সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৫
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
চাঁদ রাত। চন্দ্রকাননের ছাদে মাদুর পেতে সকলে গোল হয়ে বসে হাতে মেহেদী পরতে ব্যাস্ত। নূরি কেও বুঝিয়ে শুনিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। মেয়েটা কালকের ঘটনার পর থেকে একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছে। যদিও ঈশানের কড়া নিষেধ, ওসব নিয়ে কেনো, কি এসব প্রশ্নে মেয়েটাকে যেনো জর্জরিত না করা হয়। ছেলের কথায় মায়েরাও কেউ এমন করার কারন জানতে চায়নি। একটু সুস্থ হলে, মন ভালো হলে ঈশান নিজে কথা বলবে।
নয়ন ছাদে দু দুটো লাইট লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। কৃত্রিম আলো নিভিয়ে চন্দ্রবিলাস করাই যেতো যদি যদি না মেহেদী পরতো এখানে এসে সকলে। তবে মেহেদী পরা শেষে আলো নিভিয়ে এখানে বসে আড্ডা দেবে সকলে। নিশির ক্লাসমেট রুপা এসেছে মেহেদী পরাতে। রিশা, রোশনি সবার আগে মেহেদী পরে ছোটাছুটি করছে রাফির সাথে।
নূরি মলিন মুখে বসে আছে। টুকটাক হা হু ছাড়া কোনো শব্দই বের হচ্ছে না মুখ থেকে। আজ কে দিনে একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছিলো তার কাছে। ইয়াজ ভালো আছে, হাসাপাতালে এ ভর্তি। তবে রিস্ক নাকি কেটে গিয়েছে। সেটা শুনে খানিকটা স্বস্তি পেলেও বুকের মধ্যে অপরাধবোধ টা গাঢ় হয়ে আছে এখনো। মানুষ টার সাথে নিজে কথা না বলা পর্যন্ত শান্তি লাগবে না তার।
তিতির এর হাতে ছোট্ট করে ঈশান এর নাম লেখা হয়েছে। তিতির গভীর মনযোগ এ দেখছে সেটা। তমা আড়চোখে হাসলো খানিকটা।
____”বড় ভাইয়া কে দেখিয়ে আয় গিয়ে।”
তিতির মুখ বাকালো। হাতে এই ঈশান এর নাম লিখে দেওয়ার বিষয়টা রুপা কে তমাই শিখিয়ে দিয়েছে। তিতির আগে টের পেলে মোটেই দিতে দিতো না। লজ্জার ব্যাপার হয়ে যাবে ঈশান দেখে ফেললে।
রাতের আকাশ, তবুও একদম ঝকঝকে। বিশাল গোল চাঁদ উঠে আছে তাদের মাথার ওপর। হাজার হাজার তাঁরার মেলা সেটার চারিদিকে। ঈশান একমনে জানালার পাশে তার ব্যাক্তিগত চেয়ার টেবিলে ফাইলপত্র মেলে, ল্যাপটপে দৃষ্টি দিয়ে বসে আছে। টাইপিং এর শব্দ পুরো ঘর জুড়ে।
টুং-টুং শব্দ করে ফোনে মেসেজ আসতেই চেক করার জন্য হাতে নিলো। অচেনা একটা নাম্বার থেকে লম্বা একটা মেসেজ। ভ্রু জোড়ার মধ্যে ভাজ পরলো। চোয়াল শক্ত হলো।
____” আজিমপুর কবরস্থান চেনা আছে কি ঈশান আরশাদ দেওয়ান এর? আছে বোধহয়। তার গুন, ক্ষমতা কে অবহেলা করার শাস্তিসরুপ কতজনের জায়গা হলো সেখানটায়। ভাবা যায়! তা ওখান কার একটা মারভেল পাথরে খোদাই করা নেমপ্লেটে যদি এমন হয়?
নাম:- রেহনুমা হেলাল তিতির
স্বামী:- ঈশান আরশাদ দেওয়ান
জন্ম :- ২২/১০/২০০৫
মৃত্যু :-……
খারাপ হয় না তাইনা ঈশান আরশাদ? তখন কেমন লাগবে? বাচ্চা বউটাকে সযত্নে শুয়িয়ে রেখে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করুন নিজেকে। নেমপ্লেট টা কিন্তু আসল। শুধু সময় মতো ডেট টা বসাবো।“
মেসেজ টা বেশ কয়েকবার পড়লো ঈশান। লোকটা একটা সত্যি কারের নেমপ্লেট বানিয়েছে। মাথায় রক্ত উঠে গেলো ঈশান এর। টগবগ করে ফুটছে শরীরের সব। দাঁতে দাঁত চেপে রিপ্লাই করলো,
____” বললি যে ঈশান আরশাদ এর ক্ষমতা অবহেলা করে আজিমপুর জায়গা হয়েছে। ওই দুঃসাহস তো দেখছি তুই নিজেও করছিস। আর সামান্য ভুল আছে তোর কাজে। রেহনুমা এখন হেলাল নেই। সারনেম চেঞ্জ হয়েছে। ও এখন ঈশান আরশাদ দেওয়ার এর বউ। রেহনুমা আরশাদ তিতির। ওকে রক্ষা করার জন্য ওর বাবা বেঁচে না থাকলেও, খোদা সে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে। ওর স্বামী জীবিত আছে এখনো। কলিজা টেনে ছিড়ে বের করার আগে শুধরে যা। তোকে জলদিই খুঁজে বের করবো। তোর চেহারা দেখার আজকাল বড্ড ইচ্ছে। ওটার চিত্র যদি না পাল্টে দেই, শান্তি পাবো না। আর বলেছিই তো। তোর সামনে আমি আদর আঁকবো আমার বউ এর ঠোঁটে। তোর ধ্বংস দেখে তবেই। ”
মেসেজ টা পাঠিয়ে চেয়ারে গা ছেড়ে বসলো ঈশান। ল্যাপটপ স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে শ্বেতপাথরের ওপর তিতিরের নাম। চোখ জ্বালা করে উঠলো। দ্রুত হাতে পুরো মেসেজ সহ নাম্বার ফরওয়ার্ড করলো কউকে। ছোট্ট করে লিখলো,
____”কালকের মধ্যে খোঁজ দিতে না পারলে আজিমপুরের একটা নেমপ্লেট তোমার নামে হবে।”
রুষা সুতির একটা থ্রি পিস গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে এলো বাথরুম থেকে। পুরো বাড়িতে সে ছাড়া কেউ-ই নেই। পাশের ফ্ল্যাট থেকে বাচ্চাদের হৈ হল্লা শুনতে পাওয়া যাছে। আজকে তো আবার চাঁদ রাত। কাল ঈদ!
