Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৭
সুহাসিনী

রাহি প্রেমের কাছ থেকে ছোটার জন্য চাতক পাখির মতো ছটফট করছে।কিন্তু প্রেম নাছোড়বান্দা।সে নিজের কাজ মনোযোগ দিয়ে করছে।রাহির দিকে তার কোনো খেয়াল নেই।প্রেমের বলিষ্ঠ দেহের শক্তির সাথে রাহির ছোট্ট শরীরের শক্তি কিছুই না। রাহি যখন বুঝতে পারলো সে প্রেমের সাথে পারবে না,শুধু শুধু নিজের শক্তি খরচ করছে তখন আর নড়ল না।সে জানে প্রেম নিজের কাজ শেষ না করে ছাড়বে না তাই জোরজবরদস্তি করে লাভ নেই।
প্রেম নিজের কাজ শেষ করে রাহিকে ছেড়ে দিলো।ছাড়ার আগে রাহির ঠোঁটে কামড় বসাতে ভুললো না। রাহি ছাড়া পেয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে।প্রেম রাহিকে গম্ভীর গলায় বলল,

“কোথায় ছিলে এতক্ষণ?কি হয়েছিল?”
রাহি এবার থমকে যায়।সে বুঝতে পারছে না এই ঘটনা প্রেম আর লিয়ন জানালো কীভাবে। অবশ্য প্রেম পাদ মারলেও লিয়ন জানে তাই তার জানা অস্বাভাবিক কিছু না।কিন্তু কথা হচ্ছে প্রেম জানলো কীভাবে।
রাহি আমতা আমতা করে বলল,
“কো… কোথায় থাকবো মানে,বা..বাবার সাথে ছিলাম এতক্ষণ।”
প্রেম দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“একদম চালাকি করার চেষ্টা করবি না আমার সাথে। পরীক্ষার পরে কোথায় গিয়েছিলি?বাড়িতে ফিরলি কীভাবে? সব পায় টু পায় বলবি আমাকে। লেটস্ স্টার্ট।”
রাহি উপায় না পেয়ে সব বলে প্রেমকে।রাহি মাথা নিচু করে আছে ।সে জানে প্রেম তার দিকে অগ্নিমূর্তির মতো তাকিয়ে আছে। যখন তখন ভস্ম করে দিবে।প্রেম চোয়াল শক্ত করে বলল,
“তোকে পার্কে যাওয়ার পারমিশন কে দিয়েছে?এতো বড় কলিজা কবে হলো,মরার পাখনা গজায়ছে বেয়াদবের বাচ্চা।”

শেষের কথাটা এতটায় ধমকের সুরে বলল যে রাহি কেঁপে উঠলো। মুহূর্তেই চোখ জোড়া ছলছল করে উঠল তার।প্রেম এতো জোরে কথা বলায় বুকে কিছুটা ব্যথা অনুভব হলো।তাই রাহিকে আলগা করে বুকে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করলো। পর পর বড় বড় কয়েকটা শ্বাস টানলো।
রাহিকে আবার শান্ত স্বরে বলল,
“তুমি যে ঠিক আছো এটা আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করলে না কেনো?”
রাহি প্রেমের শান্ত কণ্ঠ শুনে আবেগে কেঁদে দিলো। নিজের অজান্তেই প্রেমের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো।কাদতে কাদতে বাচ্চাদের মতো অভিযোগ করে বলল,
“আমি কি জানি নাকি যে আপনি আমাকে খুঁজতে গেছেন। আমি তো আপনাদের কাউকেই চিন্তায় ফেলতে চায়নি তাই বলিনি।এখন এটা কি আমার অপরাধ।”
“হুমম, অপরাধ।বলেছিনা আমার অবাধ্য হবে না,তবু কেনো কথা শুনো না তুমি।আমার অবাধ্য কোনো কিছু পছন্দ না।”

“আচ্ছা আর হবে না।”
“এই নিয়ে বিয়ের পর কত বার এই মিথ্যা কথাটা বললে?”
রাহি কিছু বলল না।প্রেমের বুকেই মুখ গুঁজে রইলো।প্রেম কিঞ্চিৎ মুচকি হাসলো কিন্তু মুহূর্তেই তা বিলীন হয়ে গেলো। রাহির যখন হুশ এলো সে প্রেমের বুকে তখন লজ্জায় উঠে যেতে নিলে দেখলো প্রেম তাকে শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিচ্ছে।রাহি কিছুটা লজ্জা পেলেও খুব ভালো লাগলো তার।
প্রেম রাহির সিল্কি চুলের গহীনে নিজের হাতের আঙ্গুল গলিয়ে দিলো।রাহি মৃদু কেঁপে উঠলো।প্রেম ওভাবেই চুলের মাঝে হাত বুলাতে লাগল। রাহি লাফ দিয়ে উঠলো।প্রেম হতভম্ব।প্রেম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ব্যাঙের মতো লাফিয়ে উঠলে কেনো?”
রাহি মাথা নিচু করেই উত্তর করলো,
“আমার কাতুকুতু লাগে।”
প্রেম দুই আঙ্গুল দিয়ে কপাল স্লাইড করতে লাগলো।এই বাচ্চা বউকে নিয়ে সে যে বিপাকে পড়েছে এটা কাকে বুঝাবে।আদর করতে গেলে নাকি তার কাতুকুতু লাগে।
রাহি প্রেমকে বলে,
“বাবা বাইরে অপেক্ষা করছে,উনাকে ডাকি?”
“আমার আব্বুকে এখন দরকার নেই,তোমাকে দরকার।”
“আমাকে কি দরকার।”
“আমার তোমার কাছে কিছু মিছু চাই এখন।”
“কি চাই?”

