Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২
লিজা মনি

খোলা আকাশের নিচে এক বালুর চত্তর। চারপাশ শুনশান নিরবতা। সমুদ্রের ঢেউ গুলো পাড়ে এসে বার বার ধাক্কা লাগছে। চাঁদের জীর্ণ আলোয় বালুকাময় সেই নির্জন চত্বর। এক কবরস্থান সদৃশ প্রান্তর। চারপাশে নৈঃশব্দ্যের এক অপার্থিব চাদরে ঢাকা পরিবেশ। বাতাস কেমন হিমেল অথচ মৃতপ্রায়। যেন সেখানে চলমান প্রতিটি কণাও মৃত্যুর অনুমোদন নিয়ে শ্বাস নিচ্ছে। সমুদ্র তার স্বাভাবিক ছন্দ ভুলে গিয়ে যেন প্রতিশোধের সুরে গর্জে উঠেছে। ঢেউয়ের গহীন থেকে উঠে আসা গলিত ধ্বনি যেন কুয়াশাচ্ছন্ন যন্ত্রণার আত্মা কান্নায় ভেঙে পড়েছে। ঠিক এই ভয়াবহতায় আচ্ছন্ন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আছে এক নিষ্ঠুর পুরুষ। শূন্যতা ও নিধনের এক জীবন্ত ভাস্কর্য।

তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন শৃঙ্খলিত হিংস্রতায় গঠিত।
চোখদুটো কাচের মত ধূসর। তবে সেই কাচের ওপাশে নির্বিচার মৃত্যুর হিমশীতল প্রতিচ্ছবি।
তার সামনে বালুর গভীরে গেড়ে রাখা মানবদেহ ছটফট করছে। অর্ধ মৃত হয়ে এক পাশে গেলে পড়েছে। পাথরের আঘাতে ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন দেহ। কিন্তু সেই ছটফটানি কোনও বেঁচে থাকার আকুতি নয় বরং এক দীর্ঘকালীন নিঃশেষের পূর্বভাস।
পুরুষটির ঠোঁটের কোণে যন্ত্রণাদায়ক এক পৈশাচিক তৃপ্তির রেখা খেলে যায়। তার শ্বাস প্রশ্বাস ছিল গম্ভীর অথচ কণ্ঠনালীর গভীর থেকে বেরোনো প্রতিটি শ্বাস যেন জল্লাদের কুঠারের মত ধারালো। পুরুষটি তীক্ষ্ম দাড়ালো দৃষ্টি দিয়ে বালির মধ্যে গেড়ে থাকা ব্যাক্তিটার দিকে তাকায়। যেন কোনো হিংস্র বাঘ তার শিকারকে পরখ করছে। ঠিক তখন ওই ভেসে আসে দুর থেকে কারোর পদ চারনের শব্দ। পুরুষটি হিংস্রতা নিয়ে সেদিকে তাকায়। ঠোঁটে খেলে যায় রহস্যময় হাসি। লোকটি এগিয়ে আসছে।

বালির উপরে দেহভেদী এক ধীর গতি। প্রতিটি কদম মনে হয় বালুর হৃদয়ে ছুরির ঘা। সেই পদচারণা থেমে থেমে আসে ন্যায়বিচারহীন এক বিচারকের মত।
বালিতে গেড়ে থাকা ব্যাক্তিটি ও তাকায় সেদিকে।
বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে। মনে হচ্ছে অনাত্মীয় এক শক্তি ছায়া ফেলেছে। আকাশ আরও কালো। ঢেউ আরও ঘন। আর তারই মাঝে দেখা দেয় সে ধূসর রাঙ্গা চোখের পুরুষটির অপরাধমৈথুনী সঙ্গী।
সে আসে ধীরে ধীরে।মাথায় হুড তোলা কালো কোট। গায়ে জলের মত ঝরে পড়ছে সাগরের শিশির।
তার পায়ের নিচে বালু চাপা পড়ে না বরং তার পায়ের নিচ থেকে নিজেই পিছিয়ে যায়।
চোখ এক জোড়া কুয়াশায় ঢাকা বরফের কুচি।
চোখের দৃষ্টি ছিল এমন নিঃসংবেদ। সে মৃতদের মধ্যেই বসবাস করে।আর জীবিতেরা তার কাছে কেবলই অস্থায়ী কৌতূহল।

