Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩০ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩০ (২)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩০ (২)
লিজা মনি

রাতের নিস্তব্দতা এক অব্যক্ত শূন্যতার ঘন সঞ্চিত স্তর। যেখানে আকাশ জুড়ে ঝুলে আছে। দিগন্তময় অন্ধকার এমনভাবে জমাট বেঁধে আছে যেন মনে হচ্ছে বিষণ্ণ কোনো মহাকালের কালো বস্ত্র পৃথিবীকে আচ্ছাদন করেছে। বাতাসে শীতল স্যাঁতসেঁতে আঁশটে গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। সময়ের অপ্রকাশিত রহস্য সেখানেই পচে জমাট বেঁধে আছে। গাছের ডালপালাগুলো অদৃশ্য বায়ুর চাপের নিচে থেমে থাকা ভাস্কর্যের মতো হয়ে আছে চারপাশে কোনো শব্দ নেই। তবও রাতের অন্ধকারে শব্দের অনুপস্থিতিটাই ভয়ঙ্কর। দূরবর্তী ঝোপঝাড়ে কখনো আকস্মিক পাতার ঘর্ষণ উঠে আসছে। যেন কোনো অদৃশ্য কোনো ছায়ামূর্তি ঘুরে বেড়াচ্ছে নিঃশব্দ পদক্ষেপে। হয়ত এইটাই সত্যি। রাত্রির আকাশে চাঁদের মূর্ত অবয়ব অস্পষ্ট হয়ে আছে। সেই চাঁদের আলোতে দেখা মিলে দুইটা অবয়বের। একজন হিংস্র পদক্ষেপে কালো হুডিতে আবৃত হয়ে আছে। চোখ- মুখ দেখার বা বুঝার কোনো উপাই নেই। বড় বড় পা ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। পিছনে রেখে যাচ্ছে মাটির নিচে স্থাপিত নরকময় টর্চার সেলকে। গ্যাংস্টার বস ধূসর হিংস্র চোখ দুইটি দিয়ে চারপাশ এক পলক তাকায়। মুখে কাঠিন্য ভাব। নিককে দাড়িয়ে পড়তে দেখে অধিরাজ কপাল কুচকে বলে,

” দাঁড়িয়ে গেলেন কেনো বস?
নিক মাথার হুডি খুলে ফেলে। মুখের মাক্সটা আলগা করে গম্ভীর গলায় বলে,
” কারোর পায়ের শব্দ শুনতে পেয়েছিস?
অধিরাজ কাঁধ নাড়িয় বলে,
” না বস। সন্দিহান কোনো শব্দ আসে নি। হয়ত বাহিরের গার্ডদের পায়ের আওয়াজ।
নিক কিছুক্ষন চুপ থাকলো। চারপাশে আরও একবার দৃষ্টি রেখে মুখটা পুনরায় কাঠিন্য করে ফেললো। নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখে কিছুক্ষন। নাক দিয়ে বার বার নিশ্বাস টানে। অধিরাজ ছোট ছোট চোখে তাকায় নিজের বসের দিকে। বিড়াল যেমন মাছের খুঁজে গন্ধ শুকে। নিককে এই মুহূর্তে তার কাছে ঠিক তেমন মনে হচ্ছে। নাক দিয়ে কি এত গন্ধ নিচ্ছে বস? অধিরাজ নিরবতা কাটিয়ে প্রশ্ন করে ,
” বস আর ইউ ওকে?
নিক গম্ভীর হয়ে আঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘেষে বলে,
” হুম।

অধিরাজ ভ্রুঁ নাচিয়ে গাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যায়। গাড়ির কাছে গিয়ে বিরতহীন ভাবে ডুকে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ে। নিক নিজেও গাড়িতে গিয়ে বসে পড়ে। মিনিটের ভিতরে গাড়ি টর্চার সেল এড়িয়া থেকে বের হয়ে যায়। সমস্ত গার্ড গাড়িটার দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে। এতক্ষন গ্যাংস্টার বসের আগমনে সবার রুহটা যেন বেরিয়ে যাচ্ছিলো।
অন্ধকারের মধ্যে রাস্তার উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়িটা ছুটে চলছে। নিক ঠোঁট কামড়ে আড়চোখে পিছনে তাকাতে গিয়েও থেমে যায়। অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আরিশ কোথায়?
অধিরাজ গাড়ি চালানোর মধ্যে মনযোগ দিয়ে বলে,
” বস, আরিশ স্যারের প্রচন্ড জ্বর এসেছে। তাই উনাকে বাগান বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে এসেছি।
অধিরাজের কথা শেষ হতেই নিক চেঁচিয়ে উঠে,
” হুয়াট! জ্বর এসেছে মানে? কখন জ্বর এসেছে?

