সে আমার বন্দিনী পর্ব ২২
তানিয়া হুসাইন
মারিয়া এলেনা তার বসকে সন্তুষ্ট করার জন্য,
ইশায়াকে পরিয়ে দিয়েছে লাল রঙের এক অপূর্ব শাড়ি।
শাড়িটা এত নরম আর দামী ছিল যে, তার প্রতিটা ভাঁজ থেকে সূক্ষ্ম রেশমের আলো ঠিকরে পড়ছিল।
ব্লাউজ ছিল গভীর নেক ডিজাইন করা, সামনে-পেছনে সূক্ষ্ম কাটা।
পাতলা সোনালি জরির কাজ করা।
ইশায়ার সাদা মসৃণ ত্বকের উপর লাল শাড়ি যেন আগুনের মত জ্বলছিল।
___মারিয়া এলেনা বুঝেছিল একটা বাঙালি নারীকে সবথেকে বেশি সুন্দর শাড়িতেই লাগবে এজন্যই তার এই আয়োজন।
ইশায়াকে শাড়ি পড়িয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দেন তিনি।
___ইশায়ার লম্বা, ঘন, রেশমি কালো চুল এলিয়ে পড়েছে কমোর জুড়ে।
ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক, চোখে হালকা স্মোকি আইশ্যডো,
এই মুহূর্তে ইশায়াকে দেখে মনে হচ্ছিল, এক অপরূপ সৌন্দর্য এ ঘেরা রাণী,
অসহায়, অথচ লজ্জায় ভয়ে মোড়া এক সৌন্দর্য।
মারিয়া ইশায়াকে ফুলে সাজানো বিছানার মাঝখানে বসিয়ে দেয়।
ইশায়া যেন একটা জীবন্ত পুতুল।
চোখ দুটো মাটির দিকে,শরীরে টান,
একেবারে কাটপুতুলের মতো বসে আছে, ভয়ে শিউরে উঠছে বারংবার।
এদিকে ভীর উঠে দাঁড়ায়।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে
গ্লাসটা ধীরে রেখে দিল টেবিলের ওপর।
মাথাটা বিগড়ে আছে তার,
তার চোখ এখন আগুনের মতো জ্বলছে।
ইশায়ার এই ভয় ভয় মুখশ্রী তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
কানে বাজছে তখন কার বলা ওই তিনটা শব্দ।
আজকের রাত,আজকের রাত সে নিজেকে আর আটকে রাখবে না।
তিন মাস ধরে তার ভেতরে জমে থাকা আগুন এখন সব ভেঙে ফেলবে।
ভীরের রুমের উদ্দেশ্যে হাটা ধরে,
____একজন গার্ড এসে ভীরের আগমনী বার্তা জানালো,
সব মহিলা গার্ড দ্রুত রুম ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
রুমের ভেতর কেবল টিমটিম করে জ্বলতে থাকা মোমের আলো, সুগন্ধী ফুলের ঘ্রাণ আর ধুকধুক করতে থাকা নিঃশব্দ অপেক্ষা।