বিদ্রুপের হাসি হেসে উঠলো রুষা। তার জীবনে আবার ঈদও আছে! জানা ছিলো না তো। ডাইনিং টেবিলে এসে চুপচাপ বসলো। গ্লাসে পানি ঠেলে নিলো। রাতে রান্না করতে বুয়া আসেনি। ঈদের ছুটিতে গিয়েছে। এ দুদিন তাকেই কোনোমতে চলতে হবে। আজকাল কোনো কিছুতেই আগ্রহ হয় না তার। ক্লান্ত লাগে সর্বক্ষণ। শরীরটা তো ভালো থাকেই না। ড্রয়িং রুমের দেয়ালে বিশাল করে সেটে রাখা দুটো ফটোগ্রাফি। একটার দিকে তাকিয়ে রইলো। তার আর ঈশান এর ছবি। দু বছর আগে পহেলা বৈশাখ এ তোলা ছিলো। বন্ধু রা সবাই মিলে বেরিয়েছিলো। তার পরনে একটা লাল শাড়ি। ঈশান ব্যাস্ত ফোনে। সে বারবার ডাকছিলো তাকে একটু দেখে কেমন লাগছে সেটা বলার জন্য। ঈশান সময়ই পাচ্ছিলো না। বরং তার ডাকে দ্বিগুন বিরক্ত হচ্ছিলো। ছবিতে ওমন একটা পরিস্থিতি ক্যাপচার করা। রুষা ঈশানের বাহু ধরে টানছে, ঈশান একদম বিরক্ত মুখে তাকিয়ে তার দিকে। হেসে ফেললো রুষা। ছবিটা সম্ভবত নিয়াজ এর তোলা ছিলো। রুষার বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে। গলায় রাজ্যের অসহায়ত্ব ভর করে।
_____”এ বাড়িটা আমাদের সংসার হবে এই ভেবে সাজিয়েছিলাম ঈশান। হলো না। কিচ্ছু হলো না। তুমি ধোঁকা দিলে। ছলনা করলে নিজের স্বার্থের জন্য। আমি না হয় ভুল করেছিলাম, তুমি তো ভালোবেসে আমাকে ফেরাতে পারতে এ রাস্তা থেকে । তা করলে না। বরং শেষে এসে জানলাম শুরু থেকেই ছলনা করে এসছো তুমি। আমার উদ্দেশ্যে জেনে আমাকেই ফাঁদে ফেলেছিলে।
আজ তুমি অন্য কারোর স্বামী। আমিও অন্য পথের পথিক। আলো কিন্তু কারোর পথেই নেই। ঘোর অন্ধকার এ যাত্রা আমাদের দুজনেরই। পথ টা এক হলো না শুধু।”
কর্কশ শব্দে তার সেলফোন টা বেডরুম থেকে চিৎকার করছে। বড্ড অনিহার সাথে উঠে গেলো। ফোন রিসিভ করলো। ওপাশের ব্যাক্তির গলা পাওয়ার আগেই বলে উঠলো,
____”আমাকে একা থাকতে দেওয়া হচ্ছে না কেনো?”
____”আজকের রাত তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।”
____”এটা সবসময় বলা হয়। আমি সবসময় বলে এসেছি একা থাকতে চাই কিছুদিন। “
____”ঈশান এর জন্য এখনো মন কাঁদে? “
____”ভালোবাসি আমি ওকে।”
____”ছল চাতুরীর সম্পর্ক টেকাতে এতো বাহানা? আমার কাছে সমস্যা কি? সুখে শান্তিতে রাখিনি?”
____”কিসের সাথে কিসের তুলনা করা হচ্ছে? মাথা ঠিক আছে? “
____”ঈয়ান আরশাদ মরবে। আজ বা কাল। এটা তুমিও জানো। ওর কর্মের জন্য মরবে, তোমার ভালোবাসার জন্য মরবে, ওর বউয়ের জন্য মরবে। মোটকথা মৃত্যু ওর নিশ্চিত। “
____”বাজে না বকে গাড়ি পাঠানো হোক। “
____”অপেক্ষায় থাকবো। “
রুষা ফোন ছুড়ে পোষাক পাল্টে নিলো। একা থাকতে চায় সে। এই ঘাত প্রতিঘাত এর জীবন থেকে মুক্তি চায় সে। সজ্ঞানে ডুব দিয়েছে এসব সংঘাতে। হয় ধ্বংস নতুনা ধ্বংসই। প্রাপ্তির খাতা আজীবন শূন্যই।
শুধু ঈশান কে পেলোনা। হারালো নিজের সব।
আকাশের চাঁদ টা আজকে বড্ড মনে করিয়ে দিচ্ছে তিতির এর কথা। রানি বেগম ঘুমিয়েছেন কিছুক্ষণ আগেই। এখন শরীর টা একটু বেটার। চারদিন পর তাদের আবার সিঙ্গাপুর যাওয়ার ফ্লাইট। রাহাত এর ঘরে মদের বোতল এর ছড়াছড়ি। এতদিন এসব খাটের নিচে রাখা থাকলেও আজ হাতে এসেছে। তিতির চলে যাওয়ার পর থেকে এসবই তার নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে মাতাল হয়না সে। মেয়েটার প্রেমে তো এমনিই মাতাল হয়ে আছে। আবার এসব ছাইপাঁশ লাগে নাকি! তবে আজ মাতাল হলে ইচ্ছে করছে খুব করে। বুকটা ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, রক্তাক্ত হয়ে আছে। তিতির এর কথাগুলো কানে বাজছে মেলোডিক সাউন্ডে। দু হাতে কান চেপে ধরেও সেসব থামছে না। এত গুলো বছর সে আগলে রাখলো, চোখের আড়াল করলো না। পাগলের মতো ভালোবেসে গেলো। আর চোখের পলকে বৈধ স্বীকৃতি পেলো অন্য পুরুষের! তার পরী নাকি এখন সে পুরুষ কে ভালোবাসে। এ জীবনে নাকি তাকে ছাড়তে পারবে না। এটা হয়? কেনো হলো তার সাথে এমন!
ভালোই তো বেসেছিলো সে। কোনো খাদ ছিলো না সে চাওয়া পাওয়ায়। তিতির এতগুলো বছর তার আশেপাশে থেকেও কেনো তাকে ভালোবাসতে পারলো না? ঈশান কি এমন! সে কোন দিক থেকে কম ভালোবাসতো,কম সুখে রাখতো!
আচ্ছা কবুল বলার সাথে সাথে মেয়েদের মনের ভিতর অনেক কিছুর পরিবর্তন হয় বোধহয়। হাতের আধা বোতল মদ ঢকঢক করে গিলে ফেললো রাহাত। টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরছে চোখ দিয়ে। এ পৃথিবীতে আপন বলতে তার কে আছে আর কেউ বা রইলো। এই মা টা মরে গেলে কোন পিছুটান এ বাঁচবে আর সে।
চাঁদ টা গভীর চোখে পরখ করলো। নেশা চড়ে গেছে তার বোধহয়। আঙুল দিয়ে শাঁসালো চাঁদ টাকে।
____”পরী তুমি আমার কিন্তু আমার। সারাজীবন আগলে রাখবো আমি তোমাকে। ঈশান পেতে পারে না তোমাকে। পারে না। অন্য গ্রহের চাঁদ হয়ে গেলে হু? আমাকে একা করে? আলো তো তোমার আমার গ্রহে দেওয়ার কথা ছিলো। ফিরবে না বলো? ফিরবে না আমার কাছে। কি করি বলতো? এক মন বলে তোমার ভালো চাই, ছেড়ে দেই তোমাকে। অন্য মন বলে অসম্ভব। পরীইইই মরে যাচ্ছি তো। হয় ঈশান মরবে নয়তো আমি। আমি মরলে না হয় তোমার কিচ্ছু আসে যাবে না। ঝামেলা মিটবে। কিম্তু ঈশান মরলে তুমি আমার হবে তো?”
