হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৯
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
মসজিদে যোহরের নামাজ পড়িয়ে এসে বাসায় প্রবেশ করল উমর। ড্রয়িং রুম তখন পুরোপুরি ফাঁকা। যে যার মতো রুমে ব্যস্ত। ধীরপায়ে নিজ কক্ষের দিক হাঁটা ধরল সে। রুমে এসেই দেখতে পেল ইকরার লালিত মুখশ্রী। দেখেই বুঝা যাচ্ছে মেয়েটা কেঁদেছে। কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে দেখতেই মুখে মুচকি হাসি ফুটিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালালো ইকরা। বলল,
“ আপনি এসে গেছেন। ”
ইকরার একদম নিকটে এগিয়ে এলো উমর। পাশে বসে মোলায়েম স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ আপনি কেঁদেছেন কেন? কেউ কিছু বলেছে? ”
অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল ইকরা। কথা ঘুরিয়ে বলতে চাইল,
“ আসলে…”
“ কথা ঘুরানোর চেষ্টা করবেন না। আপনার চোখ মুখ দেখেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে আপনি কেঁদেছেন। ”
পথিমধ্যেই তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল উমর। চুপ মেরে গেল মেয়েটা। বলার জন্য কথা খুঁজে পেল না। উমর বাসা থেকে বেরোনোর পর তাকে ইচ্ছেমত কথা শুনিয়েছেন উমরের মা। জবাবে পুরোটা সময় চুপ ছিল ইকরা। সে যত অভিযোগ, অভিমান ও কথার প্রতিবাদ করতে জানে আপন মানুষদের সঙ্গে। তবে অন্য কেউ কিছু বললে কথার আগেই চোখ বেয়ে পানি গড়ানো শুরু করে। মুখ ফুটে আর কিছু বলা হয়ে উঠেনা তার। তবে মানুষটার কাছে কিভাবে তার মাকে নিয়ে অভিযোগ করবে সে। এতে মা- ছেলের সম্পর্ক খারাপ হবে। সাথে সে কখনো নিজের শাশুড়ির মন জয় করতে পারবে না। তাই চুপ করে রইল।
ইকরার ব্যাপারটা হয়তো আন্দাজ করতে পারল উমর। বলল,
“ আপনি চিন্তা করবেন না। আমাকে বলে নিজেকে হালকা করুন। আমি এসব নিয়ে ঝামেলা করবো না। ”
চোখ দিয়ে গরগর করে পানি ঝরতে লাগল ইকরার। ভাঙা গলায় সবকিছু খুলে বলল সে। তবে কিছু কিছু কথা এড়িয়ে গেল। সবশেষে বলল,
“ ইমাম সাহেব, আপনি ভাববেন না আমি আপনার আম্মাজানের নামে অভিযোগ করছি। আমি শুধু আমার কষ্টগুলো আপনার সাথে ভাগাভাগি করছি। এখানে তো কেউ নেই যার কাছে আমি নিজের কষ্টগুলো ভাগাভাগি করতে পারবো। শুধু আপনিই আছেন। আপনি আমাকে সময় দিন ইনশাআল্লাহ আমি সবার মন জয় করে নিব। ততদিন শুধু আপনি আমার সঙ্গ দিয়েন তাতেই চলবে। এসব নিয়ে আপনি কাউকে কিছু বলবেন না কিন্তু? ”
মুচকি হাসি ফুটলো উমরের মুখে। সে স্ত্রীর ললাটে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল। পরপর ইকরার চোখের পানি মুছে দিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে বলল,
“ ঠিক আছে ইকরাবিবি, এই বুক খানা দেখছেন? এইটা আজ থেকে আপনার নামে লিখে দিলাম। এখানে আপনার সকল দুঃখকে আপনি অশ্রু রূপে ঠাই দিতে পারেন। কখনো কেউ এখানকার সন্ধান পাবেনা। চলবে তো? ”
“ হুম। ”
দুপুরের শেষ ভাগ। নির্জন, নিথর প্রকৃতি। রাস্তাঘাটে তখন মানুষের বালাই নেই। যানবাহনের যান্ত্রিক শব্দে অতিষ্ট পরিবেশ তখন অনেকটাই শান্ত। শত ব্যস্ততার পর এ যেন ক্ষণিকের এক অদ্ভুত প্রশান্তিময় অনুভূতি।
কিছক্ষণ এর মধ্যেই ধরণীতে আসরের আযান পড়বে। ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে থাকা হুমায়রা এবার নড়েচড়ে উঠল খানেক। পিটপিট করে চোখ খুলে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করল। বরাবরের মতোই শূন্য কক্ষ। কৃশান এখনো বাড়ি ফেরেনি। আড়মোড়া ভেঙ্গে ঘুম থেকে উঠে পড়ল সে। পাশে থাকা ঝাড়ুটা নিয়ে বিছানা ঝাড় দিতে লাগল। তখনি ক্লান্ত ভঙ্গিতে কক্ষে প্রবেশ করল কৃশান। তার আগমনে তেমন একটা আগ্রহ দেখাল না হুমায়রা। আড়চোখে একবার মানুষটাকে দেখে নিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হলো।
ভার্সিটি থেকে ফিরে আসার পরও হুমায়রার একই আচরনে মেজাজ খারাপ হলো কৃশানের। তীক্ষ্ণ চোখে হুমায়রাকে কিছুক্ষন পরখ করে কাধের ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলল টেবিলে। পরপর রাগের মাথায় কোনোপ্রকার জামাকাপড় না নিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। শব্দ করে দরজাটা লাগাল। ওমনিই পিছন ফিরে চাইল হুমায়রা। মানুষটার রাগ অনুমান করে আনমনে মুচকি হাসল। বলল,
“ দেখি আপনি কতক্ষণ এভাবে চুপ করে থাকতে পারেন আমার প্রিয় বখাটে স্বামী। ”
বিছানা ঝাড়া শেষ হতেই বারান্দা থেকে মিঠুকে নিয়ে এলো হুমায়রা। কোলে নিয়ে আরাম করে বসল। তখনি খট করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে গেল। উঁকি দিল উজ্জ্বল শ্যামলা গড়নের একটি গম্ভীর মুখশ্রী। সিগারেটের আনলে পোড়া কালচে বেগুনি ঠোঁট জোড়া নেড়ে সেই পরিচিত নামে হুমায়রাকে সম্বোধন করল সে,
“ এই হুজুরনী, আমার শার্ট টা দে তো। ”
ইচ্ছে করেই শার্ট সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা দিল না যেন হুমায়রা জিজ্ঞেস করে- কোন শার্ট? অথচ লাভের লাভ কিছুই হলো না। হুকুম মোতাবেক সরাসরি ওয়ারড্রপ এর দিকে এগিয়ে গেল হুমায়রা। নির্ধারিত ড্রয়ার খুলে নিজের ইচ্ছেমতো একটা হালকা আকাশি রঙের শার্ট নিয়ে এলো। কোনোরূপ বাক্য বিনিময় ছাড়া সেটা কৃশানের দিক বাড়িয়ে দিলো। ভ্রু উঁচিয়ে হুমায়রার নত মুখপানে কিয়ৎক্ষণ চেয়ে রইল কৃশান। পরক্ষনেই তার ঘাড়ত্যাড়া মস্তিষ্কে হুমায়রার মুখ খোলার পথ হিসেবে একটা দুষ্ট বুদ্ধি হানা দিল। সে হুমায়রার আনা শার্টটাকে প্রত্যাখ্যান করে বলল,
“ এটা না। ”
তার কথায় কোনো প্রশ্নহীন ওয়ারড্রপ থেকে গিয়ে আরও দুটো শার্ট এনে সামনে ধরল হুমায়রা। ফের একই বাক্য উচ্চারন করল কৃশান,
“ এইগুলোও না। ”
এবারও নির্বাক চিত্তে ফিরে চলল হুমায়রা। ড্রয়ারে থাকা অগণিত শার্টের মধ্যে যতগুলো পারল দুহাত ভরে নিয়ে এলো। তবুও কৃশানের সাথে কথা বলল না। মেয়েটার কান্ড দেখে এবেলায় এসে অধৈর্য্য হয়ে গেল কৃশান। কথা নেই বার্তা নেই সহসা হুমায়রার হাত থেকে সবগুলো শার্ট নিয়ে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলল। মানুষটার কাজে যেই না পিছু মুড়ে বিছানার দিক তাকাতে নিবে হুমায়রা। ওমনিই দুহাতে তার সরু কোমড় চেপে তাকে ওয়াশরুমে এনে দেয়ালের সাথে দাঁড় করিয়ে দিলো কৃশান। আঙুল দিয়ে থুতনি ঘষতে ঘষতে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,
“ সমস্যা কি তোর? ”
উত্তরে কিছু না বলে উল্টো চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল হুমায়রা। সাথে সাথেই তার কাধের উপর দেয়ালে এক হাত রেখে পথ আটকে দিলো কৃশান,
“ মার খাবি কিন্তু! চেহারার অবস্থা এমন দেশি টমেটোর মতো বানিয়ে রেখেছিস কেন তাড়াতাড়ি বল। নয়তো একেবারে সস বানিয়ে ছাড়ব তোকে! ”
এবারও তার কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অপর পাশ দিয়ে যেতে চাইল মেয়েটা। একই ভাবে সেই পথও আটকে দিলো ছেলেটা। দুটো বলিষ্ঠ হাতের অস্পর্শ বন্ধনে আবদ্ধ হলো তার ছোট্ট দেহখানা। দুদিকের পথ বন্ধ দেখে মাথা নুইয়ে যেই না চুরের মতো পালানোর চেষ্টা করতে নিবে ওমননি তার হাত দুটো দেয়ালের সাথে চেপে ধরল কৃশান। অত্যধিক শক্ত কণ্ঠে বলল,
“ কথা বলবি তুই? নাকি তোকে পানিতে চুবিয়ে মারবো? ”
ভরকানো চেহারায় তার দিকে তাকাল হুমায়রা। রাতে নেশার ঘোরে বলা কথাগুলো সত্যি কিনা, আসলেই কি তার দূরত্ব মানুষটাকে পোড়ায়- তা জানার জন্য কৃশানের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিল সে। অথচ তাকে কিনা পানিতে চুবানোর ওয়ার্নিং দিয়ে কথা বলাতে চাচ্ছে লোকটা! এইসব কোনো কথা!
তার ভাবনার মাঝেই তাকে কোলে তুলে ভর্তি পানির বালতির দিকে এগোতে লাগল কৃশান। তড়িৎ মুখ দিয়ে কথা বেরিয়ে এলো হুমায়রার,
“ হায় আল্লাহ, কি করছেন কি করছেন। আমি বলছি তো কথা। ”
কৃশান নিরুত্তর ভাবে পা বাড়াতে লাগল। তা দেখে হুমায়রা অসহায় মুখে বলল,
“ এমনটা করবেন না। আমি কথা বলছি তো। ”
“ ………….. ”
“ দেখুন আপনিই কিন্তু বলেছিলেন আপনার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে। তাই তো…”
“ আমি..! ”
বিস্ময়ভরা কণ্ঠ তার। ফটাফট উত্তর করল হুমায়রা,
“ হ্যাঁ, আপনিই তো বলেছিলেন গতকাল রাতে। ”
শান্ত হলো ছেলেটা। হুমায়রাকে কোল থেকে নামিয়ে দিল। কিয়ৎক্ষণ তার দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল,
“ আমি নেশার ঘোরে কি না কি বলেছি তুই সেসব ধরে পুরোটা দিন ধরে আমায় এড়িয়ে চলেছিল? ”
মুখ ছোট করে ফেলল রমণী। কাচুমাচু ভঙ্গিতে বলতে নিল,
“ আপনি বলেছিলে…..”
বাক্য সম্পূর্ণ করতে পারল না মেয়েটা। এর আগেই তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল কৃশান। ঝুঁকে গিয়ে হিমশীতল কণ্ঠে সতর্ক করল,
“ আমি যাই বলি না কেন, আমার থেকে কখনো দূরত্ব বাড়ানোর সাহস দেখাবিনা তুই। আমার সমস্যা হলে আমি নিজেই দূরত্ব বাড়াবো কিন্তু তুই কখনোই আমার থেকে দূরত্ব বাড়াবি না। সেই অধিকার তোকে দেয়নি আমি। জানে মেরে ফেলবো একদম।
একটু থেমে বলল,
বুঝেছিস? ”
চোখ নামিয়ে ফেলল হুমায়রা। ঐ রহস্যময় চোখে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকার সাধ্যি হলো না। মিহি স্বরে জবাব দিলো,
“ হুম। ”
তৎক্ষনাৎ তার থেকে সরে এলো কৃশান। বলল,
“ যা এবার একটা শার্ট নিয়ে আয়। ”
“ এখন আর শার্ট দিয়ে কি করবেন! এতক্ষন তো আমার সামনে খালি গায়েই দাঁড়িয়ে ছিলেন বখাটে পুরুষ- আরেকটু হলে শ্বাস আটকেই মারা যেতাম আমি। ”
মনে মনে বিড়বিড় করল হুমায়রা। মুখে জিজ্ঞেস করল,
“ কোন শার্ট টা? ”
“ একটা আনলেই হলো! ”
“ তাহলে তখন এমন করলেন কেন? ”
“ আমার ইচ্ছা। ”
চোখ ছোট ছোট হয়ে গেল মেয়েটার। যেতে যেতে উচ্চারণ করল,
“ বখাটে পুরুষ! ”
কৃশানের কথামতো সবকিছু তার হাতে ধরিয়ে নামাজঘরে চলে এলো হুমায়রা। ততক্ষণে আযান দিয়ে দিয়েছে। বরাবরের মতোই সময় নিয়ে সালাত সম্পন্ন করল সে। জায়নামাজ ছেড়ে উঠতেই মন খারাপ হলো। প্রতিদিন নামাজ শেষ করে উঠতেই ইকরাকে অপেক্ষারত অবস্থায় দেখতে পেত। সেই দৃশ্যখানা মনে পড়তেই মলিন হয়ে এলো উজ্জ্বল বদন।
মিররের সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল গুলো ঝাড়ছিল কৃশান। তখনি কর্ণকুহরে পৌঁছাল একটা মিষ্টি ডাক,
“ শুনছেন..? ”
অজান্তেই হৃদয় জুড়ে এক অন্যরকম শান্তির খেলা করে গেল। সারাটাক্ষণ বাদে এই ডাকটা শুনার পর যেন মনে হলো বহুকাল পর ডাকটা শুনতে পেয়েছে। এই একটা শব্দের মধ্যে কি আছে জানা নেই কৃশানের। বারবার এই এক সম্বোধনে খেই হারাতে চায় তার মন। সম্বোধনকারির উদ্দেশ্যে বলতে চায়,
“ তোমার মুখে ঐ এক সম্বোধন শুনেছিলাম যেই,
সেদিন থেকেই এই আমাতে আমি আর নেই! ”
তবে মস্তিষ্ক সেই কথা কোনোভাবেই স্বীকার করতে চায় না। সে নিউরনের নির্দেশ অনুযায়ী বলল,
“ হুম বল। ”
“ আপনার ফোনটা একটু দিবেন? ইকরার সাথে কথা বলতাম। ”
সাথে সাথেই পকেট থেকে মোবাইল বের করল কৃশান। ইকরার জামাইয়ের নাম্বার সেভ ছিল আগে থেকেই। শুধু নাম্বার নয় তার ব্যাপারে সকল তথ্যই বেশ আগে থেকে সংগ্রহ করা। যার খবর পায়নি কেউ। নিজের একমাত্র বোনকে তো আর এমনি এমনি কোনো ছেলের হাতে তুলে দেয়নি সে। যেহেতু নাম্বারটা উমরের সেহেতু কল করলে তার ধরার সম্ভবনাই বেশি। তাই হুমায়রাকে ফোন না দিয়ে নিজেই কল করল। একবার রিং হতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ হলো। ভেসে আসলো উমরের বিনয়ী স্বর,
“ আসসালামু আলাইকুম। ”
“ ওয়ালাইকুম আসসালাম। ”
“ কেমন আছেন আপনি? ”
উমরের বিনয়ী কথাবার্তায় বিপাকে পড়ে গেল কৃশান। সে তো কখনো কোনো ছেলেকে ‘তুই’ ছাড়া অন্য শব্দে সম্বোধন করে না। কিন্তু উমরের ‘আপনি’ শব্দের পরিপ্রেক্ষিতে তুই বলতে গিয়ে বিপত্তি বাধল। ঐদিন রাগের মাথায় তো বলে ফেলেছিল। তবে এখন ব্যাপারটা ভিন্ন। আর এমনিতেও উমর তার থেকে বছর দুয়েক এর বড় হবে। সে কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে উত্তর দিলো,
“ বিন্দাস আছি। তা আমার বইন আর বইনের জামাইয়ের অবস্থা কেমন? ”
“ আলহামদুলিল্লাহ। ”
“ বইন কোথায়? ”
“ এখানেই আছে দিচ্ছি। ”
বলেই ইকরার দিকে ফোন বাড়িয়ে দিলো উমর। ফোন নিয়ে ভাইয়ার উদ্দেশ্যে সালাম চুকল ইকরা। কৃশান স্বাভাবিক ভাবে সালামের উত্তর নিলো। পরপর হুমায়রার দিকে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“ তোর বান্ধবীর সাথে কথা বল। ”
“ আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছিস সখি আমার? ”
প্রিয় সখির কণ্ঠ কানে পৌঁছাতেই ভিতরটা ভীষন কষ্টে মুচড়ে উঠল ইকরার। সে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে বলল,
“ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুই কেমন আছিস? ”
“ আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তো ঐ বাড়িতে কেমন কাটছে সময়। সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো? ”
“ হুম সবকিছু ঠিক আছে। তবে তোদের কথা বড্ডো মনে পড়ে। ”
“ প্রথম প্রথম একটু এমন লাগবেই আমার প্রিয় সখি। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। এক সময় ওটাকেই নিজের বাড়ি মনে হবে। ”
“ হুম বুঝেছি। ”
“ ওখানে কেউ কিছু বলেছে তোকে? ”
“ আরে তেমন কিছু না। এমনিতেই সবাই একটু রেগে আছে। রাগ ঝড়ে গেলে ঠিক হয়ে যাবে। আর যে যাই বলুক, যার জন্যে এ বাড়িতে এসেছি সে ঠিক থাকলেই হলো। ”
উত্তর শুনে সন্তুষ্ট হলো হুমায়রা। বলল,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৮ (২)
“ হুম। স্বামী ঠিক তো দুনিয়া ঠিক। স্বামী পাশে না থাকলে সব শেষ। ”
“ তা ভাইয়ার অবস্থা কি? ভাইয়া কি এখনো…..”
“ তোমার ভাইয়ার মতিগতি বুঝা বড্ডো মুশকিল সখি। সে নিজেকে বুঝার মতো করে কখনোই প্রকাশ করে না। তবে তার উন্নতি হচ্ছে এইটুকু বুঝতে পেরেছি। ”
“ ইনশাআল্লাহ আমার তোর দোয়া আর ধৈর্য্যের ফল সৃষ্টিকর্তা খুব শীগ্রই দিবেন। ”
“ ইনশাআল্লাহ। ”
আরও কিছুক্ষন কথা বলে কল কাটা হলো। অর্থাৎ পুরোটা বিকেল যাদের একসাথে কাটত তারা আজ ক্ষণিকের কথপোকথনের মাধ্যমেই দিন কাটানো শুরু করল।

Apu taratari dew please 🥺❤️