Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৩

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৩

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৩
সাঞ্জেনা শাজ

ব্যাথা নাষক ঔষধের প্রভাব কাটতে কাটতে শুভ্রতার তন্দ্রাঘোর ছুটতে থাকলো আস্তেধীরে । দু’চোখের ভারী ঘন পল্লব ঝাপটিয়ে প্রথমেই নিজেকে আবিষ্কার করলো সু’পরিচিত কোন কামরায়। মস্তিষ্কে ক্ষীণ চাপ প্রয়োগ করতেই, সহসাই নিজের শির্নকায় দেহকে মেহরাদের নরম বিছানায় আবিস্কৃত করে হতচকিত হলো বেশ।
পরপর রুম জুড়ে ভেসে বেরানো অতি প্রিয় পুরুষালী গন্ধে আচ্ছন্ন হয়ে গেলো মেয়েটা। ভেতরের টান উচাটন অবগ্যা করে দু চোখ বুজেই গা’য়ের জড়ানো কম্ফর্টার থেকে প্রগাঢ় শ্বাস টেনে নিলো। মূহুর্তেই নাসারন্ধ্র ছাপিয়ে মস্তিষ্কে আলোড়ন তুললো পুরুষালী সৌড়ব। অন্তকরন হাহাকারে ভরে উঠলো, দীর্ঘদিন প্রতিক্ষার পর এতো কাছ থেকে প্রণয় পুরুষের অস্তিত্ব অনুভব করায়, বেসামাল হলো অনুভূতির তরঙ্গচ্ছ্বাস।
ভেতরে তোলপাড় করা অনুভূতিরা কণ্ঠনালীতে এসে জমাট বেধেছে মেয়েটার৷ নীরব অশ্রুতে প্লাবিত হতে শুরু করলো দু’নয়ন। প্রিয় পুরুষের একটু খানি ছোয়ার জন্য কতো হাহাকার’ই করেছে সে! তার বিরহে নিজেকে শেষ করে দিতেও দু’বার ভাবেনি। বিরহদিনের স্মৃতি গুলো মস্তিষ্কে সূর্য কিরনের মতো আলোকপাত করতেই নীরবে প্লাবিত অশ্রু হু হু কান্নায় রুপান্তরিত হলো মেয়েটার। বা’পায়ের সুক্ষ্ম চিনচিনে ব্যাথাটা বেলামুম ছাপিয়ে গিয়েছে বিরহ স্মৃতির আলোরনে।

নীরব কক্ষ হতে করুন কান্নার শব্দ ভেসে আসতেই কদমের গতি বাড়ালো মেহরাদ। ঘড়ির কাটা তখন রাত এগারো’টার ঘরে। তালুকদার বাড়ি ততক্ষনে থমথমে শুনশান নীরবতায় পরিনত হয়েছে। তখন চাইলেও মমতাময়ী মা’য়ের আহাজারি পা’য়ে ঠেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে পারেনি মেহরাদ। সবচেয়ে বড় কথা, অন্যায় হয়েছে শুভ্রতার সাথে। শুভ্রতা যা বলবে তা-ই করবে সে। কড়া মেডিসিনের প্রভাবে ঘুমে তলিয়ে থাকা শুভ্রতার ঘুম আর কেউ ভাঙ্গায়নি রাতে। সকলেই বার দু’য়েক ঘুমন্ত মেয়েটাকে দেখে চক্ষু সজিব করে গিয়েছে।
কড়িডরের নিঝুম অন্ধকার পায়ে মারিয়ে, ত্রস পায়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো মেহরাদ।, ম্রিয়মাণ আলোতে নিজের প্রান প্রেয়সীকে অশ্রু বিসর্জনে মত্ত আবিষ্কার করতেই উদ্বিগ্নতায় ছেয়ে গেলো মেহরাদের গৌরবর্ন মুখমণ্ডল। অনতিবিলম্ব কান্নারত রমনীর কাছে পৌছাতেই অশ্রুসিক্ত আখিপল্লব ঝাপটিয়ে ব্যাকুল নয়ন জোড়া মেলে ধরলো মেয়েটা, তার প্রণয় পুরুষের সান্যিধ্যে।

