসে গাড়ি স্টার্ট দিল।
গাড়ির ভেতর ভারী নীরবতা। শুধু ইঞ্জিনের গুনগুন শব্দ, আর সুমুর বুকের ভেতর অনিয়মিত ধুকপুকানি। শেরাজের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাচ্ছে না। সে একদৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। মুখের চোয়াল শক্ত, হাতে স্টিয়ারিং ধরা আঙুলগুলো সাদা হয়ে উঠেছে চাপে।
সুমু ধীরে বলল,
“আমি শুধু শাহরুখের জন্য এখানে এসেছিলাম। ওকে ওরা…”
শেরাজ তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল,
“আমি জিজ্ঞেস করিনি।”
সুমু স্তব্ধ হয়ে গেল। তার নিঃশ্বাস যেন বুকের মধ্যে আটকে গেল। কিছুক্ষণ পর খুব আস্তে বলল,
“ওরা আমার ভাইয়ের গায়ে হাত তুলেছে, আমি কি চুপ করে বসে থাকতাম?”
শেরাজ মুখ ঘুরিয়ে তাকাল। চোখে ভয়ানক স্থিরতা—যেটা দেখলে যে কেউ কথা হারিয়ে ফেলবে।
“তুমি জানো ওরা কারা ছিল?”
“জানি না, আর আমার জানারও দরকার নেই। আমি শুধু জানি ওরা মানুষ নয়। ওরা আমার ভাইকে মেরেছে, আমি ওদের…”
শেরাজ ঠোঁটের কোণে একরকম কঠিন হাসি টেনে বলল,
“না, ওরা মানুষ না। কিন্তু আমার স্ত্রী মাঠে গিয়ে ছেলেদের সাথে মারামারি করবে—এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
সুমু নিচু গলায় বলল,
“যখন কাউকে অন্যায়ভাবে মারতে দেখি, তখন ভয় পাই না আমি। আপনি না থাকলে আমাকেই তখন তাদের ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হয়।”
“তুমি জানো না, আমি তোমাকে কোথায় রাখি, সুমু। তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায়। আমি চাই না তুমি কোনোদিন এমন বিপদের মধ্যে পড়ো।”
“যদি কোনোদিন আপনি না থাকেন, তখন তো আমি একা পড়ে যাব। আর তখন আমি কোনো বিপদে পড়লে, আমাকে একাই লড়াই করতে হবে।”
শেরাজ নিঃশ্বাস ফেলল, স্টিয়ারিংয়ে হাত ঢিলে করে বলল,
“তুমি একা পড়বে না। যতদিন আমি বেঁচে আছি, কেউ তোমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবে না।”
গাড়ির ভেতর আবার নীরবতা নামল। সুমুর চোখ ভিজে উঠেছে। সে জানলার বাইরে তাকিয়ে রইল, কিন্তু তার গালে গড়িয়ে পড়া অশ্রু শেরাজের চোখ এড়িয়ে গেল না। সে হাত বাড়িয়ে সুমুর হাতটা ধরে কণ্ঠটা নিচু করে বলল,
“তুমি আজ খুব রেগে গিয়েছিলে, তাই না?”
“রাগ না হলে কি ওদের সামনে দাঁড়াতে পারতাম?”
শেরাজ তার হাত চেপে ধরে বলল,
“রাগলে তুমি সুন্দর লাগো , সুইটহার্ট। কিন্তু সাহসে, তুমি ভয়ংকর রকমের সুন্দর লাগো।”
সুমু নরম গলায় বলল,
“রাগ করেছেন?”
শেরাজ ধীরে বলল,
“তুমি বুঝবে না, সুমু। আমি ভয় পেয়েছিলাম।”
সুমু অবাক হয়ে তাকাল,
“ভয়?”
