Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৮

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৮

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৮
লিজা মনি

ভোরের আলো তখনো ফোটেনি।দিগন্তের কোনো এক অচিন প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে ফজরের আজানের সুর। এক অলৌকিক নিস্তব্ধতা ভাঙার আহ্বান এইটা। রুমের ভেতরে বসে থাকা এক রমণী দহনে ছটফট করছে। রিদ্ধিমার চারপাশটা যেন আজ অন্য কোনো গল্পের পাণ্ডুলিপি লিখছে। প্রকৃতির বুকে নেমে এসেছে উন্মত্ত তান্ডব। বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দে মনে হচ্ছে পৃথিবীটা এখন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। জানলার ওপাশে মহীরুহগুলো আর্তনাদ করে আছড়ে পড়ছে মাটিতে। ঠিক যেমনটা তার সাজানো স্বপ্নের পৃথিবীটা কয়েক দিন আগে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে।

​চোখের পাতায় এক ফোঁটা ঘুম নেই তার। আছে শুধু এক দহনকারী শূন্যতা। রিদ্ধিমা ছটফট কমাতে পানি খায়। তৃষ্ণার্ত গলাটা ভিজিয়ে নেয় কিছুক্ষণের জন্য। ঘন নিশ্বাস টেনে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কানে এখনো বাজছে নাভিদের সেই নির্মম শব্দগুলো। এই মানুষটা তার জীবনের প্রথম প্রনয়ের পুরুষ। এক দেখাতেই প্রেমে পড়েছিলো এই পুরুষটার। লোকে বলে মেয়েদের প্রথম প্রেমে পড়তে নেয়। প্রেমে তো পুরুষ পড়বে। এরপর সে নিজের দিকে টেনে নিয়ে আসবে।
এই বাস্তবতার প্রাচীরে দাঁড়িয়ে রিদ্ধিমার কাছে এইটা ভুল মনে হচ্ছে। পুরুষ যদি প্রথম প্রেমে পড়ে তবে সে নারী হয়ে কেনো প্রথম প্রেমে পড়লো! কিন্তু এই প্রেম যে বড্ড নৃশ্যংস।
যে মানুষটা ছিল তার জীবনের প্রথম বিকেলের রোদ্দুর, তার প্রথম প্রণয়—সেই মানুষটা আজ অন্য কোনো এক নারীর বিরহে ছটফট করছে! এই সত্যটা পাঁজরের হাড়ের নিচে এক তীক্ষ্ণ শূলের মতো বিঁধে আছে। প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে বুকটা ভারী হয়ে আসছে। ফুসফুস গুলোও বেইমানি করছে তার সাথে। বুকের চাপা কষ্টে বাতাস নেওয়ার অধিকারটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।
রিদ্ধিমা বাহিরের দিকে তাকায়। বাইরে যখন ঝড়ের তাণ্ডব তুঙ্গে। রিদ্ধিমার মন তখন ছুটে গেছে কোনো এক ধূসর সমুদ্র সৈকতে। তার মনে বারবার উঁকি দিচ্ছে এক বিষাদময় প্রশ্ন,

​”এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগের মাঝেও কি লোকটা সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় ভিজে বসে আছে? কি আছে ওই জায়গাটার মধ্যে? কেনো উনি সব সময় এই জায়গাটার মধ্যে এইভাবে বসে থাকেন? উনার চোখে এত যন্ত্রনা কেনো?
ছটফট মন আরও ছটফট করে উঠে। শরীরে উড়না পেঁচিয়ে বাহিরে যাওয়ার জন্য রেডি হয়। প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি রিদ্ধিমাকে আজ আর বাধা দিতে পারে নি। ভয় নামক শব্দটাও তার ভেতরে নেই এখন। চারদিকের প্রলয়কে উপেক্ষা করে সে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। মেইন করিডর পার হয়ে যখন সে উন্মুক্ত আকাশের নিচে দাঁড়ায় তখন ভোরের আবছা আলো আর ধুলোর আস্তরণ রিদ্ধিমার শরীর স্পর্শ করে যায়। পাগলাটে বাতাস বারবার তার অবাধ্য চুলগুলোকে চোখে-মুখে আছড়ে ফেলছে। গায়ের ওড়নাটা বাতাসের ঝাপটায় শরীরের সাথে লেপ্টে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে। কিন্তু সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
​রিদ্ধিমার গন্তব্য একটাই সমুদ্রের সেই নোনা জলরাশি। যেখানে তার অস্তিত্বের অর্ধেকটা পড়ে আছে। রিদ্ধিমা ছুটে যায় সেদিকে। ​উত্তাল সমুদ্র ও হৃদয়ের স্পন্দন
​মিনিট দশেকের রুদ্ধশ্বাস পথ চলা। বাতাসের তীব্র বেগে সমুদ্রের গর্জন বহুদূর থেকেই কানে আসছিল। মনে হচ্ছে কোনো এক ক্ষুধার্ত দানব তর্জন-গর্জন করছে। বালির চড়া ডিঙিয়ে রিদ্ধিমা যখন কাঙ্ক্ষিত মানুষটির দেখা পেল তখন তার ধুকপুক করতে থাকা হৃদপিণ্ডটা মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তার পায়ের গতি কমে যায়।
​নাভিদ বসে আছে। ঠিক আগের মতোই।

