Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ২০

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২০

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২০
তানিয়া হুসাইন

আকাশ যেন গভীর অন্ধকারে আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। চারদিকে শুধু বাতাসের গর্জন আর জেটের ইঞ্জিনের গম্ভীর শব্দ।
প্রাইভেট জেটটা আস্তে আস্তে থামে।
চোখ ধাঁধানো আলোয় চারপাশ ভরে ওঠে মুহূর্তে।
কয়েক সেকেন্ডের নিস্তব্ধতা ভেঙে,
___তার সাদা শার্ট আর কোট বাতাসে নড়ছে।
চোখে নিখুঁত শীতলতা। তিন মাসের ক্লান্তি, রক্তাক্ত লড়াই আর অবিরাম মনস্তাপে ভরা এক যুদ্ধশেষের ছায়া তার চেহারায় স্পষ্ট।
কিন্তু এই তিন মাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল মন ও মস্তিষ্কের ভেতর।
যেখানে প্রতিটি রাত, প্রতিটি নিঃশ্বাসে একটাই নাম বারবার ফিরে এসেছে তার মস্তিষ্কে।
একদন্ড ও শান্তি পায় নি সে।

___প্রতিটা সময় আলো আঁধারির খেলায়, তার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে সেই মুখ।
নরম চুলের সুবাস, ভীত চোখের ভাষা, সেই অনুনয় মাখানো দৃষ্টি,
ভীরের ভেতরটা ছিন্নভিন্ন
করে দিয়েছে।
আজও, বিজয়ের আনন্দে নয়, তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা তাড়া ওই মেয়েকে দেখার, তাকে ছুঁয়ার,
ভীর নেমে আসে জেট থেকে। তার পেছনে একে একে নামে বাকিরা,
ডিয়েগো, সান্তিয়াগো,নিকো, ম্যাটিয়াস আর বাকিরা।
সবাই নীরব, সতর্ক।
তাদের চোখেমুখে শ্রদ্ধা আর সজাগ উপস্থিতি।
এখন থেকে আবার ভীরের দুনিয়া চলবে, তার আদেশে, তার ইশারায়।

প্রাসাদ।
ভীরের ব্যক্তিগত দুর্গ।
রাতের বাতাসে মার্বেলের মেঝে ঠাণ্ডা হয়ে উঠেছে, প্রাসাদের চারপাশে নিরাপত্তার পাহারা যেন দ্বিগুণ কড়া।
___ভীরের অনুপস্থিতিতে ভীর এবার সব গার্ড বাড়িয়ে দিয়েছে,
সবাই ইতিমধ্যে খবর পেয়েছে
‘মাফিয়া বস’ ফিরে এসেছেন।
একটা অদৃশ্য আতঙ্ক আর সম্মান মিশ্র একটা শিহরণ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে।
সবাই তাকে স্বাগতম করতে দাঁড়িয়ে।
কিন্তু এই বিশাল ভীড়ে, এই উৎসাহের মাঝেও,
একমাত্র ইশায়া জানেনা, আজ সে ফিরেছে।
____ভীর ধীর পায়ে এগিয়ে চলে সামনে,
করিডোর পেরিয়ে, সিঁড়ি, গাঢ় নীল কার্পেটের ওপর দিয়ে হাঁটছে সে।
তার প্রতিটা চলায় কঠিন সংযম, যেন দৌড়ে যেতে চায়, ছুটে গিয়ে নিজের চোখে দেখতে চায় সেই মেয়েকে। কিন্তু নিজের ভেতরের আগুন চাপা দিয়ে সে এগোচ্ছে নিঃশব্দে।

___ভীরের রুম।
নরম আলোয় উজ্জ্বল।
দরজাটা গার্ড খুলে রেখেছে।
ভীর কোনো শব্দ না করে রুমে প্রবেশ করে।
রুমের মধ্যে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একদম নিখুঁতভাবে সাজানো।
আধুনিক আর মেক্সিকান ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি সেই রাজকীয় কক্ষে, ভীরের গম্ভীর উপস্থিতিতে বাতাস পর্যন্ত যেন থমকে গেছে।
সে রুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে।
চোখ বন্ধ করে এক মুহূর্তের জন্য গভীরভাবে নিশ্বাস নেয়।
শরীরের প্রত্যেকটা রক্তকণিকা যেন ইশায়ার স্পর্শ খুঁজছে।
তারপর চোখ খুলে, ঠান্ডা অথচ পোড়ানো দৃষ্টিতে তাকায় সামনে,
একে একে ঘড়ের প্রতিটা কোনায় দৃষ্টি বোলায়।
তার চোখ স্ক্যান করে পুরো রুম,
কিন্তু কোথাও ইশায়ার ছায়াও নেই।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার কপালে গভীর ভাঁজ পড়ে।
চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে।

