সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৭
Raiha Zubair Ripti
পুরো শরীর বরফের মতো জমে আছে মুনতাহার। লোকটার স্পর্শ, ঠোঁটের চুম্বন একদম শরীর কে মাত্রাতিরিক্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছিলো। সিকান্দার হয়তো তা খুব গভীর ভাবে বুঝলো। সেজন্য আলতো করে ছেড়ে দিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
“ শাদি মুবারক, ইশকে মুবারক,
বিসাল-এ দিলহা মুবারক প্রিয়তমা। ”
তারপর সরে গেলো। মুখ চেপে হাসছে পাশে থাকা দুই দাদি নানি। মুনতাহার হাত টেনে বসালো পাশে মনোয়ারা মির্জা। কানে কানে ফিসফিস করে বলল-
“ আমার নাতির মতো নাতি হয় না। হু! তুই জিতছস মাইয়া এমন চান্দের লাহান জামাই পাইয়া। ”
মুনতাহা চুপচাপ শুনলো। নাদিম আসলো খাবার নিয়ে। মুনতাহা আর সিকান্দার কে রুমের ভেতরই খেতে দিবে। সিকান্দার বাহিরে নিয়ে যেতে মানা করছে মুনতাহাকে। দরকার নেই লোক সমাগমে গিয়ে খাওয়ার। সাথে দুই দাদি নানির জন্যও আনা হলো। মুনতাহা আর সিকান্দার পাশাপাশি বসেছে। তাদের দু পাশে নানি দাদি। বাহিরের প্যান্ডেল থেকে সুনেহরা আর লাবন্য আগেই খেয়ে নিয়েছিল। দাদির ঔষধ নিয়ে এসেছিল সে সাথে করে। দুপুরের খাবার পর খেতে হয়। সেটা খাওয়াতেই মুনতাহার রুমে আসলো। সুনেহরার মুনতাহাকে সাইদা মির্জার মতো গাঢ় আকারে অপছন্দ করে বিষয়টা এমন না। তবে ভাই,পরিবার, কারোরই আশেপাশে মুনতাহাকে তার ভালো লাগে না। হয়তো শিফা তার অন্যতম কারন। বান্ধুবীর জায়গা এই মুনতাহা দখল করে নিয়েছে। আরো একটা অপছন্দ হওয়ার কারন,তার ছোট ভাইয়ের সাথে প্রেম করে এখন তার বড় ভাইকে বিয়ে করাটা খুবই বাজে লাগছে তার কাছে। বোঝাই যাচ্ছে মুনতাহা রিভেঞ্জ নিতেই বিয়ে টা করতে রাজি হলো। তা না হলে একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ কখনোই যে জায়গা থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সে জায়গায় ২য় বার ফেরে না। সেখানে এই মেয়ে ফিরেছে। এতেই বোঝা যায় মেয়েটা ঠিক কেমন।
আর তাছাড়া মুনতাহার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন টাও তো আর পাঁচ দশটা পরিবারের মতো না। তার চাচার সেকেন্ড ওয়াইফের আগের ঘরের সন্তান। কতটা প্যাঁচের সম্পর্ক।
মুনতাহা প্লেটে হাত নাড়াচাড়া করছে না খেয়ে। নিজের বিয়ের দিন পেটপুরে কি খাওয়া যায়? কত দুশ্চিন্তা তার মাথার ভেতরে। সিকান্দার ঘাড় বেঁকিয়ে তাকালো।
“ কোনো সমস্যা হয়েছে মন?”
হকচকিয়ে গেলো মুনতাহা। দু’দিকে ঝড়ের বেগে মাথা নাড়িয়ে না জানালো। মুনতাহায় নানি সায়মা বেগম মাংসে কামড় দিয়ে বলল-
“ নাত জামাই তুমি খাওয়ায় দাও আমার নাতনি টারে। তোমারে দেখে শরমে খাইতেছে না। ও বাড়িতে যাওয়ার পর কোন সময় না কোন সময় খাবার দেয় তার ঠিক ঠিকানা নাই। তুমি খাওয়ায় দাও। ”
সিকান্দার লোকমা তুলে মুনতাহার মুখের সামনে ধরলো। মুনতাহা নিচু স্বরে বলল-
“ আমি খাচ্ছি, আপনি খান। ”
সিকান্দার হাত সরালো না। মুখের আরো কাছে নিয়ে গেলো। মনোয়ারা মির্জা বললেন-
“ ছ্যামড়ি খাছ না ক্যান? খা। আমার নাতি মুখের সামনে ভাত ধরে রাখছে। ফিরায় দিবি?”
