Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৬

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৬

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৬
লিজা মনি

অন্ধকার রাতটি যেন বিভীষিকার এক দীর্ঘশ্বাসে মোড়া ভয়ংকর অধ্যায়।যেখানে আলোহীন আকাশের ভারী নীরবতা প্রকৃতির প্রতিটি অণুতে আতঙ্কের স্থায়ী ছাপ এঁকে দিয়েছিল। ঘন কালো মেঘের স্তরে চাঁদ ও তারার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়ে আকাশকে পরিণত করেছিল এক নিষ্ঠুর অন্ধকার গহ্বরে। যার গভীরতা মাপার সাধ্য মানুষের চোখ কিংবা কল্পনার ছিল না। বাতাস ছিল অস্থির ও শীতল। তার প্রতিটি প্রবাহে যেন অদৃশ্য কোনো অশুভ ইঙ্গিত লুকিয়ে ছিল। যা গাছের শাখা-প্রশাখাকে কাঁপিয়ে তুলে এক করুণ ও বিকৃত শব্দের জন্ম দিচ্ছিল।
চারপাশের নিস্তব্ধতা ছিল অস্বাভাবিকভাবে ভারী।সেই নীরবতা এতটাই তীক্ষ্ণ যে মনে হচ্ছিল যে সামান্য শব্দও এই অন্ধকারকে ক্রুদ্ধ করে তুলবে। দূরের অস্পষ্ট আওয়াজগুলো স্পষ্ট না হয়েও ভয়ের জন্ম দিচ্ছিল।কারণ সেগুলো বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা মুছে দিয়ে অজানা আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছিল। অন্ধকার এখানে কেবল আলোহীনতা নয় বরং এক জীবন্ত উপস্থিতি। যা নিঃশব্দে চারদিক ঘিরে ধরে মানুষের মনকে শ্বাসরুদ্ধ করে রাখে। এই রাতে সময় যেন স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে ধীর ও ভারী হয়ে পড়েছিল। আর প্রতিটি মুহূর্ত দীর্ঘতর হয়ে আতঙ্কের কঠিন শিকড়ে পরিণত হয়েছিল।

এনি ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলছে। নিক কোনো এক কাজে একটুর জন্য বাহিরে বের হয়েছিলো। এইটাই যেন ছিলো এনির জন্য সব থেকে বড় সুযোগ। খুঁজতে থাকে এক অমুল্য জিনিস। শক্ত কাচ দিয়ে ঢেকে থাকা অন্ধকার রাজ্যে ডুকার চাবি। কাবার্ড থেকে শুরু করে সব জায়গায় এনি খুঁজলো চাবি জাতীয় কিছু। কাবার্ড থেকে শুরু করে প্রতিটা ড্রয়ারে অভিযান চালালো। কিন্তু হয়রান এনি কোথাও চাবির সূত্র পেলো না। ক্ষোভে চুল টেনে ধরে নিজের। কিছু একটা ভেবে সেই জায়গায় আবারও দৌঁড়ে যায়। কাচের প্রতিটা জায়গায় জায়গায় চোখ রাখে। চাবি দিয়ে খুলার জন্য এমন কোনো জায়গায় নেই। আর বোকা এনি নাকি এতক্ষণ ধরে চাবি খুঁজে যাচ্ছিলো। বিরক্তি আর রাগে এনির ইচ্ছে করছিলো নিজের চুলগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলতে।

এত অস্থিরতা লাগছে যেন কেউ মাংশ কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়ো লাগিয়ে দিচ্ছে। এতটা যন্ত্রনা মনে হয় সে পাচার কেন্দ্রে প্রবেশ করেও পায় নি। কি আছে এই কাচের ওপাশের জগতে? মেয়েটাই বা কেমন আছে? সত্যি কি মেরে ফেলেছে নাকি এখনও জীবিত! মেয়েটা জিবীত না থাকুক কিন্ত নরখাদকটাকে কিছুতেই জীবিত থাকতে দেওয়া যাবে না। এনির চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। অতীতের স্মৃতী গুলো আবার ও তাড়া করতে থাকে। এই নরখদকদের সন্ধ্যানেই তো সে বহু দিন ঘুরেছে। বান্ধুবীর খুনীকে খুঁজতে গিয়েই তো জানোয়ার গুলোর কবলে পড়তে হয়েছিলো। পাচার হতে যাচ্ছিলো। নিলামে উঠেছিলো। বহু পুরুষ বাজে নজর দিয়ে লালসার দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছিলো। এনি একটা চেয়ারে শক্ত করে চেপে ধরে। যন্ত্রনায় চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। মেয়েদের জীবন এমন কেনো? তারা কি শুধুই ভোগবস্তু বস্তু! তাদেরকে কেনো এমন মনে করা হয়? পুরো পৃথিবীতে লক্ষ নারীর জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে জানোয়ার গুলো। আমার বান্ধুবীটাকেও বাঁচতে দিলো না!

