Home রুপুর বিয়ে রুপুর বিয়ে পর্ব ১৪

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৪

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৪
Bobita Ray

অথৈ মেয়েটাকে বীথি রানীর পছন্দ হয়েছে। শুধু পছন্দ না। বেশ পছন্দ হয়েছে। মেয়েটা আর পাঁচটা গায়ে পড়া স্বভাবের মেয়ের মতো না। একদম অন্যরকম মেয়ে। নাহলে বাড়িতে এত সুন্দর রাজপুত্রর মতো একটা ছেলে চোখের সামনে থাকতেও মেয়েটা সারাক্ষণ ঘরবন্দী হয়ে থাকবে কেন! অথৈ আসার পরে বলতে গেলে বীথি রানীর দু’চোখের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। বীথি রানী ভেবেই নিয়েছিল। রুপু ইচ্ছে করে মেয়েটাকে এই বাড়িতে এনেছে। যেন মেয়েটা অয়নের কাছাকাছি আসতে পারে। বীথি রানীও কম না। অথৈ মেয়েটাকে কিছুদিন কড়া নজরে রেখেছিল। সন্দেহ করার মতো তেমন কিছুই পায়নি। উল্টো বোনের কাছে কিছুদিন ঘুমানোর পর নিজেই তিনতলায় চলে গেছে। তা-ও আবার যেই সেই যাওয়া না।

এইবাড়ির মানুষের থেকে পুরোপুরি নিজেকে আলাদা করে ফেলেছে। সারাদিন ঘরবন্দী করে মেয়েটা কী করে। বীথি রানী ভেবে পায় না। কৌতূহলবশত বার কয়েক মেয়েটার ঘরে গিয়েছিল। যখনই গিয়েছে তখনই দেখেছে মেয়েটা গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে। এই মেয়ে নাকি রুপুর থেকেও ছাত্রী ভালো। কোনদিন পরীক্ষায় ফাস্ট ছেড়ে সেকেন্ড হয়নি। দেখতেও সুন্দরী। এইরকম একটা মেয়ে যদি বিনয়ের বউ হতো। কতই না ভালো হতো। বীথি রানীর পোড়া কপাল। নাহলে ওমন ঝগড়ুটে বউ কপালে জুটবে কেন! বীথি রানী দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অথৈয়ের কথা আর ভাববে না বীথি রানী। অথৈ যদি কোনভাবে এইবাড়ির বউ হয়ে আসে। তাহলে বীথি রানীর কপাল পুড়বে। দুইবোন এই সংসারে বীথি রানীকে টিকতেই দেবে না। রুপুকে কোনভাবে বিনয়ের থেকে আলাদা করতে পারলে সবচেয়ে বেশি ভালো হতো। বিনয়ের জন্য বোধহয় রুপুকে তাড়ানো সম্ভব হবে না। গাধাটা দজ্জাল বউটাকে ভালোবেসে ফেলেছে। সে ফেলুক। রুপুকে এই বাড়িতে থাকতে হলে বীথি রানীর কথামতো চলতে হবে। নাহলে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আপাতত বিনয়কে চাপ দিতে হবে। যে করেই হোক। রুপুর মাথা থেকে পড়াশোনার ভূত নামাতে হবে।
বিনয় ঘরে এসে দেখল, রুপু স্নান করেছে। ভেজা চুল দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। রুপুর মুখেও বিন্দু বিন্দু জলের কণা লেগে আছে। রুপুকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে। বিনয় ঘড়ি দেখল, অনেক রাত। এতরাতে রুপু স্নান করেছে কেন, কে জানে! বিনয় রুপুর কাছে এসে দাঁড়াল। বিনয়ের দিকে একপলক তাকিয়ে চট করে সরে যেতে নিল রুপু। বিনয় রুপুকে সরে যেতে দিল না। পথ আগলে দাঁড়াল। রুপু ভ্রু কুঁচকে বিনয়ের মুখের দিকে তাকাল। বলল,

