Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৯

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৯

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৯
সাইদা মুন

দেখতে দেখতে আরও দুটো দিন কেটে গেল। আজ তালহার নানাবাড়ির সবার ফিরে যাওয়ার দিন। যদিও তিতলি বেগম অনেক করে আরও দুদিন থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু নিজের বাড়িঘর, কাজকর্ম ফেলে কি আর বেশিদিন থাকা যায়। তালহার নানা আর মামারা তো একদিন আগেই ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের মন খারাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে আর না বলতে পারেননি। তাই আরও একটা দিন থেকে গেছেন।
বিকেলের মধ্যেই সবাই রওনা দেবেন। সেই প্রস্তুতিই চলছে এখন চারদিকে। কেউ ব্যাগ গোছাচ্ছে, কেউ কাপড় ভাঁজ করছে, কেউবা শেষবারের মতো ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে দেখছে কিছু বাদ পড়ল কি না। শুধু অপেক্ষা বিল্লাল সাহেব আর তালহাদের জন্য। তারা অফিস থেকে ফিরলেই বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন সকলে।
তিতলি বেগম বাবার পায়ের কাছে মেঝেতে বসে তেল মাখিয়ে দিচ্ছিলেন। মুখে অভিমান মেশানো সুর,

—রিতুকে দেখতে আসবে কাল বাদে পরশু। আর দুটো দিন থাকলে কী হতো, আব্বা?
আলি আহমেদ মেয়ের মাথায় স্নেহভরা হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
—মা, এমন আবদার আর করিস না। বাড়িঘর খালি পড়ে আছে। পাশের বাড়ির হাশেম আর কত পাহারা দিবে বল? তুই তো জানিসই, হাওর এলাকা, কখন কী হয় বলা যায় না। অনেক তো থাকলাম, আবার আসবোনে।
বাবার কথায় তিতলি বেগম মায়ের দিকে ফিরে বললেন,
—আম্মা, তুমিই কিছু বলো না।
সালেহা বেগমও মৃদু হেসে উত্তর দিলেন,
—আমি কী বলব মা? তোর বাপ তো খারাপ কিছু বলেনি। আবার আসব তো।
তিতলি বেগম আর কিছু বললেন না। মুখ ভার করেই আবার নিজের কাজে মন দিলেন। মেয়ের অভিমান বুঝেও চুপ করে রইলেন বাবা-মা। কী বলবেন? এই আবদার যে তাদের রাখার উপায় নেই। যত রাখবেন তত আবদার করবে তাদের মেয়ে। তাদের মন কষাকষির মাঝেই হাসিমুখে এগিয়ে এলো ফারাহ। এসেই ফুফুর পাশে মেঝেতে বসে পড়ল। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল তাকে।

—মন খারাপ করছো কেন, ফুপ্পি? আমি তো থাকছিই। আমার জন্য বুঝি খুশি না?
কথাটা শুনতেই পাশ থেকে ফারাহর মা চমকে উঠলেন। তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন,
—না না, তুই কেন থাকবি? আমাদের সাথেই সিলেট যাবি।
ফারাহ সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট উল্টে তিতলি বেগমের দিকে তাকাল,
—ও ফুপ্পি, দেখো না আম্মু কী বলছে! আমার তো এখন ভার্সিটিও বন্ধ। বাড়ি গিয়ে কি করব?
মেয়েটার আহ্লাদী কথায় তিতলি বেগম এবার রাগী চোখে তাকালেন ভাইয়ের বউয়ের দিকে। রাগী স্বরে বললেন,
—আহা, তুই এত কথা বলছিস কেন শুনি? ফারাহ থাকবে মানে থাকবে, ব্যস। আমার মেয়েটা আরও কদিন ফুফুর বাড়ির আদর খেয়ে তবেই যাবে। তাছাড়া রিতুকে দেখতে আসবে, তার বান্ধবীর থাকতে হবে না?
—কিন্তু আপা..
—কোনো কিন্তু না।
ঠিক তখনই দোতলা থেকে নামতে নামতে রিতু বলল,
—আন্টি, ফারাহ থাকতে চাইছে থাক না। তাছাড়া আমার এমন সময়ে একজন সঙ্গীর দরকার তো। প্লিজ, না করবেন না।
রিতুর অনুরোধটা উপেক্ষা করতে পারলেন না তিনি।
তপ্ত শ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে বললেন,

