হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৬
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
শুভ্র মেঘেদের আস্তরণে উজ্জ্বল হয়ে আছে নীলিমা। তার খানেক পশ্চিমে অবস্থান করছে তেজষ্ক্রিয় দিবাকর। মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য, মেঘ মালারাও তাকে আবর্তিত করে ফেলছে। তখনি ধরণীতে নেমে আসছে হালকা শান্তির ছায়া।
রুমের মধ্যে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে হুমায়রা। আজকে দুপুরে ঘুমাতে পারেনি সে। আলভির আগমনে তার নানা বাড়ির লোক ও হুমায়রার ফুপি শ্বাশুড়ি রা সবাই এসেছে। সবার আপ্যায়নের কাজ সামলে রান্নাঘর থেকে আসতেই দুপুর গড়িয়ে গেছে। এরপর নামাজ ও খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে মাত্রই রুমে এসে একটু বসেছে মেয়েটা। একটু পরই আসরের আজান পড়বে তাই আর ঘুমায়নি। তার সামনেই বাইরে বেরোনোর জন্য তৈরি হচ্ছে কৃশান। রবি ওরা ট্যুর শেষ করে চলে এসেছে তাদের কাছেই যাচ্ছে সে।
“ এই হুজুরনী। ”
পরিচিত ডাক টায় বুদে আসা চোখ জোড়া তড়িৎ মেলে তাকাল হুমায়রা। চোখের সামনে দৃশ্যমান হলো তার বখাটে পুরুষের অবয়ব। পরনের কালো শার্ট টার সবগুলো বোতাম খুলে, সিলভারের ব্রেসলেট পরিহিত বাঁ হাত খানা প্যান্টের পকেটে পুরে পুরো বখাটে স্টাইলে দাঁড়িয়ে আছে সে। হঠাৎ করে হুমায়রার দিক একটু ঝুঁকল মানুষটা। ওমনিই গলায় থাকা লম্বা চেইনটা ঝুলে পড়ল। ওভাবেই শান্ত কণ্ঠে বলল,
“ বসে বসে ঘুমাচ্ছিস কেন? ”
“ কই নাতো, এমনিতেই একটু চোখ লেগে আসছিল আর কি! ”
ঘন ঘন পল্লব ঝাপটে চোখ জোড়া স্বাভাবিক করে জবাব দিল হুমায়রা। পৃষ্ঠে কৃশান আফসোসের স্বরে বলল,
“ চোখ লাগা আর ঘুমানো বোধ হয় আলাদা ব্যাপার তাই না? আজ বখাটে বলে এতসব জানিনা! ”
চোখ সরু হলো মেয়েটার। বলল,
“ আপনি দেখছি বেশ কথা পেঁচানো লোক! ”
সূক্ষ্ম হাসল কৃশান। উত্তর দিল,
“ এইযে এবার জ্যান্ত জ্যান্ত লাগছে। ”
চুপ রইল হুমায়রা। বুঝতে পারল মানুষটা তার ঘুম উড়াতে এরকম করেছে। ফের শুনতে পেল একই কণ্ঠ,
“ শুন….”
“ হুম…? ”
“ রুম থেকে বেশি বের হবি না। ”
“ আচ্ছা। ”
“ ঐ লাফাঙ্গা যেন তোকে দেখতে না পায়। ”
যদিও এ বাড়িতে (শুধু এ বাড়ির সদস্য দের ক্ষেত্রে) ছেলে মেয়ে উভয়েই পর্দা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। যেখানে ছেলেদের উপস্থিত থাকে সেখানে মেয়েরা প্রবেশ করে না আবার ছেলেদের ক্ষেত্রেও এটাই হয়। তাই এক বাড়িতে থেকেও তাদের দেখা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দেখা হলেও কাকতালীয় ভাবে ড্রয়িং রুমে হতে পারে তবে রুম থেকে বেরোলে সম্পূর্ণ পর্দা নিয়েই বের হয় মেয়েরা। আর হুমায়রাকে তো খুব ভালো করেই চেনে কৃশান – ওঁ যে কখনো কোনো পুরুষের সামনে যাবে না এটুকু নিশ্চিত সে। কিন্তু আলভিকে নিয়ে এক পার্সেন্ট গ্যারেন্টি নেই তার।
মানুষটার মতো অতকিছু ভাবতে গেল না হুমায়রা। সে বাধ্য স্ত্রীর মতো উত্তর করল,