​সবটুকু ভয় আর সংশয় ছাপিয়ে রিদ্ধিমার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা ফুটে উঠে। ঝড়ের প্রচণ্ডতায় তার ভেতরটা কেঁপে উঠছিল ঠিকই কিন্তু প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তিটাই ছিল বড়। সাহসে ভর করে, ঝড়ের শব্দকে ছাপিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে সে ধীর পায়ে নাভিদের পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। গলা কাঁপছে তার। কাঁপাকাঁপা হাতে আলতো করে রাখে নাভিদের চওড়া পিঠে।
রিদ্ধিমার ভাবনা নাভিদ বুঝি শান্ত চোখে তার দিকে তাকাবে। কিন্তু ​এক নির্মম গর্জন ​স্পর্শটা লাগার সাথে সাথেই নাভিদের ভেতর কোনো সুপ্ত আগ্নেয়গিরি জেগে উঠে। মুহূর্তের মধ্যে সে হিংস্র বাঘের মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠে। সেই চিৎকার এর শব্দ আর ঝড়ের শব্দ স্তিমিত হয়ে আসে । নাভিদের চোখে রাগের বহ্নিশিখা দেখে রিদ্ধিমা পাথরের মত দাঁড়িয়ে যায়। ​নাভিদের সেই আকস্মিক রুদ্রমূর্তি দেখে রিদ্ধিমার গলার কাছে শব্দরা দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। ভয়ে আর বিস্ময়ে একটা শুকনো ঢোক গিলে। নাভিদ তার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ঝড়ের বাতাস ছুয়ে দিচ্ছে তাদের দেহটাকে। আবছা আলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুইজন নর -নারীর দেহখানা। রিদ্ধিমা ভয়াতুর গলায় বলে,

” ঝড় হচ্ছে বাহিরে। আপনি বীচে কি করছেন?
নাভিদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। ধারালো স্বরে বলে,
” তুমি এখানে কি করছো?
ওই ভয়ানক আওয়াজ রিদ্ধিমা সহ্য করতে পারে না। গলা ভিজিয়ে বলে,
” দেখতে এসেছিলাম কোনো এক পুরুষকে। ভেবেছিলাম এই মুহূর্তে পাব না, কিন্তু কে জানত তাকে সত্যি পেয়ে যাব।
নাভিদ বাঁকা হাসলো। বুকে হাত গুঁজে বলে,
” ভয় করছে না ভেতরে?
” কাকে ভয় পাব? নিজেকে নাকি প্রকৃতিকে?
” যদি বলি আমাকে?
রিদ্ধিমা মুচকি হেসে বলে,
” ভয় পেলে কি আর তীব্র ঝড়ের মধ্যে আপনার কাছে আসতাম?
” আমার কাছে এসেছো?
রিদ্ধিমা চুপ হয়ে যায়। মুখে পড়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলোকে ঠিক করতে করতে বলে,

” রিসোর্টের ভেতরে চলুন।
নাভিদ একইভাবে সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে তাকায়,
” চলে যাও এখান থেকে।
” ঝড় আসছে।
” আসুক। আমার জীবন এমনিতেও ঝড়ের মধ্যে।
” শেয়ার করতে পারেন আপনার যন্ত্রনা। কষ্ট কম পাবেন। হালকা হবে আপনার মন।
নাভিদ চোখ -মুখ শক্ত করে তাকায়। রিদ্ধিমা অন্য পাশে তাকিয়ে বলে,
” প্লিজ এইভাবে তাকাবেন না। আপনি ধ্বংস হচ্ছেন যন্ত্রনায়। আর আমাকে ধ্বংস করছেন এই অভ্যন্তরীন মায়ায়। ভয় পায় আপনার চাহনিকে। প্লিজ তাকাবেন না।
নাভিদ বিদ্রুপ হেসে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। রিদ্ধিমা পিছনে যেতে যেতে বলে,

” রেখেই চলে যাচ্ছেন?
” আমাকে বলে এখানে এসেছো?
” তাহলে বলতে চাইছেন আপনার অনুমতি নিয়ে কেনো আসে নি?
” অতিরিক্ত বুঝো তুমি মেয়ে। নাভিদের পিছনে ঘুরে লাভ নেই। পাবে শুধু মরিচীকা। আমি এক জ্বলন্ত কয়লা। স্পর্শ করতে গেলেই ছাঁই হবে তুমি। বয়স কম, তাই সাবধান করলাম।
রিদ্ধিমা চুপ চাপ নাভিদের পিছন পিছন আসে। তার মধ্যেই বৃষ্টির ছোট ছোট ফুটা পড়তে আরম্ভ হয়। নাভিদ রিসোর্টের একটা নিরাপদ জায়গায় গিয়ে বসে। পাশা-পাশি রিদ্ধিমা গিয়ে ও দাঁড়ায়। বৃষ্টির মধ্যে নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

” আপনাকে একটু জানতে চাই।
” আমাকে জানলে এখানে আর দাড়িয়ে থাকার সাহস দেখাবে না।
রিদ্ধিমা অবাক হয়ে তাকায়। অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” কারোর অতীত কখনো তার পরিচয় হতে পারে না। আমি বর্তমানটাকে জানতে চাই। যাকে ভালোবাসেন তাকে কেনো নিজের করছেন না?
নাভিদের চোখ – মুখ মুহূর্তেই রাগে উন্মাদ হয়ে উঠে। সত্যি কি নাভিদ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে? হয়ত! অনেক কষ্টে নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করে বলে,
‘ তুমি আমার হতে মরবে দেখে নিও।
রিদ্ধিমা পিছনে ফিরে তাকায়। শব্দ করে হেসে বলে,
” তাহলে আমি সেটাকে কবুল করে নিলাম।
নাভিদ কপাল কুচকায়। মেয়েটার প্রতি এতটা রাগ হচ্ছে না তার। যখন থেকে সে এনিকে পাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে বসেছিলো তখন থেকে নারী সান্নিধ্য বিষাক্ত মনে হত। অথচ কত নারীর জীবন সে ছিঁড়ে খেয়েছিলো! আচ্ছা এতটা পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব! পৃথিবীতে তো কোনো সাইকো, নরখাদক সাধারন মানুষ হতে পারে না। তবে সে কিভাবে রাতারাতি হয়ে গেলো? এইটাই কি তবে সৃষ্টিকর্তার চাওয়া! নাভিদ শ্বাস ফেলে বলে,

” ঝড় কমলে বাড়ি ফিরে যাও।
” সমুদ্রের পাড়ে কি আছে? কেনো বার বার ওই জায়গাটার মধ্যে বসে থাকেন?
নাভিদের এইবার বিরিক্ত লাগছে। হাত নিশপিশ করছে কিছু একটা করার জন্য। ভেতরের পিশাচটা জেগে উঠতে চাইছে। ঠোঁট কামড়ে এনির চেহারা মনে করতে থাকে। নাভিদকে চোখ বন্ধ করে চুপ থাকতে দেখে বলে,
” কি হলো, চুপ আছেন কেনো?
” সে আমার পৃথিবী। আমার ছোট্ট পাখি। এই সমুদ্রের পাড়েই তাকে প্রথম দেখেছিলাম।তার প্রথম হাসি আমি অনুভব করেছিলাম। সমুদ্রের সন্নিকটে আসলে আমি তাকে অনুভব করি, অনুমান করি।
নাভিদের শ্বাস চলছে ঘন ঘন। রিদ্ধিমার বুকের ভেতরে তান্ডব চলছে। কথা গলায় আটকে আসছে। এরপরও হেসে বলে,
” যাকে এত ভালোবাসেন তাকে অন্যের সংসারে ফেলে রেখেছেন কিভাবে? কষ্টে কেনো এইভাবে ধ্বংস করছেন নিজেকে?
নাভিদের হাত শক্ত হয়ে আসে। উন্মাদের মত মাথার চুল খামছে ধরে গর্জে উঠে,

” আমার ধ্বংসের মুল হচ্ছে আমার ভয়ানক অতীত। সে আমার অতীত জানলে আমাকে ঘৃনা করবে। আমার অস্তিত্ব বুঝলেই বমি করে দিবে। কিভাবে নিজের পাপী অতীতকে ঢাকব? এক নরখাদক কখনো কারোর ভালোবাসা পেতে পারে না। একজন রে*পিস্ট কখনো কোনো নারীর কল্পিত পুরুষ হতে পারে না।
রিদ্ধিমার পায়ের তলার মাটি সরে যায়। ‘রেপিস্ট’ আর ‘নরখাদক’ শব্দদুটো তার কানের ভেতর তপ্ত সিসার মতো বিঁধছে। যে মানুষটার জন্য একটু আগেও তার বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরোচ্ছিল সেই মানুষটার দিকে তাকিয়ে এখন তার আত্মার ভেতরটা পর্যন্ত কুঁকড়ে উঠছে।
​নাভিদ উন্মাদের মতো নিজের চুলে আঙুল চালিয়ে ফুঁসছে। তার দুচোখে যেন নরকের লেলিহান শিখা জ্বলছে। রিদ্ধিমা ধীর পায়ে দু-কদম পিছিয়ে যায়। তার হাত-পা হিম হয়ে আসছে।শরীরের প্রতিটি রোমকূপ দিয়ে এক অদ্ভুত শীতল আতঙ্ক বয়ে যাচ্ছে। গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসা কথাগুলো এখন আর বেরোচ্ছে না। বরং ভয়ের তীব্রতায় তার দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। ​রিদ্ধিমা অস্ফুট স্বরে কেবল বলতে পারল,

“আপনি… আপনি এসব কী বলছেন? রে*পিস্ট! নরখাদক!”
​রিদ্ধিমার চোখের মণি স্থির হয়ে গেছে নাভিদের রুদ্রমূর্তির ওপর। যে নাভিদকে সে কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছিল তাকে এক লহমায় কেমন ভিনগ্রহের কোনো এক দানব বলে মনে হচ্ছে। চারপাশের বাতাস আরও ভারী হয়ে উঠছে। রিদ্ধিমার মনে হলো সে কোনো এক অন্ধকার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ নেই। কান্না করে উঠে রমণী,
” উত্তর দিন নেভিদ, দোহায় লাগে।
নাভিদ রক্তচক্ষু নিয়ে শান্ত চোখে তাকায়,
” ভয় পেয়েছো?
রিদ্ধিমা শক্তভাবে স্তম্ভে ধরে। মুখে হাত দিয়ে কান্না আটকানোর অযথা প্রয়াস চালায়। ভাঙ্গা গলায় বলে,
” প্লিজ বলুন।
নাভিদ ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের,

” আমাকে কোনো সাধারন ব্যক্তি মনে হলেও আমি মোটাও সেটা ছিলাম না বা এখনও নয়। রক্তের নেশা মাথায় উঠে গেলে হাত রক্তাক্ত না করলে আমার এখনও শান্তি আসে না। যে নাভিদকে বাঁচানোর জন্য এই ঝড়ের মধ্যে ছুটে এসেছো তার ভেতরের রুপ তো জানো এই না মেয়ে। আমি মাফিয়া সম্রাজ্যের অধিনায়কের ছেলে। একজন মানুষখেকো, নরখাদক।কুমারী মেয়েদের দেহের কাচা মাংস ছিলো আমার প্রতি দিনের খাবার। তাদের রক্ত দিয়ে গোসল করেছি লক্ষ্যবার। কত মেয়েকে যে রে*প করেছি তার হিসেব নেই। ধর্ম নেই আমার। আমি কোনো ধর্মের এই ছিলাম না। সবাই বলে একটা নরখাদক কখনো সাধারন হতে পারে না। আমি কিভাবে সাধারন হলাম?
রিদ্ধিমার শ্বাস থমকে আসছে। জমিনটা বুঝি ফেটে যাচ্ছে আর সে এর গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। নাভিদ বিষন্ন মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমি তার জন্য মক্কা ছুঁয়েছি যেখানে যাওয়ার কথা কোনোদিন কল্পনাও করি নি। আমি ছিলাম নরখাদক, রেপিস্ট। রাতারাতি এসেছিলো আমার মধ্যে এই পরিবর্তন। তার জন্য এত কিছু ত্যাগ করলাম অথচ সে এখন অন্যের ঘরে।
রিদ্ধিমার শরীর কাঁপছে। কথা বলার মত শক্তি ফুরিয়ে আসছে তার। কোনোরকম উচ্চারন করে বলে,
” কিভাবে বুঝলেন সে মুসলিম ছিলো।
নাভিদ হেসে বলে,

” ওকে যখন প্রথম সমুদ্রের পাড় দেখেছিলাম।।ভেবেছিলাম ওকে রক্ষিতা করব নিজের। শক্তি প্রয়োগ করে ছিনিয়ে নেওয়া ছিলো আমার ধর্ম। যা একবার নজরে আসতে তা রক্তের বিনিময়েও ছিনিয়ে নিতাম।।সামনে কেউ বাঁধা দিলে গলা কেটে সেই রক্ত পান করতাম। রক্ষিতা বানাব বলে ইচ্ছে পোষণ করেছিলাম। সে পড়ে যাচ্ছিলো। এমন সময় ওর সৃষ্টিকর্তা ” আল্লাহর ” নাম উচ্চারন করে। আর আমি আচমকা বলে উঠেছিলাম ” সুবহান আল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ” এই দুইটা শব্দ উচ্চারন করেই আমার জীবনে পরিবর্তন আসে। বাড়িতে ফিরে নারীদের বিষাক্ত লাগতে শুরু করে। পুরো রাত ঘুমাতে পারি নি। দুইদিন কোনো মেয়ের অস্তিত্ব সহ্য করতে পারে নি।পালিয়ে আসি নিজের অট্টালিকা থেকে। ও মুসলিম ছিলো তাই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করি।।ছলে -বলে কৌশলে ওদের আপন হয়ে উঠি। আমি নরমাল জীবন পার করতে আরম্ভ করি। আর মানুষের মাংস খায় না। ভালো লাগে না সেটা। অনেক বার চেষ্টা করেছি খাওয়ার জন্য কিন্তু তৃপ্তি আসে না আর।।রক্ত দিয়ে আর গোসল করি না। ওকে ছাড়া কোনো নারী ভালো লাগে না। ব্যবসার জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলাম। সেইদিন মক্কায় কাবা ছুঁয়ে নয় ঘন্টা কেঁদেছি, সে যাতে আমার হয়ে যায়। কিন্তু কেনো হলো না আমার? হয় নি সে আমার। আমি তো তার সপ্নের নায়ক হতে এত কিছু করেছি। আমাকে নিস্বঃ করে কিভাবে পর করে দিলো? আমি কিভাবে বাঁচব?
রিদ্ধিমার চোখের পানি শুকিয়ে আসে। শান্ত গুলায় বলে,

” আপনি কি সত্যি পরিবর্তন হয়েছেন? আপনার ইতাহাস থেকে যেটা অনুমান করলাম সেটা হলো এক সময় প্রচুর নিকৃষ্ট ছিলেন। এখনও কি আছেন এমন?
” না।
” তবে নিজের ভালোবাসার কাছে যেতে ভয় পান কেনো?
” কারন সে আমার সব জেনে যাবে। ওকে বলে দিবে সব কিছু। যদি এনি জেনে যায় তবে আমার উপর চরম ঘৃনা করবে।
রিদ্ধিমা বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বলে,
” এই মুহূর্তে আপনাকে সত্যি ভয় করছে আমার।
” সরে যাও।
” উহুম। অতীত আপনার যতটা নিকষ্ট বর্তমান আপনার ঠিক ততটা সুন্দর। অনেক মুভি, ড্রামা দেখেছি। সাইকোপ্যাথ, নরখাদক দেখেছি। বাস্তবে যে সত্যি এমন কাউকে দেখব কল্পনাও করি নি। আর তারা যে সাধারন জীবনে আসতে পারে সেটাও কোনোদিন ভাবিনি। আপনি সৃষ্টিকর্তার থেকে নতুন জীবন পেয়েছেন মি, নাভিদ। এমন পরিবর্তন কারোর আসে না। আপনাকে আল্লাহ সুযোগ দিয়েছে। জীবনকে অনুভব করে নিজেকে ভালোবাসুন। এইভাবে ধ্বংস করবেন না। আপনাকেও কেউ অন্ধের মত ভালোবাসতে পারে।
নাভিদ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে,

” আমার বাহ্যিক রুপ দেখে সবাই প্রেমে পড়বে ঠিক কিন্তু যখন আমিটাকে চিনবে তখন ভয়ে চলে যাবে। আমাদের কেউ ভালোবাসে না।
” যদি বলি আপনিটাকে কেউ ভালোবাসে।
রিদ্ধিমার ভাবনা অনুভব করে নাভিদ উঠে বসা থেকে। রিদ্ধিমার দিকে শিকারীর মত তাকিয়ে চলে যায় রিসোর্টের ভেতরে। রিদ্ধিমা ধপ করে বসে যায় চেয়ারের মধ্যে। এত ভয়ানক ব্যক্তিকে সে ভালোবাসলো কিভাবে? এত জঘন্য ছিলেন উনি? রিদ্ধিমা আর ভাবতে পারছে না। বৃষ্টি কমতেই ছুটে যায় নিজের বাড়ির দিকে। পাগলের মত ছুটছে রমণী। ভেজা শরীর নিয়ে বেলকনি বেয়ে নিজের রুমের ভেতরে প্রবেশ করে। ড্রেস চেইঞ্জ করে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। চিৎকার দিয়ে কাঁদতে গিয়েও থেমে যায়। চোখে-মুখে পানি দিয়ে নিজের বাবার রুমে যায়। রাত থেকে কোনো শব্দ পাচ্ছে না সে। রুমে গিয়ে থমকে যায় সে। তার বাবা মেঝেতে চুপচাপ বসে আছে। রিদ্ধিমা অধৈর্য হয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
” বাবা কি হয়েছে তোমার?
বয়স্ক লোকটা মেয়ের মুখের দিকে তাকায়। হুট করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বলে,
” মা আমার, আমাকে রেখে কোনোদিন কোথাও যাবি না তো? কথা দে, কোনোদিন এই বাবাকে রেখে যাবি না?
রিদ্ধিমা ও কেঁদে দেয়। মনটা খুব নরম তার। আর এই মানুষটার প্রতি সে আলাদাভাবে দুর্বল। বাবার কপালে চুমু খেয়ে বলে,
” রিদ্ধিমা তো তোমার মেয়ে বাবা। মেয়ে নিজের বাবাকে রেখে কোথায় যাবে? সে বাঁচবে তোমাকে ছাড়া?

ভোর হয়ে এসেছে। কিন্তু বাইরের পৃথিবীর কোনো কোলাহলই এই ঘরে পৌঁছানোর সাধ্য রাখে না। সাউন্ডপ্রুফ দেওয়ালের আবরণে ঘরটা এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। চারদিক নিটোল, নিঝুম নীরবতা। এমন এক নিস্তব্ধতা যেখানে কোনো শব্দ নেই।
​এই গভীর প্রশান্তির মাঝে এনি পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। তন্দ্রাচ্ছন্ন দৃষ্টিতে সে প্রথমেই অনুভব করলো এক তপ্ত ও নির্ভরতার পরশ। আবিষ্কার করলো সে একা নেই। কারো প্রশস্ত আর শক্ত-পোক্ত বুকের মাঝে সে খুব আদরে বন্দি হয়ে আছে।

​তাকে আগলে রাখা সেই মানুষটির গায়ের ওপর কোনো আবরণ নেই। অনাবৃত সেই শরীরের উষ্ণতা এনির সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এক অদ্ভুত মায়ার বাঁধনে, ঠিক যেমন কোনো এক অতি আদুরে ছানাকে মমতা দিয়ে আগলে রাখে। পরম মমতায় সে নিজেকে খুঁজে পেল সেই শক্তিশালী আবেষ্টনীর ভেতরে। বাইরের পৃথিবী যখন জেগে ওঠার অপেক্ষায় এনি তখন সেই নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে নিজেকে আরও একবার বিলীন করে দিতে চাইল। মস্তিষ্ক বলছে এনি শুয়ে থাক। কিন্তু মন বলছে একটা জানোয়ারের বুকে আরাম খুঁজছিস? ধিক্কার তকে! ভুলে কেনো যাস বার বার এই লোক তর জীবনটাকে জাহান্নাম করে রেখেছে। এনির নড়াচড়াতে নিকের ঘুম ভেঙ্গে আসে। ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে এনির কপালে শক্ত ভাবে চুমু খায়। এনি সরে আসার জন্য ছটফট করতেই নিক শক্ত ভাবে চেপে ধরে। এই বুঝি দেহের সকল হাড্ডি ভেঙ্গে যাচ্ছে। নিক গম্ভীর গলায় ধমকে উঠে,

” আমি তোমাকে যেতে বলেছি?
” না।
” তবে যাওয়ার জন্য মরিয়া হলে কেনো? আরাম লাগছে না?
এনি নাক-মুখ খিঁচে ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকে। এনির ত্যারামি দেখে নিক ঠোঁট কামড়ে হাসে। এনির কোমরে আঙ্গুল ছুঁয়ে বলে,
” মাঝে মাঝে কল্পনা করি এত ছোট মেয়েটা আমাকে কিভাবে সামলায়? গোপন কি শক্তি আছে তোমার বেবিগার্ল?
এনি লজ্জায় পারছে না কোথাও পালিয়ে যেতে। এত বেহায়া কথা শুনার থেকে বয়রা হয়ে যাওয়া ভালো। এনিকে চুপ থাকতে দেখে নিক ভ্রুঁ নাচালো,
” এই সামান্য শরীর নিয়ে আমার সাথে এত ত্যারামি কিভাবে করিস জান?
নিকের গরম নিশ্বাস তার শরীর স্পর্শ করতেই কেঁপে উঠে। মিনমিন করে বলে,
” ত্যারামি করতে শরীরের প্রয়োজন পড়ে না।
নিক কপাল কুচকালো,
” তবে?
” তবে অধিকার। অধিকার লাগে।
নিজের কথায় এনি নিজেই হতভম্ভ হয়ে যায় । নিক বাঁকা হাসলো। এনি হাঁশ- ফাঁশ করে বলে,
” এইবার ছাড়ুন।

নিক বাঁধন হালকা করে দেয়। এনি যেন উঠতে পারলেই বাঁচে। কিন্তু উঠার মত শক্তি নেই তার শরীরে। রাতের ঘটনা মনে হতেই শরীর ঝিমঝিম করে উঠে। চোখ থেকে না চাইতেই পানি চলে আসে। ভেজা চোখ নিয়ে তাকায় নিকের দিকে। নিক সেদিকে পাত্তা না দিয়ে দরজার দিকে তাকায়। তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলে,
” ফা*ক অফ! চোখ দিয়ে যদি এক ফুটা পানিও আর পড়ে তবে আমি সেই কান্না চিৎকারে পরিনত করব। ছটফট করার সুযোগটাও পাবে না। এই দুর্বল শরীরের কথা ও ভাববো না। প্রচুর কাঁদবে তুমি বেবিগার্ল। তাই চুপ থাকো।ইফ ইউ প্রোভোক মি, দ্য কনসিকোয়েন্সেস উইল বি ভেরি সিভিয়ার।
সাথে সাথে এনি চুপ হয়ে যায়। এনি রহস্যময়ভাবে হাসলো। এনি সেই বিচ্ছিরি হাসিতে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” প্রচুর খারাপ আপনি।
নিকের বিদ্রুপ সুর,

” সাধু পুরুষ কল্পনা করো নাকি?
এনি নাক ছিটকায়। শান্ত অথচ গম্ভীর গলায় বলে,
” মেহেরের কবরে গিয়েছেন কোনোদিন? মেয়েটা আপনাকে প্রচুর ভালোবাসত।
নিকের চোখ-মুখ কেমন অদ্ভুত হয়ে উঠে। ক্ষেপা গলায় বলে,
” নিজের বাপের কবরের পাশেই তো কোনোদিন যায় নি। আর অন্যদের তো কোনোদিন গননাতেই আনিনি।
এনি ব্যাথিত গলায় বলে,
” মেহেরের জীবনের সব থেকে বড় ভুল আপনার মত এমন হার্টল্যাসকে ভালোবেসেছে। রক্তের কেউ নেই তো তাই ভালোবাসা বুঝেন না। পাথর হয়ে গিয়েছেন।
নিক চোখ -মুখ শক্ত করে ফেলে। দাঁত পিষে বলে,
” নিক জেভরানের রক্ত এখনও বেঁচে আছে। সে একদম নিস্ব হয়ে যায় নি।
এনি কপাল কুচকায়। এনি কপাল কুঁচকে তাকালো। একটা তীব্র বিভ্রান্তি তাকে ভেতর থেকে কুড়ে খাচ্ছে। সে তো জানত, এই লোকটার আপন বলতে যারা ছিল, তাদের তো সবাই শেষ। কবরে শুয়ে আছে বহু বছর আগে থেকেই। তবে কে বেঁচে ফিরল? কার কথা বলছে নিক?
​অসহ্য কৌতূহল আর এক চিমটি ভয় মেশানো গলায় এনি জিজ্ঞেস করল, ”
“কে বেঁচে আছে?”

​প্রশ্নটা নিকের কানে পৌঁছালেও তার পাথুরে অবয়বে কোনো পরিবর্তন এলো না। তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। ভেতরের কোনো এক আগ্নেয়গিরিকে সে জোর করে চেপে রাখছে। এনির প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা সে চোখের পলক পর্যন্ত ফেলল না। নিকের মৌনতা এনির শরীরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এই লোককে রাগালেই সব উত্তর পাওয়া যায়। রাগের মাথায় সব বলে দেয়। নয়ত সাধারন বাক্য ও উচ্চারন করে না। এনি নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” বাচ্চা পাগল ছিলেন প্রথম থেকেই। বাচ্চার বাপ হয়েছেন নাকি? এছাড়া তো রক্ত আসার কথা না?
আসলেই এনির কথাটা নিকের শরীরে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। গর্জে উঠে গ্যাংস্টার বস। এনির বাঁকানো কোমরটা আবার ও চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। চোয়াল শক্ত করে বলে,
” বান্দির বাচ্চা, এত ভুলভাল চিন্তা আসে কোথা তর?
এনি ভয়ে চুপসে যায়। এরপরও সাহস নিয়ে বলে,

” এত রেগে যাচ্ছেন কেনো? সত্যি বাপ হয়েছেন নাকি?
নিকের হাতের বাঁধন আরও শক্ত হয়। গর্জন ঘরটাকে কাঁপিয়ে তোলে।
” এই অযথা কৌতূহল তোমার জন্য বিপদ ডেকে আনবে। ট্রাস্ট মি শুয়রের বাচ্চা , তর ঝুঁকি না থাকলে এই মুহূর্তে বাচ্চার মা বানানোর কাজে লেগে পড়তাম।
এনির নাক- মুখ কুচকে আসে,
” আমি গালি দিলে আঘাত করেন। আর নিজে যখন কথায় কথায় গালি ছুঁড়ে দেন তখন? অসভ্য লোক, মুখে লাগাম টানুন। হতে চাই না আপনার বাচ্চার মা।
প্রয়োজনে কোনোদিন মাতৃত্বের স্বাদ নিব না তবুও আপনার বাচ্চার মা হব না। এই কথাটা বুঝে নিন?
নিকের ভ্রুঁ কুচকে আসে,

” চ্যালেঞ্জ করছো?
এনি থেমে যায়। ভয়ে ধুক করে উঠে তার ভেতর। চ্যালেঞ্জ করব তাও এই লোকের সাথে! জীবন -মৃত্যুর লড়াই এইটা। পরে দেখা গেলো বছরে -বছরে বাচ্চা ধরিয়ে দিয়েছে। এনি জোরপূর্বক হেসে বলে,
” যা বলেছি সব ভুলে যান।মনে করেন সব অতীত ছিলো। আপনি তো আমাকে ভালোবাসেন না। ভুলে যান সব।
নিক গ্রিবাদেশ নাড়ায়,
” ইউ আর মাই অ্যাডিকশন, মাই অবসেশন।
ইওর এক্সিস্টেন্স ইজ মোর ইনটক্সিকেটিং দ্যান ড্রাগস। দিস ইজ নট ফা*কিং লাভ দিস ইজ পিওর অ্যাডিকশন। ইউ আর মাইন।
এনি মেকি হেসে বলে,
” আসক্তি বলেই এত নির্যাতন আর অবহেলা করেন।।ভালোবাসলে তো ফুলের স্পর্শ ও দিতেন না।
নিকের চোখদুটো তখন জ্বলন্ত আগুনের মতো হয়ে আছে। কিন্তু তার মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ শান্ত পাথরের মতো স্থির। এনির চোখের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু গভীর স্বরে বলে,
” আমি কোনো মহান নায়ক নই যে তোমাকে মুক্তি দিয়ে নিজের মহানুভবতা প্রমাণ করব। আমি সেই স্বার্থপর ভিলেন, যে তোমাকে নরকের আগুনে পুড়িয়ে মারবে তবুও অন্যের হাতে সঁপে দিবে না। আমার প্রেমে শান্তি নেই, আছে শুধু রক্ত আর অধিকার।”
নিক থেমে যায়। হাতের বাঁধন শিথিল করে বলে,

” আমার সাথে থাকলে জীবনেও জান্নাত পাবে না। কিন্তু আমি ব্যতিত কেউ এই শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত ঝরালে আমি এই শহরটাকে জাহান্নাম বানিয়ে ছাড়ব।”
প্রতিটি শব্দ এনির কানে ধারালো ছুরির মতো কানে বিঁধে যাচ্ছে। ধূসর হিংস্র চোখে ভেজা নীল চোখের মিলন ঘটে। এনি চোখে চোখ রেখে বলে,
” যদি বলি আমি দুনিয়াটাকে উপভোগ করতে চাই। মুক্ত পাখির মত উড়তে চাই। যদি বলি কোনোদিন ছেড়ে যাব না তার বিনিময়ে আমি আমার বোনের সান্নিধ্য পেতে চাই। তবে দিবেন সেটুকু অধিকার?
নিক মুখের উপর বলে,

” না।
এনি নিকের গম্ভীর মুখটাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে বলে,
” আপনার আর জেডের সাথে বেশি একটা প্রার্থক্য খুঁজে পায় না। নারী ঘটিত জিনিস ছাড়া সব আছে আপনার মধ্যে। বরং তার থেকেও বড় সাইকো আপনি। এই লোকটাকে এত বছর বাঁচিয়ে রেখেছেন তার একটাই কারন সে আপনার অনুসারী, আপনার দাস ছিলো।
নিক কূটিল হেসে বলে,
” ইয়েস বেবিগার্ল। দুনিয়া যা ইচ্ছে বলুক। আমি যা বলতাম জেড সেটাই জানত।
” রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন এই কারনেই?
নিক এনির একটা চুল নিজের আঙ্গুলে পেঁচিয়ে নেয়,
” জেডের বাপ আমার জন্য রক্ত দিয়েছিলো। শত্রুরা যখন আমাকে মেরে ক্ষত -বিক্ষত ফেলেছিলো তখন ওই লোক আমাকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে। আবারও বাঁচিয়েছিলো বুলেটের সামনে আমাকে বাঁচাতে বুক পেতে দিয়েছিলো। তার দুই ছেলেকে আমার কাছে রেখে গিয়েছে, যাতে আগলে রাখি সব সময়। কোনোদিন আঘাত না করি। নাহলে একটাকে তো কুঁপিয়ে মেরে ফেলতাম এতদিনে।
এনি অবাক হয়ে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৭

” দুই ছেলে হলে আরেকজন কে?
নিকের রহস্যময় হাসি। এনির গলায় মুখ ডুবিয়া বলে,
” তোমার সপ্নের পুরুষ মাই ফা*কিং রোজ!

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৮ (২)