____ইশায়া অনুভব করে তার শরীর কাঁপছে।
অসম্ভবভাবে কাঁপছে, গলা শুকিয়ে আসছে ভয়ে।
বাতাসটাও ভারী হয়ে গেছে।
তার দুই হাত শক্ত করে শাড়ির আচল চেপে ধরে আছে।
ভয় যেন ঘিরে ধরেছে তাকে, বুকের ভেতর ধড়ফড় করছে, দম বন্ধ হয়ে আসছে।
সে জানে আজ কি হতে চলেছে,
ওই দিনের সব কিছু চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
কিন্তু কিভাবে প্রতিরোধ করবে সে।
সে যে সাফার মতো সাহসী না।
কিন্তু আমি কিছু করতে গেলে যদি ভাইয়ার সন্তানকে মেরে ফেলে,
___না!
কি করবো আমি,
তার চোখ ছলছল করছে, কিন্তু কান্না করতে পারছে না।
____দরজা ধীরে খুলে যায়।
ভীর ঢুকল।
ঢুকার সাথে সাথেই আবার দরজাটা বন্ধ হয়ে যায় শব্দ করে।
সে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রয়,
তার চোখ দুটো যেন ছুরি হয়ে বিঁধছিল।
তার শরীর জুড়ে এক হিংস্র শিকারির ছায়া, যেন এই মুহূর্তে কিছু ছিঁড়ে ফেলবে।
এক পা, দুই পা, ধীরে ধীরে সামনের এগিয়ে আসে,
তার ভারী বুটের শব্দ ইশায়ার ভয় আরো বারাচ্ছিলো,
____মোমবাতির নরম আলোয়
ভীরের শরীরের প্রতিটি রগ টানটান।
তার চোখে ক্রোধ আর অধিকারবোধের ঝড়।
ভীর কাছে এসে দাঁড়ায়,
তার চোখ জ্বলছে, ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরা, নাকের পাতলা রেখা ফুঁসে উঠছে।
ঘরের চারপাশের আলো যেন আরও দমকা হয়ে উঠলো।
___তার দৃষ্টির সামনে ইশায়া,
লাল শাড়িতে বসে থাকা একটা অসহায়, ভীত, অপূর্ব সুন্দরী রমণী।
ভীরের বুকের ভেতর একটা গর্জন উঠল, কিন্তু মুখে কিছু বলল না।
সে শুধু ধীরে ধীরে, আগ্রাসী ভঙ্গিতে, ঠিক একটা হিংস্র পশুর মতো ইশায়ার দিকে এগিয়ে যায়।
পুরো ঘর জুড়ে ছড়িয়ে আছে গাঢ় লাল রঙের ফুলের পাপড়ি। ছোট ছোট মোমবাতি,
তাদের কম্পমান আলো এক অদ্ভুত রহস্য তৈরি করেছে ঘরের প্রতিটি কোণে। বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাদা গোলাপ আর লাল চন্দনের সুবাস। যেন এ ঘর একসাথে প্রেম আর ভয়ের মিলনমঞ্চ।
ইশায়া বসে আছে বিছানার মাঝে।
লাল শাড়িতে মোড়া, চোখে ভয়, শরীরে কাঁপুনি। গা জুড়ে মানসিক ক্লান্তি, মুখে নিস্তেজ ত্রাস। মাথায় নরম দুপাট্টা,
চোখে ঘোর, চুল এলোমেলো, হালকা খোলা সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট। চোখ যেন আগুনে জ্বলছে,
তিন মাসের পুঞ্জিভূত ক্ষুধা আর অধিকারবোধ তার বুকের গভীরে লেপ্টে আছে।
ভীর বিছানায় হাটু গেড়ে বসে,
___তার চোখ পড়ে ইশায়ার দিকে,
সেই লাল শাড়ি, কাঁধ উন্মুক্ত, ঠোঁট কাঁপছে,
ভীর থমকে যায়।
চোখের চাহনি আরও গাঢ় হয়ে ওঠে
ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে সে,
ইশায়া সরে যেতে চায়, নিজেকে গুটিয়ে নেয়। কিন্তু বিছানার প্রান্তে সে বন্দি।
____ভীর হাত বাড়ায়,
তার আঙুল ইশায়ার গাল ছুঁয়ে যায়,
ঠান্ডা, ভারী এক ছোঁয়া।
____ইশায়া শিউরে ওঠে।
ভীরের চোখে ঘোর,
তার দৃষ্টি এলোমেলো,
ভীর মাথার দুপাট্টা খুলে ছুঁড়ে ফেলে।
সামনের চুল সরিয়ে ধীরে ধীরে কাঁধ স্পর্শ করে। কাঁধের হালকা তিলে চোখ আটকে যায় তার।
চোখে এক অসুস্থ মোহ,
___তিনটা মাস,
তোমাকে দেখার জন্য আমার ভিতরটা ছটফট করেছে,
তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্য, ছুঁয়ে দেখার বারংবার ইচ্ছা হয়েছে।
