শেহেজাদার আদর পর্ব ২৩
সুমাইয়া ইসলাম নূর
রাতের খাবার শেষ হওয়ার পর—
রতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরী আর লিখন চৌধুরী
ইনায়ার জন্য বাইক কিনতে বের হয়ে গেলেন।
চৌধুরী বাড়ির মেয়েদের কোনো ইচ্ছে কখনো অপূর্ণ থাকে না তারা জানে, এই বাড়ির মেয়েরা ভুল সিদ্ধান্ত নেয় না…
তাই নিঃসংকোচে তাদের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেয় সবাই।
এইদিকে…
ইনায়া ইউভির রুমে ঢুকে যেন নিজের ভেতরের সব কষ্ট একসাথে বের করে দিচ্ছে।হাতের সামনে যা পাচ্ছে
সব ছুঁড়ে ফেলছে
কাঁচ ভাঙার শব্দ জিনিসপত্র পড়ে যাওয়ার শব্দে
পুরো রুমটা তছনছ হয়ে যাচ্ছে।খারাপ খুব খারাপ আপনি
কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে ইনায়া
ইনায়ার গলা ভারী হয়ে আসছে কান্না ধীরে ধীরে নিঃশব্দ হয়ে যাচ্ছে…
হঠাৎ ইনায়ার শরীরটা কেঁপে উঠল চোখ ঝাপসা হয়ে এলো আর পরের মুহূর্তেই ইনায়া ধপ করে মেঝেতে পড়ে গেল। নিঃশব্দ একদম নিস্তব্ধ এই দৃশ্যটাই ইউভি ল্যাপটপের স্ক্রিনে দেখে।
হঠাৎ চিৎকার করে উঠল ইনায়া
এই বেয়াদব! কি হলো তোর? আমার আদর ওঠ প্লিজ ওঠ না বিয়াদোপ ইউভির বুক ধড়ফড় করছে হাত কাঁপছে চোখে ভয় জমে উঠছে এক মুহূর্ত দেরি না করে পিয়াসার নাম্বারে কল দিল
নাম্বার বিজি বলছে
আবার কল দিল…
আবার ও বিজি
পিয়াসা তখন রেদোয়ানের সাথে কথা বলছে।
বাড়ির অন্যরা সবাই রান্নাঘরে ব্যস্ত,
আগামী কাল রিমঝিম রা আসবে কেউ ফোন ধরছে না ইউভির শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে বুকটা ফেটে যাবে শেষে আর উপায় না দেখেকাঁপা হাতে বাবার নাম্বারে কল দিল দশ বছর পর আবার সেই নাম্বারে ডায়াল করলো
বাবা।ওপাশ থেকে হ্যালো শোনা মাত্র—
ইউভির গলা ভেঙে গেল বাব আমার আদরকে বাঁচাও ও ও মেঝেতে পড়ে আছে ও নড়ছে না বাবা…
কিছু ভাঙচুরও করছে না কাঁদছেও না।
একদম চুপ হয়ে গেছে।বাবা ও এমন চুপ কেন…?
আমার সাথে রাগ করবে আমাকে বকা দিবে…
চিৎকার করবে কিন্তু এভাবে এভাবে চুপ হয়ে গেল কেন প্লিজ তুমি গিয়ে দেখো ও আমার রুমে আছে…
বাবা… আমার জীবনটাই থেমে গেছে ওকে উঠাও…
ওকে কিছু বলতে বলো আমি বুঝতে পারিনি বাবা…
আমি বুঝিনি ও এতটা কষ্ট পাবে
আমি ভুল করেছি অনেক বড় ভুল প্লিজ বাবা…
এইবারের মতো ওই বেয়াদব মেয়েটাকে বাঁচিয়ে নাও বাবা… শুনছো ?
আমার আদর কিছু বলছে না। আমি আমি বাঁচবো না বাবা ওকে ছাড়া আমি শেষ হয়ে যাবো
লিখন চৌধুরী যেন মুহূর্তেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন…
ছেলের এই আর্তনাদ তার বুকটা কাঁপিয়ে দিল।
একদিন এই ইউভিই ছোটবেলায়
তার প্রিয় খেলনার জন্য বাবার কাছে এমন করেই জেদ করত কাঁদত আবদার করত কিন্তু আজ—
কতদিন পর ছেলে ফোন দিয়েছে…
আর সেই কণ্ঠে শুধু অসহায়তা।ভাঙা কান্না…
এমন ইউভিকে তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
হঠাৎ ইউভির বলা কথাগুলো মাথায় ঢুকতেই—
তিনি কাঁপা গলায় বললেন রতিব তাড়াতাড়ি বাড়ি চলো।কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। দৌড়ে সোজা ইউভির রুমের দিকে গেলেন
দরজা ঠেলে ঢুকতেই একটা এলোমেলো, তছনছ রুম চোখে পড়ল ভাঙা কাঁচ ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র
অগোছালো বিছানা আর—
বিছানার এক পাশে সুয়ে আছে ইনায়া পাশে পিয়াসা রেসমা চৌধুরী নুসরাত চৌধুরী সবাই কান্না করছে ইনায়ার চোখ বন্ধ কোন নড়াচড়া নেই শ্বাস আছে কিনা—বোঝাও কঠিন এদিকে ইউভি ল্যাপটপটা কোলে নিয়ে
মেঝেতেই বসে আছে চোখ দুটো লাল হয়ে
ঠোঁট শুকিয়ে গেছে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে যেন জমে গেছে ইউভি ।
ইউভির চিৎকার শুনে রেদোয়ান ইউভির কাছে এসে স্ক্রিনে চোখ পড়তেই তার বুক ধক করে উঠল বোনু
সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে চিৎকার করে বলল—
পিয়াসা তাড়াতাড়ি যা বোনুর কাছে বোনু ভাইয়ার রুমে। পিয়াসা ছুটে এসে দেখে ইনায়ার এই অবস্থা মুহূর্তেই থমকে গেল ইনায়া বেবি… উঠ পিয়াসা দ্রুত ইনায়াকে কোলে তুলে ইউভির রুমের বিছানায় শুইয়ে দিল…
বারবার ডাকছে।
শোন না চোখ খোল প্লিজ কিন্তু ইনায়ার কোনো সাড়া নেই নিঃশ্বাস চলছে ঠিকই কিন্তু জ্ঞান ফিরছে না ঠিক তখনই—
লিখন চৌধুরী, রতিব চৌধুরীরা রুমে ঢুকে
এই দৃশ্যটাই দেখলেন বিছানায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে আছে ইনায়া চারপাশে আতঙ্ক, ভয় আর অস্থিরতা।লিখন চৌধুরীর বুকটা কেঁপে উঠল—
মনে হলো, এই দৃশ্যটা যেন সহ্য করার মতো না…
তিনি ধীরে এগিয়ে এসে কাঁপা গলায় বললেন—
নূর মা চোখ খোল
হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্রই চারপাশটা যেন হঠাৎ করে ভারী হয়ে উঠল
দ্রুত স্ট্রেচারে করে ইনায়াকে ইমার্জেন্সি রুমে নিয়ে যাওয়া হলো।
ডাক্তার মোনালিচা আগেই সেখানে উপস্থিত ছিল—
মনে হচ্ছিল যেন সে অপেক্ষাই করছিল তাদের জন্য।
সে এক ঝলক ইনায়ার অবস্থা দেখে বলল—
দ্রুত ভেতরে নিন টাইম নষ্ট করবেন না।
ইনায়াকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো,
আর বাইরে দাঁড়িয়ে রইল পুরো চৌধুরী পরিবার সবার মুখে আতঙ্ক, চোখে অজানা ভয় রেশমা চৌধুরী বারবার দোয়া পড়ছেন,
নুসরাত চৌধুরীর চোখ দিয়ে নীরবে পানি ঝরছে…
লিখন চৌধুরী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন,
কিন্তু ভিতরে বিতরে বুক টা কেপে উঠছে। কিছু সময় পর—
ইমার্জেন্সি রুমের দরজা খুলে বাইরে বের হল ডাক্তার মোনালিচা। সবাই একসাথে ছুটে গেল তার দিকে আমার মেয়েটা কেমন আছে?
মোনালিচা হালকা একটা আশ্বস্ত হাসি দিয়ে বলল—
আন্টি, আঙ্কেল আপনারা দয়া করে চিন্তা করবেন না।
একটু থেমে শান্ত গলায় আবার বলল
ইনায়ার শরীরে অনেক বেশি জ্বর উঠেছিল…
তার সাথে মানসিক চাপও ছিল খুব বেশি।
এই দুটো একসাথে হওয়াতে ও একটু শকড হয়ে গেছে।
রেশমা চৌধুরী কাঁপা গলায় বললেন—
মাো ও ঠিক হয়ে যাবে তো?মোনালিচা এগিয়ে এসে তার হাত ধরে বলল—
হ্যাঁ আন্টি, একদম ঠিক হয়ে যাবে।আমি আছি না? ভয় পাবেন না।তারপর একটু নরম স্বরে বললো
আসলে… ইউভি আমাকে সবকিছু বলেছে।
আমি ওর কথা শুনেই আগে থেকে এখানে অপেক্ষা করছিলাম।
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল—
মোনালিচা আবার বলল—
আপনারা শুধু ওকে একটু মানসিকভাবে সাপোর্ট দিন।
ও এখন খুব সেনসিটিভ অবস্থায় আছে…
ভালোবাসা আর যত্নই ওর সবচেয়ে বেশি দরকার।
শেষে আশ্বাস দিয়ে বলল ইনশাআল্লাহ, দুই-এক দিনের মধ্যেই ইনায়া পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে।
এই কথা শুনে যেন সবার বুকের উপর থেকে একটা ভার নেমে গেল…
তবুও প্রত্যেকের চোখে একই প্রশ্ন—
এই কয়েক দিনের মধ্যেই এত কিছু কীভাবে বদলে গেল?
এইদিকে—
লন্ডনের রাত… ঠান্ডা বাতাসে শহরটা যেন অন্যরকম শান্ত।
The Shard-এর একদম উপরের দিকের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে ইউভি…
নিচে পুরো শহরটা আলোয় ঝলমল করছে, কিন্তু তার চোখে সেই আলো চোখে পড়ছে না শুধু একটা অদ্ভুত শূন্যতা আর অস্থিরতা কাজ করছে নিজের মধ্যে।
হাতে একটা সিগারেট ইউভি ধীরে সিগারেট এ একটা টান দিল, তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে দিল।
ঠোঁটের কোণে হালকা তিক্ত হাসি নিয়ে নিজের মনেই বলতে লাগল বেয়াদপ বউ আমার একদম শেষ করে দিলি আমাকে
চোখ বন্ধ করতেই ইনায়ার কান্নাভেজা মুখটা ভেসে উঠল ইউভির বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
তুই আমাকে বলিস অসভ্য…? অসভ্য তো তুই…
এক রাতেই আমার মাথা আমার জীবন
সব গুলিয়ে দিলি বিয়াদোপ ইউভি আবার সিগারেটে টান দিল কিন্তু এবার হাতটা কেঁপে উঠল।
না বলে চলে আসলাম…
ভাবছিলাম, একটু দূরে থাকলে সব ঠিক হয়ে যাবে কিছু লোকের থেকে তোকে দূরে রাখতে চেয়েছিলাম
কিন্তু তুই তো আমাকে দূরে থাকতে দিলি না
উল্টা আমার শ্বাসে শ্বাসে ঢুকে গেছিস
হালকা রাগ, কষ্ট, ভালোবাসাসব মিলিয়ে কণ্ঠটা কাঁপছে ইউভির।
তুই জানিস আদর আজ তুই কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে গেছিস আর আমি এখানে দাঁড়িয়ে কিছুই করতে পারছি না
এই অসভ্যটা তোর জন্যই পাগল হয়ে গেছে
সিগারেটটা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে নিভিয়ে দিল—
আর ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়িয়ে রইল ইউভি দূরে আলো ঝলমল করছে আর এইদেকে এক পাগল প্রেমিকের অস্থির হৃদয় ব্যাকুল হয়ে আছে তার আদর এর অভিমান কি করে ভাঙ্গাবে।
দুপুর একটা বাজে…
হাসপাতালের কেবিনে এখন অনেকটাই হালকা পরিবেশ।ইনায়ার জ্বর কমে গেছে.মুখে আবার আগের সেই জেদি, অভিমানী ছাপটা ফিরে এসেছে। কেবিনে এই মুহূর্তে আছেনুসরাত চৌধুরী, পিয়াসা, তুবা আর দরজার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজ্জো।
এই হাসপাতালেরই ডাক্তার রাজ্জো
রাজ্জো হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর একদম সিরিয়াস মুখ করে এগিয়ে এসে বলল পেশেন্টের অবস্থা খুবই খারাপ খালাম্মা সবাই চমকে উঠতেই রাজ্জো হঠাৎ হেসে বলল এত সুটকি হয়ে গেছে যে এক্স-রে করলে হাড়গুলো ‘হাই’ বলে হাত নেড়ে দিবে।
পিয়াসা আর তুবা হেসে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে
ইনায়া চোখ বড় বড় করে বলল এই ভাইয়া তুমি ডাক্তার না জোকার? রাজ্জো চেয়ার টেনে বসে বলল আমি স্পেশালিস্ট লাভে অজ্ঞান রোগ এর ডাক্তার
তুবা সঙ্গে সঙ্গে বলল—
ওরে! তাহলে তো ঠিক জায়গাতেই এসেছে।পিয়াসা নাটকীয়ভাবে বলল ডাক্তার সাহেব, রোগীর সমস্যা কি গুরুতর?
রাজ্জো ভুরু কুঁচকে রিপোর্ট দেখার ভান করে বলল হুম… রিপোর্ট অনুযায়ী—
রোগী অতিরিক্ত চিন্তা, অতিরিক্ত প্রেম আর অতিরিক্ত নাটকএই তিনটার কম্বিনেশনে অজ্ঞান হয়েছে।
সবাই আবার হেসে উঠল ইনায়া বালিশটা তুলে মারতে গেল তোরা একদম চুপ করবি রাজ্জো বালিশটা ধরে ফেলল—
এই যে হিংস্র ভাবি সরি সরি রোগী।
দেখছেন আন্টি? এই অবস্থায়ও মারামারি করছে
নুসরাত চৌধুরী হেসে বললেন তোমরা একটু কম করো, মেয়েটা সবে সুস্থ হচ্ছে রাজ্জো গম্ভীর হয়ে বলল না আন্টি, এখন থেকেই ট্রিটমেন্ট শুরু করতে হবে।
এই মেয়ে গুলো কে আগে মানুষ করতে হবে
সবগুলোর তার ছিরা বিশেষ করে ওই মিসেস পাঁচ ফিট আর ওই তার ছিঁড়া বান্ধবীদের থেকে দূরে রাখতে হবে তুবা সাথে সাথে বলল—
এই! আমাদের দোষ দিচ্ছেন কেন?
রাজ্জো হেসে বলল কারণ তোমাদের কাছ থেকে এই মেয়ে শিখছে কিভাবে এক রাতে অজ্ঞান হতে হয়।
তারপর একটু নরম হয়ে ইনায়ার মাথায় হাত রেখে বলল—
সিরিয়াসলি বলছি, আর এমন চিন্তা করবি না
তুই ঠিক আছিস—এটাই আমাদের জন্য অনেক।
হঠাৎ ইনায়ার ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেই পরিচিত নাম্বার—
বালের শেহজাদা
নুসরাত চৌধুরী বললেন কে ফোন করছে এতবার? রিসিভ কর নূর। পিয়াসা চোখ টিপে বলল—
ভাইয়া, চল তুবা চল মেজো মা চলো আমাদের কাজ আছে।এই বলে সবাই এক এক করে কেবিন থেকে বের হয়ে গেল।এদিকে ইনায়ার ফোন বেজেই চলেছে…
শেষমেশ কলটা কেটে গেল।সাথে সাথেই একটা মেসেজ—
সুইট হার্ট ফোনরিসিভ কর।
না হলে যদি আমাকে এই কাজ ফেলে বাংলাদেশে যেতে হয়
তোকে হাড়ে হাড়ে বুঝাবো এই শহেজাদা উভি চৌধুরী কী জিনিস। নাকানিচুবানি খাওয়ানোর মজা কাকে বলে বুঝিয়ে দিব
তুই আমাকে ১৭ ঘণ্টা ১৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে পাগল বানিয়ে রেখেছিস আমি যদি দেশে আসি
তোকে ওই ১৭ ঘণ্টা ১৯ মিনিট ধরে পাগল করে দিবো
রিয়েল পাগল করে দিবো, জানোয়ার!
ফোন ধর।
মেসেজ পড়ে ইনায়া বুকের উপর হাত দিয়ে নিজেকে সামলে নিল—
না ইনায়া… তোকে শক্ত থাকতে হবে।
ওই সালাকে আজ বুঝিয়ে দিবি—
ভালোবাসি বললেই এই না যে ইনায়া নূর চৌধুরী দুর্বল!
ঠিক তখনই উভির ভিডিও কল দিল
রিং হতেই ইনায়া রিসিভ করে নিল।
কিছু না বলে মাথা নিচু করে বসে রইল।
উভি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিজের বেয়াদপ বউটাকে দেখছে সময় কেটে যাচ্ছে তবুও ইউভি কিছু বলছে না। দেখে ইনায়া ফোনের দিকে তাকাতেই
চোখে চোখ পড়ে গেল।ইনায়া ঠান্ডা গলায় বলল—
কি দেখছেন এইভাবে তাকিয়ে আছেন কেন ?
উভি মলিন হেসে বলল—
তাকিয়ে থাকার মাঝে যে নীরব প্রেম লুকিয়ে থাকে…
তা শব্দে প্রকাশ করা যায় না, আদর…”
একটু থেমে আবার বলল—
থাক, তোকে এসব বাল ছাল বলে লাভ নাই।
বল—কেমন আছিস? নাইয়া উত্তর দিল
লাইফের যেই পর্যায়ে গেলে মন খারাপ ব্যাপারটা ও স্বাভাবিক লাগে আমি এখন সেই পর্যায়ে আছি।
ইনায়া এবার মুখ তুলে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলল—
কি দরকার? কাকে চাইছেন?আমাকে কেন ফোন করেছেন?
কিছু বলার নাই তো ফোন দিছেন কেন?
কি মনে আছে আপনার?এক রাতের জন্য চেয়েছিলেন—
পাওয়া শেষ, ছুড়ে ফেলে চলে গেছেন!একবারও মনে হয় নাই আমার কথা?
কথাটা যেন ইউভির গায়ে তীতের মতো লাগলো
বেয়াদবের বাচ্চা!
তোর জানা উচিত ছিল তোকে আমি ভুলবো না।
তোকে ঠিক ততদিন মনে রাখবো—
যতদিন আমার হৃদয় ছেড়ে রুহ বের না হয়!”
শ্বাস নিতে নিতে আবার বলল ইউভি
“সালি, ফোন রাখ!
শেহেজাদার আদর পর্ব ২২
নিজের যে অবস্থা করেছিস—
মনে হয় না আমার কুদরতের পানি ছাড়া আর সুস্থ হবি।
আসছি তোকে সুস্থ করতে বলে রাখলাম, বউ!
এখন ফোন রাখ সালি! বিয়াদোপ
ইনায়া যখনই বলতে যাবে এই অসভ্য
তখনই ইউভি ঠাস করে ইনায়ার মুখের উপর ফোনটা কেটে দিলো