তার হাতে ধরা ছিল একটি ছোট ধাতব বাক্স।
সেই বাক্স থেকে সময়-ভেদী এক ধাতব ঘর্ঘর শব্দ উঠছিল মৃত্যুর পূর্বশ্রুতি।
ধূসর রাঙ্গা চোখের ব্যক্তিটা এগিয়ে আসে আরেক কদম। তাদের মাঝখানে তখন বাতাস থমকে গেছে। সমুদ্র কাতর, আর বালির কণাগুলো মনে হয় ফিসফিস করছে,
“দু’টি মৃত্যু একত্রিত হলে সৃষ্টি হয় এক অমোঘ নরক।”
লোকটা ধূসর রঙ্গের চোখের ব্যাক্তিটাকে ইশারা করে। তাদের দুইজনকে পাশা – পাশি দাড়াতে দেখে বালিতে আহত ব্যাক্তিটা আতঙ্ক মিশ্রিত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে,
” ক.. কারা তোমরা?
ধূসর চোখের ব্যাক্তিটা পৈশাচিক হাসি দিয়ে বলে,
” I’m a gangster. আফ্রিকার মহারাজা ! ব্লেক ভাইপার গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান!
— আর আমি গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের বন্ধু আরিশ ইলহাম। সেই রাজ্যের আরেক দখলদারী।
নিক আর আরিশ পাশা – পাশি দাঁড়ায়। দুইজনের চোখে উন্মদনা, মুখে হিংস্রতা আর ঠোঁটে পৈচাশিক হাসি।
লোকটা ভয়ে আৎকে উঠে। কাঁপা গলায় আওড়ায়,,

” গ.. গ্যাংস্টার! আমার কাছে কি?
নিক ঠোঁট উল্টে এগিয়ে আসে।উপকূলীয় বাতাসে জড়ানো ছিল এক ধরনের গন্ধ, রক্ত, লোনা জল।
নিকের চোখ জুড়ে কেবল আকুতি নয়, বরং বিভীষিকার শূন্যতা। লোকটা জানে সে আর মানুষ নয় শুধু অপেক্ষমাণ দেহমাত্র।সেই দৃষ্টিই উপচে পড়ছিল।
নিক সেই দৃষ্টির মধ্যেই চেয়ে থাকল দীর্ঘক্ষণ।
তার চাহনিতে ছিল এমন দহন যা কোনও অস্ত্র প্রয়োগ না করেও হাড় চূর্ণ করতে পারে। তার মুখে তখন উচ্চারিত হয় আরেকটি বাক্য। যেটা এক ধ্বংসের স্তবক___
“জীবনের সব হিসাব আমি নিই রক্তে।
তুই এখন আমার সংখ্যা মাত্র ।
ভয়ংকর সেই প্রধ্বনি আবার ও ভেসে আসে,

” যদি আমি কোনো জিনিসের প্রতি আকর্ষিত হয়ে পড়ি সেটা যে কোনো মুল্যেই ছিনিয়ে নেই। শেষ পর্যন্ত লড়াই করি। হয় রক্তপাতে নাহয় নিশ্বঃব্দে। হেরে যাওয়া আমার একদম পছন্দ না। কোনো কিছুতে জিতার জন্য সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করতে সক্ষম।তর জায়গাটা চেয়েছিলাম কিন্তু দেস নি। দ্বিগুন টাকার অফার করেছি কিন্তু আমার লোকের সাথে রাগ দেখিয়েছিস। এখন বুঝবি সেই না করার ফল ঠিক কতটা ভয়ানক। খোলা আকাশ হবে তর মৃত্যুর সাক্ষী, বাতাস হবে তার দলীল। এই সমুদ্র তর রক্ত পান করবে।
নিকের এক একটা শব্দে বাতাস ভারী হয়ে উঠে। আকাশে একটি বাদুড়ও ডাকল না। আর বালির নিচে গাঁথা সেই মানুষ জানে সামান্য মুহূর্তের মধ্যেই সে পরিণত হবে ইতিহাসহীন এক মৃতদেহে। সে ভয় পেতে ভুলে গিয়েছে। স্তব্দ হয়ে থম মেরে তাকিয়ে থাকে নিচের দিকে। শেষ বারের মত কারোর চেহারা ও ভেসে উঠছে না। কারন সে ছিলো এতিম। যার কোনো বাবা – মা ছিলো না। জীবনে বিয়ে ও করে নি। তিল তিল করে নিজের জমি রেখেছিলো। এত সহজেই কি কারোর কাছে বিক্রি করা যায়! বিক্রি করতে না পারাটাই আজ আমার কাল হয়ে দাড়ালো।
নিক নির্বাক, নির্ভয়, নির্দয় এক নাম।ঝুঁকে পড়ে শিকারের কাঁপা মুখের উপর। চোখে তার সেই ধূসর ধ্বংসচাউনি যা হৃদয়ের ভেতরকার রক্ত জমিয়ে দেয়।