এনির মাথায় ঝিম ঝিম ঝিম করে উঠে। আবছা আলোতে কিছু দৃশ্য মনে করতে থাকে। সেই রে*পিস্ট নরখাদকের অনামিকা আঙ্গুল কেটে দিয়েছিলো সে ধ্বস্তাধ্বস্তির মাঝে। পরে একটা লোক এসে নরখাদকটাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো। তার পিঠে এনি ছুঁড়ি দিয়ে কো**প বসিয়েছিলো। বান্ধুবীর মৃত দেহ চোখের সামনে দেখে যেন মনস্টার হয়ে গিয়েছিলো। ভয় লাগে নি তার। সামান্য মুহূর্তের জন্যও বুক কাঁপে নি এনির। শুধু এইটুকু ভেবেছিলো রে*পিস্ট নামক নরখাদক আর তাকে বাঁচাতে আসা সঙ্গীটাকে কাচা চিবিয়ে খাবে। কিন্তু চিবিয়ে আর খাওয়া হলো কোথায়, তার আগেই তো দুইটা পশু তার দৃষ্টি সীমানার বাহিরে চলে যায়। কিন্তু এনি একটা কথা ভেবে খুব আশ্চর্য হয়, রে*পিস্ট লোকটাকে এনি যখন প্রায় মেরেই ফেলছিলো তখন তার বন্ধুটা বাঁচাতে আসে। রে**পিস্টটাকে সাহায্য করে। এমন কুৎসিৎ লোকটাকে যখন সে বাঁচাতে এসেছে তখন নিশ্চই লোকটাও রে*পিস্ট। তাই তো এনি পিঠে ছুঁড়ি দিয়ে কো**প বসিয়েছিলো। কিন্তু আশ্চর্য এতেই লাগছে, লোকটা পালটা আক্রমন কেনো করলো না? সেদিন নির্জন মাঠে এনি একা ছিলো। আর পাশে ছিলো প্রান প্রিয় বান্ধুবীর ছিন্ন -বিচ্ছিন্ন হওয়া লাশ। একটা পাখিও যেন ছিলো না। এত নিস্তব্দতার মধ্যে লোকটা এনিকে আক্রমন করলো না কেনো? এই কথাটা এনিকে খুব ভাবাতো। কিন্তু এইসব ভাবার আর সময় হলো কোথায়? তার আগেই তো ফেঁশে যায় মাফিয়াদের মধ্যে। ব্যাস জীবন তো এমনিতেই ভিবীষিকাময় ছিলো। এখন আরও জ্বলন্ত হয়ে উঠেছে।

এনি নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে। কিছু একটা কো*পানোর শব্দ আসছে বার বার কানে। যন্ত্রনায় শরীরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। অসহায়ত্বে কান্না পাচ্ছে খুব। কিন্তু এখন চিৎকার করে কাঁদলেও লাভ কোথায়? কেউ তো তাকে শান্তনার বাণী শুনাবে না। কেউ এনির বুকের ভেতরের যন্ত্রনাটাকে অনুভব করবে না। এনির চোখ বন্ধ হতেই নিকের মুখটা ভেসে উঠে। কত সুন্দর আপনি। এনির মুখে ঘৃণার ভাব ফুটে উঠে। দেয়ালে ঘেষে বসে পড়ে। এরপর মেঝের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলে,

” কতটা অমানুষ আপনি, ভাবতেও শরীর গুলিয়ে আসছে। একটা রে*পিস্ট, একটা নরখাদককে পেলে-পুষে রেখেছেন। এই নরখাদকটা মানুষদের ছিড়ে খাচ্ছে দিনের পর দিন। খারাপ লাগছে না? খারাপ লাগবে কিভাবে আপনি নিজেই তো ওকে প্রটেক্ট করছেন। যাকে বাঁচিয়ে রাখছেন সে একটা রে*পিস্ট। কম বয়সী মেয়েদের ভোগ করা তার নিত্যদিনের পেশা। আপনি যে সেই পেশায় নিয়োজিত নয় তার কি প্রমাণ?
পুরো দুনিয়া জানুক আপনার মেয়েলী স্বভাব নেই। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তো পুরুষ আপনি। ক্লাবে যান, মিটিং এ যান। সেখানে তো সব এই ব্যাশ্যা খানা। অর্ধ নগ্ন নারীরা শরীর দেখিয়ে ঘুর ঘুর করছে। সত্যি নিয়ন্ত্রন রেখেছেন নিজেকে? সেটা আবার বিশ্বাস করতে বলছেন? নারী বিদ্বেশী আপনি, মেনে নিলাম। কিন্তু কামনা-বাসনা কি আপনার রাগ আর আক্ষেপের থেকে বেশি নয়? কি করে ট্রাস্ট করব আপনি নারীদের কাছে যান না? যেখানে নিজের এই আইল্যান্ডে এক নরখাদক পশু পালিত করছেন।