মুনতাহা সিকান্দারের হাতের খাবার টা যখন মুখে নিবে ঠিক সেই সময় কানে আসলো, সিকান্দার বিসমিল্লাহ বলছে। মুনতাহা অবশ্য মনে মনে বলেছিল।
সিকান্দার মাংস রোস্ট, কাবাব এক এক করে ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে মুনতাহা কে খাইয়ে দিচ্ছে। দাদি নানির খাওয়া শেষ। তারা হাত ধুয়ে দুজনে গল্প জুড়ে দিছে। সিকান্দার নিজে এক লোকমাও মুখে নেয় নি। সে শুধু তার মন কে খাওয়াচ্ছে। সাইদা মির্জা আসলেন মেয়েকে ডাকতে। রুমে এসে দেখলেন সিকান্দার বউ কে খাইয়ে দিচ্ছে। বিরক্তি আর রাগে চোখ মুখ কালো হয়ে গেলো।
মুনতাহা এবার বাঁধা দিয়ে সিকান্দার কে বলল-
“ আমাকেই খাওয়াচ্ছেন শুধু। আপনি খাচ্ছেন না। আমার পেট ভরে গেছে আপনি খেয়ে নিন এবার। আপনিও তো অভুক্ত। ক্ষুধা তো আপনারও আছে। ”
সিকান্দার তার কথাটার উত্তর না দিয়ে পাল্টা জিজ্ঞেস করলো-
“ দই খাবেন? খান নি তো। আপনার তো দই পছন্দ অনেক। নাদিম দইয়ের হাড়ি টা এগিয়ে দে তো। ”
নাদিম দইয়ের হাড়ি থেকে দই নিয়ে বাটিতে ঢেলে চামিচ দিলো। সিকান্দার সেটা মুনতাহার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল-
“ খান। ”
মুনতাহা বাটিটা হাতে নিয়ে অল্প অল্প করে খেতে শুরু করলো। কিন্তু সিকান্দার খাচ্ছে না দেখে সে আবার ধীর গলায় বলল-
“ আপনি এখনও খাচ্ছেন না কেনো? আমি তো খাচ্ছি। ”
সিকান্দার মুনতাহা কে খাইয়ে দেওয়া এঁটো প্লেটেই খাবার খেতে লাগলো। সাইদা মির্জার গা ঘিনঘিন করে উঠলো সেটা দেখে। বউকে খাইয়ে দিয়েছে সেই প্লেটেই আবার নিজে খাচ্ছে! সাইদা মির্জা হলে তো কখনোই খেতেন না। সে জীবনে সেলিম মির্জা কে খাবার খাইয়ে দিয়েছে কি না সেটা নিয়েও সন্দেহ। সেখানে সেই হাত দিয়েই সেই এঁটো প্লেটে আবার খাবার খাওয়াটা ইয়াক টাইপের বিষয়।
মনোয়ারা মির্জা কে ঔষধ খাইয়ে দিয়ে চলে গেছে সাইদা মির্জা আর সুনেহরা। সিকান্দারের খাওয়া শেষ হতেই নাদিমও এঁটো থালাবাসন নিয়ে নিচে গেলো।
ইলারা খেতে বসেছে। তাদের টেবিলে কাবাবের বাটি টা নেই। পাশ দিয়ে নাদিম যাচ্ছিলো, ইলা তাকে না দেখেই বলল-
“ আঙ্কেল কাবাবের একটা প্লেট দিয়ে যান এখানে।”
নাদিম দাঁড়িয়ে যায় আঙ্কেল ডাক শুনে। তার মতো এত হ্যান্ডসাম, ইয়াং, ড্যাশিং ছেলেকে কোন চাচি আম্মা আঙ্কেল ডাকলো সেটা দেখার জন্য ঘাড় ঘোরাতেই দেখলো মিস ঢিলা কে। নাদিম সামনের টেবিল থেকে কাবাবের প্লেট টা এনে শব্দ করে টেবিলের উপর রেখে বলল-
“ নিন চাচি আম্মা, নিন। পেট ভরে খাবেন কিন্তু। আরো লাগলে আমাকে বলবেন। আপনার জন্য নিয়ে আসা হবে। ”
ইলা মুখে গরুর মাংস নিয়ে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য মাথা তুলে তাকাতেই নাদিম কে দেখে ভরকে গেলো। এই হান্ডু ছ্যামড়া তাকে চাচি আম্মা বললো! ম্যানারলেস ছেলে একটা।
“ আপনি আমাকে চাচি আম্মা কেনো বলছেন? আমাকে কি চাচি আম্মা দের মতো লাগছে? চোখে সমস্যা? চশমা নিন তাহলে। ”
“ তাহলে আমাকে কোন দিক দিয়ে আঙ্কেল লাগলো আপনার? বিয়ে করি নি,বাপ হই নি। আর আপনি আঙ্কেল বানিয়ে দিলেন! তো আমি কি তাহলে আপনাকে জানু সোনা জান ডাকবো?”
