সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৩
তানিয়া হুসাইন
ইশায়ার জীবন যেন দিনে দিনে আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তার জন্য বরাদ্দকৃত খাঁচাটা সময়ের সঙ্গে আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে।
দম বন্ধ করা এক শ্বাসরুদ্ধ পরিবেশে প্রতিটি সকাল যেন তার জন্য নতুন এক শাস্তি নিয়ে আসে।
সেদিন তার অসুস্থতার কারণে ভীর কিছু করেনি ঠিকই,
কিন্তু ইশায়ার বলা কথাগুলো গভীরে গিয়ে আঘাত করেছিল তাকে।
তবে আঘাত নয়, বরং সেই কথাগুলোই ভীরের মধ্যে জন্ম দেয় এক অন্যরকম জেদ।
____একদিন ঠিক-ই চলে যাবো আমি এখান থেকে। আপনি আমাকে এইভাবে সারাজীবন আটকে রাখতে পারবেন না।
ইশায়ার মুখ থেকে এই কথাগুলো শোনার পর, ভীর যেন এক অন্য সিদ্ধান্তে উপনীত হয়,
তাকে শুধু বন্দি নয়, পুরোপুরি নজরবন্দি করে ফেলে,
এরপর থেকেই ইশায়ার চারপাশে বদলে যেতে থাকে সবকিছু।
আগের থেকেও বেশি দুর্বিষহ হয়ে যায় তার জীবন।
গার্ডদের সংখ্যা আগের তুলনায় তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিনরাত নারী গার্ডরা তার আশপাশে থাকে।
আগে ২/১ জন থাকলেও এখন ১৫/২০ জন।
তাদের চোখের পলক পড়াটাও যেন অনুমতি সাপেক্ষে হয়।
ইশায়া নিঃশ্বাসও নিতে পারে না ভীরের অজান্তে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে সে।
ইশায়ার জন্য আগে যেটুকু বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল, তাও সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেয় ভীর।
এখন সে কেবল রুমেই থাকবে।
এই রুমই তার পৃথিবী।
আর এইখানের সবকিছুর কন্ট্রোল শুধুই ভীরের হাতে।
___বেলকনির দরজাটা ও বন্ধ করে দেয় ভীর।
জানালাগুলো ও
ভিতর থেকে কোনোভাবে খোলা সম্ভব নয় এমন ভাবে আটকানো সবকিছু।
ইশায়া যাতে নিজের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, এমনকি রাগ করে কিছু ভাঙতেও না পারে সেজন্য রুম থেকে সরিয়ে ফেলা হয় সব ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু।
কাঁচের আয়না, পারফিউম এর বোতল, ধারালো জিনিসপত্র সবকিছু।
এমনকি জামা-কাপড়েও নেই কোনো ধাতব বা শক্ত অংশ, যা দিয়ে সে নিজেকে আঘাত করতে পারে।
____গার্ডদের ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তারা শুধুমাত্র ভীরের বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যোগাযোগ করে।
ইশায়ার খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে, তার জন্য নির্ধারিত জামা-কাপড়,তার চুলের যত্নের জন্য পর্যন্ত সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা লোক নিযুক্ত করে দেয় ভীর।
সে কখন কোন জামা পরবে, কোন রঙে থাকবে, এমনকি তার যাবতীয় সবকিছু নির্ধারণ করে দেয় সে নিজে প্যালেসে থাকাকালীন সময়ে সবকিছুই তার নির্দেশ অনুযায়ী হয়, তার কথা অনুযায়ী করতে হয় সবকিছু।
