শেহেজাদার আদর পর্ব ২২
সুমাইয়া ইসলাম নূর
সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললো
ইনায়া এখনো নাস্তা করতে আসেনি।
দেখে রেশমা চৌধুরী নিজেই ইনায়ার রুমে গেলেন খবর নিতে।ভিতরে ঢুকেই দেখলেন—
ইনায়া কাঁথা মুড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে।
তিনি কাছে গিয়ে গায়ে হাত দিতেই চমকে উঠলেন—
গা যেন জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে!এদিকে তুবা রানি সাম্মি রেডি হচ্ছে— আজই বাসায় চলে যাবে।আর পিয়াসা তো মনের সুখে রেদোয়ানের সাথে ফোনে মেসেজ করছে।
রেশমা চৌধুরী যেই রুমে ঢুকেছেন—পিয়াসা সেটা টেরই পায়নি।
হঠাৎ রেশমা চৌধুরী পিয়াসার
কান মলে ধরে বললেন এই জানোয়ারের বাচ্চা!
তোর বোনের জ্বর আসছে। একবারও বললি না?
নিজে তো ঠিকই গিলে।এসেছিস আর আমার মেয়েটা না খেয়ে পড়ে আছে তুই বসে বসে ফোন দেখছিস!
পিয়াসা মুখ বাঁকিয়ে বলল—
দেখো মম ও তো তোমার বউমা আর আমি তোমার মেয়ে।
আমার থেকে বেশি আপন হয়ে গেছে— বাহ বাহ! তেমাকে তো ডাস্ট বিন সরি সরি
আমাকে তো বোধহয় ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে এনেছো! সবসময় এমন করো রেশমা চৌধুরী চোখ কুঁচকে বললেন—
এই জানোয়ার! কার সাথে এত মন দিয়ে কথা বলছিস?আমি আসছি টেরও পেলি না?
সত্যি বল!
পিয়াসা গড়গড় করে বলল—
আরে মা আমি তো তুবার সাথে কথা বলছি…
ও ঠিকমতো বাসায় পৌঁছেছে কিনা তাই জিজ্ঞেস করছিলাম এইদিকে—
তুবা পেছন থেকে এসে রেশমা চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে বলল কিন্তু আন্টি… আমি তো যাইইনি এখনো!পৌঁছাবো কীভাবে?
পিয়াসার মুখের অবস্থা দেখার মতো!
রেশমা চৌধুরী জুতা খুলে বললেন শয়তানের বাচ্চা!
তোর পেটে আমি হয়েছি নাকি আমার পেটে তুই হয়েছিস? পিয়াসা দৌড় দিতে দিতে বলল—
তুবার বাচ্চা! তোকে আমি ছাড়বো না!রেশমা চৌধুরী আর তুবা হাসতে হাসতে শেষ।
এরপর রেশমা চৌধুরী আবার ইনায়ার দিকে এগোলেন।
কাঁথা সরাতে গেলেই—
ইনায়া কাঁথা শক্ত করে ধরে বলল বড় মা প্লিজ শীত লাগছে অনেক ইনায়া কাঁথা সরাতে দিল না।
রেশমা চৌধুরী একটু নরম হয়ে বললেন—
ঠিক আছে আমি তোর খাবার আর ওষুধ নিয়ে আসছি উপরে এই বলে বেরিয়ে গেলেন।
দরজা বন্ধ হতেই—
ইনায়া ফিসফিস করে বলল—
এখন আমি এই দাগগুলো ঢাকবো কীভাবে…!”
তুবা দুষ্টু হেসে বলল চিন্তা করিস না… আমার কাছে আইডিয়া আছে মন্টুর দোকানের মলম!
ইনায়া রাগে বালিশ ছুড়ে মারল—
চুপ কর! বালের বান্ধবী তোরা
তারপর আবার ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে বলল—
বালের শহেজাদা!শেষ করে দিয়েছে আমাকে…
আর সামনে যাবো না ফোনও রিসিভ করবো না সালা।তুবা হেসে বলল কেমন লাগে রে বেবি বল না
ইনায়া চোখ রাঙিয়ে বলল
কুত্তা ছেরি
কিন্তু ইনায়ার নিজের গাল লাল হয়ে উঠল—
গত রাতের কথা মনে পড়তেই… মিইয়ে গেলো বিছানাই মনে মনে বললো এ যে কি অদ্ভুত এক ভালো লাগা তোকে কি ভাবে বোঝাই।
রেসমা চৌধুরী যখন ইনায়ার জন্য খাবার বাড়তে গেলেন, তখনই দুইজন মহিলা ডাক্তার কলিংবেল বাজালেন।
রিদ দরজা খুলে দিল।
রেসমা চৌধুরী এগিয়ে এসে বললেন তোমাদের ঠিক চিনতে পারলাম না মা।একজন মেয়ে হেসে বলল—
আন্টি, আপনি আমাদের চিনবেন না। আমরা ইউভির ফ্রেন্ড ইনায়া নাকি অসুস্থ, তাই আমাদের পাঠিয়েছে। রেসমা চৌধুরী কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বললেন আচ্ছা আচ্ছা, চলো
ছেলে আমার লন্ডন থেকে ও ইনায়ার এতো খেয়াল।রাখছে।
নুসরাত চৌধুরী এগিয়ে এসে বললেন—
ভাবি, তুমি ওদর নিয়ে উপরে যাও, আমি নাস্তা নিয়ে আসছি।
নুসরাত চৌধুরী ইনায়ার রুমে নিয়ে গেলেন।
ডাক্তারদের দেখে রানি, সাম্মি আর তুবা একপাশে সরে গেল।ইনায়া ওদের দেখে বলল—
বড় মা, ডাক্তার আনার দরকার ছিল না একটু বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম, তাই জ্বর এসেছে… এমনিই ঠিক হয়ে যাবে
নুসরাত চৌধুরীসহ সবাই অবাক—
কি! তুই বৃষ্টিতে ভিজেছিস? ঠিক তখনই পিয়াসা রুমে ঢুকে বলল—কি হয়েছে?
তুবা সব খুলে বলতেই পিয়াসা বলল—
ধুর! আমরা তো অন্য কিছু ভেবে ফেলেছিলাম!
সাম্মি সঙ্গে সঙ্গে বলল আমরা না… তুই ভেবেছিলি!
রেসমা চৌধুরী ধমক দিয়ে বললেন।কি ভাবছিলি শুনি? তুবা তাড়াতাড়ি বলল—
কিছু না আন্টি এমনি কথা বলছিলাম
ডাক্তার মোনালিচা ইউভির কলেজ ফ্রেন্ড—ইউভির ফোন পেয়ে এসেছে। সে ইনায়ার কাছে গিয়ে বলল
দেখি জ্বর কত কাথা সরাও তো
ইনায়ার গায়ে হাত দিতেই সে চিৎকার করে উঠল—
প্লিজ! কাপড় সরাবেন না।
আচ্ছা সরাবো না হাতটা তো দাওইনায়া হাত বাড়িয়ে দিল।
পালস চেক করে মোনালিচা বলল—
শরীর খুব দুর্বল আন্টি, আমি কিছু খাবারের নাম লিখে দিচ্ছি—এগুলো নিয়মিত খাওয়াবেন। আর ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছতে হবে
ইনায়া আবার বলল প্লিজ, আমাকে দেখতে হবে না
রেসমা চৌধুরী বললেন লজ্জা পাস না মা, ওরা তো মেয়ে
ইনায়া কষ্টের ভান করে বলল বড় মা, আমার খুব ব্যথা করছে… উঠতে পারবো না।
আর আমার তো অনেক কাতুকুতু । তুমি তো জানো ওনারা ছুলে সমস্যা ওনারা ঝুঁকে দেখুক
একটু সময়ের জন্য কাপড়টা নামাকিছু হবে না।
ইনায়া চিৎকার করে বলল—
না! আপনারা যান… আমি ঠিক হয়ে যাবো… গলা দেখাবো না
ঠিক তখনই নুসরাত চৌধুরী নাস্তা নিয়ে ঢুকলেন—
তোর চোখ দেখবে বলছে, গলা না… কি হয়েছে গলায়?
ইনায়া মনে মনে বললো ।সালার ভেন্ডির কপাল! যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়! এই বাপের বউ টার এখোনি আসতে হলো বাল রে।
জোরে বলল—
আপনারা যান না আপু আমি ঠিক আছি শুধু জ্বরের ওষুধ লিখে দিন
ইনায়ার এই অবস্থা দেখে পিয়াসা, তুবা, সাম্মি, রানিহাসতে হাসতে শেষ!
ডাক্তার দুজনও বুঝে গেছে কেন সে কাপড় সরাচ্ছে না। কারণ এখানে আসার আগে ইউভি ইনায়ার সম্পর্কে সবকিছু বলে দিয়েছে। ইউভির জন্য ইনাকে প্রস্তুত করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু মোনালিসা কে বলে দিয়েছে
মোনালিচা কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে বলল—
আর এই মলমটা লাগাবে দাগ চলে যাবে
এই কথা শুনে সবাই অবাক নুসরাত চৌধুরী বললেন—
না মা, ওর শরীরে কোনো দাগ নেই
ইনায়া তাড়াতাড়ি বলে উঠল লাগবে আপু লাগবে দেন!রেসমা চৌধুরী আর নুসরাত চৌধুরী একে অপরের দিকে তাকালেন।তারপর বললেন—
আচ্ছা, তোমরা নাস্তা করো মোনালিচা বলল—
আন্টি, আজ আসি পরে আবার আসবো এইদিকে—
ইউভি ভিডিও কলে সব দেখছে, আর মুচকি মুচকি হাসছে এইটুকুতেই এত লজ্জা! সামনে কি হবে… তখন তো ডাক্তারদের রুমের বাইরে রেখেই তোকে আদর করতে হবে
মোনালিচা ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল—
আমি ইউভির ফ্রেন্ড… চিন্তা কোরো না ইউভি সব বলেছে আমাদেরকে মাঝে মাঝে আসবো
ইনায়া মনে মনে বলল কি বলেছে ওই সালা।
ইউভি ভাইয়া একবারও আসলো না কেন আমাকে দেখতে আমি সকাল এর পর থেকে আদ দেখি নি
আবার নিজেকেই বলল—
না আসাই ভালো… ওর সামনে যাবো না আমি… অসভ্য লোক!
ডাক্তাররা রেসমা চৌধুরী আর নুসরাত চৌধুরীর সাথে কথা বলতে বলতে বের হয়ে গেল।
ওরা যেতেই ইনায়া হাঁফ ছেড়ে বলল—
যাক বাবা! বেঁচে গেলাম
তুবা আবার দুষ্টুমি করে বলল—
বেবি… এক রাতেই ভাইয়া তোর কি অবস্থা করেছেকারো সামনে যেতেই পারছিস না! বিয়ের পর কি হবে ভাব তো!
ইনায়া বালিশ জড়িয়ে বলল জানি না বড্ড অসভ্য লোক একটা আবার কেয়ারিং ও আছে যাইহোক ওই বালের শহেজাদাই লাগবে আমার।
আজ তুবা, রানি, সাম্মিরা চলে যাবে—
ইনায়া আর পিয়াসার মন খারাপ হয়ে গেল।
যাওয়ার সময় তুবা বলল—
কাল কলেজে আসবি কিন্তু! মজা হবে
ইনায়া বলল সুস্থ হলে যাবো
তুবা হেসে কাছে এসে কানে কানে বলল—
পিয়াসা হেসে বলল—
হ্যাঁ কাল কলেজে লাইভ ইন্টারভিউ’ হবে কে কতটা ভালোবাসে! তুবা বললো
আর দাগগুলোও চেক করা হবেপ্র্যাকটিক্যাল ক্লাস যাকে বলে।নোট নিয়ে আসবি কিন্তু আমরা সবাই শিখবো।
ইনায়া বালিশ ছুঁড়ে মারল তোরা একদম বিয়াদোপ হয়ে যাচ্ছিস দিন দিন কারো লজ্জা বলে কিছু নাই।
সন্ধ্যা শেষে রাত নেমেছে ধীরে ধীরে…
আকাশটা আজ অদ্ভুত শান্ত লাগছে দূরে কোথাও মেঘের হালকা গর্জন শোনা যাচ্ছে জানালার পাশে দাঁড়ালে ভেজা বাতাস এসে গা ছুঁয়ে যাচ্ছে ইনায়ার
বৃষ্টিটা থেমে গেলেও তার গন্ধটা এখনো চারপাশে ছড়িয়ে আছে এক ধরনের নরম, মায়াবী আবহ তৈরি হয়েছে পুরো বাড়িতে।
ইনায়া বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে
সারাদিনের জ্বরটা এখন অনেকটাই কমে গেছে—শরীরটাও আগের থেকে বেশ হালকা লাগছে।
চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।চোখে একটু ক্লান্তি কিন্তু ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি ফুটে উঠেছে যেন নিজের অজান্তেই কিছু ভাবছে।
ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকল পিয়াসা।
দুষ্টু হাসি মুখে নিয়ে বলল কী রে বেবি মুখে হাসিটা কেন?
জ্বর কমলে ও মনে হচ্ছে অন্য রোগ বাড়ছে।
ইনায়া চোখ রাঙিয়ে বলল চুপ কর তো! কিছুই না
পিয়াসা কাছে এসে বিছানায় বসে বলল—
হুম কিছুই না! আমি তোকে চিনি না নাকি?
সালার সবারি বিয়ে বাসর হচ্ছে শুধু আমার আর আমার বরের বাদে আয়চলখাবার খেয়ে আসি।
ইনায়া একটু আলসেমি ভরা গলায় বলল—
এখনই যেতে হবে? একটু পরে যাই না
পিয়াসা এক প্রকার জোর করেই নিয়ে গেলো ইনায়া কে।খাবার টেবিলে সবাই উপস্থিত আছে শুধুমাত্র ইউভি আর রেদোয়ান বাদে।ইনায়াকে দেখে রতিব চৌধুরী বললেন—
এখন কেমন আছিস মা? ফোনে তোর মা বললো—তুই নাকি রাতে বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাধিয়েছো!
বৃষ্টি তো নেমেছিল রাত ১১টা-১২টার দিকে… ওই সময় তুমি কী করছিলে?
নিজের কী অবস্থা করছো।নুসরাত চৌধুরী রেগে বললেন—
দেখো ওর কী অবস্থা।আমি বললে তো শোনে না আমার কথা!
এরপর গায়ে হাত দিয়ে দেখলেন—
জ্বর তো এখন নেই তাহলে এইভাবে ওড়না চাদরের মতো পেঁচিয়ে রেখেছিস কেন?রতিব চৌধুরী বললেন।মেজো বউ, থামো ওকে একটু খেতে দাও। নূর আমার পাশে এসে বস।পিয়াসা বলে উঠল—
বাবা তোমার মেয়ে আমিও এখানে আছি।সবাই শুধু নূর নূর করে কেন? আমি কি এই বাড়ির কেউ না?রবিউল চৌধুরী বললেন।তুই আমার কাছে আয় পিহু।
তুই আর নূর—আমাদের মা মারা যাওয়ার পর তোদের নিয়েই তো বেঁচে আছি।তোরা দুজনই আমাদের কাছে সমান।
সবাই মনোযোগ দিয়ে খাবার খাচ্ছে।এর মাঝে রেশমা চৌধুরী বললেন—
তোদের আগে তিয়া এই বাড়ির বড় মেয়ে ছিল…
ওকে আমরা কী যে ভালোবাসতাম! আমাদের সবার নয়নের মণি ছিল মেয়েটা…
যখন ওর ৩-৪ বছর বয়স, তখন ওর বাবা ওকে নিয়ে চলে যায় আজও মেয়েটা চলে গেল জানি না আবার কবে আসবে রবিউল চৌধুরী বললেন—
ইউভির সাথে আসবে, বড় ভাবি।রেদোয়ান চলে আসবে কিছুদিনের মধ্যে আর ইউভি কাজ শেষ হলে তিয়াকে নিয়ে আসবে। হঠাৎ ইনায়ার গলায় খাবার আটকে গেল।সে কাশতে লাগল।
সবাই বলল পানি খাও! ধীরে রাতিব চৌধুরী মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো রেসমা চৌধুরী পানি ধরিয়ে দিল পানি খা মা ইনায়া স্বাভাবিক হলে বলল সেজো চাচ্চু ভাইয়ারা কোথায়?
রেশমা চৌধুরী বললেন ওরা তো আজ ভোর ৫টায় লন্ডন চলে গেছে তুই জানিস না?
ইনায়া যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।
কাঁপা কণ্ঠে বলল ইউভি ভাইয়াও গেছে?
রেশমা চৌধুরী বললেন হ্যাঁ আগে খেয়ে নে।
সবাই খাচ্ছে, কিন্তু ইনায়ার গলা দিয়ে খাবার নামছে না।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে টেবিলে বসা সবাই বিষয়টা লক্ষ্য করল।হঠাৎ ইনায়া চোখের পানি মুছে বলল বড় চাচ্চু… আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চেয়েছিলাম না? মনে আছে?
লিখন চৌধুরী বললেন হ্যাঁ, বলো বলো কী চাই?
ইনায়া বলল—
আমাকে কাল সকালেই একটা বাইক কিনে দিতে হবে।সকাল মানে সকালেই দিতে হবে। বাস
এই বলে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না—
দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল।
রতিব চৌধুরী লিখন চৌধুরীকে বললেন—
কি বুঝলে ভাইয়া? মেয়েটাকে সুবিধার মনে হলো না আমার মনে হচ্ছে আমার মেয়ে ইউভির জন্য পাগলামি শুরু করে দিয়েছে… বুঝতে পারছো?
লিখন চৌধুরী হালকা হেসে বললেন—
ওটা আমি আরও অনেক আগেই বুঝেছি।
আমি সেটা নিয়ে ভাবছি না ভাবছি ইনায়ার জেদ নিয়ে।
ওর মাঝে আমি রিমঝিমকে দেখতে পাচ্ছি—
রতিব খুব ভয়ংকর জেদ।
খাবার শেষ করো… একবার বাইকের শোরুমে যেতে হবে।
এদিকে নুসরাত চৌধুরী বললেন—
দেখছো ভাবি? দিন দিন কত বড় বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে!
বাবা-চাচাদের সাথে কীভাবে কথা বললো!
আমার ছেলেদুটো কত নরম-ভদ্র… মেয়েটা এমন ঘাড়তাড়া হলো কীভাবে, বুঝলাম না!
এই সময় রিদ বলল—
বাবা আপু যদি বাইক চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে?
কথাটা শুনে লিখন চৌধুরী খাওয়া বন্ধ করে দিলেন।
গম্ভীর গলায় বললেন—
বিষয়টা আমি দেখবো… তোমরা চিন্তা করো না।
ইনায়া দৌড়ে নিজের রুমে ঢুকতেই দরজাটা বন্ধ করে দিল।
হাঁপাচ্ছে বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে কষ্টে।
বিছানায় বসতেই হঠাৎ কান্না ভেঙে পড়ল—
অসংলগ্ন, থামাহীন কান্না…
রাগে, অভিমানে—নিজের চুল মুঠো করে ধরে টান দিল।
মনে হচ্ছে নিজেকেই শাস্তি দিতে চায় ইনায়া
কেন কেন ইউভি ভাইয়া আমাকে কিছু বললেন না…?
কাঁপা গলায় বিড়বিড় করে বলল ইনায়া। তিয়ার সাথে চলে গেলেন আর সারারাত তো ঠিকই আমার সাথে ছিলেন
চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে ইনায়ার
ভালোবাসেন না আমায়…
এই জন্যই তো মুখে কখনো বলেন না—ভালোবাসি।
হঠাৎই যেন কিছু একটা ভেবে ইনায়া উঠে দাঁড়াল।
দরজা খুলে প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেল—
করিডোর পেরিয়ে সোজা ইউভির রুমের সামনে গিয়ে থামল।দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই—
নিস্তব্ধ, ফাঁকা একটা ঘর এই শূন্যতা যেন তাকে আরও ভেঙে দিল।ইনায়া ধীরে ধীরে ভেতরে এগিয়ে গেল—
তারপর হঠাৎ করেই আবার কান্না শুরু করলো
ইউভির বিছানার দিকে তাকিয়ে—
হঠাৎ চাদরটা টেনে এলোমেলো করে ফেলল।
বালিশ ছুঁড়ে দিল টেবিলের জিনিসপত্র এলোমেলো করে দিল—যেন ইনায়ার ভেতরের ঝড়টা বাইরে বেরিয়ে আসছে কাঁদতে কাঁদতে বলল
কাজটা আপনি খুব খারাপ করেছেন… খুব… খুব খারাপ”
চোখ লাল হয়ে গেছে ইনায়ার , গলাটা কেমন ভারী ভারী লাগছে অসভ্য লোক একটা…!
বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল—
আমি শেষ করে ফেলবো আপনাকে শুনছেন?
শহেজাদা ইউভি চৌধুরী…!”
একটু থেমে আবার বললো
নিজের চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল—
আপনি ভয়ংকর রকমের অসভ্য
তারপর ধপ করে বসে পড়ল বিছানায়—
ইউভির বালিশটা বুকে জড়িয়ে ধরে…
চোখ বন্ধ করতেই—
আবার সেই রাতের স্মৃতি, সেই স্পর্শ…
আরও জোরে কেঁদে উঠল ইনায়া শেষ করে ফেলবো আপনি শুধু আমার আমার শুধু আমার।
ইদিকে ইউভির রুমের পরুরো টা ঘটনাগুলো—
সবকিছুই ইউভি নিজের ল্যাপটপে দেখছে
চোখে অদ্ভুত একটা মিশ্র অনুভূতি হাসি, কষ্ট, ভালোবাসা… সব একসাথে ফুটে উঠেছে
ইনায়ার কান্না রাগ অস্থিরতা সবকিছু নিঃশব্দে দেখছে ইউভি
একবার হাত বাড়িয়ে স্ক্রিনটা ছুঁতে গিয়েও থেমে গেল।
নিচু গলায় নিজের সাথেই বলল—
তুই এমন একজন মানুষ আদর
যাকে আমি দূর থেকেও ভালোবাসতে পারি…
তুই এমন একজন মানুষ…
শেহেজাদার আদর পর্ব ২১
যাকে আমি স্পর্শ না করেও অনুভব করি
ইউভির ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠলো
কিন্তু চোখের কোণে জমে উঠল অদেখা এক কষ্ট।
ধীরে স্ক্রিনটা বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল—
আর একটু কষ্ট সহ্য কর, আদর…
সব ঠিক করে দিবো আমি
মাই সুইট হার্ট