হঠাৎই তার হাতে ঝলসে ওঠে “পেনেট্রেটিং ক্র্যানিয়াল অ্যাক্স” —একটি ধারালো বিশেষ অস্ত্র, যা মাথার খুলির গভীর ছিদ্র করে হাড় ভেঙে ফেলতে সক্ষম। নিস্তব্ধতা চিড়ে হঠাৎ নিক লোকটার মাথায় এমন এক নিখুঁত কোপ বসায় যার শব্দ “টচররাক” বলে প্রতিধ্বনিত হয় চারদিকে।
মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়ে এক মুহূর্তে নিস্তেজ শরীরের উপরে গড়িয়ে পড়ে। রক্ত বালির উপর এক আঁচড়ের মত ছড়িয়ে পড়ে।কেউ আঁকছে দুঃস্বপ্নের অক্ষর।
নিক ঠান্ডা হাতে “বডি ব্যাগ” খুলে নেয় যেটা কালো ও ভারী। ভিতরে হাজারো নীরব আর্তনাদ জমে আছে। বিচ্ছিন্ন মাথাটি সে তুলে রাখেন সেই ব্যাগে। তবে সেটি কেবল এক নমুনা কোনো এক কোনো ট্রফি।
এরপর সে ধীরে ধীরে তার ধাতব যন্ত্রপাতি বের করে।

ডার্মাটোম ব্লেড নামক এক যন্ত্র দিয়ে লোকটার অর্ধ বাহির করা শরীরের চামড়া কাটে ধীরে ধীরে। আরিশ স্কিন-পিলিং হুক এগিয়ে দেয় চামড়ার নিচের স্তরগুলো আলাদা করে তোলে। নিক ধীরে ধীরে দক্ষ হাতে চামড়ার নিচের স্তরগুলো আলাদা করতে থাকে। বাম হাতে ইলেকট্রিক বডি স্ক্রেপার দিয়ে গাঢ় স্তরের চামড়া ও মৃত কোষ তুলে আনে। কিন্তু এইখানে তা ব্যবহৃত হয় মাংস ছেঁড়ার মত করে।
চামড়াহীন দেহের উপর নিপুণ কুশলতায় যন্ত্র চালিয়ে যেতে থাকে নিক। একটুও তাড়াহুড়ো নয় বরং সময় থেমে গেছে।আর সে শিল্পী আর মাংসই তার ক্যানভাস।
রক্তাক্ত মাংসের উপর আকঁ আকিঁ করে অপথ্যালমিক ফোর্সেপ বের করে। যা চোখ টেনে তোলার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। নিক যন্ত্রটা খোলা চোখে ডুকিয়ে দেয়। লোকটার দেহ মস্তিষ্ক আলাদা হয়েছে পড়েই নেতিয়ে পড়েছিলো। রুহ বের হয়ে গিয়েছিলো অনেক আগেই। এখন অনুভুতিহীন এক পুতুল। নিক চোখে খুঁচা দিতেই রক্ত গড়িয়ে পড়ে মুখের উপর দিয়ে। সাদা অংশ লাল হয়ে যায়। নিকক হেসে সেদিকে তাকিয়ে। দুটি চোখ উঠিয়ে নেয় সে এমন সাবলীলতায় যেন কেবল দুটো গ্লাস বল তুলছে।
লোকটার মুখ এখন চামড়াহীন এক রক্তজলন্ত জমিন।যেখানে নিক নিজের ছুরি দিয়ে ল্যাটিন অক্ষরে কিছু লিখে যায়। শুধু তার চোখের কোণ টানটান হয়ে থাকে। ঠোঁট হালকা বাঁকায়। মৃত্যুর গায়ে সে নিজের নাম স্বাক্ষর করছে।