অস্ফুটে বলে ভীর।
___ইশায়া চোখ মুখ খিচে বসে আছে,
এই লোকের স্পর্শে তার দম বন্ধ হয়ে আসছে।।
___ভীরের হাত ইশায়ার ঠোঁটের তিল ছুঁয়ে যায়,
ভীর কাছে আসাতেই মদের গন্ধে ইশায়ার গা গুলিয়ে ওঠে।
সে পেছাতে চায়, কিন্তু ভীর শক্ত হাতে আঁকড়ে ধরে।
দূরে যেতে দেয় না।
___ভীর এবার আর নিজেকে সামলাতে পারে না।
তার ঠোঁট ধীরে ধীরে চেপে ধরব ইশায়ার মুখে।
কপালে, গালে চোখে নাকে ঠোঁট বোলায়,
ইশায়ার ঠোঁটের উপরের তিলে ঠোঁট ছোয়ায় গভীর ভাবে,
প্রথমে নরম, তারপরে কামড়ে ভরা গভীর চুম্বন,
___ইশায়া দম বন্ধ করে রাখে। নিজেকে সরাতে চায় কিন্তু পারে না।
ভীর মুখ সরিয়ে আস্তে আঙুল দিয়ে ইশায়ার ঠোঁটের উপরের জায়গা মুছে দেয়,।
শক্ত গলায় বলে,
__Don’t ever try to escape again.
ভীর উঠে শার্টের বোতাম খুলে একটানে ছুঁড়ে ফেলে দেয় মেঝেতে।
ইশায়া ভয়ে কেঁপে ওঠে,
বিছানার একদিকে পেছাতে শুরু করে,
কিন্তু ভীর হঠাৎ তাকে টেনে নেয় নিজের দিকে।
ইশায়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পরপর উঠে আসে উপরে,
ভীরের বক্ষতলে পিষ্ঠ হয় সে,
___Please.
কাঁপা গলায় বলে ওঠে ইশায়া।
আতঙ্কে তার মুড়ছা যাওয়ার অবস্থা।
___ভীর নিচু গলায় ফিসফিসিয়ে বলে,
Don’t.
don’t stop me tonight,
or you’ll regret like last time.
তার কণ্ঠে শীতল হুমকি, চোখে আগুনের ফুলকি।
বলতে বলতেই ভীর ইশায়ার ঠোঁটযুগল আকড়ে ধরে।
ঠোঁটের ছোয়ায় পাগল করে তোলে তাকে,
দাঁতের ঘর্ষণে ব্যাথায় ইশায়ার চোখ ছাপিয়ে জল গড়িয়ে পরে।
ঠোঁটে ঠোঁট রেখেই ইশায়ার শাড়ির আচল নামিয়ে দেয় কাঁধ থেকে ভীর।
মাথা ওঠায়,
চোখে পাগল কড়া নেশা,
ইশায়ার বন্ধ চোখের দিকে একপলক তাকিয়ে মুখ ডুবিয়ে দেয় গলার ভাঁজে,
ইশায়ার পুরো কায়া কেপে ওঠে,
___ভীর কামড় বসিয়ে দেয় গলার ভাজে থাকা তিলের উপর।
___আহহহহ!
অস্ফুটে আওয়াজ বেরিয়ে আসে ইশায়ার মুখ থেকে।
ইশায়া ব্যথায় কেঁপে ওঠে।
ভীর পিছন থেকে ব্লাউজের ফিতা খুলতেই ইশায়া ছটফট করে ওঠে ।
সে আর নিতে পারছেনা,
এই ছোঁয়া, এই দৃষ্টি তাকে কষ্ট দিচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে আসছে।
___ইশায়ার বার বার নড়া চড়ায় ভীর বিরক্ত হচ্ছে।
মেজাজ হারাচ্ছে আবার ও।
____কিন্তু ইশায়ার থামার নাম নেই সর্বশক্তি দিয়ে ছোটার চেষ্টা করছে।
____ভীর থমকে যায়।
রাগে কাপতে থাকে।
Enough!
