Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪
লিজা মনি

অপরিচিত এক মেয়েকে নিশ্চুপ বসে থাকতে দেখে
মেহেরের অন্তর্দিনের শান্ত সমুদ্র মুহূর্তেই তীব্র অস্থিরতার অদৃশ্য ঝড়ে উত্তাল হয়ে ওঠে। দৃশ্যটির আকস্মিকতা তার চিন্তাকে অস্বস্তির ঘন কুয়াশায় ঢেকে ফেলে দেয়। এক নিঃশব্দ চাপা উদ্বেগক্রমে ক্রমে নিজের অবস্থান দৃঢ় করে তুলতে চাইছে।
মেহেরের ভেতর তুলপাড় করছে। কিন্তু সে নিককে বিশ্বাস করে। তার নিক তার সাথে কোনোদিন ও বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। দুনিয়া উল্টে গেলেও তাকে ঠকাবে না। কিন্তু এত সুন্দর মেয়ে উনার রুমে কি করছে? উনার কোনো বিজন্যাস পার্টনার? নিজের মনকে নিজে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সে।
মেহের পুনরায় ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলে,

” কে তুমি? এত সুন্দর! এত স্নিগ্ধ! চোখ ধঁধিয়ে যাচ্ছে আমার। চুপ করে কেনো আছো?
এনি মেহেরকে ভালোভাবে পরখ করে। তার বয়সের এই হবে মেয়েটা। পাচ ফুট চার এমন হাইট হবে হয়ত। তার থেকে একটু লম্বা। গায়ের রং একদম দবদবে ফর্সে। মেয়েটা যে বিদেশী বুঝতে বাকি নেই। তবে আশ্চর্য হচ্ছে এইটা ভেবে মেয়েটা কে? তার বন্দী জীবনে নিকের মেনশনেও কোনো নারীকে সে দেখে নি। এক মাত্র চিত্রা মাসীকে ছাড়া কেউ ছিলো না। এখন বর্তমানে যে পাপে ঢাকা গ্লাস মিনারে আছে এখানেও নারী বলতে কোনো অস্তিত্ব নেই। মেয়েদের ঘৃনা করা ব্যক্তিটার মিনারে এই মেয়েটা কে? এত গার্ডের নজর থেকে কিভাবে আসলো এখানে? পুরো মিনারের চার-পাশে গার্ড দিয়ে তালাবদ্ধ রাখা সেখানে এই মেয়ে কিভাবে ভিতরে ডুকেছে? কে ও! মেহেরের কাঁপা ঠোঁট আর চোখের পানি এনির দৃষ্টি এড়ায় না। মেহেরকে এমন অস্বাভাবিক আচরন করতে দেখে এনি আশ্চর্য হয়। এনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে শরীরের উপর থেকে চাদরখানা সরিয়ে ফেলে। তেমন একটা ঠান্ডা লাগছে না এখন। পুরো শরীর মোটা-মোটি গরম হয়ে আছে। দুর্বল শরীরটা নিয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। মেহেরের থেকে দুরত্ব বজায় রেখে তার চোখে চোখ রাখে। নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,

” আমি একজন কারাদন্ড আসামী। আপনি কে?
মেহের তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়। কারাদন্ড আসামী! এইটা কেমন পরিচয়? কারাদন্ড আসামী হলে গ্যাংস্টার বসের মিনারে কি করছে? তাছাড়া যে বেড রুমে সামান্য পিঁপড়া প্রবেশ করে -কিনা সন্দেহ সেই বেড রুমে এক যুবতী কি করছে?
মেহের গলা ভিজিয়ে বলে,
” কারাদন্ড আসামী হলে গ্যাংস্টার বসের বেড রুমে কি করছো?
এনি মুচকি হেসে বলে,
” আপনার পরিচয়টা বললেন না মিস,
এনির হাসিতে মেহের অবাক হয়ে যায়। এইটা মুচকি হাসি হলেও হাসিতে প্রচুর রহস্য ছিলো। কিন্তু সরল মেহের সেটা অনুভব করতে পারলো না। মেহের দুই কদম এগিয়ে এসে বলে,
” আমি মেহরিমা মেহের। আরেকটা পরিচয় আছে। তুমি আরিশ ভাইয়াকে চিনো?
এনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে গম্ভীর হয়ে বলে,

” ক্রিমিনাল লিডার আরিশ! গ্যাংস্টার বসের ডান হাত।
মেহের হাসি দিয়ে বলে,
” হুম। আমি উনার ছোট বোন।
” কার? গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান , নাকি ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহামের।
” আরিশ ইলহাম।
এনি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে মেহেরের দিকে। এরপর দৃষ্টি ফিরিয়ে কাঁধ নাড়িয়ে তাচ্ছিল্য বলে,
” উনাদের পরিবার ও আছে। নিজের বোন আছে অথচ অন্যের বোনকে বলি দিতে বুক কাঁপে না।
মেহের মাথা নিচু করে ফেলে।। মেহের কি আদ’ও আরিশের নিজের বোন! উহুম আপন নয়। তবে রক্তের না হয়েও আত্নার সম্পর্ক। মেহের কথাটা এড়িয়ে গিয়ে বলে,
” প্রশ্নের উত্তর পেলাম না।
এনি পিছনে ঘুরে বিছানার দিকে এগিয়ে যায়। এরপর নরম বিছানার এক কোণায় বসে বলে,
” বলেছি’তো কারাদন্ড আসামী। জীবনে অনেক পাপ হয়ত করেছিলাম। সেই শাস্তিস্বরুপ রায় পেয়েছি এই চার দেয়ালের ভিতরে বন্দিদশা জীবন। এইটাই কাটাচ্ছি হাসি-মুখে।
মেহের ভ্রুঁ কুচকে ফেলে। এত রহস্য প্যাচানো কথা মেহের বুঝতে পারে না। মেহের শান্ত গলায় বলে,

” এত কঠিন ভাবে বুঝি না। একটু সহজ করে বলো।
এনি মেহেরর দিকে তাকিয়ে বলে,
” বয়স কত তোমার?
” আঠারো হয়েছে কয়েকদিন আগে।
এনি ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” আমার সমান তুমি। আমার ও আঠারো হয়ে গিয়েছে। তবে দুই একমাসের ছোট হলেও হবে। বয়স সমান। আমার ভাষা তো বুঝার কথা। বিশ্বের নাম্বার ওয়ান ক্রিমিনালের বোন তুমি। তার থেকে ও বড় পরিচয় বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকোপ্যাথ নিক জেভরানের ভবিষ্যত সঙ্গী। এত সরল হলে এদের সাথে বাঁচবে কিভাবে হুম?
মেহের অবাকের পর অবাক হচ্ছে। নিক কে বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকোপ্যাথ বলাটা সে পছন্দ করে নি। কেনো যেন রাগ লাগলো খুব। হয়ত ভালোবাসার মানুষটাকে খারাপ বলায় কিছুটা রাগ হয়েছে। কিন্তু সে নিককে পছন্দ করে এইটা তো বাহিরের কেউ জানে না। তাহলে উনি কিভাবে জানলো! মেহের শুকনো ঢোক গিলে বলে,