নিকের হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠাতে অধিরাজ থমথমে খেয়ে যায়। গলা শুকিয়ে আসে বেচারার। সাথে বাঘ রেখে হাটা – চলা করে যে ব্যক্তি, তার ধমকে তো গর্জন উঠবেই। অধিরাজ নিজেকে সামলিয়ে বলে,
” বস জ্বর কখন এসেছে সিউর জানি না। ফ্রান্সের অস্ত্র ব্যবসায়ী আলেসিও মোরেত্তির সাথে মিটিং -এ ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে স্যার নিজের অফিসিয়াল রুমে যায়। আমি ভ্যালেরিওর সাথে পরবর্তী কন্ট্রাক্ট নিয়ে কথা বলে ভাবলাম স্যারের সাথে দেখা করে যায়। দেখা করতে গিয়ে উনার নাজেহাল অবস্থা। চোখ -মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। তাকাতে পারছে না। আমি অধৈর্য হয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইলাম। বলল এইসবে কিছু হবে না। এখন বাগান বাড়িতে যাবে। স্যার একা আসতে চাইলে আমি জোর করে এগিয়ে দিয়ে আসি।
নিক পুরোটা ঘটনা শুনলো শান্তভাবে। এই প্রথম হয়ত গ্যাংস্টার বস পুরো ঘটনা শান্তভাবে শুনেছে। অধিরাজ প্রচুর অবাক হয়ে যায়। কিন্তু পর মুহূর্তে নিজেকে সামলে নেয়। নিক রাগে কিছু বিশ্রি গালি উচ্চারন করে। কপাল ঘেষে বলে,

” তর ওকে একা ছাড়া উচিত হয় নি। জ্বর আসলে এই ছেলের হুশ থাকে না। মাতালের থেকে ও অধম হয়ে যায়।
অধিরাজ কিঞ্চিত হেসে বলে,
” সামান্য সময়ের জন্য হার্টল্যাস থেকে বাচ্চাতে পরিনত হয়। বাচ্চারা যেমন নিষ্পাপ ঠিক তেমন।
নিক বিরক্তি নিয়ে বলে,
” বা***ল হয়। শত্রুরা মেরে চলে যাবে অথচ বলতে পারবে না। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে দিনের পর দিন যুদ্ধ করে গিয়েছে অথচ সেই ছেলের জ্বর আসলে সব ক্ষমতা ভেঁনিশ।
নিক বিরক্তির নিশ্বাস ফেলে। ঘন ঘন নিশ্বাস টানছে সে। আরিশ আড়চোখে তাকায়। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে দেখে নিজের বন্ধুর জন্য ব্যাকুল হয়ে যাওয়া বসকে।
নিক ঠোঁট কামড়ে বলে,

” হুট করে জ্বর আসার কারন?
” স্যার হয়ত সেদিনকার গভীর ক্ষত থেকে।
নিক কপাল কুচকে মনে করে সেদিনকার কথা। কায়াত আর ইগরের লোকেরা নিকের উপর হামলা করেছিলো। তাদের একটাই উদ্দেশ্য নিককে মেরে এনিকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর মধ্যেই হঠাৎ নিকের উপর হামলা করে বসে। কিন্তু ভুলবশত সেদিন নিক নয় আরিশ ছিলো। পিঠে ছুঁড়ি দিয়ে আঁচর কেটেছিলো। আঘাত তাদের মত হার্টল্যাসদের জন্য বেশি না হলেও সাধারন মানুষের জন্য ছিলো প্রচুর গভীর। চামড়া কেটে সাদা মাংস বের হয়ে গিয়েছিলো।
কিন্তু এতেও ক্রিমিনাল লিডারের কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিলো না।
নিক নিশ্বাস টেনে বলে,

” তুই এখন আরিশের কাছে যা। শত্রুরা রুমে ডুকে মেরে চলে যাবে শালায় বলতেও পারবে না। মাতালের মত পড়ে আছে নিশ্চই। আমি একটু পর আসছি।
অধিরাজ আমতা আমতা করে বলে,
” কিন্তু বস…
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করে,
” হুয়াট?
” বস কোনো গার্ড নেই আপনার সাথে।
” তো?
” আরিশ স্যার ও নেই।
” তো?
” এখন আমি চলে গেলে কিভাবে হবে বস। শত্রুরা যদি আ্যটাক করে তখন?
নিক কপাল কুচকে বলে,

” দীর্ঘ চার বছর যখন নেকড়ের গুহায় থেকে যুদ্ধ করেছিলাম তখন কোথায় ছিলি? অন্ধকার রুমে যখন মরন যন্ত্রনার কষ্ট ভোগ করছিলাম দিনের পর দিন, তখন কোথায় ছিলি? গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান নিজেকে প্রটেক্ট করতে জানে। তার কোনো কিছুর প্রয়োজন পড়ে না।
অধিরাজ প্রথমে ইমোশনাল হয়ে গেলেও পরিবর্তে থতমত খেয়ে বলে,
” জি বস। কিন্তু আরিশ স্যারের কছে তো উনার ওয়াইফ আছে। আপনি অযথা চিন্তা করবেন না।
নিক কপাট রাগ দেখিয়ে ধমকে উঠে,
” বাল আছে মাদা*****। এই মেয়ে সুযোগ পেলে আরিশকে মেরে পালিয়ে যেতেও দুইবার ভাববে না।
অধিরাজ গাড়ির স্ট্রিয়ারিং এ নজর দিয়ে বলে,
” উনি অনেক ভালো বস। আমি নিজের চোখে দেখেছি স্যারকে স্বামী স্বামী বলে কান ঝাঁঝরা বানিয়ে দিচ্ছিলো।
নিক চোয়াল চেপে বিরবির করে উঠে,
” একটাকে নিয়ে তো আমি সামলাচ্ছি তাই অপরটা কেমন ভালো হবে ধারনা আছে আমার।
নিক কথাটা বিরবির করে বললেও অধিরাজ শুনলো। মুচকি হেসে গাড়ি চালানোর মধ্যে মনযোগ দেয়। প্রশ্ন করার আর সাহস হয় নি। এখন উদ্দেশ্য আরিশের বাড়িতে যাওয়া।