এনির কান্না পাচ্ছে খুব। নিক নারীদের কাছে যায় কথাটা মনে হতেই শরীরে একটা ঝাঁকুনি খায়। এতটা ব্যাথা কেনো হচ্ছে তার শরীরে? পুরো বিশ্বের নারী ভাবনাটা কেনো তাকে যন্ত্রনা দিচ্ছে? এনি মনের সাথে না পেরে চিৎকার দিয়ে উঠে।মন খুলে কান্না করে কিছুক্ষণ। নিস্তেজ শরীরটাকে কোনোরকম ঠেলে উপরে যেতে থাকে। কিছু একটা ভেবে আবারও পিছনে ফিরে তাকায়। মুহূর্তের ব্যবধানে সামনের দিকে তাকিয়ে হাটতে থাকে। কারোর পায়ের আওয়াজ পেয়ে থমকে যায়। কেউ একজন আসছে। কারোর জুতার শব্দ। তবে স্বাভাবিকভাবে হাটলে যে শব্দ হয় তেমন শব্দ নয়। কেমন ছেঁচড়ানো শব্দ। এনি কৌতুহল বশত এক ঝটকায় আবারও পিছনে তাকায়। সাথে সাথে কপাল কুচকে ফেলে। কালো হুডিতে আবৃত একটা লোক বাহিরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লোকটার হাত নেই। হাটা-চলাও স্বাভাবিক নয়। কেমন ছেঁচড়িয়ে হাটা। দেখেই বুঝা যাচ্ছে স্বাভাবিক নয়। লোকটার কাটা হাত দেখেই এনির নিশ্বাস বেড়ে যায়। এই নরখাদকটাকে ধরার জন্যই তো এনি বার বার এখানে আসছে। গন্তব্যে প্রবেশ করার কোনো চাবি না পেয়ে বার বার ফিরে যেতে হচ্ছে। এই লোকটার হাত নেই মানে তার হাতটাই এনি কেটেছিলো। আর এই ব্যক্তির কথায় নিক বলেছে। এনির মস্তিষ্কের রক্তগুলো যেন টগবগ করে ফুটতে থাকে। বার বার কানে আসছে মেয়েটার করুন কান্নার স্বর। এনি ভেবে পায় না এত বাজে লোক এখনও বেঁচে আছে কিভাবে? এনি কিভাবে এই লোকটাকে বাঁচতে দিচ্ছে? কান্না পাচ্ছে এনির । কি করবে এনি এখন? এই বদ্ধ মিনারে কিভাবে লড়াই করবে এমন তাগড়া যুবকের সাথে? যতইই হাত না থাকুক কিন্তু একজন পুরুষের সাথে এনি কখনোই পেরে উঠবে না। ওকে শক্তি দিয়ে নয় বুদ্ধি দিয়ে হারাতে হবে। আর তার থেকে সব থেকে বড় অস্ত্র হচ্ছে ছলনা। এনির ঠোঁটে কুটিল হাসি ফোটে উঠে। জেড প্রায় বাহিরে চলে গিয়েছে। দুই কদম দুরত্ব হয়ত।
এনি পিছন থেকেই মোলায়েম সুরে ডাক দেয়,

” হেই, হ্যান্ডসাম ম্যান, আর ইউ লিসেনিং? ইগনোরিং আ বিউটিফুল গার্ল লাইক দিস ইজ আ ভেরি ব্যাড থিং হটি বয়!
কথাটা বলে এনি বড় বড় শ্বাস ফেলে। নিক জানতে পারলে মেরে ফেলবে তার কোনো সন্দেহ নেই। লোকটা যতই খারাপ হোক। যতই তাকে মানসিক, শারিরীকভাবে টর্চার করুক। কিন্তু দিনশেষে লোকটা অতিরিক্ত পজেসিভ তাকে নিয়ে। একটা সময় রক্ষিতা বলে অপমান করত এখন বউ বলে বলে ফেনা তুলে ফেলে। কে জানে মন থেকে বলে নাকি খোরাক মেটাতে। একান্ত সময়ে আগের মত আর উন্মাদ হয় না। রাগের বশে যখন আক্রোশ মেটাতে আগে কাছে আসত তখন এনি পারত না মরে যেতে। যন্ত্রনায় শরীর নীল হয়ে যেত। লোকটার এক একটা রক্তাক্ত স্পর্শে এনি ভেঙ্গে যেত। কিন্তু আজকাল গ্যাংস্টার বসের স্পর্শে আগের মত মরণ যন্ত্রনা হয় না। তবে সহ্য করার মত ও না। এখনও যন্ত্রনা হয় তবে আগের মত না। এনি নিশ্বাস টানে বড় বড়। এখন এইসব জানলে লোকটা যদি আবারও আগের রুপে তার কাছে ফিরে আসে। এমনিতেই মনস্টার। এর থেকে বেশি হলে তো এনি মরেই যাবে। ভেতরেই ভয়ে কেঁদে উঠে এনি।

ভাবনার মধ্যেই এনি সামনে তাকায়। ভেবেছিলো জেড হয়ত না শুনেই চলে গিয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় পশুটা তার দিকে কেমন দৃষ্টি করে তাকিয়ে আছে। এনি এই দৃষ্টি দেখে রাগে গিজগিজ করে উঠে। ইচ্ছে করছে এক ধলা থু থু কুত্তার বাচ্চার মুখে ছুঁড়ে দিতে। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে মিষ্টি হাসলো। নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে লোকটার কাছে এগিয়ে যায়। লোকটার চোখ শিকারীর মত রুক্ষ্ণ আর ধারালো। কেমন ভয়ানক হিংস্র গভীরতা এই চোখে। লোকটার চোখ হিজল রঙ্গের। লাল আলোতে চকচক করছে। এনি তাচ্ছিল্য হাসলো। খারাপ মানুষের চোখ বুঝি এতটা রুক্ষ্ণ হয়!
এনি জেডের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে দুরত্ব বজায় রেখে। জেড একটা কথাও বলছে না। নিরবতা ভঙ্গ করে এনি হাসি দিয়ে বলে,
” ডু ইউ নো দ্যাট ইউ আর বিউটিফুল? হট এন্ড সেক্সি ও। যাস্ট নেশা ধরে যাওয়ার মত তোমার বডি। এই বডি বানিয়েছো কিভাবে?
জেড শীতল দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে সামনে হাটা ধরে। এনি পিছন থেকে হাত ধরে মাতাল করা সুরে বলে,