“হ্যাঁ। ভয় পেয়েছিলাম যদি তোমার কিছু হয়ে যেত।”
“আমি ভয় পাইনি, খান সাহেব। আমি জানতাম, আপনি আসবেন।”
শেরাজের ঠোঁট কাঁপল। সে হাত বাড়িয়ে সুমুকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বলল,
“আমি বলেছিলাম, কখনো একা বাইরে যেও না।”
“আর আমি বলেছিলাম, আপনার অনুপস্থিতিতে আমি দুর্বল হব না।”
শেরাজ মাথা নিচু করে সুমুর কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল।
“আমি তোমায় হারাতে পারব না, সুইটহার্ট।”
সুমু তার বুকের ওপর মাথা রেখে বলল,
“হারানোর ভয় যদি এতটা হয়, তবে পাপ ছাড়ছেন না কেন?”
শেরাজ থমকে গেল। সে আর কোনো কথা বলল না। সুমু তাচ্ছিল্য করে হাসল। মাথা তুলে দূরে সরে বসল। জানালার সাথে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখল। নিঃশব্দে একফোঁটা অশ্রু তার গাল বেয়ে গড়িয়ে কোলের ওপর রাখা হাতে পড়ল।
ঘড়িতে সময় তখন রাত এগারোটা। বাতাস হালকা ঠাণ্ডা। চাঁদের আলো বেলকনির রেলিং ছুঁয়ে পড়ছে সুমুর মুখে। সে নিরব দাঁড়িয়ে আছে, দূরের আলোয় হারিয়ে যাওয়া শহরের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎ পেছন থেকে শেরাজ এসে নিঃশব্দে তাকে জড়িয়ে ধরল। ঠোঁট ছুঁয়ে গেল সুমুর কাঁধে। সুমু কেঁপে উঠল,
“খান সাহেব, ছেড়ে দিন,” তার গলা ভারী হয়ে এলো।
শেরাজ ছাড়ল না। বরং আরও কাছে টেনে নিয়ে নিচু গলায় বলল,
“তুমি জানো না, তোমার থেকে দূরে থাকাটা আমাকে মরণব্যাধি রোগের সমান কষ্ট।”
সুমু ধীরে তার হাতটা সরিয়ে দিল নিজের পেটের ওপর থেকে। এক পা সামনে এগিয়ে গিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“কষ্ট শুধু আপনার তাইনা, খান সাহেব? আমার কোনো কষ্ট নেই?”
শেরাজ চুপ করে তাকিয়ে রইল তার দিকে। মুখে কোনো কথা নেই, চোখে শুধু অপরাধবোধ। সুমু মুখ ফিরিয়ে নিল, চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু মুছে রুমে চলে এলো। শেরাজও তার সাথে রুমে এসে বলল,
“সুইটহার্ট, আমি ভুল করেছি, কিন্তু দূরে যেও না।”
সুমু চুপচাপ শেরান আর সিমরানের পাশে শুয়ে পড়ল। শেরাজ ভ্রু কুঁচকালো। সে গিয়ে নিঃশব্দে সুমুর গা ঘেঁষে শুয়ে পড়ল। সুমু দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু সামনে সরে গেল। শেরাজ দুষ্টু হেসে আবারও তার কাছে এগিয়ে গেল। সুমু বিরক্ত হয়ে উঠে বসে বলল,
“ফেলে দিতে চান নাকি আমাকে আর আমার বেবিদের? বিছানায় এতো জায়গা থাকতে, আপনি আমার কাছে আসছেন কেন?
“কারণ আমার জায়গা নয়, আরেকটা জিনিস চাই।”
“কি চাই?”
“কাছে এসো, দেখিয়ে দেব।”
“অসভ্যতামি না করে, ঘুমান।”
“একটু অসভ্যতামি করলে ক্ষতি কি?”