নাজলী পাত্রে করে ঠান্ডা পানি নিয়ে আসে। কিন্তু কাপড়ের টুকরোর জন্য বিপাকে পড়ে যায়। সে তো রুমাল ও ব্যবহার করে না। হঠাৎ আরিশের প্যান্টের পকেটে নজর যায়। নাজলী কপালে ভাঁজ ফেলে আরিশের কাছে গিয়ে বসে। আরিশ উবুর হয়ে শুয়ে আছে। নাজলী শান্তভাবে বসে আরিশের পকেটে হাত রাখে। হাতটা যাস্ট পকেটের ভিতরে ডুকাতে যাবে এমন সময় আরিশ খপ করে হাতটা ধরে ফেলে। নাজলীর হাতটা শক্তভাবে চেপে ধরে বলে,
” আমার পকেটে কেনো হাত দিচ্ছিলে? কিসের ধান্দা হুম? চুরি করছিলে? কি চাই, টাকা?
নাজলী চোয়াল শক্ত করে আরিশের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। রাগ দেখিয়ে বলে,
” রুমাল খুঁজছিলাম। এতটাও ভিখারী নয় যে গুন্ডার থেকে চুরি করতে হবে।
আরিশ শব্দ করে সামান্য হাসলো। তবে সেই হাসি পুনরায় ভেতরে চলে যায়। নাজলী প্রচুর অবাক হয়ে লোকটার হাসি দেখে। হাসলে কতটা নিষ্পাপ লাগে। অথচ জেগে উঠলে জানোয়ারে পরিনত হয়। আরিশ নাজলীর কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরে বলে,

” রুমাল কেনো খুঁজছিলে?
আরিশের এমন ব্যবহারে নাজলী রেগে বলে,
” ওয়াশরুম ক্লিন করব। তাই আপনার রুমালের প্রয়োজন।
আরিশ জ্বরের ঘোরেও বিরক্তি হয়ে যায়। নাজলীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” খবরদার রুমালে হাত দিবে না?
” কেনো? দিলে কি হয়েছে?
” আবার প্রশ্ন করছো?
” করছি। আপনি কি বিশ্বাস করে নিয়েছেন নাকি, আমি ওয়াশরুম ক্লিন করব?
আরিশ নাক মুখ কুচকে বলে,
” তোমাকে নিয়ে বিশ্বাস আছে নাকি?
নাজলী দাঁত কিড়মিড়িয়ে তাকায়। নাজলী কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরিশ ধমক দিয়ে বলে,
” আবার প্রশ্ন করছো?
আরিশের ধমকে নাজলী নিজেকে সংযত করলো। কোনোমতে জেদটা কন্ট্রোলে করে বলে,
” আচ্ছা করছি না প্রশ্ন। আপাযত রুমালটা দিন। কপালে জলপট্টি দিয়ে দিতে হবে। নাহলে জ্বর নামানো মুশকিল হয়ে যাবে।
আরিশ শুয়া থেকে উঠে বসে। চোখ খুলে রাখতে পারছে না। তবুও বহু কষ্টে তাকিয়ে বলে,

” আমাকে কেনো সেবা করতে চাইছো?
” মনষ্যত্ববোধ থেকে।
” শত্রুর জন্য মনষ্যত্ববোধ? এতটা উতলা কেনো হচ্ছো? কে তুমি?
নাজলী থমকে যায় একটা প্রশ্নতে। “কে তুমি ” আসলে কে সে? তার পরিচয়টা ঠিক কোথায়? এই লোকটার জন্য এই বা এত দরদ দেখাচ্ছি কেনো? সে-তো আমাকে বন্ধী করে রেখেছে। তাহলে কিসের আবার মানবতা?
নাজলী কথাগুলো অজান্তে অনুভব করে। কিন্ত এরপর ও আরিশের পকেটে হাত রাখে। কিছুক্ষন খুজাখুজির পর একটা সাদা রুমাল পায়। নাজলী রুমালটা ভিজিয়ে আরিশকে ইশারা দিয়ে বলে,

” শুয়ে পড়ুন।।
আরিশ চোখ বন্ধ করে বলে,
” কোথায় শুব?
নাজকী দাঁত পিষে বলে,
” কিচেন রুমে যাবেন?
অধিরাজ ঠোঁট নাড়িয়ে বলে,
” আপাযত তোমার উড়ুর উপর।
সাথে সাথে নাজলী নাখোঁজ করে চেঁচিয়ে উঠে,
” একদম নয়। নিজের স্বামী ছাড়া কাউকে স্থান দিব না এখানে?
” আমি কে?
নাজলী থমকে যায় আরিশের নেশালো কন্ঠে। নিজের অবস্থানের কথা মনে করে বলে,
” কাউকে ঠকিয়ে বিয়ে করে নেওয়া স্বামী নামক আসামী। যাকে কোনোদিন এক মুহূর্তের জন্য ও ভালোবাসা জন্মায় নি। জন্মেছে শুধু ঘৃনা।

