violent love 2 part 6
Mariam akter juthi
‘Mrs Sk. আমার কথাটা মনোযোগ দিয়ে শুনুন,
আমাদের অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে ঠিকই। বন্দুকের বুলেট টাও আমরা বের করেছি। কিন্তু, আপনার ছেলের শরীরে থেরাপি দিতে হবে। যা অত্যন্ত আধুনিক টেকনোলজি দিয়ে তৈরি। আমাদের বাংলাদেশে এই চিকিৎসা পাওয়া যাবে না। তাছাড়া ওনার যেই পরিমাণ ব্লটিং হয়েছে উনাকে এই মুহূর্তে ইমিডিয়েটলি বাহিরে পাঠাতে হবে।
‘তাহলে এখনো আমার ছেলেকে এখানে রাখা হচ্ছে কেন? আমি এক্ষুনি এমার্জেন্সি হেলিকপ্টার বুকিং করছি। আপনি বাকিটা ব্যবস্থা করুন।
‘হুমম।
সবকিছু রেডি করে যখন আরিশ কে নিয়ে তারা দূর দেশে পাড়ি দিবে এমন সময় জুথি টলতে টলতে হেলিকপ্টারটারের কাছে এসে কোনরকম বলল,
‘আমাকে এখানে ফেলে উনাকে নিয়ে যাবেন না। উনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। আমার নিঃশ্বাস আটকে আসছে দয়া করে উনাকে আমার কাছে আসতে দিন। নয়তো আমাকে ওনার কাছে যেতে দিন। – বলতে বলতে শরীরে যতটুকু শক্তি অবশিষ্ট ছিল সেটুকু সঞ্চয় করে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলো। জুথির এমন কান্ডে ডক্টররা হতভম্বিত হয়ে গেলেও। বাকিরা সবাই ঘাবড়ে গেল। মেয়েটাকে তো ঘুমের ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল। তাহলে এত তাড়াতাড়ি ঘুম কিভাবে ভাঙলো। জুথিকে এখান থেকে সরাতে হবে নয়তো কান্নাকাটি করে আরিশ কে যেতে দিবে না। ভেবে সাফওয়ান খান এগিয়ে এসে জুথিকে টেনে ধরে ডাক্তারদের ইশারা করলেন হেলিকপ্টার স্টার্ট দিতে। ডাক্তাররা তাই করল। একজনকে ভিতরে পাঠিয়ে হেলিকপ্টার স্টার্ট দিতে বলতে, সাথে সাথেই হেলিকপ্টারের গোল গোল করে পাখা গুলো তৎক্ষণিক উড়তে শুরু করল। এটা দেখামাত্র জুথি নিজেকে সাফওয়ান খানের থেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে হেলিকপ্টারটা ততক্ষণে মাথার উপর উঠে গেছে দেখে জুথি ভাঙ্গা গলা নিয়ে চিৎকার করতে করতে বলল,
‘তোমাদের দোহাই লাগে আমাকে সাথে নিয়ে যাও। যেওওওওও না। – বলে সাফওয়ান খানের থেকে হাতটা ছাড়াতে চেয়ে বলল,
‘আব্বু আমার হাতটা ছেড়ে দিন আব্বু। উনারা আপনার ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে ওনাদের সাথে যেতে দিন। আমি পারছি না। আমার কষ্ট হচ্ছে, মরে যাচ্ছি আমি। হয়তো আমাকে ওনার কাছে যেতে দিন। নয়তো আপনারা আমাকে মেরে ফেলুন। তবুও এভাবে আমাকে আটকে রাখবেন না, আপনার পায়ে পড়ি আব্বু দয়া করুন।
‘মৌ,
‘আব্বু আমি মরে যাচ্ছি মরন যন্ত্রনা হচ্ছে। কেন বুঝতে পারছ না। ওরা নিয়ে গেল উনাকে — জুথির কথার মাঝে সানজিদা খান নিরবে কাঁদতে কাঁদতে জুথির দিকে এগিয়ে এসে কিছু বলতে যাবেন এমন সময় জুথি কেমন কথাগুলিয়ে ফেলে সেন্স হারিয়ে পড়ে যেতে নিলে পেছন থেকে রাদিফ আয়ান দু’জনে দৌড়ে এসে জুথিকে আগলে নিল। আয়ান আটকে রাখা কান্নাটাকে পুনরায় গিলে ফেলে বলল,
‘বড় আব্বু, বড় আম্মু। বনু এখানে থাকলে পাগলামি করবে। ওকে নিয়ে বাসায় গেলে বুঝিয়ে বলতে সুবিধা হবে।
আয়ানের কথায় সবাই সায় জানাতে, আয়ান জুথিকে কোলে তুলবার আগেই রাদিফ নিজ দায়িত্বে জুথিকে কোলে তুলে সাবধানে গাড়িতে বসিয়ে দিল। যদিও এই সময় এটা নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামালো না। তবে আয়ান কিছু বলতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে সেও আর কিছু বলল না। সবাই যে যার মত গাড়িতে উঠে বসতে রওনা হলো খান বাড়ির উদ্দেশ্যে।
কেটে গেছে গোটা একটা দিন। যে খান বাড়ি সর্বোচ্চ আনন্দে মেতে থাকতো। সেই বাড়িতে এখন বিষন্ন নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। কারো মুখে তেমন রা নেই। যেন এক থমথমে অমানিশা। রান্না হচ্ছে তো হচ্ছে না। কেউ খাচ্ছে তো কেউ খাচ্ছে না। না খাবার ধরুন অনেক খাবার হচ্ছে অপচয়। এইতো আজও কোনরকম রান্না হল। আদৌ কেউ তৃপ্তি করে খাবে কিনা কে জানে? জুথিকে কালকে নিয়ে আসার পর এখনো অব্দি ঘুমিয়ে আছে। থাকারই কথা ঘুমের ডোজ টা একটু হাই ছিল কিনা। সেখানে এত তাড়াতাড়ি থোড়াই ওঠার কথা। তাছাড়া এখন অব্দি কেউ একটা বারও তাকে ঘুম থেকে তুলতেও যায়নি। ঘুমিয়েছে ঘুমাক। উঠলে না জানি আবার কি পাগলামি করে বসে। এই ভেবেও কেউ রুমে যায়নি। এখন বিকেল প্রায় শেষের দিক। গোধূলি লগ্ন নামবে নামবে ভাব। জুথি চোখ টেনে টেনে কোনরকম উঠে বসলো খাটের মধ্যখানে। চোখটা তার ভীষণ জ্বলছে। এমন একটা ভাব হচ্ছে, চোখটা বন্ধ করে মাথাটা বালিশে রাখলে সে আরো কয়েক ঘন্টা অনিমেষে ঘুমিয়ে কাটাতে পারবে। জুথি তাই করল। ঘুমের কাতরে চোখ মেলতে না পেরে ফের বালিশে মাথা এলিয়ে দিল। সাথে সাথে আবারো গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
সন্ধ্যার পর পর, সানজিদা খান এক প্লেট ভাত নিয়ে আরিশের রুমে এলেন। এসে দেখেন জুথি এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সানজিদা খান গম্ভীর নিঃশ্বাস ফেললেন। তার ছেলেটার জন্য এই মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে। জাগ্রত থাকলে হয়তো এতক্ষণ অতিরিক্ত পাগলামি করত। – ভেবে সবাই ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু কাল থেকে এই সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়েটা না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আছে। এখন তাকে উঠিয়ে খাওয়াতে হবে। পরে না হয় বুঝিয়ে শুনিয়ে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে। ভেবে সানজিদা খান জুথিকে টেনেটুনে জোর করে ঘুম থেকে তুলে ফ্রেশ হতে পাঠালেন। জুথিও চোখ ডালতে ডলতে, ওয়াশরুম চলে গেল। ঘুমের রেশ কাটছে না বলে একবারে গোসল দিয়ে বের হলো। এখন একটু ভালো লাগছে। জুথি মাথা মুছতে মুছতে সানজিদা খানের কাছে এসে বসতে বসতে আনমনে বলল,
‘আম্মু তোমার ছেলে এসেছে। আর খাবার কষ্ট করে উপরে কেন আনতে গেলে। ডাক দিলে তো আমি নিচেই যেতাম। তুমি শুধু শুধ,, — কথাগুলো বলার মধ্য হঠাৎ করেই ঘটে যাওয়া সকল ঘটনার কথা মনে আসতে মাথা মুছা বন্ধ করে সানজিদা খানের দিকে তাকাতে জুথির আঁখি যুগল অশ্রুতে ভরে উঠল। ফের কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
‘অ-আম্মু! আমার স-স্বামী। – কথাগুলো ঠিক স্পষ্ট বোঝা গেল না। কেমন শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে কথাগুলো আটকে আটকে শোনালো। জুথি আর দাঁড়ালোও না। সানজিদা খান কিছু বুঝে ওঠার আগেই দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে বসার ঘর পেরিয়ে যেই খান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে এমন সময় সানজিদা খান পিছনে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,
‘দাঁড়াও মৌ। এই ভর সন্ধ্যাবেলায় তুমি একা একা কোথায় যাচ্ছ। – কথাটা উনি একটু করাভাবেই বললেন। তবে ওনার কথায় জুথির পা দুটো খানিক সময়ের জন্য শিথিল হলেও পরক্ষণই ফের ছুটলো বাহিরের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে বিড়বিড় করে আওড়ালো, –‘আই এম কামিং আরিশ ভাই। ডোন্ট হুয়ারি। ইউর মৌ ইজ কামিং টু ইউ। আমি আসছি। – উক্ত কথাটা বিড়বিড় করে যখন বাড়ি থেকে শেষ পাটা রাখবে এমন সময় পিছন থেকে সানজিদা খান খপ করে জুথির ডান হাতের বাহুটা চেপে ধরে করাকন্ঠে চোখ রাঙিয়ে বললেন,
‘পাগল হয়ে গেছো! কোথায় যাচ্ছ তুমি?
জুথি সানজিদা খানের থেকে হাতটা ছাড়ানোর জন্য মোড়চামুড়চি করে বলল,
‘আমার হাতটা ছেড়ে দাও আম্মু। তোমার ছেলের আমাকে প্রয়োজন।
‘মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার। ভিতরে এসো।
‘না, আমি কোথাও যাব না।
‘আমার কথা শোনো,
‘ছাড়ো না আম্মু আমার হাতটা ছাড়ো। তোমরা কেন আমার কষ্টটা বুঝতে পারছ না। আমি মরে যাচ্ছি। উনি বিহীন থাকতে পারছি না।
জুথির এহেম কথায় সানজিদা খানের বেশ খারাপ লাগলো। কষ্ট কি ওনার হচ্ছে না? ওনার তো একটা মাত্র – ওই একটা মাত্রই ছেলে। যে অসুস্থ হয়ে দূর দেশে পাড়ি দিয়েছে। আদৌ কবে সুস্থ হবে জানা নেই তার। সে মা হয়ে কিভাবে থাকছে এই মেয়েটা কি বুঝতে পারছে না। বুঝবে কিভাবে। উনি তো এই মেয়েটার মতো আর চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে পারছেন না। একটা মাত্র ছেলে, তার কোল থেকে আবারও দূর হলো। বুকটা তার ছিড়ে যাচ্ছে। তবুও চিৎকার করে কেঁদে সবাইকে জানাতে পারছে না। সে কতটা ব্যথিত। একজন মা তার সন্তানকে সামান্য সর্দিতে দেখলেই পাগল হয়ে যায়। সেখানে ওনার একটা মাত্র ছেলে তাও কিনা গুলি খেয়ে পাড়ি দিয়েছে ভিনদেশে। সানজিদা খান ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
‘কষ্ট কি শুধু তোমার একা হচ্ছে মৌ। আরিশ আমার ছেলে। তুমি বুঝতে পারছ আমার কতটা জুড়ে সে আছে। যার সামান্য আঘাত আমি সইতে পারি না সে আজ গুলি খেয়ে বিছানারত। এমনিতেই তো কিছু ভালো লাগছে না। এরমধ্যে তুমি পাগলামি করো না।
‘আম্মু, — সানজিদা খান জুথির আর কোন কথা শুনলেন না। টেনে নিয়ে ভিতরে আসলেন। জুথি তখনো সানজিদা খানের থেকে ছাড়া পেতে হাত ছুটাছুটি করতে করতে উনার পায়ের কাছে বসে পরে কাঁদতে কাঁদতে ভেঙ্গে যাওয়া কন্ঠে বলল,
‘অ-আ আম্মু তোমার পায়ে পড়ছি। আমাকে যেতে দাও।
‘কোথায় যাবে তুমি?
‘ত-তো- তোমার ছেলের কাছে।
‘ওকে সুইজারল্যান্ড নিয়ে গেছে তুমি কিভাবে যাবে সেখানে। – সানজিদা খানের কথাটা বলতে দেরি, জুথি স্তব্ধ বনে যেতে দেরি হলো না। বেশ দু-এক মিনিট এক ধ্যানে হা হয়ে সানজিদা খানের দিক তাকিয়ে থাকার মধ্যে হঠাৎ করে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠে পাগলের মত ছটফট করতে করতে বলল,
‘আমাকে ওখানে দিয়ে আসো ওনার কাছে। আমি এখানে থাকবো না। আমাকে ওনার কাছে দিয়ে আসো। – জুথিকে সানজিদা খানেরর ধরে রাখতে কষ্ট হলো। মেয়েটা অতিরিক্ত ছোটাছুটি করছে। শক্তিতে কেমন পারছেন না উনি মেয়েটার সাথে। না পেরে উনি রাগ দেখিয়ে জুথিকে ছেড়ে দিয়ে বললেন,
‘নাও তোমায় ছেড়ে দিলাম। এখন যেখানে যেতে চেয়েছিলে যাও।
সানজিদা খান জুথির হাতটা ছেড়ে দিতে জুথি ফোঁপাতে ফোঁপাতে চোখ মুছে সদর দরজা দিয়ে এক ছুটে বের হয়ে যেতে নিলে সামনে কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নিলে তৎক্ষণাৎ সামনের ব্যক্তি জুথিকে সাবধানে আগলে নিয়ে ভ্রু যুগল কুঁচকে বলল,
‘এভাবে ছুটে কোথায় যাচ্ছ? আর তোমাকে এমন বিব্রস্থ লাগছে কেন।
‘আমার হাতটা ছাড়ো রাদিফ ভাই। আমাকে যেতে দাও আমার স্বামীর কাছে।
‘তোমার মাথা কি পাগল হয়ে গেছে। একা একা কিভাবে যাবে তুমি সেখানে। –ততক্ষণে জুথি রাদিফের থেকে হাতটা ছিটকে সরিয়ে এনে বাঘিনীর মতো বলল,
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ ,আমি পাগল হয়ে গেছি। তোমরা আমার কষ্টটা বুঝতে পারছ না। পারছনা আমি কতটা যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সেটা বুঝতে পারছ না তোমরা। কেন বারবার বাধা দিচ্ছ আমাকে! যেতে দাও, সরো তোমরা আমার সামনে থেকে।
রাদিফ কিছু বলতে যাবে এমন সময় ওর চোখ যায় পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা সানজিদা খানের দিকে। উনি ইশারায় বুঝাচ্ছেন জুথিকে ভিতরে নিয়ে আসতে। ওর পাগলামির সাথে উনি পেড়ে উঠছেন না। সানজিদা খানের ইশারা পেয়ে রাদিফ উনার দিক উপর নিচ মাথা নাড়লো। যার অর্থ, – ‘হ্যাঁ, ঠিক আছে বড় আম্মু। রাদিফ সানজিদা খানকে ইশারায় কথাটা বুঝিয়ে জুথির দিক তাকিয়ে বলল,
‘চলো ভিতরে চলো।
রাদিফের এ কথায় জুথি কেমন কান্না ভুলে গেল। ফুটন্ত টগবগে পানির মত গর্জে ওঠে বাঘিনীর মত ফের বলল,
‘না কোথাও যাবো না আমি। ভালোয় ভালোয় বলছি আমার সামনে থেকে সর। নয়,, – জুথির কথা সম্পন্ন হওয়ার আগেই রাদিফ খপ করে জুথির হাতটা টেনে ধরে ভিতরে নিয়ে এলো। যদিও জুথি যাবে না বলে জেদ ধরে বসে পড়েছিল। কিন্তু রাদিফ জুথি ওভাবে বসে থাকা অবস্থায়ই টেনে টেনে ভিতরে নিয়ে এলো। জুথি যতই শক্তি দেখাক না কেন, একজন পুরুষের কাছে তার শক্তি অতিশয় নগণ্য। সেখানে থোরাই সে রাদিফের সাথে পারবে। রাদিফ জুথিকে ভেতরে আনতে জুথি রাদিফের থেকে ছাড়া পেয়ে বসার ঘরের টুকটাক হাতের পাশে যেই জিনিসগুলো পাচ্ছিল একে একে রাদিফের দিকে হিংস্র চাউনিতে ছুড়ে মারছিল। ছুড়ে মারা প্রতিটি জিনিসের থেকে রাদিফ একিয়ে বেকিয়ে কোনরকম নিজেকে বাঁচলো। রাদিফের গায়ে ছুড়ে মারা কোন জিনিসই রাদিফের গায়ে লাগছে না দেখে জুথি কাঁচের একটা ছোট ফুলের টপ তুলে নিল। এই ভেবে- এটা দিয়ে এখন সে রাদিফের মাথা ফাটাবে। যেই ভাবা সেই কাজ অনুযায়ী জুথি রাদিফের দিকে তেড়ে যেতে নিলে রাদিফ চোখ দুটো বড় বড় করে জুথি কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাদিফ এক টানে জুথিকে কে ঘুরিয়ে জুথির একহাত পেটের সাথে চেপে ধরে, অন্য হাত সামনের দিক চেপে ধরল। যেই হাতে ওর ফুলের টপটা ধরা ছিল। রাদিফের এমন কাণ্ডে জুথি ঘন ঘন নিঃশ্বাসের সাথে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
‘শয়তানের বাচ্চা ছাড় আমার হাত। তোকে আমি মুরগির গু খাওয়াবো। আমার হাত না ছাড়লে। ছাড় বলছি আমার হাত, হারামজাদা।
জুথিকে কোনরকম ধরে রাখা যাচ্ছে না দেখে রাদিফ সানজিদা খানের দিক তাকিয়ে বলল,
‘বড় আম্মু ওকে ঘরে নিয়ে আটকে রাখি!
‘হ্যাঁ যাও।
রাদিফ সানজিদা খানের থেকে পারমিশন পেয়ে। উপর-নিচ মাথা নেড়ে জুথিকে ততক্ষণে পাজা কোলে তুলে উপরে আরিশের রুমের দিকে যেতে নিলে জুথি বারবার ছটফট করতে লাগলো। রাদিফের থেকে ছাড়া পেতে। জুথি রাদিফের বুক বরাবর একের পর এক গাঁয়ের সর্বশক্তি দিয়ে চরঘুষি মারতে মারতে বলল,
‘আমাকে নামাও বলছি। আমি যাব না। দয়া করে ছাড়ো আমাকে। – রাদিফ জুথির কোন কথায় পাত্তা না দিয়ে দ্রুত হেঁটে জুথিকে নিয়ে আরিশের রুমের কাছে আসতে বড় করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। কারণ আরিশের রুমের পাসওয়ার্ড তার জানা নেই। অজ্ঞত সে পিছন হেঁটে জুথির রুমের দিকটায় এসে জুথিকে খাটের মধ্যে রেখে এসে দ্রুততায় বাহির থেকে দরজাটা লক করে দিল। রাদিফ দরজাটা আটকানোর সাথে সাথে জুথি দৌড়ে এসে ভেতর থেকে দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে চেচিয়ে বলল,
‘দরজাটা খোলো বলছি। আমাকে বের হতে দাও। ভালো হবে না কিন্তু বলে দিচ্ছি।
‘তোমার মাথা ঠিক নেই আপাতত তুমি ভিতরে থাকো।
‘আমাকে আটকে রেখে কোন লাভ হবে না। যদি তোমরা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করো তবে আমি সুইসাইড করব বলে দিলাম।
‘জুথিইইই!
‘তাহলে বের করো আমাকে।
‘তুমি কেন বুঝতে পারছ না। তুমি এখন এই মুহূর্তে চাইলেও আরিশের কাছে যেতে পারবে না।
‘আমি কিছু বুঝতেও চাইনা কিছু জানতেও চাই না। আমার ওনাকে এনে দিন।
জুথির এতুর পাগলামিতে রাদিফের মুখে কেমন তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো। কই সেও তো এই মেয়েটাকে মনেপ্রাণে তার সবটুকু দিয়ে ভালবেসে ছিল। তাহলে এই মেয়েটা কেন তার হলো না? আজ এই মেয়েটা তার হলে নিশ্চয়ই এই তীব্র ভালোবাসাটুকু তার জন্য থাকতো। হায় আফসোস! দুনিয়ার কি অদ্ভুত লীলা। তুমি যাকে ভালোবাসো, সে তোমাকে ভালোবাসে না। আবার সে যাকে ভালোবাসে সে আবার হয়তো তাকে ভালোবাসে না। কিন্তু জুথির তরীটা উল্টো। জুথি যাকে ভালবেসেছে সেই মানুষটা জুথির থেকেও জুথিকে বেশি ভালোবাসে। যেখানে দুজন দুজনকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসে সেখানে তার পাওয়া না পাওয়াটা নিছক অলীক স্বপ্নের মত। ওই যেমন সে মেঘ সাজিয়েছিল। তার বুকে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে ভেবে, কিন্তু আফসোস সে মেঘ আর কখনো তার আকাশে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে না। যেখানে প্রাপ্তিই ছিল না। ছিল কেবলই এক বুক শূন্যতা। রাদিফ ফের তাচ্ছিল্যে হেসে পিছন ঘুরতে নিলে রোদকে দেখে চমকে উঠলো। রোদ কেমন শূন্য চোখে রাদিফের দিকে তাকিয়ে ছিল। এতক্ষণের হওয়া সব ঘটনাই রোদ বিচক্ষণ চোখে পরখ করছিল। একটা মানুষ তাকে ভালোবাসুক আর না বাসুক মানুষটা তার স্বামী। আর স্বামীকে কেউই পরো নারীর সাথে মেনে নিতে পারে না। তবে এই মুহূর্তে রোদ ম্যাচিউরিটি দেখালো। বাড়ির পরিস্থিতিটা সে জানে। এই মুহূর্তে সে ঝামেলা চাইছে না। তাছাড়া রাদিফ জুথির পাগলামি দেখেই কোলে করে নিয়ে এসেছে। এটা নিয়ে রাদিফেরের সাথে ঝামেলা করা মোটেই রোদের শোভা পায় না। তবে রোদ মুখেও কিছু বলল না। নিরবে গম্ভীর নিঃশ্বাস ফেলে পুনরায় চলে যেতে নিলে রাদিফ পিছন ডেকে বলল,
violent love 2 part 5
‘রোদ,,,।
এই যে আমার ফুলেরা। কত বড় পর্ব দিলাম। এবার তোমরা ঝটপট রেসপন্স করো। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে লিখি কোমর পিঠ ব্যথা করে। আর তোমাদের এক সেকেন্ড নিয়ে একটা রিয়াক্ট দিতে হাত কি খসে পড়ে? এই পর্বে অন্তত ৪কে কমপ্লিট করে দিবে। আর তোমাদের থেকে নেক্সট নাইস কমেন্ট চাই না। পারলে গঠন মূলক মন্তব্য করো নয়তো কমেন্ট করার দরকার নেই।

Next part please 🙏
Apuuuu next part kobe dibaaa🥹🥹
Apuuuu next part kobe diba🥹🤌
apu next part ta diye den pls.amra porer part asar asai sobsomoy bosei thakii.
plss apuhh dio taratari
Apu next part den plz🙏🙂
আপু নেক্সট পার্ট টা তাড়াতাড়ি দিও। ❤❤❤
Next part
Next part den apu
আপি তারাতাড়ি দিবেন
Apo onek sundsundor part house akin Jodi next part ta n.a. dew ta hole kibabe hobe kub taratari next part dew
piz piz piz piz piz