“ ইনশাআল্লাহ, সর্বচ্চো চেষ্টা করব। ”
“ ঐ লাফাঙ্গা তোর জন্য কিছু পাঠালে রাখবি না। ”
“ আচ্ছা। ”
“ কিছু লাগলে আমাকে বলবি। ”
“ আচ্ছা। ”
মেয়েটার এমন বাধ্যতা দেখে হুট করেই মেজাজ পাল্টে গেল কৃশানের। ধমকে উঠল সে,
“ এই হুজুরনী..! ”
আকস্মিক ঘটনায় থতমত খেল রমণী। অবুঝ চোখ জোড়া অদ্ভূত মানবের দিক তাক করে প্রশ্ন করল,
“ কি হলো..? ”
“ এভাবে সব কথা বাধ্যের মতো মেনে নিতে হবে কেন? একবার বলতে পারিস না- আমি কেন আপনার সব কথা শুনব! ”
গভীর দৃষ্টিতে তাকাল হুমায়রা। কিয়ৎক্ষণ ভ্রূ কুঁচকে বুঝতে চাইল স্বামীর অভিব্যক্তি। তার দ্বিধান্বিত মুখটার দিক আরেকটু ঝুঁকে এলো কৃশান। নিজ থেকেই হীমশীতল কণ্ঠে বলল,
“ এতোটা আদুরে কেন হতে গেলি তুই? এখন যে আমার হুটহাট তোকে চুমু খেতে ইচ্ছে করে!
আমার নেশার আনলে পোড়া এই অপবিত্র ঠোঁট দিয়ে তোকে ছুঁয়ে দেয়াটা কি বড্ডো পাপ নয়! ”
কুঁচকানো ভ্রূ জোড়া শিথিল হলো মেয়েটার। শিথিল হলো অন্তঃস্থল! ভিতরে থাকা শব্দরা হারিয়ে গেল কোথায় যেন। উত্তর দেয়ার মতো কোনো শব্দই মিলল না শব্দ ভান্ডারে। হুমায়রার হতবিহ্বল চাহনির দিক বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না কৃশান। সোজা হয়ে দাঁড়াল সে। বলল,
“ আমি যাচ্ছি বা-ই-কো…..”
“ বাইকো মানেটাকি আপনি আর বলবেন না? ”
দরজার নিকট পৌঁছাতেই এতক্ষনের নিরবতা চিরে ভিতর থেকে হঠাৎ ভেসে আসলো হুমায়রার অসহায় স্বর। যা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই মুচকি হাসল কৃশান। যেতে যেতে জবাব দিল,
“ এতো কিছু জানতে হবে না তোর। শুধু এটুকু জেনে রাখ –
ইউ আর মাই বাইকো….
এন্ড আ’ম ইউর সাইকো..! ”
চায়ের দোকানের ছোট্ট আড্ডা খানা টা আজ বেশ রমরমে। অনেকদিন পর চেনা পরিচিত মুখ গুলো দেখে আশেপাশের প্রকৃতিও যেন সরব হয়ে উঠেছে। হাসি ঠাট্টাতে মুখরিত পরিবেশ।
তখনি সেই সরবতার মাত্রা বাড়ানোর পন্থা হিসেবে সেখানে পদার্পণ করল আড্ডার প্রধান প্রাণকেন্দ্র কৃশান মির্জা। তবে ব্যাপারটা ঘটল ভিন্ন! তাকে দেখতেই বাকিরা চুপ মেরে গেল। যে যার মতো চা খেতে লাগল। ওদের কান্ড লক্ষ্য করতেই ভ্রূ কুঁচকাল কৃশান। বলল,
“ কিরে আমার আগমনে রেডিওর চার্জ কি খতম হয়ে গেল নাকি? ”
“……………. ”
কারো কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। বন্ধুদের এমন নির্বাক ভঙ্গি দেখেই যা বুঝার বুঝে নিল কৃশান। ভণিতা হীন গিয়ে বসে পড়ল মাঝখানে। দোকানদারের উদ্দেশ্যে বলল,
“ চাচা, আজকাল কি দিনের বেলাও পেঁচার দেখা মিলে নাকি! ডান-বাম সবদিক দিয়ে শুধুই পেঁচাই দেখতে পাচ্ছি! তুমিও দেখতে পাচ্ছ? ”
রেশমত মিঞা হেসে ফেললেন। বললেন,
“ চোহের জ্যোতি কম তো হের লাই দেহি না ঠিকঠাক! কেবল তিনডা দেখবার পারতাছি! ”
বৃদ্ধের কথায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিক তাকাল রবি, অভি ও সাইফুল। বলল,
“ চাচা, কাজটা ভালো করতাছো তুমি! ”
