Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬৭

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬৭

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬৭
তানিয়া হুসাইন

ইশায়ার অবাধ নড়াচড়ায় ভীরের ঘুম ভেঙে আসে।
কাঁচা ঘুম ভাঙতেই তার চোখ দুটো লাল হয়ে ওঠে।
চোখে মুখে বিরক্তি স্পষ্ট।
চোয়াল শক্ত হয়ে আসে তার রাগে,কতদিন পর একটু শান্তিতে ঘুমিয়েছে সে, এতো দিন এতো ঝড় চিন্তার মাঝে ঘুম হয় নি তার ঠিক মতো,দাঁত কিড়মিড় করে ওঠে ভীরের রাগে।
কিছু বলতে গিয়েও সে নিজেকে সামলে নেয়।
ঠান্ডা, ভারী গলায় বলে,

___ঘুমের মাঝে ডিস্টার্ব করছো কেন?
ভীর সামান্য সরে যেতেই ইশায়া তড়িঘড়ি করে নিজের কাঁধ বেয়ে নেমে যাওয়া জামা টেনে ঠিক করার চেষ্টা করে।জামার অবস্থা বেহাল ভাঁজ, টান, এলোমেলো।
সে ভীরের হাত সরাতে চায়।
ভীর তীক্ষ্ণ চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে,
ইশায়ার প্রত্যেকটা নড়াচড়া, প্রতিটা আচরন সব কিছু নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করছে সে।
ইশায়া ভাঙা গলায় বলে, সরুন… আমি উঠবো।
ভীরের কণ্ঠ নিচু।বরফের মতো ঠান্ডা।
___রিল্যাক্স।
কথাটা বলেই ভীর ইশায়ার সাথে আরো ঘনিষ্ট হয়, চোখের পাতায়, তারপর নাকের ডগায় হালকা চুমু খায়।
___এই অযাচিত স্পর্শ ইশায়া নিতে পারে না।
তার শরীর কেঁপে ওঠে।কান্না মাখা গলায় সে বলে,
আপনি বলেছিলেন আমাকে সময় দেবেন,
আমাকে সবকিছু বুঝে ওঠার জন্য সময় দেবেন।
তাহলে…তাহলে এটা কেন?
ভীরের কণ্ঠ ঠান্ডাই থাকে।

___তুমি আমাকে চিনতে পারছো না, আমি জানি।
কণ্ঠে সামান্য বিরক্তি ঢুকে পড়ে।
কিন্তু স্মৃতি থাকুক আর না থাকুক সত্য বদলায় না।
ভীর ইশায়ার কানের কাছে ঝুঁকে আসে।
___তুমি আমার। আর এটাই বাস্তব,তুমি ভুলে গেলেও স সত্যিটা মিথ্যা হবে না।
ভীর এক মুহূর্ত থামে।তারপর আরও নিচু স্বরে যোগ করে আর আমি আমার জিনিস থেকে দূরে থাকতে পারি না।অধিকার আছে আমার।
বলতে বলতেই ভীর ইশায়ার ঠোঁটের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এক মুহূর্তে তার ঠোঁট দুটো আঁকড়ে ধরে গভীরভাবে।
এই আচমকা উন্মাদনায় ইশায়া পাগলের মতো হয়ে ওঠে।দু’হাতে ভীরকে ঠেলে সরাতে চায় সে।
কিন্তু ভীর ইশায়ার দু’হাত ধরে মাথার ওপর চেপে ধরে।
ইশায়ার বাধা দেওয়ায় ভীর আরও উগ্র হয়ে ওঠে।
সে স্পষ্ট করে বোঝাতে চাইছে,ইশায়ার
ভীর থেকে দূরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তার বিষয়ে সে এক ইঞ্চিও ছাড় দেবে না।যা-ই হোক না কেন।
ভীরের ঠোঁটের লাগামহীন, দমবন্ধ করা স্পর্শ ইশায়ার আত্মা কাঁপিয়ে তোলে।ভয়ের সাথে সাথে অসহায়ত্ব গলা চেপে ধরে।হঠাৎ অস্থির হয়ে ভীর ঠোঁট সরিয়ে ইশায়ার জামার দিকে হাত বাড়াতেই,
ইশায়া ভীরকে থামাতে আর তার সব প্রশ্নের ইত্তর জানার জন্য এবার বলে ওঠে,