রাহাত পাথরের মতো বসে রইলো খানিকটা সময়। বোধবুদ্ধি আপাতত নেশায় আচ্ছন্ন।আকাশের ওই ঝলঝকে চাঁদের দিকে তাকিয়ে মাতাল কন্ঠে গেয়ে উঠলো,
“”আমার আসার সময় হলে, তুমি হাত ফসকে গেলে
তোমার যাবার পায় তারা, আমি হই যে দিশেহারা
তুমি অন্য গ্রহের চাঁদ, আমার একলা থাকার ছাদ
তোমার ফেরার সম্ভাবনা অমাবস্যায় জোছনা…
তোমার গোপন সবই রয়, আমার আপন মনে হয়
আমি ভোরের ঝরা পাতা, আমার মরার কীসের ভয়?”
ছাদের আড্ডা শেষে তিতির যখন রুমে এলো তখন ঘড়ির কাটা রাত ঠিক বারোটায় টিকটিক করছে। আরও কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও রাইসুল দেওয়ান এর কড়া ধমকে নিচে চলে এসেছে সকলে। টানা এক মাস রোজা রেখে এতো রাত জাগলে কাল ঈদে আনন্দ করতে পারবে না। ক্লান্ত লাগবে।
তিতির ঘরে আসতেই চোখে পরলো ঈশান বের হচ্ছে কোথাও। নিজের হাত দুটো আলগোছে পিছনে নিয়ে ধীর গলায় শুধালো,
____”কোথাও বের হচ্ছেন?”
তিতির এর কন্ঠ পাওয়ার আগেই মেয়েটার অস্তিত্ব টের পেয়েছে ঈশান। দূর থেকে কড়া শ্যাম্পুর ঘ্রান ভেসে আসছিলো। সেদিন নিষেধ করলো এই শ্যাম্পু ব্যবহার না করতে। কথাই শোনার নাম নেই। মেয়েটার দিকে তাকাতে পারছে না সে। ইচ্ছে হচ্ছে না। খানিক আগে আসা ওই মেসেজ এ এই ছবিটার চিত্র ভেসে উঠতেই ভিতরে ভেঙেচূড়ে যাচ্ছে। কল্পনাও করতে পারে না আজকাল তিতির কে দূরে সরিয়ে রাখার কথা। বিয়ের এই এক মাসেই মেয়েটা ওকে নিজের নিয়ন্ত্রণ এ নিয়ে নিয়েছে। যা বছরের পর বছর কোনো মেয়ের জন্য অনূভব হয়নি। এই কয়টা দিনেই তীব্র ভাবে সেটা অনূভব হয় এই মেয়েটার জন্য।
ঈশান ঠিক করেই নিয়েছে, সব ঠিক না হওয়া পর্যন্ত দুজনের মধ্যে স্পেস থাকুক। তিতির এর সামনে নিজের কোনো দূর্বলতা এখন সে প্রকাশ করতে চায়না। তিতির যদি জানতে পারে তার স্বামী নিজেই মরীচিকায় ডুবে আছে, সয়ং ঈশান আরশাদ দেওয়ান সামান্য একটা ব্ল্যাকমেইলার কে ভয় পাচ্ছে এটা ভালো দেখায় না। তিতির নিজেও ভয় পেয়ে বসবে। ভয় পাওয়ার কারণ নেই কি! আছে, অবশ্যই আছে। যা শুধু ঈশান জানে। শুধু সামান্য ব্ল্যাকমেইল কি? নাহ। আরও কিছু আছে যা সবার সামনে আনতে ঈশানের আরও সময় লাগবে।
হাত ঘড়িটা হাতে দিতে দিতে ছোট্ট করে উত্তর দিলো ঈশান।
____”হু।”
তিতির দরজা ছেড়ে এগিয়ে এলো খানিকটা। চোখেমুখে চিন্তার ছাপ এনে বললো,
____”এতো রাতে?”
ঈশান ফোন,ওয়ালেট প্যান্টের পকেটে গুঁজতে গুঁজতে ওদিক ফিরেই বললো,
____”যাবি?”
____”কোথায় যাচ্ছেন?”
____”ঘরে অস্থির লাগছে। সেদিন যেখানে তোকে নিয়ে গিয়েছিলাম মনে আছে? “
সেদিন রাতের কথা মনে হতেই লাজুক হলো খানিকটা। তবে জায়গা টা তার দারুণ পছন্দ হয়েছে। আজ তো আবার আকাশে এত্তো বড় চাঁদ। আমতা আমতা করে বললো,
____”বড় মামা যদি জানে?”
____”তুই আর আমি কি লুকিয়ে প্রেম করছি?”
মাথা নাড়লো তিতির দুদিকে। ঈশান গম্ভীর গলায় বললো,
____”তাহলে? বকবে কেনো!”
____”জায়গা টা আপনার খুব প্রিয়?”
____”খুব।”
____”আপনি অপেক্ষা করুন একটু, আমি জামা টা পাল্টে আসি।”
থামিয়ে দিলো ঈশান। ওপর থেকে নিচ অবধি চোখ বুলিয়ে বললো,
____”সব ঠিকঠাক। পালটাতে হবে না। গেলে চল। না হলে থাক।”
গটগট করে হাটা ধরতেই পিছু পিছু পা বাড়ালো তিতির। ঈশান বাইক বের করতেই ভ্রু কোচকালো তিতির।
____”গাড়ি নিয়ে যাবেন না?”
ঈশান ততক্ষণে বড় গেট পার হয়ে রাস্তায় এসে দাড়িয়েছে। তিতির তখনো ভিতরেই। সে ধারনা করেছিলো গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে তারা।