আরিশ বাচ্চাদের মত মাথা নাড়ে। নাজলী প্রচুর অবাক হয় আরিশের বাচ্চামো কান্ডে। এই আরিশকে সে চিনে না। ও যাকে চিনে সে হলো ক্রিমিনাল লিডার আরিশ। গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের ডান হাত। যার এক একটা কথাও হৃদয়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়। যার দষ্টি বাজ পাখির থেকেও তীক্ষ্ণ। কিন্ত এই লোক তো জ্বরের বে- কায়দায় একদম বাচ্চা হয়ে উঠেছে। নাজলী তপ্ত শ্বাস ফেলে। এরপর কিছু একটা ভেবে কাউচের উপর বসে পড়ে। ঠিক তখন এই আচমকা আরিশ নাজলীর কোমড় পেচিয়ে ধরে। এমন ব্যবহাররে নাজলী হতভম্ভ হয়ে যায়। কিন্তু নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় না। ঠোঁটে বক্র হাসি ফুটিয়ে বলে,
” এমন বাচ্চাদের মত পাগলামো কেনো করছেন?
জ্বর হলে অনেকে বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলে শুনেছি। কিন্তু তাই বলে এমন হয়ে যায় এই প্রথম দেখলাম।
আরিশ উত্তর করলো না।
নাজলী কপালে জলপট্টি রেখে বলে,

” একটা কথা জিজ্ঞাসা করছি। চুপচাপ আমার উত্তর দিবেন। ওকে?
আরিশ মাথা নাড়ায়। নাজলী অধরে পুনরায় বাঁকা হাসির রেখে টেনে বলে,
” আমাকে কেনো বন্ধী করে রেখেছেন? কেনো আমকে এমন একটা জায়গায় সবার থেকে দুরে রেখেছেন? কেনো বলোন- তো? ঠিক কি কারনে?
আরিশ নাজলীর উড়ুর মধ্যে নাক ডলে বলে,
” তোমাকে ওরা মেরে ফেলত। আর তোমার কিছু হলে এনি আজীবন নিককে অপরাধী বানিয়ে যাবে। তোমাকে ওদের হাত থেকে বাঁচাতে এখানে রাখা হয়েছে।
আরিশের কথায় নাজলী চমকে উঠে,
” ও কে? আর কে মারতে চাই আমাকে? আমি কোনো সন্ধান পায় নি কেনো?
আরিশ চুপ করে আছে। নাজলী কথা বললেও একইভাবে জলপট্টি দিয়ে যাচ্ছে। আরিশের জ্বরের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। নাজলী কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। এমন জ্বরের তাপ আগে কখনো দেখে নি সে। সব কিছু বলে আরিশের শার্ট খুলার জন্য প্রস্তুতি নেয়। শার্টের বোতামগুলো খুলতেই আরিশ চোখ বন্ধ করেই বলে,

” জামা -কামড় খুলছো কেনো?
নাজলী বিরক্তি নিয়ে বলে,
” আপনার লজ্জা হরন করব তাই।
” লজ্জাহরন করবে ভালো কথা। প্যান্টে হাত দিও না।
নাজলী কপাল কুচকে বলে,
” কেনো?
আরিশ বিরবির করে উঠে,
” সেদিকটা আমার বউয়ের হক। অন্য কাউকে দিতে চাই না আমি।
নাজলী বোকা বনে যায়। বলছে কি এই মাতাল। নির্লজ্জ লোক। হঠাৎ নাজলীর চোখ যায় আরিশের পিঠে। যেখানে একধিক ক্ষতের দাগ আছে। কিন্ত একটা ক্ষত ভাজেভাবে তাজা হয়ে আছে নাজকীর বুকটা কেঁপে উঠে। এমন তাজা ক্ষত নিয়ে কেউ কিভাবে চলাচল করতে পারে।
আল্লাহ কি ওদের কোনো অনুভুতি দেয় নি? নাজলী ঠোঁট কামড়ে ধরে আরিশের পিঠে হাত রাখে। সাথে সাথে আরিশের শরীরটা নড়ে উঠে। নাজলী ফু দিয়ে বলে,
” ব্যাথা কিভাবে পেয়েছেন?
” জানি না।
আরিশের এমন উত্তরে নাজলী বিরক্ত হয়ে বলে,

‘ জানেন কি তাহলে? কিভাবে যুদ্ধ করা যায়? নাকি কিভাবে প্রতারনা করে রুমে বন্ধী করা যায়? এই বললেন আমাকে বাঁচাতে এখানে নিয়ে এসেছেন, বিশ্বাস করব কিভাবে বলুন? এক বন্ধু আমার বোনের জীবন নরকে পরিনত করেছে।অন্য বন্ধু এসেছে আরেক বোনকে বাঁচাতে। এতটা সোজা মনে করেন আমাকে?
নাজলী থামে। কাকে বলছে সে এইসব। এই লোক তো নিজের মধ্যেই নেই। এখন বলা আর না বলাটা সেইম। নাজলী একটু পর পর মাথায় জল পট্টি দিয়ে যাচ্ছে। আরিশ নাজলীর পেটে মুখ গুঁজে বলে,
” তোমার শরীর থেকে সুগন্ধী আসছে কোথা থেকে?
নাজলী নাক -মুখ কুচকে ফেলে। আরিশের গরম নিশ্বাস অনুভব করতেই ভয়ংকরভাবে কেঁপে উঠে মেয়েটা। নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে,

