Home রুপুর বিয়ে রুপুর বিয়ে পর্ব ১৭

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৭

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৭
Bobita Ray

বীথি রানীর খুব অস্থির লাগছে। রুপুর কথা পুরোপুরি বিশ্বাস হচ্ছে না। আবার ফেলেও দিতে পারছে না।
“তুমি ফোনটা বিনয়কে দাও।”
বিনয়ের অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে রুপুর একটুখানি মায়া লাগছে। আবার শাশুড়ীমাকে কঠিনভাবে জব্দ করার আনন্দে খুব ভালো লাগছে। রুপু হাসি হাসি মুখে বিনয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনার ছেলে আপনার সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে গো মা।”
বিনয় ফোনটা রুপুর কাছ থেকে নিয়ে উঠে গেল। ফোনটা কানের সাথে চেপে ধরে অস্ফুট স্বরে বলল,
“হ্যালো মা…”
“তুই কোথায় বাবা? তোর বউ কী সব বলল। আমি অবশ্য তোর বউয়ের কথা একটুও বিশ্বাস করিনি। আমার তোর উপরে বিশ্বাস আছে। আর যাই হোক তুই আমাকে কখনো মিথ্যা কথা বলতেই পারিস না।”
বিনয়ের মনটা সত্যি সত্যি খারাপ হয়ে গেল। অপরাধবোধ বেড়ে গেল হাজারগুণ। মা বিনয়ের মুখে সত্যি কথাটা শুনলে প্রচণ্ড কষ্ট পাবে। এইমুহূর্তে মাকে একটুও কষ্ট দিতে ইচ্ছে করছে না। বিনয় মিথ্যে করে বলল,

“মা আমি হাসপাতালেই আছি। তুমি বললে এখুনি চলে আসব। তবে ডাক্তার বোধহয় আজ রুপুকে ছাড়বে না। ওর হাতে স্যালাইন চলছে।”
“আমি কী একবার আসব?”
“আমি আছি তো মা। তাছাড়া রুপু এখন সুস্থ। শুধু শুধু তোমার আসার কোন দরকার নেই।”
“তুই কী সত্যিই আজরাতে আসবি না বাবা?”
বিনয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“না মা।”
ছেলের কথায় বীথি রানী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তখন ডাইনিটা যে ভয় দেখাল। আর একটু হলেই বীথি রানী হ্যার্ট অ্যাটাক করে ফেলত।
বিনয় ফোন রেখে বেখেয়ালে রুপুর দিকে তাকাল। রুপু আর অথৈ খাবার ফাঁকে ফাঁকে পুটুর পুটুর করে গল্প করছে আর খুব হাসাহাসি করছে। দূর থেকে ওদের কথা বা হাসির শব্দ শোনা না গেলেও বিনয় মুগ্ধ হয়ে রুপুর হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। রুপুর হাসি মারাত্মক সুন্দর।
বিনয় এসে রুপুর পাশে বসল। অথৈ বলল,

“দূর থেকে আপনি আমার দিদির দিকে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে ছিলেন। আমি কিন্তু দেখেছি জামাইবাবু।”
অথৈয়ের কথা শুনে বিনয় হেসে ফেলল।
রুপু নিচু কণ্ঠে বলল,
“মাকে এত তাড়াতাড়ি কী বলে মানালে?”
“সে তোমার জানতে হবে না। অথৈ তোমার কী খাওয়া হয়ে গেছে?”
“হুঁ।”
“তাহলে আমার সাথে একটু আসো। তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
রুপু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“তোমার আবার অথৈয়ের সাথে কী কথা?”
“সে আছে অনেক কথা। তোমার না জানলেও চলবে।”
অথৈ বিনয়ের পিছুপিছু উঠে গেল। আড়ালে নিয়ে বিনয় অথৈকে কী বলল কে জানে!
ওরা গাড়িতে উঠে বসল। গাড়িটা কিছুদূর যেতেই রুপু বলল,
“এটা তো বাড়ির পথ না। কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
বিনয় আমুদে কণ্ঠে বলল,

“গেলেই দেখতে পাবে।”
“আমার এখন কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। তুমি ড্রাইভারকে গাড়ি ঘুরাতে বলো। আমি বাড়ি
যাব।”
রুপুর চিন্তিত মুখের দিকে তাকিয়ে বিনয়ের খুব ভালো লাগছে। গাঢ় কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“বাড়ি তো যাবোই। তবে এখন না। এখন আমরা যাব সুখের বাড়ি।”
“সুখের বাড়ি মানে?”
“গেলেই দেখতে পাবে গো আমার একটামাত্র বউ।”
রুপু রাগতে গিয়েও হেসে ফেলল।
ওরা গন্তব্যে পৌঁছাতেই রুপু বিস্ময় চেপে বলল,
“এতরাতে এখানে এসেছ কী করতে?”
“আগে গাড়ি থেকে নামো। তারপর বলছি।”
রুপু খুব সাবধানে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল। ইশারায় অথৈকে গাড়ি থেকে নামতে বলল। অথৈ রুপুর দিকে তাকিয়ে একচোখ টিপে হেসে ফেলল। তবে গাড়ি থেকে নামল না।
রুপুকে অবাক করে দিয়ে গাড়িটা অথৈকে নিয়ে সাঁই করে হাওয়ার বেগে ছুটে গেল।

