শেহেজাদার আদর পর্ব ২১
সুমাইয়া ইসলাম নূর
গভীর রাত আকাশটা আজ অদ্ভুত রকমের মায়াবী লাগছে কালচে নীল মেঘের ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো কখনো উঁকি দিচ্ছে, আবার হারিয়ে যাচ্ছে।
হালকা গরমের সাথে ভেজা বাতাস মিশে আছে—
মনে হচ্ছে, যেকোনো সময় বৃষ্টি নামবে।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে আর বাতাসে দুলছে গাছের ডাল।
এই নীরব, গা ছমছমে রাতটা যেন—
একটা অদ্ভুত রোমান্টিক অনুভূতিতে ভরে আছে।
ইনায়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল—
ইউভি ভাইয়া বৃষ্টি নামবে মনে হয়।চলেন নিচে যাই?”ইউভি মৃদু হেসে মাথা নেড়ে বলল—
না, sweetheart…
বৃষ্টি নামুক…
আমরা আজ এখানেই থাকবো।
ইনায়া অবাক হয়ে তাকাল।কি বলছেন? ছাদে?
ইউভি চোখের ইশারায় পাশের দিকে দেখাল—
হুম ওই তো দেখো কী সুন্দর করে রঙিন বিছানা পাতা আছে ইনায়ার গাল লাল হয়ে গেল।
সে লজ্জায় একটু দূরে সরে গিয়ে বলল—
দেখেন ইউভি ভাইয়া আপনি শাড়ি খুলতে নিষেধ করেছেন, তাই এখনো খুলিনি কিন্তু খুব অস্বস্তি লাগছে খুব এই গরমে আমি চেঞ্জ করবো…
হালকা বাতাসে ইনায়ার আঁচল উড়ে উঠছে মাঝে মাঝে ইনায়া আবার বলল খুব গরম পড়ছে…
বৃষ্টি নামবে মনে হয়…
ইউভি স্থির হয়ে নেশা ভরা চোখে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
ধীরে, একটু নিচু গলায় বলল শাড়ি পরেছিস কেন?”
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল—
সবাই পরেছে তাই…
ইউভি আবার জিজ্ঞেস করল—
সেজেছিস কেন?
ইনায়া একটু অবাক হয়ে বলল—
কি বলেন বাড়িতে বিয়ের প্রোগ্রামসাজবো না?”
ইউভি ধীরে মাথা নেড়ে বলল—
না সাজবি না ইউভির কণ্ঠটা আরও ভারী হয়ে উঠল সাজলে তোকে কেমন কেমন যেন লাগে…”
ইনায়ার বুক ধক করে উঠল।
সে আস্তে জিজ্ঞেস করল কেমন লাগে ইউভি ভাইয়া ? পরের মুহূর্তেই
ইউভি তাকে এক ঝটকায় নিজের কাছে টেনে নিল।
ইনায়া হকচকিয়ে গেল
দুজনের মাঝে দূরত্বটা একদম মিলিয়ে গেল।
ইউভি তার কানের কাছে ঝুঁকে, ভারী আর কর্কশ গলায় ফিসফিস করে বলল বড্ড আদর করতে মন চায়
ইনায়ার শরীর কেঁপে উঠল।
বাতাস থেমে গেছে যেন
চারপাশে শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ।
আকাশে হালকা বিদ্যুৎ চমকালো
আর ঠিক তখনই এক ফোঁটা বৃষ্টি এসে পড়ল ইনায়ার গালে ইউভি ধীরে ঝুঁকে
ইনায়ার গালে পড়া সেই বৃষ্টির ফোঁটাটাকে ঠোঁট দিয়ে আলতো ছুঁয়ে নিল
ইনায়ার নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল।
সে ইউভির শার্ট মুঠো করে ধরল,
ধীরে ধীরে কপালটা ইউভির কপালের সাথে ঠেকিয়ে দিল।
দুজনের চোখ একদম কাছাকাছি…
শ্বাসগুলো মিশে যাচ্ছে।
ইউভি নিচু, ভারী কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল—
আজ যদি একটু অবাধ্য হলে
তোর খুব ক্ষতি হবে…?
একটু কষ্ট দিলে খুব অন্যায় হবে…?
আর যদি একটু ভালোবেসে কাছে টানি…
তোর খারাপ লাগবে…?”
ইউভি আরও একটু ঝুঁকে বলল—
আমার জন্য হলেও একবার ‘হ্যাঁ’ বল জান
শুধু একবার আমি তোর মুখে ‘হ্যাঁ’টা শুনতে চাই
ইনায়ার বুক ধড়ফড় করছে।
হঠাৎ সে ইউভির কপালে হাত দিল তারপর অবাক হয়ে বলল—
“ইউভি ভাইয়া… আপনার গা এত গরম কেন?
আপনার কি জ্বর এসেছে? চোখগুলোও লাল হয়ে আছে ইউভি হালকা হাসল,
আরও কাছে টেনে নিল তাকে—
যখন প্রথম তোকে ছুঁয়েছিলাম তখন কি এমন ছিলাম…? ইনায়া মাথা নেড়ে বলল—
না তখন তো এমন লাগেনি এখনই এমন লাগছে
সে কৌতূহলী গলায় বলল—
কেন…? হঠাৎ এমন হলো কেন…?
ইউভি তার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল—
জানতে চাস…?
ইনায়া আস্তে বলল হুম জানতে চাই…
ইউভি ঠোঁটে হালকা হাসি এনে বলল—
তাহলে… তোর উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ ধরে নেবো… sweetheart…?
ইনায়া লজ্জায় কিছু বলতে পারল না।
সে চুপচাপ ইউভির পাঞ্জাবি ধরে—
মাথাটা ইউভির বুকে রেখে দিল।মৃদু গলায় বলল—
আমাদের তো এখনো বিয়ে হয়নি…
এর আগে এতটা কাছাকাছি আসা ঠিক নাতার কণ্ঠে লজ্জা, দ্বিধা তবুও একটা টান স্পষ্ট।
ইউভি ধীরে তার চিবুক তুলে বলল—
ঠিক-ভুলের হিসাব পরে করিস
এই মুহূর্তটা শুধু অনুভব কর
ঠিক তখনই বষ্টি একটু জোরে নামতে শুরু করল।
ইনায়া তাড়াতাড়ি বলল—
“প্লিজ… চলেন নিচে যাই…
বৃষ্টি ধীরে ধীরে ঝরছে…
চারপাশে শুধু বৃষ্টির শব্দ আর দুজনের নিঃশ্বাস…
ইনায়া ইউভির কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে।
তার ভেজা চুলগুলো বারবার ইউভির গলায় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ইউভি ধীরে তার মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল।
কিছু না বলেই—
সে ঝুঁকে ইনায়ার গলার কাছে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল…
ইনায়া কেঁপে উঠল।
ইনায়ার আঙুলগুলো শক্ত করে ধরে ফেলল ইউভির পাঞ্জাবি।
ইউভি আবার ধীরে, যত্ন করে—
ইনায়ার গলায় কয়েকটা নরম চুমু খেল
বৃষ্টির ফোঁটা আর তার ঠোঁটের স্পর্শ মিশে গিয়ে—
ইনায়ার শরীর জুড়ে অদ্ভুত একটা শিহরণ ছড়িয়ে পড়ল।
ইউভি একটু সরে এসে নিচু গলায় বলল—
এতটা কাঁপছিস কেন…?
ইনায়া চোখ বন্ধ করেই বলল—
আপনি খুব খারাপ ইউভি হালকা হেসে আবার ঝুঁকল—
এবার তার হাতটা ধীরে ইনায়ার পেটে রেখে দিল।
একদম আলতো করে আঙুল চালাতে লাগল—
যেন কিছু আঁকছে ইনায়া কাঁপা গলায় বলল—
কি করছেন…? ইউভি ফিসফিস করে বলল—
চিহ্ন রেখে দিচ্ছি কিসের চিহ্ন…?” ইনায়ার কণ্ঠ কাঁপছে।ইউভি একটু থেমে, তার কানের কাছে ফিসফিস করে বললযাতে তুই ভুলে না যাস…
তুই আমার।
ইনায়া লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল।
তার ঠোঁট কেঁপে উঠল কিন্তু সে আর কিছু বলল না।
ঠিক তখনই বৃষ্টি একটু জোরে নামতে শুরু করল…
ছাদের চারপাশে কুয়াশার মতো ভেজা আবহ—
চাঁদের আলো মেঘে ঢেকে গিয়ে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেছে।
ইউভি ধীরে হাত বাড়িয়ে
ইনায়ার থুতনিটা আলতো করে তুলে ধরল।
তার চোখে চোখ রাখল গভীর নীরব চাহনি তবুও টান ভরা।
ইনায়ার বুকের ভেতর ঝড় বইছে।সে কিছু বলতে চাইল কিন্তু শব্দ বের হলো না।
ইউভি খুব আস্তে বলল এখনি ভয় পাচ্ছিস…?”
ইনায়া মাথা নাড়ল ভয় না…
কেমন যেন… সবকিছু বদলে যাচ্ছে…”
ইউভির ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।
সে ধীরে, খুব ধীরে ঝুঁকতে লাগল—
যেন প্রতিটা সেকেন্ড ইউভি অনুভব করতে চায়।
ইনায়ার চোখ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
তার আঙুলগুলো এবার শুধু ধরে নেই
আকড়ে ধরেছে ইউভিকে।
দুজনের নিঃশ্বাস একে অপরের সাথে মিশে যাচ্ছে…
দূরত্বটা একদম শেষ হয়ে আসছে…
ইউভি আলতো করে নিজের ঠোঁট রাখল ইনায়ার ঠোঁটে প্রথমে শুধু ছোঁয়লো
তারপর ধীরে ধীরে চুমুটায় গভীরতা বাড়তে লাগল।
কোনো তাড়াহুড়া নেই কোনো জোর নেই…
শুধু অনুভূতি…
বৃষ্টির ঠান্ডা ফোঁটা আর তাদের উষ্ণতা—
একসাথে মিশে গিয়ে
একটা অদ্ভুত শিহরণ তৈরি করছে।
ইনায়া হালকা কেঁপে উঠল কিন্তু সরে গেল না।
বরং আরও একটু কাছে এলো।
তার হাত ধীরে উঠে ইউভির কাঁধে থামল—
যেন নিজেও থামাতে পারছে না নিজেকে।
ইউভি সেই চুমুটা আরও একটু গভীর করল—
ধীরে ধৈর্য নিয়ে যেন প্রতিটা অনুভূতি মনে গেঁথে রাখতে চায়। সময় থেমে গেছে যেন চারপাশে শুধু বৃষ্টি শব্দ আর তাদের নিঃশ্বাস শব্দ
কিছুক্ষণ পর ইউভি ধীরে সরে এলো।
ইনায়া এখনো চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে—
তার ঠোঁট কাঁপছে শ্বাস ভারী…
ইউভি কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে খুব আস্তে বলল—
এখন বুঝলি কেন এমন লাগছিল…?”
ইনায়া চোখ খুলল—
তার চোখে জল চিকচিক করছে…
সে খুব আস্তে বলল আপনি বড্ড বিরক্ত করেন
ইউভি হালকা হেসে তাকে নিজের কাছে টেনে নিল
বৃষ্টি বাড়ছে… আমরা ভিজে যাবো
ইউভি ইনায়াকে হঠাৎ করে কোলে তুলে নিল।
চল আদর বৃষ্টিতে ভিজি
ইনায়া আর কোনো বাধা দিল না। আজ কেন যেন ইউভিকে অনেক বেশি আপন মনে হচ্ছে।
ইউভি ইনায়াকে কোলে নিয়েই তার চুলের ঘ্রাণ নিতে লাগল। বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে আরও বেসামাল হয়ে পড়ছে সে।
ইনায়ার গলায় আবার ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল— খুব গভীরভাবে প্রমাণ রেখে দেব আজ তোর শরীরে… আমি যেখানেই ছুঁইবি সেখানে শুধু আমাকেই অনুভব করবি।
ইনায়া ধীরে বলল আপনাকে তো আমি সবসময়ই অনুভব করি সেই রাতের পর থেকেই যেদিন আমাকে থাপ্পড় মেরে আবার আমার রুমে এসে আদর করেছিলেন।
ইউভি হেসে বলল তাই নাকি? তাহলে ওইদিন চুপিচুপি আমার আদর খাওয়া হচ্ছিলবড্ড লোভী তো তুই।
ইনায়া হালকা হেসে বলল হ্যাঁ ইউভি ভাইয়া… ওইদিনের পর থেকেই আমি খুব লোভী হয়ে গেছি আপনার আমার সবকিছু শুধু আমার আমার আমার
ইউভি তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল— “এই আমিই তো তোর…
যেখানে আমি নিজেই তোর হয়ে গেছি… সেখানে আমার সবকিছু কিছু কি অন্য কারো হতে পারে, sweetheart…?
ইনায়া ধীরে বলল।ইউভি ভাইয়া একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন না বড্ড ক্লান্ত লাগছেএকটু এনার্জি লাগবে।
ইউভি হেসে বলল এর থেকেও বড় এনার্জি আমার কাছে আছে… নিবি?”
“অসভ্য লোক! একটা এত খারাপ কেন… এক নম্বরের লুচ্চা লজ্জায় বলল ইনায়া।
ওকে বেবি আমি ও একটু দেখাই আমি।ঠিক কতো টা অসভ্য
ইউভি নিচু হয়ে ইনায়ার শাড়ির ভাঁজ সরিয়ে তার পেটে আলতো করে ঠোট ছুঁইয়ে দিল। তারপর ধীরে ধীরে ভালোবাসার চিহ্ন রেখে দিল।
ফর্সা ত্বকে হালকা লালচে দাগ ভেসে উঠল। এক এক করে গলা, ঘাড়— সব স্পর্শকাতর জায়গায় সে ভালোবাসার ছাপ রেখে দিচ্ছে।
ইনায়া কেঁপে উঠছে… ব্যথা আর অনুভূতির মিশ্রণে শরীরটা কুঁকড়ে যাচ্ছে। না পারছে বাধা দিতে… না পারছে পুরোটা সহ্য করতে…
চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল।
ইউভি সেটা দেখে থেমে গেল। নরম গলায় বলল— Sorry আদর কষ্ট হচ্ছে? বল আমি থামি
ইনায়ার শরীর কাঁপছে— বৃষ্টিতে ভিজে জ্বরও আসতে শুরু করেছে।
ইউভি সঙ্গে সঙ্গে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরল— তোকে কষ্ট দিয়ে আমি নিজের ইচ্ছা পূরণ করবো না তুই যেদিন নিজে প্রস্তুত থাকবি সেদিন সব হবে… আদর শুনছিস?”
ইনায়া জড়িয়ে ধরে বলল ইউভি ভাইয়া…আমাকে জড়িয়ে ধরেন বড্ড ভালোবাসি আপনাকে… আপনি শুধু আমার… আমার… আপনার পাশে আমি কাউকে সহ্য করতে পারবো না… আপনি শুধু আমাকেই আদর করবেন… আমাকেই ভালোবাসবেন… আমাকেই জড়িয়ে ধরবেন… আমাকেই চুমু খাবেন… শুনছেন…?
ইউভি মুচকি হেসে বলল—এখনো তো আদর শুরুই করিনি এই কথা বলছিস যখন সত্যি তোকে গভীরভাবে ছুঁয়ে দেব তখন পারবি তো নিজেকে সামলাতে…?
মনে মনে ইউভি বলল লন্ডন থেকে ফিরেই বাবাকে দাদু ডাক শোনানোর ব্যবস্থা করবো।
তারপর ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল চল নিচে যাই এইটুকু ভালোবাসা সহ্য করতে পারিস না… আবার আমাকেই বলিস আমি নিরামিষ
হালকা হেসে আবার বলল কাল থেকে ডিম, দুধ—সব খেতে হবে… আমি সব ব্যবস্থা করবো…”
বৃষ্টি তখনও ঝরছে… আর দুজনের মাঝে অদ্ভুত এক নরম, গভীর টান রয়ে যাচ্ছে।
ইউভি আবার ইনায়াকে কোলে তুলে নিল।
চলো সুইটহার্ট তোকে আজও আমার রুমেই ঘুমাতে হবে
আজ আমার একটু শান্তির ঘুম চাই অনেকদিন পাবো না এই শান্তি… আজ সুদে-আসলে নিয়ে নেই।
ইনায়া তাড়াতাড়ি বলল—
ইউভি ভাইয়া, নামিয়ে দেন বাড়ি ভর্তি লোকজন… কেউ দেখে ফেলবে ইউভি মুচকি হেসে বলল—
কেউ দেখবে না সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে…
তোর আর আমার মতো প্রেমলীলায় তো কেউ মেতে নেই ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল—
“কি! আমরা প্রেম করছিলাম নাকি?
ইউভি চোখ টিপে বলল শুধু প্রেম না
অন্য কিছু করছিলাম ভুলে গেছিস সুইট হার্ট
ইনায়া লজ্জায় চুপ হয়ে গেল।তার গাল লাল হয়ে উঠেছে।ইউভি হেসে আবার বলল—
এই শরীর নিয়ে শহেজাদ ইউভি চৌধুরীর সাথে পাঙ্গা নেতে আসিস
এইটুকুতেই জ্বর বাধিয়ে ফেললি!
তুই আমার বউ হয়ে আমার মান-সম্মানই রাখলি না
ইনায়া লাজুক গলায় বলল সত্যি… আপনি আমাকে আপনার রুমে নিয়ে যাচ্ছেন…?”
“হুম… কেন?
ইউভি স্বাভাবিক গলায় বলল।
না মানে আমার ড্রেস তো আমার রুমে।
তোর ড্রেস লাগবে না? ড্রেস ছাড়াই থাকবি আমার সাথে
কি বললেন। ইউভি দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে ওগুলো তো আমার রুমেই আছে আমারটাই পরবি… চল
শুধু নেগেটিভ চিন্তাভাবনা
এই বলে ইউভি ইনায়াকে নিয়ে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে গেল।
দূর থেকে—
তিয়া সবকিছু দেখছিল…
ওদের এই কাছাকাছি মুহূর্তগুলো…
ওর চোখ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠল।
মনে মনে বলল এই কষ্টের দাম তোমাদের দুজনকেই দিতে হবে দুজনকেই…”
ইউভি ইনায়াকে নামিয়ে ওয়াশরুমের সামনে দাঁড় করাল।
হালকা দুষ্টুমি ভরা গলায় বলল আমি হেল্প করবো… নাকি তুই পারবি ? ইনায়া রেগে গিয়ে বলল—
যাবেন আপনি অসভ্য…
বেয়াদব লোক একটা ইউভি হেসে মাথা নাড়ল—
আচ্ছা ঠিক আছে যা… তাড়াতাড়ি আয়
ইনায়া ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল—
আর বাইরে দাঁড়িয়ে ইউভির ঠোঁটে এখনো সেই দুষ্টু হাসি নিয়ে বললো কন্ট্রোল কন্ট্রোল ইউভি।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে বের হলো ইনায়া।
ইউভির ঢিলেঢালা একটি সাদা টি শার্ট পরে আছে—
চুলগুলো ভেজা, এলোমেলোভাবে কাঁধে পড়ে আছে।
এইভাবে ইনায়াকে দেখে—
ইউভি কয়েক সেকেন্ডের জন্য একদম স্থির হয়ে গেল।
কি দেখছেন এভাবে? লাজুক গলায় বলল ইনায়া।
ইউভি ধীরে এগিয়ে এলো।
তার চোখে একরকম মুগ্ধতা—
“তোকে…”
ইনায়া চোখ নামিয়ে ফেলল।
ইউভি খুব আলতো করে তার ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিল—
তারপর বিছানার পাশে বসিয়ে দিল।
ইউভি দ্রুত একটা তোয়ালে নিয়ে এসে
ধীরে ধীরে ইনায়ার চুল মুছতে লাগল।
ইনায়া চুপচাপ বসে আছে—
এই যত্নটা যেন তার অচেনা না তবুও নতুন লাগছে।
ইউভি ভাইয়া
হুম
“আপনি এমন কেন…? ইউভি থেমে গেল এক মুহূর্ত।
“কেমন…? ইনায়া আস্তে বলল—
একদিকে এত অসভ্য আরেকদিকে আবার এত কেয়ার করেন ইউভি হালকা হেসে বলল—
“তুই বুঝবি না…”
ইউভি এবার আলতো করে ইনায়ার কপালে হাত রাখল।
জ্বর আসছে গা এখনো গরম…”
ওষুধ দিচ্ছেি ওষুধ খেয়েনে আমি
চেঞ্জ করে আসি।
কিছু সময় পর
ইউভি চেঞ্জ করে ফিরে এসে ধীরে ইনায়ার কপালে চুমু দিল।
নরম গলায় বলল তুই ঘুমা, আদর… আমার একটু কাজ আছে…”
এরপর সে টেবিলের পাশে গিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় ফাইল গুছাতে লাগল।
মাঝে মাঝে পেছন ফিরে তাকাচ্ছে—
ইনায়া ঠিকমতো শুয়ে আছে কিনা…
হঠাৎ ফোনটা হাতে নিয়ে রেদোয়ানকে কল করল।
সব ওকে নিচু গলায় বলল ইউভি।
ওপাশ থেকে রেদোয়ান বলল ওকে ব্রো…
বোনুকে বলছো তুমি এতদিনের জন্য যাচ্ছো?”
ইউভি একটু চুপ করে রইল চোখ চলে গেল ইনায়ার দিকে না
জানি না বললে কেমন রিয়্যাক্ট করবে পাগলটা…
সাহস পাচ্ছি না অনেক বড় আঘাত পাবে আমার আদর…”ওপাশ থেকে কিছু বলার আগেই ইউভি বলল—
“আচ্ছা রাখি…”
কলটা কেটে দিল।
ইউভি ধীরে বিছানার কাছে এসে বসলো…
তারপর ইনায়ার পাশে শুয়ে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল।ইনায়া চোখ বন্ধ করে থাকলেও—
এখনো জেগে আছে।ইউভি আস্তে বলল—
ঘুমাস নি কেন…? ওষুধ খেয়েছিস…?”
ইনায়া মাথা নেড়ে বলল—
হুম খেয়েছি…তারপর হঠাৎ বলল—
ইউভি ভাইয়া… আমি কি আপনার বউ…?
ইউভি একটু অবাক হয়ে তাকাল হঠাৎ এই কথা বলছিস কেন…? ইনায়া আস্তে বলল—
ওই যে… ছাদে থাকতে বললেন ইউভি হালকা হেসে তার কপালে হাত রাখল ওসব বাদ দে, আদর…
শুধু এইটুকু জানে রাখ তোর আর আমার সম্পর্ক… হালাল…এই বলে সে ইনায়াকে আরও শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিল।
ইনায়ার শরীর দিয়ে অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে গেল…
প্রথমবার কোনো পুরুষের এত কাছে আসা—
তার উপর এমন গভীরভাবে…
সে হালকা কেঁপে উঠল।
ইউভি দুষ্টু স্বরে ফিসফিস করে বলল—
এইভাবে বেশি কাঁপাকাঁপি করলে কিন্তু আমি নিজেকে সামলাতে পারব না…
নিজের বারোটা বাজিয়ে—
তোর এইসব বেয়াদপি সহ্য করছি, বেয়াদব বউ…”
ইনায়া লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল…
মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকাল।
পরিস্থিতি সামলাতে সে আস্তে বলল—
“আপনি ঘুমান…”
ইউভি তাকে আরও একটু কাছে টেনে নিয়ে বলল—
“ঘুমাবো…
তুই থাকলে ঘুমটা একটু বেশি ভালো হয়। আর আমি এই ভাল ঘুম টা কি মিস করতে পারি
একটু থেমে আবার বলল—
“শোন নেক্সট টাইম থেকে বাইক সাবধানে চালাবি
আমি তোর স্বপ্নগুলোতে কোনোদিন বাধা দিব না…
কিন্তু…” ইনায়ার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে নরম গলায় বলল—
“তোর কোনো স্বপ্নের জন্য
যদি আমার আদরের কোনো ক্ষতি হয়…
তাহলে কিন্তু আমি নিজেই তোর সব স্বপ্ন বন্ধ করে দিব ইনায়া অবাক হয়ে তাকাল—
এতটা possessive কেন আপনি…?”
ইউভি মুচকি হেসে বলল—
“কারণ তুই শুধু আমার…
আর আমার জিনিসে আমি কাউকে ভাগ দিতে শিখিনি
ফজরের আজানের শব্দ ভেসে এলো… ভোরের নরম আলো ধীরে ধীরে ঘর আলোকিত হচ্ছে ।
ইউভি আস্তে করে উঠে বসল। একবার তাকাল ইনায়ার ঘুমন্ত মুখের দিকে—
চুপচাপ ওযু করে নামাজ পড়ে নিল ইউভি
তারপর ফোনটা হাতে নিয়ে কল করল তুই রেডি তো?”
ওপাশ থেকে রেদোয়ান বলল— “রেডি, ব্রো…”
ওকে। কল কেটে দিয়ে ইউভি আবার ইনায়ার কাছে এসে বসল।
নরম গলায় বলল বড্ড মনে পড়বে তোকে, সোনা বউ আজকের রাতটার জন্য… অনেক… অনেক ধন্যবাদ।
এই বলে ইনায়ার কপালে চুমু দিল।
তারপর ইনায়ার গলার কাছে চুল সরিয়ে চুমু দিতে গিয়েই থেমে গেল।
নিজের রেখে যাওয়া ভালোবাসার চিহ্নগুলো— লালচে থেকে গাঢ় হয়ে গেছে।
ইউভি ঠোঁট ছুঁইয়ে আস্তে বলল।এইটুকুতেই এই অবস্থা ভাবা যায়! আবার আমাকেই নিরামিষ বলে…”
হালকা হাসল।
তারপর ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল সাবধানে থাকিস, ওষুধ খাস ঠিকমতো…”
ঘুমের মাঝেই ইনায়া ইউভিকে জড়িয়ে ধরল।
ইউভি আস্তে বলল আমি আসবো, আদর… তোকে ছাড়া এক বছর থাকা অসম্ভব… আর আজকের পর থেকে তো আরও না একটু থেমে আবার বলল কখন কোন সময় আসবো— তুই নিজেও জানবি না… ২৪ ঘণ্টা তোর উপর নজর থাকবে আমার।
কষ্ট পাবি না, আদর…”
এই বলে তার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।
ঘুমের মাঝেই ইনায়া সাড়া দিল ইউভির চুল মুঠো করে ধরে তাকে আরও কাছে টেনে নিল।
কিছুক্ষণ শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা গেল দুজনের
হঠাৎ ফোন বেজে উঠল।
তিয়ার কল।
এক মুহূর্ত দেরি না করে ইউভি সরে গেল।
ইনায়ার কপালে একটা চুমু দিয়ে চলে গেল চুপচাপ…
এইবার আর পেছনে ফিরে তাকাল না।
সকাল…
ঘড়িতে তখন ১০টা বাজে।
সবাই নাস্তা করে ফেলেছে শুধু ইনায়ার কোনো খোঁজ নেই।
নুসরাত চৌধুরী বললেন পিয়াসা, গিয়ে দেখে আয়—মেয়েটা কোথায়!”
পিয়াসা, তুবা, সাম্মি, রান চারজন মিলে খুঁজেও কোথাও পেল না।
শেষে পিয়াসা বলল চল ভাইয়ার রুমে যাই…
তিনজন গিয়ে দরজা খুলতেই—
দেখে ইনায়া এলোমেলো অবস্থায় ঘুমিয়ে আছে ইউভির বিছানায়… শাড়িগুলো ছড়ানো…
তিনজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে— তারপর হেসে গড়াগড়ি!
ঠিক তখনই ইনায়ার ফোন বেজে উঠল।
পিয়াসা ফোনটা তুলে দেখে সেভ করা নাম্বার
“বালের শহেজাদা”
এই দেখে সবাই আরও জোরে হাসতে লাগল!
হাসির শব্দে ইনায়ার ঘুম ভেঙে গেল।
চোখ খুলে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে—
তোরা এখানে কেন?
পিয়াসা দুষ্টু হেসে বলল ভাগ্যিস এসেছিলাম! না হলে জানতামই না— আজ তোদের বাসর হয়ে গেছে!
ইনায়া লজ্জা পেয়ে বলল না… বাসর হয়নি… তোর ভাইয়া অনেক ভালো ওইসব বিয়ের পর হবে…”
তুবা হেসে বলল “তাহলে শাড়িগুলো ওইভাবে এলোমেলো কেন? আর তোর গায়ে ভাইয়ার টি-শার্ট কেন? হঠাৎ পিয়াসার চোখ গেল ইনায়ার গলায়—
এইই! এইগুলো কী?
সবাই চিৎকার করে উঠল—
“বাসর হয়নি… তাহলে এই ভালোবাসার দাগগুলো কই থেকে এলো?
ইনায়া দৌড়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
গলাই ঘাড়ে অসংখ্য দাগ…
সে হতবাক।
এইগুলো কখন হলো…!
মনে মনে বলল সালা লুচ্চা… এখন আমি কীভাবে বাইরে যাবো!
পিয়াসা বলল সত্যি বল—কি হয়েছে কাল?”
ইনায়া কিছু না বলে ওদের জোর করে বাইরে বের করে দিল।
দরজা বন্ধ করে পিছনে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
চোখ বন্ধ করতেই— গত রাতের সবকিছু ভেসে উঠল লজ্জায় এনায়ার যেন মাটির নিচে ঢুকে যেতে ইচ্ছা করছে।
এইদিকে—
ইউভি ইনায়ার নাম্বার এ কল দিচ্ছে— ইনায়া ধরছে না।
মুভি চোখ বন্ধ করে নিচু গলায় বলল—
ক্ষমা করে দিস, আদর… তোর স্বপ্নের জন্য একটু কষ্ট দিলাম তোকে
তোর স্বপ্নগুলো আমার কাছে অনেক দামি… তোর চাওয়াগুলো আমি পূরণ করবো
“আর তোকে রাগ-অভিমান করে থাকতে দিবো না—প্রমিস…
শেহেজাদার আদর পর্ব ২০
একটু থেমে বলল—
“তোর শরীর থেকে আমার দেওয়া ভালোবাসার চিহ্নগুলো মুছে যাওয়ার আগেই— আমি আবার আসবো
রেডি থাকিস… এইবার আর ছাড় পাবি না।
প্রয়োজন হলে তোকে ছোঁয়ার আগে ওষুধ খাইয়ে নিব।