প্রেম কি বলবে বুঝতে পারছে না। মুখ ফসকে বলে ফেলেছে মনের কথা। আর এই মেয়েটাকে বুঝিয়ে গিলিয়ে দিলেও বুঝবে না তার কি চায়।প্রেম রাহির কথার উত্তর না করে রাহিকে আবার নিজের দিকে টেনে নিলো।
প্রেম রাহির গলায় মুখ ডোবালো। রাহি আবার লাফিয়ে উঠলো এবার আগের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে লাফ দিলো সাথে হাসি ফ্রী।প্রেম বুঝতে পারল এই বাচ্চার আবার কাতুকুতু লাগছে।প্রেম রাহিকে কিছু করতে বা বলতে না দিয়ে শক্ত করে ধরে আবার নাক গুজলো ঘাড়ে।রাহি হাসছে আর মুচড়ামুচড়ি করছে কিন্তু নিজেকে ছাড়াতে ব্যর্থ সে।প্রেম এবার উঠে এক টানে রাহিকে তার নিচে ফেলে সে উপরে ঝুঁকে গেলো।রাহি এবার থমকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো প্রেমের চোখের দিকে।প্রেম রাহির জামার উপর দিয়েই রাহির কোমড়ে হাত চালাতে লাগলো। রাহি এবার কাতুকুতু ভুলে কোন ঘোরের মধ্যে ঢুকে পড়লো।প্রেমের ঘাড় খামচে ধরলো।প্রেমের শরীর উন্মুক্ত। প্রেম রাহির ঠোঁটে আবার নিজের দখলদারি চালাতে শুরু করলো।

প্রেম একটু থেমে গমগমে কণ্ঠে ফিসফিস করে রাহির কানের লতিতে হালকা করে কামড় বসিয়ে বলে,
“টুডে, আই নিড ইউ বেগমজান। আই নিড ইউ ইন দ্যা ডিপেস্ট ওয়ে। আজকে তোকে নিজের করে নিতে উসকানি দিচ্ছে আমার এই অভদ্র হৃদয়।”
প্রেমের বলা কথাটা রাহি কানে আগুনের শিশার মতো লাগলো।কান গরম হয়ে গেলো।প্রেম আর দেরি না করে নিজের হাত রাহির পেতে, কোমড়ে বিচরণ করছে আর অধরজোরায় নিজের অধিকার ফলাচ্ছে। রাহিও এবার আর বাঁধা দিলো না।প্রেমের উন্মাদনা দেখে সে বুঝে ফেলেছে প্রেমকে আটকানো দায়।

আমজাদ খান এবার অধৈর্য্য হয়ে গেলেন। আর কত অপেক্ষা করবেন তিনি।ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে কোন বাবা নিশ্চুপ বসে থাকতে পারেন।ছেলেও হয়েছে এখন বউ পাগল,বউ মানে না করে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলে আর এইদিকে রুমের দরজা আটকালে আর খুলতে মন চায় না।
আমজাদ খান লিয়নকে সাথে নিয়ে কেবিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজায় করাঘাত করতে লাগলেন।
ভেতরে এমন উত্তেজনা পূর্ণ মুহূর্তে কারো বিরক্ত করা প্রেমের মাথায় আগুন ধরিয়ে দিলো। সে নিজেকে সামলে আবার নিজের কাজে বেস্ত হলো।
কিন্তু এদিকে আমজাদ খান একের পর এক আঘাত করেই যাচ্ছেন দরজায় আর শক্ত কণ্ঠে প্রেম আর রাহিকে ডাকছেন।লিয়ন যদিও আটকানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু এটাতো প্রেমের বাবা,জন্মের ঘাড় ত্যাড়া ছেলের বাবা,এই লোক কি কারো কথা শুনবে।
প্রেম এবার বিরক্তি হয়ে ওই অবস্থাতেই চিৎকার করে বলে,

“কোন শা*লার পা*ছায় ব্যথা উঠছে রে, শান্তিতে শখের ডিনারটাও করতে দিচ্ছে না।”
আমজাদ খান ছেলের খেকখেক করা শুনে নিজেও তেতে উঠলেন,
“তোর বাপ হারামজাদা। দরজা খোল, নয়তো তোর ডিনার তোর পাছা দিয়ে দিবো, কুত্তার বাচ্চা।”
রাহি পড়েছে মাইনকার চিপায়। উপরে জামাই, দরজার বাইরে শ্বশুর।সে অপারক হয়ে প্রেমকে মিনমিন করে বলল,
“আজকের জন্য স্থগিত রাখুন প্লীজ।বাবার সামনে আর আমাকে লজ্জা দিবেন না এমপি সাহেব। আর হাসপাতালে এসব করা ঠিক না।”
প্রেম ভ্রূ কুঁচকে বললো,
“কি করা ঠিক হবে না?”
রাহি আবার লজ্জায় পড়ে গেলো। সে আবার একই সুরে বলল,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৬

“সরুন আমার উপর থেকে।আমি আর আপনার ওই হাতির মতো শরীরের ওজন নিতে পারছি না।”
“না খেয়ে খেয়ে এমন মশার মতো দেহ বানালে তো জামাই এর ওজন নিতে পারবেই না, ওজনই নিতে পারো না তাহলে সারারাত লোড নিবে কীভাবে।”
রাহি নিজের কথায় নিজেই ফেঁসে যাচ্ছে বারবার।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৮