____”গাড়ি নিলে ভালো হতো তো।”
বিরক্ত হলো ঈশান। ধমক দিয়ে উঠলো,
____”বাইকে সমস্যা কি?”
____”জঙ্গলের রাস্তা না? তারওপর এতো রাত। গাড়িতে থাকলে তাও মনে হয় প্রটেকশন এ আছি।”
____”আমি থাকলে তোর ভয় পেতে হয়? গাড়ি তে থাকিস বা হাঁটা পায়ে আমি পাশে থাকলে কেউ তোকে ছুতেও পারবে না। গেলে আয়। না গেলে আর সময় নষ্ট করতে পারবো না আমি।”
ঈশানের কথাগুলো ভীষন ভরসা লাগলো তিতির এর। মনে মনে হাসলো। বাইকে উঠে বসলো।
____”এভাবে বসলি কেনো! আমার মতো করে বোস।”
____”,আমি ওভাবে কমফোর্ট না।”
____”এভাবে আমি শান্তি পাচ্ছি না।”
তিতির খানিক ইতস্তত করে দু পা দু পাশে দিয়ে বসলো। এভাবে অবশ্য সুবিধা আছে। রাস্তা ভাঙ্গা, পরে হাত পা ভাঙ্গার চান্স কম। তার আবার বাইকে বসার অভিজ্ঞতা কম কি না। ঈশান বাইক ছোটাতেই হুমড়ি খেয়ে পরলো ঈশানের ওপর। শক্তপোক্ত পিঠে তিতিরের নরম সত্ত্বার ছোয়া দুজনের শরীরেই কেমন মিষ্টি যন্ত্রনায় ছেয়ে গেলো। তিতির আৎকে উঠে সোজা হয়ে বসলো। ঈশান লুকিং গ্লাস এ দেখছে তিতির এর লজ্জা লজ্জা মুখটা।
____”ধরে বসছিস না কেনো? পরে যাবি।”
তিতির নিজের দু হাতে তাকালো। হাত ভর্তি মেহেদী। যদিও শুঁকিয়ে গিয়েছে। তবুও ঈশানের সফেদ শার্টে দাগ বসে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর।
____”হাতে মেহেদী। “
____”শুকায়নি? “
____”হু।”
____”ধর।”
____”দাগ লেগে যাবে।”
____”দাগ পরলে নতুন শার্ট কিনে নেবো। তোর পা হাত ভাঙ্গলে তখন?”
তিতির দু হাতে ঘষে শুকনো মেহেদী ঝুরো করে তুলে ফেললো হাত থেকে। ইতস্তত করে দু হাত বাড়িয়ে ধরলো ঈশানের কাধ। ঈশান বিরক্ত সূচক শব্দ করলো। এভাবে ধরা পছন্দ হলো না তা।
ভারি গলায় আদেশ ছুড়লো,
____”তখন যেভাবে পরলি গায়ে ওভাবে ধর।”
____”আমি ঠিক আছি। “
____”আমি নেই। ধর।”
তিতির কাঁপা হাত বাড়িয়ে দু হাতে আষ্টেপৃষ্টে ধরলো ঈশানের মেদহীন কোমড়। পেটের ওপর হাত পরতেই শার্টের আড়ালে গোটা উদর জুড়ে ছয় খন্ডের কারুকার্যর ভাজ অনূভব হলে। গা সিওরে উঠলো তার। দুজনের শরীর লেপটে আছে। কিছু একটা হচ্ছে দুজনেরই। ঈশান ঠোঁটে দাত কামড়ে রইলো। আরেক সমস্যা করলো নিজ উদ্যোগে। আগেই ঠিক ছিলো। এভাবে ধরায় শরীর কেমন আন্দোলন করছে তার।
তিতিরের নরম সত্ত্বা বারংবার ওঠানামা হচ্ছে রাস্তার দূর্দশার কারনে। এইতো সমস্যার শুরু। স্বাভাবিক ভাবে সময় কাটাবে, মেয়েটা পাশে থাকলে একদম সেটা হয়না। আজেবাজে চিন্তা ভাবনা এসে হানা দেয় মস্তিষ্কে।
বাইকের গতি ফুল স্পিডে। এলাকার সারি সারি ধান খেত পারি হয়ে মেইন রোড এর কিনারা ধরে এগোচ্ছে রয়েল এনফিল্ড। আর কিছুটা সময়। খোঁপা করা সিল্কি চুল দমকা বাতাসের ঝাপটায় খুলে পিঠ ছড়িয়েছে। মাথার ওপর খোলা আকাশ আর সে জড়িয়ক আছে ঈশানকে। এর থেকে শান্তি হয় আর! মাথা ঠেকাতে ইচ্ছে করছে তিতিরের। তবে লজ্জা লাগছে। নিজেকে আজকাল বড্ড ন্যাকা মনে হয়। ঈশানের সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকে বেরেছে এসব। আহ্লাদ করতে মন চায়, নিজ থেকে কাছে যেতে মন চায়। ইশশশ নির্লজ্জ চিন্তাভাবনা।
গা ছমছমে পরিবেশ পার হয়ে বাইক এসে থামলো নদীর পাড়ে। থৈ থৈ পানি নদীতে। বাইক থেকে নেমেই জুতো রেখে ছুটলো সেদিকে তিতির। ঠান্ডা বালির ওপর খালি পায়ে দৌড়াতে ভালো লাগছে। ঈশান অদেখা হাসলো। বাইক স্ট্যান্ড করে এগিয়ে গেলো সেদিকে। ঠিক সেদিন এর মতো পরিবেশ। আবহাওয়া ভীষন সুন্দর। ঝিরিঝিরি বাতাস। মাথা ওপর পূর্ণ চাঁদ, নদীর পানিতে চকচক রকছে চাদের আলো। ঈশান এসে পাশে দাড়াতেই। মুখ তুলে তাকালো তিতির ঈশান এর দিকে। নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো,
____”সাতার জানেন ঈশান ভাই?”
হাসি পেলো ঈশানের! গভীর জলের মাছ সে। সাতার না জানলে বেচে থাকে! দু হাত বুকে আড়াআড়ি ভাজ করে ভ্রু জোড়া নাচিয়ে প্রশ্ন করলো,
____”কি মনে হয়?”
তিতির ঠোঁট উল্টালো। নিচু হয়ে এক মুঠ ভেজা বালি তুললো হাতে। সেটা পানিতে ছুড়ে দিতে দিতে বললো,
____”জানেন।”
ঈশান আড়চোখে তাকিয়ে তিতিরের দিকে। বাতাসে উঠছে চুলগুলো। চকচক করছে চোখ। এই জায়গা সে আবিষ্কার করেছিলো অনেক ছোট বয়সে। তখন সেভেন কি এইটে পরে। এই নদীর সন্ধান সকলে জানলেও মেইন রোডের পাশ ঘেষে জঙ্গলের এ পাশে যে বিস্তর সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ অনুভব করা যায় তা সম্ভবত স্থানীয় জেলে পরিবার ছাড়া কারোরই জানা নেই। তারপর থেকে বহু দিন এখানে এসে একা একা সময় কাটিয়েছে। এবার দিয়ে দ্বিতীয় বার সাথে কাউকে নিয়ে এলো। দু বারই তিতির।
তিতির চোখ বুঝে অনুভব করলো শীতল বাতাস। স্নিগ্ধ সবকিছু একদম।
____”ঈশান ভাই?”
____”হু।”
____”আমাদের একটা সংসার হবেনা? দেবেন না একটা সংসার?”
আচমকা তিতিরের এহেন প্রশ্নে থমকে গেলো ঈশান, থমকালো তার হৃদস্পন্দন। সাধারণ একটা প্রশ্ন। তোলপাড় শুরু করলো কেনো বুকে! ঈশান গলার স্বর ধীর করে জিজ্ঞেস করলো,