” এত সুন্দরী মেয়ে দেখে এড়িয়ে যাচ্ছো? মনে কিছু জাগে নি? আমার তো অনেক কিছু জেগে উঠছে।
জেড শিথিল দৃষ্টি দেয় আবারও। সাইকোদের চলাফেরা সবসময় ঠান্ডা আর শিতল থাকে। তারা যখন হিংস্রতায় মেতে উঠে তখন পশু হয়ে উঠে। ঠান্ডা মেজাজে তারা শিকার ধরে। কোলাহল জেড একদম অপছন্দ করে। সামান্য শব্দ তার কাছে বিষের মত লাগে।
জেড এনির ছোঁয়া নিতে পারছে না। জেগে উঠছে নরপশু মন। এনির সৌন্দর্যে সে এমনিতেই পাগল হয়ে আছে। তার দৃষ্টিতে থাকে না বিস্ময়, না আকর্ষণ, না অস্বস্তি; থাকে কেবল শীতল পর্যবেক্ষণের স্বৈরাচারী স্থিরতা। এনি যেন এখানে মানুষ হিসেবে উপস্থিত নয় বরং সে হয়ে ওঠে এক মানসিক কাঠামোর নমুনা। যাকে অনুভব নয় বিচ্ছিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে পড়তে হয়। এই দৃষ্টির ভেতর লুকিয়ে থাকে দীর্ঘদিনের আবেগহীনতার জমাট স্তর।যেখানে সহানুভূতির শেষ চিহ্নটুকুও বহু আগেই অবলুপ্ত। জেড ঠান্ডা কন্ঠে বলে,
” তোমার স্বামী দেখলে জান নিয়ে নিবে। সামনে থেকে সরো।
এনি অবাক হলো জেডের কথায়। লোকটা এত বড় জানোয়ার তবুও নিককে এতটা ভয় পায়! এনি হেসে প্রশ্ন করে,
” এত সুন্দর মোমেন্টে অন্য ব্যক্তির নাম নিয়ে মুড অফ করো না প্লিজ। এই লোকটাকে আমি সহ্য করতে পারি না। মারের ভয় পেলে কি আর শরীরি চাহিদা এড়ানো যায় হটি বয়। যা হবে সব আমাদের মধ্যে। নিক জানবে কিভাবে?
জেড শীতল হেসে বলে,

” তুমি যে আমার সাথে কথা বলছো এইটাও ক্যামেরা বন্ধী হচ্ছে।
এনি যেন ঝটকা খায়। ভয়ে শরীর কাঁপতে থাকে। পানি পিপাসা পাচ্ছে প্রচুর। ক…ক্যামেরা মানে! এনি এতক্ষনে বুঝলো জেড কেনো এতটা শান্ত হয়ে আছে। এনি হাল ছাড়লো না। পরে যা হওয়ার হবে। সুইচ টিপে পুরো রুম অন্ধকার করে ফেলে এনি। অন্ধকারে ভয়ে এনির কলিজা শুকিয়ে আসছে।
সামনে নরখাদক আর তার পাশেই সে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি অন্ধকারে রুমে নরখাদকের সাথে ভাবতেই শরীর শিরশির করে উঠছে । এনি জেডের হিজল চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
” কিছু দেখা যাবে না এখন।
জেডের রিয়্যাকশন বুঝলো না এনি। এনি মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে,
” তোমার কামড়ায় নিয়ে চলো হটি বয়। তুমি খুব টানছো আমাকে। যা হবে সব অন্ধকার রুমে। কেউ জানবে না। শুধু তুমি আর আমি অমৃত পান করব।দশটা মিনিট অপেক্ষা করো।
এনি দশ মিনিটের জন্য কোথাও যায়। এরপর দশ মিনিট পর ফিরে আসে। জেডের চোখ অন্ধকারে চিকচিক করছে। এনি রহস্যময় ভাবে হাসলো। ক্ষ্যাপা বাঘিনীর মত তাকায় জেডের দিকে। মিষ্টি হাসি দিয়ে জেডের হাত ধরে। বুকে স্পর্শ করে বলে,