“এটা কী হলো?”
বিনয় রুপুর একহাত আলতো করে চেপে ধরল। বলল,
“চলো আগে। তারপর বলছি।”
“এখুনি বলো।”
বিনয় রুপুর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি তো না বোঝার মেয়ে না রুপু। সবই তো বুঝো। বুঝেও না বোঝার ভান করছ কেন?”
রুপু উদাস হয়ে বলল,
“ভান কী শুধু তোমরাই করবে। আমি একটু আধটু করতে পারি না বুঝি।”
“তা পারো বৈকি।”
বিনয়ের চোখে-মুখে আজ রুপুকে নিজের করে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানুষটা মাকে একগাদা মিথ্যা করে বলে রুপুকে একটা ফাইভ স্টার হোটেলে নিয়ে এসেছে। রুপু ইচ্ছে করলেই এই মানুষটার রুপুকে নিজের করে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এক নিমিষেই মাটি করে দিতে পারে। কিন্তু বেহায়া মনে সেই ইচ্ছেটাই তো করছে না। তবে রুপুর শরীরও কী আজ বিদ্রোহ করছে। বেহায়া মনটা কী বিনয়কে একাকি কাছে পেতে ব্যাকুল হয়েছে।

“কী হলো ভেতরে চলো।’’
রুপু মোহাচ্ছন্ন হয়ে বিনয়ের পিছুপিছু যাওয়ার আগে শুধু বিড়বিড় করে বলল,
“এটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। একসাথে এতটা বাড়াবাড়ি তোমার মা সত্যিই হজম করতে পারবে না।”
বিনয় খুব মুডে আছে। এই মুহূর্তে রুপুর কথার পিঠে কথা বলে মুড নষ্ট করতে চাচ্ছে না। তাই চুপ থাকায় শ্রেয়।
বিনয় ম্যানেজারের কাছ থেকে চাবি বুঝে নিয়ে ঘরের দরজা খুলতেই রুপু অবাক হয়ে একবার ঘরের দিকে তাকাল তো আরেকবার বিনয়ের দিকে। এই কাণ্ড কখন করল বিনয়। ঘরটা এত সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। রুপু মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়েই রইল। বিনয় রুপুর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“পছন্দ হয়েছে তোমার?”
“হুঁ। তবে কাঁচা ফুল দিয়ে সাজালে আরও বেশি সুন্দর হতো।”
“কাঁচা ফুল ওনারা এলাউ করল না।”
“কখন করলে এই কাণ্ড।”
“আমি কিছুই করিনি। সব অয়ন ব্যবস্থা করেছে।”
“ছিঃ ছিঃ.. তোমার লজ্জা করল না।”

“আশ্চর্য লজ্জা করবে কেন! নিজের আপন বউকে নিয়ে একটা রাত বাইরে থাকব। এতে লজ্জার কী আছে।”
“বাইরে থাকা। আর ভাইকে দিয়ে বাসর সাজিয়ে ফেলা। দুটো দুইরকম হয়ে গেল না।”
“বাসরঘর সাজানোর কথা আমি অবশ্য বলিনি। এই ব্যাপারটা অয়ন নিজে থেকেই করেছে।”
“আমার খুব লজ্জা লাগছে। না জানি অয়ন কী ভাবছে।”
“কী সৌভাগ্য আমার। রুপু রানী আবার লজ্জা পাচ্ছে নাকি।”
রুপু চোখ রাঙাল। বিনয় নিঃশব্দে হেসে ফেলল। ঘরের সবগুলো লাইট জ্বেলে দিতে দিতে বলল,
“তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। তারপর আমরা দুজন একসাথে কফি খাব।”
রুপু কথা বাড়াল না। ফ্রেশ হতে চলে গেল।
রুপু হাত-মুখ ধুয়ে ঘরে এসে দেখল, বিনয় গরম ধোঁয়া ওঠা কফির মগ হাতে নিয়ে বসে আছে। রুপুকে দেখে ইশারায় কাছে ডাকল। বিনয়ের তাকানো অন্যরকম। রুপুর গা শিরশির করে উঠল। রুপুকে হাত ধরে নিজের পাশে বসিয়ে দিল বিনয়। কফির মগটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“কফি খাও।”
রুপু কফির মগ ধরতে ধরতে বলল,
“একটা মগ কেন? তুমি খাবে না?”
“খাব। একটা মগে দুজন ভাগাভাগি করে খাব।”
রুপু কফির মগে ছোট ছোট করে চুমুক দিল। বিনয় রুপুর অর্ধ খাওয়া কফির মগটা নিয়ে রুপু ঠিক যেখানে ঠোঁট ছুঁইয়ে কফিতে চুমুক দিয়েছে। বিনয়ও সেইখানে ঠোঁট ছুঁইয়ে আবেশে চোখদুটো বন্ধ করে ফেলল। এ-ই দৃশ রুপুর সহ্য হলো না। অন্যদিকে তাকিয়ে প্রাণপনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতে লাগল। বলল,
“ঘরের সবগুলো লাইট জ্বেলে দিয়েছ কেন? বন্ধ করো। এত আলোতে আমার ঘুম হয় না।”
বিনয় রুপুর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কে যেন আমাকে বলেছিল, যেদিন ঘরের সবগুলো লাইট জ্বেলে রাখতে পারবে। শুধুমাত্র সেইদিনই আমার কাছে আসবে। তার আগে না। তুমি চাইলে আজ সারারাত লাইট জ্বালানো থাকবে। কোন অসুবিধে নেই।”
অতিরিক্ত লজ্জায় বিনয়ের চোখের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই পারল না রুপু। ওর খুব অস্থির লাগছে। মায়ের ছায়া থেকে বের হতেই বিনয়ের সাহস তরতর করে বেড়ে যাচ্ছে। আর রুপুর সাহস একটু একটু করে কমছে। বিনয় প্যান্টের পকেট থেকে একটা আংটি বের করল। ডায়মন্ডের আংটি। আংটিটা খুব যত্ন করে রুপুর হাতে পড়িয়ে দিয়ে রুপুর হাতের উল্টো পিঠে চুমু এঁকে দিল। ঠিক তখনই মায়ের ফোনটা বেজে উঠল। বিনয়-রুপু দুজনই এতক্ষণ ঘোরের মাঝে ছিল। অসময়ে মায়ের ফোন আসতেই রুপুর ঘোর কেটে গেল। এবং আশ্চর্য হয়ে দেখল, বিনয় মায়ের ফোন কেটে দিয়ে ফোনটা সুইচঅফ করে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলল। বিনয়ের কাণ্ডকারখানায় আজ কী শুধু রুপুর চমকাবার দিন?
বিনয় হাঁটুমুড়ে রুপুর পায়ের কাছে এতক্ষণ বসেছিল। এখন রুপুর হাতদুটো টেনে নিয়ে নিজের গালে রেখে গাঢ় কণ্ঠে বলল,

“মায়ের পরে আমার জীবনে তুমিই একমাত্র নারী। যাকে আমার প্রচণ্ড ভালো লেগেছে। যাকে কারণে-অকারণে বার বার স্পর্শ করতে ইচ্ছে করে। ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। গভীর ভাবে কাছে পেতে ইচ্ছে করে। ছাত্র জীবনে মায়ের ভয়ে প্রেম-ভালোবাসা করা তো বহুদূরের কথা। এর ধারের কাছ দিয়েও যেতে পারিনি। আমাদের বিয়ে যখন ঠিক হলো। তোমাকে নিয়ে সারাক্ষণ ভাবতাম আমি। এমন কোন দিন নেই যে তোমাকে নিয়ে সুখস্বপ্ন দেখিনি। আমার কল্পনায় সারাক্ষণ তুমি বিচরণ করতে। আমাদের একসময় বিয়ে হলো ঠিকই তবে তোমাকে আর নিজের করে পাওয়া হলো না।”
বিনয়ের স্বপ্নভঙ্গ, হতাশা রুপুকে কী নিদারুণ ভাবেই না ছুঁয়ে গেল। মানুষটা রুপুর জন্য এতটা ব্যাকুল ছিল। কখনো বুঝতেই পারেনি রুপু। কিংবা বুঝেও না বোঝার ভান করেছে। রুপু কথা ঘুরিয়ে বলল,

“অথৈ কী ঠিকঠাক ভাবে বাড়ি পৌঁছে গেছে?”
“হুঁ।”
“মা যদি অথৈকে কিছু জিজ্ঞেস করে?”
“জিজ্ঞেস করবে না। সেই ব্যবস্থা অয়ন নিশ্চয়ই করে রেখেছে।”
“কী ব্যবস্থা করেছে। তুমি জানো কিছু?”
“না।”
রুপু আর কোন কথা খুঁজে পেল না।
বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি নামছে। রুপু উঠে দাঁড়াল। একপা দুপায়ে জানালার পাশে চলে গেল। বিনয়ও রুপুর পিছুপিছু গেল। রুপু জানালার কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। জানালা ঘেঁষে একটা কৃষ্ণচূড়ার ডাল এসে এলিয়ে পড়েছে। গাছের ডালে লালরঙা থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে আছে। রুপু মুগ্ধ হয়ে ফুলের দিকে তাকিয়ে রইল। বৃষ্টির ছাট এসে রুপুকে বরংবার ভিজিয়ে দিচ্ছে।
বিনয় রুপুর পেছনে এসে দাঁড়াল। রুপুর পিঠ গিয়ে ঠেকল বিনয়ের বুকের সাথে। বৃষ্টির ঠাণ্ডা জলের স্পর্শ ও বিনয়ের উষ্ণ স্পর্শ দুইয়ে মিলে-মিশে রুপুর মনে ছোটখাটো ঝড় তুলল। বুকের ভেতর হাহাকার। মনটা বড়ই উদাসী। বিনয় দুহাত দিয়ে রুপুর কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রুপুর ঘাড়ে মুখ রাখল। অজানা শিহরণে রুপুর বুকের ভেতরে হাতুড়িপেটা শব্দ হচ্ছে। নিঃশ্বাস খুব দ্রুত ওঠানামা করছে।
বিনয় গাঢ় কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,

“বৃষ্টিতে ভিজবে রুপু?”
রুপু আবেশে জড়ানো কণ্ঠে বলল,
“না।”
“খুব বেশি রাত হয়নি। চলো রিকশায় করে দুজনে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কাছে কোথাও ঘুরে আসি।”
“সাথে কোন জামাকাপড় নেই। বৃষ্টিতে ভেজার পরে কী পরব।”
বিনয়ের মুখে অন্যরকম হাসি ফুটে উঠল। রুপু বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। বিনয়ের হাসিমুখ দেখতে পেল না।
বিনয় আচমকা রুপুকে কোলে তুলে নিল। রুপু পরে যাবার ভয়ে চোখদুটো বন্ধ করে বিনয়ের গলা জড়িয়ে ধরল।
যেভাবে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। সারারাতেও থামা-থামির নাম নেই। বৃষ্টিতে ঢাকা শহর ভেসে যাক। এই বৃষ্টি ভেজা মনোমুগ্ধকর রাতে বিনয় নামের বোকাসোকা ছেলেটা রুপুকে পুরোপুরি নিজের করে পাওয়ার আনন্দে কেঁদে ফেলুক।
বিনয়ের বাড়াবাড়ি রকমের আদর রুপুর সহ্য হচ্ছে না।
রুপু লজ্জামাখা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“লাইট বন্ধ করো প্লিজ।”
“না না না।”

রুপুকে আরকিছু বলার সুযোগ দিল না বিনয়। রুপুর ঠোঁটজোড়া অন্যভাবে বন্ধ করে দিল।
ভাগ্যিস রুপুটা তখন মিথ্যে বলে বিনয়কে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিল। নাহলে রুপুকে নিজের করে কাছে পাওয়ার স্বপ্ন সারাজীবন অধরা স্বপ্নই থেকে যেত।
দুটি নর-নারীর সুখের মিলনে বৃষ্টিতে ভেজা কৃষ্ণচূড়া ফুল গাছটাও লজ্জা পেয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছে।
অথৈ কলিংবেল দিতেই অয়ন দরজা খুলে দিল। অথৈ ভয়ে ভয়ে ঘরে এলো। অয়ন অথৈয়ের ভয় জড়ানো মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। বলল,
“তুমি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছ বেয়াইন সাব। তোমার ভয়ের কারণ গভীর ঘুমে মগ্ন। আগামীকাল দাদা-বউদি আসার আগ পর্যন্ত মনে হয় না, এই ঘুম ভাঙবে। আপাতত নিশ্চিন্তে থাকো।”
অথৈ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
“আমার বউদির প্রচণ্ড বুদ্ধি তাই না বেয়াইন সাব।”
“হুঁ। ছাদের ঘরের চাবিটা দিন।”
“এখুনি ঘুমাতে যাবে?”
“হুঁ।”
“বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। তুমি আজ দাদা-বউদির ঘরেই ঘুমাও।”
অথৈ কঠিন মুখে বলল,

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৬

“না। আমি ওই ঘরেই ঘুমাব।”
“সেদিনের কথার জন্য আমার উপরে রাগ রেখো না বেয়াইন সাব।”
“আমার কারো উপরে রাগ নেই।”

রুপুর বিয়ে পর্ব ১৮