____”তুই চাস?”
তিতিরের দৃষ্টি এখনো সামনে। নদীর পানিতে ঢেউ খেলানো স্রোতে চাঁদের প্রতিচ্ছবি দেখে ব্যাস্ত সে। ছোট্ট করে বললো,
____”কোন মেয়েই না চায়।”
____”তুই চাস?”
____”বললামই তো। সব মেয়েই চায়। আমিও তার ব্যাতিক্রম নই।”
ঈশান নির্বিকার মুখে তিতিরের দিকে তাকিয়েই বললো,
____”আমার সাথে? “
____”হু।”
____”সংসার মুখের কথা তিতির?”
____”নাহ, মুখের কথা হবে কেনো।”
____”স্বামী বলে মানতে হয়, তার ভালো মন্দ সব মেনে চলতে হয়। তাকে অভ্যাসে পরিনত করতে হয়। বিপদে পাশে থাকতে হয়, ভেঙে পরলে ভালোবাসা দিয়ে ক্ষত সারাতে হয়।”
তিতির ঘুরে দাড়ালো ঈশানের মুখোমুখে। ঈশান এর মুখ নির্বিকার লাগছে। সুদর্শন পুরুষ একটা। তার ব্যাক্তিগত পুরুষ। কতদিন দুরত্ব জিয়িয়ে রাখবে।
____”নারীরা সব পারে।”
ঈশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে পা বাড়ায় নদীর কিনারা ঘেষে। তিতির দাড়িয়ে রইলো। ঈশান বেশিদূর এগোলো না। কয়েক পা এগিয়ে আবার ফিরে দাড়ালো। দুজনের মাঝখানে এখন বেশ দুরত্ব। চাদের আলোতেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না মুখ।
____”আমাকে আকড়ে সংসার করা আপাতত কঠিন তিতির।”
____”তাহলে ছাড়বেন না কেনো আমাকে? কঠিন যখন সেখানে আটকে রাখবেন কেনো!”
____”বলতে পারছি না। বুঝতে পারছি না নিজের মন কে।”
____”ভালোবাসেন আমায়?”
ঈশান মূর্তি হয়ে তাকিয়ে রইলো। অবচেতন মন চিৎকার করে বলছে ভালোবাসিস তুই ওই টিয়াপাখির মতো রক্তিম ঠোঁটের মেয়েটাকে। ভালোবাসিস বলে বিয়ে করেছিস। দূরে যেতে দিতে পারিস না। আজকাল ওকে ছেড়ে ঘুমাতেও পারিস না। অথচ মুখে ওই শব্দটা বললতে এতো সমস্যা!
ঈশান এ কয়দিনে স্পষ্ট বুঝেছে মেয়েটা তার কঠিন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। ওই বুকে মুখ না ডোবালে আজকাল রাতে ঘুমের ওষুধ নিতে হয় তার। ওই ঠোঁটের ওপর দখলদারি নিতে বিদ্রোহ করে মন।
আসল কথা হলো এটাই; ভালোবাসে সে মেয়েটাকে।
কিন্তু… সবতে বিশাল কিন্তু দাড় করিয়ে দিতে হয়। সে না চাইলেও পরিস্থিতি দাড় করতে বাধ্য করে। একমাত্র সে জানে ভালোবাসার মানুষ কে ভালোবাসি বলতে না পারার যন্ত্রনা।
ঈশান ঠোঁট গোল গোল করে শ্বাস টানলো জোরে জোরে। গম্ভীর গলায় বললো,
____”আমরা অনেক কিছু জীবনে স্বাভাবিক ভাবে পার করে দিতে পারি তিতির। কিন্তু যে মূহুর্তে একটা স্পেসিফিক বিষয়ের ওপর জোর দেই, সেটা পেয়ে যাওয়া মানে ওটায় ডুবে বাকি সবের জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।
ভালোবাসি না বলেও ভালোবাসা যায়। শব্দটা শুনতে হয়তো আমরা ভীষন উতলা হই মানসিক শান্তি, নির্ভরতার জন্য। তবে কি জানিস তো। আমাদের ভাষার ডিকশনারী তে কিছু শব্দ আছে। ম্যাজিকাল ওয়ার্ড ওগুলো। ভালোবাসি শব্দটা মোস্ট ম্যাজিকাল ওয়ার্ড সেখানে।
এটা অনুভব করবি, শান্তিতে থাকবি। কিন্তু যে মূহুর্তে এটা অপর মানুষ টা তোকে বলবে। ভীষন ভাবে দূর্বল হয়ে যাবি তুই। ওই শব্দটার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকবি।ম্যাজিক করবে ওই শব্দটা তোকে।”
এতো এতো কথার কারণ বুঝলো না তিতির। ছোট্ট একটা প্রশ্নের এতো বড় ব্যাখ্যার কি প্রয়োজন।
তবে বুকের বা পাশের গতি বেড়েছে মনের অজান্তেই। মিহি গলায় প্রশ্ন করলো,
____”নির্ভরশীল হলে ক্ষতি কি? ভালোবাসলে শব্দটার ওপর আলাদা মুগ্ধতা জন্মানো স্বাভাবিক। সত্যিই মানসিক শান্তি। “
মৃদু হাসলো ঈশান। কিভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত তার কথাগুলো। কিভাবে বললে তার বোকা বউটা বুঝবে সবটা। তার বোঝানোর এদিক সেদিক হলে ফের অভিমান এর পাল্লা বারবে। সে আর চায়না সেটা। এ দুরত্ব মেটাতে চায় জলদি।
____”ধর একটা মানুষ এর সাথে তোর একটা খুব সুন্দর জায়গায় দেখা হয়ে গেলো। সেখানে তুই যাস মনের শান্তির জন্য। ওখানে গেলে তুই দুনিয়ার সব কষ্ট ভুলে যাস। অপর একটা মানুষ ও একই শান্তির খোঁজে আসে। বেশ দুরত্ব রেখে বসে থাকিস দুজনে। কেউ কাউকে চিনিসও না।
এরকম রোজ হয়। তুই রোজ যাস। নিঃশব্দ দুজন, জায়গাটার দু কোনায় বসে চলে আসিস।
তুই কি এরকম বিশ দিন পর নিয়মিত চলার পর একুশতম দিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় লোকটার কথা ভাববি না?”