” এক সুন্দরী মেয়ে তোমাকে আমন্ত্রন জানাচ্ছে। সেদিন তোমাকে দেখার পর থেকেই আমার ঘুম হারাম। কিন্তু নিকের কারনে তোমার দেখা পাচ্ছিলাম না। তোমার সাথে একটু কথা বলব সে উপাই ও নেই। আজ যখন কাছে এসেছো তখন কাছে আসলে কাজ হবে না তোমাকে আরও গভীরে চাই জানেমান।
এনি জেডের রিয়্যাকশন বুঝতে পারছে না। জেড কিছু একটা চাপতেই কাউচ খুলে যায়। এনি এগিয়ে যাচ্ছে জেডের হাত ধরে। আর মনে হিচ্ছে জাহান্নামে প্রবেশ করছে নিজ ইচ্ছেতে। জেড এনির কোমড়ে শক্তভাবে হাত রাখে। এনির শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে। ঘৃনায় বমি চলে আসছে তার। একটা শক্ত দরজা ভেদ করে ধীরে ধীরে নিচ সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে। জেডের এমন শান্ত ব্যবহার এনির খুব ভাবাচ্ছে। ও ভেবেছিলো অফার পাওয়া মাত্রই হয়ত ঝাঁপিয়ে পড়বে তার উপর। কিন্তু হলো এর বিপরীত কিছু। একদম শান্ত থেকে কিভাবে সামাল দিচ্ছে এই পশু! এই কারনেই এইটা একজন বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকোপ্যাথ। শান্ত অথচ পশু!
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই এনির মাথা ঘুরে আসে। প্রথম রুমটার মধ্যেই জেড এনিকে নিয়ে ডুকে পড়ে। রুমটা একদম পরিষ্কার। এনি ঠোঁট কামড়ে ধরে পুরো রুম দেখে। কান্নায় বুক ভেঙ্গে যাচ্ছে তার। এখানে কত নারীর জীবন শেষ হয়েছে হিসেব নেই। এই চুল্লিতে কত নারীর মাংসে ঝলসে দিয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। এত এত অপরাধ করেও লোকটা দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে!
জেড এনির গাল ছুঁয়ে বলে,

” জানো তোমাকে এখানে কেনো নিয়ে এসেছি? কেনো রাজি হয়েছি? কেনো নিকের ভয় পাই নি।
এনি সামান্য ঢোক গিলে বলে,
” কেনো?
জেড অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। জেডের ভয়ানক রুপ ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে। এনি সিটিয়ে যায় এমন বিদঘুটে হাসির শব্দে । ও যেভাবে প্লান করেছে এইটা আবার ঘেটে যাবে না তো? এনি ভাবতে পারছে না আর। যেভাবে ভেবেছে সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। জেডের বিকৃত হাসি দেখে এনিও হেসে বলে,
” বলো?
জেড এনির শরীর শুকে চোখে চোখ রাখে,
” তুমি অফার দিয়েছো বেইবি। রিজেক্ট করি কিভাবে। মুলত আমার বেডে কাউ আসলে সে আর বেঁচে ফিরে নি। যাকে ভালো লাগে তাকে একাধারে অনেক বার নিজের শরীরের নিচে পিষ্ট করি। তাও জেডের স্টাইলে। আশা রাখব এক চান্সে মরবে না। যে নিক জেভরানকে সামলানোর ক্ষমতা রাখে সে আমাকেও সামলাতে পারবে। তোমাকে জানে মারতে পারবো না বুঝলে। মরে গেলে আবার তোমার জামাই কেটে আমাকে ভাসিয়ে দিবে। সামলাও কিভাবে এই উন্মাদটাকে? হিমশিম খাও না?
এনির মাথা ঘুরে আসছে। কিসব বিশ্রি কথা! এনি হেসে বলে,

” তোমাকে অফার দেওয়ার ক্ষমতা যে মেয়ের আছে সে একটা গ্যাংস্টার বসকে সামলানোর ক্ষমতা নিয়েই জন্মেছে।
জেড নিজের কাটা হাতটার দিকে তাকায়। প্রতি হিংসার আগুন ঝলঝল করে উঠে। মেয়েটা তকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এইটাই জেডের কাছে সব থেকে বড় সুযোগ প্রতিশোধ তোলার। জেড হুট করেই ঘর কাঁপিয়ে অট্টফাসিতে ফেটে পড়ে। এনি আবারও ভীত হয়ে উঠে। জেডের দৃষ্টি ভয়ানক। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” চল….
আর বলতে পারে নি। জেড আচমকা এনির চুলের মুঠ শক্ত করে চেপে ধরে। হুট করে এমন হওয়াতে এনি শব্দ করে উঠে। ব্যাথায় নীল হয়ে উঠে এনির মুখ। জেড ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে বিকৃত হেসে বলে,
” কথা বলো না বেইবি। চলো কাজে ফোকাস করি।
এনি ছটফট করে উঠে,
” কথা শুনো আমার।
জেড চেঁচিয়ে উঠে,
” চুপ।
জেড এনির টপে হাত দেয়। এনির মাথা ঘুরে আসে। শরীর শিরশির করে উঠে ভয়ে। তবে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী এনি নয়। এনি কোমল স্বরে বলে,
” চলো আগে ড্রিংক্স করে নেই।

হসপিটালে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাইচারী করে যাচ্ছে আরিশ। নিক বিরক্ত হয় আরিশের এমন বাচ্চামো দেখে। নিক সহ্য করতে না পেরে ধমকে উঠে,
” তুই নিশ্চুপ হয়ে বসবি? ট্রাস্ট মি আবার ডানে গেলে পা কেটে গলায় ঝুঁলিয়ে দিব আমি।
আরিশ থেমে যায়। শান্ত হয়ে নিকের পাশে বসে। বড় শ্বাস নিয়ে শরীর এলিয়ে দেয়।
নিক ঠান্ডা গলায় বলে,
” আমার উপরে অভিযোগ তুলছিস?
অধিরাজ সহ আরিশও চট করে তাকায়। আরিশের চোখে অবিশ্বাস্য চাহনী। নিকের মুখ সব সময়ের মত গম্ভীর।
” কি নিয়ে?
” ভেবে দেখ। কি নিয়ে মনে মনে অভিযোগ করছিস অথচ মুখে বলতে পারছিস না।
আরিশ নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” তেমন কিছুই নয়, ভুল ভাবছিস।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” আজকাল একটু বেশিই ভুল ভাবছি তাহলে।
আরিশ তপ্ত শ্বাস ছাড়ে,
” তুই যা ভাবছিস তেমন কিছুই নয়। ভালোবাসা কখনো পাগলামো দিয়ে হয় না নিক। কেউ পাগলামি করলে অপরপক্ষ ভালো নাও বাসতে পারে। তারও পছন্দ -অপছন্দ আছে। সেও অন্যকে ভালোবাসতে পারে।
নিক আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,

” মেহেরকে আমি কিসের চোখে দেখি?
” ব… বোনের।
নিকের গলা শক্ত হয়ে উঠে,
” তাহলে অভিযোগের খাতা কেনো খুলা হয়েছে? এই নিয়ে মিথ্যে বলবি না আরিশ। তর চোখ দেখলেও মনের কথা বুঝতে পারি আমি। তাই আর যায় হোক মিথ্যে বলবি না অন্তত। মিথ্যে বললে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।
আরিশ মাথা নিচু করে বলে,
” এত গভীরে কিভাবে বুঝতে পারিস তুই নিক? কেনো বুঝিস আমাকে এত?
নিক বিরক্তি নিয়ে বলে,
” ন্যাকামি না করে বল।
আরিশ তাকায় হার্টল্যাস বন্ধুর দিকে। মলিন গলায় বলে,
” তকে অভিযোগ করতে গেলে আমি আরিশ দশবার ভাববো। তকে নিয়ে অভিযোগ করি নি। মেহেরের অবস্থা দেখে বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিলাম। ভুলে গিয়েছিলাম বাস্তবতা। তাই এক সেকেন্ডের জন্য অভিযোগ করেছিলাম।
নিক শক্ত গলায় বলে,

” যাকে বোন ছাড়া কোনো নজরে দেখিনি তাকে প্রেমিকা বানাব ভাবলি কিভাবে? মেহের আমার কাছে বোনের মত। হোয়াই শুড আই লাভ মেহার?
আরিশ প্রায় কেঁদে দিবে ভাব। নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” এইভাবে জেরা করছিস কেন ভাই? আমি কি সামান্য অভিযোগ করতে পারি না?
নিক হাসলো অদ্ভুতভাবে,
” তুই অভিযোগ নয়, আমার বুকে ছুঁড়ি বসানোর ক্ষমতাও রাখিস। সেই অধিকার আমি তকে দিয়েছি। কিন্তু অন্যের বিষয় নিয়ে অভিযোগ করলে সেটা গ্যাংস্টার বসের ইগোতে লাগে। সব জানার পরও এক মুহূর্তের জন্য কেনো এমন ভাবলি? দুনিয়ায় যদি কেউ আমাকে গভীরে চিনে তাহলে সেটা হচ্ছে তুই। প্রতিটা নারী আমার কাছে বিষাক্ত সুচের মত ছিলো। এর মধ্যে দিও মেহেররের জন্য মায়া কাজ করত। তুই তো দেখেছিস, প্রথম প্রথম রাগ দেখাতাম। এরপরও শরীর ঘেষে থাকত আমার। খাবারের জন্য জোর করত। জ্বর আসলে জলপট্টি দিয়ে দিত। সুজ নিয়ে শুয়ে পড়লে সুজ খুলে দিত। এই কেয়ার গুলো থেকে ওর প্রতি টান অনুভব করি। মায়া জন্মাতে থাকে মেয়েটার প্রতি। কিন্তু এই মায়া কেবল ছিলো বোনের মত। একটা ভাই যেমন তার বোনকে দেখে আমিও ঠিক একইভাবে মেহেরকে দেখি। এনি আর মেহের আলাদা মেরুর। মেহের বোন হিসেবে আমার জীবনে এসেছে। আর এনি ঘূর্নিঝর হয়ে।
আরিশ ভোঁতা মুখে বলে,

” সব জানি আমি। তার পরও সরি বলে নিচ্ছি। পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম ওর অবস্থা দেখে। বার বার তর নাম নিচ্ছিলো। আর কিসব কথা বলছে। হৃদয়ে যন্ত্রনা দিচ্ছিলো প্রচুর। মেহেরের জ্ঞণ ফিরলে জবাব কি দিবি? ড. বলেছে আট ঘন্টা পরে জ্ঞন ফিরবে।যদি জানতে চাই তুই ঠকালি কেনো, উত্তর কি দিবি নিক?
নিক ভাবলেশহীনভাবে বলে,
” আমাকে সামলে নিতে দে। তর মত গর্দভ না ডুকলেও চলবে এর মাঝে।
অধিরাজ না চাইতেও হেসে ফেলে। মেহের এখন বিপদমুক্ত। দুই দিনের ভেতরে অপারেশন শুরু হবে। এখন আর বড়ি নেওয়া হবে না তাকে। একদম সুস্থ করে নিয়ে যাওয়া হবে।
আরিশ অপমানে থতমত খেয়ে যায়। কাটকাট গলায় বলে,
” একজন ক্রিমিনাল লিডারকে অপমান করছিস তুই নিক।
নিক ভ্রুঁ নাচালো। দাঁত পিষে বলে,
” মেইন পয়েন্টে লাথি মেরে যখন টাওয়ারটা হাতে নিয়ে আসব তখন ক্রিমিনালি ভাব কমে যাবে মাদার্ফাক।
আরিশ ভেংচি কেটে বলে,

” বউয়ের জিনিস প্রচুর শক্ত ভাই। তাই লাথিতে কাজ হবে না। বাই দ্যা ওয়ে তর মেয়েকে বিধবা বানাতে চাচ্ছিস?
নিক কপাল কুচকে ফেলে,
” তর টাওয়ার ধ্বংস হলে আমার মেয়ে বিধবা হবে কেনো?
আরিশ চোখ টিপে বলে,
” আমার ধ্বংস হয়ে গেলে ছেলে হবে কিভাবে? আর ছেলে না হলে তো তর মেয়ে বিধবা।
নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে। অধিরাজ হেসে বলে,
” আপনার বউ আছে স্যার?
অধিরাজের ঠাট্টায় আরিশের মুখ থমথমে খেয়ে যায়। নাজলীর কথা মনে হতেই রাগে দাঁত পিষে। আরিশ রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
” আমাকে বলছিস তর নিজের আছে?
অধিরাজ লাজুক ভাবে বলে,
” আছে স্যার। শুধু সার্টিফিকেট পাওয়া বাকি। আপনার কে আছে?
আরিশ ঘাড়ে হাত রেখে বলে,
” আমার সার্টিফিকেট সহ আছে। তবে আকাশে উড়তে দিয়েছি কিছু দিনের জন্য। খুব দ্রুতই ডানা কাটব। এরপর আদান -প্রদানও চালাব অতি দ্রুত।
অধিরাজ থমথমে খেয়ে বলে,
” কিসের আদান-প্রদান?
আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
” বদ্ধ রুমের কাহিনী তকে কেনো বলব?
নিক গম্ভীরতা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। এখানে থাকার আর প্রয়োজন মনে করছে না। কথা না বলে সামনে হাটতে থাকে।
নিককে যেতে দেখে আরিশ মুচকি হাসে। বউয়ের জন্য উতলা হয়ে থাকা গ্যাংস্টার বস! মেহেরের কথা মনে হতেই হাশিটা মিলিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে কি পাগলামো করবে কে জানে?

পুরো রুম বিদঘুটে অন্ধকার। নিক রুমে ডুকে কপাল কুচকায়। রুম এত অন্ধকার করে রাখাটা তার বোধগাম্য হলো না। নিক রিমোটের সাহায্য লাইট অন করে দেয়। মুহূর্তেই চারদিকে আলোকিত হয়ে পড়ে রুম। এনি বিছানায় এক পাশে বসে আছে। দুই পা ভাঁজ করে বসা। দুই পায়ের মাখখানে মাথা দিয়ে রেখেছে। সোনালি চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। এনি ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। ঘন নিশ্বাস ফেলে এনির কাছে যায়। কিছুঁটা ঝুঁকে এনির বাহু ধরে টান দেয়। এনি শীতল চোখে তাকায় নিকের দিকে। এনির চোখ দেখে নিকের শ্বাস বেড়ে যায়। নিক বাজপাখির ন্যায় তাকায় এনির দিকে। এনি শান্তভাবেই বলে,
” এইভাবে কি দেখছেন?
নিক ঠোঁট ভেজায় নিজের,
” এতটা শান্ত কেনো তুমি?
এনি সামান্য হেসে বলে,
” কেনো ভালো লাগছে না?
নিক নিতে পারছে না এই ব্যবহার। নিক রুমে আসলে সব সময় এনির চোখে-মুখে কিছু একটা থাকে। রাগ -অসহায়ত্ব ভাব থাকে সব সময়। কিন্তু আজ এতটা শান্ত কেনো এই রমণী? কি হয়েছে এর! নিক এসির মধ্যে থেকেও ঘেমে যাচ্ছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হচ্ছে। এনি ওড়না দিয়ে নিকের কপাল মুছতে মুছতে বলে,

” এইভাবে ঘামছেন কেনো? গরম লাগছে? শার্ট খুলে ফেলুন। যথেষ্ট আরাম অনুভব করবেন।
নিক ছন্নছাড়া হয়ে বড় বড় শ্বাস নেয়। এতটা শান্ত আচরন গ্যাংস্টার বসের ভয়ের কারন হচ্ছে। নিক সহ্য করতে না পেরে এনির উন্মুক্ত কোমড় খামছে ধরে। সাথে সাথে এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে। দোয়া করছে জেডের দেওয়া খামছির দাগ যাতে নিকের দৃষ্টিতে না পড়ে। লোকটা উন্মাদ হয়ে উঠবে। নিক রাগে চোয়াল পিষে বলে,
” কি চলছে মনে? এতটা শান্ত কেনো তুমি? কাল এতটা ক্ষেপে ছিলে আর আজ এত শান্ত!
এনি মুচকি হেসে বলে,
” ভয় পাচ্ছেন?
নিক কটমট করলো। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে এনির চোখে চোখ রাখে,

” এইসব ফাকিং জিনিস গ্যাংস্টার বসের ধাঁচে নেই।
এনি নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” জানি সেটা। শার্টটা খুলে ফেলুন। আরও ঘামছেন আপনি। এত অস্থির হচ্ছেন কেনো বলোন তো?
নিক বড় বড় নিশ্বাস ফেলে বলে,
” চুমু খাও আমাকে কুইক।
এনি হেসে বলে,
” সেটা আগে বলবেন না।
নিক চমকে তাকায় এনির দিকে। এনি নিকের উড়ুর উপরে উঠে বসে। এরপর ঘাড় গলিয়ে হাত চেপে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। নিক বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এই উন্মাদ পুরুষটা হুট করেই শান্ত হয়ে আছে। এনির স্পর্শে তার কোনো রিয়্যাকশন নেই। বরং নিজ থেক স্পর্শ করাটা নিয়েই নিককে ভাবাচ্ছে। এনি চুমু খেতে খেতে নিকের ব্লেজার -শার্ট খুলে ফেলে। নিক পাথরের মূর্তির মত বসে আছে। হুট করে এনিকে সরিয়ে বলে,
” লাগবে না চুমু। দুরে সরো আমার থেকে।
এনি সরলো না। নিকের চুল গুছিয়ে দিতে দিতে বলে,
” উহুম। আমার হয় নি। আরামে কিছুক্ষণ চুমু খাচ্ছি। ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন কেনো?
এনির রাগী ভাব। নিকের ধৈর্য ভেঙ্গে যায়। এনির চোয়াল চেপে গর্জে উঠে,
” কি চলছে এই মনে? টাস্ট মি বেবিগার্ল আমার অপছন্দের কিছু হলে জান নিয়ে নিব। আই রিপিট কলিজা টেনে আনব।
এনি যেন নিকের কথা শুনলো না। নিকের পিঠ হাতিয়ে বলে,

” আপনার পিঠে কাটা দাগ কেনো? কিভাবে কেটেছিলেন?
নিক রেগে বলে,
” পিঠে আমার কত কাটা দাগ আছে। কোনটার কথা বলব তোমাকে?
এনি নিকের বুকে চুমু খায়। বাম হাত দিয়ে পুরো শরীর স্পর্শ করে যাচ্ছে। ফিসফিস করে বলে,
” আপনাকে খুব আঘাত করতে ইচ্ছে করছে? আচ্ছা আপনি কি কষ্ট পাবেন? আমি যদি আপনাকে চাবুক দিয়ে পিটাই তবে কি ব্যাথা পাবেন আপনি?
নিক এনির ঘাড়টা চেপে ধরে শক্তভাবে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। এনি যন্ত্রনায় চোখ-মুক খিঁচে ফেলে। নিক চুমু খেতে খেতে এনিকে কোলে নিয়ে কাউচের উপর বসিয়ে দেয়। এনির নখের আচড়ে নিকের পিঠ থেকে রক্ত বের হতে থাকে। নকশা বদলে ফেলছে। এনির চোখ -মুখ রাগে জ্বলে উঠে। নিক এনির দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বলে,
” নখ এত বড় কেনো তোমার?
এনি ঠান্ডা গলায় বলে,
” শরীর কেটে ফালা -ফালা হয়ে যায়। তখন দিব্বি হাটতে পারেন। আর আমার নখের আচড় সহ্য করতে পারেন না।
নিকের চোখ মুখ জ্বলে উঠে হিংস্রতা। একটানে খুলে ফেলে এনির শরীরের টপ। মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

” এত টাইট কেনো এইটা?
এনি চোখ বন্ধ করে বিরবির করে বলে,
” আপনি এনে দিয়েছেন। যা আছে তাই তো পড়বো।
নিক এনির গলায় মুখ গুঁজে বলে,
” এইসব বাল-ছাল পড়ার প্রয়োজন নেই। এমনিতেও তুমি বাহিরে বের হও না।
এনি কিছু বললো না। শান্তভাবে সব সামলে নিতে থাকে। তার থেকে দ্বিগুন ভারী পুরুষটাকে সামলাতে যন্ত্রনায় নীল হয়ে যাচ্ছে। তবুও এনি চাচ্ছে যে করেই হোক আজ রাতটা কেটে যায়। আর এর থেকে সুন্দর উপাই এনির কাছে আর একটাও নেই। ধীরে ধীরে নিকের স্পর্শ শক্ত হয়ে উঠছে। এনির হাতটা বেঁধে ফেলা হয় শক্ত ব্যাল্ট দিয়ে। এনি দাঁত পিষে সামলে নিচ্ছে সব কিছু। নিকের হাতটা এনির গলায়। ফাঁশের মত মনে হচ্ছে এনির কাছে। তবুও হালকা আওয়াজে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৫ (২)

” যন্ত্রনা হচ্ছে
নিক এনির কপালে চুমু খেয়ে বলে,
” সামলে নিচ্ছি।
এনির চোখ থেকে পানি পড়ছে। তবুও চাচ্ছে সময়টা কেটে যাক। নিক যাতে বাহিরে পা না রাখে। একজন পুরুষকে আটকাতে এর থেকে ভালো উপাই এনির মাথায় আসে নি। তারা তো নারী দেহ পেলে জীবনটাও কুরবান করে দিতে পারে। আজ না হয় সেই বুদ্ধিটা কাজে লাগানো যাক। এমনিতেও এই পুরুষটা তাকে বার বার ছুঁয়ে দিচ্ছে। আজ না হয় আরেকবার ছুঁয়ে দিক। ক্ষতি কি? নিজের কাজ তো হবে!

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৭