obsession vs love part 14
নিরুর কল্পনারাজ্য
—আমার বাচ্চা পেটে নিয়ে পরপুরুষের সাথে এতো নাচানাচি কিসের তোমার ঝিলিক?
নিচে অনুষ্ঠানে অতো লোকসমাগমের মাঝে বিরক্ত লাগায় একা ছাদে এসেছিলো ঝিলিক। এখানটায় যেনো বড্ড সুখ পায় সে। অনেকটা। ওই দূর আকাশে চোখ রাখলেই ঝিলিকের বিষণ্নতা চুরি করে নেয় দলা পাকানো মেঘগুলো। আর রাতের আকাশের তারাগুলোই যেনো তার একমাত্র হারিয়ে যাওয়া দিশা। ছাদের রেলিং ঘেষে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখতে দেখতে তা-ই ভাবছিলো ঝিলিক। পেছন থেকে পরিচিত পুরুষালি স্বর পাওয়ার পরও সে পেছন ফেরেনা। বরং পুরুষটি এসে তার পাশ ঘেষে দাঁড়ায়। শুভ্র রঙা পাঞ্জাবি আর উজ্জ্বল গায়ের রঙে যেনো জ্যোৎস্নার রাজত্ব আইয়ুশের এই রূপকে অনেকগুণে বাড়িয়ে দিলো। ঝিলিক ধীরেসুস্থে কটাক্ষের স্বরে উত্তর দেয়,
—পরপুরুষ?
—তা নয়তো কী?
ঝিলিক শ্লেষাত্মক হাসে। বিরোধ করে বলে,
—পরপুরুষ তো তখন হতো, যদি আমার স্বামী থাকতো!
আইয়ুশের মুখ ফসকে নিজের অজান্তেই রাগান্বিত স্বর বেরিয়ে আসে,
—মরে গিয়েছি আমি?
ঝিলিক এবারে তাকায় আইয়ুশের দিকে। আইয়ুশ তড়িতে বুঝে ফেলে নিজের ভুল। দৃষ্টিগোচর করতে সে চোখ ঘোরায় এদিক-সেদিক। ঝিলিক এক ভ্রু উঁচু করে শুধায়,
—বউ বলে মানছেন তবে?
আইয়ুশ নিজেকে শুধরে গাম্ভীর্যতা নিয়ে বলে,
—তোমাকে বউ মানার প্রশ্নই ওঠেনা।
—বাহ! দারুণ। আর আপনি যে সোজা বিয়ে করে নিয়ে এলেন তার বেলা? লাইক সিরিয়াসলি? ব্যপারটা এমন হয়ে গেলোনা যে–আপনি করেন তো রাশলীলা আর আমি করে তো ক্যারেক্টার ঢিলা? খুব সুন্দর আইয়ুশ মির্জা!
বিদ্রূপ করে কথাগুলো বলা শেষে আইয়ুশেরও একই তেজস্বী স্বর ভেসে আসে,
— ওই ছেলেটার ছোঁয়া তোমার কাছে বিষাক্ত মনে হয়নি? তুমি কীভাবে পারলে ওই ছেলেটার সাথে নাচতে?
—আপনার নিজেকে লম্পট মনে হয়না যখন আপনি সারারাত অন্য একজন মেয়ের সাথে কাটান? নিজেকে বেঈমান মনে হয়না–যখন তাকে আপন করেন?
আইয়ুশের স্বর অল্প বেড়ে যায়,
—ঝিলিক!
—আওয়াজ নিচে আইয়ুশ মির্জা। ঝিলিককে শাসানোর অধিকার আপনার নেই!
ঝিলিক অবশ্য চলেই যাচ্ছিলো। আইয়ুশের কথা তাকে পা থামিয়ে দেয়।
—তুমি ভুলে যাচ্ছো ঝিলিক, তুমি গর্ভবতী!