” তুমি কিভাবে জানো এতসব?
” কোনটা জানার কথা বলছো?
” আমি উনার ভবিষ্যত ওয়াইফ হব। এইটা তো বাহিরের কেউ জানে না।
এনি অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে বলে,
” তোমার কেনো মনে হলো আমি বাহিরের কেউ? এমন ওত হতে পারে তোমার থেকে এই বাড়িতে আমার অধিকার বেশি?
মেহের ঘন ঘন শ্বাস টেনে কপাল কুচকে বলে,
” মানেহহ! কি বলতে চাইছো? এই বাড়িতে আমার থেকে তোমার অধিকার বেশি, এর অর্থ?
মেহের মুচকি হেসে বলে,
” আরে রিলাক্স মেহের। মজার ছলে বলেছি। এতটা ভয় কেনো পাচ্ছো তুমি। এই বাড়িতে বাস্তবিকভাবে আমার অধিকার থাকলেও সেটা কোনোদিন গ্রহন করব না। তোমার থেকে ভুতুরে মনে হয় না? দেয়ালে দেয়ালে কেমন অস্ত্র এইসব আর্ট করে রেখেছে। একজন সাইকোর বাড়ি নরমাল ভাবাটাও বোকামি।
মেহের আচমকা চেঁচিয়ে উঠে,

” বার বার উনাকে সাইকো, অসুস্থ কেনো বলছো? উনি অনেক ভালো।
এনি চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” কতটুকু চিনো? কতটা দৃশ্যের সাথী হয়েছো?
” অনেক গুলোর হয়েছি।
এনি ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” কখনো জ্বলন্ত কয়লার উপর দিয়ে হেটেছো? চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছো? জীবন্ত মাটির নিচে হিংস্র পশুর সাথে থেকেছো? অন্ধকারে বিকৃত খুনের দৃশ্য আর শব্দ শুনে কোনোদিন মানসিক যন্ত্রনায় ছটফট করেছো? চারদিকে রক্ত, মানুষের গলিত লাশ, বুক কাটা, কলিজা টেনে নিয়ে আসা, চোখ উঠানো, জিহ্বা বের করা আর ও বহু ভাবে বিকৃত লাশ, রক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে দেয়ালে, মেঝেতে, আবছা অন্ধকার রুমে কখনো অতীতের সামান্য কাহিনী বলতে গিয়ে মানসিক আঘাতে ছটফট করেছো?
মেহের চোখ -মুখ বিকৃত করে ফেলে,

” ছিহহ! কিসব ভয়ানক কথা বার্তা। এইসবের সম্মুখীন কেনো হতে যাব?
” হবেও না কোনোদিন। কারন তোমাকে বাঁচাতে তোমার ভাই আছে। তোমার ভবিষ্যত লাইফপার্টনার আছে। দুনিয়া ধ্বংস করে হলেও তোমাকে সেই নরক থেকে ছিনিয়ে আনবে। কিন্তু এইসব সম্মুখীন যে হয়েছে তাকে কে বাঁচাবে?
” কার কাহিনী বলছো? এইসব বিকৃত কাহিনীর সাথে নিকের কি সম্পর্ক? ও নারী জাতিকে ঘৃনা করে। একমাত্র আমি ছাড়া জানামতে কোনো মেয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় না। তুমি কে আমি জানি না। এই রুমে কি করছো সেটাও জানি না। তবে এইটুকু জানি নিকের সাথে তোমার গভীর কোনো সম্পর্ক নেই। কারন সে জানে খুব ছোট থেকেই ওর ভালোবাসাতে উন্মাদ আমি। জানার পরও কোনোদিন ঠকাবে না আমাকে। উনি গ্যাংস্টার, পাপের সর্দার জেনেও ভালোবেসেছি পাগলের মত। তুমি বললে না, কয়টা খুনের সম্মুখীন হয়েছি। বাস্তবে কোনোদিন খুনের সম্মুখীন হয় নি। আমি কোনোদিন বাহিরের জগতে একা পা রাখি না। শত্রুদের কারনে চার দেয়ালের ভিতরে আমার বসবাস। তবে জানি উনি খুব খারাপভাবে খুন করে।
এনি দৃষ্টি মেঝেতে রেখে বিরবির করে বলে,

” একবার যদি নিজ দৃষ্টিতে উনার আসল রুপ দেখতে পারতে তাহলে হয়ত ভালোবাসার আগে ভয়ে ধুমড়ে -মুচড়ে যেতে। সরল হয়েও অনেক সাহসী তুমি মেহের। উনার মত এমন হার্টল্যাস জানোয়ারকে ভালোবাসার মত দুঃস্বাহস দেখিয়েছো।
মেহের কান অব্দি গেলো না কথাটা। এনি শব্দ করে বলে,
” আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য অভিনন্দন তোমাকে। যাক কোনো সাধারন মেয়েও তাহলে একটা সাইকোপ্যাথকে ভালোবাসার ক্ষমতা রাখে।
মেহের ফুঁপিয়ে উঠে,
” উনি সাইকোপ্যাথ নয়। উনাকে কেনো অসুস্থ বলছো তুমি? প্রচন্ড ভালোবাসে আমাকে। উনাকে কেউ সাইকোপ্যাথ বললে আমার সহ্য হয় না।
এনি ঠোঁট কামড়ে হাসলো। সে নিককে কত ক্যাটাগরির গালি দেয়। মেয়েটা যদি এইসব শুনে তাহলে তাকে একদম মেরেই ফেলবে। মেহেরের বাচ্চামো দেখে এনি মুচকে হাসে। মেহেরের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ তুমি জানো, তোমার মনের মত তুমিও অনেক সুন্দর।
মেহেরের কান্না বন্ধ হয়ে যায়। নাক টেনে চোখের পানি মুছে বলে,

” জানি। তানভী আপু প্রায় বলে।
এনি কপাল কুচকে বলে,
” তানভী কে?
” তানভী ” নামটা মাথায় আসতেই মেহের অস্থির হয়ে উঠে। তাকে একা নিচে রেখে এসেছে সে। এনিকে নিকের রুমে দেখে চিন্তায় এতটাই অস্থির হয়ে গিয়েছিলো যে তানভী- র কথাটা মাথায় আসে নি। কিন্তু এখন তানভী আপুকে ডাকতে গেলে গার্ড যদি আর রুমে প্রবেশ করতে না দেয়।
মেহের এনির কাছে এসে বলে,
” তানভী- হলো আমার শিক্ষিকা। উনি আমাকে পড়ান। অধিরাজ ভাইয়ার গার্লফ্রেন্ড।
এনি চোখ ছোট ছোট করে ফেলে। কেনো জানি মনে হলো মেহের সব জানে। এই মেয়ের কাছ থেকে সে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। কোনো কাহিনী জানার জন্য এনির হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠে।
ঠিক তখন এই বাহির থেকে গার্ডের গলার আওয়াজ আসে,
” মেহের ম্যাম আপনার সময় সমাপ্ত। রুম থেকে বেরিয়ে আসুন।
মেহের কিছু বলবে তার আগেই এনি উচ্চস্বরে বলে,

” মেহের এখন যাবে না। সে আরও পরে যাবে। আপনারা চুপ করে থাকুন।
গার্ডরা সবাই চুপ হয়ে যায়। কোনো শব্দ আসে না বাহির থেকে। মেহের অবাক হয়ে বলে,
” আমাকে আটকালে কেনো? নিচে তানভী আপু অপেক্ষা করছে। নিকের সম্পর্কে জানতে এসেছি।
” জানতে পেরেছো?
মেহের মন খারাপ করে বলে,
” না। কোনো সূত্র পায় নি।
” জেনে কি করবে? উনাকে দেখতে যাবে?
মেহের মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে বলে,
” হ্যা। অস্থির লাগছে ভেতরে। শান্তি পাচ্ছি না কিছুতেই।
” তোমার কেনো মনে হচ্ছে উনাকে কোনো লোক সামাজিক হসপাটালে নিয়ে যাচ্ছে?
” মানে?

