লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১১
লিজা মনি
অরুণোদয়ের প্রারম্ভক্ষণে ব্লেক ভাইপার মেনশন রুদ্র-ঔজ্জ্বল্যে কালো স্নাত এক অনিবার্য ভীতিকর আভায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে। বহিরাঙ্গনে হাওয়ার নিস্তরঙ্গ প্রবাহ থাকলেও অন্তঃপুরে সেই হাওয়া যেন বারুদের গন্ধ আর রক্তাক্ত অতীতের দগদগে স্মৃতি ও নৃশংস শাসনের অদৃশ্য স্ফুলিঙ্গে গ্রথিত হয়ে রহস্যময় গাম্ভীর্যকে বহুগুণে ঘনীভূত করে তোলেছে। সকালের সৌরভসিক্ত নির্মলতাও এখানে অপসৃত অবশিষ্ট থাকে কেবল ক্ষমতার অদৃশ্য শৃঙ্খল, আতঙ্কিত নীরবতা ও অমোঘ শাসনশক্তির কঠোর মূর্ত প্রতীক। চারদিকে হাজার ও গার্ডের আনাগোনা। সবার হাতে একটা করে ধারালো অস্ত্র রাখা।
ভাইপার মেনশনের বহিরাঙ্গনে গোল করে বসে আছে গ্যাংস্টার বস। সাথেই আছে অধিরাজ আর আরিশ। নিক ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। বিরক্তিতে কপালের রগ ফুলে উঠে। সামান্য রাগ দেখিয়ে বলে,
” কখনো মদ খেলে মাতাল হয় না। জানি না কাল রাতে কিভাবে মাতাল হয়ে গিয়েছিলাম। উফফ শালার জিন্দেগী।
আরিশ কিছুক্ষন চুপ থাকে। এরপর নিকের দিকে তাকিয়ে গম্ভীরতা টেনে বলে,
” এনি ঠিক আছে নিক? কিছু করেছিস ওর সাথে?
নিক তীক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে আরিশের দিকে তাকায়। আরিশ সাথে সাথে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। নিক বাঁকা হেসে বলে,
” একটু বেশিই পজেসিভ মেয়েটার প্রতি! পছন্দ করিস নাকি?
আরিশ কিছুক্ষনের জন্য থমকায়। লম্বা শ্বাস টানে বড় বড়। অধিরাজ আরিশের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে শুকনো ঢোক গিলে। অধিরাজ জানে আরিশ এনিকে অনেক পছন্দ করত। এনিকে যখন সেই বন্ধ ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছিলো তখন সব কিছুর দেখা – শুনা সে নিজে করেছে। আর আরিশের চোখে অনেকবার এনির জন্য মায়া দেখেছে। একটা হৃদয়হীন ব্যক্তির চোখে কোনো এক মেয়ের জন্য মায়া, এইটা কি ভালোবাসার ব্যাখ্যা হতে পারে না? অবশ্যই আরিশ এনিকে ভালোবাসত। শুধু সময়, পরিস্থিতি, সম্পর্কের সমীকরনে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। অধিরাজ তপ্ত শ্বাস ফেলে।
আরিশ ওয়াইনের গ্লাস নাড়াচাড়া করে গম্ভীর হেসে বলে,
” পছন্দ করলেই বা কি? দিয়ে দিবি তর বউকে?
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” বউ?
আরিশ ওয়াইন টুকু মুখে দিয়ে বলে,
” রাতেই তো পাগলের মত বিয়ে করেছিস। ভালোবাসিস তুই এনিকে নিক?
নিক কিছুক্ষন ঠোঁট কামড়ে থাকে। এরপর সামান্য উচ্চ স্বরে হেসে বলে,
” রক্ষিতা! যাস্ট রক্ষিতা ও আমার। নিক জেভরানের বউয়ের মর্যাদা দিয়েছে কে? আর ভালোবাসা! এইসব ফাকিং লাভ স্টরি আমার ধাঁচে নেই। রক্ষিতাদের ভালোবাসে না যাস্ট নিজের কামনা মিটায়।
— তুই কেনো এতদিনেও মিটাস নি? ক্ষমতা সব’ই তো ছিলো। তার পরও কেনো নিক জেভরান নিজের হিংস্রতা আর পশুত্ব দেখায় নি। তর প্রতিটা রক্তবিন্দু আমার জানা নিক। বাট এইটার উত্তর কেনো খুঁজে পাচ্ছি না।
নিক ঠোঁট চেপে বলে,
” কিভাবে বুঝেছিস নিজের কামনা মিটায় নি?