“লাভ, ক্ষতির হিসেব করতে বসলে এখন অনেক কথা তুলতে হবে, খান সাহেব।”
শেরাজ সুমুর হাত ধরতে গেলে, সুমু হাত সরিয়ে নিয়ে বলল,
“দূরে থাকুন আমার থেকে। আপনার ওই রক্তে ভেজা পাপের হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না আমাকে। এখন আপনার স্পর্শে মরণ যন্ত্রণা হয় আমার শরীরে।”
শেরাজ সুমুকে টান মেরে নিজের উন্মুক্ত বুকের ওপর ফেলল। কিছু চুল সুমুর মুখের ওপর এসে পড়তেই শেরাজ সেগুলো হাত দিয়ে ধীরে সুমুর কানের পাশে গুঁজে দিয়ে গান ধরল,
“তুজে প্যায়ার কিয়া তো তু হি বাতা
হামনে ক্যা কোই জুর্ম কিয়া
অর জুর্ম কিয়া হ্যায় তো ভি বাতা
ইয়ে জুর্ম কে জুর্ম কি ক্যা হ্যায় সাজা”
সুমু তাকিয়ে রইল শেরাজের দিকে। শেরাজ সুমুর কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
“ভালোবাসি তোমাকে। অনেক বেশি ভালোবাসি। এভাবে দূরে সরে যেও না, প্লিজ।”
“ভালোবাসলে পাপ ছাড়ছেন না কেন?”
“তুমি অনেক কিছু জানো না, সুইটহার্ট।”
“তাহলে আমাকে জানান।”
“সম্ভব না!”
সুমু জোর করে শেরাজের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে বসে বলল,
“আপনি আপনার পাপ নিয়ে থাকুন। তবে আমার থেকে দূরে থাকুন!”
“থাকতে পারবে আমার থেকে দূরে?”
“আপনি আমার কে বলুন তো, যে আপনাকে ছাড়া দূরে থাকতে পারব না?”
শেরাজ উঠে বসল। তার ঠোঁটে ব্যথাতুর হাসি। তবুও সে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। সুমুকে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আবারও গান ধরল,
“কেনো যে মন খারাপের
নেমেছে রাত পাড়াতে
বসেছি সব হারাতে
খুঁজে দাও, খুঁজে দাও
যে পথে এগিয়েছে পা
সেও আমায় চেনে না
আমি তো ফিরে যেতে চাই
আমাকে ফিরিয়ে নাও
আমি যে কে তোমার
তুমি তা বুঝে নাও”
সুমু থমকালো। গানটা শেরাজ হেসে হেসে গাইলেও, গানটার মধ্যে যেন ব্যথা লুকানো ছিল। সুমু পাশ ফিরে তাকাল। শেরাজ তার গালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। সুমু নিজেকে আর সামলে রাখতে পারল না। সে শেরাজকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল।
রাত তখন বেশ গভীর। জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়ছে বিছানার ওপর। সুমুর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে শেরাজের বুকের ওপর ছড়িয়ে আছে। সে আজ বিনাবাক্যে টানা দু’ঘন্টা ধরে কেঁদেছে। মনভরা অভিমান, কষ্ট, ভয়— সব ফুরিয়ে গিয়ে শেষে নীরব ঘুমে হারিয়ে গেছে। শেরাজ একটুও নড়ছে না। সুমুর মাথাটা তার বুকের ওপর, শ্বাসের হালকা উষ্ণতায় বুকটা কাঁপছে। সে নিচু চোখে সুমুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের কোণে এখনো শুকায়নি অশ্রুর দাগ, ঠোঁটে নিঃশব্দ কাঁপন, যেন এখনো কান্নার রেশটুকু বেঁচে আছে। শেরাজ ধীরে সুমুর চুল সরিয়ে কপালে চুমু খেলো। কণ্ঠটা ফিসফিস করে বলল,
“তোমার কান্না আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শাস্তি, সুইটহার্ট।”