“ অসভ্য। ”
“ ইউ টু ইডিয়েট। চশমা আপনার দরকার চোখে। মুখে আটা ময়দা লাগাতে গিয়ে হয়তো চোখেও লাগিয়েছেন। সেজন্য দিন দুপুরে এসব আবোলতাবোল বকছেন। ”
“ আপনি তো ভারী অসভ্য। মেয়েদের মতো ঝগড়া করছেন আমার সাথে। আমি কি দেখেছি নাকি আপনি ওটা। আমি তো কোনো আঙ্কেল ভেবে বলেছি। টেনে টেনে লম্বা বানাচ্ছেন কথাটাকে। অতিথি দের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে? ”
নাদিম গ্লাসে পানি ঢেলে বলল-
“ পানি খেয়ে অপমান সব ধুয়ে ফেলুন। মাথায় উঠে গেছে হয়তো। ”
নাদিম চলে গেলো। ইলা খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। রান্নাটা ভীষণ মজা হয়েছে। পলিথিনে করে খাবার নিয়ে যেতে পারলে ভালোই হতো। রাতেও খেতে পারতো।
সিমরান অর্নব এক টেবিলে বসে খাচ্ছে। অর্নবের গলা দিয়ে এই খাবার নামতে চাইছে না। এক্সের বিয়ে খাওয়া ক’জনের কপালে থাকে ভাই? সেই এক্স নাকি এখন তার ভাবি। এত সুন্দর একটা মেয়েকে শুধুমাত্র মায়ের কথার জন্য ছেড়ে দিতে হলো। ধূর তার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। এমন এক হাবাগোবা মেয়ে কে বিয়ে করছে তার সাথে অর্নবের আকাশ-পাতাল তফাৎ। যদিও মুনতাহার সাথেও তার আকাশ-পাতাল তফাৎ ছিলো। তারপরও তো তারা দু’জন দু’জনকে মানিয়ে নিয়েছিল। তার মায়ের উপর রাগ হচ্ছে ভীষণ। তার আর মুনতাহার বিয়ে টা মেনে নিলে কি হতো? সিকান্দারের সাথে তার বিয়েটা তো ঠিকই মেনে নিলো।
মায়ের সাথে এটা নিয়ে একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে অর্নব।
সিমরান অর্নব কে কিছু খেতে না দেখে বাহুতে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলল-
“ খাচ্ছো না কেনো ভাইয়া? ”
সিমরানের ভালো কথা গুলোও এখন গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে অর্নবের। সেজন্য দাঁত চেপে বলল-
“ তুই খা না। বেশি করে খা। সাথে আমার মাথাটাও চিবিয়ে চিবিয়ে খা। এ ছাড়া আর কি পারিস বলতো?”
কথাটায় ভীষণ হার্ট হলো সিমরান। সব সময় এভাবে কথা বলে। একটু কি ভালো মুখে কথা বলা যায় না?
“ খাবার কি মজা হয় নি?”
“ আমি বলছি তোকে সেটা? দু লাইন বেশি বুঝিস কেনো? ”
অর্নব খাবারের প্লেটে হাত ধুয়ে চলে গেলো। নাদিম দূর থেকে তাকে চলে যেতে দেখে এগিয়ে বোনের কাছে আসলো।
“ খেলো না কেনো? খাবারের উপর পানি ঢেলে চলে গেলো যে অর্নব। কোনো সমস্যা? ”
সিমরান একটু একটু করে খাবার মুখে নিয়ে দু দিকে মাথা নেড়ে বোঝালো কোনো সমস্যা হয় নি। নাদিম চলে গেলো। সিমরানের দু চোখ জলে টইটম্বুর হয়ে গেলো। মুনতাহা কেনো হলো রাজি? সে তার মতামতে দৃঢ় কেনো থাকলো না? তাকে তো আর হাত পা বেঁধে বিয়ে দিত না।
অথচ সিমরান হয়তো জানে না,এই বিয়েতে রাজি না হলে তাকে তার মায়ের আরো শক্ত বাক্য গুলো হজম করতে হতো। যা মুনতাহার সহ্য করার ক্ষমতা আর নেই। ফুরিয়ে এসেছে। তাদের বাড়িতে থাকা খাওয়ার খোঁটাটা অব্দিও শুনতে হয়েছে তাকে। এখন রাজি না হয়ে উপায় আছে? সে তার এক মতে দৃঢ় থাকলে তাকে বলা হতো বেয়াদব,ঠেঁটা, বড়দের মতামতের উপর কোনো গুরুত্ব সে দিচ্ছে না। যাদের টা খাচ্ছে যাদের টা পড়ছে তাদের কথা শুনছে। লোকই ঠিকই বলে এক গাছের ছাল আরেক গাছে লাগে না।
এমনিতেই তার মা অখুশি তার জন্মতে। তার অবাধ্য হলে সেটা কি মুনতাহার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতো? অবশ্যই না। সব দিক,সবার দিক ভেবেই রাজি হয়েছে মুনতাহা, কেবল নিজের দিকটা না ভেবেই। সেটা মহান আল্লাহ তাআ’লার উপর ছেড়ে দিয়েছে।
মুনতাহার বিদায়ের বেলায় কেবল এক নানি ছাড়া কারো চোখে জল দেখা গেলো না। অথচ মুনতাহার চোখের জলেরা আজ বাঁধ ভাঙা। কেউ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত রাখছে না। মা’কে খুঁজলো। হায় কপাল তার মা’কে আজ একটুও দেখে নি সে। চলেই তো যাচ্ছে। আর তো তাদের টা খাবে না,তাদের বাড়িতে থাকবে না। তার মায়ের তো এখন খুশি হওয়ার কথা। সেই খুশিতেই কি একবার আসা যেত না? একটু মাথায় হাত রেখে দুটো ভালো মন্দের কথা বলা যেত না? বাহিরের মেয়ে ইলার পর্যন্ত চোখে জল চলে এসেছে। সেখানে তার জন্মদাত্রী মায়ের মুখ অব্দি দেখা যাচ্ছে না!
সিকান্দার একটু দূরেই দাঁড়ানো ছিলো। বউ তার কেঁদে কেঁদে কি অবস্থা বানিয়ে ফেলছে। পকেট থেকে ফোনটা বের করে চাচিকে কল লাগালো। রিসিভ হতেই সিকান্দার বলল-
“ আমার স্ত্রী আপনাকে খুঁজছে চাচি। একটা বার আসা উচিত ছিলো আপনার। তার চোখে দিয়ে গড়িয়ে পড়া চোখের জল আমার জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক জানেন তো সেটা? ”
ওপাশ থেকে গম্ভীর গলায় ভেসে আসলো-
“ যে শুরু থেকে তার দুঃখের সময় পাশে ছিলো না কোনোদিন। সে শেষ সময়ে এসে তার সুখের সময় পাশে থাকবে এমনটা ভাবাও তো বোকামি সিকান্দার। তুমি তোমার আমানত আজ বুঝে পেয়েছো। আমানতের খেয়ানত যে কখনো করবে না তা আমি জানি। তোমরা সুখী হও। দোয়া সর্বদা আছে। ”
সিকান্দার দীর্ঘ শ্বাস ফেলে শেষ বার জিজ্ঞেস করলো-
“ তাহলে আপনি আসবেন না?”
“ না। ”
সিকান্দার কেটে দিলো ফোন। সালমান মির্জা এগিয়ে আসলেন। মুনতাহার মাথায় হাত রেখে ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বললেন-
“ কথাগুলো তোমার বাবার বলার কথা ছিলো আজ। কিন্তু সে তো নেই। তার অধিকার গুলো না হয় আমিই নিলাম। সর্বদা সুখী থাকো তুমি। কখনো কোনো অসুবিধা হলে আমাকে জানাবে। পাশে আছি। ”
মুনতাহার কান্নার গতি বেড়ে গেলো। সে কখনো সালমান মির্জা কে জড়িয়ে ধরে নি। আজ খুব জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু ইচ্ছে টাকে দমিয়ে রেখে মুনতাহা কেবল বলল-
“ আম্মুকে একটু ডেকে দিবেন আঙ্কেল? একটু দেখবো। আজ একবারও দেখি নি। একটু ডেকে দিন। ”
সিকান্দার এগিয়ে আসলো। পাশে দাঁড়িয়ে বলল-
“ আসবে না আপনার আম্মু। ফোন দিয়েছিলাম। মানা করেছে। ”
মুনতাহা জানে তার মা এক কথার মানুষ। না যখন বলেছে তখন দুনিয়া উল্টে গেলেও সে আসবে না। খুব অভিমান হলো এবার মায়ের উপর। মায়ের কক্ষের বন্ধ জানালার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল-
“ খোদা এই যাওয়াই যেন আমার শেষ যাওয়া হয়। দ্বিতীয় বার যেন আমাকে আর এ বাড়িতে মায়ের সংসারে ফিরতে না হয়। অনেক জ্বালিয়েছি। আর না জ্বালাই। তার সংসারে আর কোনো ঝামেলা না আসুক আমার জন্য। আমাকে আর তার সামনে ভুলেও আসতে দিও না। এই অনুরোধ টা অন্তত রেখো আমার। ”
সেলিম মির্জা তাড়া দিলেন এবার। সাইদা মির্জাও বেশ বিরক্ত। অর্নব টাও বিকেলের দিকে চলে গেছে রেগেমেগে সিমরানের থেকে শুনেছে। মুনতাহাকে নিয়ে গাড়িতে বসালো লাবণ্য। মুনতাহার নানি এগিয়ে এসে সিকান্দারের গা মাথা হাতিয়ে বলল-
“ আমার নাতনি টারে কোনোদিন কোনো কষ্ট পেতে দিও না নাতজামাই। ছোট থেকে শুধু কষ্টই পেয়ে আসলো। তুমি তার শেষ ভরসার জায়গা। তুমি তার হাতটা ছেড়ে দিও না কখনো। ”
সিকান্দার চোখে ইশারায় ভরসা দিলো। সে ছাড়বে না কখনো মুনতাহা কে। তারপর গাড়িতে উঠে মুনতাহার পাশে বসলো। গাড়ি চলতে আরম্ভ করলো। সেই সাথে মুনতাহার কান্নার বেগ বাড়তে লাগলো। দোতলা বাড়ির জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ময়না বেগম মেয়ের চলে যাওয়া দেখলো। কান্না পেলো নাকি তার? চোখ ঝাপসা হয়ে আসলো যে। এমন একটা দিনই তো ঘটেছিল তার বিয়ের দিন। ঠিক এভাবেই জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মায়ের বিদায় দেখছিলো মুনতাহা।
মুনতাহার নাক টানার শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাকি সদস্যরা অন্য গাড়িতে। এ গাড়িতে কেবল ড্রাইভার, সিকান্দার আর মুনতাহা। সিকান্দার ঘাড় বেঁকিয়ে তাকালো মুনতাহার দিকে। আর না পেরে এবার বলল-
“ আর কত কাঁদবেন বলুন তো? কাঁদতে কাঁদতে আস্ত একটা সমুদ্র বানিয়ে ফেলছেন। দেখুন রাস্তাঘাট ভরে গেছে। দেখুন না। ”
মুনতাহার কান্নার গতি থেমে গেলো। সে সত্যি সত্যি জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালো। সিকান্দার সেটা দেখে হেঁসে ফেললো। মুনতাহা বুঝলো লোকটা মজা নিচ্ছে তার কান্না নিয়ে।
“ মজা নিচ্ছেন আপনি? ”
“ এত বড় স্পর্ধা আছে নাকি আমার?”
“ তাহলে এভাবে বললেন কেনো? কান্না পেলে কি কাঁদবো না? ”
“ আপনাকে কি কান্না করার মতো কোথাও নিয়ে যাচ্ছি? কান্নাকাটি সব নিজ বাড়িতে ফেলে আসা উচিত ছিলো না? আমার কাছে কোনো কান্নাকাটির জায়গা নেই। ”
“ চোখের জল কি আর আমার কথা শুনে? ”
“ শুনে না?”
“ না, শুনে না। ”
“ শোনাতে হবে। ”
“ না শুনলে কি করবেন? ছেড়ে দিবেন?”
“ কাকে? আপনাকে?”
মুনতাহা উপর নিচ মাথা ঝাকালো-
“ হু। ”
সাথে সাথে সিকান্দার মুনতাহার ডান হাতটা ধরলো প্রথম বারের মতো। মুনতাহা অশ্রু নয়নে তাকালো হাতের দিকে। সিকান্দার তার দিকে চোখ রেখেই বলল-
“ এই যে আপনার হাতটা আমি-বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ বলে ধরলাম। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলার আগ পর্যন্ত ছাড়বো না,ইনশাআল্লাহ…!! ”
“ নাগালে পেয়ে গেলে বিশাল আকাশকেও মানুষের কাছে অতি তুচ্ছ আর নগন্য মনে হয়। সেখানে তো আমি মানুষ। আপনার নাগালেই এখন। করাই যায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য, কি বলেন? ”
“ এমনটা কখনোই হবে না। ভরসা রাখুন। ”
মুনতাহা তাকালো সিকান্দারের দিকে।
“ কথার খেলাপি করা মানুষ কিন্তু আমার ভীষণ অপছন্দের। ”
“ আপনার অপছন্দ, এমন কাজ সিকান্দার কখনোই করবে না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সে ওয়াদা দিলে ওয়াদা রাখতে জানে জানপ্রাণ দিয়ে হলেও।”
শক্ত করে ধরলো মুনতাহার হাতটা সিকান্দার। সুখ,ভীষণ সুখ লাগে যখন সে মুনতাহার হাতটা ধরে। মনে হয় কোনো প্রশান্তির বাতাস এসে লাগে তার গায়ে। সিকান্দার চোখ বন্ধ করে সিটে মাথা রাখলো। মুহূর্ত টা অনুভব করলো। বিরবির করে ঠোঁটের কোণে আওড়ালো কিছু বাক্য –
~Mere Haath Mein
Tera Haath Ho
Saari Jannatein
Mere Saath Ho…
Tu Jo Paas Ho
