obsession vs love part 13
নিরুর কল্পনারাজ্য
—আমি কী আপনার ডান্স পার্টনার হতে পারি মিস ঝিলিক মির্জা?
ঝিলিক আইয়ুশকে বলে তো এসেছিলো সে অবশ্যই এবং অবশ্যই সায়নের সাথে নেচে দেখাবে তবে তা স্বয়ংসম্পূর্ণ করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ তার মাঝে ছিলোনা। অযাচীত পুরুষের ছোঁয়া তার জন্য অস্বস্তিকর। তাছাড়া সায়ন চৌধুরী প্রফেসর। আর তাকে এসবের জন্য প্রশ্ন করা অন্ততপক্ষে তার মতো ছাত্রীর দ্বারা সম্ভবপর নয়। সায়ন যদিও প্রফেসর। তবে হয়তো নতুন আর নয়তো সে-ই কখনো তাকে খেয়াল করেনি। এর আগে ঝিলিক তাকে দেখেনি কিনা কখনো! ঝিলিক জেদ নিয়ে বেরিয়ে আসার পর সেখানে উপস্থিত সকলের মাঝে একধরণের বাছাই করার পালা আসে। লাইমলাইট যার ওপর পড়বে সে নিজের পার্টনার পছন্দ করতে পারবে। দূর্ভাগ্য এবং সৌভাগ্যবশত তা সায়নের ওপর-ই পড়েছে। সকলে হাততালি দিলেও তিয়ারা অবাক হলো।
ওদের মনে হয়না সায়নের মতো অন্ততপক্ষে কেও স্টেইজে গিয়ে পার্ফম করবে। অথচ তাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে সায়ন এক পা-দু’পা করে ঝিলিকের পানেই এগিয়ে গেলো। খুবই জেন্টালভাবে বাম হাতখানা এগিয়ে দিয়ে উপরোক্ত কথাখানা বললো। ঝিলিক সেই মুহূর্তে হতভম্ব হয়ে গেলো। ওর কী বলা উচিত ও ভেবে পেলোনা! আশেপাশে সকলেই তাদের দিকে তাকিয়ে। নির্ঝর সমানে ওকে উষ্কিয়ে যাচ্ছে। প্রফেসর-ছাত্রী ডুও! ওর মতে-এই জুটি হিট করবে!
ঝিলিক প্রথমে মানা করতে চাইলো। অথচ কিছুক্ষণ আগে আইয়ুশের বলা কথা মনে হতেই ওর মাঝে জেদ চেপে গেলো। আইয়ুশ যদি সবকিছুকে পেছনে ফেলে সুখী থাকতে পারে তবে সে কেনো পারবে না? সে-ও অবশ্যই মুভ অন করবে। অন্ততপক্ষে ওকে দেখানোর জন্য হলেও করবে।
সেই হেতু নিয়ে আগানোর আগে ঝিলিক ফিসফিসিয়ে সতর্কবাণী ছুড়লো,
—কিন্তু আমাকে ছোঁয়া যাবেনা!
সায়ন হাসে। নির্দ্বিধায় মাথা পেতে নেয় তার সকল শর্ত। চোখে তার অভূতপূর্ব মুগ্ধতা। ঝিলিক আরও বলে,
—আমি বেশি স্টেপ ফলো করবোনা; আমার কিছু পার্সলনাল প্রবলেমস আছে!
সায়ন তাও মেনে নেয়। মাথা নাড়ায় নিঃশব্দে। মুখে বলে,
—আই উইল অনলি টেইক টু মিনিটস ফ্রম ইউর লাইফ। আসলে এখানে তো তেমন কাওকে চিনিনা। আমি চাইলে ইগ্নোর করতে পারতাম তবে এতে করে মজাটা-ই নষ্ট হয়ে যেতো। তাই তোমাকেই বেছে নিলাম!
ঝিলিক আন্তরিকতা দেখাতে হাসে অল্প৷ অতঃপর দুজনেই ডান্স ফ্লোরে যায়। কেও কাওকে স্পর্শ না করে; অতরঞ্জিত কোনো স্টেপ ফলো না করে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নেচে যায়! [স্টেইজের পরিবর্তে ডান্স ফ্লোর ব্যবহৃত হয়েছে]
অথচ এতটুকুতেই আইয়ুশের বাধ ভেঙে যায়। ওদের দুজনকে সকলেই চিয়ার আপ করে যাচ্ছে অনবরত। কেও কেও ফিসফিস করে ‘বেস্ট কাপল’ উপাধিও দিচ্ছে। অবশ্য এতসবে কী আর আইয়ুশ ঠিক থাকতে পারে? বউ তো তার। অথচ ওই পুরুষের সাথে এতোটা আন্তরিক সম্পর্ক!
সব একপাশে রেখে ঝিলিক যা বলেছে তাই করেছে? ও এতোটা কঠিন কবে থেকে হলো? সেসব অবশ্য আইয়ুশ ভাবতে পারেনা। রক্তাত ওই হাত মুষ্টিমেয় হয়। ফলস্বরূপ অবিরত রক্ত ঝরতে থাকে। সেদিকে খেয়াল নেই পুরুষটির। চোখদুটো বুজে নেয় আইয়ুশ। ওর মাথা থেকে বেরিয়ে যায় যে-আইয়ুশ কারো নিয়ন্ত্রণে এবং তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ঝিলিকের সাথে যতদ্রুত সম্ভব সব শেষ করে ফেলার। নাহলে..নাহলে প্রলয় নামবে!