সে খুব যত্ন করে সুমুকে বালিশের ওপর শুইয়ে দিল। গায়ে ব্লাঙ্কেট জড়িয়ে দিয়ে পাশ ঘুরে সিমরান আর শেরানের কাছে এলো। এই প্রথম শেরাজ খান যেন কাঁদল। তার চোখের কোণে যেন একবিন্দু অশ্রু দেখা গেল। সে ঘুমন্ত সিমরান আর শেরানকে একে একে কোলে তুলে চুমুতে ভরিয়ে তুলল। দুজনকে প্রাণভরে আদর করে ধীরে উঠে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে নিঃশব্দে হেঁটে টেবিলের কাছে গেল। টেবিলের ওপর ছড়ানো কিছু ফাইল, ফোন, আর পাশে একটি ডায়েরি। সে চুপচাপ চেয়ার টেনে বসল। চোখের কোণায় ক্লান্তি, কিন্তু মনে তীব্র এক অস্থিরতা। কলমটা হাতে তুলে নিল। কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে বসে রইল—তারপর ধীরে লিখতে শুরু করল,
প্রিয় অর্ধাঙ্গিনী,
যখন এই চিঠিটা তোমার হাতে পৌঁছাবে, তখন হয়তো আমি অনেক দূরে চলে গেছি—তোমার ছোঁয়ার বাইরে, তোমার কণ্ঠের আওতারও বাইরে বা হয়তো আমি আর এই পৃথিবীতে নেই। তোমার বুকের ওপর মাথা রেখে ঘুমানোর মতো দূরত্বেও নয়, বরং এক এমন জায়গায় যেখানে কোনো ভালোবাসা পৌঁছায় না, কেবল নীরবতা থাকে। জানি, তোমার চোখ ভিজে উঠবে, ঠোঁট কাঁপবে, বুকের ভেতরটা মোচড় দেবে—তবু আমি চাই, তুমি একবার হাসবে। কারণ, আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার সেই হাসিটাই খোদা রেখে গেছে। ভালোবাসা কখনো কখনো ছেড়ে যাওয়ার মাঝেও বেঁচে থাকে। আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু আমার অস্তিত্ব তোমার চারপাশে রেখে যাচ্ছি। তোমার ব্যবহৃত পোশাকে আমার হাতের ছোঁয়া, তোমার ডায়েরির পাতায় আমার লেখা একফোঁটা শব্দ, তোমার বালিশে আমার গায়ের গন্ধ—সবখানেই আমি রয়ে যাবো, নিঃশব্দে।
আমি যখন এই চিঠিটা লিখছি, তখন তুমি খুব নির্ভার, খুব শান্ত। পৃথিবীর সব অস্থিরতা থেকে দূরে গিয়ে একটুখানি ঘুমে নিশ্চিন্ত হয়ে আছো। তোমার পাশে আমার কলিজার টুকরো দুটোও ঘুমিয়ে আছে। ওদের দিকে তাকালেই মনে হচ্ছে—সময়টা যদি থেমে যেত, যদি আমি আরও কিছুটা সময় তোমাদের দুচোখ ভরে দেখতে পারতাম। জানি না, পরের ভোরে আমি কোথায় থাকব। হয়তো অনেক দূরে, বা হয়তো খুব কাছেই। কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রতিটি ধ্বনি তখনও শুধু একটা নামই উচ্চারণ করবে—“সুমু।”
তুমি যখন আকাশের দিকে তাকাবে, আমি হয়তো সেই একলা নক্ষত্র হয়ে থাকব—যে প্রতিরাতে তোমার জানালার পাশে এসে নিঃশব্দে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে, যে তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিজের অস্তিত্ব মিশিয়ে দেবে। আমি তোমাকে ভালোবাসি, ব্ল্যাক ফেইরী। প্রচণ্ড ভালোবাসি। তুমি জানো, আমি তোমাকে শুধু ভালোবাসিনি—আমি তোমার ভেতরে বেঁচে থেকেছি। তোমার নিঃশ্বাসে, তোমার কণ্ঠে, তোমার চুলের গন্ধে আমি নিজের অস্তিত্ব খুঁজেছি। এখনও খুঁজছি। আমি সারাজীবন এমন করে তোমাকে চেয়েছি, যেভাবে একজন অন্ধ মানুষ সারাজীবন শুধু অনুভবেই পৃথিবীকে ছুঁয়ে থাকে, অথচ একবার চোখ মেলে দেখার আকুলতায় তার বুকের ভেতর ঝড় তোলে।