“দেখি সরো।”
বিনয় সরল না। রুপুর খুব কাছে এসে দাঁড়াল। বলল,
“এতরাতে স্নান করলে হঠাৎ।”
“গরম লাগছিল তাই স্নান করেছি। এতে কী তোমার কোন সমস্যা আছে?”
“না। কোন সমস্যা নেই। রুপু?”
“বলো।”
“চলো ব্যালকনিতে যাই।”
“ইচ্ছে করছে না।”
“আমার খুব ইচ্ছে করছে। প্লিজ চলো..”
“বললাম তো যাব না।”
“না গেলে কোলে তুলে নিয়ে যাব।”
“ঝগড়া করে মন ভরেনি। আরও ঝগড়া করতে চাচ্ছ নাকি?”
বিনয় রুপুর খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“উঁহু.. ভালোবাসতে চাচ্ছি।”

রুপু কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠল। তবে বিনয়কে বুঝতে দিল না। চোখে-মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে বলল,
“রাত-বিরেতে ঢঙ না করে সরো তো। ঘুমাব এখন।”
বিনয় রুপুর একহাত ধরে ফেলল। রুপুকে কাছে টেনে রুপুর ভেজা চুলগুলো আলতো হাতে কানের পিঠে গুঁজে দিল। আবেশে কেঁপে উঠল রুপু। বিনয় আবেগঘন কণ্ঠে বলল,
“আমি আর তুমি মিলে কী আমরা হতে পারি না রুপু।”
“না বোধহয়।”
বিনয় আহত চোখে রুপুর দিকে তাকাল। রুপু হেসে ফেলল। মধুর সুরে বলল,
“এ জনমে তুমি আমার হলেই না পরও জনমে আমি তোমার হতে পারতাম।”
“এ জনমে আমি তোমার না?”
“পুরোপুরি আমার না। আর কখনো হতেও পারবে না।”
“পরও জনমেও কী তুমি আমাকে তোমার বর হিসাবে ভগবানের কাছে চাইবে?”
“জীবনেও না।”
বিনয় আহত দৃষ্টিতে রুপুর দিকে তাকাল। অস্ফুট স্বরে বলল,
“কেন?”

“মানুষ এক ভুল কয়বার করে।”
“আমাকে বিয়ে করা তোমার জীবনে ভুল ছিল নাকি?”
রুপু মিষ্টি করে হাসল। বলল,
“শুধু ভুল না। মস্তবড় ভুল ছিল।”
হাসিমুখে কঠিন কথাগুলো কী সহজেই না বলে দিল রুপু। বিনয়ের খুব মন খারাপ হয়ে গেল। বিনয়কে সরে যেতে দেখে রুপু বলল,
“যা করতে এসেছ, তা না করেই চলে যাচ্ছ যে?”
বিনয় চমকে উঠে রুপুর দিকে তাকাল। বিড়বিড় করে বলল,
“যা করতে এসেছি মানে?”
রুপু কয়েকপা হেঁটে এসে বিনয়ের মুখোমুখি দাঁড়াল। চোখে চোখ করে বলল,

“তোমার মায়ের না খুব নাতির শখ। মায়ের শখ পূরণ করতে এসে এত অল্পতেই অধৈর্য হয়ে গেলে। মায়ের শখ পূরণ করতে দেরি হলে তোমার মা কিন্তু খুব কষ্ট পাবে। তুমি মায়ের আদর্শ ছেলে হয়ে মাকে কষ্ট দেবে। এটা তো ঠিক না। না-ও চটজলদি আমাকে আদর করে তোমার মায়ের শখ দ্রুত পূরণ করে দাও।”
বিনয় হতভম্ব হয়ে গেল। চোখদুটো গোল গোল করে রুপুর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। রুপু বিনয়ের খুব কাছে চলে এলো। গাঢ় কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“শুরু করে দাও.. তোমার মায়ের নাতি হবার প্রাথমিক স্টেজ…”
বিনয় দুপা পিছিয়ে গেল। বলল,
“তোমার বড্ড অহংকার রুপু।”
রুপু আরাম করে বিছানায় বসল। বলল,
“তা একটু আছে বৈকি।”

“তুমি কী সারাক্ষণ আমার আর মায়ের কথোপকথন লুকিয়ে লুকিয়ে শুনো নাকি?”
“বালাইষাট… ওসব লুকো-ছাপা অভ্যাস আমার নেই। বরং তোমাদেরই আছে।”
বিনয়ের প্রচণ্ড রাগ হয়ে গেল। রুপুর কাছে এসে রুপুর দুহাত আচমকা মুচড়ে ধরল। রুপু ব্যথা পেল। তবে টু শব্দটিও করল না। গভীর দৃষ্টিতে বিনয়ের রাগী চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। বিনয় রুপুর গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে চাপা কণ্ঠে বলল,
“আজ তোমার সব অহংকার ভেঙে গুড়িয়ে দেব আমি।”
“ভাঙো দেখি, কেমন বীরপুরুষ তুমি।”
বিনয় রাগে ফেটে পড়ল। রুপুর কোমর শক্ত হাতে চেপে ধরল। রুপু বিনয়কে এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চেয়েও দিল না। দরজার দিকে তাকিয়ে রুপুর মুখে হাসি ফুটে উঠল। বিনয়কে কিঞ্চিৎ সরিয়ে দিয়ে বুক থেকে শাড়ির আঁচল ফেলে দিল। একটু উঁচু কণ্ঠে বলল,

“শাড়িটা কী তুমি খুলবে? নাকি আমিই খুলে দেব?”
বিনয় মাথা তুলে অবাক হয়ে রুপুর দিকে তাকাল। রুপুর মুখের হাসি বিস্তৃত হলো। বলল,
“আমি কিন্তু এখন মুখ দিয়ে খুব কুৎসিত ধরনের শব্দ করব। তোমরা মা-ছেলে লজ্জা পেলেও এতে আমার কিছু করার নেই।”
কথাগুলো বলে এক ধাক্কায় বিনয়কে সরিয়ে দিয়ে শাড়ি ঠিক করে উঠে গেল রুপু। আচমকা ঘরের দরজা খুলতেই বীথি রানী হুড়মুড়িয়ে ওদের ঘরের ভেতরে এসে পড়ল। রুপু ভেতর থেকে ঘরের ছিটকানি তুলে দিল। লজ্জায়, অপমানে বীথি রানীর মুখটা শুকিয়ে একটুখানি হয়ে গেল। রুপু বীথি রানীকে টেনে তুলে খাটের একপাশে বসিয়ে দিল। তারপর বিনয়ের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“তোমার মা বোধহয় অনেকক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে আছে। আহারে.. ওনার বোধহয় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পাদু’টো ব্যথায় টনটন করছে। মা বসে আছেন কেন? শুয়ে পড়ুন প্লিজ। আপনার তো খুব নাতির শখ। নাতি হবার প্রথম প্রতিক্রিয়া কীভাবে কার্যক্রম হয়। আরাম করে শুয়ে শুয়ে দেখুন। আর ভুলক্রুটি হলে অবশ্যই ধরিয়ে দেবেন।”
এ মেয়ে ডেঞ্জারাস। বলা যায় না। সত্যি সত্যি বীথি রানীর সামনে অশ্লীল কিছু করতে পারে। রুপুর অশ্লীল কথাবার্তার জন্য রুপুর সাথে রাগ করবে কী!

ভয়ে বীথি রানীর চোখ-মুখ শুকিয়ে গেল। বিনয়ের সামনে এমন বেইজ্জতি জীবনেও হয়নি বীথি রানী। আজই প্রথম। লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। চট করে কোনকিছু বানিয়েও বলতে পারছে না। মাথা কাজ করছে না।
বিনয় প্রচণ্ড অবাক হয়েছে। মায়ের শুকনো চোখ-মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“মা, এতরাতে এখানে কী করছ তুমি?”
বীথি রানী শুকনো মুখে হাসার চেষ্টা করল। কিছু বলার আগেই রুপু বলল,
“আজ আপনাকে হাতে-নাতে ধরেছি মা। দয়া করে বলবেন না। আজও জল নিতে এসেছেন। কারণ ঘন্টাদুই আগে আপনার ঘরে আমি গুনে গুনে পাঁচ বোতল জল রেখে এসেছি মা।”
বীথি রানীর মুখটা মুহূর্তেই ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেল। শরীরে ঘাম দিচ্ছে। প্রেশার বেড়ে গেল নাকি? না.. না এই দুদিনের মেয়েটার কাছে কিছুতেই হার মানবে না বীথি রানী। হাতে সময় নেই। খুব দ্রুত কিছু একটা করতে হবে। মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কেমন হয়? খাটে পড়ে গেলে ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে অভিনয়টা করতে হবে খুব নিখুঁত ভাবে। যেন বিনয় কোনভাবে সন্দেহ করতে না পারে।
“মা..মা.. মা কী হলো তোমার?”

মা মাথা ঘুরে পরে গেছে। ভাগ্যিস খাটে পড়েছে। নিচে পড়লে খুব ব্যথা পেত। বিনয় মায়ের একহাত ধরে অনেকক্ষণ মাকে ডাকাডাকি করল। বীথি রানী সারা দিল না। বিনয়ের ভয় করছে। এখন বুঝতে পারছে। মায়ের নিশ্চয়ই শরীর ভালো লাগছিল না দেখেই বিনয়ের কাছে কোন ঔষধ নিতে এসেছিল। অথচ আর একটু হলেই রুপুর কথাশুনে মাকে ভুল বুঝতো বিনয়। রুপুটা এমন কেন? সারাক্ষণ মায়ের পেছনে লেগে থাকে। মাকে দুচোখ পেতে দেখতেই পারে না। রুপুর কর্মকাণ্ডে বিনয়ের খুব হতাশ লাগে।
রুপু বড় করে নিঃশ্বাস ফেলল। বিড়বিড় করে বলল,
“যতসব নাটক।”
“জল.. জল আনো রুপু?”
রুপু এগিয়ে এসে বীথির রানীকে ধরল। বলল,
“দেখি.. দেখি কী হয়েছে?”

এই মুহূর্তে রুপুর খুব ভয়ংকর ইচ্ছে করছে। বিনয়ের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে ইচ্ছেটা বহুকষ্টে চাপা দিয়ে রেখেছে রুপু। কতক্ষণ চাপা দিয়ে রাখা যাবে সঠিক বলা যাচ্ছে না। এখন রুপুর অজ্ঞান অজ্ঞান খেলা শাশুড়ী মাকে কাতুকুতু দিলে কেমন হয়? ভদ্রমহিলার যদি সুড়সুড়ি থাকে নিশ্চিত লাফিয়ে উঠবে। বলা যায় না। অতিরিক্ত রাগে রুপুকে একটা থাপ্পড়ও মেরে দিতে পারে। কাজটা করে খুব দ্রুত সরে যেতে হবে। যেন থাপ্পড় দেবার সুযোগ না পায়। বিনয়ের সামনে আরও একবার খেল দেখাবে নাকি রুপু? দ্বিতীয়বার ভদ্রমহিলা ছেলের সামনে কী নাটক করে দেখা যাক।

“কী হলো যাও না, একটু জল আনো?”
রুপু দায়সারা ভাবে উঠে দাঁড়াল। আচমকা ভয় জড়ানো চাপা কণ্ঠে মৃদু চিৎকার করে বলল,
“আগুন..আগুন আগুন পাশের বিল্ডিংয়ের আগুন লেগেছে।”
বীথি রানী লাফিয়ে উঠল। প্রচণ্ড ভয় পাওয়া মুখে এদিক-ওদিক চাওয়া-চাওয়ি করে বলল,
“কোথায় কোথায় আগুন লেগেছে? দেখি সর সর দরকারি জিনিসপত্র সরাতে হবে।”
রুপু বিনয়ের হাতে জলের গ্লাস তুলে দিয়ে বলল,
“ধরো। কষ্ট করে তোমার মায়ের চোখে-মুখে জলটা আর ছিটাতে হবে না। পারলে খাইয়ে দাও।”
বিনয় অবাক হয়ে একবার রুপুর দিকে তাকাল তো আরেকবার মায়ের দিকে।

একটা জিনিস আপনার চোখের সামনে সবসময় ঘুরঘুর করলে সেই জিনিসের প্রতি কোন আগ্রহ থাকে না। কিন্তু হঠাৎ করে জিনিসটা হারিয়ে গেলে কিংবা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলে কী পরিমাণ আগ্রহ, আকর্ষন যে জিনিসটার প্রতি তৈরি হয়। তা কাউকে বলে বোঝানো যায় না। অয়নের দু-তিন রাত ধরে ঘুম হয় না। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও অথৈকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করে। অনুতাপে পুড়তে পুড়তে বলতে ইচ্ছে করে। আমি খুব সরি অথৈ। এরকম ভুল আমার আর কখনো হবে না। প্লিজ তুমি স্বাভাবিক হও। তোমার নির্বাসিত জীবন আমি আর মেনে নিতে পারছি না। আমার খুব অসহ্য লাগছে। কথাগুলো মনে মনে হাজারবার বলা যতটা সহজ। সামনে দাঁড়িয়ে বলা ততটাই কঠিন। যতই কঠিন হোক। তারপরও বলবে অয়ন। অভিমানী মেয়েটা অয়নকে কী পরিমাণ কষ্ট দিচ্ছে। তার কোনো ধারণাও নেই। গভীর রাতে ছাদে হাঁটাহাঁটি করতে অয়নের একটু ভয় ভয় লাগছে। তারপরও হাঁটাহাঁটি করছে অয়ন। ইচ্ছে করছে অথৈয়ের দরজায় নক করতে। সাহসে কুলাচ্ছে না। সারারাত জেগে থাকতে থাকতে কখন ভোর হয়ে গেল। অয়ন টেরও পেল না। খুব ভোরে অয়ন গিয়ে দোলনায় বসল। তখনই অথৈয়ের ঘরের দরজা খোলার খুট করে শব্দ হলো। অয়ন রিস্ক নিল না। অয়নকে দেখে যদি অথৈ মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়। অয়ন দ্রুত সরে গেল। অথৈ চারপাশটা ভালো করে দেখে নিল। না এখনো কেউ ঘুম থেকে উঠেনি। সারারাত জেগে পড়তে পড়তে অথৈয়ের মাথা ব্যথা করছে। এখন এককাপ চা না খেলেই না। অথৈ ব্যস্ত হাতে চটজলদি চা বানিয়ে দ্রুত ঘরে চলে গেল। ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বিছানার দিকে তাকাতেই অয়নকে অথৈয়ের বই জড়িয়ে ধরে সাহেবি স্টাইলে শুয়ে থাকতে দেখে, ভূত দেখার মতো চমকে উঠল অথৈ। অয়ন অথৈয়ের ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল। বলল,

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৩

“কেমন আছেন বেয়াইন সাব?”
“আপনি এইঘরে কখন এলেন?”
“যখন আপনি ছিলেন না।”
অয়ন উঠে দাঁড়াল। খুব সুন্দর করে হেঁটে এসে অথৈয়ের হাত থেকে চায়ের কাপ নিয়ে আয়েশ করে চায়ে চুমুক দিল। অথৈ রাগ, দুঃখ, ক্ষোভে, ভয়ে কথা বলতেই ভুলে গেল।

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৫