” উনি একজন গ্যাংস্টার। শত্রুপক্ষের আঘাতে আহত হয়েছেন উনি। লোক সামাজিক হসপিটালে নিয়ে গেলে পুনরায় যে আক্রমনের স্বীকার হবে না তার কি গ্যারান্টি আছে। হয়ত ব্যক্তিগত কোনো ল্যাব বা চিকিৎসা কেন্দ্রে আছে। যেখানে এই মিনারের মত চার-পাশে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তাই পুরো শহর ঘুরলেও খুঁজ পাবে না। যতক্ষন উনারা খোঁজ দিবে। শান্ত হয়ে বসো তুমি। তোমার নিকের কিছু হবে না।
মেহের শান্ত চোখে চেয়ে রইলো এনির দিকে। মুচকি হেসে বলে,
” তুমি জানো তুমি আমার দেখা সব থেকে সুন্দরী মেয়ে। একবার তাকিয়ে চোখ ফিরাতে ইচ্ছে করছে না। কি সুন্দর নীল চোখ, গালে টোল, লম্বা সোনালি কেশ। খবরদার আমার নিকের থেকে দুরে থাকবে।
এনি কথাটা এড়িয়ে যায়। গম্ভীয় হয়ে বলে,

” নিক জেভরানের পরিবার নেই?
” নাহহ।
” তুমি জানো উনার পরিবার কিভাবে মারা গিয়েছে? বিশেষ করে উনার মা?
” না। এইসব কিছু আমি জানি না। অধিরাজ ভাইয়া, নিক ভাইয়ার কোনো পরিবার নেই।
” আর আরিশ?
মেহের মুচকি হেসে বলে,
” এতদিন আমি ছাড়া কেউ ছিলো না। বাট এখন আছে।
এনি সামান্য হাসার চেষ্টা করে বলে,
” মানে ঠিক বুঝলাম না।
মেহের সামনে থাকা ডিভানে গিয়ে বসে বলে,
” ভাইয়া কয়েকদিন আগে বিয়ে করেছে একজন ইরানী মেয়েকে। লাল চুল আর কি সুন্দর দেখতে। একদম ভাইয়ার সাথে মিলে গিয়েছে।
এনি বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় চট করে। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। শরীর কেঁপে উঠে তার বিদ্যুতের মত। চোখে পানি টলমল করছে। কোনোমতে শ্বাস টেনে বলে,

” ন… নাম কি মেয়ের?
এনির এমন অস্বাভাবিক আচরনে মেহের ভিড়কে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে,
” কাঁদছো কেনো? আর ইউ ওকে?
এনি চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে বলে,
” আমি ঠিক আছি। আগে মেয়েটার নাম বলো?
” নাজলী। ফুল নেইম জানি না। তবে অধিরাজ ভাইয়ার থেকে শুনেছি উনার নাম নাজলী।
” যা বলছো সব সত্যি?
” হ্যা। আমি নিজেও দেখা করে এসেছি।
এনি ধপ করে বিছানায় বসে পড়ে। ঘন ঘন শ্বাস টানছে। এমন মনে হচ্ছে যেন পুরো পৃথিবী ঘুরছে। ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে রেখে। কেমন আছিস তুই আপা! কি অবস্থায় রেখেছে তকে। কিসব শুনছি আমি? তুই একটা মাফিয়াকে বিয়ে করেছিস? কেনো করেছিস এইটা, জানতি না তর বোনকে ওরা বন্ধী করে রেখেছে। কেনো নিজেকে নরকে ঠেলে দিলি এইভাবে? আমাকে বাঁচাতে করেছিস? কিন্তু আমাকে বাঁচানোর সাথে বিয়ের কি সম্পর্ক!

কিছুক্ষন আগেই আরিশ গার্ডদের থেকে খবর পেয়েছে মেহের মিনারে এসেছে। তানভী- ও এসেছিলো। মেহের যাবে না তাই তানভী চলে গিয়েছে। আরিশের ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে। যদি কোনোভাবে জেনে যায় নিক এনিকে বিয়ে করেছে তাহলে সব শেষ! নিককে ল্যাবে রেখে কোনোরকম মিনারে প্রবেশ করে।নিজেকে পাগল-পাগল মনে হচ্ছে। হন্তদন্ত হয়ে উপরে উঠে আসে। দ্রুত দরজা খুলে দেখে মেহের ঘুমিয়ে বুদ হয়ে আছে। নিজের বোনকে সুস্থ অবস্থায় দেখে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে। সামনে এগিয়ে এসে ঠোঁট ভেজায়। এরপর ঘুমন্ত মেহেরের কপাল চুমু খেয়ে নরম গলায় বলে,

” কতদিন লুকিয়ে রাখব এইটা? নিক তর নয় বোন। নিক অন্যের নামে হালাল হয়ে গিয়েছে। আর সেই মেয়ের জন্য ও সব কিছু ধ্বংস করে দিতে পারে। তকে ও ভালোবাসে সে। তবে সেই ভালোবাসা জীবন সঙ্গী রুপে নয়। নিজের ছোট বোন হিসেবে। আমার বোন হিসেবে ভালোবাসে। তর মাথার অপারেশনটা হয়ে যাক এরপর সব সত্যি তকে বলব। তখন থাকবে না কোনো হারানোর ভয়। তার আগে সব চাদর দিয়ে ঢাকা থাকুক। সব হারিয়ে আমি নিস্ব। তকে আবার হারাতে পারব না।
আরিশ কথাগুলো বিরবির করে মেহেরর কাছ থেকে উঠে আসে। দরজা ভালোভাবে লাগিয়ে দিয়ে নিচে নেমে আসে। ডিভানে গম্ভীর হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ফেলে।মুখে গরম ধোঁয়া অনুভব করে আরিশ আচমকা চোখ খুলে ফেলে। চোখের সামনে এনিকে দেখে সাথে সাথে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। খপ করে ডিভান থেকে উঠে সটান হয়ে দাঁড়ায়। গম্ভীরতা টেনে বলে,

” এখানে কি করছো তুমি?
এনি কফিটা আরিশের সামনে নিয়ে বলে,
‘ চিনি ছাড়া। টেস্ট করে দেখতে পারেন।
আরিশ চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিয়ে বলে,
” নিজের রুমে যাও। কিছুক্ষন পর গার্ড চলে আসবে। নিজে তো ধ্বংস হবে সাথে তোমার দিকে তাকানোর অপরাধে বাকিদের ও ধ্বংস করবে।
এনি কাপটা সরিয়ে এনে বলে,
” ধ্বংসের ভয়ে তাকাচ্ছেন না আমার দিকে।
” তোমার স্বামীর আদেশ।
” হাসালেন।
” কেনো?
” এই যে, আমার স্বামী বললেন।
” বাস্তবতা বদলাতে পারবে?
” আমার জীবনে বাস্তব বলতে আদ’ও কিছু আছে। চিকন একটা সুতোর উপর দাঁড়িয়ে আছি। মুসলিম নিশ্চই আপনি?
” কি মনে হয়?