দু’জোড়া দৃষ্টির মেলবন্ধনে বুকের তোলপাড় করা রক্তচ্ছ্বাসে একযোগে যেন কাতড়ে উঠলো প্রেমিক যুগোল। দুমড়ে মুচড়ে উঠলো মেহরাদের পাজর। ব্যাকুলতায় ছেয়ে গেলো ভরাট পুরুষালী কন্ঠস্বর,
“কি হয়েছে? পা’য়ে ব্যথা হচ্ছে? ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো?” প্রতিটি বাক্যে উপচে পড়া আশংকা।
পদ্মপাপড়ির ন্যায় আশ্রুস্নাত ওষ্ঠোজোড়া আপনা-আপনি উলটে আসলো ক্রন্দনরত রমনীর মেহরাদের আহ্লাদী, ব্যাকুল কন্ঠে। একলহমায় আছড়ে পরলো তৃষ্ণিত বক্ষপটে। হৃদয় নিংড়ানো আহাজারির অশ্রুর বন্যায় প্লাবিত করে তুলছে স্বামী নামক প্রণয় পুরুষের বক্ষস্থল। কান্নার তোপে তিরতিরয়ে প্রকম্পিত হচ্ছে অষ্টাদশীর শির্নকায় তনুখানি।
“আপনায় খুউউউব মিস করেছি মেহরাদ ভাই।” ক্রন্দনরত রমনীর করুন রোনাজারি।
বলিষ্ঠ হাতে ক্রন্দনরত রমনীর পেলব কটিদেশ আকড়ে ধরে মধ্যবর্তী কিঞ্চিৎ ফাঁকা স্থানের দুরত্ব ঘোচালো মেহরাদ। প্রকম্পিত ছোট্ট দেহখানি সম্পূর্ণ নিজের সাথে মিশিয়ে নিতে নিতে হিসহিসিয়ে উঠলো,

“হুশ, হুশ। আমি আছি তো? এই তো আমি! আমার জান…..”
মেহরাদের মৃদুস্বরের হিসহিসানি শুভ্রতার শ্রবণেন্দ্রিয়ে পৌছাতেই মেয়েটার কান্নার তোপ আরও বাড়ল বয় কি। সর্বশক্তি দিয়ে মেহরাদকে আকড়ে ধরতেই আবারও মেয়েটার অনুচ্চস্বরের আদ্র কন্ঠ উচ্চারিত হলো,
“আপনাকে খুব ভালোবাসি মেহরাদ ভাই। খুউউব।বিশ্বাস করুন? আপনাকে ছাড়া একটা দিনও ভালো ছিলাম না। জীবনটাকে ভারী বোঝা মনে হতো। আপনি কেন কষ্ট দিলেন, নিজেকে? ক্ষমা করে দিন না? জানেন?আমার আপনি ছাড়া কেউ নেই। কেউ আমায় ভালোবাসে না। কেউ না…. ”
“হুশশশ!! আমি আছি তো! আর কারো ভালোবাসতে হবে না। চলবে না?” আহ্লাদী স্বরের আদুরে আস্কারা।
অনতিবিলম্ব ক্রমাগত মাথা নাড়লো মেয়েটা। অর্থাৎ, তার এতেই চলবে। খুউব চলবে। বলিষ্ঠ পৃষ্ঠদেশ আকড়ে ধরা ফিনফিনে হাতের বাধনে আরেকটু দৃঢ়তা টানতে টানতে মেয়েটা কান্নারত অবস্থায় ফুঁপিয়ে অনুযোগের পশরা সাজালো,

“আপনি মেরেছেন মেহরাদ ভাই। কান ব্যাথা করছে এখনও । কিন্তু, তারচেয়েও বেশি বুকে কষ্ট হচ্ছে, আপনি কেন নিজেকে কষ্ট দিলেন? কেন দিবেন? কত গুলো রক্ত ঝরলো আমার জন্য! ”
অভিমানী সিক্ত কন্ঠস্বর অষ্টাদশীর।বুক বাঙা অভিমান আর পৃথিবী সমান ক্লেশ নিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় তার মেহরাদ ভাইটাকে। অমানিশায় ছেয়ে যায় মেহরাদের অন্তঃপুট। তীড়ের মতো এসে ক্ষিত বিক্ষত করে দেয় কিশোরীর একেকটি কথার বান।শরৎের একদলা কালো মেঘ যেন জমাট বেদে গেলো কণ্ঠনালীতে। নিজ কর্মের কান্ডের ব্যাথার নীল ছাপ আবর্তিত হলো সুদর্শন মুখশ্রী জুড়ে। শিরোদার্য কন্ঠে অস্ফুট স্বীকারোক্তি ধ্বনিত হলো তৎক্ষনাৎ,
“মাথা ঠিক ছিলো না। আই ওয়াজ গন ম্যাড এভাউড ইয়্যু। উইথাউড ইয়্যু। ইয়্যু.. ইয়্যু নো না? হাও মাচ আই লাভ ইয়্যু? দেশে ফিরে তোকে ছাড়া পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলাম এক প্রকার। তুই নিজ হতে আমার থেকে দূরে সড়ে গিয়েছিস, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ততম সত্য ছিলো যেটা আমায় এতদিন বোজা বয়ে বাচতে হয়েছে। বুঝতে পারবি না ঠিক কতটা উন্মাদ হয়েছিলাম আমি…..আমার শুভ্রার কাঠগড়ার দন্ডনীয় অপরাধী আমি। যা শাস্তি দিবি সব মাথা পেতে নিবো। অভিমান করে না লক্ষিটি…. ” বিদ্ধ্যস্ত অনুভূতির ভারে হিসহিসিয়ে উঠা কন্ঠ রোধ হয়ে আসতে চায় মেহরাদের।দৃঢ় বাধনের প্রগাঢ়তায়, শক্ত হাতের রুক্ষ আঙুল ডেবে যায় নারী দেহের লতানো পেলব কটিদেশে।
“আদর করে দিবো, হু? খুউব আদর করে দিবো। ভালোবাসা দিয়ে সব ব্যাথা সারিয়ে দিবো,হু? একদম ম্যাজিকের মতো। আমার লক্ষিটি। আর কষ্ট পেয়ো না, হু?” আবারও উচ্চারিত হলো আদুরে কন্ঠের অস্ফুট হিসহিসানি।
অস্ফুট স্বরে নিঃসৃত শেষাক্ত বাক্যটি শুভ্রতার কর্নগোচর হতেই তা যেন বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের ন্যায়’ই ঝংকার তুললো শ্রবণেন্দ্রিয়ে। কম্পমান হৃদয়ের রক্তস্রোতের তোলপাড় ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ তুলে ছড়িয়ে পরলো সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে । না চাইতেও কণ্ঠনালী চিড়ে অস্ফুটে স্বরে বেরিয়ে এলো,