আমি ধ্বংসের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসা এক অদ্ভুত মানুষ, কিন্তু আজ সেই ধ্বংসও তোমার চোখের দিকে তাকালে সুন্দর লাগে। তুমি নামক ভয়ংকর সুন্দর ধ্বংসের মধ্যেই আমি শান্তি খুঁজে পাই।
তুমি আজ অনেক কেঁদেছ। তোমার প্রতিটি অশ্রু আমার বুক ভেদ করে গেছে, কিন্তু আমি কিছুই বলতে পারিনি। আমার রাগ, আমার অহংকার— সবকিছুই তোমার ভালোবাসাকে আঘাত করেছে। আমি কখনো চেয়েও বোঝাতে পারিনি, তোমাকে হারানোর ভয়টাই আমাকে অমানুষ বানিয়ে দিয়েছে। আমি ভয় পাই, কোনো একদিন তুমি হয়তো আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আর সেই ভয়ই আমাকে রুক্ষ, নিঃশব্দ, নিষ্ঠুর করে তুলেছে। কিন্তু আজ, যখন তোমাকে বুকে পেয়ে কাঁদতে দেখলাম—মনে হলো, আমি আসলে তোমার যোগ্য নই। তবুও বলব, আমি তোমাকে এমনভাবে ভালোবাসি, যেমন ভাবে মরুভূমি ভালোবাসে বৃষ্টি, কিন্তু সে জানে, বৃষ্টি আসবে না। আমার ভালোবাসা এখনো তোমার কাছে আটকে আছে শেষ নিশ্বাসের মতো। আমাদের আর একসাথে থাকা হলো। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমার মিষ্টি ঘুমন্ত মুখটা দেখার পর তোমার চুলের গন্ধ বুকভরে নেওয়া হলো না। আমার চ্যাম্পদের সাথে ক্রিকেট খেলা হলো না। ওদের মুখ থেকে ‘পাপা’ ডাকটাও শোনা হলো না। এতো এতো অপূর্ণতা নিয়ে আমার শান্তিতে যাব কীভাবে বলো তো? তবুও আমাকে আজ যেতেই হবে। যদি পারো, ক্ষমা করো আমাকে। এই জনমের জন্য আলবিদা, খান সাহেবা।
“তোমার খান সাহেব”
শেরাজ চুপচাপ বিছানার পাশে এসে বসল। সামনে শান্ত ঘুমে আচ্ছন্ন সুমু—ভেজা চোখ, কাঁপা নিঃশ্বাস, কিন্তু মুখে একফোঁটা শান্তির রেখা। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। হাত বাড়িয়ে সুমুর কপাল ছুঁল, তারপর তার কানের পাশ থেকে এলোমেলো চুল সরিয়ে দিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
“ঘুমাও, আমার ব্ল্যাক ফেইরী”
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। তার ঠোঁটে মৃদু কাঁপন—যেন চোখের ভেতরের সাগরটা আটকে রাখতে পারছে না। সে উঠে দাঁড়িয়ে টেবিলের ওপর সুমুর প্রিয় মোমবাতিটার পাশে চিঠিটার সাথে আরও কিছু ফাইল রাখল। ড্রেসারের আয়নায় নিজের মুখটা একবার দেখল—ক্লান্ত, ফ্যাকাশে, কিন্তু চোখে অদ্ভুত শান্তি। আরও একবার সুমুদের দিকে তাকিয়ে দরজার দিকে হাঁটল। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন ভারী হয়ে উঠছে। দরজার কাছে এসে থামল, পিছন ফিরে একবার তাকাল। সুমু তখনো ঘুমিয়ে, দুই হাতের মাঝে বাচ্চাদের জড়িয়ে রেখেছে। সেই দৃশ্য দেখে শেরাজ ঝটপট সামনে ঘুরে তাকিয়ে বলল,
খান সাহেব পর্ব ৮২
“আমি জানি, আজ পেছন ফিরে তাকালেই আমার মতের পরিবর্তন হবে। তাই আজ আর পেছন ফিরে তাকাব না।”
সে দরজা খুলে নিঃশব্দে পা বাড়াল। দরজার কপাট আস্তে করে বন্ধ হলো। চাপা একটা শব্দ, কিন্তু সেই শব্দেই যেন পুরো পৃথিবী থমকে গেল।