“Vivo per Dolorem”
লেখাটা খোদায় করে নিক পিঠ টান – টান করে দাঁড়ায়। তার ঠোঁটের কোণে যন্ত্রণাদায়ক এক পৈশাচিক তৃপ্তির রেখা খেলে যায়।
তার শ্বাস প্রশ্বাস ছিল গম্ভীর। অথচ কণ্ঠনালীর গভীর থেকে বেরোনো প্রতিটি শব্দ যেন জল্লাদের কুঠারের মত ধারালো,
“তোর কষ্ট আমার রসদ।
তোর আতঙ্ক আমার প্রার্থনা।
তোর মৃত্যু আমার শুদ্ধি।”

এনি এত বড় বদ্ধ রুমে শুধু অসহায়ের মত ছটফট করছে। দুশ্চিন্তায় শরীরের প্রতিটা রক্ত হীম শীতল হয়ে যায়। সেই গ্যাংস্টার যদি রাতে তার কাছে আসে! রক্ষিতার পূর্নাঙ্গ ব্যাখ্যা হয়ত আমি জানি না। তবে এইটুকু জানি আমি কারোর কেনা গোলাম হয়ে গিয়েছি। সে পিশাচটা যদি আমার ইজ্জত লুট করতে চলে আসে! তারা হিংস্র, তারা ভয়ানক জাতি। তারা মানুষের কান্না – হাহাকার বুঝে না কখনো। তারা খারাপ, খুব খারাপ। এনি দেয়ালের সাথে ঘেষে জড়োসরো হয়ে বসে পড়ে। চুলগুলো পাগলের মত এলোমেলো হয়ে আছে। চোখের পানি শুকিয়ে দবদবে ফর্সা মুখটায় দাগ পড়ে গিয়েছে। এনি কাঁপছে আবার মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে উঠছে। আজ রাতটা অন্তত বাঁচতে হবে। ওই পিশাচটা যাতে আমার কাছে না আসে! এনি দুই হাটুর মধ্যে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে বলে উঠে,
” help me allah, ohh allah help me.
” Save me from this place.
” Take me out of this beast’s kingdom
আমার আপা! আমার আপা কি করছে? নাবিদ! নাবিদ কি করছে? তারা কি আমাকে খুঁজছে না? তাহলে কেনো আসছে না আমার কাছে? কোথায় তুমি আপা? আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান নাবিদ। ভয় হচ্ছে, কষ্ট হচ্ছে। শরীরের প্রতিটি রক্ত বিন্দু যেন জমে আছে আতঙ্কে। কোথায় আপনারা?
” Ohh allah help me.

রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে পাগলের মত ছুটাছুটি করছে বিশ বছরের এক যুবতি মেয়ে। রাতের অন্ধকারেও পুরো শহর ল্যাম্পস্টের আলোতে আলোকিত। শরীরে একটা জিন্স প্যান্ট , টপস। গলায় উড়না পেঁচানো। মেয়েটা খুব দ্রুত থানায় প্রবেশ করে। থানায় প্রতিটি পুলিশ প্রায় ঘুমিয়ে গিয়েছে। হাতে গনা কয়েকজন পুলিশ জেগে রয়েছে। মেয়েটা পুলিশদেরকে অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করে,
” আমার বোন কোথায়? প্রায় বিশ দিনের মত হতে চলল আপনারা সামান্য খোঁজ দিতে পারেন নি। যদি কাউকে খুঁজে বের করার মত শক্তি না থাকে তাহলে পুলিশের পোশাক কেনো গায়ে লাগিয়েছেন? আপনারা কেনো মনযোগী হচ্ছেন না সেদিকে? ও ছাড়া আমার এই পৃথিবীতে কেউ নেই। মরে যাব তাকে না পেলে। ইউ আর নট ডুইং এনিথিং ইন-টেন-শন-অলি।
মেয়েটাকে পাগলামী করতে দেখে হুট করে পিছন থেকে এক যুবক এসে বলে,
” শান্ত হও নাজলী। ওরা ওদের মত চেষ্টা করছে। পুরো ইরান তন্ন- তন্ন করে খুঁজে চলছি কিন্তু এনির সামান্য খুঁজ পর্যন্ত পায় নি।
নাজলী কান্নায় ভেঙ্গে পডে,,

” কি করব আমি নাবিদ? আমার বোনটাকে আমি হারিয়ে ফেললাম নাতো?
নাবিদ চমকে উঠে। নাজলীর কথাকে উপেক্ষা করে বলে,
” ইরানের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি হয়েও আমি আজ অসহায় নাজলী। যাকে আপন করে পাবার জন্য বাল্যকাল থেকে অপেক্ষা করছি সে আজ বিশ দিন যাবৎ নিঁখোঁজ। বিশটা দিন ধরে তাকে দেখতে পাচ্ছি না। আজ টাকা কোনো সহায় হচ্ছে না? যদি প্রয়োজন পরে আমি আমার সব অর্থ – সম্পদ বিলিয়ে দিব। এরপর ও এনিকে খুঁজে আনব। পাতালে থাকলে পাতাল থেকে হলেও নিয়ে আসব। শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করে যাব তাকে পাওয়ার জন্য। চিন্তা করো না নাজলী নাবিদ বেঁচে থাকতে এনির কিছু হবে না।
নাজলী সহায়তার চোখে তাকায়। নাবিদ চোখ দিয়ে আশ্বস্ত করে। এরপর পুলিশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” প্রতিটি নিউজের খবর রাখো। প্রয়োজন হলে বিদেশ ও খবর পাঠাও।
পুলিশ — জি স্যার।
নাবিদ — দশ দিন সময় দিচ্ছি আমি তোমাদেরকে। এই দিনের ভেতরে প্রতিটি সংবাদের খবর পাঠাবে আমার কাছে।

রাত নেমেছে ধীরে। কারো বিষণ্ণ দীর্ঘশ্বাসে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে চারদিক। জানালার বাইরে ঝুলে আছে আধখানা চাঁদ। তার ফ্যাকাশে আলোটা নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে পড়েছে। সেই নিঃসঙ্গ আলোর ছায়ায় খাটের এক কোণে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে এক কিশোরী। চোখ দুটো বন্ধ, নিঃশ্বাস ভারী মাঝেমধ্যে একটু কেঁপে ওঠে। স্বপ্নেও কিছু একটা তাকে তাড়া করছে। তার কপালের কাছে ঝরে পড়েছে ক’টা এলোমেলো চুল। নিঃস্তব্ধতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন নিঃশব্দ সুর বয়ে যাচ্ছে।
চাদরটা অর্ধেক গড়িয়ে পড়েছে মেঝেতে। ঘরের এক কোণে বাতাসের জন্য পর্দা দোল খাচ্ছে।
নিক আর আরিশ সেই বাড়িটায় প্রবেশ করে। এখন রাত প্রায় একটার কাছাকাছি। আরিশ মেইন দরজা খুলে ডিভানে ধপাস করে বসে পড়ে। কোর্ট- টা এক পাশে রেখে নিক ও পাশে বসে পড়ে। নিক আর আরিশের উপস্থিতি পেয়ে কয়েকজন স্টাফ এগিয়ে এসে বলে,