“তুমি???”
“হ্যাঁ, তুমি। আমার জান, প্রান সব তুমি। আমার হৃৎস্পন্দন তুমি। মাই এভ্রিথিং, সুইটহার্ট!” ঘোর লাগানো হাস্কিস্বর সুডৌল পুরুষের ।
ঘোর লাগানো হাস্কিস্বরের মিষ্টি বুলি, অভিমানী শুভ্রতার বিরহ বেদনা ছাপিয়ে হৃদয় জুড়ে যেন এক প্রশান্তির মলয় বাতাস ছড়িয়ে দিলো। একঝাঁক লাজরাঙা প্রজাপতিরা উড়ো উড়ি শুরু করলো তলপেটে । কর্তন করা ডগার ন্যায় অষ্টাদশী নেতিয়ে আসতেই পৃষ্টদেশের দৃঢ় হাতের বাধন আলগা হয়ে দুটি দেহের দূরত্ব বাড়তে লাগলো।
উপস্থিত মানিবের কিছুতেই পছন্দ হলো এ দুরত্ব। কপালে অসহ্য রেখার গাঢ় আস্তরণ ফেলে কলমিলতার ন্যায় নুয়িয়ে আসা অষ্টাদশীর বাকানো কোমরের খাজ আকরে ধরে সম্পূর্ণ অস্তিত্বকে উরুতে টেনে বসালো। নাকে মুখে মৃদু গুঙ্গানির আওয়াজ তুলে কবুতরের ন্যায় কোমল, কপোত গ্রীবায় মুখ গুজে আওরালো,
“দূরে সরছিস কেন? আমায় ফিল করতে দে তোকে। আই ওয়ান্না ফিল ইয়্যু সো ব্যাডলি,লাভ। ” সেই সাথে কণ্ঠনালী ঘেঁষে পুরো ওষ্ঠজোরার ছোট ছোট আদুরে ছোয়ার বহরা। তপ্ত নিশ্বাসের প্রবাহে ঝলসে যাচ্ছে গ্রীবার মোলায়েম ত্বক। শিড়দাঁড়া বেয়ে নেমে যাওয়া শীতল স্রোতের প্রবাহ অদৃশ্য পরশে শিহরিত করে যায় অষ্টাদশীর দেহের প্রতিটি লোমকূপ।

উন্মাদ পুরুষের পরিচিত আদুরে ছোয়ায় প্রকম্পিত হলো অষ্টাদশীর সর্বাঙ্গ। কম্পমান স্পন্দনের লাভ ডাভ শব্দ ছড়িয়ে পরছে কুন্ডলী পাকানো নারী দেহের তোড়নে তোড়নে। ফিনফিনে হাত দুটো আড়ষ্টতায় বলিষ্ঠ কাধ আঁকড়ে ধরতেই স্থীর হয় বেপরোয়া মানব। মুখ তুলে, সুগঠিত আঙুলে কাধ গলিয়ে আকড়ে ধরে সরু গ্রীবা। হাতের দৃঢ়তায় কাছে টেনে নিলো মেয়েটার নত লাজুক মুখশ্রী । কপালে কপাল ঠেকালে নীরবে মিলিত হলো একজোড়া তপ্ত নিগুঢ় শ্বাস প্রশ্বাস। তীব্র অনুভূতির প্রলয়োচ্ছ্বাসে শ্বাস প্রশ্বাসের আনাগোনা বেসামাল। দু’জোড়া তৃষ্ণিত ওষ্ঠাজোড়ায় ন্যানো সেন্টিমিটারের দুরত্ব। আদিম বেসামাল অনুভূতির তাড়নায় চুম্বুকের মতো টানছে শুষ্ক ওষ্ঠ যুগোল পরস্পরকে ।
ধূসর অস্পষ্ট আলোয় কক্ষ জুড়ের ঝিম ঝিম নীরবতার ইতি টানলো একটা ফিসফিসে আদুরে মিষ্টি আবদার,
“মেহরাদ ভাই……একটু ছুয়ে দিতে ইচ্ছে করছে আপনাকে….খুব….” ফিসফিসে আদুরে আবদারের তালে তালে গোলাপের পাপড়ির ন্যায় তপ্ত ওষ্ঠ যুগোল কোমল পরশে ছুয়ে গেলো পুরুষালী তপ্ত ওষ্ঠধর। পরক্ষণেই অনুভূত হলো মোলায়েম, চিকন এক জোড়া ওষ্ঠের আলতো পরশ৷ যার স্থায়িত্ব পেলো সেকেন্ড ক্ষানিক। হাপরের মতো নির্গত হচ্ছে বক্ষপিঞ্জিরার আশান্ত ঝড়ের মাতম, বিপরীত পক্ষের।

ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো নির্লজ্জ পুরুষ। প্রাপ্তির হাসি। তার বোকা চড়ুইটার কি মিষ্টি আবদার! মেহরাদ কি এতে এ জিন্দেগীতেও বাধ সাধবে! উঁহু, ইহজিন্দেগীতেও তো না! প্রাপ্তির হাসি টুকু অধর কোলে মিলিয়ে যেতেই, পরপর পুরুষালী ঠোঁটের বাকে কম্পন তুললো বেপরোয়া নির্লজ্জ বাক্য,
“আমার টা তোলা রইলো। এতো অল্পতে আমার কিছুতেই পোষাবে না, ইয়্যুর অনার। এক্সপিরিয়েন্স আছে। আশা করি এই অপরাধীর পরবর্তী দুষ্কর্মটুকুও মৌকুফ করা হবে। ”
স্বামী নামক প্রণয় পুরুষের অরোপিত নীরব প্রেমময় হুশিয়ারিতে সংকুচিত হয়ে এলো অষ্টাদশীর শির্নকায় অস্তিত্ব। কণ্ঠনালীতে দলা পাকিয়েছে নিদারুণ লাজুক আড়ষ্ঠতা। মুখখানি তখন ঠিক বিকেলের রক্তিম গোধূলির মতো রাঙা। তীব্র টান উচাটন, শ্বাসপ্রশ্বাস নির্গমন ব্যাতিত কোনো আওয়াজ নেই মুখে। দীর্ঘসময় ব্যয়ে সকল আড়ষ্ঠতা ডিঙ্গিয়ে সরল দৃষ্টিপাত করলো অষ্টাদশী, স্বামীর দীপ্ত, আবেশমাখা দৃষ্টিতে । অধর কোলে লজ্জা মিশ্রিত তরল হাসির ফোয়ারায় উচ্চারিত হলো মৃদু ফিসফিস প্রতিধ্বনি,
“আমার কাঠগড়ার অপরাধী আপনি হলে, সব সাজা চিরদিনের জন্য মৌকুফ। উউইদাউট এনি ডাউট।”

ঘড়ির কাঁটা রাতের গভীরতা টানতেই অল্প একটু খাবার খায়িয়ে, শুভ্রতাকে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে পৌছে দিলো মেহরাদ। মেডিসিনের কল্যানে ব্যাথা অনেকটাই লাঘব এখন। নিজে যেতে পারবে বলেও মেহরাদ নামক একচোটিয়া দাপুটে মানবকে রুখতে পারেনি শুভ্রতা। বাধ্য হয়ে কোলে চড়েই ঘুরছে সে।
নিচ থেকে খাবারের প্লেট রেখে এসে আবারও ওয়াশরুমের দরজায় টোকা দিলো মেহরাদ। জানতে চাইলো,
“নিড এনি হেল্প বেইবি? দরজা আটকানো কেন?”
শুভ্রতার চোখ চড়াক গাছের মতো কপালে উঠে যাওয়ার যোগার। কীসব নির্লজ্জ কথা বার্তা! দরজা দেবে না সে! আশ্চর্য!
এমন নির্লিপ্ত, নির্লজ্জ প্রশ্নবাণে অজান্তেই কুন্ঠিত হয়ে আসে রমনীর নারীকায়া। নাজুক মিহি কন্ঠে আওড়ায়,
“আমার ড্রেস আছে? শাওয়ার নিয়ে নিলাম যে! ও…ই অস্বস্তি হচ্ছিলো আর…..”
মেহরাদের কপালে নাখোশের গাঢ় ভাজ পরলো। বাক্য সম্পূর্ণ করার আগেই ধমুকে কন্ঠে শাসালো,
“ক’টা বাজে জানিস? এখন শাওয়ার নেওয়ার মানে কি? আর ড্রেস থাকবে না কেন? ক্যাবিনেটেই আছে। ড্রাগের মতো কাজ করতো, এগুলো থেকে ভেসে আসা তোর গা’য়ের সু’ঘ্রানটুকু। খুব যত্নে আগলে রেখেছি। থাকবে না মানে!”

শুভ্রতা তড়িঘড়ি করে ওয়াশরুম থেকে লাগোয়ে ড্রেসিং ক্যাবিনেটে চলে গেলো সফেদ তাওয়ালে মুড়িয়ে। নিজের একেকটা পোশাক সুবিন্যস্ত অবস্থায় গুছানো দৃষ্টি গোচর হতেই অন্তপুটে হিমেল হাওয়ার শীতল বাষ্পীভূবন হলো। প্রসন্ন চিত্তে এক সেট কালো সালোয়ার সুট গা’য়ে জড়িয়ে নিলো স্বল্প কসরতে। বেশ ঢিলেঢালা হয়েছে কামিজ। স্বাস্থ্যের যে নিদারুণ অবনতি ঘটেছে এটাই তার নজড় কাড়া প্রমান। জামা কাধ গলিয়ে পড়ে যেতে চাইছে যেন৷ শুভ্রতা ওড়নার আড়ালে ঢাকলো ঢিলেঢালা জামার ফাঁক গলিয়ে উন্মুক্ত হতে চাওয়া ফিনফিনে সরু কোমল গ্রীবাদেশ।
ড্রেসিং রুম থেকে বের হতেই ফকফকে আলোর ঝলকানিতে নারী দেহ কিছুটা সংকুচিত হয়ে গু’টিয়ে এলো মেয়েটার। তার ধারণা দেহের সাথে সাথে চেহারার জৌলসতাও কয়েক গুন কমে গিয়েছে তার।
সুগঠিত, সুদর্শন মেহরাদের সাথে অগনিত ত্রুটিযুক্ত সে নিতান্তই বেমানান। তিন মাসের ব্যাবদানে বলিষ্ঠ মানবের দেহের গড়ন, বড়ন কয়েক গুন বেড়িয়ে পুরুষালী আভিজাত্য ঠিকরে পড়ছে যেন এখন। সেই তুলনায় শুভ্রতার কেবল অবনতিই ঘটেছে। তাই পূর্বে অন্ধকারে থাকলেও প্রজ্জ্বলিত আলোক সজ্জায় নিজেকে নিয়ে খুবিই হীনমন্যতায় কুন্ঠিত হয়ে গেলো সরল অষ্টাদশী। দন্ডায়মান স্থীর হয়ে রইলো এক চরনে ভর ঢেলে,নত মস্তকে।
পিছু ঘুরে শুভ্রতাকে আড়ষ্টতা ভঙ্গিতে দাড়িয়ে থাকতে দেখে কপালে গুটি কয়েক স্তরের ভাজ পড়লো মেহরাদের। ভারী কদমে এগুতে এগুতেই ধমুকে কন্ঠে বলল,

“দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমায় ডাকবি না? পাকনামো করতে বলেছে কেউ? অবাধ্য হবি, মা’র খাবি।” ঝাড়ির উপরে রেখেই এক হাতে সরু কবজি চেপে, আরেক হাত পেলব কোমর গলিয়ে সহসাই পাঁজুকোলে তুলে নিয়েছি সে অবাধ্য কিশোরীকে।
ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকানোর ফুরসত পেলো না অষ্টাদশী। ফিনফিনে সরু হাত দুটো সহসাই জড়িয়ে ধরলো চওড়া বলিষ্ঠ সিংহগ্রীব। সে অবস্থাতেই নরম বিছানার মাঝ বরাবর ঠাই পেলো নাজুক দেহ। হাতের বাধন শিথিল হয়ে এলো রমনীর।
কুঞ্চিত কপালের রেখা নিয়েই চরনের বিস্তৃত ঘেরের নিম্নাভরন উপরে ঠেলে দিলো মেহরাদ।নিমিষেই বা পা’য়ের লম্বা সরু কালো একটা দাগ দৃষ্টি গোচর হলো। কুঞ্চিত কপালের রেখা ম্লান হয়ে, সহসাই সেখানে অমোঘ ব্যাথার নিল ছায়ার আবির্ভাব ঘটলো। চোখের তারায় ব্যাকুলতা। অতি সন্তপর্ণে ক্ষত স্থানে তর্জনীর শীতল পরশ ছুয়িয়ে অস্ফুটে স্বরে নিঃসৃত হলো ব্যাথাতুর ধ্বনি,

“ইশশশ! খুব কষ্ট হয়েছে না অপারেশনের সময়? আমি থাকতেও এতো কষ্ট একা কিভাবে সয়ে গেলি?”
বিরহ দিনের স্মৃতি মনসাপটে উদিত হতেই শুভ্রতার কন্ঠতালু জমে আসে বিধ্যস্ত অনুভূতির ভারে। মুখ ফুটে কিছু উচ্চারিত হবে এর আগেই ব্যাথাতুর পা’য়ে অনুভূত হয় এক জোড়া পুরো ওষ্ঠের শীতল পরশ। তৎক্ষনাৎ, নাজুক অষ্টাদশীর দু’চোখ খিচে আসে আপনা-আপনি।
পা’য়ের চিনচিনে সুক্ষ্ম ব্যাথা ছাপিয়ে শিহরনি ছোয়া ছড়িয়ে পরে সমগ্র অস্তিত্বে জুড়ে। হৃদযন্ত্রের বেসামাল হাতুড়ি পেটা নিশ্বাস কেড়ে নেওয়ার উপক্রম। অষ্টাদশীর শুকিয়ে আসা কন্ঠে কোনরূপ নিঃসৃত হয়,
“কি…..করছেন? পা’য়ে ছুবেন….না….”
তৎক্ষনাৎ অবাধ্য ঠোঁটে লাগাম টানে মানব। শুষ্ক অধর ভিজিয়ে শংকিত কন্ঠে শুধায়,
“ছোয়াতে ব্যাথা লেগেছে? ডিড আই হার্ট ইয়্যু, জান?”
কি আদুরে বাক্যালাপ! অষ্টাদশীর প্রান ওষ্ঠাগাত হওয়ার উপক্রম লজ্জায়। শুভ্র ত্বক সেই কখন লালিমার আস্তরণে সেজেছে পুরুষালি নৈকট্যে। শুষ্ক অধর নিদারুণ উত্তাপে জাফরানি রঙে রাঙিত হয়েছে। রক্তিম অধর নাড়িয়ে ভেসে আসলো অষ্টাদশীর লজ্জামিশ্রিত মিহি কন্ঠস্বর,

“ব্যাথা না, আ…আপনি পা…য়ে ছুবেন না আর কি….”
আড়ষ্টতায় মুড়ানো কম্পিত বাক্যালাপের খুব সহজেই মর্মভেদ করে ফেললো তুখোড় মানব। অনতিবিলম্বে ধ্বনিত হলো মানবের নির্লিপ্ত, নিস্প্রভ কন্ঠ,
“তোর দেহে এমন কোন লোমকূপ আছে, যা আমার দু’ঠোটের ছোয়ায় শিহরিত হয় নি? এই আড়ষ্টতা কিসের?”
শুভ্রতার কানে তব্দা লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা। হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম থেমে গিয়ে সর্বাঙ্গ জমে যাওয়ার উপক্রম ঠোঁট কাটা মানবের অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্যে। তিরতিরিয়ে কেপে উঠলো ভাসা দু’চোখের ঘন পল্লব। তার মেহরাদ ভাইটা বোধহয়, সুদর্শনের সাথে ঠোঁট কাটা মেক্স প্রো’ও হয়ে গিয়েছে। এটাই মনে হলো লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে চাওয়া লাজুক অষ্টাদশীর।
লাজুকলতার ন্যায় নেতিয়ে আসা অষ্টাদশীর রক্তিম অধর ভিম্রম ধরিয়ে দেওয়ার মতো দু’চোখে। কামুক চোখের লাগাম টেনে ধরলো মেহরাদ। দৃষ্টি সড়িয়ে নেওয়ার আগ মূহুর্তেই শুভ্রতার কাধ বেয়ে ঢলে পরে যেতে চাওয়া ঢিলে কামিজের দিকে দৃষ্টি গোচর হলো। সহসাই গৌর বর্নের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো ইস্পাত কঠিন মানবের। ধনুকের মতো বাকানো নারীদেহের সুডৌল অঙ্গের আবরনি ওড়নাটুকু হেচকা টানে দু’হাতের মুঠোয় দলিথ মলিথ করে ছুড়ে মারলো ফ্লোরে।
মেহরাদের আকস্মিক তেজীদীপ্ত কর্মকাণ্ডের হেতু ভেদ করতে অক্ষম হলো হতচকিতায় নিজেকে আড়াল করতে চাওয়া নাজুক অষ্টাদশী। মেহরাদ দাতে দাত চাপলো প্রান প্রেয়সীর সম্ভ্রম আড়ালের কার্যালাপে। তেজস্বী কন্ঠে আগুন ঝড়া উত্তাপ ঢেলে বলল,

“কি করেছিস নিজের? না খেয়ে খেয়ে বিদায় নিতে চেয়েছিলি এ দুনিয়া থেকে? এতো সহজে? আত্নহত্যা করতে চেয়েছিলি? আমার কথা ভাবিস নি না? আমায় বিশ্বাস করিস না, তাইনা? তোকে নিয়ে কোথায় যাবো বলতো? অসুস্থ হয়ে বসে আছিস, রাগও দেখাতে পারছি না। বিশ্বাস কর? যে পরিমান রেগে ছিলাম! একটা মা’ইরও নিচে পরতো না। আরও দু’চারটা খেতি। ”
শুভ্রতার দু’ঠোট উলটে এলো ছোট্ট বালিকার ন্যায়। ভাসা দু নয়নের কোল ঘেঁষে অশ্রুর ঢেউ। অভিমানি সিক্ত কন্ঠে মনে করিয়ে দিলো,

“আপনি আবার রাগ দেখাচ্ছেন মেহরাদ ভাই। আমি ইচ্ছে করে করেছি কিছু? আমার সাথেই কেন এমন হয় সব সময় বলুন তো? আমার আপন মা বাবা, আপন না। যাদের এতো কাল রক্তের সম্পর্ক বলে ভালোবেসে আসলাম তারা কেউ আপন না। যাকে পৃথিবীর সব চেয়ে বেশি ভালোবাসি সে মানুষটা ভালো নেই, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, যে বড় মা ছোট থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করলো সে মুখ ফিরিয়ে নিলো। আমার কি অবস্থা হয়েছিলো ভাবতে পারবেন একবার? সব সহ্য করে নিতাম বিশ্বসা করুন? যদি আপনি পাশে থাকিতেন, অনায়াসেই সকল চড়ায় উতরায় পার করে নিতাম। কিন্তু আপনি তো ছিলেন না, আপনার খোজ টুকুও নিতে পারতাম না। সেই সাথে যোগ হলো, অসহ্য এ পা’য়ের যন্ত্রনা। অপারেশন থেকে জেগেই দেখলাম এতো সখের চুল গুলো নেই। একের পর ধাক্কা আমার কাছে মৃত্যু কে অতি সহজ মনে হয়েছে মেহরাদ ভাই। এই সব কিছুর শেষে সবচেয়ে ভারীতম সত্য হচ্ছে, আমি আপনায় ছুতে পারবো না, আপনার বুকে ঘুমাতে পারবো না আর এটা আমার বেচে থাকার মায়াটুকু বার বার গ্রাস করে নিয়েছিলো। আমি হয়তো একটু না অনেক বোকামিই করি, কিন্তু আপনার জন্য আমার ভালোবাসা সকল কিছুর উর্ধ্বে। আপনি যত ইচ্ছে আমার উপর রাগ ঝাড়ুন, এই যে এ গা’লে মেরেছেন তো? এখানে’ও একটা মা’রুন… ” বলেই নিজের আরেক গালে জীর্ন হাতের মিহি চপেটাঘাত বসালো কান্নারত রমনী।

আশ্চর্যের শিয়র ছুলো প্রেয়সীর সরল স্বীকার উক্তির ভিম্রমে ঢুবে থাকা মানবের। তৎক্ষনাৎ সরু কবজি চেপে ধরে রক্তলাল চোখে তাকালো। অশ্রুসিক্ত কপোলে দু ঠোঁট দাবিয়ে চাপা কন্ঠে হিসহিসিয়ে বললো,
“জানে মেরে দিবো একদম। কতো বড়ো সাহস! আমার সামনে নিজের গা’য়ে হাত তুলিস? আমার উপস্থিতে নিজেকে আঘাত করার জন্য ছোয়ার অনুমতি টুকুও নেই তোর। মাথায় ঢুকেছে…. ” চাপা ধমকের হুংকারের সাথে অষ্টাদশী চোখের কোল ঘেঁষে বর্ষিত বারিধারা পেলব কোপল হতে নিদারুণ আশ্লেষে শুষে নিচ্ছে দু ঠোঁট৷
ক্ষনে ক্ষনে ফুপিয়ে উঠা রমনীর পেলব কোপলের আশ্লেষী পরশ সময়ের তালে তালে সুক্ষাগ্র দঃষনে রূপ নিলো যেন। পর পর তীক্ষ্ণ এক দঃষনে দু’চোখ বুজে এলো রমনীর আপনা-আপনি। স্বামীর দেওয়া আদুরে মিষ্টি যন্ত্রণা টুকু লাঘবের প্রয়াসে খামচে ধরলো মখমলি বিছানার সফেদ চাদর। পেলব কোপলের সফেদ ত্বকে তীক্ষ্ণ দঃষনের নিগূঢ় দাগ ফেলে ক্ষান্ত হলো মানব।

অনতিবিলম্বে উত্তাল মানবের গা’য়ের টি শার্ট টুকু টেনে খুলে ফেলতে ফেলতেই স্বগতোক্তিতে নিঃসৃত হলো,
“তোকে ছাড়া আমি খুব ভালো ছিলাম বোধহয়? তোর বিরহ কল্যাণে চেইন স্মোকার হয়ে যাচ্ছিলাম। তওর অপেক্ষায় বরবাদ হয়েছি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি তোর খুঁজে। সখের গাড়ির বারোটা বাজিয়েছি। সিগারেট দিয়ে পুরো হাত জ্বলসে দিয়েছি, তবুও অসহ্য হৃদয়ের যন্ত্রণা কমেনি। ক্যান ইয়্যু ইমেজিন, হাও প্রেসিয়াস ইয়্যু টু মি?’
উন্মুক্ত হলো বলিষ্ঠ দেহাবয়ব। শুভ্রতা কান্না গিলে তার সুদর্শন স্বামীকে দু’চোখের মায়ায় গিলে খাচ্ছিলো এক প্রকার। কন্ঠতালু শুকিয়ে এসেছে নিজের অজান্তেই। ভয় আর জড়তার মিশলে নিদারুণ স্পন্দিত হচ্ছে পাগলাটে হতচ্ছাড়া হৃদযন্ত্রটা। সেই সাথে পুরো অস্তিত্ব নাড়িয়ে দিচ্ছে শিহরণি শীতল আবেশ।
চপল হাতে রুমের আলো নিভিয়ে অন্ধকারে রুম ডুবিয়ে দিলো মেহরাদ। মূহুর্তেই ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো ছড়িয়ে পরলো রুম জুড়ে। কণ্ঠাগত শ্বাস আটকে শুষ্ক ঢোক গিলছে কেবল অষ্টাদশী। কম্পমান সরু দু হাত তখনও চাদর খামচে রয়েছে।

“দীর্ঘদিনের বিরহের পর মিলিত এ রাত টুকু মেমোরেব্যাল করার উচিৎ আমাদের।” চোখের তারায় কপট হাসি নির্লজ্জ মানবের।
আবেশিত দু ‘চোখের দৃষ্টিতে শুভ্রতা কাঁপে হরিন শাবকের ন্যায় থরথরিয়ে। কণ্ঠনালী চিড়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে,
“কে….কে ম-ন…”
“এই যে-মন, সব সময় তুই আমার বুকে ঘুমাস। আজ আমি তোর বুকে ঘুমাবো। আমারও একটু আদরের দরকার আছে তো না-কি! ”
“হু….আ…আমার বুকে? নিশ্বাস আটকে আসবে না আমার?”

মেয়েটার সরল কন্ঠের প্রশ্নবাণ। আসলেই তো, তার চেয়ে দ্বিগুণ হবে মানুষটার ভার। সে কিভাবে সামলাবে!
মেহরাদ সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করলো তার বোকা চড়ুইয়ের শেষাংক্ত প্রশ্নবাণ। প্রতিউত্তর করলে লজ্জায় মিশে যাবে তার প্রাণ প্রেয়সী। সে শান্তি চায়। তার দীর্ঘদিনের সকল ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে চায় ওই ছোট্ট নরম বুকটাতে।
লজ্জার তাড়নায় তিরতিরিয়ে কাপতে থাকা রমনীর মসৃণ পৃষ্ঠদেশ দু’হাতে আকড়ে হেচকা টানে টেনে নিলো নিজের কাছে। উপরিবাসের কৃষ্ণবসন অঙ্গাবরন করতে করতে ঘোর লাগা কন্ঠে হাস্কিস্বরে বলল,
“একটু ঘুমাবো। তোকে ছাড়া দু’চোখের ঘুম যেন হারাম হয়েছিলো। একটু হাত ভুলিয়ে দে মাথায়। একটু শান্তি দে, জান। ডুবে থাকতে দে তোর মাঝে….’

নির্লজ্জ, বেপরোয়া ভঙ্গিতে ধনুকের তীরের মতো বাকানো নারীদেহের খাজে সন্তপর্ণে নাক ডুবিয়ে দিলো উন্মাদ মানব। বেলি’র মিষ্টি সুবাস টুকো টেনে নিতেই তা নাসারন্ধ্র ছাপিয়ে স্নায়ু তন্ত্রের প্রতিটি তার সার্কিটে টনিকের মতো কাজ করলো। মৃদু গুঙ্গানির গুঞ্জন তুলে নাকে মুখে ছাড়লো শ্বাস প্রবাহ। আরেকটু গভীর হলো শ্বাস টানার প্রগাঢ়তা। শব্দহীন ব্যাকুলতাকে মত্ত হলো দুটো হৃদয়।
কক্ষ জুড়ে নৈঃশব্দেতার বাসস্থান কেবল এক জোড়া কপোত-কপোতীর তপ্ত নিঃসৃত শ্বাস প্রশ্বাস ব্যাতিত। নিদারুণ বেগে ছটফটাতে থাকা হৃদযন্ত্রে তড়ঙ্গের ঢেউ খেলে যাচ্ছে একেকটি স্পর্শ। ভেতরের অস্থির শ্বাস প্রশ্বাস দু’ঠোটের ফাঁক গলিয়ে নির্গমন হচ্ছে নিরঙ্কুশ ছটফটানিতে। রমনীর লতানো হাত জোড়া আলগোছে উঠে এলো ঘন অরন্যের ন্যায় ছোট ছোট চুল গুলোয়। তীক্ষ্ণ চুলগুলো খোচাখোচা আঁচড় কেটে যাচ্ছে মখমলি নরম বুকের ত্বকে। এই সুক্ষ্ম ব্যাথাটুকু বাতাসে উড়া ধুলিকনার মতো অবলিলায় অগ্রাহ্য করে গেলো অষ্টাদশী, স্বামী নামক মানবের পরম সুখের অজুহাতে।
রুক্ষ চুলের ভাজে সুক্ষ্ম আঙুলের পরশ ভোলাতে ভোলাতে ফিসফিসিয়ে ডেকে উঠলো,

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫২

” মেহরাদ… ….”
“হু…” গহীন আবেশে মাতোয়ারা মানবের তন্দ্রার মিহি গুঞ্জন।
“তোমার এ ভালোবাসার লোভেই আমি মর’তে ম’রতেও বেঁচে যাই প্রতিবার। এ শান্তি টুকু দেওয়ার জন্য হলেও আমায় কখনো দূরে ঠেলে দিবে না, জান…..”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৪