আর ভীর প্যালেসে না থাকাকালীন সময়ে ইশায়ার জন্য সিকিউরিটি আরো কড়া করে দেওয়া হয়।
___ ইশায়া যদি কিছু খেতে না চায়,
তার রিপোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে চলে যায় ভীরের কাছে।
ভীরের হিংস্র আচরণে আর নিজের পরিবারের সুরক্ষার জন্য ইশায়া বাধ্য হয় ভীরের কথা মানতে।
___ভীর কোনো রকম রিস্ক নিতে চায় না ইশায়াকে নিয়ে।
সে জানে, ইশায়া কখনোই এখান থেকে বের হতে পারবে না।
তবুও সে নিজের পাহারায় কোনো ফাঁক রাখতে চায় না।
ইশায়ার ওইদিনের কথাগুলো ওর মস্তিষ্কে গেথে গেছে।
প্রতিটি মুহূর্তে ইশায়া তার দখলে থাকবে, চোখের সামনে থাকবে তা সে দূর থেকেও হোক কিংবা সামনাসামনি।
তার এই দখল কেবল শারীরিক নয়, মানসিক
একপ্রকার দমনমূলক ভালোবাসার রূপ।
ইশায়া তার কাছে থাকবেনা এটা সে মাথায় ও আনতে পারেনা।
ওকে নিজের কাছে রাখতে,নিজের করে রাখতে তাকে যা করতে হয় সে করবে।
সবকিছু ধ্বংস করে হলেও তাকে নিজের করে রাখবে।
বাংলাদেশ।
রাত:১২টা।
আজ ইশায়ার জন্মদিন।
এই দিনে পুরো বাড়ির আবহাওয়া যেন একেবারেই অন্যরকম।
পূর্বে যেখানে এই দিন ঘিরে থাকতো হাসি, উপহার, রান্নার গন্ধ, আজ সেখানে শুধু নিস্তব্ধতা।
তবুও, আদনান সাহেব ও সায়মা বেগম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
ইশায়া ও সাফার আত্মার মাগফেরাতের জন্য একটি এতিমখানায় দান ও খাবারের আয়োজন করবেন।
এসব নিয়েই তারা আলোচনা করছেন সবাই।
কাল তাদের অনেক কাজ।
____সকাল বেলা ভোরের দিকে ঘুম থেকে ওঠেন আদনান সাহেব।
চুপচাপ হেঁটে চলে যান ইশায়ার ঘরের দরজার সামনে।
হাত রাখেন দরজায়, একটু থমকে দাঁড়ান।
এই ঘড়টা এখন খালি,তারও আসা হয় না তেমন।
কিন্তু আগে এই রুমে তার কত যাওয়া আসা হতো।
তার মেয়েটার ছোটাছুটি চলতো পুরো বাড়ি জুড়ে।
একমাত্র মেয়ের কথা ভাবতেই ভেতরটা হাহাকারে ভরে ওঠে।
তার সব থেকে আদরের বাচ্চাটা আজ নেই।
দরজা খুলে ভেতরে ঢোকেন আদনান সাহেব।
ঘরটা একদম আগের মতোই আছে,
সায়মা বেগম সবসময় গুছিয়ে রাখেন সবকিছু।
মেয়ের প্রত্যেকটা জিনিস যত্ন সহকারে তুলে রেখেছেন,
বিছানায় পরিপাটি চাদর, মধ্যিখানে তার বড় পুতুল। দেয়ালে ইশায়ার প্রিয় ছবিগুলো, জানালার পাশে টেবিলে রাখা তার প্রিয় বই সব কিছুই আগের জায়গায় আছে নেই শুধু ইশায়া।
এক কোণে রাখা তার পুরনো গোলাপি রঙের বাইসাইকেল হেলমেটটা দেখেই চোখে জল চলে আসে আদনান সাহেবের।
তারপর খাটের পাশের ছোট্ট টেবিলের ড্রয়ার থেকে মেয়ের একটা ছবি বের করেন।
ছবিটাতে হাত বুলিয়ে দেন মমতার সহিত,
ইশায়ার আগের বছরের জন্মদিনের কথা মনে পড়ে যায় তার,
সে স্কুটি চেয়েছিল। আগের স্মৃতি ফিরে আসে।
আব্বু, আব্বু আমার স্কুটি চাই।
তুমি কিন্তু না করবে না!