” ছা… ছাড়ুন। তিন বেলা খেতে দিন এইটাই অনেক। সুগন্ধী পাব কোথা থেকে?
আরিশ বেঘোরে শ্বাস ফেলছ। মুলত নাজলীর সাথে তার কিসের সম্পর্ক সেটা ভুলে বসেছে।অবস্থা খুব সূচনীয় হয়ে উঠেছে। নাজলী আরিশের কপালে হাত স্পর্শ করে অধৈর্য হয়ে বলে,
” হায় আল্লাহ। শিঘ্রই ডাক্তার ডাকতে হবে। আপনার জ্বর তো একদম বেপোরোয়াভাবে বাড়ছে।
নাজলী উঠার জন্য সামন্য চেষ্টা করতেই আরিশ শক্ত ভাবে চেপে ধরে। পেটে মুখ গুঁজে অস্ফুর্ত সুরে বলে,
” প্লিজ যেও না। যেও না আম্মু। আম্মু যেও না।
নাজলীর চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। চোয়াল ঝুলে আসে তার,
” কি বলছেন এইসব? আপনার আম্মু কে? আমি আপনার আম্মু হলাম কবে?
আরিশের কোনো রেসপন্স নেই। শুধু একই বাক্য বিরবির করছে,
” আম্মু যেও না প্লিজ। আম্মু যেও না।

নাজলী আরিশের দিকে কান খাড়া করে রাখে। আরিশের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে ফেলে। আরিশ স্পর্শ আরও গভীর করে তোলে। এইদিকে নাজলীর নিশ্বাস আটকে আসার অবস্থা। এতদিন ঝগরা, রাগ, জেদের মিশ্রনে স্পর্শ করেছে। এমন অনুভুতি কোনোদিন হয় নি। আজ এমন অনুভুতি কেনো হচ্ছে? ভেতরে ধুক ধুক করছে কেনো? কেনো শরীর ঘেমে যাচ্ছে? নাজলীর পায়ের পাতা শিরশির করে উঠেছে। এই লোক তো মাতালদের থেকেও বেশি কন্ট্রোলল্যাস হয়ে পড়েছে।
আদ’ও জ্বর এসেছে নাকি মদ গিলে এসেছে। নাজলী সন্দেহ করে আরিশের মুখের কাছে নিয়ে নাক দিয়ে নিশ্বাস টানে। নাক ছিটকে বিরবির করে বলে,
” কড়া পারফিউমের গন্ধ ছাড়া কোনো বাজে গন্ধ নেই। তারমানে মদ গিলে নি। মাতাল না হলে জ্বরেতে কেউ এতটা জ্ঞানহীন কিভাবে হয়ে পড়ে?

নাজলী আরিশের দিকে ঝুঁকেই বিরবির করে যাচ্ছে। আচমকা আরিশ তাকে আরও চেপে ধরে। আরিশের অবাধ্য হাত চলে গেছে এমন এক জায়গায় যা নাজলীর পুরো শরীরকে স্তব্দ করে দেয়। চোখ দুইটা বড় বড় হয়ে যায়। হঠাৎ দরজা খুলার শব্দে নাজলী হকচকিয়ে উঠে। চোখের পাতে ঝাপ্টে ঢোক গিলে। ঠোঁট ভিজিয়ে পিছনে তাকাতেই চোখ – মুখ খিঁচে ফেলে। অধিরাজ মুখ হা করে তাকিয়ে আছে আরিশ আর নাজলীর দিকে। নাজলি ছুটার জন্য ছটফট শুরু করে দেয়। কিন্তু আরিশের শক্ত বাঁধন থেকে মুক্ত হতে পারছে না। নাজলী দাঁত পিঁষে রেগে কটমট করে বলে,
” শালার জ্বর এসেছে, অথচ শক্তি কমে নি। এমনভাবে চেপে আছে যেন আমি তার সত্যিকারের বউ।
অধিরাজ এর পাশে একজন কুচকুচে কালো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে। লোকটার পোশাক দেখেই বুঝা যাচ্ছে একজন ডাক্তার। ডাক্তার গলা কেঁশে অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” মি, আরিশের কে হন উনি?
অধিরাজ কি উত্তর দিবে? আসলে কি হয় এই মেয়ে? বউ! কিন্তু এই বিয়ের তো কোনো অর্থ নেই। প্রয়োজনে আনা হয়েছে। প্রয়োজন ফুঁরিয়ে গেলে টিস্যুর মত ছুঁড়ে ফেলে দিবে। কিন্তু তারা এতটা কাছা- কাছি হয়ে আছে কেনো? দেখে বুঝা যাচ্ছে সব ঠিক -ঠাক।
অধিরাজ ধীর আওয়াজে বলে,