” মুসলিম হয়ে যারা অমুসলিম থাকে তাদেরকে বিধর্মী বলে। খারাপ ভাবে নিবেন না। ছোট বেলায় আমার টিচার এইটা বলত। যার কাছে আমি আরবি শিক্ষা নিয়েছি। মনে হয় না আপনদের মধ্যে আর ইমান আছে। বাকিটা উপর ওয়ালা আর আপনারা জানেন। যায় হোক, আমি পুলসিরাত শব্দটা উচ্চারন করব তাই ধর্ম টেনেছি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি সেই পুলসিরাতের ন্যায় চিকন সুতার উপর দাঁড়িয়ে আছি। সামান্য নড়লেই বিনাশ নিশ্চিত। তার পর ও দেখুন সাহস দেখিয়ে এমন ভয়ানক মিনার ঘুর ঘুর করছি।
আরিশ অন্যদিকে দৃষ্টি রেখেই বলে,

” অনেক নরম ভেবেছিলাম তোমাকে। যতটা নরম ভেবেছিলাম ততটা নরম নও তুমি। অনেকটা সাহসী।
এনি আশে -পাশে তাকিয়ে বলে,
” আমি প্রয়োজনের তাগীদে অনেকটা পরিবর্তন হতে জানি। কখনো নিশ্পাপ আবার কখনো ধ্বংসাত্বক। তবে আপনাদের মত বিশ্বাসঘাতক নয়।
” বিশ্বাসঘাতক! কি করেছি আমি?
” যখন আপনার বাড়িতে ছিলাম তখন কোনো একদিন বলেছিলেন আমাকে ইরান দিয়ে আসবেন। কিন্তু সেই কোনো একদিন আর আসলো না।
আরিশ ঘন ঘন শ্বাস টেনে বলে,
” পরিস্থিতি পুরোটাই আলাদা।
” পরিস্থিতি যেমম এই হোক। কথা দিয়ে কথা না রাখা বিশ্বাসঘাতকতা। তবে সেই সব আমি মনে রাখি না। যাদের রক্ত পর্যন্ত পাপে দূষিত হয়ে গিয়েছে তাদের কথা আর কি মনে রাখব।
আরিশ রাগ করতে গিয়েও করতে করতে পারলো না। স্বাভাবিক গলায় বলে,

” রুমে যাও।
” আশ্চর্য আপনি রাগ করলেন না? আপনার বন্ধু হলে এতক্ষন আমার উপর টর্নেডো চালিয়ে দিত। অথচ আপনি একদম শান্ত।
” তার অধিকার আছে তোমার উপর টর্নেডো চালানোর। সেজন্য সে চালায়।
এনি মুচকি হেসে বলে,
” তাহলে নিজের বউয়ের উপর দিনে ঠিক কতবার টর্নেডো চালান ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহাম।
আরিশ না চাইতে গিয়েও চট করে তাকিয়ে ফেলে। এনির নীল চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির তপ সহ্য করতে না পেরে দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে। মেহের সব বলে দিয়েছে আর বুঝতে বাকি নেই।
” সব জেনে গিয়েছো। মেহের বলেছে রাইট?
” মিথ্যে বলেছে?
” নাহহ।
” তাহলে সত্যি আমার বোনকে বিয়ে করেছেন? বিয়ের উদ্দেশ্য?
” আপাযত বলতে ইচ্ছুক নয়।
কথাটা বলে আরিশ বেরিয়ে যেতে যাচ্ছিলো। এনির কথায় আবার ও পা থেমে যায়।
” যতটুকু সম্মান আছে সেসব ও ধ্বংস হয়ে যাবে। যদি প্রশ্নটা এড়িয়ে যান।
আরিশ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সামনের দিকে। তবে ভুল করে ও এনির দিকে তাকায় না। গম্ভীরতা টেনে বলে,
” এখনও সম্মান করো?
” খুশি হওয়ার কিছু নেই। প্রশ্নের উত্তর দিন আগে।
আরিশ প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে বলে,

” তোমার বোন নাজলী বিপদে ছিলো। তোমাকে যে প্রথম পাচার কেন্দ্রে তুলেছিলো ইগর। চিনো তাকে?
— নাহ। মুখ পরিচিত বাট নাম চিনি না।
” ও একজন সব থেকে বড় কন্ট্রাক্ট কিলার। মাফিয়া আসন পেয়েছে চার বছর হবে। পাচারের সাথে সরাসরি যুক্ত সে। ওরা জেনে গিয়েছিলো নাজলী তোমার বোন। তাই তারা দুই একদিনের ভেতরে আ্যটাক করতে চেয়েছিলো। হয়ত এতদিন ভিনদেশে পাচার অথবা মেরে দিত।মিথ্যে বলব না। তোমার বোন যথেষ্ট সুন্দরী। আমি আটকাতে পারলে আটকাতে পারতাম। বাট যেখানে ইগরের দৃষ্টি পড়েছে সেখানে আটকানো সম্ভব। ও নারীদের ভোগ করে ঠিক। কিন্তু তাদের নরকের মত টর্চার করে। নারী যত চিৎকার করবে সে তত শারীরিক সুখ লাভ করে। কখনো ফিজিক্যাল এটাচের মাধমে টর্চার করে আবার কখনো অস্ত্র ধারা। এমন কোনো রেকর্ড নেই যে, তার সঙ্গে থেকে কোনো নারী বেঁচে ফিরেছে।
এনি মুখটা বিকৃত করে ফেলে।।চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। পৃথিবীতে এত নিকৃষ্ট লোক কিভাবে তৈরো হলো। এদের স্থান কোথায় হবে? নরকেও এদের ঠাই না হোক।

” এত বিকৃত মস্তিষ্কের লোক। ছিহহ!
আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
” সেই ইগর থেকে বাঁচাতেই তোমার বোনকে বাগান বাড়িতে বন্ধী করে রাখা।
” বিশ্বাস করতে বলছেন? আপনারা ও তাদের থেকে কোনো অংশে কম নয়।
” সময় হলে নিজের বোন থেকে সব জেনে নিও।আপাযত বিশ্বাস না করলেও চলবে। নিকের কথা জিজ্ঞাসা করলে না?
এনির হৃদয়টা কেঁপে উঠে। কাঁপলো কেনো তার হৃদয়? নিজেকে শক্ত করে বলে,
” জানি উনি বেঁচে আছে।
” মরে গেলে খুশি হতে?
এনি জামাটা শক্ত করে চেপে ধরে,
” মৃত্যু কামনা করার আমি কে? দোয়া করি সুস্থ ভাবে ফিরে আসুক। পাপ মোচন না করে উনার মরন না হোক।
আরিশ হেসে বলে,
” এই সামান্য গুলি তার জন্য কিছুই নয়। কত-শত গুলি খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলো। চিকিৎসা করায় নি। মেডিসিন নেয় নি। তবে আজ সামান্য জোর না করেও নিজ সেচ্ছায় গিয়েছে। বেপোরোয়া, ছন্নছাড়া, হার্টল্যাস মাফিয়া এই প্রথম নিজ ইচ্ছেতে চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়েছে। তার পিছনে শুধু একটাই কারন তার কিছু হয়ে গেলে তার ব্যক্তিগত রমনীকে কে আগলে রাখবে। কি আশ্চর্য, গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান ও আজ তাহলে কারোর প্রেমে উন্মাদ।
এনি হেসে বলে,

