সে খলনায়ক পর্ব ২৬
ফারহানা সানিয়াত
মাটিতে শরীর ঘষার আর শুকনো পাতার শব্দ, সাথে প্রানপ্রিয়ার করুন কান্নার চিৎকার। এই চিৎকার গভীর জঙ্গলের বাহিরে কারো কানে যেন যাচ্ছে না। সে মরিয়া হয়ে ছুটার চেষ্টা চালাচ্ছে।কিন্তু যতবার এটা চালাচ্ছে দামিয়ান হাত আরো দৃঢ় হচ্ছে, দামিয়ান গলায় মুখ ডুবা থেকে আস্তে আস্তে নরম দুটো পাতলা ঠোঁটে উম্মাতের মত আক্রমণ করে, তার আবেগপূর্ণ চুম্বন প্রানপ্রিয়াকে ক্ষতবিক্ষত করছে।
প্রানপ্রিয়ার চোখ খোলা, দৃষ্টি ওপরের দিকে, মুখ দিয়ে উম উম শব্দ একপ্রকার দুজনের মাঝে দোস্তাদোস্তি। নিশ্বাস নিতে পারচ্ছেন না, চোখের কোন বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে, না পারতে তাকে পরাজিত হতে হয় যেন সে একটি জীবন্ত শিকার যা একটি শিকারী দ্বারা গ্রাস করা হয়েছে।
দামিয়ান তার নিজের মাঝে নেই, সে প্রানপ্রিয়ার ঠোঁট চুষছে আস্তে আস্তে তার ধরে রাখা হাত প্রানপ্রিয়ার উরু আর কোমড়ে সেন্থ করা শুরু করে।
প্রানপ্রিয়া হাতের ছাড়া পেয়ে দ্রুত দামিয়ানকে নিজের থেকে সরানো চেষ্টা চালায় কিন্তু বিশাল দেহের পুরুষ কে একচুল ও নাড়াতে পারে না।
তবে সৌভাগ্যক্রমে দামিয়ান নিজেই তার কার্যক্রম বন্ধ করে মাথা নিচু অবস্থায় তার দিকে তাকায়,,
প্রাণপ্রিয়া এবার অন্য দিকে ঘুরে শব্দ করে কেঁদে ওঠে, এই লোক! এই লোক কেনো …… ,,
দামিয়ানের দৃষ্টি প্রানপ্রিয়ার থেকে নড়ছে না তার শ্বাস ফেলা অনিয়মিতভাবে রুক্ষ তবে চোখে মুখে এখন আর লালসা নেই, তার দৃষ্টি গভীর এবং শান্ত,
প্রানপ্রিয়া কান্না থামিয়ে জলন্ত চোখে ক্রোধ নিয়ে ঘুরে তার শান্ত চোখে দিকে তাকায়,,
দামিয়ান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে অতঃপর আস্তে করে ওপর থেকে উঠে শরীরের ধুলোবালি ঝাড়া শুরু করে তবে দৃষ্টি প্রানপ্রিয়ার দিকে নিবদ্ধ,,
প্রানপ্রিয়া তার দুদিকের শার্ট আঁকড়ে ধরে নিজেকে ঢাকে, তার অবস্থা একদম বেহাল দশা তাই চোখ নামিয়ে দ্রুত সোয়া থেকে উঠে এবং আবার ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করে সে ভাবতে পারছে না এই মাত্র কি হলো তার সাথে এএটা কোনভাবে দুঃস্বপ্ন হয়ে যাক,,
প্রাণপ্রিয়ার কান্নার শব্দ দামিয়ানের কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে একটা অসহায় মেয়ে জঙ্গলের গভীরে মাটিতে বসে কাঁদছে,,দামিয়ান স্নান ভাবে উপহাস করে হাসে এরপর তার স্যাতঁস্যাঁতে ঠোঁট বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে মুছে নেয়,,
প্রানপ্রিয়ার কুঁকড়ে উঠে তার হাসির শব্দ শুনে ,,
_ তুমি! উপহাস কন্ঠ দামিয়ানের,
শুধু তোমার মত মেয়ের, সে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ায় ,
প্রাণপ্রিয়ার কান্নার মাঝে তীব্র দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়,,
__ তোমার মত মেয়ের নিশ্বাস আটকানোর জন্য আমার বেয়াদবির সীমা পাড় করাই যথেষ্ট ,,
প্রানপ্রিয়া হাত মুষ্টি বন্ধ করে মাটি খুঁবলে ধরে আবারো ফুঁপিয়ে উঠে,,
দামিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে এক নজর তাকে দেখে ,
তার ভয়ংকর চাহনি, সে ঠোঁট বাকিয়ে হাসে বাগানের একটি মাত্র অসহায় সাদা গোলাপ হা,
প্রায় সন্ধ্যা নেমে এসেছে মেঘলা আকাশে চারপাশে শীতল আবহাওয়া। আশ্রমের লাইট জ্বলজ্বল করছে
প্রানপ্রিয়া নিজের শার্ট আঁকড়ে ধরে কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে দৌড়িয়ে চলে আসে আশ্রমে। দামিয়ান যেতেই আর এক মুহূর্ত সেখানে থাকেনি সে।
আশ্রমে বাচ্চারা স্কুল থেকে অনেকক্ষণ আগে চলে এসেছে, তারা নিজেদের মত ফ্রেশ হয়ে নিজেদের ঘরে , তাই প্রানপ্রিয়ার বিধ্বস্ত অবস্থা কারো চোখে পড়ে নি সে দৌড়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে অঝোরে কান্না শুরু করে,
__ কেনো আজ সে জঙ্গলে গিয়েছিল , ওই ভয়ংকর পাগল লোক তার সাথে এসব কেনো করলো. কেনো করলো?কান্নারত শক্ত কন্ঠ প্রানপ্রিয়ার,
তার মুখে আপত্তিকর স্বাদ গা ঘিন ঘিন করছে দ্রুত হাত দিয়ে ঠোঁট ঘষা শুরু করে যেন তার ঠোঁট ঘষতে ঘষতে মাংস উঠিয়ে ফেলবে। চোখে কিছুক্ষণ আগের দৃশ্য, ওই লোকের প্রতি তীব্র তার ঘৃণায় দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে শব্দ করে কেঁদে ওঠে, কাকে বলবে তার সাথে আজ কি হয়েছে সে কাকে বলবে? জীবনে এমন কিছুর শিকার হবে সে তো ভাবতে ও পারে নি কি করবে সে?
ঝর্নার উষ্ণ পানি দিয়ে শরীরে লেগে থাকা অবশিষ্ট ধুলোবালি ধুয়েমুছে ফেলছে দামিয়ান। জিম করা ফর্সা শরীরে বিন্দু বিন্দু পানির কণা চুল গুলো ভিজে কপালে পড়া সে চোখ বন্ধ করে দুহাত দেয়ালে ঠেকিয়ে রেখেছে,,
__ সেই আশ্রিতা! মনে মনে আওড়ায়,
সে কি ? তার ওপর লোভ কিসের সেটা স্পষ্ট তাই লম্পট মনকে আজ আটকাতে পারিনি।দামিয়ান চোখ খুলে, এক হাত দিয়ে কপালের ভেজা চুলগুলো পিছের দিকে ঠেলে দেয়,, তার স্মৃতিতে প্রাণপ্রিয়া কে প্রথম দেখা থেকে এই পর্যন্ত ভেসে ওঠে তার মনে আছে ছোট্ট কিশোরী আশ্রমের মেয়ে যে এখন যুবতী,তার সৌন্দর্য একদম নিখুঁত তার ওপর তার লালসা বাসনা গভীর, হয়তো বিনোদন থেকেও,,,এটা বিরক্তিকর সে নিজেকে বারবার বুঝালে ও এটাই সত্যি। সে চেয়েছিল ওই মেয়ে বিনোদন হিসেবে থাকুক কিন্তু তার কাছ থেকে না চাইতে ও সে অনেক কিছু চায় আর এখন তার শরীরের সুবাস ঠোঁটের স্বাদ,,,…
দামিয়ান ভাবনা মাঝে থামিয়ে তার ঠোঁট কামড়ে ধরে ঝর্ণার উষ্ণ পানি তার গা বেয়ে পড়ছে তাকে অধিকার করার মনোভাব ক্রমে ক্রমে তার ভেতরে শক্ত হচ্ছে সে বুঝতে পারছে এটা ।
কিছুক্ষণ পর, সাওয়ার শেষ করে ছাই রঙের টাওজার পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয় দামিয়ান।
পরনে তার শুধুই টাওজার ফর্সা লোমহীন উদোম শরীর ভেজা চুল গুলো টাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
তৎক্ষণাৎ ঘরে প্রবেশ করে আহানাফ, সে এক হাত পকেটে গুজে অন্য হাত দিয়ে মোবাইলে স্ক্রোল করছে,
দামিয়ান আয়নায় এক নজর আহানাফকে দেখে,,
__ ব্রো তোমাকে বড় বাবা দেখা করতে বলেছে…
কথাটা আহানাফ বলতে বলতে দামিয়ানের দিকে দৃষ্টি ফেলতেই চোখ পড়ে তার কাঁধে লাল হয়ে যাওয়া কামড়ের দাগের ওপর যা উদোম শরীরে একদম স্পষ্ট ।
__ ব্রো!! তোমার কাঁধে কামড়ের দাগ! আহানাফ কপালে ভাঁজ ফেলে দ্রুত গতিতে বলে ওঠে,
তবে দামিয়ান কোনরকম প্রতিক্রিয়া ছাড়া চুল মুছে কাবার্ডের দিকে চলে যায় যেন কিছুই না।
আহানাফ বিস্মিত প্রশ্নবোধক দৃষ্টি তার দিকে।
দামিয়ান শান্তভাবে কাবার্ড থেকে টি-শার্ট বের করে পড়ে পা বাড়িয়ে সোফায় গিয়ে বসে এরপর সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে দুই ঠোঁটের মাঝে চেপে গ্যাস লাইট দিয়ে জ্বালিয়ে ধূমপান করায় মনোযোগ দেয়,
আহানাফ এখনো তার দিকে তাকিয়ে তার বিস্মিত প্রশ্ন বোধক দৃষ্টি দামিয়ানের স্বাভাবিক হাবভাব দেখে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠে,, তার ভাইয়ের কাঁধে কামড়ের দাগ যেটা অবশ্যই কোনো জীব জন্তুর ছিল না। আহানাফ এগিয়ে দামিয়ানের বরাবর সোফায় গিয়ে বসে,
__ ব্রো!
দামিয়ান সিগারেটের টান দিয়ে আহানাফের দিকে তাকায়,
__ তোমার কাঁধে ,,,,
দামিয়ান সিগারেটের পিকেট আর গ্যাস লাইট তার দিকে টেবিলের উপর ছুড়ে মারে।
আহানাফ থেমে কয়েক সেকেন্ডের জন্য টেবিলের দিকে তাকায় অতঃপর ফের দামিয়ানের দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আবারো কিছু বলতে যাবে দামিয়ান পায়ের ওপর পা মুখ থেকে ধোঁয়া বের করে শীতল কন্ঠে বলে ওঠে,,
__ বাবাকে গিয়ে বলবে ডিনার টেবিল দেখা হবে আর সারা কি চলে গেছে? স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সে কথা ঘুরায়।
আহনাফের কুঁচকানো কপাল সোজা হয়ে যায়। সে কয়েকবার চোখের পলক ফেলে, অতঃপর হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়,
দামিয়ান দৃষ্টি সরিয়ে দু ঠোটের মাঝে আবারো সিগারেট চেপে ধরে,,
তবে আহনাফের মনে জেগে ওঠে প্রশ্ন, সে দামিয়ানকে কথা ঘুরাতে দেখে কামড়ের ব্যাপারে আর কিছু বলে না কিন্তু এটা জীবজন্তুর কামড় না হলে মানুষের, ধরা যাক তার ফিয়ান্সে মানে সারার অন্য কারো সাহস হবে না সে জানে, কিন্তু সারা তো চলে গেছে তার বাসায়,
তাহলে??
আমি কখনোই তাকে হারাবো না , ইভান মনে মনে বলে ওঠে , অন্ধকার ঘরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে তার দৃষ্টি চাঁদ তারা হীন আকাশের দিকে।
আশ্রম থেকে ফিরে আসার পর ইভান তার ঘর বন্দী হয়ে আছে। তার চোখে মুখে হতাশা ভাব। প্রাণপ্রিয়ার হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে এরূপ আচরণ কথাবার্তা তার ভেতরটা ক্ষত করছে কারন তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সম্পর্ক আর আগের মত থাকবে না এটা মানা তার জন্য কষ্টকর,
__ কেনো বড় হলো তারা, আফসোস কন্ঠ ইভানের সাথে সমাজের উচু নিচু দেখার ব্যাপার গুলোতে তার ঘৃণা চলে আসে সে জানে অবশ্যই সে বুঝেও তাদের বন্ধুত্বের মাঝে দূরত্বের মূল কারণ কি যেদিন সেলিনা আন্টি বলেছিল তাদের এখন থেকে দেখা সাক্ষাৎ কমাতে হবে কিন্তু সে তো এমন চিন্তাধারার মানুষ না এটা জেনেও হঠাৎ করে এসব বিষয়ে এতোটা সিরিয়াস! আর সবচেয়ে বড় কথা সে তার বন্ধু,
ভালোবাসা, অবশ্য ভালোবাসাটা শুধু তার দিক থেকে তার জীবনের প্রথম অনুভূতি তাকে ঘিরে যার কারনে এই পর্যন্ত কখনো অন্য নারী মোহে আটকাইনি এখন তার থেকে সে কিভাবে দূরত্ব বজায় রাখবে!
ইভান ঠোঁট কামড়ে হাত মুষ্টি বন্ধ করে নেয় এমনটা হবে না,কখনোই হবে না এর সমাধান দ্রুত বের করতে হবে নাহলে তাকে সত্যি হারাতে হবে ।
ভাবনা মাঝে হঠাৎ দুবার দরজায় নক, ইভান হতাশা মুখে ধীরগতিতে ঘাড় ঘুরিয়ে অন্ধকার ঘরে দরজা দিকে তাকায়,,
__ ইভান দরজা খোলো বাবা ডিনার করতে হবে তো সারাদিন কিছু খাওনি। কল্পনার নরম স্বরের চিন্তিত কন্ঠ,
ইভান গভীর শ্বাস ফেলে সারাদিন ঘর বন্দি থাকার জন্য তার মম চিন্তিত, ইভান এগিয়ে যায়।
কল্পনা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ইভান খট করে দরজা খুলতে সে দ্রুত গতিতে ঘরের প্রবেশ করে।অন্ধকারে ঘরে চারপাশে কিছু দেখা যাচ্ছে না সে হাত বাড়িয়ে দেয়ালে সুইচ টিপে লাইট জ্বালাতে তীব্র আলো ইভানের চোখে যেয়ে লাগে।
কল্পনা ছেলেকে খানিকটা সময় নিয়ে দেখে অতঃপর বলে ওঠে,,
__ কি হয়েছে আজ তোমার এভাবে লাইট বন্ধ করে সারাদিন না খেয়ে ঘরের ভেতর,
ইভান দু আঙ্গুল দিয়ে চোখ ঘষে ,কিছু হয় নি।
কল্পনার কপালে ভাঁজ পড়ে, ইভান লাইটের আলোয় কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে তার নরম বিছানায় গিয়ে বসে
কল্পনা এগিয়ে নিজেও তার পাশে বসে।
__ কি হয়েছে তোমার মমকে বলতে পারো ,
ইভান মাথা নত করে বড় নিশ্বাস ফেলে। কল্পনার ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,,আমি চিন্তিত ইভান, আমার ছেলেকে আমি এভাবে কখনো দেখিনি।
মায়ের কথায় ইভান ঢোক গিলে আবারো বড় নিশ্বাস ফেলে এরপর শুয়ে পড়ে কল্পনার কোলে মাথা রেখে ,,
ছেলের এমন চুপচাপ অবস্থা দেখে কল্পনা এবার অনেকটা চিন্তিত হয়ে ওঠে ,তার ফুরফুরা মেজাজের ছেলের আজ হঠাৎ কি হলো,
__ আমি কিভাবে প্রিয়ার থেকে দূরত্ব বজায় থাকবো মম, কম্পিত কন্ঠে ইভানের ।
কল্পনা চিন্তিত ভাবনার মাঝে আকস্মিক ছেলের কথা শুনে মুহূর্তে তার মুখে রং বদলে যায় ।
__ আমি তাকে হারাতে চাই না মম সব সময় একসাথে থাকতে চাই,
কল্পনা ছেলের দিকে তাকায়, সে স্তব্ধ। ইভানের মাথায় বুলানো হাত থেমে গেছে তার আস্তে আস্তে মুখে রুক্ষতা প্রকাশ পাচ্ছে।
সে খলনায়ক পর্ব ২৫
ইভান হা করে শ্বাস ফেলে, সে তার অবস্থান নিয়ে আমাকে তার থেকে দূরে রাখতে চাইছে আর এর সমাধান কি আমি জানিনা কিন্তু মম আমি তাকে ভালোবাসি,,
কল্পনা দাঁতের দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে আবার খুলে তবে ছেলের কিছুই বলে না সে চুপচাপ থেমে যাওয়া হাত দিয়ে আবার মাথা বুলানো শুরু করে সামান্য লো ক্লাস আশ্রিতা নিজের রূপ দেখিয়ে যে তার ছেলেকে বশ করে ফেলেছে বেশ বুঝতে পারছে।