তখন আদনান সাহেব বলেছিলেন,
___তোমার ১৮ তম জন্মদিনে দিবো মা।এখন তুমি অনেক ছোট।
কখন কি দুর্ঘটনা ঘটে যায় তার ঠিক নেই। তুমি আর একটু বড় হয়ে নাও।
ইশায়া জেদ ধরে এই নিয়ে।
তখন আদনান সাহেব অনেক বুঝিয়ে মেয়েকে সামলান।
পরের বছর দিবো আমার রাজকন্যাকে এই কথা বলে।
__কিন্তু আজ, তার রাজকন্যা নেই।হাতের তালু দিয়ে চোখ ঢেকে নেন।
কোনো শব্দ করেন না, ঘর ভরে যায় তার নিঃশব্দ কান্নায়।
___সায়মা বেগম রান্নাঘরে কাজ করছেন।
ঘুমান নি সারারাত।মেয়ে ছাড়া আজ মেয়ের প্রথম জন্মদিন।
ইতোমধ্যেই বাড়িতে দান ও রান্নার আয়োজন চলছে,
তবুও তিনি নিজ হাতে ইশায়ার পছন্দের কিছু রান্না করেন,যেমন লেবু দিয়ে ডাল,
গরুর কালো ভুনা, কোরমা আর সুজি।
রান্নার ফাঁকে ফাঁকে থেমে যান বারবার।
মেয়ের একটা ওরণা বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন,
আমার মেয়ে আজ থাকলে ভাবতেই বুক ভারী হয় তার।
আমার রাজকন্যা এখন কোথায়?
তার গলা ধরে আসে,
তিনি চুলার পাশে বসে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।
রাহি দৌড়ে এসে ধরে তাকে।
রাহি আর জান্নাতকে দেখে নিজেকে সামলান তিনি,
তবুও চোখের পানি আটকাতে পারেন না।
___আবির, আর আদ্রিয়ান আজ সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
যারা যারা এসেছে সবাইকে
পানির গ্লাস, খাবার, সব এগিয়ে দিচ্ছে।
খতম শেষ করিয়েছেন।
কিন্তু মাঝেমধ্যে সে চুপচাপ হয়ে পড়ে।
বোনের কণ্ঠ, তার হাসি, তার ভাইয়া আমার গিফট কই? এই কথা গুলো বারবার কানে বাজে।
সবার মাঝে থেকেও মনটা তার পুড়ছে বার বার।
চোখ থেকে চশমা খুলে আকাশের দিকে তাকায় আবির,
নিজেকে সামলে আবারো কাজে লেগে পড়ে।
___আদ্রিয়ান হয় রান্নাঘরে, হয় মেহমানদের পাশে, নয়তো হেল্পিং হ্যান্ডদের নির্দেশ দিচ্ছে,
তাকে আজ সবার থেকে বেশি ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু শুধু বাইরে ব্যস্ত, ভেতরে সে একদম নিঃশেষ।
আজ থেকে এক বছর আগেও এই দিনে সব ঠিক ছিলো।
সাফা আর ইশায়া একসাথে কেক কেটেছিল।
তাদের খিলখিল হাসি এখন এক শূন্য স্মৃতি।
___আমি ওদের বাঁচাতে পারলাম না, আমি একজন পুরুষ হয়ে ওদের কাছে ব্যর্থ।
এই বোধ তাকে ছিঁড়ে ফেলে ভেতরে ভেতরে।
জান্নাত আজ রান্না প্যাকেট গুছানো, ছোট বাচ্চাদের পোশাক দেওয়া এগুলোয় ব্যস্ত।
আবার সবাইকে সামলাতেও হচ্ছে।
সব কাজ খুব সুচারুভাবে সামলাচ্ছে সে।
তার নিজের দুই চোখও লাল।
__তুমি নেই ইশায়া, কিন্তু বিশ্বাস করো, আমরা তোমায় প্রতিদিন অনুভব করি।
আদ্রিয়ান গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরে,
খাবার প্যাকেট গুলো এতিমখানায় পাঠানো হয়।
সবাই মিলে দোয়া করে।
চারপাশে শিশুদের হাসির শব্দ শোনা যায়,
কিন্তু ইশায়ার পরিবারের মুখে নেই কোনো হাসি।
সবাই চুপচাপ, আবেগে গলা ভারী।
এটা এমন একটা জন্মদিন
যেখানে কেক নেই, উপহার নেই,
শুধু অদেখা দুই বোনের জন্য অশ্রুভেজা ভালোবাসা আছে।
_____ইশায়ার হাত এখন ভালো।
এই ১৫ দিনে পুরোপুরি ভালো হয়ে গেছে সে।
কিন্তু তার মন সবসময়ের মতে বিষন্নতায় ঘেরা।
সময় যেন এখানে থমকে গেছে তার জন্য।
দিন, রাত, তারিখ কিছুই জানেনা সে।
সে জানেই না আজ কয় তারিখ, কোন মাস, এমনকি আজ তার জন্মদিন কিনা তাও নয়।
একটা ঘরের মধ্যে বন্দি জীবন,
যেখানে শুধু নিঃস্তব্ধতা আর আত্মার চিৎকার ভেসে বেড়ায়।
তার মুখে শব্দ নেই, চোখে জল নেই,
কিন্তু অন্তরের প্রতিটা কোণে কষ্ট যেন চুপচাপ রক্ত ঝরায়।
তার চলাফেরা এখন যন্ত্রের মতো।
ঘুম থেকে উঠে, খাবার খায়, মেডিসিন নেয়,
সব কিছুই গার্ডদের তত্ত্বাবধানে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
আর আছে ভীরের বিষাক্ত ছোয়া।
সে নিজেও জানে না সে এখনো কেন বেঁচে আছে।
_তার চোখের সামনে সবসময় তার বাবার মুখ ভেসে ওঠে,
মায়ের কান্না মনে পড়ে,
আবির ভাইয়া,আদ্রিয়ান ভাইয়া, জান্নাত ভাবী, আর সাফা।
সাফা তার চারপাশে থাকে সবসময়।
সে ঠিক দেখতে পায় তাকে।
সাদা রঙের একটা জামা পরে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকে।
তার সাথে কথা বলে সবসময়,
___ইশু, তুই ভেঙে পড়বি না। আমি তোকে কিছু হতে দিবো না, বুঝলি?
এই শব্দগুলো বারবার বাজে তার মাথায়।
ইশায়া একা একা কথা বলে সাফার সঙ্গে।
মাঝেমধ্যে চুপচাপ বসে থাকে।
___সাফা শুধু একটা কথাই বার বার বলে,
ভেঙে পড়িস না ইশু,ধৈর্য ধর দেখিস একদিন ঠিক তুই এই জায়গা থেকে বের হতে পারবি,ততদিন একটু ধৈর্য ধর।
মরার কথা মাথায় আনিস না।
আমার কাছে অন্য কোন রাস্তা ছিল না, কিন্তু তুই, তোকে এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না।
তোকে লড়াই করতে হবে মুক্তি পেতে হবে।
ইশায়া চুপচাপ শুনে।
আবার সাফা হারিয়ে যায়,ইশায়া তাকে খোঁজে।
তারপর সেই কাঁদা একা একা, ঘুমের মধ্যে কেঁপে ওঠা,
আচমকা উঠে পড়া আর দরজার দিকে তাকিয়ে থাকা
যেন কেউ তাকে নিতে আসবে, কেউ তাকে বলবে,
_চলো ইশু বাড়ি যাই।কিন্তু কেউ আসে না।
উত্তেজনা ছড়ানো এক অদ্ভুত চাপা পরিবেশ।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় মাফিয়া বস আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে বসেছে।
এই সভায় হাজির তার সব শীর্ষ সহযোগী,
ড্রা*গ ট্রান্সপোর্ট, অ*স্ত্র সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সব কিছু নিয়েই আজ সিদ্ধান্ত হবে।
বসা আছে চারপাশে কর্পোরেট স্যুট পড়া হেভিওয়েট সব মাফিয়া প্রতিনিধি।
সবার মধ্যমণি হয়ে টেবিলের হেড চেয়ারে বসে আছে রাজভীর আলভারেয।
তার চোখে চিরচেনা শীতল দৃষ্টি, ঠোঁটে কোনো হাসি নেই।
____কালো রঙের স্যুট, খোলা গলার মাঝে হালকা সোনালি চেইন, রোলেক্স ঘড়ি হাতে।
তার শরীরের গঠন এমন যেন কালো পোশাকে আগুনের ছায়া!