____”ভাববো।”
____”ধর গিয়ে দেখলি লোকটা নেই। আসেনি। এরপর আর আসলোও না। তখন?”
____”খারাপ লাগবে হয়তো।”
____”ভাববি তার কথা। যতদিন যাবি ততদিন।”
____”হুম।”
____”তোর কি তার ওপর কোনো রাগ থাকবে?”
অবাক হওয়ার মতো মুখ হয়ে গেলো তিতির। রাগ করবে কেনো! বড়জোর চিন্তা হবে। আচমকা আসা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।
____”রাগ হবে না। ভাববো কেনো আসলো না। কোনো সমস্যা কিনা।”
____”তুই বেশ উতলা হবি। ভাববি। মায়া হবে হয়তো কিছু হলো কিনা মানুষ টার।”
____”হ্যা।”
____”বহুদিন পর কোনো এক অচেনা রাস্তায় দেখলি লোকটাকে। তখন? তখন গিয়ে রাগ দেখাবি?”
____”মোটেই না। আমি রাগ দেখানোর কে! ততদিন ওটা অতো গভীর ভাবে আর মনেই থাকবে না।বা থাকলেও অতোটা খারাপ লাগা কাজ করবে না।”
ঈশান এবার আরও দু পা পিছিয়ে গেলো। দু হাতে মাথার চুল পিছনে ঠেলে দিলো।
____”এবার একই ঘটনা অন্য রকম করে সাজাই।
একই ভাবে তোদের দেখা, রোজ যাতাযাত। তবে তা নিঃশব্দতায় আটকে রইলো না। তোদের মধ্যে ভাব হলো। কথা হলো। রোজ বাড়ি ফেরার সময় বললি কাল দেখা হবে। কথা দেওয়া রইলো। সে কথা দিলো। একদিন হুট করে যোগাযোগ বন্ধ করে আসা বন্ধ করলো। কিছুদিন পর দেখা হলো পথে। তখন?”
তিতির কিচ্ছু বললো না। অনিমেষ তাকিয়ে আছে ঈশানের মুখের দিকে। ঈশানই জবাব দিলো,
____” তোর চিন্তা যেমন হবে, রাগ হবে তাইনা? কথা দিয়ে হুট করে কেনো এভাবে চলে গেলো।”
____”হবে।”
____”তখন শুরুতে হয়তো রাগে এটাও ভুলে যাবি মানুষ টা কোনো লজিকাল কারণে আর যেতো না।”
____”হুম।”
ঈশানের মুখের মলিন হাসি এবারে প্রস্যস্ত হলো। মাথা ঝাকালো।
____”এক্সাক্টলি। এটাই পয়েন্ট। শুরুতে কোনো কমিটমেন্ট ছিলো না, কথা দেওয়া ছিলো না রাগ হয়নি। পরের টায় ঠিক রাগ হলো। গভীরে দেখলি না। দুম করে রেগে গেলি।”
____”ভালোবাসি শব্দ বলার সাথে এটার সম্পর্ক?”
____”যতদিন চুপচাপ কোনো শব্দ ছাড়া ভালোবাসা অনূভব করে যাবি। ততদিন সুখ,সুখ আর সুখ। যে মূহুর্তে ভালোবাসি শব্দটা শুনবি, সেটায় অভ্যস্ত হবি। সামনের মানুষ টা হুট করে হারিয়ে গেলে তাকে বেইমান বলবি।তাই নয় কি? হয়তো হারিয়ে যাওয়ার পিছনে নিগুঢ় রহস্য। জানার কথাও ভাববি না। তার কারণ ওই ম্যাজিকাল শব্দ তোকে ম্যাজিক করে ফেলবে। তোর মাথায় ঘুরবে মানুষ টা তো আমাকে ভালোবাসি বলেছিলো, তারপরও কেনো চলে গেলো। দোষ টা আদতে শব্দটার। এটা অনেক জোর,ক্ষমতা। আটকে ফেলার ক্ষমতা,দূর্বল করে ফেলার ক্ষমতা। “
তিতির স্তব্ধ হয়ে শুনলো কথাগুলো। ঈশানের এতো এতো কথার ব্যাখ্যা সুস্পষ্ট হলো। যুক্তি সঠিক হয়তোবা। ভালোবাসি শব্দটা প্রকাশে এক্সপেকটেশানস বাড়ে। কিন্তু এত ভয় কেনো থাকবে ভালোবাসলে!
____”আমরা এতো দূর অবধি ভাবছি কেনো ঈশান ভাই?”
____”জীবন সুদূরপ্রসারী তাই।”
____” ভুল। হতে পারে জীবন সুদূরপ্রসারী। তবে অনিশ্চিত কিন্তু সেটা।কোনো খারাপ সময় আসতে পারে,ঝড় ঝাপটা আসতে পারে, দূরে চলে যেতে হতে পারে আজ থেকে দশ বছর পর। এটা ভেবে আজকের দিনটা নষ্ট করা চূড়ান্ত বোকামি। মূর্খতা। আপনি দশ বছর পর বেচে থাকবেন কি না সেটার নিশ্চয়তা কি?”
ঈশান স্থির নয়নে তাকিয়ে থাকে মেয়েটার দিকে। এখন কন্ঠে আর বাচ্চা বাচ্চা, আহ্লাদী ভাব নেই। পুরোদস্তুর নারী লাগছে। ম্যাচুয়র কন্ঠ।
____”আপনার যুক্তি সঠিক ঈশান ভাই। আমরা ভালোবাসি না বলে কাটিয়ে দিতে পারি অনন্তকাল। তবে শব্দ টা বলা মাত্র অন্য রকম অধিকার বোধ আসে।আশা আকাঙ্খা ভর করে। তবে প্রকাশ না করাটা কোনো সমাধান নয়। আপনি যেটা বললেন ভালোবাসি না বলেও ভালোবাসা যায়। যায় তো। অবশ্যই যায়। যে আপনাকে ভালেবাসবে সে কখনো মুখ ফুটে একটা শব্দ উচ্চারণ না করলেও আপনি বুঝবেন তার ভালোবাসা। ভালোবাসা টের পাওয়া যায় ঈশান ভাই।একবার ভালোবাসলে মানুষ অনেককিছু বোঝার ক্ষমতা রাখে। তখন এটা ম্যাটার করে না শব্দটা আপনি বললেন নাকি বললেন না। শব্দটা প্রকাশ না করে হারিয়ে গেলেও রাগ হবেনা। কারণ ভালোবাসা টের পাওয়ার জিনির। মুখে বলে ফ্যানা তোলার জিনিস না। শব্দটা ম্যাজিকাল শব্দ। পজিটিভ ভাবে ভাবুন। হয়তো ভালোবাসি প্রকাশ এর পর হারিয়ে গেলো কেউ। অপর মানুষ টা ওই ভালোবাসি কে আকড়ে ধরে অপেক্ষা করলো তার, সেটা পুজি করে মনকে শান্ত করলো, রাগতে পারলো না। শব্দটা না প্রকাশে যদি অপেক্ষার পুজিই না থাকে তবে সে চুপ করে থাকায় ফায়দা কি?”