ঝিলিক আইয়ুশের শক্ত চাহুনিতে নজর নিবদ্ধ করলো। আইয়ুশের চোখে তেজ দেখতে পাচ্ছে সে। আগুনের লাভা যা ভস্ম করতে পারে সব। ঝিলিক অবশ্য সেসবে পাত্তা দেয়না। একবার এই চোখের মায়াজালের অতল গহ্বরে হারিয়ে বিনিময়ে যথেষ্ট সম্মান পেয়েছে সে। দ্বিতীয়বার একই ভুল করার মেয়ে ঝিলিক নয়। এমুহূর্তে ঝিলিককে যেনো কোনো কৌতুক শোনানো হয়েছে। সেই ভঙ্গিতেই ফিক করে হেসে উঠলো সে। চাঁদের আলোতে সেই হাসিতে বিদ্রূপ এবং অনীহা দেখা গেলো আইয়ুশের প্রতি। হাসি থামিয়ে ঝিলিক বললো,
—কে এসব বলছে? বাচ্চাটাকে যে দুনিয়া দেখার আগেই নিঃশেষ করতে চেয়েছিলো? এতো ভণীতা কিসের আপনার? অনুশোচনা হচ্ছে খুব?
আইয়ুশের বুক কেঁপে উঠলো তার প্রতি ঝিলিকের এমন অনীহাতে। সে কী ওই চোখদুটোতে ঘৃণা দেখতে পাচ্ছে তার জন্য? হয়তো পাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগের কথা তার মনে পড়ে গেলো। এমকে এসেছিলো। আইয়ুশ একদম নিশ্চিত। তা মাথায় রেখে শক্ত কন্ঠে অন্যপাশ ফিরে বলে,
—অনুশোচনা? অনুশোচনা কেনো হবে? তুমি কী আমার জন্য আহামরি কেও?
—হলে কী আর এভাবে স্ত্রী-সন্তানকে ত্যাগ করতে পারে কেও?
—তাহলে অনুশোচনা হওয়ার প্রশ্ন-ইবা উঠছে কোথা থেকে?
ঝিলিক নিচে তাকায়। চোখ ভরে আসছে তার। এমনসব কঠোর বাক্য কেনো তৈরি করা হলো? অবশ্য ঝিলিক যদি চোখ তুলে তাকাতো তবে সামনের পুরুষটির চোখেও দেখতে পেতো গভীরভাবে ভালোবাসার পরিণাম কতটা ভয়ঙ্কর–যা পুরুষ মানুষের চোখে অব্দি জলের সমারোহ ঘটায়। তাদের কথার মাঝেই হঠাৎ সেখানে সাঁঝ আসে। অবশ্য একা নেই। সাথে তিয়া আর নির্ঝরও। সাঁঝ উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে এসে আইয়ুশের হাত ধরে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালায়। হুট করে আইয়ুশের হাত টেনে ধরায় আইয়ুশ বুঝতে পারেনা চলমান ঘটনা। সাঁঝ তাকে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলছে,
—আপনি এখানে? আর আমি সারা বাড়ি আপনাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। আসুন, নিচে সবাই আপনাকে খুঁজছে!
ঝিলিক চোখ ঘুরিয়ে সেদিকে একবার চাইলো। না চাইতেও চোখ সাঁঝের সেই পেঁচিয়ে রাখা হাতখানাতেই গেলো যা আইয়ুশের হাতকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। তাচ্ছিল্যের হাসি বেড়িয়ে এলো তার ভেতর থেকে। বুকে যে প্রচন্ড জ্বালা হচ্ছে। একদম শক্ত যে সে চেয়েও হতে পারছেনা। হতে পারলে বোধহয় সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটা হতো। হতে পারার কথাও তো নয়! কিশোরী বয়সের প্রথম প্রেম ভোলা সম্ভব কী? সম্ভব নয়!