Phir Kya Yeh Jahaan
Tere Pyar Mein
Ho Jaaun Fanaa
মির্জা বাড়িতে গাড়িটা এসে থামতেই মুনতাহার চোখে পড়লো দোতলা সাদা রঙের শুভ্র প্রাসাদ সমান বাড়িটা। কখনো ভেতরে এসে দেখে নি সে। দু’বার এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে দেখেছি শুধু। আজ সরাসরি গাড়িটা ভেতরে নিয়ে গিয়ে থামতেই চোখ তার কপালে উঠে যায়। পুরো বাড়ি ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো। বাগানটায় প্যান্ডেল বাঁধা। এক সাইডে ফুল আর কিছু সবজির বাগান চোখে পড়ছে আলোয়।
গাড়ির দরজা খুলে সিকান্দার হাত বাড়িয়ে দিলো মুনতাহার দিকে। মুনতাহা তার হাত ধরে বেরিয়ে আসলো। লোকজনের সমাগম নেই বাড়িটায়। সিকান্দার তাকে নিয়ে বাড়ির সদর দরজার সামনে দাঁড়ালো। মনোয়ারা মির্জা কিসব যেন নিয়ম টিয়ম পালন করলো। তারপর দুজন ভেতরে প্রবেশ করলো। মুনতাহা কে সোফায় বসাতেই সেলিম মির্জা এসে ছেলেকে একটু ডেকে নিয়ে গেলেন।
সাইদা মির্জা ঘুরে ঘুরে মুনতাহা কে দেখছে। আশেপাশে এখন কেউ নেই। তিনি সোফায় পায়ের উপর পা বসে মুনতাহা কে উদ্দেশ্য করে বললেন-
“ ওয়েলকাম তোমাকে মির্জা বাড়িতে। জীবনে কখনো আসো নি এত বড় বাড়িতে। এই প্রথম আসা। গুনে গুনে ৪০ টা দিন এই বাড়িতে থাকতে পারবে। তারপর তুমি নিজেই এই বাড়ি থেকে চিরকালের জন্য বেরিয়ে যাবে। মিলিয়ে নিও কথাটা। ”
কথাগুলো মুনতাহার কানে পৌঁছাতেই অজানা এক ভয়ে শিউরে উঠলো ছোট্ট দেহটা। ৪০ দিন থাকতে পারবে মানে! ৪০ দিন পর কি এমন হবে যে সে নিজ থেকে এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে চিরকালের জন্য! সে তো সব কিছু ছেড়ে ছুঁড়ে সিকান্দারের হাত ধরে চলে এসেছো। সিকান্দার কি তাকে ছেড়ে দিবে তাহলে ৪০ দিন পর?
দুশ্চিন্তারা এসে ভর করলো শরীরে। কিছুক্ষণ পর মুনতাহা কে লাবণ্য আর সিমরান মিলে সিকান্দারের রুমে নিয়ে গেলো। রুমে প্রবেশ করতেই সে দেখলো ফুলে সজ্জিত রুম টা। বলাবাহুল্য রুমে একটিও গোলাপ ফুল নেই। সব সাদা রঙের বিভিন্ন রকমের ফুল দিয়ে সাজানো। মুনতাহার গোলাপে এলার্জি আছে। সিকান্দার সেটা মাথায় রেখেছে। অথচ বোকা মেয়েটা হয়তো জানে না সিকান্দারের সফেদ গোলাপ ঠিক কতটা পছন্দের। জানলে হয়তো এই মেয়েটা সফেদ গোলাপের প্রেমে পড়তে চাইতো।
খুবই পরিপাটি বড়সড় রুম সিকান্দারের। রুমের এক পাশে একটা বর্ডার আছে। যেটা সাদা পাতলা পর্দা দিয়ে ঢাকা। মনে হচ্ছে ওপাশে কিছু আছে। কি আছে তা দেখতে গেলো না। তাকে যেভাবে বিছানায় বসিয়ে রেখে গেছে সেভাবেই থাকলো।
সিকান্দারের অপেক্ষা করতে করতে রাত ১১ টা বেজে গেলো। ১১ টার পরপর সিকান্দার মাথার পাগড়ি টা খুলতে খুলতে এক হাতে একটা কালো ব্যাগ নিয়ে দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করলো।
মুনতাহা দরজা খোলার শব্দ পেয়েই আরো গুটিশুটি হয়ে বসলো। সিকান্দার পাগড়ি টা ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে মুনতাহার কাছে এগিয়ে আসলো। এক হাত ঘোমটা টানা। সিকান্দার দ্বিতীয় বার আবার সেই ঘোমটা তুললো। তারপর সোজাসুজি মুখ করে বসে পলকবিহীন তাকিয়ে রইলো।
লজ্জায় লাল নীল হয়ে যেতে লাগলো মুনতাহা। দ্রুততায় চোখের পলক ফেলতে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে। এভাবে কেউ তাকিয়ে থাকলে অস্বস্তি হয় না বুঝি?
মুনতাহা আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো। সিকান্দার টেনে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“ দেখতে দিন না আপনাকে। কতগুলো বছর আপনাকে না দেখে ছিলাম জানেন? কত তৃষ্ণা জমে আছে। মেটাতে দিন তাদের আজ। ”
মুনতাহা ধীর,জড়ানো গলায় বলল-
“ আমার লজ্জা লাগছে। ”
“ লাগুক। লজ্জা নারীর ভূষণ। লজ্জা পাবেন এটাই নিয়ম। ”
“ আমার ভয়ও হচ্ছে। ”
“ কি জন্য? ”
“ আপনার আম্মা আমাকে পছন্দ করে না। মেনে নেয় নি যা বুঝলাম। আপনার সাথে না পেরে হয়তো রাজি হয়েছিল মুখে মুখে। ”
“ সে তো আপনাকে কেউ মেনে নেয় নি মন থেকে এ বাড়ির। তাতে কি কিছু থেমে থাকবে বলুন? আপনি আমার বউ। আপনাকে আমি মেনে নিয়েছি। এখন দুনিয়ায় বাকি সবার মানা না মানা জাহান্নামে যাক। ”
“ আমাকে একটা কথা দিন,কথা দিন তারা আমাকে অবহেলা করলেও আপনি কখনো আমাকে অবহেলা করবেন না, কোনোদিন আমার অমর্যাদাও হতে দিবেন না। ”
“ আল্লাহ আপনাকে আমার জীবনে তোহফা হিসেবে পাঠিয়েছে। আপনার স্থান সর্বদা আমার হৃদয়ে,মস্তিষ্কে, মোনাজাতে। সেখানে আমি কি করে আপনাকে, আল্লাহর পাঠানো তোহফাকে অবহেলা অমর্যাদা করি বলুন? পাপ হবে না আমার? এত বড় দুঃসাহস আপনার স্বামীর নেই, সত্যিই নেই। সে ভীতু,ভীষণ ভীতু রব আর আপনার বিষয়ে…”
মুনতাহা অবাক হয়ে বলল-
“ তোহফা! ”
সিকান্দার সোজা হয়ে বসলো। মুনতাহার হাত দুটো মুঠোয় নিয়ে চুমু খেয়ে বলল-
“ ১৫ বছর বয়সে আমি রবের নিকট সর্বপ্রথম মুনতাহা মুন কে চাইলাম। রব মুচকি হেসে জবাব দিলেন- “ তুমি এখনও ছোট।”
আমি মানলাম না। আবার চাইলাম -“ মুনতাহা কে আমায় দিয়ে দিন রব। ”
তিনি এবারও মুচকি হেঁসে বললেন-“ সম্ভব নয় । ”
আমি এবারও মানলাম না। ফের বললাম- কেনো সম্ভব নয় ইয়া রব? আপনার বান্দা আপনার নিকট কিছু চাইলে আপনি না আপনার বান্দাকে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান। তাহলে আমাকে আমার চাওয়া জিনিস কেনো দিবেন না?”
রব এবারও উত্তরে জানালো— “ সে তোমাকে কোনোদিন চায় নি তোমার মতো করে। চাইলে আমি রব অবশ্যই তোমায় দিতাম। ”
“ কিন্তু আমি তো চেয়েছি। ”
“ এক তরফা চাওয়ায় কিছুই মেলে না। তারও তোমাকে চাইতে হবে। তবেই না তুমি তাকে পাবে।”
“ আমার একার চাওয়াই কি যথেষ্ট নয় আপনার কাছে? আমার বিশ্বাস আপনি মুনতাহা মুন কে কেবল আমার জন্যই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। ”
“ সে অন্য কাউকে ভালোবাসে। তোমাকে চিনে অব্দি না। তাহলে কিভাবে চাও তাকে? আমি তো তোমার একার রব নই সিকান্দার। আমি তো তারও রব। তুমি যেমন তোমার মোনাজাতে মুনতাহা মুন কে চেয়েছো। মুনতাহা মুন ও তার মোনাজাতে তার ভালোবাসার মানুষ কে চেয়েছে । তোমার দোয়া কবুল করলে তো তার দোয়াও কবুল করতে হবে আমাকে। ধৈর্য্য ধরো। আমার উপর বিশ্বাস রাখো। ভালো হবে তোমার। ”
তারপর আমি ধৈর্য ধরলাম। একটা, দুটো নয় পুরো ১৩ বছর ধরে শুধু মুনতাহা মুনকেই একতরফাভাবে চেয়ে গেলাম রবের কাছে। হয়তো আমার এই একনিষ্ঠতা, এই অবিরাম প্রার্থনা রবকে খুশি করেছিল। তাই ১৪ বছরের মাথায়, আজ তিনি মুনতাহা মুনকে আমার করেই দিলেন। আর বললেন-
“ চাওয়ার মতো চাইলে আমি রব কাউকেই ফিরিয়ে দেই না সিকান্দার। তুমি তোমার ১৩ বছরের পরীক্ষায় আজ উত্তীর্ণ হয়েছো। আমি রব খুশি হয়েছি। তোমার সততা তোমার একনিষ্ঠা ইবাদতে আমি মুগ্ধ হয়ে তোমার জীবনে মুনতাহা মুন কে আমি তোহফা হিসেবে প্রেরণ করেছি। সে সাথে এটাও ঘোষণা করছি মুনতাহা মুন কে আমি কেবল তোমার জন্যই বানিয়েছি । ”
মুনতাহার চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় জল গড়াতে লাগলো। ১৩ টা বছর ধরে এই লোক তাকে ভালোবাসে! রবের নিকট চেয়ে এসেছে! অথচ সে জানতোই না। এতটা গভীর ভাবে তাকে এই লোকটা ভালোবেসেছিল! হায় খোদা..মুনতাহা যে ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিল! তুমি কেনো তাকে এই পাপ করা থেকে আটকালে না! এক কলঙ্ক জুড়ে রইলো যে তার জীবনে। নিজেকে খুবই ছোট আর তুচ্ছ মনে হচ্ছে সিকান্দারের সামনে। সে একটুও ডিজার্ভ করে না এই লোকটা কে। এই লোকটা সুন্দর, অসম্ভব রকমের সুন্দর। তার ভাবনা থেকেও বেশি সুন্দর।
“ আ…আপনি আমাকে এভাবে চেয়ে এসেছেন রবের কাছে! এতটা নিখুঁত আর পবিত্রতায় জড়ানো আপনার ভালোবাসা! ”
“ কাউকে ভালোবেসে তাকে রবের কাছে চাওয়াটাও ভালবাসার একটি সুন্দর নিদর্শন। ”
“ অথচ আপনার এই অপদার্থ স্ত্রী হারামে জড়িয়ে কলঙ্কিত হয়েছে। অন্য এক পুরুষকে চেয়েছিল। ”
সিকান্দার মুনতাহা কে সাথে সাথে বুকে টেনে নিয়ে বলল-
“ আপনি আমার কাছে ভীষণ পবিত্র একটি নারী। আপনি হারামে জড়িয়েছিলেন তার সাজা স্বরূপ আপনার সেই সম্পর্ক অচীরেই ভেঙে গেছে। যেটা আমার সেটা সবার হতে পারে না। যেটা সবার সেটা আমার না। অতএব আপনি শুরু থেকেই আমার ছিলেন বলেই আমার হয়েছেন। আপনাকে হারানোর ভয়টা আমার এখন আর নেই মন। আমার জীবনে তিনটি ইচ্ছে ছিলো। প্রথম ইচ্ছে ছিলো আপনাকে হালাল ভাবে নিজের করে পাওয়া। যা ইতিমধ্যে আজ পূরণ হলো। দ্বিতীয় এবং শেষ ইচ্ছে হলো আপনাকে নিয়ে সংসার করা। আপনার সাথে বৃদ্ধ হওয়া। আপনার সাথে সারাজীবন পার করে আপনার সাথেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করা। আমি চাই সৃষ্টি কর্তা যেন আমার শেষ দুটো ইচ্ছেও পূরণ করে। ”
মুনতাহা সিকান্দারের বুকে মুখ গুঁজে হেঁসে বলল-
সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৬
“ আপনি তো আপনার গিফট পেলেন রবের নিকট থেকে। এবার আমার গিফট টা আমাকে বুঝিয়ে দিন।”
সিকান্দার সাথে সাথে মুনতাহা কে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো। টেবিলের উপর থাকা গিফট পেপার থেকে পুকি ফিতা টা উঠিয়ে সেটা নিজের কপালে লাগিয়ে নিজেকে দেখিয়ে বলল-
“ এই নিন আপনার গিফট। পছন্দ হয়েছে তো?”
মুনতাহা হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে সিকান্দারের কপাল থেকে পুকি ফিতাটা খুলে তার গিফট টা আনবক্সিং করে বলল-
“ খুউউউব..”