তিতির এতে বুঝদার কবে হলো জানা নেই ঈশানের। তার মতো যুক্তিশীল মানুষ এর যুক্তিতে কাঁপন ধরিয়ে দিয়ে গেলো। গলার ভিতর দলা পাকিয়ে এলো তার। সে তো রাগ শব্দটা বেশি উল্লেখ করলো উদাহরন হিসেবে। আদতে সে তো ভয় পায় কষ্ট জিনিসটাতে।
রাগ নিয়ে মানুষ বেচে থাকতে পারে ঘৃনায়। কষ্ট আকড়ে বাঁচতে পারে না। ধ্বংস হয় যায় তীলে তীলে। তিতির কে কি করে বলবে সেটা এখন। তারা আগুনের ওপর একটা সরু সেতুতে দাঁড়িয়ে। যেকোনো সময় সেটা ভেঙে যেতে পারে। সময়ের আগে সবটা সমালে না নিলে চিরদিন এর মতো বিচ্ছেদ।
তিতির এবার এগিয়ে এলো ঈশান এর কাছে। ঈশান ঠায় দাড়িয়ে। কাছে আসায় চাঁদের আলো পরেছে তিতির এর মুখের ওপর। ফর্শা মুখটা চিকচিক করছে।
____”কালকের চিন্তা করা বুদ্ধি মান এর কাজ। তবে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে সেটা নিয়ে পরে থাকলে আজকের দিনটা নষ্ট হবে। আজকের দিনটা বাঁচা উচিত। এটা মনমতো উপভোগ করে তারপর সামনের স্বপ্ন। একটা সংসার এর স্বপ্ন দেখা হয়। সেটা কি একদিন এর? নয় তো। আমৃত্যু পর্যন্ত। কতকত ছবি সাজানো হয় মনের মধ্যে। সেটা সাজাতে হলেও আজ থেকে শুরু করতে হবে। আজ ভালো না থেকে কালকের সুখ খুজে কি লাভ? “
____”এতো যুক্তি কেথা থেকে শিখলি?”
____”মন থেকে বেরিয়ে এলো।”
____”আমাকে আর পর পর মনে হয় না?”
____”কখনো খুব নিজের মনে হয়,কখন ওই চাঁদ টার মতো
মনে হয়।”
____”ভালোবাসা শব্দটার ভাড় অনেক তিতির। নাটক সিনেমা দেখে যতটা ফ্যান্টাসি লাগে আদতে পথটা অতো সমতল নয় কিন্তু। ধ্বংস, কষ্ট, কান্না,সব মিশে একাকার ভালোবাসার মধ্যে। “
____”সেই ভয়ে দূরে চলে যাবো? কাল বেচে থাকবো তার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন? পুনর্জন্ম নেই ঈশান ভাই, এজীবনে না পেলে জন্মের মতো বিচ্ছেদ। পাপ পূন্যের জীবনে পরকালে স্বর্গ নরক এর হিসেব চুকিয়ে কতদিন এ আবার খোদা মেলাবে তা কে জানে। বা আদৌ মিলন হতে দেবে কিনা!”
তিতিরের তীব্র অধিকারবেধে নড়েচড়ে উঠলো ঈশান। মেয়েটার মধ্যে এতদিন এর ভুলবোঝাবুঝির বিন্দুমাত্র রেশ নেই। কোনে রাগ নেই,আক্ষেপ নেই। চোখের দৃষ্টি তে ঈশান কে ভালোবাসে এটস বোঝাতে ব্যাস্ত।
____” তুই কি আমার মুখে ভালোবাসি শব্দ টা শুনতে এতো উতলা তিতির? “
তিতির মৃদু হাসলো। দুরত্ব ঘোচালো দুজনের মধ্যের। আচমকা তিতির দু হাতে টেনে ধরলো ঈশানের সফেদ শার্টের কলার। দু পায়ে ভর দিয়ে উঁচু হল। ঈশান এর এক হাত অজান্তেই চেপে ধরলো তিতিরের লতানো কোমড়। তিতির গ্রীবা উঁচিয়ে ঈশানের কর্ণকুহরের কাছে মিষ্টি সুরে গেয়ে উঠলো,
“ ভালোবাসো এখনি;
পরে কি হয় কে জানে…
ঈশানের হার্ট বিট মিস করলো একটা। মেয়েটার গলায় এর আগে একদিন গান শুনেছিলো। একদম প্রথম দিন। যেদিন স্টেশন থেকে তিতির কে নিয়ে এলো বাড়িতে। বারান্দায় ভেজা চুলে হিন্দি গান গাইছিলো একটা। আজ দু মাস পর আবার এত কাছে শুনলো। সেদিন কাকে উদ্দেশ্য করে গাচ্ছিলো জানতে না পেরে বাচ্চাদের মতো রাগ হয়েছিলো ঈশানের। আজকের টা তো তাকেই শোনালো।
তিতির সরে যেতে পা নামাতেই কোমড়ে ঈশানের অন্য হাতের দখল হলো। দু হাতে লতানো কোমড় চেপে জমিন থেকে শূন্যে তুললো ঈশান তিতিরকে।তিতির আকড়ে ধরলো ঈশানের গ্রীবা। ঈশান মাথা উঁচিয়ে তাকায় তার থেকে ওপরে তোলা তিতিরের দিকে। তিতির নিচু হয়ে আশ্চর্য নয়নে ঝুকে তাকিয়ে আছে ঈশানের দিকে। খোলা চুলগুলো এসে আড়াল করছো দুজনের মুখ।
____”ভালোবাসলে কি দিবি?”
তিতির ঠোঁটে ঠোঁট টিপে আছে। এতক্ষণ জ্ঞান দাতার মতো ভাষন দিলেও ঈশানের সংস্পর্শে এসে শরীর খেই হারাচ্ছে,নিঃসাড় হচ্ছে। মাথা শূন্য হচ্ছে। ঈশানের প্রশ্নের উত্তর করলো বেশ সময় নিয়ে।