আরিশ সামান্য হেসে বলে,
” যদি এমন হত তাহলে এনির রক্তাক্ত দেহ দেখতে পারতাম। অতীত ভুলে যায় নি কিন্তু।
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসে। অধিরাজ কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে,
” বস একটা সংবাদ এসেছে। BBC চ্যানেলের সহকারীর স্ত্রী আর তার দুই সন্তানের রক্তাক্ত দেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে । শেষ রাতেই খবরটা পেয়েছিলাম আমি।
নিক আর আরিশ কপাল কুচকে তাকায় অধিরাজের দিকে।
নিক সামান্য রেগে বলে,
” শেষ রাতের সংবাদ এখন জানাচ্ছিস কেনো?
অধিরাজ শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” আপনি আজ ভাবির সাথে ছিলেন। আজ তো আপনাদের বাসর রাত। তাই ভেবেছিলাম যদি ডিস্ট্রাব ফিল করেন তাহলে তো আমার গর্দান যাবে।
আরিশ ঠোঁট চেপে নিজের হাসি আটকে রাখে।নিক কটমট চোখে তাকিয়ে বলে,
” গর্দান তর এমনিতেও যাবে।
অধিরাজ মিনতি সুরে বলে,
” সরি বস। আমি সত্যি ভেবেছিলাম আপনি হয়ত বিজি ছিলেন।
আরিশ অধিরাজের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙ্গিয়ে বলে,
” স্টপ অধিরাজ। সত্যি সত্যি নিজের গর্দান হারাতে চাস নাকি?
অধিরাজ চুপ হয়ে যায়। আরিশ নিকের দিকে তাকিয়ে সন্দেহ দৃষ্টি রেখে বলে,
‘ তুই মেরেছিস?
— না। আমি ভয় দেখিয়েছি বাট মারার ইচ্ছে ছিলো না।
— তাহলে কি কোনোভাবে….
আরিশ আর নিক একজন আরেকজনের চোখে দৃষ্টি মেলায়। নিক বিরক্তি নিয়ে বলে,
” আরে না। সে কিভাবে যাবে? ওকে তো বাহিরে দরজা বন্ধ করে রেখে এসেছি আমি।
আরিশ গম্ভীরতা টেনে বলে,
” তকে কি কখনো, কোনোদিন দরজা বন্ধ করে রাখতে পেরেছি যে ওকে রাখতে পারব! তর’ ই তো রক্ত।
নিক চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। এরপর একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটের মাঝখানে চেপে ধরে। এর মধ্যেই দুইজন গার্ড একটা গার্ডকে টেনে – হিচরে তাদের সামনে এনে ছুঁরে ফেলে। আরিশ কপাল কুচকে বলে,
” কি হয়েছে?
— স্যার এই মাদা**** মি. কায়াতকে সংবাদ পাঠাচ্ছে। বস আর ম্যাডামের বিয়ের সংবাদ ও শালায় পাচার করতে যাচ্ছিলো কিন্তু তার আগেই আমি শুনে ফেলি।
আরিশ দাঁত কিড়মিড়িয়ে তাকায় মাটিতে লুটিয়ে থাকা ব্যক্তিটার দিলে। লোকটা হাত জোর করে কাঁপা গলায় কান্না করতে করতে বলে,
” ক্ষমা করুন বস। প্লিজ ক্ষমা করুন। অনেক টাকার লোভ দেখিয়েছিলো তাই নিজেকে সামলাতে পারি নি। বলেছে খবর পাঠালে দ্বিগুন টাকা দিবে। তাই সামান্য কিছু সংবাদ পাঠাচ্ছিলাম। ক্ষমা করুন বস।
নিক নিজের সিগারেটটা হাতের আঙ্গুলে ঘোরাতে থাকে। এরপর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে ঠিক আগের জায়গায় বসে পড়ে। ধূসর চোখের মনিগুলো রাগে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। দাঁত কটমট করে ঘাড় কাৎ করে তাকায় লুটিয়ে পড়া গার্ডের দিকে। সামান্য ঠান্ডা গলায় বলে,
” আমার লবণ খেয়ে আমার সাথেই বেইমানী। শুয়রের বাচ্চা!
লোকটা ভয়ে কাঁপছে। নিক জ্বলন্ত সিগারেটটা হাতের আঙ্গুলে ঘোরাতে ঘোরাতে বলে,
” একজন বেইমানের জন্য নিক জেভরান ঠিক কতটা হিংস্র হয়ে উঠে ধারনা নেই তদের? জানিস না আমি কেমন? জানের মায়া ছিলো না? আমার খেয়ে আমার সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা কুত্তার বাচ্চা!
নিক আচমকা জ্বলন্ত সিগারেটটা লোকটার কন্ঠনালিতে চেপে ধরে। লোকটা জ্বলন্ত সিগারেটের যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে চেঁচিয়ে উঠে,
” ক্ষমা করুন স্যার! জীবনে আর এই ভুল করব না। প্লিজ ছেড়ে দিন।
নিক দাঁতে দাঁত পিষে। মুখের কাঠিন্যতা আর দৃঢ় করে বলে,
” ক্ষমা নামক কোনো শব্দ আমার কাছে নেই। বিশ্বাসঘাতকদের জন্য তো কোনকদিন নেই। যেখানে নিজের জন্মদাত্রী মাকে ছাড় দেয় নি সেখানে তুই কে?
শুয়রের বাচ্চা আমার খেয়ে আমার পিঠে ছুঁরি মারিস।
নিক সিগেরেটটা দিয়ে লোকটার কন্ঠনালির প্রতিটা অংশ জ্বালিয়ে দিতে থাকে। লোকটা যন্ত্রনায় গলা কাটার মুরগীর মত ছটফট করছে।
আরিশ একটা চা*পাতি নিয়ে আসে। এরপর নিকের হাতে তুলে দেয়। নিক চা*** হাতে নিয়ে লোকটার হাতের তালুর ভেতরে ডুকিয়ে দেয়। লোকটা আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা গগনবিধায়ী চিৎকার দিয়ে উঠে। লোকটা হাঁপাচ্ছে, মুক্তি চাচ্ছে। কিন্তু নিক লোকটার কান্নারত, আতঙ্কিত মুখটার দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাসি হাসতে থাকে। তার হাসির কোনো শব্দ ছিলো না। চোখে তীক্ষ্ণতা নিয়ে লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আর এক হাত দিয়ে লোকটার হাতের তালুর উপরে একের পর এক ছিদ্র করে যাচ্ছে। লোকটার আর্তনাদে পুরো মেনশন স্তব্দ হয়ে আছে। বাকি গার্ডগুলো নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে টান টান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লোকটার চিৎকার চারপাশের প্রতিটা দেয়াল জানান দিচ্ছিলো এখানে নিকৃষ্টভাবে কারোর খুন হচ্ছে।
এনির চোখের পাতা ধীরে ধীরে হালকা হয়ে আসতে থাকে। প্রতিটা জানালার কাচ খুলে রাখা। বাতাস এসে তার লম্বা চুলগুলো মুখে এসে পড়ছে। হঠাৎ এক বিকট কান্নার শব্দে এনি ভয়ে লাফিয়া উঠে। কপাল দিয়ে ঘাম জড়ছে। এনি ভয়ে ভয়ে চারপাশে তাকায়। কখনো এই জানালাগুলো খোলা থাকে না। তাহলে আজ কেনো খোলা? নিকের কথা মাথায় আসতেই এনি বিছানার দিকে তাকায়। পুরো শরীর ঘৃনায় ঘিনঘিন করে উঠে। এই নরপশুর সাথে রাত কাটিয়েছে ভাবতেই যেন বমি চলে আসছে। এনি নিজের পুড়ে যাওয়া ডান পা টাকে আলতো নাড়া- চড়া করে উঠে বসে। শরীরের ক্ষত অনেকটা কমেছে। পায়ের ক্ষতটা অনেকটা গভীর তাই এখন ও ব্যাথা অনুভব হয়। এনি ফ্রেশ হওয়ার জন্য বিছানা থেকে নামতে যাবে আবার ও সেই বুক ফাটা চিৎকার। এনি জমে যায় সেখানেই। একটা চিৎকারে থেমে থাকে না। পর পর অনেক গুলো চিৎকারে এনির ভিতরটা কেঁপে উঠে। ভয়ে শিউরে উঠে পুরো শরীর। এনি আচমকা পিছনে বেলকনির দিকে তাকায়। বড় বড় নিশ্বাস ছেড়ে এক পায়ের উপর ওজন দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। এরপর দেয়াল ঘেষে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। ডান পায়ে সামান্য টান অনুভব করতেই ব্যাথায় নাক – মুখ কুচকে ফেলে। অনেক কষ্ট করে বেলকনি পর্যন্ত যায়। চিৎকারের আওয়াজ খুজতে খুজতে চোখ যায় বাগান কেন্দ্রে।
বহিরাঙ্গনের পরিস্থিতি, পরিবেশ দেখে এনি সাথে সাথে নিজের মুখ চেপে ধরে। পর্দার আড়ালে নিজেকে সরিয়ে নেয়। নিক একটা কুড়াল দিয়ে লোকটার পেট ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ধারালো লম্বা ছুঁরি দিয়ে মাথাটাকে ঘাড় থেকে আলাদা করে ফেলে। ছুঁরির আঘাতে মাথাটা গিয়ে ছিটকে পড়ে অনেক দুরে। দুরে যাওয়ার আগেই অধিরাজ ধরে নিয়ে আসে। লোকটার রক্তে ভেসে যায় পুরো জায়গা। আরিশ নির্বিকার ভাবে তাকিয়ে আছে। তার দুই ঠোঁটে সিগারেট রাখা। অধিরাক বাঁকা হেসে শুধু দেখে যাচ্ছে। নিক নিজের পৈশাচিক খেলায় মত্ত।
এনি শুধু তাকিয়ে দেখছে প্রতিটি মানুষকে। সবার চোখে – মুখে কেমন বর্বরতা। কেমন হিংস্র চোখ দিয়ে তাকিয়ে আছে রক্তাক্ত দেহটার দিকে। এনি ঘৃনায় থু থু ছুড়ে মারে। মাথাটা হুট করে ঘুরে আসে। এনি মাথায় হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। আর কোনো দৃশ্য দেখতে পারে নি। ভয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসে। আর কিছুক্ষন দেখলে সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে।
এনি এক পায়ের উপর শক্তি প্রয়োগ করে কোনো রকম একই জায়গায় এসে বসে। আতঙ্কে তার পুরো শরীর এখন ও কাঁপছে। বিছানায় বসে নিজেকে নিজে ভালোভাবে চেপে ধরে। আত্না শুকিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। এত ভয়ানক দৃশ্য দেখে কি আদ’ ও নিজেকে ঠিক রাখা যায়! এনি ভেতরে ভেতরে ভয়ে আতঙ্কে ভেঙ্গে যাচ্ছে। এই পশুটা এখন থেকে তার সাথে থাকবে ভাবতেই শিউরে উঠছে তার শরীর। দেহের প্রতিটি লোম পর্যন্ত সজাগ হয়ে উঠেছে। এনি কান্না করে উঠে। বিয়ের কথা মাথায় আসতে থাকে ধীরে ধীরে। নিজের চুলগুলোকে খামছে ধরে বসে আছে।
হুট করে দরজা খুলার শব্দে মাথা তুলে তাকায়। চোখের সামনে রাগান্বিত নিককে দেখতে পেয়ে এনির জীবন বেরিয়ে আসার অবস্থা। একটু আগের ঘটনা মাথায় চাপ দিতে থাকে। তার কাছে নিক কে কোনো মানুষ নয়, এক নরখাদক মনে হচ্ছে। যারা মানুষদের মেরে রক্ত পান করে, মাংশ ছিড়ে খায়। এনি কিছুটা পিছিয়ে যায়। নিক রুমের ভেতরে এসে শরীরের শার্টটা খুলে ফেলে। এনি শুকনো ঢোক গিলে জড়োসরো হয়ে বসে। শরীর অসম্ভব ভাবে কাঁপছে। নিক কালো শর্টটা খুলে ধীরে ধীরে এনির কাছে এসে। এনি এখন মাথা নিচু করে আছে। নিক আচমকা এনির দিকে ঝুকে পড়ে। এনি চোখ- মুখ বন্ধ করে অন্য পাশে মাথা ঘুরিয়ে নেয়। নিক কপাল কুচকে তাকায় এনির দিকে। এনির গলায় নিকের ঠোঁটের স্পর্শ লাগে। এনি ঘৃনায় ছটফট করে উঠে। আচমকা এনির চিবুক টেনে ধরে নিজের মুখোমুখি নিয়ে আসে। এনি এখন ও চোখ বন্ধ করে আছে। গালে ব্যাথা পেতেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।
নিক সামান্য কটমট করে বলে,
” কার অনুমুতি নিয়ে বেলকনিতে গিয়েছিলে?
নিকের এমন প্রশ্নে এনি আচমকা চোখ খুলে তাকায়। কাঁপতে থাকা শরীর কিছুটা স্থির হয়। কাঁপা, ভেঁজা চোখে তাকায় নিকের ধূসর বাদামী চোখ দুটির দিকে। এনির নীল চোখে তাকাতেই নিক নিজের চোখ সরিয়ে নেয়। নিজের উপর নিজেই রেগে যায়। এনি ব্যাথায় মৃদু কান্না করে বলে,
” ছ.. ছারুন। ব্যাথা পাচ্ছি খুব।
নিক আরও শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
” আদর করার জন্য তো ধরি নি। ব্যাথা যাতে পাওয়া যায় সেভাবেই ধরেছি। আগে বল বারান্দায় কেনো গিয়েছিলি?
— আ.. আপনারা এইভাবে কেনো মারছিলেন লোকটাকে? মায়া লাগে নি কাউকে এইভাবে মারতে? এতটা নিকৃষ্ট কেনো?
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে তাকায় এনির দিকে তবে চোখ চোখ রাখে না। এনির মুখের দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বলে,
” চোখ বন্ধ কর।
এনি বোকার তাকিয়ে থাকে নিকের দিকে। এনিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিক গাল আরও শক্ত ভাবে চেপে ধরে বলে,
” শুনতে পাস নি আমার কথা? চোখ বন্ধ করতে বলেছি আমি তকে।
নিকের ধমকে এনি সাথে সাথে নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলে। এনিকে চোখ বন্ধ করতে দেখে নিক বাঁকা হেসে ছেড়ে দেয়। এরপর আচমকা রিমোটের মাধ্যমে সবগুলো জানালা, পর্দা লাগিয়ে দেয় । অন্ধকার হয়ে পড়ে পুরো রুম।
সেই অন্ধকারে ভেসে আসে নিকের নিষ্ঠুর গর্জন,,
” কাউকে খুন হতে দেখার যখন এত শখ তখন আমি’ই পুরন করছি। বিছানায় বসে আরাম করে দেখো বেবিগার্ল।
এনি নিকের কথার মানে বুঝতে পারে নি। নিক একটা অনেক বড় ল্যাপটপ নিয়ে এনির সামনে রাখে। এনি এখন ও চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আচমকা কোনো কিছুর শব্দে ভয়ে শিউরে উঠে। চোখ খোলে ফেলে চট করে। চোখের সামনে ভিডিওতে ভাসছে ভয়াভহ খুনের দৃশ্য। এনি ভয়ে নিকের দিকে তাকাতেই নিক রহস্যময় হাসি দিয়ে এনির হাতটা হ্যান্ডকাফ দিয়ে বেঁধে দেয়। এনি ছটফট করে উঠে ছুটার জন্য। নিক ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ডিভানে বসে। হাতে একটা ওয়াইনের বোতল নিয়ে গ্লাসে ঢেলে দেয়।
বাঁকা হেসে এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” খুনের দৃশ্য দেখার তো অনেক শখ। এখন দেখো সিনারি। বাস্তব দৃশ্য থেকেও অনেক সুন্দর। আর হ্যা এখনে হুডি পড়া লোকটা কিন্তু আমি। আর সামনে যে অর্ধ নির্যাতিত লোকগুলো দেখতে পাচ্ছো সেগুলো হচ্ছে আমার শিকার।
অন্ধকার এই ভয়ানক রুমে অনেক বড় মনিটরে ভাসছে খুনের দৃশ্য। খুনের দৃশ্যের থেকে ভেসে আসছে লোগগুলোর ঘের ঘের আওয়াজ আর আর্তনাদ। এনি সহ্য করতে না পেরে কান চেপে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু হ্যান্ডকাফ লাগানো হাত নাড়াতে পর্যন্ত পারছে না।
অন্ধকার কক্ষে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল মানবকণ্ঠের বিকট আর্তনাদ। যেন কণ্ঠনালী বিদীর্ণ হয়ে আসন্ন মৃত্যুযন্ত্রণার ভয়াল অভিঘাতে ফেটে যাচ্ছে। কারো কণ্ঠে ছিল গলগল শব্দে রক্তবমির বিকট গর্জন। কারো চিৎকার করুণ কর্কশতায় আকাশবিদারী ঝঞ্ঝার ন্যায় ছড়িয়ে পড়ছিল। দেহ ছিন্নভিন্ন হওয়ার মুহূর্তে উচ্চারিত আর্তনাদগুলো এমন ছিল যেন নরকের অগ্নিকুণ্ড থেকে ছুটে আসা শয়তানি বিলাপ।
মহিলাদের আতঙ্কিত চেঁচামেচি ভেঙে যাচ্ছিল কাঁপতে থাকা দেয়ালে। শিশুদের গলা ফাটানো কান্না পরিণত হচ্ছিল মৃত্যুদূতের অশুভ বাঁশির মতো করাল সুরে। পুরুষদের গলা ভাঙা আর্তধ্বনি রূপ নিল ক্রন্দনের কর্কটরাশিতে। যেখানে প্রতিটি শব্দ ছিল রক্তাক্ত ছিন্নমাংসের শোচনীয় দগ্ধগান।
কক্ষের প্রতিটি কোণে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল সেই করুণ আর্তসঙ্গীত। কেউ গলা ফাটিয়ে মুক্তির প্রার্থনা করছে। কেউ শেষ নিঃশ্বাসে কেবল অজ্ঞাত শূন্যতায় বিলীন হচ্ছে। চারদিক যেন অশরীরী পিশাচের হাসি ও দুঃস্বপ্নের রক্তস্নাত গর্জনে আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল।
এনি হাঁপিয়ে উঠে। নিক এনির অস্থিরতা দেখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে পৈশাচিক হাসি। এনির অন্তঃকরণ যেন ভীতির দহনাগ্নিতে দগ্ধমান। তার চেতনা ক্রমশ শূন্যতার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে পড়তে থাকে । প্রতিটি নিঃশ্বাসে সে অনুভব করছে লৌহশৃঙ্খলের শীতল ঘষায় কবজির ভেতর থেকে রক্তক্ষরণশীল ব্যথার অনন্ত বিস্তার। তার চারপাশে প্রতিধ্বনিত ভয়াল আর্তনাদ মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রীতে বজ্রাঘাতের ন্যায় আঘাত হেনে বিভ্রম ও উন্মাদনার অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জ্বলিত করছে।
ভয়ানক হত্যাচিত্রের নৃশংসতা তার দৃষ্টি-প্রতিবিম্বে গেঁথে গিয়ে চোখের কপাটে রক্তাক্ত ছায়াপ্রলয়ের মতো আচ্ছন্নতা সৃষ্টি করেছে। ভীতসন্ত্রস্ত মন বিভ্রান্তির আবর্তে ক্রমশ অবসন্ন হয়ে পড়ছে। তার কাছে এখম বাস্তব ও বিভীষণ কল্পনার সীমানা সম্পূর্ণ মিশে যাচ্ছে। শিরায় শিরায় শীতল ত্রাস প্রবাহিত হয়ে তার অস্থিমজ্জায় হিমশীতল সঞ্চালন ঘটাচ্ছে। ফলে দেহ ছটফটাচ্ছে অথচ মন অসাড়তার অতল অন্ধকারে নিমগ্ন।
কণ্ঠনালী স্তব্ধ কণ্ঠস্বর বন্দী। এনির হৃদয় কাঁপছে। ভেতরটা তখন ভয় আর আতঙ্কে ভরে গেছে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সে একদম অসহায়। কিছুই করতে পারছে না। চোখের সামনে খুনের দৃশ্য আর ভেসে আসা চিৎকার তাকে কাঁপিয়ে তুলছে ভেতর থেকে। বুক ধড়ফড় করছে। মনে হচ্ছে যেন হৃদপিণ্ড বাইরে বের হয়ে আসবে।এনি আর সহ্য করতে পারছে না এইসব দৃশ্য। আচমকা কান্না করে উঠে,
” প্লিজ স্টপ! বন্ধ করুন এই মানসিক নির্যাতন। নিতে পারছি না আমি আর। কষ্ট হচ্ছে খুন, এমন শব্দে।
— কেনো বেবিগার্ল খুন দেখবে না? এইসব দেখার জন্য’ই ত এক পায়ের সাহায্যে গিয়েছিলে। এখন কেনো দেখতে পারছো না? কেনো এত ছটফট করছো? কেনো এত অস্থির হয়ে যাচ্ছো?
নিক কথাগুলো বলছে আর ওয়াইনের গ্লাস নাড়াচ্ছে। মনিটরে এখন ও ভাসছে বিকৃত খুনের দৃশ্য। ভয়ানক শব্দ আর হৃদয় কাঁপানো চিৎকার।
এনি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে। অস্থিরতায় বেড সিট এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। তার মাথা ঘুরছে। চারপাশ অন্ধকারে ডুবে থাকায় ভয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। মনে হচ্ছে দেয়ালগুলো যেন তাকে গিলে ফেলবে। বারবার মুক্তির চেষ্টা করেও শিকল খুলতে না পেরে হতাশা তাকে গ্রাস করছে। এনি ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়তে থাকে। চোখ বন্ধ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। চোখের পাতাগুলো নডছে, অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” প্লিজ বন্ধ করুন। মরে য…
আর বলতে পারে নি। তার আগেই ঢলে পড়ে। জ্ঞান হারিয়ে এক পাশে হেলে পড়ে এনি। নিক বাঁকা হেসে উঠে দাঁড়ায়। ওয়াইনের গ্লাসটাকে শব্দ করে টেবিলের রাখে। তার পর ধীরে ধীরে গ্যাংস্টার বস বিছানার কাছে এগিয়ে আসে। ল্যাপটপটা বন্ধ করে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। এত উপর থেকে ল্যাপটপ পড়াতে খন্ড – বিখন্ডে পরিনত হয়। নিক এনির দিকে এক পলক তাকিয়ে নিশ্বব্দে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। অন্ধকার রুম, অচেতন অবস্থা, ঘার্মাক্ত মুখ, চুলগুলো মুখের উপর এসে পড়ে আছে। কিন্তু নিক জেভরানের মন গলাতে পারে নি। এমন করুন পরিনতি করে নিষ্ঠুরতার সাথে বেরিয়ে গিয়েছে। তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যত কি?ভালোবাসা কি আদ’ও সম্ভব?
পেইন্টিং রুমের অন্তঃস্থ নীরব প্রাঙ্গণে এক কিশোরী রমণী নিস্তব্ধ বসতিতে সৃজনের মগ্নতায় নিমগ্ন। চারদিকের দেয়াল জুড়ে ছড়িয়ে আছে অর্ধসমাপ্ত ক্যানভাসের রঙিন প্রতিসম্ভা। বাতাসে ভাসমান টারপেনটিনের গাঢ় গন্ধ যেন শিল্পকলার নিঃশ্বাস। কক্ষের অর্ধপ্রভায় জানালা দিয়ে অনুপ্রবেশ করা সূর্যালোক তুলি-স্পর্শিত ক্যানভাসে রঙের দীপ্তিমালা ছড়িয়ে দিচ্ছে। মেয়েটি অনাড়ম্বর ভঙ্গিতে কাঠের স্টুলে বসে একাগ্র দৃষ্টিতে রঙতুলি ক্যানভাসের উপর নৃত্য করাচ্ছে। তার আঙুলের ক্ষুদ্র নড়াচড়ায় রঙমিশ্রণের অলৌকিক শৈল্পিকতা উদ্ভাসিত হচ্ছে। অন্তর্গত অনুভূতিগুলো অদৃশ্য ভাষায় আকার নিচ্ছে। সারা ঘরজুড়ে নিস্তব্ধতার আবেশ থাকলেও প্রতিটি তুলির আঁচড়ে এক অনির্বচনীয় শব্দহীন সঙ্গীত ধ্বনিত হচ্ছে। যেখানে শিল্পী ও ক্যানভাস সমার্থক হয়ে একীভূত। এক পাগল প্রেমিকা তার গুপ্ত অনুভুতি রং – তুলির মাধ্যমে তুলে ধরছে। মেয়েটা মুচকি মুচকি হাসছে। আবার লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিচ্ছে। ঠোঁটের আকৃতি দিতে গিয়ে লজ্জায় চোখ নামিয়ে বিরবির করে বলে,
” একদিন এই ঠোঁটে আমার রাজত্ব চলবে। দিবেন তো সেই রাজত্ব, আমার রাজকুমার? না দিলেই বা কি? আমি তো আপনার বউ হব। বউ হলে নিজের হক নিজেই আদায় করে নিব।
ঠোঁটের কোণে হাসি লুকিয়ে আবার ও আঁকাতে মনযোগী হয়ে পড়ে। হুট করে কেউ চোখ ধরে ফেলাতে কিছুক্ষনের জন্য ভয়ে লাফিয়ে উঠে। কিন্তু যখন বুঝতে পারে কে, তখন সামান্য গলা কেঁশে হাসি দিয়ে বলে,
” তানভী আপু! তোমার শরীরের ঘ্রাণ আমি অনেক দুর থেকেও বুঝি। তাই চোখ ধরলেই বা কি? মেহরিমাকে বোকা বানানোর জন্য এখন ও তৈরি হও নি।
মেহেরের কথায় মেয়েটা শব্দ করে হেসে উঠে। চোখ ছেড়ে দিয়ে সামনে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
” তাহলে মেহরিমা মেহের পড়া বাদ দিয়ে কি করছেন আপনি? কার ছবি আর্ট করছেন?
মেহের লজ্জায় চারদিকে তাকায়। কিছুটা হাঁশ ফাশ করে বিরবির করে বলে,
” ন..নিক ভাইয়া। উনি ছাড়া আর কে হবে আপু?
তানভী সামান্য হেসে মেহেরকে জড়িয়ে ধরে বলে,
” সেটা তো আমি প্রথম দেখাতেই বুঝেছি। এইটা যে নিক স্যারের ছবি। বাট তোমাকে একটু বাজালাম আরকি। বাই দ্যা ওয়ে স্যারের সাথে কথা হয়েছে আর?
মেহের মুখ কালো করে দুই পাশে মাথা নাড়ায়। এরপর ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলে,
” অনেক দিন ধরে কথা হয় না আপু। জানো খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আমার তো বাহিরে বের হওয়া নিষিদ্ধ। আরিশ ভাইয়া, নিক ভাইয়া, দাদামশাই সবাই না করে দিয়েছে। জানোই’ত শত্রুরা কিভাবে ছড়িয়ে আছে চার- পাশে।
— ফোন দিয়ে খোজ নিয়ে নে।
— কিভাবে নিবো?
— কেনো স্যারের নাম্বার নেই?
— আছে তো।
— তাহলে আর কি?
মেহের মুচকি হেসে বলে,
” লজ্জা লাগে তো।
মেহেরের লজ্জা দেখে তানভী উচ্চস্বরে হেসে উঠে। নিজের হাসি সামান্য থামিয়ে বলে,
” লজ্জা পেলে আর প্রেমে পড়েছিস কেনো? আর কেনোইবা প্রতিনিয়ত সপ্নের পাগলামো করিস। কিছু হবে না, তুই এখন ফোন দে।
মেহের ভয়ে বলে,
” না আপু এখন দিতে পারব না। যদি ভাইয়া কাজে থাকে তাহলে খুব রেগে যাবে।
— তর ফোন দেখলে রাগ করতেই পারবে না। কারন তুই উনার ভবিষ্যত অর্ধাঙ্গিনী।
মেহের লজ্জায় আরও হাঁশফাঁশ করে উঠে। তানভী-র জোর জবর্দস্তি থেকে মেহের বাধ্য হয়ে নিকের নাম্বারে ফোন দেয়। মেহের ভয়ে বার বার তাকাচ্ছে মোবাইলের দিকে। তানভী চোখ দিয়ে আশ্বস্ত করে। বার বার ফোন দেওয়ার পর ও যখন রিসিভ হচ্ছে না তখন মেহের ঠোঁট উল্টে তানভী-র দিকে তাকায়। তানভী হতাশ হয়ে বলে,
” কাকে ভালোবাসিস মেহের? এতক্ষন ফোন দেওয়ার পরও তর ফোনটা ধরলো না।
তানভী কথাটা শেষ করার সাথে সাথেই উচ্চ আওয়াজে ফোনের রিংটন বেজে উঠে। মেহের সামান্য কেঁপে উঠে রিংটনে। তানভী চোখ দিয়ে ইশারা করে।
মেহের ফোনের দিকে তাকিয়ে খুশিতে আত্নহারা হয়ে উঠে।
আচমকা তানভী-র গলা জড়িয়ে ধরে চেঁচিয়ে উঠে,
” আপু নিক ভাইয়া ফোন দিয়েছে।
তানভী – অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে ফেলে। মেহেরকে ছাড়িয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করে বলে,
” দ্রুত রিসিভ কর।
— ভয় করছে আপু।
— মেহের!
মেহের শুকনো ঢোক গিলে রিসিভ করে ,
— আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। কেমন আছেন?
— হুম বল। কেনো ফোন দিয়েছিস?
নিকের গম্ভীর স্বর’ই যথেষ্ট মেহেরের ভেতর কাঁপিয়ে তুলার জন্য। মেহের লাজুক শ্বাস ফেলে বলে,
” খেয়েছেন ভাইয়া?
— না। এখন ও খাওয়া হয় নি।
— কেনো খান নি এখন ও? কত বেলা হয়েছে খেয়াল আছে আপনার?
— তুই খেয়েছিস?
— উহুম।
— কেনো?
— আপনি কেনো খান নি?
— আমি আর তুই এক?
— এক হলে সমস্যা কোথায়? এখন অর্ধেক, ভবিষ্যতে না হয় এক হয়ে যাব।
— খাবার খেয়ে নে। এতক্ষন অভুক্ত খেলে শরীর খারাপ করবে।
— খাব। আপনি কবে আসবেন এখানে? দাদামশাই আপনাকে দেখতে চাচ্ছে।
— আসব।
— কবে আসবেন বলুন না?
— আসব কোনো একদিন পরে কথা বলছি। নিজের খেয়াল রাখিস। রাখছি এখন।
মেহের আর কিছু বলতে পারে নি। ওই পাশ থেকে ফোন কাটার শব্দে মুচকি হাসে। মেহের কথা শেষ করার সাথে সাথেই তানভী- র দুষ্টু বাক্য ভেসে আসে,
” পরে কথা বলছি। নিজের খেয়াল রাখিস! অহহ মাই গড মেহরিমা মেহের। পুরো আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে তুলে যে নিক জেভরান সে তর সাথে এতটা নমনীয়ভাবে কথা বলে? ইন্টারেস্টিং বেইবি!
মেহের মুচকি হেসে ছবিটার দিকে তাকায়। তানভী- সিরিয়াস হয়ে বলে,
” কিন্তু মেহের …
— হুম আপু।
— পারবি নিক স্যারের বউ হতে? পূর্নতা পাবে তর ভালোবাসা? উনি তো মেয়েদের সহ্য করতে পারে না।
মেহের মুচকি হেসে বলে,
” বউ হওয়ার জন্য তো বেঁচে আছি আপু। যদি জীবনে কিছু পাওয়ার থাকে তাহলে আমি নিক কেই চাইব। হোক সে হৃদয়হীন, তাতে কি? ভালোবাসি আমি তাকে। উনি মেয়েদের সহ্য করতে পারে না। কিন্তু আমাকে তো করতে পারে আপু। যখন উনি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকতেন তখন আমি সেবা করতাম। জ্বরে অচেতন হয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকতেন আমি পুরো রাত জেগে জল পট্টি দিতাম। এখন ও দিয়ে দেয়। কিন্তু সমস্যা এখন উনি নিজের মেনশনে থাকে। তাই দেখা পায় না, সেবা করতে পারি না। উনি যদি আমাকে ঘৃনা করতেন তাহলে আমার সেবা কিভাবে গ্রহন করেছে আপু? নিশ্চয় উনার হৃদয়ে ও আমার জন্য স্থান আছে।
তানভী – দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তাকায় মেহেরের দিকে। মুচকি হেসে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ১০
” আপনার ভালোবাসা বুঝার ক্ষমতা এখন ও আমার হয় নি ম্যাডাম। তাই এখন আপাযত পড়তে বসুন। আজ অনেকটা দেরী হয়ে গেছে আমার আসতে। দ্রুত বই বের করুন। আপনাকে পড়িয়ে আবার আমাকে ভার্সিটিতে যেতে হবে।
মেহের হেসে নিজের রুমে চলে যায়। তানভী ও মেহেরের সাথে চলে আসে। পড়ার টেবিলে বসে তানভী গলা কেঁশে বলে,
” মাথা থেকে নিক স্যারকে আগে বের করে নাও। নাহলে হাজার পড়ালে ও মাথায় কিছু ডুকাতে পারব না।
মেহের অসহায় চোখে তাকায় তানভী-র দিকে । তানভী হেসে উড়িয়ে দেয়।