আইয়ুশ অবশ্য যখন ঝিলিকের ঘোর থেকে বেরিয়ে আসে তখনই সাঁঝের হাত থেকে নিজের হাত ভাড়ি মেরে ছাড়িয়ে নেই। সাঁঝ তা দেখে। হাসি ধীরে ধীরে মিইয়ে যায় তার। হাত সরিয়ে নেয় সে। তবু দীপ্তি তার ফোঁটাও কমে না। অভ্যন্তরে ভঙ্গুরতা অনুভব করলেও বাহ্যিক আচরণে তা বোঝা দায়। নির্ঝর অপর হাত টেনে ধরে। পরপরই সেখানে তোতাও আসে। তারা দু’জনে মিলে টেনে নিয়ে যায় আইয়ুশকে,
—ভাই, চলো! তোমাদের ওদিকে খুঁজছে সবাই।
আইয়ুশ যেতে যেতে ঝিলিকের পানে চাইলো ঘাড় ঘুরিয়ে। ঝিলিক অবশ্য তাকিয়ে ছিলো না। তাই আইয়ুশের সাথে চোখাচোখিও হয়নি। ফলস্বরূপ আইয়ুশের চোখের অসহায়ত্ব সে জানতে পারলোনা; বুঝতে পারলোনা সেই পুরুষটির তীব্র যন্ত্রণা তার চক্ষুদ্বয়ে ঠিক কতটুকু ফুটে উঠেছিলো। কিছুক্ষণের মাঝেই সম্পূর্ণ ছাদ আবারও নিস্তব্দ হয়ে গেলো। কেবল চারপাশে চাঁদের আলো রইলো। তিয়া চলে যাওয়ার জন্য পা আগায় অথচ ঝিলিককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগোয় না। ফেরত এসে ঝিলিককে প্রশ্ন করে,
—ঝিলিক? তুই যাবিনা?
ঝিলিক উত্তর দেয়না। চাঁদের আলোয় তাকে অপ্সরার চেয়ে কম কিছু মনে হলোনা তিয়ার কাছে ওই সময়। ঝিলিক নিজের গোছা চুল হাতের সাহায্যে খোপা করতে করতে আবারও সেই রেলিং এর কাছ ঘেষে দাঁড়ালো। পিছু পিছু তিয়াও এলো। প্রশ্ন করলো,
—কী রে ঝিলিক! কিছু বলছিস না কেনো?
ঝিলিক বিরস মুখে উত্তর করলো,
—তুমি যাও আপু, আমি থাকি একটু এখানে!
—সে কী! এখানে একা থাকবি মানে? নিচে যাবিনা?
—না!
তিয়া খানিকটা আন্দাজ করতে পারলো–ঝিলিকের বোধহয় কোনো কারণে মন খারাপ। তাই কথা ঘোরাতে তিয়া বলে,
—আজকের নাচটা কিন্তু দারুণ ছিলো, একদম চমলক্ক!
তাতেও ঝিলিকের মাঝে কোনো ভাবান্তর দেখা যায়না। সে ঠিক স্থির–রুক্ষ পাথরের ন্যায়! তিয়া তাই আবারও কথা ঘোরানোর চেষ্টা করে। মেঘ ডাকছে তখন। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। মৃদু-মন্দ হাওয়াও বয়ে বেড়াচ্ছে চারিপাশে। এতে ঝিলিকের সামনের কেশদ্বয় নড়ে উঠছে বারংবার। বোধহয় রাতে ঝড় হতে পারে!
ওদিকে আইয়ুশ আর সাঁঝের রিসিপশনের ডেকোরেশনের দিকে তাকিয়ে তিয়া বললো,
—দেখ, কী সুন্দর করে সাজিয়েছে তাই না?
ঝিলিক তা শুনে মৃদু-মলিন হাসে। বিড়বিড়িয়ে বলে ওঠে,
—ওরা আমার দাফনের কাপড় তৈরি করেছে, আপু! আমার মৃত-আত্মার দাফনের কাজ স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে!
অথচ এ’কথাটি মুখ ফুটে আর বলা হলোনা তার। তিয়া বুঝতে না পেরে ফের শুধালো,
—কী বললি?
—কিছুনা। যাও তুমি, আপু। আমি আসছি কিছুক্ষণ পর!
তিয়া অবশ্য যেতে চাইলো না। বললো,
—থাকি তোর সাথে। তুই এই অবস্থায় ছাদে একা থাকবি কেনো?
ঝিলিক ঠোঁট একপেশে করে হাসে। মনে মনে তার ভাবনায় আসে-‘তিয়াও বাচ্চাটার ব্যপারে ভাবছে। অথচ যার বাচ্চা তার কোনো মায়া নেই!’
ঝিলিক দৃঢ় স্বরে বলে,
—তুমি যাও আপু। আমি পাঁচমিনিট পরই নামছি!
—আসবি তো?
—হুম, আসবো!
—পাক্কা?
—হ্যাঁ!
তিয়া তা শুনে পা বাড়ায়। ঝিলিকের কী ওর পাস্টের কথা মনে পড়ছে? ও কী বাচ্চাটার বাবার কথা ভাবছে? শুধুমাত্র ঝিলিকের মন খারাপ হবে বলে তারা কখনো ঝিলিককে এসব নিয়ে প্রশ্ন করেনা। আগে যেমন ছিলো ঠিক তেমনই আচরণ করে সদা। তিয়ার মনে হলো ঝিলিকের বোধহয় এখন একটু একা থাকা দরকার। তাই সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নেমে আসে।
বাগানের দিকটায় ফটো সেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাদ থেকে স্পষ্ট। বাবা-চাচারা বাড়ির গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন। ফটোসেশনের দিকটাতে বর্তমানে নির্ঝর আর আইয়ুশকে দেখা যাচ্ছে। আইয়ুশের সাথে কিছু নিয়ে কথা বলছে বোধহয়। লাইটের আলোতে আইয়ুশকে এতোটা সুন্দর দেখালো ঝিলিকের কাছে। ঝিলিকের মনস্পটে তখন আজ থেকে প্রায় একবছর আগের কিছু দৃশ্য ভেসে উঠলো। লাল রঙা কৃত্রিমে সাজানো ওষ্ঠদ্বয় তাতে কেঁপে উঠলো।
অতীত~
তখন ঝিলিকের আঠারো সবে। এমনই এক পূর্ণিমা ভরা চাঁদের আলোয় ঝিলিক আর আইয়ুশ পরিবারের সকল সদস্যকে ফাঁকি দিয়ে মধ্যরাতে এই জ্যোৎস্না বিলাসে ছাদে এসে বসেছিলো দুজনে। মৃদুমন্দ হাওয়া সাথে প্রিয় পুরুষের সান্নিধ্য ঝিলিকের নাজুক মনকে ভীষণভাবে প্রফুল্লিত করছিলো। আইয়ুশ আর সে মেঝেতে বসেছিলো; খোলা আকাশের নিচে। চঞ্চল রমণী তখন উৎফুল্লতায় আইয়ুশকে প্রশ্ন করেছিলো,
—যখন আমি বড় হয়ে যাবো, তখন আমায় বিয়ে করবেন তো আইয়ুশ ভা…মানে আইয়ুশ?
আইয়ুশ সেসময় রাগত্ব স্বরে বলেছিলো,
—আগে আপনি থেকে তুমিতে আর ভাই থেকে আইয়ুশে শিফ্ট হও, তারপর নাহয় ওসব ভেবে দেখা যাবে। তখন দেখা যাবে আমার বাচ্চা আমাকে বাবা ডাকার পরিবর্তে মামা ডাকছে।
আইয়ুশের গম্ভীরমুখের এই কথায় খিলিখিলিয়ে হেসে উঠলো ঝিলিক। তা দেখে আইয়ুশ নিজেও হাসে। চাঁদের আলোয় ঝিলিককে আইয়ুশের কাছে এতোটা স্নিগ্ধ লাগছিলো যে সে তাকিয়েই রইলো। চোখ ফেরাতে পারলো না। ঝিলিকের হাসিতে তাকে আইয়ুশের চোখে তখন ঠিক কতটা শুদ্ধতম মনে হয়েছিলো তা যদি সামনে খিলখিলিয়ে হাসতে থাকা রমণী জানতে পারতো তখন? নির্ঘাত নিজেকে সুখী নারী মনে করতো। আইয়ুশ হঠাৎ তার বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব করলো। সাথে সাথেই বাম হাতে বুক আঁকড়ে ধরলো। তা দেখে হাসতে থাকা রমণীর হাসি থমকে গেলো। ব্যতিব্যস্ত; চিন্তিত আদলে তাকে শুধালো,
—কী হলো আপনার?
আইয়ুশ তখন হেসে উত্তর দিয়েছিলো,
—তোমার মুক্তঝরা হাসি;
আমার হৃদয়ে তীব্র কম্পনের কারণ!
এভাবে হেসে আমাকে বারংবার ওই হাসির অতল সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণ কী? মরে টরে গেলে তখন তার দায়ভার কে নেবে শুনি?
ঝিলিক সঙ্গে সঙ্গেই রেগে যায়। অভিমানী সুরে বলে,
—এমন কথা বলে বারবার আমায় কষ্ট দেওয়ার কারণ কী আপনার?
আইয়ুশ হাসে মৃদু। অতঃপর স্থির চোখে চেয়ে বলে,
—সাবধান! এভাবে আর কারও সামনে হাসবেনা। এ হাসি শুধু আমার জন্যই বরাদ্দ আজ থেকে!
ঝিলিক বুঝতে পারলোনা হাসবে নাকি অভিমান করবে। ফলসরূপ মুখ ফুলিয়ে বসে রইলো সে। নারী তার শখের পুরুষের কাছেই ভীষণ আহ্লাদী। আইয়ুশ নিজের প্রেয়সীর অভিমান ভাঙাতে ট্রাওজারের পকেট হাতরে কিছু একটা বের করলো। সেটা ঝিলিকের হাতে ধরিয়ে দিলো। ঝিলিক কিছু না বলে মেকি রাগ নিয়েই তা নিলো। অথচ খোলা মাত্রই তার সকল রাগ মুহূর্তেই গায়েব হয়ে গেলো। হাসি খেলে গেলো তার ঠোঁটে। হ্যাজেল রঙা চোখের মণিদুটোও চকচকে হয়ে উঠলো। প্যাকেটে একজোড়া কানেরদুল। এতো সুন্দর দেখতে। ঝিলিকের হাসি দেখে আইয়ুশও নিঃশব্দে হাসলো। চাঁদের আলোতে যেনো তাদের এমন প্রেমময় সাক্ষাৎ পূর্ণতা পেয়েছিলো!!
বর্তমান~
অতীত ভাবতে গিয়েই আনমনে হেসে ফেলে ঝিলিক। হাসতে হাসতেই তার হঠাৎ বাস্তবতা মনে পড়ে গেলো। চোখদুটো ভরে উঠলো সাথে সাথেই। আইয়ুশের দিকে তাকিয়ে আপনমনে বিড়বিড়িয়ে ওঠে রমণী,
—আপনি নেই, অথচ আপনার দেওয়া সেই কানেরদুল আর স্মৃতি এখনও আমি সযত্নে আগলে রেখেছি। কী অদ্ভুত এক জীবন! যেখানে তার দেওয়া জিনিস ক্ষয় হওয়ার আগেই মানুষ বদলে যায়। আর আপনি আমাকেই বদলে নিলেন।
ঝিলিক কাঁদেনা। অন্যমনষ্কে থেকে ফের নিজমনেই আওড়ায়,
obsession vs love part 13
—অবশ্য আগামীকাল আমি চলেই যাচ্ছি। সাথে করে আপনার অংশকে নিয়ে যাচ্ছি। সারাজীবনের জন্য আপনাকে মুক্ত করে। আপনার-আমার স্মৃতিগুলো আমিই নাহয় আজীবন বয়ে নিলাম। আপনি বরং সুখে থাকুন।
আর কক্ষনো আমাদের দেখা না হোক–আইয়ুশ মির্জা!
পরজনমেও আমার জায়গাটা অন্যকারো হোক;
তবু আপনার মতো চরিত্রহীনের সাথে আমার পরিচয় কখনোই না ঘটুক!

গল্প টা কতটুকু পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে লেখক স্যার/ লেখিকা ম্যাডাম