____”স..স..সব”
____”সময় না চেয়েছিলি?”
____”নিন সময়। “
____”সময় নিলে আজকের দিনের কি হবে?”
____”ওটা তো উদাহরণ। আপনিও তো সময় চেয়েছেন।”
____”চেয়েছি। “
____”একটুও ভালোবাসেননি এ কয়দিনে? “
____”এই শব্দটার ব্যাখ্যা একটা বিশেষ দিনে দেবো।”
____”বিশেষ দিন?”
ঈশান ঠোঁট ভেজালো। শুকনো ঢোক গিললো খানিক টা নামালো তিতিরকে। নিজের পায়ের ওপর দাড় করালো। এক হাতে কোমড় চেপে অন্য হাত খোলা চুলের নিচ গলিয়ে উন্মুক্ত ঘাড় চেপে ধরলো।হিসহিসিয়ে বললো,
_____”তোর কথাই মানবো তিতির। সামনের কথা সামনে ভাববো। জলদিই আমাদের মধ্যে আর দশটা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হবে। খুব জলদি। কয়েকটা দিন সময় দেবো। হুট করে এতো বড় বিষয় চাপাবো না তোর ওপর। তোর মেন্টাল প্রিপারেশন আছে একটা। নিজেকে তৈরি কর। বিশেষ দিন সেটাই। আমি কোনো বারণ শুনবো না সেদিন। তখন অসভ্য, নির্লজ্জ এসব বললে খু ন করে ফেলবো।ম্যারেটাল রে প এর বদনাম দিলেও মানবো না। আগেই জানিয়ে দিলাম।”
তিতিরের বুকের ভীতর ঝড় উঠলো। আর দশটা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক! রক্ত চলাচল দ্রুত হলো। বুকের ওঠানামা অনুভব করছে ঈশান।তিতিরের মুখে ওপর থেকে এলোমেলো চুলগুলো নিয়ে পেছনে চেপে ধরলো।
____”তোর আশকারায় ঈশান আরশাদ নিজের যুক্তি পায়ে পিষলো তিতির। বি প্রিপেয়ার্ড ওকে। আজকের পর কবে কখন কোন অবস্থায় আমি নিজের কনট্রোল হারাবো জানিনা। যেকোনো সময়ের জন্য মনকে তৈরি রাখবি। নিজেকে তৈরি রাখবি। সেদিন কোনো অযুহাত, বড় বড় নারীবাদী উক্তিযুক্তি, বাধা আমি মানবো না। তবুও যদি বাধা দিস আমি আর তোকে ছোবো না।”
তিতির নিজের ধড়ফড়িয়ে ওঠা বুকটা মনে মনে ধমক দিয়ে শান্ত করার বৃথা চেষ্টা করে মিনমিন করে বললো,
____”ভালোবাসি বলেন নি আমাকে।”
____”ভালোবাসা বলার জিনিস না ডার্লিং। দেওয়ার জিনিস।ফিল করানোর জিনিস। তবে তোর এতোই যখন শোনার ইচ্ছে শুকনো শুকনো না বলে না হয় বাসতে বাসতে কানে কানে বলবো। তখন ফিল টা পাবি বেশি। ওটা শুনতে হলেও জলদি তৈরি কর নিজেকে।তোকে পাগল হয়ে আমার সঙ্গ চাইতে হবে। এতদিন আমাকে বাধা দেওয়ার শাস্তি এটা। তোর সায় ছাড়া আমি এগোবো না। তুই মুখে আমাকে চাইলে তবেই।”
তিতির লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে বুক গুজলো ঈশানের বুকে। পুরুষালি শরীরে মিশে থাকা করা পারফিউম এর ঘ্রান ছুয়ে গেলো নাকমুখ। লোকটা তাকে হেনস্তা করতে তৈরি সবসময়। নিজেই মাত্র বললো অনুমতির অপেক্ষা করবে না। আবার পরের কথাতেই বলে সেই কথার উল্টো! তাকে চাইতে হবে। এ আবার কেমন কথা। সে মুখ ফুটে বলবে আজকে দরকার আপনাকে, আদর দিন! ইশশশ কি লজ্জার কথা। লোকটা যদি নিজের শেষ কথাটায় স্থির থাকে এ জীবনে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হবে না। সে থোরাই বলতে পারবে মুখ ফুটে।
তিতির এর লাজুকতায় হাসলো ঈশান। শক্ত করে ধরলো কোমড় জড়িয়ে। হাস্কিস্বরে বললো,
____”চিন্তা নেই। আমার দুটো কথাই থাকবে কিন্তু। তোকে পাগল করার দায়িত্ব আমার। এতোটা পাগল করবো নিজ থেকে উন্মাদ এর মতো চাইবি আমায় সব লজ্জা ভুলে লজ্জা ভাঙাতে কাছে টানবি। তাও সজ্ঞানে। লজ্জা পাওয়ার জায়গায়ই রাখবো না। নিজ মুখে আমার নাম ধরে ডাকবি। কাছে নিবি।প্রমিস।”
তিতিরের শরীরে কাঁপুনি হচ্ছে। এর থেকেও বেশি পাগল করা যায়! সামান্য এই কথাগুলোতেই তো গলে জল হয়ে বসে আছে সে। ঈশান তাকে ভালোবাসে। এই কথাটায় কোনো সন্দেহ নেই। এতো এতো পরিবর্তন, যত্ন, আদর কখনো আন্দাজও করেনি ঈশানের মধ্যে। কিন্তু সেটা হয়েছে। পবিত্র বন্ধনের জোর এটা। ঈশানের ভালবাসার চাদরে শিক্ত হতে চায় সে। খুব জলদিই। বেহায়া নারীসত্ত্বা আজকেই বাঁধনছাড়া। এর থেকে বেশি বললে আজকেই মরণ হবে তার। দু হাতে ঈশানের গলায় জড়িয়ে মুখ ডুবালে সেখানে। নিঃসাড় হয়ে পরে রইলো সেখানটায়।
ঈশান হাসলো সামান্য। তার বাহুবন্ধনীর মধ্যে থাকা ছোট্ট শীর্ণ শরীরের কম্পন তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরন তুলছে। ঘড়ি দেখলো হাত বাড়িয়ে। পোনে দুইটা বাজে। এখন বাড়ি ফেরা উচিত। তিতিরকে বিনাবাক্যে ঝটকা দিয়ে তুললে উপরের দিকে। আচমকা এমন হওয়ায় তিতিরের দু পা পেচিয়ে ধরলো ঈশানের কোমড়। ঈশান বাঁকা হাসলো।ওভাবেই তিতির কে নিয়ে বসলো বাইকে।
তিতির আৎকে উঠে নামতে চাইলো।
____”আরেহ বসতে দিন তো আগে বাইকে।চালাবেন না আগেই।”
ঈশান নড়তে দিলো না। কোমড় হেঁচকা টানে নিয়ে আবার মেশালো নিজের সাথে। তিতিরে পা পেঁচিয়ে আছে এখনো ঈশানের কোমড়। এভাবে মুখোমুখি লেপটে বসায় খুবই বিপদজনক অবস্থায় দুজন। এতো ঘনিষ্ঠ ছোঁয়ায় পাগল পাগলই লাগলো তিতিরের। ঈশান ঠোঁট কামড়ে বাকা হাসলে। ফিচেল গলায় বললেো,
____”ডু ইউ লুজ ই্যওর কনট্রোল বেবিগার্ল? “
তিতির রক্তিম মুখ লুকালো ঈশানের গলায়। দু দিকে মাথা নাড়লো। ঈশান ঘ্রান টানলে তিতিরের চুলের। হাস্কিস্বরে বললে,
____”যেভাবে মিশে আছিস। পজিশন টা খেয়াল করেছিস? অল সেট কিন্তু। আমি কনট্রোল হারাচ্ছি।”
তিতিরের হাত খামচে ধরলো ঈশানকে। বিরবির করে বললে,
সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৪
____”অসভ্য লোক। পিছনে যেতে দিন।”
____”আগুনের ছেোয়া কেনো যেনো ভালো লাগছে। গিভ মি ওয়ার্মথ্। ইট’স ফিলস্ গুড।”
ঈশানের একেরপর এক ঝলসে দেওয়া কথায় পিষ্ট হচ্ছে তিতিরের নারীসত্ত্বা। ঈশান ঠিকই বলেছে। লোকটা পাগল বানাতে এক্সপার্ট। অসভ্যের মতো কথা,কাজকারবার করে ঘায়েল করে তাকে। এমন চলতে থাকলে ইচ্ছে করেই ধরা দিয়ে ফেলবে সে। কি লজ্জার হবে সেটা…

Sokolporbo aksathe den