ফোঁস করে ওঠে সে।
তারপর হাতরিয়ে দুপাট্টা টা হাতে নেয়,
ওটা দিয়ে ইশায়ার হাত দুটো টেনে মাথার ওপরে বেঁধে ফেলে।
এরপর,
নিরবতা, আর গভীর ঘূর্ণিপাক
ঘর জুড়ে শুধু মোমের আলো আর ইশায়ার কান্নার গুঙানি।
ভীর তাকে সম্পূর্ণ নিজের করে নেয়, শরীরের প্রতিটি ভাঁজে নিজের ছাপ রেখে যায়।
এই ভালবাসা নয় এ এক অদ্ভুত মালিকানা।
এক সময় ইশায়া আর কষ্ট সইতে পারে না তার চোখে অন্ধকার নামে, সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
ভীরের হয়তো সেদিকে ধ্যান নেই।
____
সকালটা ছিল নিস্তব্ধ, অস্বাভাবিক রকমের নীরব। আলো আসার কথা থাকলেও ভারী পর্দা যেন দিনকেও রাত বানিয়ে রেখেছে।
ধীরে ধীরে ইশায়ার চোখে আলো এসে পড়ে। কপালের উপরে ঝুলে থাকা চুলে হালকা ঘাম, চোখে অবসন্নতা।
কিন্তু শরীরটা যেন কেউ চেপে ধরে রেখেছে।
চোখ মেলে নিজের পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করে, কিন্তু বোঝা মুহূর্তেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ওঠে তার।
___ভীর তার বুকের মাঝে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে আছে,গভীর, শান্ত অথচ এক অবর্ণনীয় দখলদারি ভঙ্গিতে।
তার এক হাত ছড়িয়ে আছে ইশায়ার কোমরের ওপরে, অন্য হাতে শক্তভাবে তাকে নিজের দিকে টেনে রেখেছে।
ইশায়া অনুভব করে শরীর ভারী হয়ে আছে, যেন হাড়ে হাড়ে ব্যথা জমা।
___তাকে কোন রকমে সরিয়ে,
শরীরের চাঁদর পেচিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায় ইশায়া,
পা কাঁপছে তার, হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। কোমরের নিচ থেকে ব্যথার ঢেউ উঠছে সারা শরীরে।
ওয়াশরুমে যায় ফ্রেশ হওয়ার জন্য।
ভেতরটা তার দুমড়ে মুছড়ে গেছে।
ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই চোখে পড়ে,
ঘাড়, কাঁধ, বাহু, বুক, পেটে রক্ত জমাট হয়ে আছে,
কামড়ের দাগ, নীলচে ছাপ স্পষ্ট করে বলে দেয়, গত রাতটা কতটা বেদনার আর যন্ত্রনার ছিল।
__চোখে পানি চলে আসে ইশায়ার, দম আটকে আসে এমন দৃশ্য দেখে।
লজ্জা নয়, নিজের প্রতি ঘৃণা কাজ কর
নিজেকে বড্ড একা লাগছে তার,নিঃসঙ্গ,নিঃস্ব,কেউ নেই তার।
শাওয়ার ছেড়ে ঠান্ডা পানি শরীরে পড়তেই একটা দীর্ঘ শ্বাস পড়ে।
সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন শরীর নয়, আত্মা ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করছে।
অশ্রু আর পানির মাঝে পার্থক্য করা যায় না তখন।
ভেজা চুল কপাল বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঘন্টা খানেক পানিতে ভিজে শরীর থেকে ওই স্পর্শ গুলো মুছার চেষ্টা করে।
___শাওয়ার শেষে একটা গাঢ় নেভি ব্লু গাউন পরে,
তার স্নিগ্ধতা যেন অসহায়তায় আরও বেশি করুণ হয়ে উঠেছে।
চোখ লাল, ঠোঁট ফুলে ওঠা, মুখটা কাঁদা কাঁদা, অথচ সেই ভেজা চুল আর গাউন যেন তাকে স্বপ্নের মতো এক বিষণ্ণ সৌন্দর্য দিয়েছে।
____বেরিয়ে এসে সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে থাকে।
হঠাৎ পানির ছিটা বিছানায় গিয়ে পড়ে।
ঘুমের মাঝে থাকা ভীর একটু নড়ে ওঠে।
চোখ কুঁচকে যায়, কপালে ভাজ পড়ে।
কাঁচা ঘুম ভাঙায় বিরক্ত হয়,
____ভীর চোখ মেলে তাকায়,
ঘুম ঘুম চোখে প্রথমেই সে যা দেখে, সেটা তার মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়।
তার কপালের ভাজ ধীরে ধীরে মুছে যায়।
____সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইশায়া, ভেজা চুল, গাউন পড়ে, নিঃশব্দে চুল মুছছে।
এমন একটা দৃশ্য যেটা সে হাজার রাত্রি পরে ও মনে রাখতে চাইবে।
___ভীর গভীর স্বরে বলে উঠে,
Come here.
___ইশায়া চমকে পেছন ফিরে তাকায়।
দেখে ভীর উঠে পড়েছে, তাকিয়ে আছে সরাসরি তার দিকে।
— এদিকে এসো,
ভীর আবারো বলে, এবার একটু নরম কিন্তু অধিকারী গলায়।
___ইশায়া দ্বিধা নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
ভীর তাকিয়ে থাকে একটানা, তার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন নিজের জেতা জিনিসকে ফের নিজের করে নেওয়ার আকুতি।
একদম কাছে আসতেই, হঠাৎ করে হ্যাচকা টানে ইশায়াকে বিছানায় নিজের উপর ফেলে নেয় সে।
ভেজা চুলগুলো মুখের সামনে থেকে সরিয়ে ঠোঁটে শব্দ করে চুমু খায়,
তারপর হাস্কি স্বরে বলে,
— আমার ঘুম ভাঙার আগে কখনো বিছানা ছাড়বে না।
আমি ঘুম থেকে উঠার পর উঠবে,
আমি যেনো ঘুম থেকে উঠে তোমাকে এভাবেই আমার বুকে পাই।
___ইশায়া কিছু বলে না। মুখ নিচু করে রাখে, ঠোঁটের কাটা জায়গাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভীর তার ঠোঁটে আঙুল বুলিয়ে দিয়ে বলে,
— আমি কি বলেছি, শুনেছো?
ইশায়া কাঁপা কণ্ঠে শুধু বলে,
— হুম।
ভীর ইশায়ার দাগ হওয়া জায়গা গুলোয় হাত বুলায়।
ভীর ইশায়ার আরো গা ঘেঁষে আসে, কম্ফোর্টারের ভিতরে ইশায়াকে টেনে নেয় নিজের বুকের সঙ্গে।
তারপর তাকে একেবারে জড়িয়ে ধরে, ঠিক সাপ যেমন তার শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে,
তবে সেটা রাগে না, এক ধরনের আবেশী, একচেটিয়া ভালোবাসায়।
___ইশায়ার অস্বস্তি লাগে
তবুও কিছু বলতে পারে না।
কারণ সে জানে, এই মানুষটা শুধু তার দেহ না, তার আত্মা পর্যন্ত বন্দী করে ফেলেছে।
______সায়মা বেগম আজ খুশি।
তার বোন আসবে আজ রাহিকে নিয়ে।
ওকে দিয়ে যাবে তার কাছে।
এতদিনে হয়তো তার কষ্টটা একটু লাঘব হবে এই আশায় আছে সে।
সকাল থেকেই রান্নাবান্নায় ব্যস্ত।
___আদনান সাহেব এই আশায় আছেন তার স্ত্রী হয়তো এখন একটু স্বাভাবিক হবে।
আবির ও মায়ের খুশি দেখে আর কোন আপত্তি করেনি।
___আদ্রিয়ানের এসব ব্যাপারে কোন হেলদোল নেই।
সে এখন কারোর কোন ব্যাপারেই নাক গলায় না।
অফিসে-ই পড়ে থাকে সারাদিন কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখে।
দিন দিন তার শরীরটা ও ভেঙে আসছে।
সাফার স্মৃতিগুলো তাকে যন্ত্রনা দেয় খুব,
কিন্তু আস্তে আস্তে সে না থাকার বিষয়টা তার অভ্যাস হয়ে গেছে।
এখন মানতে শিখে গেছে যে সাফা আর নেই, আর কখনো আসবে না।
সেই থেকেই নিজেকে এরকম কঠোর মানব বানিয়ে রেখেছে।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ২১
___বোনকে ও মনে পরে তার খুব।
এমন না যে সে বোনের জন্য কষ্ট পায় না, কিন্তু বাকিদের মতো আর মুখ ফুটে বলতে পারে না। কারণ তার হারাবার পাল্লাটা যে ভারী সে যে একসাথে দুইজনকে হারিয়েছে।