” দোয়া করি ওদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক। আপনার বোনের জন্য শুভকামনা। তবে অনেক সরল সে।
আরিশ অস্থির হয়ে তাকায় এনির দিকে। আরিশের অস্থিরতা দেখে এনি সামান্য এগিয়ে আসে,
” জানি আমি সব।
” কোথা থেকে জেনেছো?
” চিত্রা,মাসি বলেছিলো। দেখার ইচ্ছে ছিলো আপনার বোনকে। কে সেই রমণী যে এমন সাইকোপ্যাথকে পাগলের মত ভালোবাসে।
আরিশ নিশ্বাস টেনে বলে,
” আমার বোনের ভালোবাসা হেরে গিয়েছে অনেক আগেই। ওর মাথায় একটা সমস্যা আছে। ড. বলেছে অতিরিক্ত প্রেসার নিলে সে মারা যেতে পারে। প্রাপ্ত বয়স হলে অপারেশন করাতে। তখন বিপদ মুক্ত হওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা দেওয়া হয়েছে। নিককে ছোট থেকে সে ভালোবাসে। প্রথম প্রথম মজা হিসেবে নিতাম। এরপর দিন-দিন ওর পাগলামি বেড়ে যেতে থাকে। আর সেই পাগলামীর রুপ নেয় এক তীব্র আসক্তি। এখন চব্বিশ ঘন্টা তার মস্তিষ্কে একটা নাম উচ্চারিত হয়, নিক। চাইলেও কিছু বলতে পারছি না। শুধু একটা ভয় যদি কিছু হয়ে যায়। না বলার জন্য ধন্যবাদ।

” পাগলামীটা সত্যি করুন। যখন ভালোবাসে তখন পূর্নতা দিন।
আরিশ হেসে বলে,
” নিক তোমাকে ভালোবাসে।
এনি বিরক্ত হলো কথাটায়। চোখ -মুখ কুচকে বলে,
” আবার ও হাসালেন। ভালোবাসার মত পবিত্র সম্পর্ক নিয়ে মজা নিবেন না।
” মজা নিচ্ছি কেনো মনে হলো?
” আপনার ধারনা ভুল। উনি আমাকে ভালোবাসে না। আমি উনার একটা তীব্র জেদ। অস্বাস্থ্যকর আসক্তি আমি। পৃথিবীর কোন প্রেমিক পুরুষকে দেখেছেন নিজের প্রেমিকাকে কষ্ট দিতে। নির্যাতন করতে, বাজে ভাষা প্রয়োগ করতে? উনি আমার পুরো জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। কারাদন্ড আসামীর মত চার দেয়ালের ভেতরে বন্ধী করে রেখেছে।
আরিশ শব্দ করে হেসে বলে,

” সে এমন এই। বেপোরোয়া, ছন্নছাড়া। হার্ট বলতে কিছুই নেই। একদম যান্ত্রিক সব। কারোর জন্য মায়া-মমতা বলতে কিছুই নেই। সারাজীবন তাকে তোমার সহ্য করতে হবে। একবার ভালোবাসার চাদর বিছিয়ে দাও গড প্রমিস রানীর হালে রাখবে। আর বললে না তুমি একটা জেদ। কতজন প্রেমিক পুরষ নিজের প্রেমিকাকে হারানোর ভয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কতজন প্রেমিক পুরুষের তীব্র যন্ত্রনায় নাক দিয়ে ব্লিডিং হয়। কতজন নিজের প্রেমিকাকে বাঁচাতে সবাইকে শত্রুতে পরিনত করে। একের -পর এক লড়াই করে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়,, রক্তাক্ত হয়। সর্বশেষ হসপিটালের বেডে পর্যন্ত যায়। রুমে যাও। সিসিক্যামেরা চেক করে যদি দেখে তুমি এতক্ষন লিভিং রুমে ছিলে তাহলে নিক রেগে যাবে।
এনি স্তব্দ হয়ে যায়। নিশ্বাস টেনে বলে,
” উনি এতটা খারাপ কিভাবে হয়েছেন? এতটা নৃশ্যংস কেনো উনি? অতীত কি উনার? উনার ম-কে এতটা ঘৃনা করেন কেনো?
” সেটা তোমার না জানলেও চলবে।
এনি ছটফট করে উঠে,
” প্লিজ ভাইয়া। শেষ বারের মত আবদার আর আরজি জানাচ্ছি। বলুন উনি উনার মা-কে কেনো খুন করেছিলো। এতটা তীব্র অনিহা কেনো নারীদের উপর।
আরিশ কপাল কুচকে বলে,

” নিক নিজের মা-কে খুন করেছে কিভাবে জানলে?
” উনি প্রায় সময় একটা বাক্য উচ্চারন করে। নিজের জন্মদাত্রীর গলা কাটতে হাত কাঁপে নি তখন তকে বাঁচতে দিব ভাবলি কিভাবে। প্রায় সময় রেগে গেলে এই কথাটা বলে।
আরিশ ডিভানে বসে বলে,
” সহ্য করতে পারবে? প্রতিটা কাহিনী জেনে যদি আবার ভেঙ্গে পড়ো।
এনি সামান্য হেসে বলে,
” সরাসরি ভোক্তভোগী হয়েছি বহুবার। অন্যের কাহিনী শুনে ভেঙ্গে পড়ব ভাবলেন কিভাবে।
আরিশ চোখ বন্ধ করে বলতে শুরু করে,

” অক্টোবর মাস। সামনেই শীতের মৌসুম। একটা ছোটখাটো পরিবার। প্রেমের বিয়ে ছিলো এই দম্পত্তির। মহিলাটা ছিলো বাংলাদেশের সিলেটের। নাম শাইনা মজুমদার। আর পুরুষটা ছিলো আমেরিকান। নাম এভোকা। বাংলাদেশে ব্যবসায়ীক কাজে গিয়েছিলেন। সিলেটের সাজেক পর্যটন করতে গিয়ে বাঙ্গালী মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় আমেরিকান এভোকা। মেয়েটা মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। দব-দবে ফর্সা। যে কেউ দেখলে বলবে বিদেশী রাজকন্যা। কোনো একভাবে তাদের মধ্যে প্রেম হয়। প্রেম গভীর থেকে আরও গভীর হয়। এক পর্যায়ে এভোকা শাইনাকে বিয়ে করার প্রস্তাব রাখেন। দেশের খ্যাতিমান বিজন্যাসমেন তার মেয়েকে চাচ্ছে ভেবে শাইনার বাবা রাজি হয়ে যায়। অনেক ধুম -ধাম করে বিয়ে হয় তাদের। খুব আনন্দে ছিলো সবাই। বিয়ের এক মাসের মধ্যে এভোকা শাইনাকে নিয়ে আমেরিকায় ফিরে আসে। শাইনার থেকে মোটা-মোটি বাঙ্গালি ভাষা শিখতে থাকে। মধ্যবিত্ত জীবন ছেড়ে বিলাসবহুল জীবনে তার জীবন ভালোই কাটছিলো। একদিন এভোকা অফিসে ছিলো। হঠাৎ শাইনা মাথা ঘুরে পড়ে যায়।

