এক চিলতে রোদ পর্ব ৩১ || onek koster golpo

2360

এক চিলতে রোদ পর্ব ৩১
Nondini Nila

আমি রুমে বসে আছি। ভাইয়ার রুমে যাব না আমি কিছুতেই না। এই দুপুরে কেউ পরে যতসব। তাও ব‌ই এনে বিছানায় বসে পরলাম। পড়াই হয় না আজ একটু মন দিয়ে পরতে লাগলাম। ভাইয়ার চিন্তা একপাশে ফেলে রেখে।
তখন দরজা খট করে খুলে কেউ এলো আমি তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেলাম ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে রেগে। আমি ঢোক গিলে বললাম,,
” আ-মি পারছিলাম একাই পরছে পারবো। ”

ভাইয়া আমার থেকে চোখ সরিয়ে নিচের দিকে তাকালো আর গটগট করে আর কাছে এলো। আমার সামনে দাড়িয়ে ব‌ই দেখলো আমি গনিত করছিলাম। ভাইয়া ফট করেই ব‌ই হাতে নিলো আর পেজ উল্টাতে লাগলো।আমি চমকে উঠে বললাম,,
“কি করছেন? আমি অঙ্ক করছি দিন।”
ভাইয়া কটমট চোখে তাকালো। আর বললো,,
“আমি আমার রুমে যেতে বলেছিলাম তোকে। তা না করে তুই একা পড়ে কি বুঝাচ্ছিস? সব পারিস। ওকে আমি তোকে এখন অংক করতে দেবো আমাকে করে দেখাবি।”
আমি ভয় পেয়ে ব‌ইয়ের পেছনে তাকিয়ে আছি। অনেক অঙ্ক তো পারিনা কোনটা দেবে কে জানে? না পারলে কি যে করবে? আমি মুখ কালো করে ভাবছি।
ভাইয়া ব‌ই আমার সামনে শব্দ করে ফেলে বললো,,
” এই যে এই দুইটা করে দেখা। টাইম দশ মিনিট।”
আমি ব‌ইয়ের অঙ্কের দিকে বড় চোখ করে তাকিয়ে আছি। এটা লাষ্টের আগের চ্যাপ্টার এইটা তো পরিনাই‌। অনেক কঠিন এই চ্যাপ্টার আর অঙ্ক ও অনেক বড়। দুই পেজ লাগবে একটা করতেই। এই অঙ্ক দিলো করতে তার উপর দশ মিনিট আল্লাহ।
আমি বিস্মিত হয়ে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,,
” মাত্র দশ মিনিট এ হবে না এই অঙ্ক অনেক বড়। আর আমি তো…”
তার আগেই বললো , ” ওকে আর পাঁচ মিনিট দিলাম। না পারলে তোর কপালে শনি আছে।”
বলেই ভাইয়া নিজের ফোন আমার সামনে রেখে বললো, “এই যে এখন এখন এগারোটা পঁয়তাল্লিশ বাজে বারোটায় সময় শেষ।”
বলে ফোন রেখেই চলে গেলো বাইরে।
আমি বলার টাইম পেলাম না আরো সময় লাগবে।
আমি হতভম্ব হয়ে বসে আছি। কিভাবে করবো ভাবছি অঙ্কে আমি ভালো খারাপ না তাই চেষ্টা করতে লাগলাম।

আরও গল্প পরতে ভিজিট করুন

দুই তিন নিয়মে করলাম হচ্ছে না বুঝছি না। কেটে অন্য পেজে যেতেই ফোনের দিকে নজর গেলো পাঁচ মিনিট চলে গেছে। প্রথম টা হচ্ছে না তাই দ্বিতীয় টা করতে লাগলাম। একটু করেই আমার মুখে হাসি ফুটলো এটা আমি পারতেছি সহজ লাগছে। করে ফেললাম। হেসে তাকিয়ে আছি।
উপরেরটা করতে লাগলাম পারছি না। আমি কলম মুখের ভেতর নিয়ে কামড়ে ভাবছি কি ভাবে করবো?
তখন ভাইয়া কন্ঠ শুনে চমকে উঠলাম আর মুখে থেকে কলম পড়ে গেলো।
ভাইয়া বলছে,,,” কলম কি কামড়ানোর জিনিস?”
আমি চকিতে মাথা তুলে তাকিয়ে মাথা নেড়ে না বললাম।
“তাহলে কামড়াকামড়ি করছিলি কেন? আমি তোকে অঙ্ক করতে দিয়েছিলাম। কলম কামড়াতে না।”
“হুম। আমি আসলে ভাবছিলাম কি ভাবে
করবো? ”
“ভাবার জন্য কলম কামড়াতে হয়।”
“না আমার এটা অভ্যাস।”
“সমস্ত বাজে অভ্যাস তোর আছে। টাইম শেষ দেখি কেমন করলি।”
টাইম শেষ শুনেই চমকে উঠলাম। আমার তো করা হয়নাই‌। ভাইয়া খাতা নিয়ে দেখছে গম্ভীর হয়ে।
খাতা থেকে চোখ সরিয়ে বলল,
‘একটা কেন?”
“আরেকটা আসলে পারিনা।”
“কেন আপনি তো সব পারেন আমার কাছে যাবেন না। তাহলে এখন পারলি না কেন?”
রেগে চেঁচিয়ে বললো।
আমি মাথা নিচু করে আছি‌। আমার ভয় করছে কি শাস্তি দেয় তার জন্য কিন্তু কিছু হলো না।ভাইয়া আমার পাশে বসে খাতা কলম নিজের হাতে নিলো। আমি অবাক হয়ে ভাবছি কি করবে?
ভাইয়া খাতায় ওই অঙ্কটা সমাধান করতে লাগলো সাথে আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে খুব সুন্দর করে। আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছি আর শুনছি। ওতোটাও কঠিন না আমি বুঝে গেলাম।
ভাইয়া খাতা কলম আমার হাতে দিয়ে বললো,,
“এবার নিজে ট্রাই কর।”
আমি মাথা নেড়ে করতে লাগলাম। হয়েছে করা আমি খুশি হয়ে ভাইয়া দিকে তাকালাম ভাইয়া তখন একটা কথা বললো আমি থমকে গেলাম। সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেললাম। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে আমার।
ভাইয়া বলছে,, ” আমি তোকে পড়ার জন্য ডেকেছিলাম। রোমান্স, প্রেম ভালোবাসা করতে না। আমার তোর পড়া নষ্ট করে ওইসব করার ইন্টারেস্ট নাই‌।”
আমার কান গরম হয়ে আসছে। লজ্জা আমি তাকাতে পারছি না।
” লজ্জা না পেয়ে অঙ্ক কর। ”
বলেই চলে গেলো। আমি থমকে বড় সে র‌ইলাম।

বিকেলে কোচিং এ ভাইয়া আমাকে নিয়ে বের হলো আমি একা যাব বলেও থামাতে পারলাম না তাকে। গাড়ি চাচাজান নিয়ে গেছে তাই আমাদের লোকাল এ যেতে হবে।
আমি কাচুমাচু মুখ করে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,,
” আপনার না যাওয়া ভালো ছিলো ভাইয়া আমি একাই যেতে পারবো।”
ভাইয়া রেগে তাকিয়ে বললো,, ” তোকে আমি এতো কথা বলতে বলেছি কি?”
‘কিন্তু শুধু শুধু আপনি গিয়ে কি করবেন ভাই?”
“আমার ইচ্ছা আমি যাব।”
আমি চুপ করে র‌ইলাম। একটা অটো ডেকে তাতে উঠে বসলো ভাইয়া সাথে আমিও।
‘মা কয় দিন থাকবে আন্টির বাসায়?”
“তা তো বলে যায় নি।”
ইহান ভাই আমার কথা শুনে কাউকে কল করলো কথা শুনে আমি বুঝলাম চাচি। কথা শেষ করে ফোনে কিছু করতে লাগলো আমি ভাইয়াকে ছেড়ে কোনায় বসে আছি। ভাইয়ার সাথে স্পর্শ লাগলেই আমার হাত পা কাঁপে। বুকের ভেতর ধরফর করে।
আমি বাইরে তাকিয়ে কোনা ঘেঁষে আমি হুট করেই একটা ঠান্ডা হাত আমার কোমরে স্পর্শ করলো আমি চমকে ঘাড় বাঁকাতেই ভাইয়া টেনে আমাকে নিজের কাছে টেনে ঘেঁষে বসালো। আমার সারা শরীর কেঁপে উঠলো,

ভাইয়া আমার কোমর থেকে হাত সরিয়ে বললো,,
“ওতো দূরে কোনায় গিয়ে বসেছিলি কেন? আত্মহত্যা করার ইচ্ছা ছিলো নাকি? আর একটু হলেই তো পরে যেতি‌।”
শক্ত মুখ করে গম্ভীর গলায় বলল।
আমি বিস্মিত হলাম। কাল সব বলছে আত্মহত্যা করতে যাব কেন? কিন্তু বলতে পারলাম না।
ভাইয়া রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ফোন ঘাটতে লাগলো‌। গাড়ি থেকে নেমে সোজা আমি উপরে চলে গেলাম। ভাইয়া দিকে তাকালাম না।
ছুটির পর ভাবছি ভাইয়া হয়তো চলে গেছে কিন্তু না বাইরে এসে দেখি দাঁড়িয়ে আছে। আর রেগে দাঁড়িয়ে আছে।আমি ঢোক গিললাম যায় নি কেন আর এতে রেগে আছে কেন?
আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। এগুনোর সাহস হচ্ছে না। তখন ভাইয়া আমার দিকে তাকালো আর রেগে আমার কাছে এগিয়ে এলো। আমি হকচকিয়ে তাকিয়ে আছি‌।‌ভাইয়া এগিয়ে এসে আমার হাত শক্ত করে ধরে বলল,
“চল।”
“আপনি এতো রেগে আছেন কেন? কি হয়েছে।”
ভাইয়া রক্ত চোখ করে তাকালেন আমার দিকে আমার আত্মা কেঁপে উঠলো। আমি চুপসে গেলাম।
হঠাৎ খেয়াল হলো ভাইয়ার হাতে রক্ত। আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছি। রক্ত এলো কি করে?
আমি ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,” রক্ত কি করে এলো কি হয়েছে আপনার?”
ভাইয়া থেমে গেলো আমার দিকে আগের ন্যায় রেগে তাকিয়ে আছে। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
“রিহান এখানে কেন আসে?”
আমার গলা শুকিয়ে এলো এটা শুনে ভাইয়া জানালো কি করে? আজ ও কি এসেছিল? অসভ্য লোকটাকে না ওইদিন মানা করলাম আস্তে।
তাও এসেছিলো কেন?
ভাইয়া আমাকে টেনে গাড়িতে উঠিয়ে হাত ধরেই বসে রইলো। আর একটা কথা ও বললো না। আমি ভয়ে ভয়ে একবার দুইবার তাকালাম। রাগে কপালের রগ ফুলে উঠেছে ভাইয়ার হাতের রক্তের কথা বললে না কিভাবে আঘাত পেলো? আমা তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছি আঘাতের দিকে‌। ভাইয়ার ফর্সা মুখ লাল বর্ণ ধারণ করেছে।
আমি বিস্মিত হয়ে বসে তাকিয়ে আছি ভাইয়ার দিকে। তিনি আমার সামনে চোখ বন্ধ করে বসে আছে মাথায় হাত দিয়ে। হাতের আংগুল ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। যা আগে ছিলো না। এটা পাঁচ মিনিট আগে করেছে। ভাইয়াকে এতোটা রাগতে আমি কখনো দেখি নি। আজ দেখলাম। তাও সমস্ত রাগ নিজের উপর দেখিয়ে নিজের ক্ষতি করলো। আমাকে কিছু বলেনি। গাড়িতে তো আমি ভয়ে জরোসরো ছিলাম বাসায় এসে না জানি কি করে আমাকে। কিন্তু আমাকে সম্পুর্ন অবাক করে দিয়ে ভাইয়া নিজের ক্ষতি করলো।

আমাকে টেনে নিজের রুমে এনে দরজা আটকে দিলো আমি চমকে উঠে, ভয়ার্ত কন্ঠে বললাম, “ভাইয়া আপনার কি হয়েছে বলুন না।”
ভাইয়া রেগে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “বিছানায় বস।”
আমি হকচকিয়ে গেলাম। বসতে বলছে কেন? ভাইয়া হুংকার দিতেই আমি ভয়ে কেঁপে উঠলাম। আর তারাতাড়ি বিছানায় বসে কাঁপতে লাগলাম। ভাইয়া আমার দিকে থেকে রক্ত চোখ সরিয়ে দেয়ালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে র‌ইলো। তারপর আচমকা হাত উঁচু করে নিজের হাতে বাড়ি দিলো আমি চমকে চেঁচিয়ে উঠলাম।
সাথে সাথে হাত কেটে রক্ত বেরোতে লাগলো আমি থমকে দাঁড়ালাম পরলাম। ভাইয়া এগিয়ে আমাকে টেনে আবার বসিয়ে দিল। আর আমার পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে র‌ইলো।
আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি। সাথে ভয় চোখে তাকিয়ে আছি ভাইয়ার হাতের দিকে। এমন পাগলামী কেন করছে? রিহানের জন্য কিন্তু ওর জন্য এমন করার কারন কি?
আমি থেকে থেকে কেঁপে উঠছি ভাইয়া চোখ বন্ধ করেই আছে। ইশ কতো খানি কেটে গেছে। আমি হুট করেই উঠে পরলাম এইভাবে বসে থাকা সম্ভব না‌। আমি ড্রয়ার থেকে ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে এলাম। এটা এখানে থাকে আমি জানি। আমি ভাইয়ার পাশে বসে নিজের কাঁপা হাত স্পর্শ করলাম ভাইয়ার হাতে। সাথে সাথে ভাইয়া চোখ মেলে তাকালো।
সেই লাল চোখ আমি কেঁপে উঠলাম। তাও আমতা আমতা করে বললাম,,
” প্লিজ বকবেন না। আপনার হাত কেটে গেছে অনেকটা। আপনি এতো রাগ কেন করছেন আমি জানি না ভাইয়া। কিন্তু নিজেকে কষ্ট কেন দিচ্ছেন?”
আমার কথা শেষ হতেই ভাইয়া বলল,,
“তোর জন্য। তোকে তো কিছুই করতে পারবো না তাই নিজেকেই ক্ষত বিক্ষত করছি।”
আমি থমকে গেলাম ভাইয়ার কথা শুনে। অবাক চোখে তাকিয়ে আছি। আমার জন্য।
“আমি কি করেছি?”

“তুই আমাকে ইগনোর করিস ওই রিহানের জন্য।”
ভাইয়া রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো।
আমি হতবুদ্ধি হয়ে বললাম,, ” মানে।”
হুট করেই আবার বললাম,, “আমাকে ব্যান্ডেজ করতে দিন আগে‌”
বলে আমি রক্ত মুছে ব্যান্ডেজ করে দিতে লাগলাম। পুরোটা সময় আমার হাত কেপেছে। ইহান কিছু বলতে গিয়েও বললো না। ঊষার চোখে নিজের ব্যাথার জন্য কষ্ট দেখে। মনে মনে প্রশান্তি বয়ে গেলো ওর। ওর রাগ আস্তে আস্তে কমে এলো।
ইহানের রাগের কারন হলো রিহান। ঊষা ভেতরে চলে যাওয়ার পর ওর দেখা হয় রিহানের সাথে। রিহান ওকে দেখে অবাক হয়ে বলে এখানে কি করে?
ইহান আগে দেখেই রিহান কে পছন্দ করে না কারণ আগেও ওকে ঊষার প্রতি নজর দিতে দেখেছে তাই ওকে দেখলেই ওর রাগ হয়।
রিহানের প্রশ্ন এ ইহান উওর না দিয়ে জিগ্গেস করে,
“তুমি এখানে কি করছো?”
রিহান বড় হলেও ইহান তুমি করেই বলে। রিহান আচমকা হাসি টেনে ঊষার জন্য বলে দেয়।
ইহান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে, হোয়াট?
রিহান ইহানের হাবভাব দেখে সিউর হয়েছে এই ছেলে ঊষার প্রতি দূর্বল তাই ও চায়না নিজের ভালোবাসার মানুষকে অন্য কারো সাথে দেখতে তাই সরাসরি বলে দিতে চায় নিজের মনের অনুভূতি। আর ও জানতে পেরেছে ইহানের মা ঊষাকে একদম সহ্য করতে পারেনা তাই ইহান কতটা এগিয়েছে জানা নেই। তাই ওকে ঊষার থেকে দূরে রাখার জন্য সব বলতেই হবে।
মানে আমি ঊষার জন্য এসেছি।
ইহানের কুঁচকানো কপাল আরেকটু কুঁচকে আসে।রিহান এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেয়।
গরগর করে বলে দেয় ,,
ও ঊষাকে ভালোবাসে। সাথে আরো বানিয়ে বলে।ও ভাবে শুধু নিজে ভালোবাসে এটা না বলে ঊষাও ওকে ভালোবাসে এটাও বলে। সাথে ঊষাকে প্রপোজ করার ছবি দেখায় যেখানে ঊষা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রিহানের দিকে আর রিহার ফুল ধরে আছে।সাথে আরেকটা ফটো অটো বসা দুজন।
এসব দেখেতো ইহানের চোখ জ্বলে উঠে। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
রিহান হুট করেই ইহানের হাত ধরে বলে,,

“ছোট ভাই তুমি তো ঊষার ও ভাই। আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেতে তোমার সাহায্য লাগবে। ”
ইহান টান মেরে হাত ছুটিয়ে নেয়। রিহানের হাত সরে যায় আর ইহান অতিরিক্ত রাগে টান দেওয়ায় ওর হাত পেছনে চলে যায় অনেকটা আর যার ফলে পেছনে একটা বাইকের সাথে লেগে হাত কেটে যায় কিন্তু ওর তাতে খেয়াল নেই। ওর ছবি দেখে রেগে বম হয়ে গেছে।
রিহান বিস্মিত হয়ে কিছু বলতে যাবে,,
ইহান বলে, আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু টক টু ইউ। গো এওয়ে।
রিহানের কি হলো ও ইহানে কথায় চলে গেল। বারতি কথা বাড়ালো না।
আমি ব্যান্ডেজ করা শেষ করে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি ভাইয়া আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি নিজে সরে বসি। ভাইয়া তখন বলে,,
“রিহানকে তুই ভালোবাসিস?”
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ভাইয়ার কথায় চমকে মাথা তুলে তাকালাম। ভাইয়া উওরের আশায় তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি ঢোক গিলে ভাবছি কা সব বলছে ভাইয়া আমি রিহানকে ভালোবাসতে যাব কেন?
কিন্তু অদ্ভুত আমার মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। ভাইয়া রক্ত চোখ করে তাকিয়ে আছে আমার ভয় লাগছে কথা বলার শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছি।
“তোরা দুজন দুজনকে ভালোবাসিস?”
আমার উওর না পেয়ে ভাইয়া কঠিন সুরে আবার বলল কথাটা‌।
আমি হতভম্ব হয়ে বসে আছি। ভাইয়ার চোখে মুখে বিরক্ত রাগ তো আছে আমাকে চুপ থাকতে দেখে তার রাগ আকাশে উঠে গেলো। এবার চেঁচিয়ে উঠলো,,
” বোবা হয়ে বসে আছিস কেন?কথা বলতে পারিস না। আমি তো কিছু জিজ্ঞেস করছি। রিহানকে তুই ভালোবাসিস, বিয়ে করতে চাস। ওর সাথে অটোতে করে বেরাস, ও তোকে ফুল দিয়ে প্রপোজ করে। ”
ভাইয়া উঁচু গম্ভীর গলায় আওয়াজে ভয়ে আমার হৃদপিণ্ড কেঁপে উঠলো। আমি বিছানায় থেকে ফট করে উঠে দাঁড়ালাম। ভাইয়াকে ভয় করছে খুব। কতো রেগে গেছে ভাইয়া। সব ওই রিহানের জন্য। এসব সেই বলেছে কিন্তু কেন মিথ্যা বললো। এখন ভাইয়া তা রেগেছে না কিছু শুনবেই না। আমার হাত পা কাঁপছে আমি এখন কেটে পরি সেটাই আমার জন্য ভালো।
ভাইয়া আমাকে দাঁড়াতে দেখেই নিজের ব্যাথা ব্যান্ডেজ করা হাতেই আমার বাহু চেপে ধরে নিলো। আমি আঁতকে উঠলাম। ভাইয়া আমাকে টেনে নিজের কাছে টেনে ধরে রেখেছে।
“কোথায় যাচ্ছিস আমার এ্যানসার না দিয়ে। ”
আমি ভয়ার্ত গলায় মিনমিন করে বললাম, ” রুমে যাই সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আযান দিবে এখন।”
“আমি যেতে বলেছি তোকে?”
রেগে বললো।

আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। হুট করেই ভাইয়া আমাকে বলে উঠলো,,
” রিহানকে ভালোবেসে থাকলেও তুই শুধু আমার। আর যদি ওই রিহানের জন্য আমাকে ইগনোর করে থাকিস তাহলে খুব ভুল করেছিস। আমি বেঁচে থাকতে ওই রিহানের সাথে তোকে মেনে নেব না। তুই শুধু আমার‌। বুঝতে পেরেছিস।”
আমি পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালাম। পাগল হয়ে গেছে ভাইয়া। এবার কিছু বলতে হবেই।
আমি মুখ খুলতে যাব‌ ভাইয়া আচমকা আমাকে টেনে নিজের হাঁটুর উপর বসিয়ে ঠোট এ আংগুল দিয়ে আটকে বললো।
‘না ঊষা আমি ওই রিহানের হয়ে কথা তোর মুখে শুনতে চাইনা। আমার তিনদিনের অনুপস্থিতে তুই ওর সাথে রিলেশন এ চলে গেলি। আমি তোকে লেখা পড়া করার কথা বলেছিলাম। আর তুই। ওকে নিয়ে ঘুরাঘুরি করেছিস।”
আমি হাঁটুর উপর থেকে উঠার জন্য ছটপট করছি। ভাইয়া আমাকে ছারছে না‌।
আর ও শক্ত করে ধরে আছে। চোখে তার আগুন।
“আমি রিহান‌ ভাইকে ভালোবাসিনা।”
এক নিঃশ্বাসে এ বলে ফেললাম।
আমার কথা শুনে ভাইয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো,
” ভয়ে মিথ্যা বলছিস?”
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, মিথ্যা কেন বলবো? আপনি ওই রিহানের কথা শুনে আমাকে বকাবকি করছেন‌ নিজের ক্ষতি করছেন কেন?যেখানে আপনাকে বলা প্রত্যেকটা কথা মিথ্যা।
মানে? কপাল কুঁচকে বললো ভাইয়া।
আমি ঠোঁট ভিজিয়ে বলতে লাগলাম। একে একে সব রিহানের বিরক্ত করা থেকে প্রপোজ তারপর আমি বিরক্ত করতে মানা করা সেদিন অটোতে জোর করে উঠেছিলো। সব বলা শেষে বললাম।
“আপনি কিসের ছবি বলছেন সেটা জানি না। আমি তো কোন ছবি তুলিনি।”
“ভয় পেয়ে মিথ্যা বলছিস না তো।”
আমি মাথা নেড়ে না বললাম।
“আর আপনি আমার থেকে ওই রিহান ভাইকে কি বেশি বিশ্বাস করেন।”
ভাইয়া তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে ছিলো আমার দিকে। এবার তার রাগের মাত্রা কমে এলো কিন্তু চেয়াল শক্ত ই আছে। ভাইয়া নিজের হাত বাড়িয়ে আমার গালে রাখলো আমি কেঁপে উঠলাম। ভাইয়া বললো,,
“আমার রাগে কি করতে ইচ্ছে হয়েছিল তোকে বলে বুঝাতে পারবো না।”
” আমাকে ছারুন।”

এক চিলতে রোদ পর্ব ৩০

ভাইয়া সাথে সাথে ছেড়ে দিলো আমি অবাক হলাম। আমার কথা শুনার জন্য সাথে উঠেও পরলাম।
চলে আসতে নিবো তাই পেছনে ঘুরি তখন ভাইয়া বললো,
“ওর প্রপোজ এ রাজি হচ্ছনি আমার জন্য?”
আমি চমকে দাঁড়িয়ে গেলাম।
” আমাকে ভালোবাসিস? ”
গরম নিঃশ্বাস আমার ঘাড়ে পরছে। আমার শরীর লোম খাড়া হয়ে গেল। ভাইয়া আমার খুব কাছ থেকে কথা বলছে তাই তাকে ফিল করতে পারছি।
কিছু ক্ষনের মাঝে ভাইয়া আমার সামনে এসে দাড়ালো আর বললো,
“অযথাই এতো কষ্ট দিলাম নিজেকে। আমার বুঝা উচিত ছিলো আমার ঊষা আমাকে রেখে অন্য কাউকে ভালোবাসতেই পারে না।”
বলতে বলতে ভাইয়া এগিয়ে এলো আমি এক পা পেছনে যাব ভাইয়া আমার হাত ধরে আটকে দিল আর এগিয়ে আমার কপালে চুমু খেলো। আমি ছিটকে সরে দাড়ালাম। আর সাইট দিয়ে গিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে এলাম।
নিচে আসতেই লতার মুখোমুখি। ও আমাকে চেপে ধরলো। ভাইয়া রেগে নিয়ে গেলো কেন কি হয়েছে আমি কিছু না বলে রুমে চলে এলাম। কি রাগ ভাইয়ার। ব‌ই ভাইয়ার রুমে রেখে এসেছি।
ধুর থাক পরবোই না।
মাগরিবের পর চাচা এলো। তাকে খেতে দিয়ে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছি ভাইয়ার জন্য। ভাইয়া অনেক সময় পর এলো এসে বসলো না আমার দিকে তাকিয়ে বলল,,
“আমার খাবার রুমে নিয়ে আসিস।”

বলেই এক মিনিট দাঁড়ালো না রুমে চলে গেলো। চাচার খাবার শেষ হতেই আমি খাবার হাতে দাঁড়িয়ে আছি। যেতে ইচ্ছে না করলেও যেতে হবে।না হলে ভাইয়া আবার রেগে যাবে। আমি বড় শ্বাস ফেলে রুমে এলাম। ভাইয়া বিছানায় পা মেলে বসে আছে । আমি গিয়ে খাবার রাখলাম। ভাইয়া ডেকে বললো,
“এখানে নিয়ে আয় খাবার।”
আমি খাটে গিয়ে ভাইয়ার কাছে রাখলাম খাবারের প্লেট।
“আমি চলে আসতে যাব ভাইয়া বলে উঠলো, তুই যাচ্ছিস কেন?”
আমি অবাক হয়ে বললাম, “তো কি করবো?”
“আমাকে খাইয়ে দে। ”
আমি বড় চোখ করে তাকিয়ে বললাম, কি ?
ভাইয়া আমার সামনে নিজের কাটা হাত উঁচু করে বললো,
” খাব কি করে? ”
ভাইয়ার হাত যে কাটা আমি ভুলেই গেছিলাম।

এক চিলতে রোদ পর্ব ৩২