শ্যাম বর্ণের গায়ের রঙে সূর্যের আলো পড়লে যেন আগুন ঝরে চোখ থেকে।
তীক্ষ্ণ চোয়াল, গভীর চোখ আর নিখুঁত চুলের ব্যাকব্রাশ
ভীর যেন একটা জ্বলন্ত শাসন।
এইখানে তার উপরে কথা বলার কেউ নেই।
এই গোটা মেক্সিকো শহরের বাদশা সে।
সে যেমন ধ্বংস করে, তেমনি সৃষ্টি করে ভয়।
____ডিয়েগো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট বের করে সামনে রাখে,
নিকো পরবর্তী অ*স্ত্র চালানের শিডিউল বুঝিয়ে দিচ্ছে ম্যাপে।
সবাই নিজেদের মতো করে কথা বলছে, বিশ্লেষণ করছে।
কিন্তু ভীর চুপ।
তার চোখের দৃষ্টি যদিও সামনে, কিন্তু মন যেন কোথাও আটকে আছে।
প্রায় দশ মিনিট যাবত সে কোনো কথা বলেনি।
তার আঙুল রেস্টলেসভাবে টেবিলের উপর টুক টুক করছে।
হঠাৎ,
ভীর সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ায়।
তার চোখ ঝলসে উঠেছে, যেন ভেতরে কিছু একটার আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে।
ভীর গম্ভীর গলায় বলে,
—ডিয়েগো, নিকো! তোমরা বাকিটা সামলাও।
আমি আসছি।
___কেউ তাকে কোন প্রশ্ন করার সাহস পায় না।
তারপর কোনো উত্তর না দিয়েই ভীর গটগট করে বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
চুপচাপ চোখে সবাই তার চলে যাওয়া দেখে।
সবার মনে একটাই প্রশ্ন বস কাজ ফেলে কীসের পেছনে ছুটছে?
কেন এই ভয়ঙ্কর মানুষ এতটা অস্থির?
ভীরের রাগী, কঠোর মুখে যেন অদ্ভুত এক দুর্বলতা।
সে নিজের ল্যাম্বোরগিনির দরজা খুলে উঠে পরে,
ড্রাইভার নেয় না সাথে।
তার হাতের পেশি শক্ত করে স্টেয়ারিং ধরে রেখেছে।
মিনিটে মিনিটে গতি বাড়ছে।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩২
গাড়িটা গর্জে উঠছে রাস্তায়,তার চোখ তীব্র, কিন্তু মনের ভেতরে চলেছে এক যুদ্ধ।
সে জানে না কেন, কিন্তু আজ তাকে প্রাসাদে ফিরতেই হবে।
গত দুইদিন কাজের জন্য-ই ফেরা হয়নি তার প্রাসাদে।
তবে আজ, আজকের দিনটা আলাদা।
কেন জানে না আজ তার মন বারবার টানছে তাকে।