দু’কদম এগোতেই তার ফোনে নোটিফিকেশন আসে। সে থমকে যায়। হাতে থাকা ফোনখানা অবহেলায় ফেলে রাখবে ভেবেও পারেনা। অনবরত নোটিফিকেশন আসতেই থাকে। না চাইতেও তার দৃষ্টি তার ফোনের পানে যায়। যেখানের একটি মেসেজ এমন ছিলো যে-
— COME AND FIND ME. IF YOU CAN!
~MK
আইয়ুশের কপালে ভাঁজ পড়ে। মানে? মানে সেই পুরুষটি আনাচে-কানাচে কোথাও? আইয়ুশের সেই সম্ভিত হতেই সে একপলক ডান্স ফ্লোরের পানে চায়। পরপরই ছুটে যায় লোকসমাগম থাকা ভীড়ে। সকলকে পরখ করে যখন তার বাজপাখির নজর বুঝতে সক্ষম হলো এখানে এমকে নেই তখনই তার নজর ওপরের দিকটায় পড়লো। ওপরে নেই তো? দ্রুতবেগে সিঁড়ি বেয়ে ওপরের দিকে ছুটে যায় সে। ওপরের দিকটায় মিউজিকের আওয়াজ বহু অংশে কম। আইয়ুশ দোতলায় থাকা প্রতিটি রুম পরখ করে। নির্ঝর-তিয়া-তোতা-ঝিলিক সকলের টা। বাকি রইলো ঐশীর রুম! ঐশীর রুমেও কেও নেই। তাহলে কী ওটা শুধুমাত্র তাকে ভয় লাগানোর কোনো সূক্ষ্ম পরিকল্পনা? এসব ভাবনা যেনো আইয়ুশের মাথা খুঁড়ে খাচ্ছে। করিডোর পেরিয়ে তার রুমের দিকে আসতেই হঠাৎ কোনো এক চেনা-পরিচিত; বলাবাহুল্য অতিবিভীষিকাময় এক সুরেলা শিষ তার কর্ণকুহর হয়।
~আলতো ছোঁয়ায়,
চোখের চাওয়ায়—
পাওয়া না পাওয়ার কী যে নেশা!
সেই স্মৃতিটাই,
আজও হাতরাই—
হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা!
আইয়ুশের হুট করে মাথা ঝিম মেরে ওঠে। মনস্পটে ভেসে উঠতে আরম্ভ করে বিভৎস কিছু স্মৃতি। ওর মাথা ধরে ওঠে। সেই একই সুর। দু’হাতে মাথা চেপে নিজেকে শান্ত করার প্রয়াস চালায় সে। চোখ বুজে নিজেকে শান্ত করে। কোনোরকমে নিজের খোলা রুমে গিয়ে পৌঁছায়। তবে আশ্চর্যের বিষয় এখানে কেও নেই। কেও নয়! অদ্ভুত! এ-সুর তার মতিভ্রম নয়। এমকে এতোটা চালাক? নিজমেই আওড়ায় সে,
—শিট শিট শিট! হোয়াট আই ডিড ম্যান। আ’ম লেইট।
রাগ সামলাতে না পেরে পাশে ডিভানে সজোরে লাথি মারে। অশান্ত সে যখন এসবে ব্যস্ত তখনই পেছন থেকে তার কাধে কেও হাত রাখে। আইয়ুশ পিছু ফিরতেই সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ব্যক্তি– প্রগাছ নীল মণিযুক্ত সায়নকে দেখতে পায়। ও এখানে কী করছে সেটাই বুঝে আসেনা আইয়ুশের। ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান কন্ঠে বলে,
—কারো রুমে না বলে ঢোকা যে অভদ্রতা প্রফেসর হয়ে এটা জানা নেই?
সায়ন ভড়কে যায়। খানিকটা বিরক্ত ও। গম্ভীর মুখে বলে,
—না মিস্টার আইয়ুশ! আপনাকে তখন করিডোরে দেখেছিলাম। অসুস্থ মনে হয়েছিলো। আমি আসলে দোতলায় থাকা গেস্টরুমটাতে যাচ্ছিলাম।
obsession vs love part 12
—কিছু হয়নি আমার যান আপনি।
সায়ন অপমাণিতবোধ করলো। যেচে পড়ে সাহায্য করার কী এমন প্রয়োজন তার? সে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই আইয়ুশের কাঠকাঠ কন্ঠের পুরুষালি স্বর ভেসে আসে,
—আর হ্যাঁ! পড়াতে এসেছেন-পড়ার সাথে সংযোগ হয় যেনো। ঝিলিকের কাছ থেকে দূরে থাকবেন!
বলেই নিজেই প্রস্থান নেয়। দ্বিধান্বিত দৃষ্টে চেয়ে থাকে তার পানে। পরক্ষণেই হেসে ওঠে। বাকা সেই হাসি!