—আচ্ছা, থাকল নাহয়।
তবুও মায়ের মনটা অদ্ভুত অস্বস্তিতে ভরে রইল। দুদিন আগেই মেয়েটা এত বড় একটা ধাক্কা খেল। এখন আবার এই বাড়িতে থাকবে, প্রতিদিন চোখের সামনে মেহরীনকে তালহাকে দেখবে। যদি আবার কষ্ট পায়? ফারাহ তো ভীষণ আবেগি মেয়ে। কষ্টে পড়ে উল্টোপাল্টা কিছু করে বসলে? অজান্তেই ভীত চোখে তাকালেন তিতলি বেগমের দিকে। তিতলি বেগম যেন তার মনের কথা পড়ে ফেললেন। আশ্বস্ত করতে চোখে চোখ রেখে মৃদু হাসলেন। বললেন,
—আহা, চিন্তা নেই। আমি দেখে রাখব আমার ফারাহ মামনিকে।
এতে যেন কিছুটা ভরসা পেলেন তিনি। বুকের ভেতরের অস্থিরতাটা সামান্য হলেও কমল।

এদিকে মেহরীন দাদির ঘরে পানের বাটাটা রেখে বেরিয়ে আসছিল। ঠিক তখনই পাশের ঘর থেকে তুহিন আহমেদের কণ্ঠ ভেসে এলো। ডাকটা শুনে থমকে দাঁড়াল সে। দু-সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। ভাবছে সে যাবে কি যাবে না। নিজের ভেতর সাহস সঞ্চয় করছে। বড় মামার সঙ্গে বেশ ভালো একটা সম্পর্ক হলেও এই ছোট মামার সঙ্গে তার ঠিকঠাক সহজ সম্পর্কই হয়ে ওঠেনি। মানুষটা কেমন যেন তাকে এড়িয়ে চলেন। কখনো প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেন না। যার কারণে আগ বাড়িয়ে কথা বলার সাহসটুকুও হয়ে ওঠে না মেহরীনের।
তবু আজ তারা চলে যাবেন। এই ভেবেই নিজেকে একটু শক্ত করল সে। অন্তত একবার কথা বলে নেবে। যদি কোনো কারণে তার ওপর রাগ করে থাকেন, সেটাও জেনে নেওয়া দরকার। তার কোনো ভুল থাকলে নাহয় মাফ চেয়ে নিবে। মাফ চাইলে কি কেউ ছোট হয়ে যায়? ভাবতে ভাবতেই গুটিগুটি পায়ে দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। আধখোলা দরজার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল,

—আসব?
দরজার ফাঁক দিয়ে মেহরীনকে দেখেই তুহিন আহমেদের মুখের গম্ভীরতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। তবে কণ্ঠ রইল ধীর,
—আসো।
মেহরীন ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মাথা নিচু করে মৃদু হাসার চেষ্টা করে বলল,
—মামা, কিছু লাগবে আপনার?
তুহিন আহমেদ চশমাটা ঠিক করে নড়েচড়ে বসলেন। একইস্বরে বললেন,
—না।
মেহরীন ইতস্তত করে আবার বলল,
—মামিকে ডাকছিলেন যে। মামি রাফাদের কাপড় গোছাতে ব্যস্ত।
একথা শুনে তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ধীরে বললেন,

—তোমার মামিকে বলো, কাজ শেষ হলে আমাকে এক কাপ চা করে দিতে। মাথাটা একটু ধরেছে।
মেহরীন সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে বেরিয়ে এলো। সে আর মামিকে বলতে গেল না। সোজা রান্নাঘরে ঢুকল। মন দিয়ে বানাতে শুরু করল তার স্পেশাল চা। চুলোয় পানি বসিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করক। পানি ফুটতে শুরু করতেই দিয়ে দিল দুটো এলাচ আর আধখানা তেজপাতা। মুহূর্তেই রান্নাঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল মিষ্টি ঘ্রাণ। তারপর পরিমাণমতো চা-পাতা দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ, যেন লিকারটা ঠিকমতো কড়া হয়। অন্যদিকে কাপে চিনি আর গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে নিচ্ছে। লিকারটা কড়া হতেই চা ছেঁকে ঢেলে দিল কাপে। চামচ দিয়ে কয়েকবার নেড়ে মিক্স করে নিল সব। দুধচায়ের সুন্দর এক কালার আসতেই মুখে হাসি ফুটে উঠল তার। পরপর একটু করে চেখেও দেখল। চিনি ঠিক আছে। মুহূর্তেই মুখের হাসি আরও গাঢ় হয়ে উঠল।
মনে মনে ভাবল, এই চা খেয়ে নিশ্চয়ই মামা খুশি হবেন। সেই আশাতেই ট্রে হাতে এগিয়ে গেল সে। এবার দরজায় আর নক করল না। সরাসরি ভেতরে ঢুকে পিরিচটা এগিয়ে দিল উনার দিকে।
—মামা, আপনার চা।
এত তাড়াতাড়ি চা দেখে তুহিন আহমেদ কিছুটা অবাক। বুঝলেন মেহরীনই বানিয়ে এনেছে। নিবেন কি নিবেন না দ্বিধায় ভুগতে ভুগতে অবশেষে পিরিচটা হাতে নিলেন। পরক্ষণেই নাকে ভেসে এলো তেজপাতা, এলাচ আর দুধচায়ের কড়া লিকারের সেই চেনা গন্ধ। মুহূর্তেই তার চোখ বুজে এলো। বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল। চোখের সামনে ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো এক বিকেল।
অতীত,

—ছোট ভাইয়া, কী হয়েছে তোমার? কাজ থেকে আসার পর থেকেই দেখছি চুপচাপ। ব্যাপার কী বলো তো?
তুহিন আহমেদ মৃদু হেসে ছোট বোনটার দিকে তাকালেন। মেয়েটার নজর সবখানেই থাকে। হাত টেনে পাশে বসিয়ে পকেট থেকে দুটো ম্যাংগোবার বের করে এগিয়ে দিলেন।
—কিছু হয়নি আমার। এই নে, এগুলো তোর।
তবে তামান্না যেন বিশ্বাস করল না। অন্যদিন হলে ভাইয়ের আনা মজা দেখে এতক্ষণে খুশিতে লাফিয়ে উঠত। তবে আজ গম্ভীর চোখে ভাইয়ের মুখ পর্যবেক্ষণ করছে। তা দেখে তুহিন আহমেদ চিন্তিত হয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন,

—কী হয়েছে আমার বোনের? মন খারাপ?
তামান্না ভাইয়ের হাতটা নামিয়ে সন্দিহান কণ্ঠে বলল,
—তুমি কিছু লুকাচ্ছ, ভাইয়া। মুখটা এমন মরা মরা লাগছে কেন? মনে হচ্ছে জোর করে হাসছো।
তুহিন আহমেদ থামলেন, বুঝলেন তার ছোট্ট বোনটা আর ছোট নেই। এখন সে চোখের ভাষাও পড়তে পারে। কিছু বলতে নিবেন ঠিক তখনই সেখানে এসে হাজির হলেন আরিফ আহমেদ। ভাইয়ের পাশে বসতে বসতে বললেন,
—ব্যবসা একটু খারাপ যাচ্ছে। এই নিয়েই চিন্তিত আমাদের তুহিন সাহেব।
বলেই ছোট ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলেন। ভরসা দিতে কাঁধ শক্ত করে ধরে বললেন,
—এত চিন্তা করতে তোকে কে বলেছে? আমি আছি, বাবা আছে, সবাই মিলে আবার সামলে নেব। সবসময় কি ব্যবসা ভালো যায়?
তুহিন আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মুখটা আরও মলিন হয়ে এল তার।
—আমি তো সবে হাত দিয়েছি। আর এখনই এই অবস্থা, আব্বা আর তোমার এত বছরের কষ্ট ভাবলেই মাথা ব্যথা করে।
আরিফ আহমেদ হেসে বললেন,

—ব্যবসা-বাণিজ্য এমনই। একসময় একেকরকম যায়। কী বলিস তামু?
তামান্না এতক্ষণ দুই ভাইয়ের কথা শুনছিল। এবার চঞ্চল পায়ে উঠে দাঁড়াল। অভিজ্ঞের মতো বলল,
—হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক বলেছ ভাইজান। এই ভাইয়া, এত চিন্তা নিও না তো। চিন্তা করার কী আছে শুনি?
তুহিন আহমেদ হতাশ কন্ঠে বললেন,
—চিন্তা কি আর ইচ্ছা করে করি? এমনিতেই চলে আসে।
তামান্না একটু চুপ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উজ্জ্বল মুখে বলে উঠল,
—দাঁড়াও! পাঁচ মিনিট। আমার হাতের স্পেশাল এলাচ চা খেলেই সব চিন্তা জানালা দিয়ে পালাবে। বসো এক্ষুনি আনছি।
বলেই ছুটে গেল সে। পেছন থেকে দুই ভাই বোনের কান্ড দেখে হাসতে হাসতে সাবধান করলেন,
—সাবধানে করিস কিন্তু।
বেশ কিছুক্ষণ পর চঞ্চল পায়ে ফিরে এলো তামান্না। হাতে দু কাপ চা। এই চা বানানোতে বেশ পটু সে। দুই ভাইয়ের হাতে কাপ ধরিয়েই কোমড়ে হাত রেখে গর্বিত গলায় বলল,
—খেয়ে বলো তো দেখি, কেমন হয়েছে তামান্না স্পেশাল চা? আজ কিন্তু প্রশংসা বেশি বেশি চাই।
চায়ের কাপ হাতে নিয়েই দুই ভাই চোখ বুজে ঘ্রান নিলেন। আহা.. এই ঘ্রাণটাই যেন সব দুশ্চিন্তা, সব মাথাব্যথা দূর করে দেয়। বোনের কথামতো প্রথম চুমুক দিয়েই দুজন প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলেন।
অতীতের সেই চায়ের গন্ধ যেন আবারও পেল। চমকে তাকালেন মেহরীনের দিকে।

—এভাবে চা বানানো কে শিখিয়েছে তোমায়?
এহেন প্রশ্নে মেহরীন থতমত খেল। বেচারি ভেবে নিয়েছে, চা ভালো হয়নি। মুহূর্তেই মাথা নিচু করে ফেলল সে। ভয়ে ভয়ে বলল,
—দাদির থেকে..
—তোমার দাদি এমন চা বানাত?
প্রশ্নটা শুনে মাথা তুলে তাকাল মেহরীন। আর তাকিয়েই থমকে গেল। মানুষটার চোখ ছলছল করছে। চোখে তীব্র জানার আকুতি। মেহরীন ধীরে বলল,
—না, আম্মু বানাত এভাবে। দাদির থেকে শুনেছিলাম। পরে একদিন ট্রাই করে দেখি সত্যিই অনেক মজা হয়। তারপর থেকে মাঝেমধ্যে আমিও বানাই।
তুহিন আহমেদ কাঁপা হাতে কাপটা তুললেন। একটা চুমুক দিতেই চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল একফোঁটা জল। তারপর যেন বাঁধ ভেঙে গেল। অনবরত গড়িয়ে পড়তে লাগল অশ্রু। হকচকিয়ে গেল মেহরীন। দ্রুত দু কদম এগিয়ে এসে বলল,

—মামা! আপনি ঠিক আছেন?
তুহিন আহমেদ এক হাতে চশমা খুলে চোখ মুছতে লাগলেন। কিন্তু জল যেন আরও বেড়েই চলেছে। মাথা নেড়ে বোঝালেন, ঠিক আছেন। তারপর আবারও চায়ে চুমুক দিলেন। মেহরীন অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। কিছুই বুঝতে পারছে না সে। চিন্তিত কণ্ঠে বারবার বলতে লাগল,
—মামা, কী হয়েছে আপনার? কাঁদছেন কেন? আমার কোনো কথাতে কষ্ট পেয়েছেন?
তবে কোনো উত্তর দিচ্ছেন না তিনি। পুরো কাপ চা একটানা খেয়ে শেষ করলেন, কাপটা টেবিলে রেখে দিলেন। তারপর নিজেকে সামলে, চোখ মুছে তাকালেন মেহরীনের দিকে। হাতের ইশারায় কাছে ডাকলেন। মেহরীন ভীত পায়ে এগিয়ে যেতেই তার হাত টেনে পাশে বসালেন। ঠিক যেমন করে একসময় নিজের ছোট বোনটাকে বসাতেন। মাথায় হাত রাখতেই যেন মেহরীনের জায়গায় তামান্না বেগমের মুখটা ভেসে উঠল তার চোখে।
হঠাৎই ডুকরে কেঁদে উঠলেন তিনি। ভেজা কণ্ঠে বলতে লাগলেন,
—আমি আর নিজের রাগ ধরে রাখতে পারছি না রে মা। এই রাগই আমার সব শেষ করে দিয়েছে, সব। মাফ করে দিস আমাকে মা।
তার কান্না দেখে মেহরীনের চোখেও জল এসে জমেছে। ধীরে তার হাত চেপে ধরে বলল,

—মামা, প্লিজ কাঁদবেন না। আমি কি ভুল কিছু করেছি? করলে আমি মাফ চাইছি..
তুহিন আহমেদ দ্রুত মাথা নাড়লেন। তাকে থামালেন। অনুশোচনা থেকে বললেন,
“না রে মা, ভুল আমি করেছি। অনেক বড় ভুল। সেই ভুলের অনুতাপ আমাকে ভেতরে ভেতরে শেষ করে দিচ্ছে।
মেহরীনের মাথায় কিছুই ঢুকছে না। একমুহূর্তে সে আর কী বলবে, কী করবে, কিছুই বুঝতে পারছে না সে। কিছুক্ষণ নীরবে কাঁদলেন তুহিন আহমেদ। তারপর মেহরীনের মাথায় স্নেহভরা হাত বুলিয়ে হঠাৎ নিজেকে শক্ত করে উঠে দাঁড়ালেন।
ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
—চল।
মেহরীন অবাক হয়ে প্রশ্ন করল,

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৮

—কোথায়?
তুহিন আহমেদ তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন। যেই হাসির ভেতর ছিল নিজের প্রতিই ঘৃণা,
—নিজের কৃতকর্ম সবার সামনে তুলে ধরব।
বলেই তিনি যেতে শুরু করলেন ড্রয়িংরুমের দিকে। উনার তার পেছন পেছন নিঃশব্দে হাঁটতে লাগল মেহরীনও। সে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত, সামনে কী অপেক্ষা করছে তার জন্য জানা নেই।

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৯ (২)