” স্যার আপনাদের জন্য কিছু নিয়ে আসব?
আরিশ — এক গ্লাস লেবুর রস।
নিক গম্ভীরতা নিয়ে বলে,
” মেহের খেয়েছে?
স্টাফ মাথা নিচু করে বলে,
” আপনার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিছু খায় নি এখনও।
নিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে।।জানত এমন উত্তর ওই সে শুনবে। নিক স্টাফকে আদেশ দিয়ে বলে,
” মেহেরের জন্য একটা প্লেটে খাবার সাজিয়ে নিয়ে আসো।
স্টাফ মাথা নাড়িয়ে চলে যায়। আরিশকে একজন লেবুর রস এসে দিয়ে যায়। আরিশ সেটায় সামান্য চুমুক দিয়ে বলে,
” মেহেরের উন্মাদনা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে নিক। সময় থাকতে আয়ত্তে নিয়ে আয়।
নিক — কোথায় আমি তো এমন কিছু দেখছি না।
আরিশ — কারন মেহের তর সামনে কিছু বলে না। বাট তার পাগলামো দিন দিন বেড়ে চলছে। এই দেখ তর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো। তর সাথে খাবে বলে।
নিক গম্ভীর হেসে বলে,

” জীবনের প্রথম কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করে আরিশ। যদি বাড়াবাড়ির লক্ষন প্রকাশিত হয় তাহলে নিক সেটাকে আয়ত্তে আনার উপায় জানে।
আরিশ কাঁধ বাকায়। স্টাফ নিকের কাছে খাবার দিয়ে গেলে সে এইটাকে নিয়ে উপরে চলে যায়। এরপর মেহেরের দরজার কাছে গিয়ে হালকা হাতে দরজাটা ধাক্কা দিয়ে খুলে। তারপর আলোকিত রুমটাতে ধীর পায়ে প্রবেশ করে। মেহের হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে গম্ভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। নিক সেদিকে তাকিয়ে গম্ভীর নিশ্বাস ছাড়ে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে। নিক প্লেটটাকে বেড সাইডে রেখে বুকে হাত গুঁজে গম্ভীরতা নিয়ে ডাক দেয়,
” মেহের উঠে বসো। মেহের! মহের!
নিকের পর পর ডাকাতে মেহের পিটপিট করে চোখ তুলে তাকায়। হুট করে ঘুম ভাঙ্গাতে মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। মাথায় চাপ প্রয়োগ করে ভালোভাবে বসে। চোখের সামনে নিককে ঝাপসা দেখতে পেয়ে ঘুম উধাও হয়ে যায়। খুশিতে আত্নহারা হয়ে বলে উঠে,

” উফফ নিক! তুমি এখানে? তোমাকে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না।
নিক মেহেরের উল্লাসিত মুখটার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর আওয়াজে বলে,
” নিক নয়। ভাই বলে ডাকবে আমাকে। আই রিপিট ভাই বলে ডাকবে। পরেরবার যাতে নাম উচ্চারন করতে না দেখি।
মেহের থতমত খেয়ে শান্ত হয়ে বসে পড়ে। মাথার এক পাশে চুলকিয়ে মুচকি হাসে। নিক খাবারের দিকে ইশারা দিয়ে বলে,
” দ্রুত খাবারগুলো খেয়ে শেষ করো। পরের বার যাতে আমার জন্য অপেক্ষা করে নিজে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে না দেখি। লাস্ট বার আমি তোমাকে বলে যাচ্ছি মেহের।
মেহের মাথা নাড়িয়ে বলে,
” তুমি খাবে না?
নিকের শক্ত জবাব,
” না ”
সামান্য সময়ের জন্য মেহের মনটা বিষিয়ে উঠে। তবে সেসব উপেক্ষা করে হাসি দিয়ে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১

” আমি খেয়ে নিচ্ছি। তুমি ও খেয়ে নিও। যদি কোনো প্রয়োজন পড়ে তাহলে একটা ডাক দিবে আমি সেকেন্ডের ভেতর হাজির হয়ে যাব।
— প্রয়োজন পড়বে না। নিজে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।
নিক বেরিয়ে যায় রুম থেকে। মেহের নিকের প্রতিটি পদচারনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মনের অজান্তেই বলে উঠে,
” আই লাভ ইউ নিক। এই ছন্ন- ছাড়া পুরুষটাকে আমি বড্ড
ভালোভাসি।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