—ইশায়াকে চোখের সামনে না পাওয়াই তার রাগের কারন।
এই মেয়েকে দেখার জন্য সে কতটা ছটফট করছে সেটা শুধু সে-ই জানে।
কপালের রগগুলো রাগে দপদপ করতে শুরু করে যেন। যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটবে।
তার বুকের ভেতর একটা দাবানল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
___গর্জে উঠলো ভীর।
কঠিন, হুংকারের মতো গলায় চিৎকার করে গার্ডদের ডাকল,
Where the hell is everyone?
___শুধু চিৎকারেই নয়,
তার কণ্ঠের প্রতিটা কম্পন থেকে ভয় ছড়িয়ে পড়লো বাতাসে।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, সবাই ছুটে আসে,
মহিলা গার্ডরা, সান্তিয়াগো,
একেকজন এমনভাবে দাঁড়িয়ে, যেন মৃত্যুদণ্ডের মুখে এসে পড়েছে।
ভয়ের আতঙ্কে সবার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।
___ভীরের রক্ত আগুন।
চোখ লাল হয়ে গেছে।
রাগে পুরো শরীর যেন কাঁপছে তার।
ভীর ধমকে ওঠে,
Where is She?
Why the f*ck isn’t she in my room.

একজন মৃদু চেহারার মহিলা গার্ড,
কাপতে কাপতে এগিয়ে আসে।
ভয়ে তার কণ্ঠ জড়োসড়ো।
মাথা নিচু করে ফিসফিসিয়ে বলে,
___বস,ম্যাম এই রুমে থাকেন না,
ম্যাম..
____ভীরের চোখ মুহূর্তেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করে।
তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট না করে সরাসরি গুলি ছোড়ে
লারার বাম পায়ের দিকে গুলি লাগে।
সে কঁকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
সঙ্গে সঙ্গে অন্যরা আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে, পিছু হটে দেয়ালে ঠেকে যায়।
কেউ দম নিতেও সাহস পায় না।

___ভীর এবার ভয়ংকর গর্জনে চেঁচিয়ে উঠে বলে,
তার তো এখানে থাকার কথা ছিল, তাই না?!
তাহলে কোথায় সে,
কেন নেই এখানে?
কি বলে গিয়েছিলাম আমি?
তার গলা এত রুক্ষ, এত জ্বলন্ত যে মনে হচ্ছে চারপাশের দেয়াল পর্যন্ত কাঁপছে।
____মারিয়া এলেনা এগিয়ে আসে।
ভয়ে, সাবধানে, সে ভীরের সামনে আসে।
তার কণ্ঠ নরম, শান্ত করার চেষ্টা করছে সে ভীরকে,
—Boss.
Please calm down. Let me explain.
তারপর সে দ্রুত ভীরকে জানায়,
কিভাবে ক্যাটালিনা কিছু দিন আগে ইশায়াকে এইখান থেকে স্থানান্তর করেছে।
কি কি হয়েছিলো সব কিছু ভীরকে জানায় মারিয়া এলেনা।

ভীরের মুখভঙ্গি আরও কঠিন হয়ে যায়।
চোখ দুটো রক্তবর্ণ।
নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছে।
সে থমথমে গলায় বলে,
___ডাকো তাকে,
এই মূহুর্তে আমার সামনে হাজির করো,
Right now.
_____ভীর রাগে নিচে নেমে আসে।
প্রাসাদের মূল হলরুম কাঁপিয়ে চিৎকার করে ওঠে,
ক্যাটালিনা,ক্যাটালিনা??
তার গলা এত গম্ভীর ও ভয়ংকর যে পুরো প্রাসাদ থমকে যায়।
____এদিকে ক্যাটালিনার
ওই চিৎকার শুনেই, ক্যাটালিনার গার্ড এলিসা ছুটে গিয়ে খবর দেয় তাকে,
___সব কিছু শুনে ভয়ে ক্যাটালিনার গলা শুকিয়ে আসে।
সে দ্রুত ওঠে দাঁড়ায়, নরম পায়ে নিচে নামতে শুরু করে।
প্রতিটা সিঁড়ির ধাপ তার কাছে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার মতো মনে হচ্ছে।
____ড্রয়িংরুমের নিস্তব্ধতা ছিন্ন করে ভীর ক্যাটালিনার দিকে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে বলে,
___কোন সাহসে আপনি আমার বিষয়ে নাক গলান,
এত স্পর্ধা কই থেকে পেয়েছেন।
আমার বাড়িতে আমার ঘড় থেকে কাউকে বের করে দেওয়ার আপনি কে।

__ভুলে যাচ্ছেন নাকি আপনাকে আমি আশ্রয় দিয়েছি বলে আপনি এখানে থাকতে পারছেন।
___ভীর,
গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে লিনা।
ভুলে যেওনা আমি তোমার না।
____ভীর আবারো চিল্লিয়ে বলে উঠে,
আপনি আমার বাবার সেকেন্ড ওয়াইফ,
__ এর বাইরে আপনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
আপনাদেরকে দয়া করে আমি এই বাড়িতে জায়গা দিয়েছি।
এজন্য দেখি মাথায় উঠে গেছেন।
___নেক্সট টাইম এরকম কিছু হলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেব,
মনে রাখবেন কথাটা
___ভীর!.
বাইরের রাস্তার একটা মেয়ের জন্য তুমি আমার সাথে এই ব্যবহার করছো।
ইশায়ার সম্পর্কে এসব কথা যেন ভীরের রাগের মাত্রা আরো বাড়ছে।
____চুপ,
একদম চুপ!
আর একবার এরকম কোন কথা শুনলে তোমার শেষ দেখে ছাড়বো আমি, ক্যাটালিনা!

____ক্যাটালিনা ভয় পেয়ে কেঁপে উঠলেও ঠোঁট শক্ত করে বলে,
তোমার বাবা যেমন তোমার মাকে রক্ষিতা বানিয়ে রেখেছিল,
তুমিও কি সেই পথেই চলেছো?
এই মেয়েকেও কি তোমার মায়ের মতো,
কথা শেষ করতে পারেনা লিনা তার আগেই ভীর একটা গ্লাস তুলে ছুড়ে মারে,
ঠিক ক্যাটালিনার মাথার পাশে গিয়ে আছড়ে পড়ে গ্লাসটা,
লিনা আহহহ করে উঠে ব্যথায়,গলগলিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে,
ইসাবেলা দৌড়ে যায় তার মায়ের কাছে।
____ভীর সামনে এসে দাঁড়ায়, চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে, শিরা ফুলে ওঠেছে।
রাগে রি রি করে বলে,
আমার মায়ের নাম মুখে আনলে জিভ টেনে ছিড়ে ফেলবো।
ভুলে যাবো সব সম্পর্ক,
কে*টে টুকরো টুকরো করে কুকুরকে খাওয়াবো।
___আর এই মেয়ে যাকে বলছেন,
সে কোনো রাস্তার মেয়ে না। তাকে আমি বিয়ে করেছি! হ্যাঁ, বিয়ে করেছি!
রাজভীর আলভারেযের ঘরে ঢোকার সাধ্য আজ পর্যন্ত কারোর হয়নি। ওর আছে,
এজন্য-ই সে আমার ঘড়ে ছিলো।
কারণ ও আমার ওয়াইফ।

____ড্রয়িংরুমে যেন বোমা পড়লো।
ক্যাটালিনা, নিকো, এমনকি ইসাবেলাও হা করে তাকিয়ে আছে।
____ক্যাটালিনার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে । সে তো প্ল্যান করেছিলো নিজের ভাইয়ের মেয়েকে ভীরের সাথে বিয়ে দিয়ে সমস্ত ক্ষমতা নিজের হাতে নেবে।
কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো।
____ভীর ডিয়েগোকে ইশারা করে সেদিনের ইশায়ার সাইন করা কাগজটা আনতে।
যেটা ইশায়া কে যে দিন কিডন্যাপ করেছিল ওই দিনই ইশায়াকে দিয়ে সাইন করিয়ে ছিলো।
ওটা ছিলো রেজেস্ট্রি পেপার।
ডিয়েগো সামনে এগিয়ে এসে একটা মোটা খামে ভরা কাগজ বের করলো,
রেজিস্ট্রির কাগজ।
ডিয়েগো সেটা ক্যাটালিনার সামনে রাখলো।
সবাই তাকিয়ে দেখে,
সেখানে স্পষ্ট করে ইশায়া রহমানের নাম লেখা।
স্বাক্ষর করা রাজভীর আলভারেযের স্ত্রী হিসাবে।
____ক্যাটালিনা হতবাক!
নিকো এখনো বিশ্বাস করতে পারছেনা।

___ক্যাটালিনা নিজেকে সামলে নিয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে,
একটা কাগজে সাইন করাকে বিয়ে বলে না।
বিয়ের অনেক রীতিনীতি আছে
ওই মেয়ের সম্মতি ছিল না বিয়েতে । জোর করে সাইন করিয়েছো! একজন মুসলিম মেয়ে যে নামাজ, রোজা, কোরআন নিয়ে থাকে, সে তোমাকে এভাবে মেনে নেবে?
ও তোমাকে কোনদিন ও মেনে নিবেনা।এসব ছেলেখেলা বাদ দাও।
ওকে ওর বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করো।
একটা অসহায় অবলা মেয়ের জীবন এভাবে নষ্ট করো না ভীর।
দিন দিন নর*পশুতে রূপান্তরিত হচ্ছ তুমি।

___ভীর দাঁত কিটমিট করে হেসে ওঠে,
একটা ভয়ানক ঠাণ্ডা হাসি, যেটা শুনে শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়।
__আমি কারো সম্মতির অপেক্ষা করি না, ক্যাটালিনা।
রাজভীর আলভারেয যা চায়, তা ছিনিয়ে নেয়।
সেটা যেভাবেই হোক না কেনো,
যে জিনিস এ আমার চোখ পড়েছে সেটা আমার।
আর বাকি বিয়ের যা রীতি বাকী আছে, সেটা আজই শেষ করবো। আজ রাতে। এখনি।
___ভীর রাগে ফেটে পড়ছে।
সে ডিয়েগোকে আদেশ দেয় সব ব্যবস্থা করো। এক ঘন্টার মধ্যে কাজী এখানে চাই আমার।
____ডিয়েগো কোনো প্রশ্ন না করে বেরিয়ে যায়।
রাত তখন গভীর। মেক্সিকোর নিশুতি রাত যেন থমথম করছে, আকাশে বিজলির রেখা ঝলসে যাচ্ছে।
____ভীর নিজের সিংহাসনের মতো চেয়ারটিতে বসে পড়ে, চোখে ভয়াবহ এক দৃঢ়তা।
ক্যাটালিনা দূর থেকে ভয়ের চোখে দেখছে তাকে। সে কখনো ভেবেও দেখে নি যে রাজভীর এতটা ভয়ঙ্কর আচরণ করতে পারে তার সাথে।

___নিকোও হতভম্ব, কিন্তু সে জানে আজ ভীরের বিরুদ্ধে কথা বলার মানে নিজের কবর খোঁড়া।
তাই সে কেবল নীরবে মাথা নিচু করে সব মেনে নেয়।
আর ভীরের খুশিতেই সে খুশি,এখন যাই করুক না কেনো।
__কিন্তু ভীরকে এই মেয়ের অতি দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না।
তাদের এই রাজ্যে দুর্বলতা চলে না।
সব সময় সাহসিকতার সাথে চলতে হয়।
ভীরের মতো করে চলতে হয়।
আর ভীর-ই তাদের পথপ্রদর্শক।
ভীর বদলে গেলে চলবেনা।।
___কিন্তু ভীরের খুশির জন্য নিকো সব কিছু করতে পারবে।
নিজের জীবনটাও হাসিমুখে দিয়ে দিতে পারবে।

ইশায়ার কাছে খবর গেছে ভীরের আসার।
ইশায়া ভীরের আগমনের খবর পেয়ে কাঁপতে কাঁপতে বিছানার কোণে সেঁটে আছে।
তার গলা শুকিয়ে কাঠ, হাত-পা কাঁপছে তার।
মনে হয়ে যাচ্ছে সেদিনকের ঘটনা,
এখন কি হবে তার,কিভাবে বাঁচাবে নিজেকে।
____হঠাৎ তার দরজা খোলার আওয়াজ হয়,
ইশায়ার আত্মা কেঁপে ওঠে ভয়ে,
___ভিতরে ঢুকে এলো নিকো।
___ইশায়া আরও বেশি ভয় পেয়ে যায় নিকোকে দেখে।
সাফার কথা মনে পড়ে যায় তার।
___নিকো মিষ্টি হেসে বলে,
হেইইইই লিটল প্রিন্সেস,
কেমন আছো তুমি?
___ইশায়া নিজেকে আরো গুটিয়ে নেয়।
___আরে আমি তোমাকে ভয় দেখাতে আসিনি। একটু গল্প করতে এসেছি মাত্র।
বলে নিকো ইশায়ার পাশে বসে।
____ইশায়ার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়,
তার মাথায় অদ্ভুত সব চিন্তা আসছে,
দাঁড়িয়ে যায় সে,

___নিকো একটা ট্যাব ইশায়ার দিকে এগিয়ে ধরে বলে,
দেখো, তোমার বড় ভাইয়ের ফুটফুটে ছেলে।
সদ্য হয়েছে,
কি সুন্দর দেখতে।
____ইশায়া কাঁপা হাতে ট্যাব নেয়।
স্পর্শ করে ছবিতে,
ফুটফুটে একটা নবজাতক শিশু, চোখে নিষ্পাপ হাসি।
____হঠাৎ নিকো হেসে বলে,
সুন্দর না?
আমি ভাবছি ওকে তোমার বোনের কাছে পাঠিয়ে দিব,
তোমার বোনের হয়তোবা খুব লোনলি ফিল হচ্ছে,
একা একা কি আর ভালো লাগে বলো,
বাচ্চাটাকে ওর কাছে পাঠিয়ে দিলে ভালো হবে না?

___ইশায়া আঁতকে ওঠে নিকোর কথা শুনে।
ইশায়ার হাত থেকে ট্যাব পড়ে যায়।
তার চোখ ভয় আর শোকে টলমল করছে।
___কাঁপা কাঁপা গলায় কিছু বলতে যাবে,
____নিকো নিষ্ঠুর হাসি দিয়ে বলে,
কি হলো? ভয় পেয়েছো? চিন্তা করো না, যদি তুমি ভদ্রভাবে আমার কথা শোনো, বাচ্চাটা ঠিক থাকবে।
কিচ্ছু করবো না আমি ওর।
তোমার ফ্যামিলি ও ভালো থাকবে।
___ইশায়া বাকরুদ্ধ তার গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছেনা।
আবার কি কথা তাকে মানতে হবে।
তার সাথে কি আরও নির্মম কিছু হতে চলেছে।

___ইশায়াকে জব্দ করতে।
নিকো ফোন লাগায় ডিয়েগোর ঠিক করা কাজের লোককে,
যার কোলে জায়ান ছিল।
ট্যাবে স্পষ্ট সব দেখা যাচ্ছে।
___মেয়েটি এদিক সেদিক তাকিয়ে ফোন রিসিভ করে।
___হ্যালো স্যার।
___নিকো ফোনটা লাউডস্পিকারে দেয়।
___ইশায়া ট্যাবের দিকে তাকিয়ে আছে।
____শোনো, তুমি একটা কাজ করবা,
এই বাচ্চাটা…
____ইশায়া কাঁদতে কাঁদতে নিকোর পায়ে পড়ে যায়।
প্লিজ! প্লিজ! একটা নিষ্পাপ শিশুর ক্ষতি করবেন না! যা বলবেন করবো,
প্লিজ।

___যা বলবেন আমি ঠিক তাই করবো,
কোন নড়চড় হবে না কথার,
দয়া করুন! প্লিজ, দয়া করুন! এরকম করবেন না, একটা মায়ের কোল খালি করবেন না।
____নিকো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
ঠিক আছে। করবো না। কিন্তু তোমাকে এখনই একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তুমি ভীরকে বিয়ে করবে। এখানে কোনো না বলার সুযোগ নেই।
___যদি না বলো তাহলে, আমার একটা ফোন কল আর তোমার ভাইয়ের ছেলে খতম।
____ইশায়ার মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে।
সে কিছুই শুনতে পাচ্ছে না স্পষ্টভাবে।
শুধু বুঝতে পারছে নিজের ইজ্জত, জীবন সবকিছু আজ হারানোর পথে।
___ইশায়াকে চুপ থাকতে দেখে নিকো ফোন হাতে নেয় আবার,
___ইশায়া কান্নাভেজা গলায় বলে,
আমি রাজি।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৯

____নিকো মুচকি হাসে।
Good girl.
__নিকো মারিয়া এলেনাকে ইশারা করে।
ওকে রেডি করো।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২১