Home obsession vs love obsession vs love part 10 (2)

obsession vs love part 10 (2)

obsession vs love part 10 (2)
নিরুর কল্পনারাজ্য

বাড়িতে আইয়ুশের রিসিপশনের আয়োজন করা হচ্ছে। বাহঃ জীবনে ঝিলিকের আর কী কী দেখতে হবে? স্বামীকে পরনারীর সাথে ঘর করতে দেখলো আবার ওকেও এই রিসপশনে বাকিদের মতোই উল্লাসে মেতে থাকতে হবে। ঝিলিক আপাতত এসবে বিরক্ত। কোনোরকম ভণিতা ছাড়া-ই সে উপরে উঠে গেলো। নিচে সব ডেকোরেশনের মানুষজন। ওপরের রুমগুলো থেকে হইচই এর আওয়াজ আসছে। বাকিরা নিশ্চয় কালকের অনুষ্ঠান নিয়েই চিন্তা-ভাবনায় মত্ত। আইয়ুশের বিরক্তিও কম নয়। এসব অহেতুক কার্যকলাপ সে চেয়েও আটকাতে পারবেনা। ঝিলিকের যাওয়ার পানে চাইলো একপলক। পরপরই ফোনে একটা নোটিফিকেশন এলো,

—MEETING YOU, SOON!
MK
‘দেখা হবে, শীঘ্রই?’ মানে? মানে, এমকে এখন নিজে আসবে। আইয়ুশের চোখ কপালে উঠলো। MK–
যে কিনা একটা সাইকো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল। যার মনে মায়া-দয়ার অস্তিত্ব বলতে কিছুই নেই। শুধুমাত্র নিজের খুশির জন্য মানুষ হত্যা করতেও দু’বার ভাবেনা। অথচ এই মানুষ রূপী নরপিশাচের আসল পরিচয় কেও-ই জানেনা। আর না-তো কেও কখনো তাকে দেখেছে। আইয়ুশ শঙ্কিত হলো। আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস সে এখন থেকে অনুধাবন করতে পারছে। যেদিক হতে এসেছিলো সে পথে সে আবারও বেরিয়ে গেলো কোথাও। মনে পড়লো-ঝিলিকের ওষুধ কেনাও তো বাকি!

দরজা আবজে শুয়ে ছিলো ঝিলিক। সবকিছুতেই যেনো তার খুব অনীহা কাজ করছে। আপাতত শুধু মনে পড়ছে কিছুক্ষণ পূর্বে দেখা সেই একটুকরো মাংসপিণ্ডের কথা। ঝিলিকের একহাত সহসাই তার উদর ছুঁলো। ঝিলিকের ঠোঁটে নরম হাসি ফুটে উঠলো। তখন-ই দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হলো। ঝিলিকের ভ্রুযুগল কুঁচকে এলো। কে এলো আবার? ঝিলিক বিরক্তি ঝেড়ে উঠলো। ক্লান্ত পায়ে দরজার হাতল ঘুরিয়ে দরজা খুলতেই অপরপ্রান্তে আইয়ুশ কে দেখা গেলো। ঝিলিকের চেহারা কঠিন হয়ে এলো। একদম ভদ্র পোশাকের এই পুরুষ মোটেও ভদ্র নয়। সে একজন ঠকবাজ। কথাটা তার মনে জপতে আরম্ভ হলো আপনাআপনিই। ফলস্বরূপ বেরিয়ে এলো ঝাঁঝালো স্বর,
— কেনো এসেছেন এখানে? ফর্মালিটি পূরণ করতে?
আইয়ুশের শান্ত চোখ; গম্ভীর মুখশ্রী। রুক্ষ স্বরে বললো,

—এটা ছাড়া তো আর কোনো কারণ নেই। তোমাকে দেখতে তো আর আসবোনা। ওষুধগুলো নাও।
ঝিলিক চোখ ঘুরালো। যেনো এ শেষের কথাটাতে সে তিক্ত; বিরক্ত। অবহেলায় ভীষণ অনিচ্ছার স্বরে বললো,
—বেরিয়ে যান দ্রুত। আপনার বউ আছে না? তার কাছে যান। এসব আদিখ্যেতা একদম দেখাতে আসবেন না।
আইয়ুশ কিছু বলেনা প্রত্যুত্তরে। হাতে থাকা ওষুধের প্যাকেটখানা এগিয়ে দেয় সামনে। ঝিলিক একঝটকায় তা নিয়ে নেয়। দরজা বাধতে যাবে। তার আগেই আইয়ুশ আটকালো তাকে। চলে যেতে যেতেও দ্বিধান্বিত চোখে প্রশ্ন করে বসলো,
—এখনও পেটে ব্যাথা করছে?
ঝিলিক তাচ্ছিল্যের হাসলো। বললো,
— কেনো? যে বাচ্চাটাকে মারতে চেয়েছেন তার জন্য এতো স্নেহ আসার তো কথা নয়।
অতঃপর কিছু মনে পরার ভঙ্গিতে বলে উঠলো,

—এক মিনিট, ওষুধের সাথেও নিশ্চয় কোনো কারচুপি করেছেন তাই তো?
আইয়ুশ অবাক হলো। ওষুধের সাথে কী কারচুপি করবে সে? ঝিলিক আরও বললো,
—আপনি ডক্টরের দেওয়া প্রেসক্রিপশন টা আমাকে দিন। আমি আপনার কাছ থেকে কোনো কিছুই নিবোনা।
বলেই আইয়ুশের দেওয়া ওষুধগুলো নিচে ফেলে দিলো। মুহূর্তেই সব ছড়িয়ে গেলো মেঝেতে। আইয়ুশ ওষুধগুলোর পানে চাইলো। কতটা জটিলতার মাঝেও সে প্রতিটি ওষুধ নিজে পর্যবেক্ষণ করে কিনেছিলো তা শুধু সে-ই জানে। চোখের দৃষ্টি সেখানেই আটকে রইলো।
ভঙ্গুর কন্ঠে শুধালো,

—এতোটা অবিশ্বাস করো?
ঝিলিকের কাছে এসব কথা এখন অসহনীয় আদিখ্যেতা বৈকি কিছু নয়। রুক্ষ তার জবাব,
—বিশ্বাস? হাহ! আপনাকে বিশ্বাস করার চেয়ে তো ভালো আমি নিজেই নিজেকে মেরে ফেলবো।
ঝিলিক অপেক্ষা করলোনা। মুখের ওপর-ই দরজা বন্ধ করে দিলো। আইয়ুশের চোখ-মুখ শক্ত হয়ে এলো। হাতদুটো মিষ্টিমেয় করে নিজেকে সামলানোর বৃথা চেষ্টা করলো। ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা ওই ওষুধগুলোর কাছে। ধীরে ধীরে হাঁটু ভেঙে বসে সেগুলো একে একে কুঁড়িয়ে নিতে আরম্ভ করলো। ফের সেগুলো পলিথিনে ঢুকিয়ে রাখলো। চোখ থেকে আপনাআপনিই জল ঝরছে। সেসব তুলে নিয়ে সে উঠে দাঁড়াতে চাইলো। অথচ এইমুহূর্তে তার নিজের ভর ও নিজের কাছে শ’খানেক ওজনের মনে হলো। ঠোঁট কামড়ে নিজের লুকোনাে অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের অজস্র চেষ্টায় লিপ্ত হলো। ফর্সা ত্বকের নাকের ডকা লালচে হয়ে উঠলো। আইয়ুশ তার গুটিয়ে রাখা শার্টের হাতায় চোখ মুছলো। উঠে দাঁড়ালো। ওষুধগুলো সঙ্গে নিয়েই নিজের রুমে ঢুকলো। ভেতরের রুমে তখন সাঁঝ ছিলো হয়তো। বেলকনির দিকটায় কিছু করছে। আইয়ুশ তা লক্ষ্য করে বেরিয়ে যেতে চাইলো। যেতে গিয়েও থমকে গেলো। কী যেনো মনে পড়তেই সেদিকপানে গেলো। ধীরস্বরে ডাকলো তাকে,

—সাঁঝ!
সাঁঝ পেছন ফিরলো। এসময়ে আইয়ুশকে এখানে দেখে অবাক-ই হলো। কারণ এখন প্রায় সন্ধ্যা। মাগরীবের পর আইয়ুশকে পাওয়া যায়না। অবশ্য এখনো মাগরীবের আযান পড়েনি। সাঁঝ এসব ভাবনা একপাশে ফেলে উত্তর দিলো,
—হ্যাঁ, বলুন!
—শোন, খাওয়ার সময় আমার পাশের চেয়ারটায় বসবিনা। অন্যপাশে গিয়ে বসবি।
সাঁঝের মুখটা মলিন হয়ে এলো। আইয়ুশ ফের বললো,
—এসব অনুষ্ঠান আমার কাছে বিরক্তিকর। আমার জন্য তোকেও সাফার করতে হচ্ছে। স্যরি! আমাদের চুক্তি ছিলো শুধু এবং শুধু স্বামী-স্ত্রী হওয়ার অভিনয়ের। পরিবর্তে কোম্পানির ফাইভ পার্সেন্ট শেয়ার তোর নামে যাবে আমার তরফ থেকে। তাই, বেশি বেশি লাই দিবি না এসবে!

সাঁঝ শুনলো পুরোটা। ভেবেছিলো অন্তত একসাথে থাকলে হয়তো আইয়ুশের তার প্রতি কোনো অনুভূতি তৈরি হতে পারে। অথচ তেমন হয়নি। আইয়ুশ তার আশপাশটাও ঘেঁষে না। সাধ্যমতো এড়িয়ে চলে। অবশ্য এসব কারও চোখে পড়েনা। কারণ আইয়ুশের কর্মকান্ড সকলের জানা। ছেলেটা কাজ পাগল। তাই সে রাতে বাহিরে থাকলেও তাদের কাছে তা অশোভন নয়। তবে তারা লক্ষ্য করেনা–সাঁঝ থাকলে আইয়ুশ রুমে আসেনা। আসলেও সাঁঝকে বেরিয়ে যেতে হয় নয়তো আইয়ুশ নিজের কাজ সেরে নিজেই বেরিয়ে যায়। সাঁঝের বুকটা পোড়ায় এসবে। সে কী লোভী? মানুষটা নিশ্চয় তাকে লোভীই ভাবছে, তাইনা? হ্যাঁ, সে লোভী। তবে টাকার তো নয়। সে ওই মানুষটার সামান্য ভালোবাসার জন্য লোভী! সাঁঝ মাথা নাড়ে। পরপরই বেরিয়ে যায়। কেননা ততক্ষণে মাগরীবের আযান পড়েছে। আর আইয়ুশ নামাজ পড়বে।
সাঁঝ বেরোতেই আইয়ুশ দরজা লাগায়। হাত ঘড়িখানা খুলে ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখে। ঘড়ি রাখার সময় তার নজর যায় তারই প্রতিবিম্বের ওপর। আইয়ুশ, সামনের মানুষটি আইয়ুশ মির্জা! যার নিজের ভালোবাসাকে বাঁচানোর কোনো ক্ষমতা নেই। আইয়ুশের রাগ হলো তার ওপর। পরক্ষণেই হাসিও পেলো। বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো,

—কাওয়ার্ড, ইউ আর আ কাওয়ার্ড আইয়ুশ মির্জা! ইউ ডোন্ট হ্যাভ দ্যা এবিলিটি টু সেইভ ইউর ফ্যামিলি। ইউ আর জাস্ট আ কাওয়ার্ড।
আইয়ুশ গভীরভাবে শ্বাস নেয়। সামলায় নিজেকে। বলিষ্ঠ শরীর হতে শার্ট খুলে একখান সাদা টি-শার্ট আর ট্রাওজার পড়ে নেয়। ওয়াশরুমে গিয়ে ভালো করে অযু করে জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়ে মহান আল্লাহতায়ালার সম্মুখে। এই একজন-ই তো রয়েছে তার সকল কথা শোনার জন্য। সে-তো জানে আইয়ুশের পরিস্থিতি, বাধ্য-বাধকতা। একমাত্র আল্লাহতায়ালার কাছেই তার সকল নিয়ন্ত্রণ হার মানে। সে লুটিয়ে পড়ে সেজদায়। কান্না পায় তার। তার দৃঢ় বিশ্বায় সেই সৃষ্টিকর্তার ওপর। আল্লাহ কখনো তাকে এমনকিছুর জন্য সাজা দিবেনা যার ভাগীদার সে নয়। তিনি অবশ্যই সর্বদা তার প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা নিতে ভালোবাসেন। আর আইয়ুশ সে পরীক্ষা নির্ভীগ্নে পার করতে চায়। সে তার ভালোবাসা আরও একবার জিতে নিতে চায়। আইয়ুশ ডুকরে ওঠে। কাঁদতে কাঁদতে মনে মনে আওড়ায়,

—আল্লাহ, আমি আপনার প্রতিটি ফয়সালাতে বিশ্বাসী। শুধু সকলকিছু শেষ স্তরে গিয়ে হলেও আমি যেনো আমার স্ত্রীকে আমার করে পাই। আমার স্ত্রী-সন্তানকে রক্ষা করতে পারার তৌফিক আমাকে দান করুন আপনি। ইয়া মাবুদ, আমাকে ধৈর্যশক্তি দিন।
একইসময়ে তার সামনাসামনি কক্ষের ঝিলিক তার মোনাজাতে চোখের পানি ঝরাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে ভগ্ন কন্ঠ চিঁড়ে বেরিয়ে আসছে তার অভিযোগ,
—ইয়া মাবুদ! আমার সাথেই কেনো এমন হলো? আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম অথচ তার কাছে আমি মূল্যহীন। প্রতিটি মোনাজাতে আমি শুধুমাত্র তাকে চেয়েছি আল্লাহ অথচ আপনি আমাকে সে বান্দা-ই দিলেন না। আমি কী এতোটা অযোগ্য ছিলাম তার? আমার সন্তানপর কী হবে? সে কী কখনোই তার বাবাকে একবার মুখ ফুটে কখনো ডাকতে পারবে আদৌও?
একদিকে দু’হাত তুলে মোনাজাতে কান্নারত রমণী; অন্যদিকে সেজদায় আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরূপে সমর্পিত হওয়া এক সত্ত্বা! কী আছে তাদের ভাগ্যে তা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা; মহান আল্লাহতায়ালা ছাড়া কারও জানা নেই।

বাংলাদেশের কোনো গহীন অন্ধকার এক জঙ্গল, যা মানুষের সংস্পর্শ হতে বহুদূরে। যেখানে গেলে কখনোই কোনো মানুষ ফিরে আসতে পারেনা। হারিয়ে যায় ভয়ানক কোনো অন্তরীক্ষে। ভয়ানক সে অন্ধকারাচ্ছন্ন জঙ্গলকে পরিপূর্ণতা দিতেই বোধহয় কোথাও হতে ভেসে আসছে হুতুম পেঁচার ডাক। নিস্তব্ধ সে রজনীকে আরও ভয়ানক করে তুলছে সে ডাক। সেখানেই দৌড়ে চলেছে এক কুলষিত মানবসত্ত্বা। চোখে তার প্রাণের ভয়। কপোল বেয়ে ঘাম ঝরছে অবিরত। শরীরে হাজারো ক্লান্তি। অথচ সে-ও জানে, তার পা যদি এমুহূর্তে থমকে যায় তবে তার হৃদযন্ত্র দ্বিতীয়বার ধুকপুক করার সুযোগ পাবেনা। দৌড়াতে দৌড়াতে সে জঙ্গলের গভীরে হারিয়ে গেলো। তবু সে দৌড়ে যায়। সে শুধু জানে তাকে চলতে হবে। থামলেই সে কখনোই আর বেঁচে ফিরতে পারবেনা। ঠিক তখনই বেরিয়ে এলো সেই মানবরূপী নরপিশাচ। যার অবয়ব অস্পষ্ট। চোখে তার তীক্ষ্ণ ধার। সম্পূর্ণ কালোতে আবৃত সেই বলিষ্ঠ পুরুষ। দৌড়াতে থাকা লোকটি মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। চোখ তুলে চাইতেই সে নিজের সামনেই আজরাইলের সাক্ষাৎ পায়। যার হাতে ঠিক আজরাইলের ন্যায় লম্বা এক কুড়াল।কন্ঠনালি তার কেঁপে ওঠে, ক্রন্দনরতসুর ভেসে আসে তার গণ্ডদেশ ভেদ করে,
—ছেড়ে দিন। এবারের মতো ছেড়ে দিন আমায়। আর কক্ষনো আমি সেই ভুল করবোনা।

তার কথা শুনে সেই পুরুষটি হাসে। তাকে যেনো কোনো কৌতুক শোনানো হয়েছে। তার হাসির শব্দে জঙ্গলের সকল পাখি উড়ে যায়। যেনো তারাও জানে পুরুষটির পরবর্তী পদক্ষেপ। পুরুষটি ধীরপায়ে হাসতে হাসতে তার পায়ের কাছে পড়ে থাকা লোকটির কাছে যায়। হাসতে হাসতেই তার চোখে হঠাৎ ফুটে ওঠে হিংস্রতা। তার মুখ থেকে সম্পূর্ণ কিছু-ই আবৃত কালো এক মাস্কে। শুধুমাত্র তার সুগভীর; হিংস্র নীল নেত্র-ই দৃশ্যমান। পুরুষটি লোকটির সেই ক্রন্দনরত একটা কোথাও কানে নিলোনা। সে উল্লাসে মেতে উঠলো। পুরুষালি হিংস্র স্বর ভেদ করে বেরিয়ে এলো তার ভয়ানক শব্দগুচ্ছ,
—আরও কাঁদ; প্রাণভিক্ষা চাইতে থাক। তোর প্রতিটি চিৎকার আমার হৃদয়কে প্রশান্ত করছে। প্রতিটি ক্রন্দনরত শব্দ কর্ণপাতে আমি শান্তি অনুভব করছি!

বলেই সে জোরে জোরে হাসে। লোকটি ভয় পায় আরও। সে আরও জোরে চিৎকার করে কাঁদে। অথচ..অথচ হঠাৎ এক চিৎকারেই সব শান্ত হয়ে যায়। সেই নীল নেত্রের অধিকারী পুরুষটির গায়ে ছিটে আসে রক্তের ফৌঁটা। লোকটির প্রাণপাখি এখনও উড়াল দেয়নি। অথচ সেই পুরুষটি তার সাথে থাকা কুড়ালের সাহায্যে তাকে এলোপাথাড়ি কোপ মেরে যাচ্ছে। আর হাসছে। মাঝে মাঝে হিসহিসিয়ে কিছু বলছে। তার মধ্যে কয়েকটি বাক্য ছিলো,
—সুযোগ? সুযোগ নামের কোনো শব্দের সাথে আমি পরিচিত নই। আমার..আমার কাজলনন্দিনীর দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস তোর হয় কী করে? আমার..ও শুধু এবং শুধুমাত্র আমার!

অতঃপর টানা বিশবার কুড়ালের মাধ্যমে আঘাতের পর পুরুষটি শান্ত হয়। দূর্বল; ঘর্মাক্ত দেহে সরে আসে। ততক্ষণে সেই লোকটির প্রাণ তার দেহ ছেড়েছে। সেই নীল নেত্রের পুরুষটি তখনও ক্ষান্ত হয়না। ছিন্নবিন্ন; ক্ষত-বিক্ষত ওই শরীরটির হতে তার চোখদুটো পকেটে থাকা এক ছোট ছুরির সাহায্যে উপড়ে নেয় সে। ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে ততক্ষণে লাশটি।অথচ তাতে পুরুষটি বিন্দুমাত্রও বিচলিত হয়না না।সেই চোখদুটিতে সন্তপর্ণে ছুরিঘাত করতে শুরু করে পুরুষটি। একসময় সে চোখদুটির অবস্থাও বেহাল হয়। পুরুষটি লোকটির ছিন্নবিন্ন পা-হাতগুলো হতে চুইয়ে চুইয়ে ঝরতে থাকা রক্তের স্রোতে হাত ডুবিয়ে, সে রক্তে তার উল্লাস উদযাপন করে। ভীষণ বিশ্রীভাবে হাসে।

obsession vs love part 10

ততক্ষণে তার পালিত হিংস্র সিংহটি চলে আসে। রক্ত দেখেই ছুটে যায়। ছিন্নবিচ্ছিন্ন শরীরটি হতে অক্ষত থাকা প্রতিটি মাংসপিন্ড খুবলে খুবলে খায়। আর পুরুষটি? সে দূরে দাঁড়িয়ে থেকে সে দৃশ্য উপভোগ করে। তখনও সে হাসছে। হাস্যরত সেই কন্ঠ ঠিক কতটা ভয়ানক তা সে জঙ্গল; জঙ্গলের প্রতিটি বটবৃক্ষ সাথে প্রতিটি পশুপাখিও জানে! তার হাসির তালে তালে কোথাও হতে ভেসে আসে হুতুম পেঁচার অবিরত ডাক।

obsession vs love part 11