সকাল থেকে তীব্র বমির কারনে একদম নেতিয়ে পড় মেয়েটা। বাড়ির সমস্ত সটাফ মিলে সেবা -যত্ন করতে থাকে। স্ত্রীর অসুস্থতার সংবাদ শুনে সব কাজ ফেলে দ্রুত ড. নিয়ে বাড়িতে ফরে। চিকিৎসা করে জানতে পারে শাইনা প্রেগন্যান্ট। সেদিন এভোকার পাগলামি হয়ত পুরো আমেরিকা দেখেছে। রাস্তাঘাটের সব অসহায়দের খাইয়েছে। অফিসের সবাইকে মিষ্টি খাইছে। এত ভালোবাসা, এত উল্লাস সব মিলিয়ে ভালো যাচ্ছিলো জীবন। শাইনা ও একদম স্বামী ভক্ত ছিলো। একদিন এভোকা নিজের বৃদ্ধি বাবা- মাকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। এতে শাইনাও খুশি হয়ে অনেক। প্রেগন্যান্সির নয় মাসের সময় শাইনা এভোকাকে বলে, সে মডেলিং করতে চায়। এভোকা আপত্তি জানায়। অনেক রাগ ও দেখায়। এই প্রথম তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় অনেকটা। সেই ঝগড়া আর মনমালিন্যের মধ্যেই একটা পুত্র সন্তান জন্ম দেন তারা। আবার ও হাসি – খুশি হয়ে উঠে। ছেলের নাম রাখা হয় ” নিক জেভরান” এই নাম তার বাবা ভালোবেসে রেখেছে। একদিন শাইনা ছেলেকে নিয়ে লিভিং রুমে খেলছিলো। এমন সময় একজন ডেলিভারি ম্যান এসে কিছু দিয়ে যায়। জায়গার এড্রেস আর ও কিছু গিফ্ট।

শাইনা নিককে কোলে নিয়ে উপরে চলে যায়। এভোকা সারাদিনে অফিস শেষে স্ত্রী সন্তানের কাছে আসে। কিন্তু শাইনা আবার ও মডেলিং এর কথা তুলে। এই নিয়ে প্রচুর তর্ক হয় তাদের মধ্যে। এক পর্যায়ে এভোকা রাগ সামলাতে না পেরে নিজের প্রান প্রিয় স্ত্রীকে থাপ্পর দিয়ে বসে। এতে সে অনেক অনুতপ্ত প্রকাশ করে কিন্তু শাইনা কোনো কথা বলে না। পরের দিন এভোকাকে না বলে, নিককে মেইডের কাছে দিয়ে চলে যায় ঠিকানার কাছে। যেটা কাল তাকে একজন ডেলিভারি ম্যান দিয়ে গিয়েছে। সেখানে গিয়ে সে দুইজন পুরুষের সাথে কথা বলে। তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে হয়ত কারোর জানা নেই।

সেদিন থেকে শুরু হতে থাকে শাইনার পরিবর্তন। ঘন ঘন বাহিরে যাওয়া, নিক, এভোকার প্রতি অনিহা সবটাই যেন রুটিন হয়ে দাড়িয়েছে।এভোকা বুঝেও চুপ হয়ে থাকত। একবার থাপ্পর দেওয়াতেই সে প্রচুর অনুতপ্ত। স্ত্রীর খুশীতে আর কিছু বলে না। এইভাবে চলতে থাকে দুই বছর। শাইনা একদম চেইঞ্জ। এভোকা প্রথম প্রথম প্রতিবাদ করলেও এখন কিছু বলে না। ড্রেস -আপ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। গ্রামের সেই সহজ-সরল শাইনা এখন আর নেই। ভিবিন্ন ডিরেক্টর দের সাথে এখন তার উঠাবসা। একটা সিনেমার কাজ চলছে। এতে এভোকা আপত্তি জানালে শাইনা ডিভোর্স চেয়ে বসে। এভোকার মনে হয়েছিলো কেউ তার কলিজায় সূচ ডুকিয়ে দিয়েছে। এত ভালোবাসার স্ত্রীর মুখে এমন বাক্য শুনে প্রচুর কেঁদেছিলো। নিক শুধু তাকিয়ে থাকত। বাবা- মায়ের ঝগড়া ডেব -ডেব করে দেখত। বাচ্চা ছেলেটা কিছুই বুঝত না। এমন -মনমালিন্যের মধ্যেই শুনতে পাওয়া যায় শাইনা আবার ও প্রেগন্যেন্ট। সে কিছুতেই এই বাচ্চা রখবে না। বাচ্চাটা রাখলে তার মডেলিং এ সমস্যা হবে। এভোকা পায়ে পর্যন্ত ধরেছে বচ্চাটা রাখার জন্য। নিকের বয়স তখন চার বছর। শাইনা অলরেডি একটা মুভি করেছে। তবে সেটা তেমন হিট হয় নি। থ্রিলার মুভি ছিলো। এইভাবেই তাদের ঘর আলো করে একটা কন্যা সন্তান আসে। যার নাম রাখা হয় নিকি এভোরা। এভোকা নামটা রেখেছে। ছোট্ট নিকিকে দেখে যেন শাইনার আনন্দ নেই। তীব্র অনীহা বাচ্চাটার প্রতি। আর নিক বোন বলতে পাগল ছিলো। ওর বোন ওর কাছে সব ছিলো। নিকির কিছু হলে নিক প্রথম আর্তনাদ করে উঠত। ছোট্ট নিকি ভাইয়ের হাত ধরে বড় হতে থাকে। খিলখিলিয়ে হেসে উঠে নিকের সাথে।

নিক একবার স্কুলে চলে যায়। এভোকার বাবা-মা রুমে ঘুমাচ্ছিলো। শাইনা নিকিকে নিয়ে বাহিরে বেরিয়ে যায়। দুইজন পুরুষে সাথে সামান্য তর্ক হয়। এতটাই ব্যস্ত ছিলো যে চার-পাশের খেয়াল নেই। ছোট্ট নিকি কোথায় হারিয়ে গেলো সেটাও দেখল না।।মডেলিং এর নেশা এতটাই তীব্র যে মেয়ের খবর নেই। অনেক্ষন যাবৎ নিকির শব্দ না পেয়ে তাকিয়ে দেখে নিকি নেই। সেদিন অবশ্য শাইনা প্রচুর কান্না করেছিলো। যতই হোক জন্মদাত্রী মা ছিলনে। এভোকা সহ সবাই ভেঙ্গে পড়ে। সেদিন থেকে নিক শাইনাকে সহ্য করতে পারত না। তার ধারনা তার বোনকে তার মা মেরেছে। পাঁচ বছরের নিক প্রায় শুনত নিকিকে তার মা পছন্দ করে না। নিক বোন হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। হসপিটালে ভর্তি করানো হয় তাকে। সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্ত সেদিনের পর থেকে নিক শাইনাকে আর মা বলে ডাকে না। তার সমস্ত আবদার বাবা, দাদা-দাদির কাছে। সপ্নে ডুবে থাকা শাইনা ছেলেকে খেয়াল করার ও সুযোগ নেই। নিকের বয়স তখন সাত। একদিন নিক তীব্র জ্বরের ঘোরে মা -মা করছিলো। রাত প্রায় দশটার দিকে। এভোকা ছেলের কান্ডে ভয় পেয়ে যায়। এত তীব্র জ্বর যেন প্রানটা বেরিয়ে যাচ্ছিলো। সেদিন শাইনার উপর প্রচুর রেগে যায় এভোকা। আর ভালোবাসা নয়। সমস্ত কিছুর ইতি টানবে সে আজ।

রাতের অন্ধকারে মায়ের কাছে নিককে রেখে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়। খোঁজ নিতে নিতে শাইনার স্টোডিও পর্যন্ত পৌঁছায়। ভিতরে প্রবেশ করে শাইনার খোঁজ চালায় সে। খোঁজ করতে করতে একটা রুমে গিয়ে প্রবেশ করে। বিছানার উপর দুইজন নগ্ন -নর -নারীকে দেখে স্তব্দ হয়ে যায়। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। নিজের স্ত্রীকে পর- পুরুষের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে লিপ্ত হতে দেখে মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে যায়। শাইনা এভোকাকে দেখে ঘাবড়ে যায়। কোনোমতে কাপড় ঠিক করে কিছু বলতে যাচ্ছিলো। কিন্তু এভোকার ধৈর্য শেষ হয়ে যায় সেদিন। নিজের মেয়ের মুখটা ভেসে উঠে।পাঁচটা থাপ্পর দিয়ে গলা চেপে ধরে মেরেই ফেলছিলো প্রায়। কিন্তু কেনো জানি মারতে পারলো না। ধ্বাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে স্টোডিও থেকে বেরিয়ে আসে। আজ তার অস্তিত্ব শূন্য হয়ে গিয়েছে। বুকটা চেপে ধরছে বার -বার। হয়ত তীব্র ব্যাথায় অসহ্য হয়ে উঠছে। রুমে ডুকে ডায়েরি খুলে সব -টা কষ্ট লিখে। এরপর ছেলের কপালে চুমু খেয়ে বলে,

” পাপা আমার। কাউকে মাত্রাধিক ভালোবাসতে নেই। ভালোবাসার মাত্রা তীব্র হলে বিনাশ নিশ্চিত।
নিকের জ্বর তখন কমে এসেছে। বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে,
” তুমি কাঁদছো কেনো পাপা? কি হয়েছে তোমার?
এভোকা ঘন ঘন শ্বাস টেনে বলে,
” নিজের দাদা-দাদীর খেয়াল রেখো বাবা। আর কোনোদিন কোনো নারীকে তীব্রভাবে ভালোবাসবে না।
এই কয়েকটা লাইন ছিলো এভোকার শেষ কথা। স্ত্রীর এতবড় ধোঁকা সহ্য করতে না পেরে স্ট্রোক করে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেন। তবে সব সম্পত্তি অনেক আগেই নিকের নামে করে দিয়েছে। নিক আবার ও বাবাকে হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। যে সময় -নিজের মাকে সব থেকে বেশি প্রয়োজন সে সময়টা মা রং -তামাসায় ব্যস্ত। এইভাবেই কাটতে থাকে জীবনে। শীত কাল চলে আসে। বাহিরে বরফে ঢেকে যায়। নিকের বয়স তখন দশ বছর। শাইনা নিকের কাছে আসলেও নিক সরে যায়। নিজের দাদা-দাদীকে নিয়ে সময় কাটতে থাকে। একদিন নিক এভোকার বাবা- মার সাথে গল্প করছিলো। ঠিক তখন এই শুনা যায় শাইনার রুম থেকে হাসি -তামাসার শব্দ। সে একা নয়। তার সাথে একজন পুরুষও আছে। নিক বার তাকাচ্ছিলো।

এভোকার বাবা সহ্য করতে না পেরে শাইনাকে সাবধান করতে যায়। কিন্তু শাইনার প্রেমিক তাকে বাজে ব্যবহার করে রুম থেকে ধ্বাক্কা মেরে বের করে দেয়। নিক হাত মুষ্টি করে ফেলে। দশ বছর বয়সী নিকের রক্ত তখন টগবগিয়ে উঠে। রক্ত লাল চোখে নিজের জন্মদাত্রীর দিকে তাকায়। যে পুরোটাই অনাচারে ডুবে গিয়েছে। এভোকার বাবা পুনরায় দরজা ধ্বাক্কায়। এখন সাথে তার মাও ছিলো। তারা কোনোভাবেই চান -না বাড়িতে কোনো নোংরামি হোক। এইবার হয়ত তারা কোনো অন্তরঙ্গ কাজ করছিলো। নিজেদের কাজে বাঁধা পাওয়ার জন্য প্রচন্ড রেগে যায়। শাইনার প্রেমিক এভোকার বাবা-মাকে জোর করে বাহিরে পাঠিয়ে দেয়। তীব্র বরফের মধ্যে এই রাতের অন্ধকারে বাহিরে বের করে দরজা লাগিয়ে দেয়। নিজের দাদা-দাদীকে যাতে রুমে নিয়ে আসে প্রচুর কান্না করছিলো। শাইনা রেগে নিককে ও আঘাত করে। এরপর একটা রুমে বন্ধী করে রাখে।

পরের দিন খবর আসে তার দাদা-দাদী আর বেঁচে নেই। পর পর নিজের সবাইকে হারিয়ে নিক যেন সেদিন ক্ষেপাঁ বাঘে পরিনত হয়েছে। হিংস্র হায়েনার মত চোখ দুইটা লাল হয়ে গিয়েছিলো। দশ বছরের নিক অনেকটাই বড় ছিলো। দাদা-দাদী মৃত্যুর দুই দিন কেটে যায়। নিক একদম শান্ত। কিছু একটা বার বার বির বির করতে থাকে। পুরো রাত সজাগ থেকে ছুঁড়ি দাড়াতে থাকে। আশ্চর্যজনকভাবে সেদিন তার পাপার চিঠিটাও পেয়েছে। এভোকার প্রতিটা কষ্টের কাহিনী লিখা। কিভাবে পদে পদে শাইনা ধোঁকা দিয়েছে। নিক তীব্র রাগে নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন শুনা যায় শাইনার প্রেমিক আর তার জন্মদাত্রীর গলা। নিক তাদের জন্য জুস নিয়ে যায় ঘুমের মেডিসিন মিশিয়ে। শাইনার প্রেমিকার সাথে প্রচুর অমায়িক আচরন করে। নিক রুম থেকে বেরিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দেয়। বিশ মিনিট পর সে পুনরায় শাইনার রুমের সামনে আসে। তবে এখন ও খালি হাতে আসে নি। হাতে চা*-* আর ধারালো ছুঁড়ি। দশ বছরের নিকের চোখে সেদিন কেউ থাকালে হয়ত ভষ্ণ হয়ে যেত।
রুমের ভেতর ডুকে নিক শাইনার কানে কানে বলে,

” পৃথিবীর সবাই এতিম থাকুক তবুও তোমার মত মা কারোর না হোক। পৃথিবীর সমস্ত মায়ের গর্ভ খালি থাকুক। তবুও আমার মত হতভাগা সন্তান যাতে কারোর গর্ভ থেকে না হয়।
নিক থেমে যায়। গলার কাছে ছুঁড়িটা দিয়ে স্লাইড করতে করতে বলে,
” মা সেই যে যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে ও নিজের সন্তানের জন্য চিন্তা করে। কিন্তু আমার মা-তো নিজের সন্তানকে বলি দিতেও পিছনে ফিরে তাকায় নি। আমাকে কেনো বাঁচিয়ে রেখেছো? সম্পত্তির জন্য।
নিক কথাটা বলেই ধাঁরালো ছুঁড়িটা গলা বরাবর বসিয়ে দেয়। সামান্য ঝঁকুনি দিয়ে চোখ খুলে ফেলে শাইনা। কন্তু কথা বলার মত অবস্থায় নেই। কথা বের হচ্ছে না গলা দিয়ে। কারন কন্ঠনালী কাটা হয়ে গিয়েছে। শুধু গেরগের শব্দ হচ্ছিলো। শাইনা হাত-পাও নাড়াতে পারছে না।।শক্তভাবে বেঁধে রেখেছে তার শরীর। নিক শাইনার দিকে ঝুঁকে পড়ে। শান্ত গলায় বলে,
” নিজের ছেলেকে দেখে নাও। বলোতো প্রথম কেনো গলাটা কেটেছি? যতই হোক সন্তান তো আমি। মায়ের আর্তনাদ কিভাবে সহ্য করি। কিন্তু তুমি আমার মা নও। পৃথিবীর সব থেকে দুর্ভগাগা আমি। তোমার মত এক নারীর গর্ভ থেকে আমার জন্ম হয়েছে।
শাইনার চোখ খুলে রাখা। হয়ত বুঝার চেষ্টা করছে সব কিছু। নিক চা**** পেটের ভেতর ডুকিয়ে বলে,

” এই আঘাতটা আমার বাবার মৃত্যুর বদলা। তাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য। তার চোখ থেকে পড়া প্রতি ফুটা অশ্রুর জন্য।তোমার মত স্ত্রী যাতে কারোর না হোক।
পুনরায় আঘাত করে পেটের মধ্যে। বিরবির করে বলে,
” এই আঘাতটা আমার দাদা-দাদীকে কষ্ট দিয়ে মারার জন্য।
পর পর দুইবার ছুঁড়ি ডুকিয়ে বলে,
” এই আঘাতটা আমার বোন কে হারিয়ে ফেলার জন্য।আমাকে মাতৃ স্নেহ থেকে বঞ্চিত করার জন্য। যখন ভালোবাসবে না তখন জন্ম কেনো দিয়েছিলে?
নিক চিৎকার দিয়ে উঠে,

” কেনো দশমাস পেটে রেখে জন্ম দিলে? কেনো নিজের দুগ্ধ পান করিয়ে বড় করলে? আর কেনোইবা পদে পদে কষ্ট দিয়ে আজ আমাকে অমানুষ হতে বাধ্য করলে?
শাইনা তীব্র যন্ত্রনা নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। নিক থেমে যায়। জানা নেই তার মায়ের লাশের সাথে কি করেছে। পাওয়া যায় নি কোনো খবর। তবে শাইনার প্রেমিককে কেটে টুকরো টুকরো করেছিলো। এরপর মাংস সিদ্ধ করে রাস্তার কুকুরদের খাইয়েছিলো।
আরিশ থামে…..

” আমেরিকার পুলিশ নিককে তন্ন-তন্ন হয়ে খুঁজেছে। সামান্য সূত্র ও খুজে পায় নি। কোথায় ছিলো? কিভাবে ছিলো। আজ অন্তত এইসব স্কিপ করি।কারন এইসব শুনলে এক সাথে নিতে পারবে না। বিগত পনেরো বছর পর নিক জেভরান এই সাধারন নামটা পুরো দেশের আতঙ্ক হয়ে দাড়ায়। আফ্রিকার গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান। নিক সব কিছু পরিবর্তন করলেও নিজের নাম পরিবর্তন করে নি। কারন এই নামটা তার বাবার ভালোবাসা। বর্তমানে একজন গ্যাংস্টারের নাম। তথাকথিত একজন হার্টল্যাস মাফিয়া বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী। যার বাহ্যিক রুপটাই সবাই দেখলো। বাট আফসোস কেউ ভেতরের সত্তাকে দেখলো না। সমস্ত কিছু তোমার হাতে এনি। একজন নারী’ই পারে একজন পুরুষকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে যেতে, আবার একজন নারী’ই পারে জীবনটাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে দিতে। সব তোমার হাতে। তুমিই জানো তোমাদের ভবিষ্যত কি হবে? মিল নাকি ভয়ংকর বিচ্ছেদ!

আরিশ এক নাগারে কথাগুলো বলে সামনে তাকায়। এরপর বড় বড় পা ফেলে মিনার থেকে বেরিয়ে যায়। এনি স্তব্দ হয়ে আছে। কি বলে গেলো এইসব! এমন মনে হচ্ছে পুরো কাহিনী চোখের সামনে ভাসছে। নিজেই ট্রমার মধ্যে চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।।এর অতীত তো আমার থেকেও ভয়ানক। পুরো শরীর শিরশির করছে। স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মাথা ব্যাথা করছে প্রচন্ড। পানি খাওয়া প্রয়োজন এই মুহূর্তে। আতঙ্কে গলা শুকিয়ে আসছে। হঠাৎ কারোর পায়ের শব্দে দাঁড়িয়ে যায়। ভয়ে শরীরে কাটা দিয়ে উঠে। পায়ের নিচে শিরশির করে উঠে। আবছা আলোতে ঢাকা পুরোটা মিনার। মনে হচ্ছে কেউ একজন তার দিকে তাকিয়ে আছে। একটা ছায়া তাকে অপলকভাবে দেখছে। তার শরীরের প্রতিটা ভাঁজ নিঁখুতভাবে পর্যবেক্ষন করছে। এমন অনুভব তার সেদিন হয়েছিলো যেদিন সে রান্না করেছিলো। তবে জ্বরের কারনে এতটা খেয়াল করে নি। তবে আজ সে পুরো-পুরিভাবে সুস্থ।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৩

প্রতিটা পদক্ষেপ এনি অনুভব করতে পারছে। এনি কিচেন থেকে বেরিয়ে আসে। বিরাট বড় ড্রয়িং রুমে সে একা দাঁড়িয়ে। দেয়ালে কত কিছু ভয়ানকভাবে আর্ট করা। কালো আর লালের মিশ্রন দেয়ালগুলো কেমন ছমছমে হয়ে উঠে। আকস্মিক একটা ঠান্ডা স্পর্শে তার জামা ভেদ করে কোমড় ছুঁয়ে যায়। ব্যাপারটা এত দ্রুত হয়েছে যে এনি চোখের পলক ও ফেলতে পারে নি। ভয়ে কাটা দিয়ে উঠে শরীর। কারোর অবয়ব তার বুঝতে বাকি নেই। কারন অবয়বটা একদম তার পিঠ ঘেষে গিয়েছে। এনি ভয়ে এখান থেকে নড়তেও ভুলে গিয়েছে। মুখ চেপে ধরে মনের অজান্তেই বিরবির করে উঠে,
” এত বড় বাড়িতে আমাকে একা রেখে চলে যেতে বুক কাঁপলো না আপনার!

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪ (২)