__আমার বাবা-মা কোথায়?ওদেরকে দেখিনি কেনো?
ওরা কোথায়। আমি অসুস্থ জানার পর ও আমাকে দেখতে এলেন না কেনো?
ইশায়ার কথায় ভীরের মেজাজ খিচে যায়।চোখে ঝিলিক খেলে যায় রাগের।তবুওসে নিজেকে সামলে নেয়।
ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের উত্তাপ এখনও বাতাসে জমে আছে।
ইশায়ার বলা একটামাত্র কথা সবকিছু থামিয়ে দেয়।
ভীর হঠাৎ করেই উঠে বসে।
তার এই আচমকা ওঠে বসায় ইশায়াও চমকে উঠে বসে। তাড়াহুড়োয় নিজের জামা টেনে ঠিক করে নেয়। বুকের ভেতর অজানা এক অস্বস্তি জমে ওঠে।
ভীর একদম চুপ নির্বাক, কঠিন, পাথরের মতো মুখ।
ইশায়া সেই নীরবতায় ভয় পেয়ে যায়।
ধীরে, ভাঙা গলায় বলে ওঠে,

__ কি হলো… বলুন?
ভীর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। সেই দৃষ্টিতে কোনো কোমলতা নেই, নেই মায়া।
যেন বহু বছর ধরে জমে থাকা কোনো অন্ধকার স্মৃতি আজ মুখ খুলতে চাইছে।গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে, গুছিয়ে কথা বলতে শুরু করে ভীর।
নিজের জীবনের কথা গুলো সাজিয়ে বলতে থাকে,
__তোমার মা বাবা কেউই বেঁচে নেই।
এই একটি বাক্যেই ইশায়ার বুক কেঁপে ওঠে।
শ্বাস নিতে ভুলে যায় সে।
ভীর থামে না।
তোমার মা, ফারহানা ইয়াসমিন তিনি তুমি ছোট থাকতেই মারা যান। আর তোমার বাবা আলেহান্দ্রো রুইজ। একটা তিক্ত হাসি ঠোঁট ছুঁয়ে যায় ভীরের।

__তার অনেক শত্রু ছিল। মাফিয়া জগতে বন্ধুত্ব টেকে না। তার কাছের মানুষের হাতেই তাকে মরতে হয়েছে।
শব্দগুলো ইশায়ার কানে ঢুকে মাথার ভেতর বিস্ফোরণ ঘটায়।
এই কথাগুলোকে সে সত্য বলে ধরে নেয়।নিজের বলে মেনে নেয়।ভীরের অতীত তার নিজের জীবনের গল্প হয়ে ওঠে।ইশায়ার চোখ ভিজে ওঠে।
পরক্ষণেই কান্না ভেঙে পড়ে সে।
ভীর থামে না, আরও নির্মম মিথ্যা ছুড়ে দেয়,
___তোমার বাবা আমার বাবার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তুমি তখন একদম ছোট। তোমার আর কেউ ছিল না। তাই বাবা তোমাকে এখানে নিয়ে আসে।
ভীরের কণ্ঠ ভারী হয়, কিন্তু নরম নয়।
___তোমার বাবা মা আর আমার বাবা মা দু’পক্ষেরই ইচ্ছা ছিল, তোমার আর আমার বিয়ে হোক।
একটু থেমে ঠান্ডা গলায় যোগ করে,
তারা যেটা চেয়েছিল, সেটাই হয়েছে।

___ইশায়া পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।ভীর শেষ আঘাতটা করে বসে,
এখন তোমার একটাই পরিচয়। তুমি আমার ওয়াইফ।রাজভীর আলভারেযের তুমি।
ভীরের চোখে আগুন জ্বলে ওঠে।
__এই পৃথিবীতে আমিই তোমার আপন। আমি ছাড়া তোমার আর কেউ নেই।
তাই নেক্সট টাইম তোমার মুখে যেনো আমি অন্য কারো কথা না শুনি।
আমি ছাড়া কারো নাম তোমার মুখে আসবে না।আর না আমি ছাড়া কারোর স্মৃতি তোমার মস্তিষ্ক ধারণ করবে। তোমার সব কিছু জুড়ে একমাত্র আমি থাকবো।
এই কথাগুলো ইশায়ার বুকের ভেতর জমে থাকা শেষ ভরসাটুকুও গুঁড়িয়ে দেয়।এই পৃথিবীতে কেউ নেই তার,
এই সত্যটাই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
মা নেই।বাবা নেই।কেউ নেই।
ইশায়া হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে।

___কিন্তু এই কান্না ভীরের সহ্য হয় না।ধীরে ধীরে তার মুখের বিরক্তি ভয়ংকর রূপ নেয়।
রাগ চেপে রেখে কঠিন গলায় বলে ওঠে,
__কান্না বন্ধ করো। যা হবার হয়ে গেছে।
ইশায়ার দিকে তাকিয়ে ভীর বলে, তোমার জন্য আমি আছি। আর কারোর প্রয়োজন নেই তোমার।
ভীরের কণ্ঠ আরও হিংস্র হয়ে ওঠে,
___তোমার সবকিছু আমাতেই সীমাবদ্ধ।অন্য কারোর জন্য চোখের পানি আমি সহ্য করবো না।
ভীরের কোনো কথাই ইশায়ার কানে ঢুকছে না।নিজের জীবনের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে সে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
ভীরের ধৈর্য শেষ হয়ে যায়।হঠাৎ রেগে গিয়ে শক্ত গলায় চেঁচিয়ে ওঠে,
__স্টপ! আমাকে রাগাস না।
ভয়ংকর গলায় ভীর বলে,
নাহলে নেক্সট চার পাঁচ ঘণ্টা এমন কান্না করবি, গলার আওয়াজ বসে যাবে।ভীরের হঠাৎ ধমকে ইশায়া কেঁপে ওঠে।ভয়ের চাপে সে চুপ হয়ে যায়।কান্না আটকে রাখে দাঁতে দাঁত চেপে।
ভীর আর এক মুহূর্তও থাকে না।উঠে ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়।
____ঘর নিস্তব্ধ।ইশায়া একা বসে থাকে,ভীরের বলা প্রতিটা কথা মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
আমি ছাড়া তোমার কেউ নেই।এই অন্ধকার ভালোবাসার শেকড় তখন ধীরে ধীরে তার ভেতরে গেঁথে যেতে শুরু করে।

___ভীর লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে।
ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে ইশায়ার চিন্তার সুতো ছিঁড়ে যায়।চমকে তাকিয়ে ওঠে সে।
ভীর বেরিয়ে আসে কালো রঙের টাওজার পরে। শাওয়ার নেওয়ার কারণে তার শরীরজুড়ে এখনো ফোঁটা ফোঁটা পানি লেগে আছে। এক হাতে ভেজা চুল মুছতে মুছতে ধীর পায়ে এগিয়ে আসে।
উজ্জল শ্যাম বর্ণের বলিষ্ঠবান এক পুরুষ,
তার শরীর শক্ত, গড়ে ওঠা পেশিতে ভরা। প্রশস্ত কাঁধ, টানটান বুক, স্পষ্ট অ্যাবডোমেন সবকিছুতেই যুদ্ধের ছাপ। শুধু শক্তি নয়, তার শরীরে লেখা আছে সহিংস ইতিহাস। কোথাও পুরোনো গু*লির দাগ, কোথাও ছু*রির আঁচড়, কোথাও কাটা-ছেঁড়ার গভীর ক্ষতচিহ্ন।
ইশায়া তীক্ষ্ণ চোখে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে।এই লোকটাই তার স্বামী।
ভীরের চোখ হঠাৎ ইশায়ার দিকে যায়। দেখে সে তাকিয়ে আছে তার দিকেই।
ভীরের কপালে হালকা ভাঁজ পড়ে। চোখের ইশারায় প্রশ্ন ছুড়ে দেয় কি হয়েছে?

___ইশায়া সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নেয়।
এই প্রতিক্রিয়ায় ভীরের ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
কিন্তু ইশায়া আবার তাকায়।
এবার তার চোখ আটকে যায় ভীরের শরীরের ক্ষতচিহ্নগুলোতে।
একটা দুইটা… না অনেক।
এতক্ষণ নিজেকে সামলালেও এবার আর থামতে পারে না।
সরাসরি প্রশ্ন করে ফেলে,
__আপনার শরীরে এত ক্ষত কেন? এগুলো কিসের ক্ষত? আপনি কি করেন?
ভীর জানত, এই প্রশ্ন আসবেই।সে একদম ঠান্ডা গলায় উত্তর দেয়,
___ এগুলো তোমার জন্য।
ইশায়া চমকে ওঠে।
__আমার জন্য? মানে?
ভীর ধীরে বলে, কিন্তু প্রতিটা শব্দ ভারী,

__তোমার বাবার শত্রুরা তাকে মেরেছে। তোমার মাকেও।একটু থেমে যোগ করে
তাদের পরের টার্গেট ছিলে তুমি।তোমাকে শেষ করলে তোমার বাবার বংশ শেষ হয়ে আসবে।
ইশায়ার শ্বাস আটকে যায় ভীরের কথা শুনে ভয়ে শরীর কাটা দিয়ে ওঠে ।
ভীর তাকিয়ে থাকে ইশায়ার দিকে,
তোমাকে শেষ করাই ওদের উদ্দেশ্য। তোমাকে বাঁচানোর জন্য আমার বাবাকেও প্রাণ হারাতে হয়। তুমি আমার কাছে ছিলে বলেই আমি তোমাকে সবার আড়ালে এখানে রেখেছি।একেবারে সুরক্ষিত,সবার নজরের আড়ালে।তার কণ্ঠ কঠিন হয়ে ওঠে।
তোমার কাছে পৌঁছাতে হলে ওদের আমাকে পার করতে হবে। তাই ওরা আমাকেই টার্গেট করে।
ভীরের মুখে একটা তিক্ত হাসি, এই ক্ষতগুলো… তোমাকে বাঁচানোর দাম।
ভীরের কথায় ইশায়ার বুক মোচড় দিয়ে ওঠে।
সে এতক্ষণ এই লোকটাকে নিয়ে কত কী ভেবেছে,
নির্মম, ভয়ংকর আরো কত কি। কিন্তু তাকে বাঁচানোর জন্য লোকটা কত কিনা করলো। শুধুমাত্র তার জন্য নিজের বাবাকেও হারালো। এই মানুষটাই তাকে বাঁচাতে নিজের জীবনকে শত্রুদের সামনে ঢাল বানিয়েছে।শুধু তার জন্যই তার এত শত্রু।
ইশায়া ধীরে উঠে দাঁড়ায়।

___ভীর সরু চোখে তাকিয়ে থাকে, তার প্রতিটা নড়াচড়া লক্ষ করে। তার ভেতরের সন্তুষ্টি।
ঘুম ঘুম চোখ, হাঁটু ছোঁয়া খোলা চুল এলোমেলো হয়ে আছে।অজান্তেই সে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারী হয়ে উঠেছে।ইশায়া ভীরের দিকে এগিয়ে আসে।
___ভীর নড়ে না। শুধু দেখছে কি হচ্ছে।
ইশায়া তার সামনে এসে দাঁড়ায়। ভীরের তুলনায় ইশায়ার হাইট অনেক কম, তার বুক বরাবর এসে পড়ে সে।ধীরে ধীরে ইশায়া ভীরের বুকের ক্ষতচিহ্নে তার হাত রাখে।ভীর আবেশে চোখ বন্ধ করে নেয়।
এই প্রথম ইশায়া নিজের ইচ্ছায় তার কাছে এসেছে।
নিজের ইচ্ছায় তাকে ছুঁয়েছে।
এই স্পর্শটা ভীরকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে তুলে।ইশায়ার আঙুল কাঁপছে।চোখে জল জমে।দুঃখি গলায় বলে,
__আমার জন্য… আপনাকে এত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।বলতে বলতে দু-হাতে ভীরকে জড়িয়ে ধরে।
ভীর চোখ খোলে।
তার দৃষ্টিতে তখন গভীর দখল,ভয়ংকর নিশ্চয়তা।
ভীর মনে মনে বলে,
আমার দুর্বলতা। আর এই দুর্বলতাকে আমি মরলেও ছাড়বো না।পৃথিবী থেকে ভীর নাম মুছে গেলেও তুমি আমার নামেই থাকবে।
আমি না থাকলেও তুমি আমার থাকবে।
তারপর দু-হাতে আগলে নেয় ইশায়ার নরম শরীরটাকে।আর তার প্রশস্ত বুকে লুকিয়ে যায় ইশায়া

__ফোনের শব্দ হয়।
ইশায়ার পাশে থাকা ভীরের শরীরটা নড়ে ওঠে।
স্ক্রিনে ভেসে ওঠে নাম,
Diego Salgado
ভীর ফোন রিসিভ করে।
ওপাশ থেকে ডিয়েগোর কণ্ঠ চাপা, তাড়াহুড়ো আর ভয় মেশানো,
___বস, সবকিছু প্রস্তুত। ডিলের লোকেরা জায়গায় পৌঁছে গেছে।
আজকের রাতটাই ফাইনাল। আমাদের এখনই বেরোতে হবে।
ভীরের চোখ এক মুহূর্তের জন্য শক্ত হয়ে ওঠে।
আজকের ডিলটা ছোট কোনো কাজ না।
সোম্ব্রা এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক চালান।
ভীর নিজে কোনো মা*ল বেচে না।সে বেচে পথ।
কোরিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে আসা চালান,
মেক্সিকোর ভেতর দিয়ে যাবে এশিয়ার দিকে।
কোনো র*ক্তপাত নয়, কোনো ঝামেলা নয়,নিখুঁত ট্রানজিট।এই পথ যদি আজ ঠিকমতো খুলে যায়,
ভীরের নিয়ন্ত্রণ আরও এক ধাপ বাড়বে।
ডিয়েগোর কথায় ভীর শুধু বলে,

___আমি আসছি। বলে ফোন কেটে দেয়।
ইশায়াকে ছেড়ে ভীর দ্রুত রেডি হতে শুরু করে।
তার নড়াচড়ায় তাড়া আছে, কিন্তু অস্থিরতা নেই। এই জীবনটাই তার অভ্যাস।
ইশায়া তখন বিছানায় বসে।গোল গোল চোখে ভীরকে দেখছে।
ওর চোখে প্রশ্ন নেই, আর কোন ভয় নেই শুধু এক ধরনের নিঃশব্দ অপেক্ষা।
ভীর জ্যাকেটটা গায়ে চাপাতে চাপাতে পিছনে ফিরে তাকায়।কণ্ঠটা নিচু, কিন্তু স্পষ্ট ফ্রেশ হও।নাস্তা করে মেডিসিন নিও।যা লাগবে, গার্ডদের বলবে।
ইশায়া শুকনো মুখে মাথা নাড়ায়।ভীর আর দেরি করে না।দরজা খুলে বেরিয়ে যায়।
___প্রাসাদের জেটট দাঁড়িয়ে আছে,চারপাশে সারিবদ্ধ অস্ত্রধারী গার্ড।
ভীর বের হতেই সবাই একসাথে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
__ডিয়েগো এগিয়ে এসে বলে,
সব রেডি, বস। টেক্কা জায়গায় লোকজন অপেক্ষায়।
ভীর কোনো কথা না বলে জেটে ওঠে।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জেটটা রানওয়ে ছেড়ে আকাশে উঠে যায়।
___ভীর বেরিয়ে যেতেই
মারিয়া এলেনা প্রথমে তার পেছনে আরও কয়েকজন মহিলা গার্ড ঢুকে ইশায়ার রুমে। সবাই প্রশিক্ষিত, পা ফেলছে নিঃশব্দে, চোখে নিরব সতর্কতা। এই ঘরটা শুধু চার দেয়াল না, এটা এক অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্র যেখানে এক সেকেন্ডের ভুল মানেই মৃত্যু।
ইশায়ার চারপাশে তারা অবস্থান নেয় অভ্যাসগত দক্ষতায়। কেউ জানালার দিকে, কেউ দরজার পাশে, কেউ ইশায়ার খুব কাছাকাছি কিন্তু কেউই তাকে ছুঁয়েও দেখে না। অনুমতি ছাড়া এখানে শ্বাস নেওয়াটাও অপরাধ।

ঠিক সেই সময় এলিজা ব্রেকফাস্টের ট্রে হাতে নিয়ে এগিয়ে আসে।
দরজার কাছাকাছি আসতেই আচমকা রানিয়া হাত বাড়িয়ে তাকে থামিয়ে দেয়।
— স্টপ।
তুমি এখানে কেন?
এলিজা চমকে যায়। চোখ নামিয়ে নেয় দ্রুত।
___ ম্যাম-এর ব্রেকফাস্ট, ফিসফিস করে বলে সে।
রানিয়া এক পা এগিয়ে আসে। চোখে ঠান্ডা হিসাব।
কার কোন কাজ, সেটা আগে থেকেই ঠিক করা।ম্যাম-এর সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব আমাদের।তোমার তো এখানে আসার কথা না।কারন কোন রুলস চেঞ্জ হয় নি।
এলিজা অস্থিরভাবে চারপাশে তাকায়। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় তার কণ্ঠে কাঁপন তুলে আনে।
রানিয়া আবার বলে,
বসের নির্দেশ ছাড়া এখানে একা ঢোকা যাবে না।
এই নিয়ম ভাঙলে পরিণতি জানো তো?
এলিজা থমকে যায়।
__ধীরে ধীরে ট্রেটা নামিয়ে নেয়।ঠিক তখনই বাইরে শব্দ পেয়ে মারিয়া এলেনা বেরিয়ে আসে।
এক ঝলক চোখ বুলিয়ে চারপাশ স্ক্যান করে নেয়,
সব চেক করো, শান্ত অথচ কঠিন স্বরে বলে মারিয়া এলেনা
__বস বাইরে। ভুলের জায়গা নেই।
রানিয়া ট্রে থেকে একটা প্লেট তুলে নেয়। খাবারগুলো একটু একটু করে নেয় সেখানে, তারপর এলিজার দিকে বাড়িয়ে দেয়।

___এটা খাও।
এলিজা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।
মারিয়া এলেনা এক পা এগিয়ে আসে।কী হলো? খাও।তুমি কে?
তোমার কাজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা।
তাহলে এখানে এসেছ কেন?
এক মুহূর্ত থেমে যোগ করে
আমি কি গার্ড ডাকবো?
এলিজা আতঙ্কে মাথা নাড়ে।
__ না… না।
সে রানিয়ার হাত থেকে প্লেটটা নেয়। হাত কাঁপলেও সে খেতে শুরু করে এক কামড়, দুই কামড় সব গুলো খাবার প্রমাণ দেয়, খাবারে কিছু মেশানো নেই।
তারপর তাড়াহুড়ো করে একটা মিথ্যা সাজায়,
বস বাইরে যাচ্ছিলেন।
আমাকে বললেন ম্যামকে খাবার দিতে।
আমি ভেবেছিলাম তাই
খাবারে কোনো সমস্যা নেই দেখে চারপাশের সবাই একটু হালকা হয়। সন্দেহের ছায়া ধীরে ধীরে সরে যায়।
মারিয়া এলেনা কঠোর স্বরে বলে,

__তোমাকে যে কাজ দেওয়া হয়েছে, সেটাই করবে।
এই জায়গার ধারে-কাছেও যেন তোমাকে আর না দেখি।
একটু থেমে আবারো বলে,
এখানে কার কী দায়িত্ব, সেটা আগেই নির্ধারিত।
এলিজা মাথা নেড়ে দ্রুত সরে যায়।
দরজা পেরোনোর আগেই তার শরীর রাগে কাঁপতে থাকে। অপমান, ভয় আর দমবন্ধ করা ক্ষোভ সব একসাথে।
দূরে দাঁড়িয়ে ইশায়া সব দেখছিল।একটা কথাও বলা হয়নি তাকে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬৬

তবু সে স্পষ্ট বুঝতে পারে, ওই লোকটা এখানে নেই,
কিন্তু তার উপস্থিতি তার নিয়ম, তার নিয়ন্ত্রণ
সব মিলিয়ে তার ছায়া পুরোপুরি তার ওপর আছে।
আর সেই ছায়ার ভেতরেই ইশায়া বন্দী।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬৭ (২)