শেহেজাদার আদর পর্ব ১৪ (২)
সুমাইয়া ইসলাম নূর
ইউভি দ্রুত চারপাশে চোখ বুলাতে লাগল…
রমনা পার্কের ভেতরটা বিকেলের নরম আলোয় ভেসে আছে চারিপাশে
চারপাশে মানুষজন, কেউ হাঁটছে, কেউ বসে গল্প করছে।
কিন্তু ইউভির চোখ শুধু একজনকেই খুঁজছে।
হঠাৎ—
তার দৃষ্টি থেমে গেল।
দূরে একটা বেঞ্চে ইনায়া বসে আছে
ইউভি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল
ইনায়া একদম নির্ভার ভঙ্গিতে বসে আছে
এক পা আরেক পায়ের ওপর তুলে
গায়ে ঢিলেঢালা সাদা টি-শার্ট ঢিলেঢালা প্যান্ট…
মাথায় একটা ক্যাপ—
চুলগুলো ক্যাপের নিচ থেকে ঝুটি করা পড়ে আছে কাঁধের আশেপাশে
এক হাতে ফোন দেখছে
আর অন্য হাতে পানির বোতল—
ঢাকনা খুলে ধীরে ধীরে পানি খাচ্ছে…
মুখে কোনো অসুস্থতার ছাপ নেই…
ইউভি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল…
এই মেয়েটা
সকালে জ্বরে পড়ে ছিল…
আর এখন…?”
ইউভি কিছুক্ষণ দূর থেকেই তাকিয়ে রইল…
অবাক হয়ে শুধু তাকিয়েই আছে
এই কি আমার আদর?
ইউভির বুকের ভেতরটা হালকা ধাক্কা খেল—
এই ড্রেসআপ এই ড্রেসআাপ এর মানে কী।
এমন করে বাইরে বের হয়ছিস কেন।
তার ভ্রু একটু কুঁচকে গেল…
অভ্যাস বশতই একটু অধিকারবোধ এসে পড়ল চোখে…
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল ইনায়ার দিকে…
ইনায়া তখনো ফোনে ব্যস্ত…
পানির বোতলটা পাশে রেখে কিছু একটা ফোনে স্ক্রল করছে…
ঠিক তখনই—
তার সামনে এসে দাঁড়াল ইউভি।
ইনায়া প্রথমে খেয়ালই করল না…
ইউভি নিচু গলায় বলল—
এইটা কী?
ইনায়া একটু চমকে উঠে তাকাল—
চোখ বড় হয়ে গেল—
“আপনি?
ইউভি একদম তার সামনে দাঁড়িয়ে…
চোখে অদ্ভুত এক মিশ্র দৃষ্টি—
রাগ অবাক আর কিছুটা মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে আছে ইনায়ার দিকে
ইউভি আবার বললো
এই ড্রেসআপটার মানে কী?
ইনায়া বললো
মানে?
ইউভি একটু ঝুঁকে বলল—
এইভাবে বাইরে বসে আছিস?
এই পোশাকে কেন তোর ওরনা কোই?
ইনায়া ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা হাসল—
সমস্যা কোথায়?
ইউভি এক সেকেন্ড থেমে গেল…
তার এই আত্মবিশ্বাসী টোনে সে যেন একটু থমকে গেল।
সমস্যা…?
ইউভির গলাটা একটু ভারী হয়ে গেল—
“সমস্যা হচ্ছে। আমার অনেক অনেক সমস্যা হচ্ছে আদর তুই বুঝবি না।
ইনায়া মনে মনে বললো আদর।
কে আদর ইউভি ভাইয়া আমার নাম ইনায়া নূর চৌধুরী।
ইউভি রেগে চিৎকার করে বললো তোকে সব বলতে বাধ্য নয় এই শেহেজাদ ইউভি চৌধুরী
তুই আমাকে না বলে একা এখানে চলে আসছিস
“আর… এইভাবে…”
ইনায়া এবার পুরোপুরি ফোনটা পাশে রেখে তার দিকে তাকাল—
চোখে শান্ত কিন্তু দৃঢ় দৃষ্টি এনে বললো
আমি কোথায় যাবো, কী পরবো—
সেটা কি আপনাকে বলে করতে হবে ইউভি ভাইয়া?
এই কথাটা যেন সরাসরি গিয়ে লাগল ইউভির বুকে।
ইউভির চোয়াল শক্ত হয়ে গেল…
চোখে চাপা রাগ আর তার থেকেও বেশিএকটা অজানা কষ্ট।
সে ধীরে ধীরে বলল—
“হ্যাঁ… করতে হবে।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো
কেন?
ইউভি এক পা সামনে এগিয়ে এনে বেঞ্চের উপর দিয়ে দাঁড়ালো ইনায়ার দিকে একটু ঝুঁকে বলল
গলাটা নিচু করে বললো।
কারণ তুই আমার….. কথাটা বলতে গিয়েও থেমে গেল সে।নিজেই বুঝতে পারছে—
এই কথার কোনো নাম নেই এখনো
ইনায়া তাকিয়ে আছে অপেক্ষা করছে বাকিটা শোনার জন্য
কিন্তু ইউভি চোখ সরিয়ে নিল
নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
“কারণ তুই চৌধুরি বাড়ির মেয়ে
আর তোর উপর আমার দায়িত্ব আছে… বুঝলি?”
ইনায়ার ঠোঁটে হালকা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল—
“ওহ… তাই?”
সে ধীরে দাঁড়িয়ে গেল বেঞ্চ থেকে…
ইউভির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল—
তাহলে শোনেন ইউভি ভাইয়া—
আমি এখন বড় হয়েছি।
নিজের ভালো-মন্দ বোঝার মতো বয়স হয়েছে আমার।
একটু থেমে আবার
ইউভির আরও কাছে এসে বললো
আর আমি কারো দায়িত্ব হয়ে বাঁচতে চাই না।
এই কথাটা শুনে ইউভির ভেতরটা কেঁপে উঠল…
ইউভির চোখে হঠাৎ অন্যরকম কিছু ফুটে উঠল—
রাগটা যেন মিলিয়ে গিয়ে জায়গা নিল একটা গভীর টান…
সে আস্তে করে বলল তুই বদলে গেছিস।
ইনায়া শান্ত গলায় বলল না আমি আসলেই এমন ছিলাম…
আপনারা দেখতে পাননি।
বাতাসটা হালকা বয়ে গেল…
ইনায়ার চুলের কিছু অংশ উড়ে এসে মুখে লাগল ইউভির চোখ সেখানে আটকে গেল এক সেকেন্ডের জন্য…
তারপর হঠাৎ—
সে হাত বাড়িয়ে ইনায়ার হাতটা শক্ত করে ধরে বললো চল।
ইনায়া চমকে উঠল—
কি করছেন?
ইউভি কোনো উত্তর দিল না…
শুধু শক্ত করে ধরে বলল—
“চল… আমার সাথে।”
ইনায়া হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল—
আমি কোথাও যাবো না।
ইউভি এবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো তোর সাথে আমি লুতুপুতু খেলতে যাচ্ছি সনা।
তুইই তো বলছিলি—
এতিমখানায় যেতে চাস। সেখানেই নিয়ে যাচ্ছি
ইনায়া থেমে গেল…
ইউভির ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি ফুটল—
চল আজই নিয়ে যাচ্ছি তোকে।
ইনায়ার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল…
এই মানুষটা…
রাগ করে, চিৎকার করে…
তবুও তার ইচ্ছে গুলো এভাবে মনে রাখে
সে আর কিছু বলল না।
ইউভি ইনায়ার হাতের চাপটা আরেকটু শক্ত করে ধরে
চোখে সেই পুরনো দুষ্টু ঝিলিক নিয়ে বলল—
“আর হ্যাঁ…
ওরনা নিয়ে পরে কথা বলবো আদর
ইনায়া চোখ বড় বড় করে তাকাল—
তারপর মুখ ফিরিয়ে হালকা হেসে ফেলল…
ঝগড়ার মাঝেও—
একটা অদ্ভুত টান রয়ে গেল দুজনের মাঝে
ইনায়া কিছু না বলেই ধীরে ধীরে ইউভির সাথে হাঁটা শুরু করল দুজনের মাঝখানে সেই অদ্ভুত নীরবতা কিন্তু নীরবতার ভেতরেও যেন হাজারটা কথা জমে আছে।
রমনা পার্কের পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে— তারা এসে থামল একটা কালো বাইকের সামনে ইউভি ইনায়ার হাত টাই একটু ব্যাথা দিয়ে চিমটি কেটে ছেরে দিলো
ইউভি চাবিটা ঘুরিয়ে হেলমেটটা হাতে নিয়ে বলল চল উঠ।
ইনায়া একবার বাইকের দিকে তাকাল তারপর ইউভির দিকে তাকালো চোখে হালকা এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল কিন্তু কিছু বলল না।
সে ধীরে বাইকে উঠে বসল ইউভি সামনে বসে ইঞ্জিন স্টার্ট করতেই গর্জন করে উঠল বাইকটা…
ইউভি একটু ঘাড় ঘুরিয়ে বলল সাবধানে বস ভয় লাগছে আদর?
কোনো উত্তর এল না ইনায়ার থেকে
ইউভি আবার বলল— “কি হলো? কিছু বলছিস না যে
— ইনায়া চুপ করে আছে… হালকা করে ইউভির শার্টটা ধরে বসে আছে শুধু
মনে মনে খুব আস্তে বলল আমার শেহেজাদা… তুমি যাকে সাবধানে বসতে বলছো সে একজন বাইকার।
তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল কিন্তু সেই হাসিটা সে লুকিয়ে রাখল নিজের ভেতরেই
ইউভি আর কিছু না বলে ধীরে বাইকটা চালাতে শুরু করল…
বাতাস জোরে এসে লাগছে ইনায়ার মুখে… চুলগুলো উড়ে যাচ্ছে পেছনে…
একসময়— অজান্তেই ইনায়ার হাতটা একটু শক্ত হয়ে জড়িয়ে ধরল ইউভিকে…
ইউভির ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল…
সে খুব আস্তে বলল— “এই তো… এখন ঠিক আছে…”
বাইকটা দ্রুত শহরের ভিড় ছেড়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে আর তাদের মাঝের দূরত্বটা ধীরে ধীরে কমে আসছে…
বাইকটা শহরের ভিড় ছেড়ে একটু নিরিবিলি রাস্তায় ঢুকে পড়েছে বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ… চারপাশে নরম সোনালি আলো…
ইনায়া চুপচাপ বসে আছে তার হাতটা এবার শক্ত করে জড়িয়ে আছে ইউভির শার্টে…
ইউভি হালকা হেসে বলল এই যেএত চুপচাপ কেন? ভয় পাস নাকি?”
ইনায়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল— “আমি ভয় পাই? আপনি আমাকে চিনেন না ইউভি ভাইয়া।
ইউভি একটু মজা করে বলল— “ওহ… তাই নাকি? তাহলে এত শক্ত করে ধরে আছিস কেন?”
ইনায়া এক সেকেন্ড থেমে গেল তারপর আস্তে করে বললো পড়ে গেলে তো আপনারই সমস্যা হবে… আমি না থাকলে কে আপনাকে সামলাবে?
ইউভির ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল— আমাকে সামলাবি তুই?
ইনায়া এবার একটু ঝুঁকে এসে বলল— চেষ্টা করতে পারি।
কিছুক্ষণ নীরবতা আললো দুজনের মাঝে
শুধু বাইকের শব্দ আর বাতাসের ছোঁয়া গায়ে লাগছে দুজনেরন
ইউভি হঠাৎ ধীরে বলল— আদর
ইনায়ার বুকটা ধক করে উঠল হুম?
ইউভি বলল এভাবে সব সময় থাকবি?”
ইনায়া একটু অবাক কীভাবে।
ইউভি খুব আস্তে বলল আমার এত কাছে…”
ইনায়া চুপ করে গেল তার গাল হালকা লাল হয়ে উঠল…
সে মুখ ঘুরিয়ে বলল আপনি অনেক কথা বলেন ইউভি ভাইয়া।
ইউভি মুচকি হেসে বললো এখনো তো কিছুই বললাম না।
বাইক টা একটা বড় গেটের সামনে এসে থামল…
গেটের ওপর বড় করে লেখা আদরের আশ্রয়
ইনায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল…
এইটা…?
ইউভি ইঞ্জিন বন্ধ করে বলল চল নাম।
ইনায়া ধীরে ধীরে বাইক থেকে নামল… তার চোখে কৌতূহল…
গেটের ভেতরে তাকিয়ে সে দেখল— কিছু ছোট ছোট বাচ্চা খেলছে হাসছে…
ইউভি তার পাশে এসে দাঁড়াল…
এখানেই নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম তোকে
ইনায়া ধীরে তার দিকে তাকাল…
মনে হলো—
এই মানুষটাকে সে যতটা ভেবেছিল তার থেকেও অনেক বেশি কিছু আছে তার ভেতরে।
— বাতাসটা হালকা করে বয়ে গেল… ইনায়ার চুল উড়ে এসে গালে লাগল…
ইউভি এক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল…
তারপর খুব আস্তে বলল চল আদর… তোকে আমার একটা জগৎ দেখাই
ইনায়া কিছু বলল না শুধু তার পাশে হাঁটা শুরু করল
দুজনের ছায়া পড়ে রইল মাটিতে পাশাপাশি।
ছোট বাচ্চা গুলো এসে জরিয়ে ধরলো ইউভি কে।
সবাই কি জে খুশি ভাইয়া আসছে সবাই জিজ্ঞেস করে তোমার সাথে আপু টি কে।
ইউভি উত্তর দিলো তোমাদের কাছে যেই আপুর গল্প বলতাম ওই আপু।
একটি বাচ্চা বললো ও সেই আপু যে ছোট থাকতে সবজি খেতে চেতো না তুমি খাইয়ে দিতে যে ভাবে আমাদের খাওয়াই দাও।
ইউভি মুচকি হেসে বললো হুম সেই পিচ্চি টা।
ইউভি মুচকি হেসে বললো—
হুম সেই পিচ্চি টা
ইনায়া একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল…
তার চোখ বড় হয়ে গেছে এদের কথা শুনে
কি?
বাচ্চাগুলো হেসে উঠল—
আপু আপনি ছোটবেলায় নাকি অনেক জেদি ছিলেন।
আরেকটা বাচ্চা বলল—
ভাইয়া তো বলতো আপনাকে নাকি জোর করে সবজি খাওয়াতে হতো
ইনায়া ধীরে ধীরে ইউভির দিকে তাক
আপনি এসব বলেন?
ইউভি একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকালো—
এই পিচ্চিগুলা না সব কথাই মনে রাখে।
একটা ছোট মেয়ে এসে ইনায়ার হাত ধরে বলল—
আপু তুমি আমাদের সাথে খেলবে
ইনায়ার নির্ভেজাল হাসি ফুটে উঠল বললো খেলবো কিছুক্ষণ পর—
পুরো উঠোন ভরে গেল হাসির শব্দে
ইনায়া বাচ্চাদের সাথে দৌড়াচ্ছে
হাসছে…
একটা ছোট ছেলেকে কোলে তুলে ঘুরাচ্ছে…
দূরে দাঁড়িয়ে ইউভি চুপচাপ তাকিয়ে আছে…
তার চোখে এক ধরনের শান্তি…
মনে মনে বলল—
আদর এই হাসিটাই তো দেখতে চেয়েছিলাম তোর
হঠাৎ
একটা বাচ্চা দৌড়ে এসে ইউভির হাত ধরে বলল
ভাইয়া আপু তো আমাদেরই হয়ে গেল।
ইউভি হেসে বলল—
হ্যাঁ তোদেরই…
ইনায়া একটু দূর থেকে তাকিয়ে ছিল ইউভির দিকে
“আপনি… এখানে কতদিন ধরে আসেন?”
ইউভি শান্ত গলায় বলল অনেকদিন
কিন্তু আজ প্রথমবার কাউকে নিয়ে এলাম।
ইনায়া একটু থেমে বললো
কেন?
ইউভি ইনায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল—
কারণ
তুই দেখতে চেয়েছিলি কথাটা খুব সাধারণ…
কিন্তু ইনায়ার ভেতরের অনুভূতিটা একদম আলাদা
ইনায়া আর কিছু বলল না…
শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল…
তার চোখে তখন একটাই কথা—
এই মানুষটার পাশে থাকতে ইচ্ছে করছে
হটাৎ বললো ইউভি ভাইয়া চলেন না ওই পুখুর পারে গিয়ে একটু বসি।
ইউভি কোনো উত্তর না দিয়ে ইনায়ার হাত ধরে নিয়ে যাই পুখুর পারে।
আর বাচ্চা গুলো নিজেদের মতো খেলা করছে।
দুজনেই পুকুর পাড়ে এসে বসল…
চারপাশটা এখন আরও শান্ত লাগছে
সূর্য প্রায় ডুবে গেছে আকাশে লালচে আলো ছড়িয়ে পরছে
ইনায়া একটু চুপ করে রইল…
মনে হচ্ছে ভেতরে কিছু একটা নিয়ে লড়ছে…
তারপর ধীরে বলল—
ইউভি ভাইয়া একটা কথা বলবো?”
ইউভি তার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল
হুম৷
একটা না হাজারটা বল
আমি শুনছি”
ইনায়া তার আঙুল দিয়ে ঘাস ছিঁড়তে ছিঁড়তে নিচু গলায় বলল—
তিয়া আপুকে আপনি অনেক ভালোবাসেন তাই না।
কথাটা বলেই সে চোখ তুলে তাকাল না…
উত্তরটা শুনতে ভয় পাচ্ছে ইনায়া
ইউভি এক সেকেন্ড চুপ করে রইল…
তারপর ধীরে ধীরে ইনায়ার দিকে তাকাল
চোখে গভীর এক মুগ্ধতা
ইউভি হালকা ঝুঁকে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল—
আমি অন্য কাউকে কীভাবে ভালোবাসবো বল
শেহেজাদার আদর পর্ব ১৪
“ভালোবাসা তো… তুই শিখিয়েছিস
ইনায়া এক ঝটকায় তাকাল
ইউভির দিকেতার নিঃশ্বাস আটকে গেল এক মুহূর্তে…
আমি…?
ইউভি হালকা হেসে বলল—
হ্যাঁ তুই।