“ কাজের কথা আমার সাথে বল- আমি উত্তর দিতেছি কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। ”
এবারও কৃশানের কথার পৃষ্ঠে কোনো জবাব দিল না তারা। মেজাজ খারাপ হলো ছেলেটার। বলল,
“ কথা বলবি? ”
“ ………….. ”
“ কিরে কথা বলবি না? ”
“…………….. ”
“ লাফাঙ্গারা, দাঁড়া একেকটারে ধরে এখন কুত্তা পিটানি দিমু তাইলে ঠিকই কথা বলবি। ”
বলেই বসা থেকে উঠে দাঁড়াল কৃশান। তখনি মুখ খুলল রবি,
“ আমরা কথা না বললে তোর কি! তুই নিজের মতো থাকতে চাচ্ছিস থাক- আমরা কথা না বললেই তো তোর ভালো! ”
“ ঐদিন তোদের বললে তোরা আসতে দিতি না। আর আমার অস্থির লাগছিল, না এসেও উপায় ছিল না। তাই তোদেরকে ঘুমের মাঝে রেখেই চলে এসেছি। ”
কোনোরূপ ভণিতাহীন বলে উঠল কৃশান। পৃষ্ঠ সাইফুল বলল,
“ কই আগে তো সবসময় গিয়েছি আমরা তখন তো এমন হয়নি তোর। এখন সব নতুন নতুন হচ্ছে! ”
“ এখন আর আগের আমিতে আমি নেই। সেই আমিটা একজনের মাঝে হারিয়ে গিয়ে নতুন করে তার মাঝে বেঁচে আছি! ”
“ কে সে? ”
“ কিছুদিনের ভিতরেই জানতে পারবি তবে ততদিন আমাকে কোনকিছু নিয়ে ফোর্স করবি না। নাহলে তোদের অপেক্ষা আরও বেড়ে যাবে। ”
রাগ জেদ ভুলে গেল ছেলেগুলো। অভি অবাক কণ্ঠে প্রশ্ন করল,
“ তুই তো বলেছিলি কখনো কোনো মেয়েকে ভালোবাসবি না? ”
“ ওঁর জন্য নিয়ম ভেঙেছি! ”
“ তোর না মেয়েদের উপর বিরক্তি আসতো? ”
“ ওঁর উপর বিরক্তি আনতে গিয়ে বড্ডো বাড়াবাড়ি রকমের ভালোবেসে ফেলেছি! ”
“ কোনো মেয়েকে তোর বিন্দাস লাইফে প্রবেশ করতে দিবিনা- সেকথা? ”
“ ওঁর ক্ষেত্রে সেটাও ভুলে বসেছি! ”
“ তাহলে এখন তোর বিন্দাস লাইফের কি হবে? ”
“ ইতি টানব! ”
“ সিগারেট..? ”
“ ছেড়ে দিব! ”
“ নেশা করা? ”
“ ভুলে যাব! ”
মুহূর্তেই অত্যধিক নির্জন হয়ে উঠল পরিবেশ। তিন জোড়া শান্ত দৃষ্টি পড়ে রইল কৃশানের উপর। কারো মুখে কোনো রা নেই। বিস্ময় ঘিরে রেখেছে তাদের জবান।
সন্ধ্যার আগমনে আধার নেমে এসেছে প্রকৃতিতে। সূর্যি মামা তখন বিলীন হয়েছে পশ্চিম গগনে। পাখিরা ফিরে এসেছে নিজেদের বাসস্থানে।
উমরকে নিয়ে বিকেলের দিকে হাঁটতে বেরিয়েছিল আলভি। এই মাত্রই মাগরিবের সালাত আদায় করে বাসায় ফিরেছে দুজনে। রুমে এসে নিজের ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিল সে। তখনি শব্দ করে বেজে উঠল পাশে থাকা ফোনটা। স্ক্রিনে ঝলঝল করছে একটা অচেনা নাম্বার। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করল। সাথে সাথেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো একটি রিনরিনে স্বরের সালাম,
“ আসসালামু-আলাইকুম ”
“ ওয়ালাইকুম আসসালাম। কে বলছেন? ”
“ আমি জিনিয়া রহমান। আশা করি আপনার মায়ের থেকে আমার নামটা শুনেছেন? ”
আলভি বাহিরে থাকতেই ইয়াসমিন বেগম জিনিয়ার সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। এমনকি ছবিও দিয়েছিলেন। তাই চিনতে অসুবিধা হলো না তার। জবাবে বলল,
“ জ্বি, ”
“ যাক খুশি হলাম। এখন পয়েন্টে আসা যাক। আপনি কি এই বিয়েতে রাজি? ”
“ রাজি না হলে নিশ্চই আপনার বাড়িতে বিয়ের কথা হতো না। ”
“ কিন্তু আমি এই বিয়েতে রাজি না। ”
“ ওহ আচ্ছা, আপনার পরিবারকে বলেছিলেন? ”
“ হুম, তবে তারা আমার কথা শুনছে না। তাই এখন আপনাকে হেল্প করতে হবে। ”
“ আমি কি হেল্প করতে পারি? ”
“ আপনি বলবেন যে আপনি আমাকে বিয়ে করতে চান না। তাহলেই…….? ”
কথা সম্পূর্ণ করতে পারল না রমণী এর আগেই তাকে থামিয়ে দিয়ে আলভি বলে উঠল,
“ ক্ষমা করবেন, আমি আমার আম্মু সাথে এই বিষয়ে আগেই কথা বলে ফেলেছি এখন নতুন করে আবার এসব বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। ”
“ নতুন করে কি! আপনি শুধু গিয়ে বলে দিবেন আপনি অন্য কোথাও বিয়ে করতে চান। আমাকে আপনার পছন্দ না। ”
“ আপনার কাছে বিষয়টা সহজ মনে হলেও আমার পক্ষে আমার আম্মু – আব্বুর পছন্দকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়। আপনার এই বিয়েতে প্রবলেম হলে আপনি আপনার পরিবারকে বুঝিয়ে বলুন। ”
মেজাজ খারাপ হলো জিনিয়ার। চড়া গলায় বলল,
“ আরে রাখুন তো আপনার আম্মু – আব্বু! আপনাকে কোনোভাবেই বিয়ে করব না আমি। আপনি কি চান বিয়ের মধ্যে আমি পালিয়ে গিয়ে আপনাদের পরিবারকে অসম্মান করি? ”
“ অসম্মান আমার পরিবারের না বরং আপনার পরিবারের হবে। আপনার যা ইচ্ছে করতে পারেন। ”
“ আই ওয়ার্ন ইউ, যদি আপনি আমাকে বিয়ে করেন তো আপনাকে শান্তিতে থাকতে দেব না আমি। আপনাকে সহ আপনার আশেপাশের সবকিছু তছনছ করে ছাড়ব। ”
কটমট করতে করতে বলল জিনিয়া। পরপরই কল কেটে দিল। তার কথায় গ্রাহ্য করল না আলভি। উল্টো অপর পাশের মেয়েটির এরূপ জেদ তার মনে ধরল। চিন্তাহীন নিজের মতো বিশ্রাম নিতে লাগল সে।
ঘড়িতে তখন রাত দশটার কাছাকাছি। কৃশান বাড়িতে ফিরে দেখল হুমায়রা রুমে নেই। পাশের রুম থেকেই মেয়েদের কণ্ঠ ভেসে আসছে। সেখানেই ইকরা, আরিবা, আয়াত ও আলভির মামা তো বোনদের সাথে বসে আছে বোধ হয় মেয়েটা। রুমে ঢুকে কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষা করল সে। পরপর হুমায়রাকে আসতে না দেখে দ্বিধাহীন হাঁক ছুঁড়ল,
“ হুমায়রা……….? ”
পাশের রুমে হওয়ায় হুমায়রার সতর্ক কানে সেই ডাক এক বারেই পৌঁছে গেল। তৎক্ষনাৎ বসে থেকে উঠে পড়ল সে। ত্রস্ত পায়ে রুম ত্যাগ করতে করতে সকলের উদ্দেশ্যে বলে গেল,
“ আমি আপাতত যাই, আল্লাহ হাফেজ। ”
আয়াত ব্যতীত পৃষ্ঠে সবাই তাকেও আল্লাহ হাফেজ জানাল।
মিনিটের অন্তরেই রুমে পৌঁছল হুমায়রা। কৃশানের নিকট এগিয়ে আসতে আসতে ব্যস্ত গলায় বলল,
“ আপনি কখন এলেন? ”
“ একটু আগেই। ”
“ খাবার আনবো? ”
“ না খাব না। ”
“ বাইরে থেকে খেয়ে এসেছেন? ”
“ না এমনিতেই খেতে ইচ্ছে করছে না। বেরোনোর আগেই তো খেয়ে গেলাম। ”
কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল হুমায়রা। কিছুক্ষন নীরব থেকে ক্ষীণ স্বরে বলল,
“ আপনার মোবাইল টা একটু দিবেন? ”
“ কেন? ”
“ এমনিতেই একটু……..”
পথিমধ্যেই কোনোরূপ দ্বিরুক্তি হীন তার হাতে ফোন ধরিয়ে দিল কৃশান। মুচকি হাসল হুমায়রা। মোবাইল হাতে গিয়ে বসল স্বামীর বিপরীত পাশে। মনোযোগ দিল নিজের কাজে। কৃশানের দৃষ্টি পুরোটা সময় তার উপরেই ছিল। হুমায়রা কে টাইপিং করতে দেখে ভ্রূ কুঁচকে বলল,
“ কি লিখছিস? ”
ভরকে গেল মেয়েটা। উত্তর দিতে গিয়ে গলাটা খানেক ধরে এলো,
“ ক..কই? ”
মেয়েটার হাবভাব দেখে কপালে গাঢ় ভাঁজ পড়ল কৃশানের। এগিয়ে এসে ফোনটা কেড়ে নেবে তখনি বসা থেকে উঠে গেল হুমায়রা। অপ্রত্যাশিত কাণ্ডে কিছুটা থতমত খেল ছেলেটা। পরক্ষণেই ধুপধাপ পায়ে এগিয়ে গেল হুমায়রার নিকট। তড়িঘড়ি হাতে মোবাইলে কি যেন লিখতে লিখতেই পেছাতে লাগাল মেয়েটা। তা দেখে কৃশান শাসিয়ে বলল,
“ এই হুজুরনী, মার খাবি কিন্তু! ”
কে শুনে কার কথা! মেয়েটা পায়ের গতি আরও বাড়িয়ে দিল। এবার থেমে রইল না কৃশানও। তাকে পিছনে আসতে দেখে এক প্রকার দৌড় লাগাল হুমায়রা। পেছনে বড়ো বড়ো পায়ে ছুটল কৃশানও। এভাবেই একবার পুরো রুমটাতে ঘুরপাক খেল দুজন। এর মাঝেই শুনা গেল কৃশানের ভারিক্কি স্বর,
“ হুমায়রা রাগাস না আমায়! ”
মেয়েটা তবুও থামল না মোবাইলের দিক তাকিয়েই পা চালাতে লাগল। তবে বেশিদূর যেতে পারল না, কিছুদূর যেতেই খপ করে ধরে ফেলল মানুষটা। কিছু বুঝে উঠার আগেই হাত দুটো মুঠোয় নিয়ে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। এইটুকু সময়েই চোখ মুখ অস্বাভাবিক হয়ে গেছে ছেলেটার। দেখেই বুঝা যাচ্ছে- প্রচণ্ড রেগে আছে। এবেলায় এসে ভয় হতে লাগল হুমায়রার। তার ভয়ার্ত মুখ পানে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে কিছু বলতে নিচ্ছিল কৃশান। তখনি চোখ গেল মোবাইলের স্ক্রিনে। সেখানে গুগলের সার্চ লাইনে লিখা অসম্পূর্ণ বাক্য টুকু পড়তেই রাগ সব ধুলোয় মিশে গেল,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৫
“ বাইকো শব্দের অর্থ……..”
শব্দহীন হেসে উঠল কৃশান। নিজের শক্ত বাহু বন্ধনের মাঝে চুপসে থাকা স্ত্রীর দিক পূর্ণদৃষ্টি নিক্ষেপ করল। কিয়ৎক্ষণ অদ্ভূত দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“ ইচ্ছে তো করছে তোকে……….. ”
কথার মাঝেই ফোনটা নিয়ে নিল। পরপর বাক্য অসম্পূর্ণ রেখেই হুমায়রা কে ছেড়ে দূরত্বে চলে এলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মেয়েটা। মনে মনে পণ করল আর কখনো মানুষটার সাথে পাঙ্গা নিতে যাবেনা।

ata ki ai porbar pat …..
Apu porba dan plz
Morchen apni
Ki bepar apu ai novel er r kono part ki upload diben na..?? jk 6 days hoye gelo
Ki bepar apu ai novel er r kono episode ki upload diben na?? 6 days hoye gelo