” আরিশ স্যারের ওয়াইফ উনি।
ডাক্তার ভ্রুঁ নাচিয়ে তাকায়। দেখেই বুঝা যাচ্ছে খুব আশ্চর্য হয়েছে। নিম্ন আওয়াজে বলে,
” বিষয়টা খুবই আশ্চর্য জনক। তারা ও কোনো নারীর সাথে সংসার করছে?
অধিরাজ কিছু বললো না। গলা কেঁশে শব্দ করে বলে,
” আমি কি এখন বাহিরে অপেক্ষা করব? আপনি কি স্যারের সাথে থাকবেন?
নাজলী এইবার কেঁদে দিবে ভাব। অসহায় কন্ঠে বলে,
” আপনার স্যার আমাকে ছাড়ছে না। কিভাবে উঠব আমি। সাহায্য করুন আমাকে।
অধিরাজের অধরে হাসির ঝিলিক। হয়ত সে হেসেছে। কিন্তু সেই হাসি কেউ দেখে নি। পকেট হাতড়িয়ে মোবাইল বের করে কয়েকটা ছবি তুলে নেয়। ড. অধিরাজের এমন কান্ডে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে,
” ছবি তুলেছো কেনো?
অধিরাজ বাঁকা হেসে বলে,
” সেটা তুমি বুঝবে না। আপাযত স্যারকে দেখো গিয়ে। বস আসবে কিছুক্ষন পরে।
নিক আসবে শুনে ডা. শুকনো ঢোক গিলে। দ্রুত আরিশের কাছে যায়। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করা কেটে পড়া ভালো। নিকের সামনাসামনি হয়ে যমকে আলিঙ্গন করতে চায় না সে। ডা. নাজলীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” ম্যাম আপনি কি এখানেই থাকবেন?
নাজলী বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,

” না থাকা ছাড়া তো উপাই নেই। দেখছেন না শামুকের মত কিভাবে চিপকে আছে।
নাজলীর বিরক্তি বুঝতে পেরে ড. আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ আরিশের চিকিৎসা করতে থাকে। ড. চিকিৎসা আর আরিশ নাজলীকে আরও চেপে ধরছে। নাজলী সহ্য করতে না পেরে রাগ দেখিয়ে বলে,
” পেটের ভিতরে ডুকে যাবেন নাকি? মহিষের মত এমন গুঁতা-গুঁতি করছেন কেনো?
আরিশের কোনো হেলদুল নেই। নাজলীর কথায় ডাক্তার কেঁশে উঠে। অধিরাজ ঠোঁট কামড়ে হাসে। এরপর গম্ভীরতা টেনে বলে,
“স্যারের জ্বর আসলে সে নিজের মধ্যে থাকে না। উনি একদম বাচ্চাদের মত হয়ে যায়। তাই স্যারের জ্বর আসলে বস কখনো একা ছাড়ে না।
নাজলী কপাল কুচকে বলে,
” বস কে?
অধিরাজ ভ্রুঁতে ভাঁজ ফেলে তাকায়। যার বোনকে মাসের পর মাস আটকে রাখেছে। সেই বোন তার শত্রুকে চিনে না! অধিরাজ বক্ষ টান টান করে দাড়িয়ে বলে,

” গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানকে চিনেন?
নাজলী খুব সাবলীল ভাবে উত্তর দেয়,
” অহহ। তাহলে আপনার বস আজ উনাকে একা ছেড়েছে কেনো?
” আপনার বোনের জন্য?
নাজলী কপাল কুচকে বলে,
” মানে?
” মানে আপনার বোন বাড়িতে একা আছে।
নাজলী তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” আস্ত একটা জানোয়ারের সাথে সাথে থাকে। ভয় পাবে কাকে আর?
অধিরাজ খুব শান্ত কন্ঠে উত্তর দেয়,

” চলুন আপনাকে নিয়ে সেই মিনারে রেখে আসি। দেখি আপনিও রাতে ভয় পান কি না।
” দুর্বল ভেবে বোকামি করবেন না।
” দুর্বল ভাবার মত বোকা নয় আমরা।
নাজলী বিরক্তিকর চোখে তাকায় অধিরাজের দিকে। অধিরাজের ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। নাজলী দাঁত পিষে বিরবিরায়,
” সব গুলো হাফ লেডিস। মেয়েদের মত ঝগড়াতে উস্তাদ। অবশ্য যাদের লিডার এমন তারা আর কেমন হবে।
অধিরাজ শুনে নি কথাটা। শুনলে হয়ত পাল্টা রিয়্যাকশন আসতো। ড. ভালোভাবে পরীক্ষা করে বলে,
” জ্বরের তীব্রতা পচুর। আমি মেডিসিন দিয়ে দিচ্ছি। সময় মত সেবন করাবেন। যদি রাতের ভিতরে জ্বর না কমে তাহলে হসপিটালে এডমিড করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
ড. উঠে দাঁড়ায়। এরপর ধীর পায়ে করিডর পেরিয়ে বেরিয়ে যেতে থাকে। অধিরাজ ঈগল দৃষ্টিতে তাকায় নাজলীর দিকে। নাজলী দৃষ্টির মানে কিছুটা অনুমান করে বলে,
” হাত রক্তাক্ত করার শিক্ষা আমরা পায় নি। আর একজন অসুস্থ ব্যাক্তির উপর আঘাত করার মত নরপশুও নয়। সবাইকে নিজেরদের মত ভাবাটা তো বোকামি গ্যাংস্টার বসের চামচা।
অধিরাজ চোয়াল শক্ত করে বলে,

” বাপ- মায়ের আচলে বড় হওয়া সন্তান কিভাবে অনুমান করবে হাত রক্তাক্ত করার মুল ইতিহাস।
অধিরাজ আর দাড়ালো না কথাটা বলে। রাগের তাপে নিজের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলছে। তার বসকে কেউ উল্টা-পাল্টা বলতে পারে না। এই কারনে ঠিক কতজনের গলা কেটেছে তার হিসাব হয়ত অধিরাজের কাছেও নেই।
অধিরাজ চলে যেতেই নাজলী তপ্ত শ্বাস ছাড়ে। লোকটা এমন ভাবে ধরে ঘুমাচ্ছে যেন সে খুব আপন কেউ। জ্বর ভালো হয়ে গেলেই তো আবার আগের রুপে ফিরে আসবে। লুচ্চাদের মত হাত নাড়াচড়া করছে কেনো এত! ভাগ্যিস লোকটা অসুস্থ নাহলে জায়গামত একটা লাথি দিত। মেয়ে কাছে পেয়েই লুচ্চামি করার স্বাদ বুঝিয়ে দিত। কিন্ত নিরুপায় নাজলী নিজের শত্রুকে সেবা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

রাত প্রায় একটার কাছা-কাছি। নিক মেইন করিডর পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। পুরো বাড়িতে একদম পিনপিন নিরবতা। শুধু মাত্র গ্যাংস্টার বসের পায়ের শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। নিক গম্ভীর পা ফেলে উপরে দিয়ে উঠতে যাবে এমন সময় কিছুর শব্দে সে থমকে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সে। সাথে সাথে কপালের ভাঁজ দেখা দেয়। বাম হাতে লাইট অন করে। সাথে সাথে ডিভানের মধ্যে শুয়ে থাকা একটা ছোট অবয়ব ভেসে উঠে। শীতে কাঁপছে অসম্ভবভাবে। নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে। রুম রেখে এখানে শুয়ে থাকাটা একদম পছন্দ হয় নি তার। রাগে তিরতির করে কেঁপে উঠে তার শরীরটা। ক্ষুব্দ হয়ে গ্যাংস্টার বস এগিয়ে আসে এনির দিকে। কাছে এসে হেচকা টান দিতে যাবে এমনক সময় থেমে যায়। এনি কিছু একটা বিরবির করছে। মেয়েটা সজাগ আছে বুঝতে বাকি নেই। নিক তীক্ষ্ণ চোখে সামনে ঝুকতেই কপালে ভাঁজ ফেলে। একটা তাপ তার শরীরে লাগছে। নিক সন্দেহবশত এনির কপালে হাত রাখে। সাথে সাথে গ্যাংস্টার বস অধৈর্য হয়ে পড়ে। গলায় হাত রেখে পরিক্ষা করতে যাবে তার আগেই এনি খপ করে ধরে ফেলে। জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। চোখ বন্ধ রাখা অবস্থায় বিরবির করছে,

” একদম স্পর্শ করার চেষ্টা করবেন না।
এনির রিজেকশনে নিকের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। হিংস্রতা নিয়ে এনির হাতটা চেপে ধরে। এরপর এক ঝটকায় ফেলে দিয়ে বলে,
” হাত সরা বাল। গুঁতাগুঁতি করার জন্য স্পর্শ করছি না। পুরো শরীর গরম হয়ে আছে।
এনি হাতে ব্যাথা পেয়ে বাচ্চাদের মত ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। নিক কপাল কুচকে ফেলে,
” কি হয়েছে কাঁদছো কেনো?
” আপনি আমাকে স্পর্শ করবেন না।
“স্পর্শ করলে কি করবে?
এনি অধরে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,
” যেভাবে নিজের আপন চাচাকে কেটে পঞ্চাশটা টুকরো করেছিলাম ঠিক সেই অবস্থা করব। কলিজা টেনে নিয়ে এসে যেভাবে কুকুরকে খাইয়েছিলাম ঠিক সেই অবস্থা করব।
নিকের হাত থেমে যায়। গম্ভীর হয়ে উঠে মুখমন্ডল। চোখে অজানা চাহনি। ভ্রু নাচিয়ে বলে,

” মানে?
এনি শব্দ করে খিলখিল করে হেসে উঠে। নিকের ব্লেজার খামছে ধরে বলে,
” আমার দিকে কেউ কুনজর দিলে তার চোখ তুলে ফেলি। নিজের চাচাকেও ছাড় দেয় নি। আপনাকে ছাড় দিব ভাবলেন কিভাবে?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে শক্তভাবে। শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে,
” তুমি তো বলেছিলে রক্ত আর অন্ধকারে ফোবিয়া আছে। তাহল দেহ কেটে খন্ড-বিখন্ড করলে কিভাবে?
এনি পিটপিট করে চোখ খুলতে চাচ্ছে। কিন্তু তার
হুশে নেই। নিজের উপর নিজেই রেগে বলে,
” বালের শরীর এমন করছে কেনো?
নিক এনির বাহু চেপে ধরে ধমকে উঠে,

” ঠাটিয়ে দিব এক থাপ্পর বিয়াদব। মুখ দিয়ে বিশ্রি শব্দ উচ্চারন করলে দুই ঠোঁট সেলাই করে রাখব।
নিকের ধমকে এনি চুপ হয়ে যায়। বিড়াল ছানার মত নিজেকে সিটিয়ে নেয়। নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” প্রশ্নের উত্তর পায় নি। রক্তে ফোবিয়া থাকলে খুন করেছো কিভাবে?
এনি বিরিবির করে বলে,
” নিজের সম্বল বাঁচাতে সিংহকেও শিকার বানাতে প্রস্তুত থাকে প্রতিটা মেয়ে। তাই – তো চাচাটাকেই মেরে দিয়েছি। পঞ্চাশটা টুকরো করেছিলাম।
নিকের ঠোঁটে ধীরে ধীরে হাসি ফুটতে থাকে। বাঁকা হেসে বলে,
” গুড। আমি নিজেও নিজের জন্মদাত্রীকে গলা চেপে মেরেছিলাম। জন্মদাত্রীর রক্তে রাঙ্গানো আমার হাত।
এনি হেসে বলে,
” তার মানে আপনি ও আমার মত খারাপ। আপনিও খুন করেছেন?
নিক চোয়াল শক্ত করে বলে,

” আমি খুন করি না। ভার্সিটিতে স্টুডেন্টদের আদর্শের শিক্ষা দেয়। আর কিছু জানার আছে আমার সম্পর্কে?
এনি চোখ বন্ধ করা অবস্থায় মাথা দুই পাশে নাড়ায়। যার অর্থ আর কোনো প্রশ্ন নেই। নিক এনির দিকে খেয়াল করে। সেই পুরনো জামাটা এখনও পড়ে আছে। নিক প্রগাঢ় ক্ষুব্দতায় এনির জামাটা এক টানে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর সামান্য চেঁচিয়ে উঠে,
” রোজগার করি কার জন্য যদি তকে সারাদিন পুরনো কপড় পড়ে থাকতে হয়।
নিজের কাপড়টা ছিঁড়ে ফেলাতে এনি নিকের বুকে ঘুঁষি দিয়ে বলে,
” কাপড় ছিঁড়েছেন কেনো আমার? জানেন একটা জামার দাম ঠিক কত হয়।
” জানব কিভাবে? আমি তো কৃষি কাজ করে দিন এনে দিন খায়। এত দাম কিভাবে জানি বলো? আর আমার বাড়ি, গাড়ি সব তো তর বাপে করে দিয়ে গিয়েছে।

এনি কোনো সারা – শব্দ নেই। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে। সে কেনো এত অস্থির হয়ে পড়ছে বুঝতে পারছে না।এনি রিতীমত কাঁপছে। ধীরে ধীরে কাঁপন বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিক এক ঝটকায় এনি কোলে তোলে নেয়। এরপর দ্রুত রুমের ভিতরে প্রবেশ করে। এনিকে শুইয়ে দিয়ে বুক পর্যন্ত চাঁদরটা টেনে দেয়। দ্রুত নিজের শরীরের শার্ট খুলে ফেলে। এরপর এনির সাথে চাঁদরের নিচে ডুকে পড়ে। এনির শরীরে বর্তমানে ছোট্ট কাপড়টা ছাড়া আর কিছু নেই। নিক নিজেও উন্মুক্ত হয়ে এনির শরীরটা বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। কিন্তু আদ’ও কি গ্যাংস্টার বস ঠিক আছে? যে নারীর সামান্য সান্নিধ্য আসলেই কন্ট্রোলল্যাস হয়ে পড়ে। আজ তাকে অর্ধ নগ্ন অবস্থায় বুকের সাথে মিশিয়ে রেখেছে। নিক দাঁত পিষে নিজেকে বশে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু এই মুহূর্তে ওয়াইনের বোতল প্রয়োজন। নাহলে কিছু একটা ঘটে যাবে।
নিক এনির মুখের দিকে তাকিয়ে রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩০

“অসুস্থ তাই থেমে গেলাম। লোকে বকে খারাপের সাথে খারাপ মিলে। ভালোর সাথে ভালো। আর খুনীর সাথে খুনী। তথাকথিতভাবে পুরো সম্রাজ্যের চোখে আমি এক সাইকোপ্যাথ। এখন তো দেখছি আমার থেকেও বড় সাইকো তুমি। নিজের আপন চাচাটাকেই মেরে ফেললে। আর মেরে থেমে থাকো নি। দেহটাকে টুকরো – টুকরো করে ফেললে। কিন্তু তোমার জন্য ঠিক কতজনের মাথা আলাদা করেছি তার কোনো হিসেব নেই বেবিগার্ল। ইউ নো তুমি তোমার চাচাকে মেরেছো আর আমি আশে- পাশের সবাইকে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩১