love or hate part 43
ইভেলিনা তূর্জ
বাঁধনমুক্ত হতেই রোজ শরীরের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে ক্যাটরিনার গালে কষিয়ে এক থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।
হঠাৎ এমন প্রত্যাঘাতে ক্যাটরিনা অক্ষিকোটরের মণি বড় হয়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। হিংস্রতায় রোজের চুলের মুঠি ধরে মেঝেতে আছড়ে ফেললো। ক্যাটরিনা ক্ষিপ্রতায় রোজের বুক লক্ষ্য করে বন্দুক তাক করে হাসিতে ফেটে পড়লো।
”তোর তেজ তো দেখছি কম না!মরার পাখনা গজিয়েছে তাই না?”
রোজ মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই ক্যাটরিনার ওপর থুঃথুঃ ছিটিয়ে দিলো। ক্যাটরিনাকে হাসতে দেখে রোজও বাঁকা হাসিতে বিদ্রূপ করলো।
“ভয় পাচ্ছিস আমায়!আমি বেঁচে থাকলে তোর সর্বনাশ অনিবার্য তাই তো??”
ক্যাটরিনা বন্দুকের ট্রিগার প্রেস করলো। রোজ নেত্রদ্বয় খনিকের জন্যে বুঁজে নিলো, কোনো গুলি রোজের শরীরে বিঁধলো না। ক্যাটরিনা অট্টহাসি হাসতে হাসতে রোজের চারপাশ দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে লাগলো। বারুদের গন্ধে রুম ভরে উঠলো। ক্যাটরিনা হাই হিল জুতো দিয়ে রোজের জখম হওয়া হাতের ওপর সজোরে চাপ দিলো। অসহ্য যন্ত্রণায় রোজের বক্ষঃস্থল কম্পিত হলেও রোজ ক্যাটরিনার পা সরানোর প্রয়াস ঘটালো না।কারণ ক্যাট তো চায় রোজ যেনো তার পা ধরে। রোজ সকল ব্যথা সহ্য করতে রাজি তাও কোনোদিনও এই দানবী মহিলার পাঁ ধরবে না।কখনোও না।
রোজ সব ব্যথা হজম করে তাচ্ছিল্যের সাথে হাসলো।যেনো এই মূহুর্তে রোজ নিজের ভিতরে নেই।যেনো কোনো জাগতিক সত্তা রমণীর ভেতর ভর করে বসেছে।
“খালি ময়দানে, খালি হাতে লড়ে দেখ! একপক্ষ অস্ত্রসমেত আর অন্যপক্ষ অস্ত্রহীন যুদ্ধটা কি বড্ড একপেশে হয়ে যাচ্ছে না? আমাকে এক তিল পরিমাণ সুযোগও দিস না, নাহলে তোর মতো আবর্জনাকে নিজের হাতে শেষ করে ফেলবো!তোর ভাগ্যে ভালো তোর রক্ত নোং*রা গন্ধযুক্ত, ওতে আমার হাত নোং*রা হয়ে যাক তা চাই না আমি।”
ক্যাটরিনা ক্ষোভের তাড়নায় খানিক বাকরুদ্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো,এহন দূর্বল রমণী ভারী ম্যানিউপুলেশন জানে ভেবে গাড় লাল লিপস্টিক মাখা ওষ্ঠাধরে কুটিল হাসি ফুটে উঠলো আঁধারচক্রিনী দানবীর।তাতে কি লাভ??এই মেয়ে কি তার মতো মাফিয়া নারীর ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে সক্ষম হবে??হবে না!ফেলে দিলো বন্দুক।রোজের তীক্ষ্ণ কথার ধাঁচে বিপরীতে ক্যাটরিনা মিথ্যে ভয় পাওয়ার ভঙ্গি করে পা সরিয়ে নিলো। ঠোঁট উল্টালো।
“আহ্! তুই মারবি আমায়? আমি নোং*রা? তাহলে নোং*রা তো রিক-ও,আদ্রিয়ানও, আর সাথে তুই নিজেও! এখন তুই বল, তুই কাকে কাকে মারবি? নিজেকে? আমায়? রিককে? নাকি আদ্রিয়ানকে?”
ক্যাটরিনা ক্ষিপ্রতায় রোজের চিবুকে শক্ত করে চেপে ধরলো।রোজও ক্যাটরিনার হাত চেপে ধরলো।
“কী বলতে চাচ্ছিস? পরিষ্কার করে বল!”
ক্যাটরিনা পুনঃরায় ঠোঁট উল্টে বললো, “তোকে এই পর্যন্ত আনতে আমাকে কত নাটকই না করতে হলো বল!”
রোজের ভ্রু কুঁচকে উঠলো, মুখাবয়বে আশঙ্কার ছাপ ফুটে উঠলো। ক্যাটরিনা কিসের কথা বললো তা বুঝতে সক্ষম হলো না রোজ।ক্যাটরিনা এক গ্লাস জল এনে রোজের দিকে হাত বাড়িয়ে পুরোটা মেঝেতে ঢালতে লাগলো।
“আহা! এখনো তো কিছু বললামই না বোকাসাহসী মেয়ে! তুই আসলেই বড্ড বোকা! আর আমায় বলিস আমি বোকা? তুই তো কিছুই জানিস না! জানবি জানবি…”
ক্যাটরিনা হাতের ঘড়ি দেখলো। “তোর হাতে আর বেশি সময় নেই! মৃত্যুর আগে তোকে এমন কিছু বলব যেন মরেও তোর আত্মা ছটফট করে!” বলেই ক্যাটরিনা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।
“কী বলতে চাস? যা বলার বল, তবে মিথ্যে চাল চালার চেষ্টা করবি না!”
”দাঁড়া দাঁড়া, কোথা থেকে শুরু করবো?তোকে আর রিককে দিয়ে শুরু করি? মরেই তো যাবি, শুনেই মর!
কী বলতে চাইছে ক্যাটরিনা? এই বিকৃত সত্তার নারীর মাঝে হঠাৎ এমন রহস্যময় স্বাভাবিকতা কেনো? রোজ সন্তর্পণে চারপাশে নজর বুলালো। হলিউড মুভিতে দেখেছে বহুবার এমন পরিচিত দৃশ্যই নিঃসন্দেহে এটা একটা লাইটহাউস হবে। মাঝসমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের গর্জনই বলে দিচ্ছে যে জনপদ থেকে তারা বহু দূরে।
রোজ গভীর সংশয়ে ভ্রু কুঁচকালো। ঠিক তখনই ক্যাটরিনা একটা লোহার চেয়ার টেনে রোজের মুখোমুখি বসলো। তার অর্ধ*নগ্ন দেহ নিয়ে খানিকটা ঝুঁকে পড়লো রোজের দিকে। তাদের ঠিক মাথার ওপরে একটা হলদেটে পুরনো বাল্ব দুলছে। যার ম্লান আলো প্রতিফলিত হচ্ছে দুই ভিন্ন মেরুর ভিন্ন সত্তার নারীর মুখাবয়বে।রোজ ক্যাটরিনার কর্মকাণ্ড বোঝার প্রচেষ্টায় পাথর হয়ে চুপ রইলো।
ক্যাটরিনা তার রক্তবর্ণ চোখের মণি রোজের চোখের ওপর স্থির করে নাটকীয় ভঙ্গীমায় হিসহিসিয়ে উঠলো। হাতের সর্ব আঙুল এমন ভাবে নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলতে লাগলো যেনো সাক্ষাৎ কোনো রুপকথার জগৎ এর এক পিশাচিনী ডেমন কুইন।
—তুই আসলে ডেবিলদের এক ভয়ানক জগতে আছিস। তোর চারপাশটা ঠিক কতটুকু সত্য আর এই ডেবিলরা আসলে ঠিক কতটা নৃ*শংস হতে পারে, তা বুঝতে বুঝতেই তোকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
অতঃপর ক্যাট পুনঃরায় বলতে লাগলো-
আমার জান রিক বাংলাদেশে প্রথমবার গিয়েছিলো মাস্টার এর কথায় জুবায়ের খাঁ নামক একটা স্লাট কে মারতে।জুবায়ের খাঁ কি করলো রাশিয়ান মাফিয়াদের সাথে পাঙ্গা নিতে গেলো।পিঁপড়ে হয়ে সিংহের পায়ে কামুড় মারতে এলে অকাল মৃ*ত্যু যে অনিবার্য!রিক কেনো গিয়েছিলো??কেনো কেনো??জুবায়েরকে মারতে?মারলো!খবর পাঠালো একটা মেয়েকেও মে*রে ফেলেছে জুবায়েরর রুমে ছিলো।কেনো মেরেছে?মেয়েটা প্রত্যক্ষসাক্ষী ছিলো!রিক কাউকে কৈফিয়ত দেয় না।দিলো না মাস্টারকেও।চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে বলা হলো।
রিক কি ভেবেছে সে একাই ধূর্ত??বায়ান্নজন মানুষকে মেরেছিলো সে।২০২৩ এ পুরো দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে একটা খবর রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলো যে চট্টগ্রামের একটা নামকরা টিভি চ্যানেলে রাতের বেলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড হয়।ইলেকট্রিসিটি থেকে।বাট! বাট!রিক কি ভেবেছে কেউ কিছু বুঝতেও পারবে না??আমি জেনেও চুপ ছিলাম।
‘নিউজ বাংলা ২৪'(কাল্পনিক) নামকরা টিভি চ্যানেল অফিস রিক সেখানে স্রেফ আগুন লাগিয়ে দেয়নি!একচল্লিশজন মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিলো!একচল্লিশটা প্রাণ! টিভি স্টেশনের নিউজ রুম থেকে শুরু করে সিকিউরিটি গার্ড কেউ বের হওয়ার সুযোগ পায়নি।বাকি এগারোজন ছিলো পুলিশ। কারণ পুলিশ স্টেশনেও ভয়াবহ অগ্নি কান্ড হয়।সব কিছুর পিছনে ছিলো আমার রিক।
ইয়্যু নো গেস হুয়াট??
জুবায়ের খাঁ এর রুমের দরজার কাছে একটা ফুলদানিতে স্পাই ক্যামেরা ছিলো।মৃত্যুর প্রায় কয়েকসপ্তাহর মধ্যে পুলিশ তদন্তে ধরা পড়লো ক্যামেরাটা।আর ক্যামেরাতে ধরা পড়লো শাড়ী পড়া একটা মেয়ে আর একজন ওয়েটার।মেয়েটার মুখটাও স্পষ্ট হলো।সেইভাবে ফেঁসে গিয়েছিলো মেয়েটা! মেয়েটার স্কেচ তৈরি করা হলো।যেদিন নিউজ করা হতো যে জুবায়ের খাঁ এর ক্লাবে ঢুকে তাকে মেরে ফেলে এক তরুণী তার আগেই সব তথ্য সব কিছু উধাও করে রিক-ই মেরে দিলো এতোগুলো মানুষকে! নির্দ্বিধায়!ফেঁসে গেলো আমার জানটা! মোহের বশীরভূত হয়ে পড়লো!কি দরকার ছিলো এসব করার??কি দরকার ছিলো????বেঁচে গিয়েছিলি তুই তাই না??তুই-ই তো??বললল!
ক্যাটরিনা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ আনার প্রয়াসে হাসতে লাগলো।রাগে চোটে চোখমুখ ভয়ানক দেখাচ্ছে। রোজ যখনই পাহাড় গড়তে চায় তখনি তা ধ্বসে পড়ে।এই যে এই মূহুর্তেও চোখ ফেঁটে অশ্রু গড়ানোর উপক্রম।
—তারপর??
—কি শুনতে চাস??চল এখন আসি ডেনমার্কে!ক্যাটরিনা সিগারেটে একটা দীর্ঘ টান দিলো। ধোঁয়া ছেড়ে ওষ্ঠাধরে বিকৃত হাসির রেখা টেনে বলতে শুরু করলো।
—এই মুহূর্তে আমি তোকে যা যা বলবো, কথাগুলো শুনে হয়তো অবাক হয়ে ভাববি আমি এসব জানলাম কী করে! তার উত্তরও আমি তোকে দিবো। তবে আমার মনে হয় না শেষটা শোনার মতো পর্যাপ্ত সময় তুই পাবি। বি’কজ, ইওর ডেথ ইজ লোডিং… টিক টক, টিক টক!
মিসেস এ্যাশ আলবার্ট একটা পার্টির আয়োজন করলো মিডনাইট প্যাক্ট গালা।চুক্তিভিত্তিক নিজেদের বিজনেস রাইভাল গ্রুপের সাথে।ইউভান বাংলাদেশ থেকে একটা মেয়ে নিয়ে এসে মেইড বানিয়ে দিলো ব্যপারটা হজম হয় নি এ্যাশ আলবার্টের।কিন্তু এ্যাশ আলবার্টের সাথে তোর সমস্যাটা কি তা ওই বুড়িই ভালো জানতো।নাহলে নিজের বাড়ির একটা মেইডকে মেরে ফেলার জন্যে পরিকল্পনা প্রবণ কে হয়??বেচারা বুড়ি।রিকের জীবন থেকে তোকে সরাতে রিকের শত্রুকে কাজে লাগালো?কয়েকশত কোটি টাকার ডিল কনফ্রার্ম করলো আদ্রিয়ান শাহ এর সাথে!আদ্রিয়ানতো তোকে চিনতো ও না।না চিনেই নিজের পোষা কুকুরদের তৈরি রাখলো তোকে মারতে!কিন্তু দুঃখের ব্যপার হলো।আদ্রিয়ানটাও সেই ফাঁসা ফেঁসে গেলো যাকে না চিনেই মারতে চাইলো তাকে দেখেই প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে বসলো।ডেবিল থেকে পুরো মাজনু??ইশশশ বেচারা!গেলো গেলো সব পরিকল্পনা গেলো জলে।আদ্রিয়ান তো জানতোই পার্টির দিনই তোকে মেরে ফেলা হবে।
অ্যাহ অ্যা! ক্যান ইউ গেস হুয়ার দ্যা মেইন টুইস্ট ইজ???
এ্যাশ আলবার্টকে কে মেরেছে! সে কথায় আসি আগে!কে মারতে পারে বলতো??
—আমি কি করে জানবো??আর ওনার গ্র্যানি কেনো মারতে চাইবে আমায়??কি ক্ষতি করেছিলাম আমি??
—বুড়িরা বেঁচে থাকলে বলা যেতো!বুড়িটার ভুলার রোগ ছিলো, ভুলেও গিয়েছিলো যে তোকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় অটুট ছিলো।বুড়িটা ভুলে গেলেও বা কি লাভ হবে রিক তো জেনেই গিয়েছিলো।বেচারা এ্যাশ আলবার্ট শেষ বয়সে এসে নিজের নাতীর হাতেই খু*ন!ওপসস! নাতীর হাতে না একটু ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে!
“একটা সাংঘাতিক মার্ডার মিস্ট্রি!”
ক্যাটরিনা নাটকীয় ভঙ্গিমায় চোখের জল মোছার ভান ধরে নাক টানলো।রোজ পুরো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লো।ক্যাটরিনা খ্যাঁক করে হেসে পুনঃরায় বললো।
—বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে?? চল সহজ করে বলি!লায়ন লিডার ভোলকভ যে আদ্রিয়ান তা রিক আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারতো।এমনিতেও মাফিয়া চক্রের সম্পর্কে তোর জ্ঞান নগন্য।তাই সে-সব বাদ আসি মূল বিষয়ে- ভোলকভের আসল পরিচয় নিয়ে রিকের সাথে আমার কথাও হয়েছিলো কয়েকবার।যদিও আমি নিজেও সিউর ছিলাম না এ ব্যপারে।এখন কথা হলো রিক কি করলো??তোকে মারতে চেয়েও পারলো না।নিজের আশে পাশে রাখতে শুরু করলো।তাও নিজের ম্যানশনে!এ্যাশ আলবার্ট মারতে চাইলো তোকে সে কথা রিক জেনে গেলো।এদিকে আদ্রিয়ান অবসেশ’ড হয়ে পড়লো তোর উপর। আদ্রিয়ান যে রিক আলবার্টের মে’ইড এর প্রেমে পড়েছে সেটাও রিক বুঝতে পারলো খুব ভালো করে।আর আদ্রিয়ানের উপর কড়া নজরও রাখলো।কয়েকদিনেই তোর প্রতি বিশেষ দূর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছিলো,তার প্রমাণ হলো ডেনমার্কে আদ্রিয়ান নিজের ম্যানশনে তোর একটা বড়সড় ছবি দেয়ালে টাঙানোও আছে।
ড্যাম!
ইউভান রিক আলবার্ট এক ডিলে দুই শিকার ধরার যবরদস্ত পরিকল্পনা আটলো।প্রথমতো তোকে টোপ বানিয়েই আদ্রিয়ান-ই যে ভোলকভ তা সবার সামনে আনা।আর এ্যাশ আলবার্টকে মেরে ভোলকভকেই ফাঁসিয়ে দেয়া!যেই দাদির কোমা থেকে ফিরার অপেক্ষায় বছরের পর বছর কাটালো সেই দাদিকে মারার আগেও দু’বার ভাবার প্রয়োজনবোধ পর্যন্ত করেনি রিক।
❝দ্যাট’স হুয়াই হি ইজ অ্যা হার্টল্যাস মনস্টার।❞
❝present Leader of Spider gang!The one & only
mafia Monster bit*ch❞
এদিকে রিকের প্ল্যান মাফিক পার্টি দিন আদ্রিয়ান আর রিকের মাঝে একটা ভয়ঙ্কর প্রলয় বাঁধলো।আদ্রিয়ান যে তোকে মারবে না তাও রিক কনফার্ম ছিলো।শুধু মাঝে সব ঝামেলা পাকিয়ে দিয়েছিলি তুই পালিয়ে গেলি।তোকে ধরতে গিয়ে বাইক এক্সিডেন্ট হলো রিকের।সেই সুযোগটা কাজে লাগালো আদ্রিয়ান।সেদিন তোদের পিছু আদ্রিয়ান ও গিয়েছিলো।আর তোকে বাঁচিয়ে নিয়ে চলে গেলো তুরস্ক। আদ্রিয়ানকে খবর দিয়েছিলো রিকের হোটেল ম্যানেজার!এখানেও বিশ্বাসঘাতকতা।রিক যেমন স্বার্থপর, প্রলয়-কুমার, বিধ্বংসী সত্তার অধিকারী ঠিক তেমনি তার আশেপাশের শয়তানগুলো তার মতোই বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে তার সাথেই অনবরত।
রিকের হোটেল ম্যানেজার রিজভী আদ্রিয়ানের-ই স্পাই!যদি মুখ খোলে ফেলে তাই তাকেও মেরে দিলো আদ্রিয়ান।তারপর আদ্রিয়ান লায়ন স্নাইপার দিয়ে হসপিটালে এ্যাটাক করালো রিকের উপর।রিক এতোটাই ধূর্ত যে স্নাইপারটাকেও ধরে ফেলে সেদিন।একদিকে রিকের এক্সিডেন্ট অন্যদিকে রিক আলবার্টের কথা মতো স্পাইডার টিমের হিডেন স্নাইপারদের দিয়ে অ্যাটাক করানো হলো আলবার্ট ম্যানশনে।যেনো ম্যানশনের গার্ডরাও টের অব্দি না পায়।
কি সুক্ষ্ম চাল!কি নিখুঁত পরিকল্পনা।
নিজের ম্যানশনে নিজেই এ্যাটাক করালো মনস্টার বিচ্।বেচারি বুড়ি নাতীকে শেষ মুহূর্তে দেখতেও পারলেন না।বুঝতেও পারলেন না তার র*ক্তই তাকে এতোটা যন্ত্রণা দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।
ক্যাটরিনা ধপ্ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পরলো।পাশের টেবিল থেকে একটা টিস্যু বের করে নাক মুছার ভঙ্গিমায় করে কুটিল হাসির রেখা টেনে হাতে তালি বাজালো।যেনো নাটকীয়তার শেষ হয় নি এখনো।বাক্যের পুনঃরাবৃত্তি করে বলে উঠলো।
এ্যাশ আলবার্ট এতো যন্ত্রণার পরও বেঁচে ছিলেন সেদিন।হ্যাঁ বুড়িটার পার্লস তখনও সচল ছিলো।কিন্তু……!
খবর পেয়ে আলবার্ট ম্যানশনে স্পাইডার গ্যাংস্টার তুষার তাইওয়ান পৌছালো।রিকের পরিকল্পনা তো এটাই ছিলো।তাই যেতেই হতো।আলবার্ট ম্যানশনে এ্যাটাক!ওহহ নো!দুনিয়াটাই নাটকের খেলা!তুষারের উপস্থিতির আগেই স্নাইপারদের ম্যানশন ত্যাগ করার আদেশ দেয়া হলো।তুষার পৌছানোর পরও বুড়িটার হৃদস্পন্দন সচল ছিলো!তারপর??এ্যাশ আলবার্টের বুকে ছয় নাম্বার বুলেট টা সেদিন তুষারের রিভলবার থেকেই বের হয়।এ্যাশ আলবার্টের নিঃশ্বাস টা চিরতরে বন্ধ করে দিলো তুষার। শীট!নো!নো!
“Spider gangster The cool bi*tch Tushar Taiwan!”
❝হি ইজ অ্যা মার্ডারার অফ এ্যাশ আলবার্ট!❞
শুনেছিস? এই দুনিয়াতে মায়া-দয়া আর ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই! ভালো মানুষদের তো আরও আগেই জায়গা হয় না এই দুনিয়ায়।হাঙরের পেটের বাচ্চারা যেমন একে অপরকে খেয়ে ফেলে।মা সাপ যেমন ক্ষুধার তাড়নায় নিজেদের ডিম ভ*ক্ষণ করতে পারে তেমনি এই দুনিয়ায় শক্তিশালী মানুষরাও দুর্বলদের পিষে মারে নির্দ্বিধায়।আমি ক্যাটরিনা ক্ল্যান জীবনের প্রথম নিজের মায়ের র*ক্তে গাঁ ভিজানোর পর থেকে রক্তের তীব্র ঘ্রাণ নেশা হয়ে উঠেছে আমার।
রোজের বক্ষঃস্থলের ভেতরটা এবার সত্যিই গুলিয়ে উঠলো। প্রবল ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলো। কানে তখন সমুদ্রের প্রলয়ংকরী গর্জনের চেয়েও ক্যাটরিনার বলা তিক্ত কথাগুলো ভয়ঙ্কর হয়ে বাজতে লাগলো।তাও নিজেকে বিন্দু পরিমাণ দূর্বল প্রমাণ করলো না রোজ,বুঝতে দিলো না বক্ষঃস্হল টা ঝলসে যাচ্ছে।স্হির হয়ে শুধু দানবীকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো।টলটলায় মান অক্ষীদ্বয়ে জানার আগ্রহের প্রকাশ ঘটালো রোজ।
—তাহলে আপনি আমাকে আগে থেকে চিনতেন??নিউ ইয়ার এ আইল্যান্ডে যাওয়ার আগ থেকে??
ক্যাটরিনার নির্বিকার চিত্তে এক শব্দে বলা প্রতিউত্তরে আচানক হতবিহ্বল হয়ে পড়লো রমণী।
—না!
পরমুহূর্তেই রোজ অক্ষীদ্বয় কড়াক করে তাকালো ধ্বংসশ্রী ক্যাটরিনার পানে যার ওষ্ঠাধরে তখনো কুটিল হাসির জোয়ার।রোজ অত্যন্ত শান্ত মস্তিষ্কে খানিক চেয়ে রইলো সেই পানে।বিশ্বাস করে নিলো সমস্ত কথা।কেননা এতোক্ষণ যাবৎ ক্যাটরিনার সমস্ত বয়ানগুলো একত্রিগুচ্ছ করে বুঝতে সক্ষম হলো এগুলো সমস্ত ঘটনার মূলভাবমাত্র।যেগুলো ক্যাট নিজেই কোনো না কোনোভাবে জেনেছে।মাফিয়াদের অন্তঃকোণে হওয়া পরিকল্পনা কি করে অন্য একজন মাফিয়া এতো নির্বিকচিত্তে সহজ ব্যখ্যা দিতে পারে???তা বুঝতে সক্ষম হলো না বোকা-সাহসীনি।
ততক্ষণাৎ কয়েক জোড়া বুট জুতোর আগমনে দুই নারীর কথোপকথনে ব্যঘাত ঘটলো!দু’জন কালো পোশাকধারী স্নাইপার এসে ক্যটরিনার হাতে একটা দূরবীন দিলো।আচানক দূরবীন দেখে ক্যাটরিনার ব্রুযুগল কুচকে উঠলেও পরক্ষণেই করাঘাত ঘটলো তার মস্তিষ্কের। সঙ্গে সঙ্গেই ক্যটরিনা বড় বড় পদাঘাতে কক্ষের বাহিরে ছুটলো।সুযোগটা কাজে লাগালো রোজ!গার্ডদের চোখের পলকে ডানে বামে চোখ ঘুরিয়ে একটা ওয়াইনের বোতল তুলে নিয়ে দ্রুত পিছনে লুকিয়ে নিলো।অতঃপর দেয়াল ঘেষে দাঁড়িয়ে রইলো।কক্ষের বাহিরে রেলিং এর পার্শ্ববর্তী হয়ে দাঁড়িয়ে দূরবীনে চোখ রাখলো ক্যাট।দেখলো কয়েকমাইল দূরবর্তী প্রান্তে একটা স্পিড বুট লাইটহাউস সীমানা ঘেঁষেই এগিয়ে আসছে।তার আরও পিছনে আরও কয়েকটা আকাশযান, নৌযান আসছে।মুহূর্তেই ধ্বংসশ্রী দূরবীনটা তিব্র তান্ডবের সহিত আচড়ে ফেলে ভেঙে গুঁড়ো করে দিলো।দু’হাতে চুল টেনে ধরে শীৎকার দিয়ে উঠলো।বক্ষঃস্থল তিব্র বেগে উঠানামা করতেই ক্ষোভের তাড়নায় নিজের পাশবিক রূপ নিয়ে কক্ষের দিকে হনহনে ছুটলো।
পিছনে দু’জন দেহরক্ষী বলে উঠলো।
—“মন্সটারকে আটকানোর সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করছি আমরা!আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন ম্যাম।
বাক্যেউক্তি যার মুখগহ্বর থেকে বের হলো তার গালে এক তিব্র ঘুষি প্রয়োগ করলো ক্যাটরিনা।
—আমি কিছু বলেছি তোমাদের??হি ইজ মাই কিং!মাই মনস্টার লাভার!মন্সটার কিং হি ইজ!তাকে আটকানোর ক্ষমতা তোমাদের দিয়েছি আমি??গায়ে হাত দেয়া তো দূরের কথা! আসতে দাও!
—কিন্তুু ম্যাম উনি আমাদের মে*রে দিবে।হি ইজ অ্যা ডেঞ্জারাস ডে’মন ম্যান!একাই…..
—মে*রে দিলে দিবে!…..ক্যাটরিনার স্নাইপার’স রা মৃ*ত্যু ভয় পায়??রিক কে বাদে বাকিদের হ্যান্ডল করবে ব্যাস।নাহলে তোমাদের মৃত্যু আমার হাতে নিশ্চিত!
হিংস্র দানবী হনহনিয়ে রোজের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।যেনো বক্ষঃস্থলের সমস্ত ক্ষোভ রোজের উপর মিটাবে।হঠাৎ ক্যাটরিনার এমন হিংস্রতা দেখে রোজ হাতের পিছনে থাকা ওয়াইনের বোতলটা শক্ত করে চেপে ধরলো! ক্যাটরিনা এসেই খপ করে রোজের শাড়ি টেনে খোলার প্রয়াস ঘটালো,আঁতকে উঠলো রোজ।দু’জন কালো পোশাকধারী দেহরক্ষীকে দেখে গলা শুকিয়ে কাঠ কাঠ হয়ে গেলো।বক্ষঃস্থল মুচড়ে উঠলো। একজন নারীর পেট থেকে বের হওয়া নারী অন্য এক নারীর ইজ্জত ধুলোয় মেশানোর এতো নোংরা পরিকল্পনা ভেবেই উচ্চশব্দে শীৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলো রমণী।রোজ যতই নিজেকে বাঁচানোর প্রয়াসে দেয়াল ঘেষে ঘুটাতে লাগলো।হিংস্র মানবী ততোই জোর খাটালো।খোদার নাম জপতে লাগলো রোজ!ক্যাটরিনার ধারালো নখের আঁচড় পড়ে গিয়েছে রোজের বুঁকে এক হাতে আঁকড়ে ধরা শাড়ির আঁচল সর্বাঙ্গ থেকে খসে পড়ার আগেই অপর হাতে থাকা ম*দের বোতলাই দিয়ে সজরে আঘাত করলো ক্যাটরিনার মাথায়।আচানক এমন কান্ডে ক্যাটরিনা ছিটকে পড়লো।গলগল করে তা*জা রক্ত গড়াতে লাগল মাথা বেয়ে।তাও একবিন্দু অব্দি ক্ষিপ্রতা কমলো না পিশাচীনি!রোজ ক্রন্দনরত অবস্থায় শীৎকার দিয়ে থুথু ছুঁড়ে মারলো –
—জা*লিম এর বাচ্চা!পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য নারী তুই!থুহহহ!পরকালে জাহান্নামের দরজাও বন্ধ হয়ে যাবে তোকে দেখলে।জাহান্নামেও ঠাঁই মিলবে না তোর।কু*কু*র!থুহহ!
ক্যাটরিনা যেনো আরও পৈশাচিক তৃপ্তি পেলো।ততক্ষণে পিশাচীনির রূপ সর্বঘাতক হয়ে ফুটে উঠেছে মুখাবয়বে।হাতে থাকা র*ক্ত খানিক জিভ দিয়ে চেটে পিছনের দু’জন দেহরক্ষীকে বিকৃত ইশারা করলো।
—আচ্ছা! জাহান্নামে স্বাদ তোকে আমি এখনি পাওয়াবো!যেনো রিকের চোখের সামনে তোর সুন্দর শরীরের বি*ভৎস রূপ বাদে আর কিছু অবশিষ্ট না থাকে।তোর শরীরটা খু*বলে খাওয়াবো আমার পুষা কু*কু*র ছানাদের দিয়ে!
ক্যাটরিনার বিকৃত দ্বিতীয় ইশারায় মৃ*ত এলজার লাশটার দিকে বিকৃত কামনায় এগিয়ে গেলো লাশটার দিকে।ক্যাটরিনা পৈশাচিক উৎফুল্লতা হেসে ঘাড় কাত করে রোজের দিকে তাকালো।
—-নে আগে লাইভ ফুটেজ দেখ!দেখ তোর সাথেও এমনটাই হবে!
রোজের সর্বাঙ্গ হাড়কাঁপুনিতে কেঁপে উঠলো তখন যখন একটা মৃ*ত লাশকে সম্পূর্ণ ন*গ্ন করা হলো।ছটফটিয়ে উঠলো রমণীর আত্মা! গগনবিদারী এক শীৎকার দিয়ে রোজ ক্ষিপ্রতায় মেঝেতে পড়ে থাকা বন্দুকটা তোলার প্রয়াস ঘটাতে নিলে ক্যাটরিনা তড়িৎ গতিতে ল্যং মেরে ফেলে দেয় রোজকে।সজোরে চেপে ধরে মসৃণ গ্রিবাদেশ।শয়তানি হাসি হেসে রোজের পিছনে দাড়িয়ে এক হাতে দু’হাতে উল্টো করে পিঠে চেপে ধরে অপর হাতে চোয়াল শক্ত করে ধরলো মেয়েটার।হাহাকার মিশ্রিত এক তিব্র নিঃস্বাস ত্যাগ করলো রোজ।বক্ষঃস্থল থেকে গন্ডস্থল সম্পূর্ণ সুষ্ক কাষ্ঠতে পরিণত হলো কি ভয়ানক বি*ভৎস দৃশ্য ফুটে উঠলো।
একটা মৃত দেহও ছাড় পেলো না।দু’জন নর মিলে একটা মৃত দেহ খুব*লে খেতে লাগলো।যেনো পৃথিবীটাই জাহান্নামে পরিণত হয়েছে।নিঃস্বাসটাই বন্ধ হয়ে এলো রোজের।এমন দৃশ্য না দেখার প্রয়াসে অক্ষীপল বন্ধ করে রাখলো।আসাড় হয়ে বরফ খন্ডের ন্যায় জমে উঠলো পুরো সর্বাঙ্গ রমণীর।ক্যাটরিনা তো এটাই চেয়েছিলো রোজ নেতিয়ে পড়ুক।ধপ্ করে নেতিয়ে পড়ে বসে পড়লো ফ্লোরে রোজ।ক্যাটরিনা ছেড়ে দিলো রোজকে।দেয়ালে মাথা হেলিয়ে অঝরে কেঁদে উঠলো রোজ।সৃষ্টিকর্তার কাছে স্বাভাবিক মৃ*ত্যু প্রার্থনা করে মৃ*ত্যুভি*ক্ষা চাইলো।
হিংস্রতার সর্বোচ্চ পর্যায় গিয়ে ক্যাটরিনা ইউভানের উপর জমা ক্ষোভ প্রথম মৃ*ত নারীদেহের উপর দেখালো।নারী হয়ে ভয়ানক বিভৎস*তায় মেখে এলজার ন*গ্ন দেহের নারীজ*নেন্দ্রীতে একটা ধারালো ছুঁড়ি পরপর কয়েকবার ঢুকিয়ে বের করলো।সেই অংশ থেকে গলগলিয়ে র*ক্ত ছিটকে পড়লো।একটাবার হাত অব্ধি কাঁপলো না এই পিশাচীনির!বক্ষঃস্থলের অংশবিশেষ কেঁটে চৌচির করলো।শয়তানও যেনো এই মুহূর্তে এই দানবীর র*ক্তে লা*ঞ্চি*ত মুখাবয়ব দেখলে শিউরে উঠবে!মৃ*ত দেহে ধ/র্ষ/ণ কার্য চালানো দুই নরের ঘর্মাক্ত পুরুষালী দেহ দেখে পৈশাচিক তৃপ্তি পেলো ক্যাটরিনা!যার মূল উদেশ্যই ছিলো রোজকে মানুষিক বিকারগ্রস্থ করে দেয়া।হলোও তাই চোখের সামনে এমন বিভ*ৎস*তার ভার সামলাতে না পেরে কোমল পাপড়ির ন্যায় শুকিয়ে কাঠ কাঠ হয়ে গেলো রোজের গন্ডঃস্থল।ক্যাটরিনার ইশারায় বি*কৃ*ত লা*ল*সায় আসক্ত দু’জন কাপুরুষ হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো বেসামাল হয়ে বসে থাকা রোজের পানে।একজন এসেই রমণীর শাড়ির আঁচলে হাত বাড়াতেই রোজ ক্ষিপ্রতায় সরে যেতে নিলে ব্লাউজের হাতার অংশ ছিঁড়ে উন্মুক্ত হয়ে যায় ফর্সা গড়ণের লাবন্যময় হাত।রোজের হাহাকার মিশ্রীত কন্ঠ বলে উঠলো।”ইয়া আল্লাহ!সেইভ মি!”
মুহূর্তেই কক্ষে উপস্থিত সর্বমানব মানবী টের পেলো লাউটহাউজের চারিপাশে তান্ডবীয় বায়ুপ্রবাহের লীলাখেলা শুরু হয়ে গিয়েছে।সাত আসমানে যেমন তিমিরে ঢাকা অন্ধকারে মাঝে মেঘেদের প্রলয়াগর্জন,সমুদ্রের ভয়ঙ্করী ঢেউ এর আঘাত তেমনি পুরো লাইটহাউজ ঘিরে কোনো এক প্র*ল*য়কারীর বিধ্বংসী সত্তার আগমনে পুরো লাইটহাউজ হাড়কাঁপুনি কেঁপে উঠেছে।যেনো সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং এক অসহায়ত্বে সহিত ইজ্জতের প্রানভিক্ষা চাওয়া নারীর জন্যে সেই বিধ্বংসী আত্মার মানবকে তার মানবীর জন্যে পাঠিয়েছেন।যার তা*ন্ড*বীয় লী*লা*খেলা ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্কর রূপ প্রতিসেকেন্ডে বৃদ্ধি লাভ করে।
প্রত্যেকে মনোযোগ চ্যুত হতেই রোজ দুই কাপুরুষের মুখে থুথু ছুঁড়ে একজনের বক্ষঃস্থলে সমস্ত নারী শক্তি দিয়ে লাথি মেরে নিজ রক্ষার পয়াসে ছুটলো।তবে দৌড়ানোর সক্ষমতাও যে লোপ পেয়েছে বিষাদিনী। মূহূর্তেই ক্যাটরিনা দুজন দেহরক্ষীর উপর হুঙ্কার দিয়ে উঠলো।
—ফা*কিং ব্লাডি বিস্টের দল ধর স্লা*টার টাকে!ফাস্ট
কাঁচে থাইডোর এর সন্নিকটে যেতেই পাঁয়ের উপর কারোর হাতের হ্যাচকা টানে পুরো শরীর লুটিয়ে পড়লো রোজের।অসহ্য ব্যথায় কাতরিয়ে উঠলো সে।মৃত্যু যন্ত্রণা যেনো সর্বস্তর থেকে আঁকড়ে ধরে ফেলেছে এই অষ্টাদশী রমণীকে।এদিকে ক্যাটরিনার ওয়াকিটকিতে শুনা গেলো শোরগোল!নিচে মনস্টার বিচ একাই প্রলয়ঘটিয়ে আসছে।
মনস্টার! হি ইজ কামিং!
ক্যাটরিনা শুধু হাসলো।সেই হাসির মানে বুঝার সক্ষমতা যেনো কারোর নেই।দু’জন দেহরক্ষীই রোজের অত্যধিক সৌন্দর্যে মোহভুক্ত হয়ে ধ্যান জ্ঞান হারিয়ে বসেছে।রমণীকে খু*বলে খাওয়ার তাগিদে শাড়ির আঁচল ধরে টান মারলো।মুহূর্তেই রোজ পৃথিবীর সর্বক্ল্যাশ মিশিয়ে আত্ম চিৎকারে মৃদু গোঙিয়ে ভেজা লাল লাল চোখের পাতা বন্ধ করে নিলো।নেত্রপল্লবের সামনে ভেসে উঠলো পাষন্ড পুরুষের মুখাবয়ব! তার বলা ক্ষিপ্রবাণীগুলো।
—আ…আপনি তো বলেছিলেন আপনি একমাত্র পশু যাকে ব্যতিত আমাকে স্পর্শ করার সাহস পৃথিবীতে আর কারোর নেই!আপনি আপনার বান্দীর শরীরে অন্য কারোর বিকৃত স্পর্শ কখনোই পড়তে দিবেন না।বলেছিলেন তো!এ…এখন কই গেলো আপনার সেই ধ্বংসাত্মক বানী!
আপনি তো একটা নাটকবাজ!মিথ্যাবাদী,পাষাণ,একটা কাপুরুষ।আমি ঘৃণা করি আপনাকে।ঘৃ…..
মুহূর্তেই সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠলো রমণীর,অনবরত একাধিক গুলির শব্দে কর্ণকুহর ফেঁটে যাওয়ার ন্যায়।বক্ষঃস্থলের ভেতরটা অনুভব করলো কেউ একজন তার মাথার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।ভারী কালো বুটজুতো গুলো অনুসরণ করে রোজের অক্ষীদ্বয় উপরের দিকে প্রসারিত হতেই অন্তরাত্মা শিউরে উঠলো ।এতোক্ষণ যাবৎ আঁটকে রাখা নিঃশ্বাস ছেড়ে দিয়ে উচ্চশব্দে কেঁদে উঠলো।যেনো এই একটা মানবের অপেক্ষাতেই ছিলো রোজ!জোরে জোরে হাঁপাতে লাগলো মেয়েটা।মেঝেতে হাত ভর দিয়ে ঠুকরে কেঁদে উঠলো।পরক্ষণেই ধাতব রাইফেল থেকে অনবরত বের হওয়া গুলি গুলো কারোর মস্তিষ্কের ভিতর যেনো ঢুকে পড়ছে।হলোও তাই এক থাবলা র*ক্ত ছিটকে এসে পরলো রোজের ছেড়া ব্লাউজে উঁকি দেয়া উ*ন্মু*ক্ত পিঠে।ক্যাটরিনা ব্যতিত দু’জন দেহরক্ষীর শরীরের দশ-বারোটা বুলেট বিঁধে গিয়েছে।দু-চোখের মণি ভেদ করে হাতের তালু পর্যন্ত বাদ যায় নি।ক্যাটরিনার ঠাঁই দৃষ্টি তখনো সামনে থাকা হিংস্র পশুর মতো ফুঁসতে থাকা মুখাবয়বের দিকে যার অগ্নি ধূসর অক্ষীপলে আগুনের শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে।ক্যাট নিষ্পলক চাহনিতে হাসলো।যখন দেখলো………
এক আত্ম*ঘাতী বি*ধ্বংসী মানবের মধ্যে একনাগাড়ে দুটো সত্তার প্রতিফলন! চেনা যন্ত্রমানবের এক ভিন্ন রূপ!যার দূর্বলতা আজ সচক্ষে দেখেই নিলো।
কেননা রোজ পুনঃরায় অনুভব করলো তার সামনে আকস্মাৎ একটা সুউচ্চ পেশীবহুল পুরুষালী দেহ হাঁটু মোড়ে বসে পড়েছে।রোজ টলটলয় মান অক্ষীদ্বয় মেলে তাকাতেই দেখলো একজোড়া ধূসর অক্ষীপল তার দিকেই নিবন্ধিত।দু’জোড়া নয়নের মিলন ঘটতেই রুহ সাংঘাতিক ভাবে কেঁপে উঠলো রোজের। ইউভানের ভয়ঙ্কর অক্ষীদ্বয় পরপর দেখতে লাগলো রোজের হাতে গলার ক্ষতগুলো।পাষন্ড পুরুষটার বক্ষঃস্থল কম্পিত হলো।অগোছালো শাড়ি ছেঁড়া ব্লাউজের অংশে দৃষ্টি নিবন্ধিত হতেই সার্প চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।শরীর থেকে শার্ট খোলে ঢেকে দিলো রোজের পিঠ।
মাফিয়া বস তিব্র ব্যথিতে আঁকড়ে ধরলো তার প্রাণেশ্বরী রোজের সর্বাঙ্গ।যান্ত্রিকতা ভেদ করা বক্ষঃস্থলে ঠাঁই মিলতেই রমণীর সর্বাঙ্গ ঝিমিয়ে উঠলো।রোজের মুখশ্রী ইউভানের লোমহীন বক্ষঃস্থলের স্পর্শ অনুভব করতেই উচ্চশব্দে কেঁদে মৃদু গোঙানিস্বরে শীৎকার দিলো মেয়েটা।
—ক…কি হাল করে দিয়েছেন আপনি আমার!দেখুন!সব কিছু আপনার পাপের ফল!ইউ্য আর অ্য লুজার ইউভান!শুনতে পেয়েছেন? মাফিয়া মনস্টার অ্য লুজার ম্যান।
নিজ হাতে মেরে ফেলুন আমায়!মেরে ফেলুন! মারুন বলছি!
ইশশ!যদি সত্যিই এই মাফিয়া মনস্টারটার তার ডার্করোজকে মেরে ফেলার সাধ্য হতো!যদি মেরে ফেলা-রি হতো তাহলে এতোদূর কেনো ছুটে এলো এই পাষন্ড মনস্টার??কিভাবে বুঝাবে?? বক্ষঃস্থল কম্পিত হলেও মুখ ফুটলো না।ক্ষিপ্র হয়ে আরও আষ্টেপৃষ্টে পিষে ধরলো রোজকে।যেনো এখনি আত্মার সাথে মিশিয়ে নিবে।
–বান্দীর মেয়ে! রিক আলবার্টের বিষধারীনি!এতো টানিস কেনো??হুয়াই ফা*কিং ডার্ক?হুয়াই আই অ্যাম ডেঞ্জারাস’লি মেড ফর ই্যউ??কি আছে তোর মাঝে??হুয়াই মাই হার্ট অনলি বিট ফর ই্যউ??
ইউভান শক্ত থাবায় ধরলো রমণীর নরম হাতখানা।অপ্রত্যাশিতভাবে রোজের হাতটা নিজ বক্ষঃস্থলে চেপে ধরলো। হৃদস্পন্দনের এতো তিব্র কম্পনে সর্বাঙ্গ শিউরে উঠলো রমণীর।আত্মা কেঁপে উঠলো।হাতটা সরানোর প্রয়াস ঘটিয়েও ব্যর্থ হলো রোজ।ইউভান ওষ্ঠাধর ছুঁয়ালো রোজের মাথায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় পরপর দু’টো চুম্বন পড়লো একই স্থানে।রোজ ইউভানের পিঠ আঁকড়ে ধরতে গিয়ে ধরলো না।ছটফটিয়ে উঠলো।
—দূরে সরুন!দূরে!অসহ্য লাগে!
—দূরে যেতে বলছিস??কোনো লাভ হবে??যত দূরে যেতে বলবি ততো কাছে আসবো।কাছে যেতে বলবি তো আত্মার সাথে মিশে যাবো।তোর সৃষ্টিকর্তা ব্যতিত তোকে আমার থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না!ইহজন্মেও মুক্তি পাবিনা আমার থেকে।স্বয়ং ইউভান রিক আলবার্টের মৃ*ত্যুতেও তোর মুক্তি নপই।বান্দীর বাচ্চা আমি ম*রলেও তোকে মে*রেই মরবো।
—হে হে মে*রে ফেলুন!ঘেন্না হচ্ছে আমার! আপনি ভীষণ স্বার্থপর লোক!
—হুম!পৃথিবীর কারোর সাধ্য আছে এই বুকে ছুঁড়ি চালানোর??এই যে এতো আঘাত সহ্য করে নিলাম পিঠে।শুধু তুই তৃপ্তি পাবি বলে!পেলি না কেনো??
রমণীর নাক টানার শব্দে ভ্রুযুগল কুঁচকে উঠলো ইউভানের।বক্ষঃস্থল অশ্রু তে ভিজে উঠেছে।
—আ..আপনি শুধু ব্যবহার করে গিয়েছেন আমায়!নিজের ইচ্ছেমতো!এতো কিছুর পরও আমি আপনার তরে আশ্রয় খোঁজে মরি!এতো জঘন্যতা সহ্য হচ্ছে না আর।নিজের প্রতি আমি নিজেই অন্যায় করে চলেছি প্রতিনিয়ত!
শ্বাসভারী হয়ে উঠেছে রমণীর।যেনো নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে যাবে।ইউভান চেপে ধরলো রোজের গ্রিবাদেশ।মৃদু ব্যথায় গোঙিয়ে উঠলো রমণী।আক্রোশ মিশিয়ে মাফিয়া মনস্টার হুঙ্কার দিলো।সংক্ষিপ্ত স্বীকারোক্তী
—হ্যাঁ করেছি ব্যবহার!তুইও স্বীকার করে নে তুই যে একটা সর্বনাশী! লক্ষ্যভ্রষ্ঠ করেছিস আমার।এতো পীড়াদায়ক কেন তুই??তুই কি করে বুঝবি এই সর্বনাশী!যে আমার অন্তরটা পুড়ে যায় আফসোস হয় শুধুমাত্র তোর প্রতি মায়া অনুভব তৈরি হওয়ার আফসোস!
কথাগুলো তীরের গতিতে খানখান করে ঢুকলো রমণীর বক্ষঃস্থলে!রোজ নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ইউভানের বক্ষঃস্থলে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করলো, যেনো এহন স্পর্শ থেকে সে মুক্তি চায়। কিন্তু ইউভান রোজকে আরও শক্ত করে নিজের দেহের সাথে পিষে ধরলো যেনো দুই ভিন্ন সত্তা আজ এক মহাপ্রলয়ের মাঝে বিলীন হয়ে যেতে চাইছে।রোজ নিশ্চুপ রইলো।
—এই বান্দীর বাচ্চা কথা বলছিস না কেনো???গালি দে,অভিশাপ দে,যত ইচ্ছা বকা দে।তোর তো জন্মই হ’য়েছে আমাকে পুড়িয়ে মারতে।
রোজ থেকে কোনো প্রকার প্রতিউত্তর না পেয়ে ইউভান এক খাবলায় রোজের দু’গাল চেপে ধরলো।কন্ঠস্বর যেনো ভার হয়ে নিঃশ্বাস ঘন হয়ে উঠলো মাফিয়া বসের।এদিকে নৌযান আকাশযানগুলো সিগন্যাল অনুসরণ করে লাইটহাউজের কাছেই এগিয়ে আসতে লাগলো।আদ্রিয়ানের হেলিকপ্টারও প্রায় লাইটহাউসের সীমানা কাছে চলে এসেছে।অন্ধকার আকাশজুড়ে টিমটিম লাল নীল আলোর ঝলকানি।বায়ুর বেগ আরও তিব্র হতে লাগলো।যেনো প্রলয়ের সূচনা লগ্নে আকাশ পাতাল নিমজ্জিত। ইউভান চুমু খেলো রমণীর ললাটে।রোজের গা গুলিয়ে উঠলো। কর্নকুহর মুখাবয়ব নীলচে হয়ে এসেছে।সর্বাঙ্গ গুলিয়ে উঠতেই নিভৃত কন্ঠে মৃদু চিৎকার দিলো বিষাদীনি।
—আ..আপনার গাঁ থেকে কি যে বিশ্রী ড্রা*গের গন্ধ আসছে।বমি চলে আসছে আমার।একটু দয়া ধরুন আমার উপর।
মুহূর্তের মাঝেই কক্ষে এক পৈশাচিক অট্টহাসি প্রতিধ্বনিত হলো।ইউভানের ভয়ানক দৃষ্টি পূর্ণ মনোযোগ দিলো ক্যাটরিনার দিকে।রোজের শারীরিক কন্ডিশনও উপেক্ষা করার মতো না।যেকোনো সময় সেন্সলেস হয়ে যেতে পারে।যতদ্রুত সম্ভব রোজকে আগে লাইটহাউজ থেকে বের করা প্রয়োজন।ইউভানের ভিতরের দানবটা যেনো আরও হিংস্রাত্মক হয়ে জেগে ওঠেছে। অক্ষীপলে আগুনের স্ফুটলিঙ্গ দাউদাউ করে জ্বলতেই ইউভান তড়িৎ গতিতে উঠে রোজকে নিজের পিছনে নিয়েই নিশানা করলো ক্যাটরিনার দিকে।
ক্যাটরিনা বন্দুক তাক করলো রোজের দিকে।নরকবাসিনীর এতোক্ষণ যাবৎ তাদের দু’জনকে দেখছিলো।ইউভানের দিকে তাকিয়ে ভয়ঙ্করীহিনতায় স্মিত হাসলো।
—কি অদ্ভুত আবারো প্রমাণ হয়ে গেলো।পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষের কোনো না কোনো দূর্বলতা থাকেই।তোমার দূর্বলতা রোজ।আর আমার দূর্বলতা তুমি রিক।
পরের ক্ষণেই একটা বজ্রাঘাতের মতো শব্দ! ক্যাটরিনার বন্দুক থেকে ছুটে এলো গুলি, সোজা রোজের দিকে।
কিন্তু সেই গুলির পথরেখা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই আরেকটা গুলি ছুটে এলো বিপরীত দিক থেকে।ইউভানের এ কে ফোর সেভেন থেকে।ক্যাটরিনা গুলি দিক ভ্রষ্ঠ হলো।আর ইউভানের নিশাচরে ক্যাটরিনার হাত থেকে বন্দুকটা ছিটকে পড়ে গেলো।
ক্যাটরিনা এক অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় পাশ কাটিয়ে গেলো সর্বাঙ্গ যেনো সাপের মতো মোচড় দিয়ে বেরিয়ে এলো মৃত্যুর ছোবল থেকে। এক লাফে ছুটে গেলো কন্ট্রোল প্যানেলে দিকে।
এক পলকের জন্যও দৃষ্টি সরালো না ইউভানের দিক থেকে।
আঙুলগুলো একের পর এক সুইচে চাপ দিতে লাগলো, লাল আর হলুদ আলো টিমটিম করে জ্বলে উঠলো চারপাশে,
ক্যাটরিনা মাথা কাত করে তাকালো ইউভানের দিকে, এতো কিছুর পরও নেত্রপল্লবের গভীরে ইউভানের প্রতি দখলদারিত্ব এক বিন্দুঅব্দি কমলো না।ক্যাটরিনা জানতো ইউভান ঠিক খোঁজে বের করে নিতে পারবে তাকে।তারপরেও মেতে উঠেছে এ ধ্বংসের খেলায়,যার একটাই নাম হয় লড় নাহলে মরো!তবে ক্যাটরিনা কি করে তার রিককে আঘাত করবে??তবে এতো সহজে অসুস্থ আসক্তি থেকে মুক্তি দিবে না!মুখাবয়বের সামনের চুলগুলো সরিয়ে ক্রোর হাসলো।হুঙ্কারধ্বনিতে কেঁপে উঠলো সর্ব লাইটহাউজ।ভালোবাসার বিকৃত প্রতিধ্বনি, আর অধিকারবোধের ভয়াবহ ঘোষণা।
—–তোমাকে যদি আমি না পাই! এই দুনিয়ায় আর কেউ পাবে না!কেউ না! আমি পেতে দিবো না!মেরে ফেলবো।আই উইল কিল এভরি ওয়ান!
রুদ্রমূর্তিতে ফুঁসতে থাকা ইউভান আর অপেক্ষা করলো না।
এক দমকা ঝড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো সামনে।তার পদক্ষেপে চোখ দুটো তখনও র*ক্তাভ, যেনো দাউদাউ করে জ্বলছে অগ্নিশিখা। এক লহমায় ক্যাটরিনার গলা শক্ত করে চেপে ধরে তাকে দেয়ালে আছড়ে ফেললো।ধাতব শব্দে কেঁপে উঠলো চারপাশ।রোজ ঝাপসা অক্ষীদ্বয়ে দেয়ালে পিঠ ঘেষে দাঁড়িয়ে ইউভানকে দেখার প্রয়াস ঘটালো।কর্ণকুহরে ধাতব শব্দ পড়তেই দু’হাতে কান চেপে ধরলো।
ইউভানের কাঠিন্য আঙুলের চাপ এতটাই নিষ্ঠুর যে ক্যাটরিনার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে এলো, তবুও তার ঠোঁটে উ*ন্মাদ হাসি লেগেই রইলো।যেনো ইউভানের স্পর্শ যেমনি হউক তাতেই তার তৃপ্তি। ইউভান বুঝতে পারলো ক্যাটরিনা ম্যান্টালি প্যারালাল এর মধ্যে আছে।ইউভানের সিংহের ন্যায় গর্জে উঠলো, যেনো ন*র*কের গভীর থেকে উঠে আসা কোনো অভিশাপধ্বনি।
—তুই পস্তাবি, ক্যাট! তুই…তুই পস্তাবি! এমন মৃ*ত্যু উপহার দিবো তোকে যা মৃ*ত্যু*র চেয়েও ভয়ংকর।
ক্যাটরিনার ভয়ানক ফক্সি নেত্রপল্লবে ঘোলাটে হয়ে উঠলো।অদ্ভুতভাবে, অপ্রত্যাশিতভাবে।যেনো অশ্রু জমে উঠেছে। ইউভানের মুখে নিজের নামের সংক্ষিপ্ত উচ্চারণেও যেনো তৃপ্তি পেলো।বক্ষঃস্থল যেনো আরও উ*ন্মাদ হয়ে উঠলো।ইউভানের হাতের চাপে ওষ্ঠাধর বেয়ে র*ক্ত গড়িয়ে পড়লো।অথচ তাও ইউভানকে আঘাত করার প্রয়াস দেখালো না।ছুঁয়ে দিলো ইউভানের গাল।শান্তি লাগছে।ভীষণ রকমের শান্তি। দু-চোখ ভরে দেখতে লাগলো।
—নাটক কেনো করলে রিক??আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম।বিয়ের নাটক করার কি প্রয়োজন ছিলো??রোজকে পেতে??
—তুই জানতিস না রিকের জিনিসে হাত দেয়ার পরিণাম কতোটা ভয়ানক হতে পারে??তুই কি করলি??সোজা রিকের কলিজা ছিঁড়ার আয়োজন করে বসলি??হুয়াই?বোকার মতো কাজ করার আগে দশবার ভাবার উচিৎ ছিলো!
—ই্যউ আর রাইট! নিজের জিনিস অন্যের হতে দেখার সহনশক্তি এই দুনিয়ায় কারোর নেই।তাহলে আমি কি করে মেনে নিতাম।টেল মি রিক।কি করে??এতো বছরের গড়ে উঠা আসক্তি নিঃশব্দে শেষ করে দিতাম এটা জানার পর যে আমাদের আইল্যান্ডে তুমি এই মেয়েকে বিয়ে করে স্বীকৃত দিবে???বলো??
—জোর করে কোনো কিছু পাওয়া যায় না!
ক্যাটরিনা অঁধর কামড়িয়ে উচ্চশব্দে শীৎকার দিয়ে হাসলো।
—তাই??
পুনঃরায় হাসলো।
—তুমি যা করছো তা জোরখাটানো নয়??ওই মেয়ে না ভালোবাসে তোমায় আর না থাকতে চায়।স্রেফ ঘৃণা করে জানার পরও জোর খাটাচ্ছো।তার বেলায় কি রিক??উত্তর দাও।আমার উত্তর চাই।
—নো নিড!প্রয়োজন নেই তার ভালোবাসার আমার!শুনতে পেয়েছিস!কান খোলে শোনে রাখ! আই অলসো মেড ফর হার হে’ইট!হার এভরিথিং!
ক্যাটরিনার কর্ণকুহর আর সহ্য করতে পারলো না এলোপাতাড়ি ইউভানের উ*ন্মুক্ত বুক স্পর্শ করতে লাগলো।এক বিকট শক্তিতে ইউভান ক্যাটরিনাকে দেয়াল থেকে সজোরে ছুঁড়ে ফেললো মেঝের ওপর।মাথা আঘাত করতেই ফেটে গেলো কপাল, তাজা র*ক্ত ছিটকে পড়লো চারদিকে। লাল রঙ ছড়িয়ে পড়লো ঠান্ডা পাথরের মেঝেতে, যেনো মৃত্যুর আগমনী সুর লিখে দিচ্ছে!কিন্তুু মৃ*ত্যু যেনো মৃ*ত্যুকে ভয় পাচ্ছে আজ!রোজ দুপাঁ পিছিয়ে যেতেই কক্ষের বাহিরে পাঁ চলে গেলো তার।মুখে হাত দিয়ে কাঁদতে লাগলো।কি চায় এই ভয়ঙ্কর মানুষটা সে নিজে জানে??মিথ্যাবাদী একটা!বক্ষঃস্থলে তিব্র দহন শুরু হলো মেয়েটার।চিৎকার করে ইউভানকে ডাকতে চেয়েও পারলো না।
এদিকে পুরো লাইটহাউজের আকাশজুরে ঘেরাও করে ফেলেছে লায়ন টিমের কয়েকটা হেলিকপ্টার। ক্রোজশীপ এর ভিতর থেকে তুষার মরিয়া হয়ে ইউভানের সাথে বারবার সিগন্যাল কানেক্ট করতে চাইলো। তবে নেটওয়ার্ক ডেড দেখালো।এদিকে আর চারপাশে সাইরেনের শব্দ, ঝলসে ওঠা আলো, আর আসন্ন প্রলয়ের ছায়া ক্রমশ ঘনিয়ে আসতে লাগলো।চারদিকের গুমোট নিস্তব্ধতা চিরে দিয়ে মুহূর্তেই শুরু হলো এক প্র*ল*য়ংকারী তাণ্ডব।
রেলিংয়ের কার্নিশে হেলিকপ্টার প্রপেলারের তীব্র বাতাসে রোজের শরীর নড়ে উঠলো,শাড়ি অবিন্যস্ত হয়ে ওড়তে লাগলো। রোজ ফিরে তাকাতেই দেখলো ড্রাইভিং সিটে বসে আছে আদ্রিয়ান! ঠিক সেই মুহূর্তে লাইটহাউসের ভেতরে থাকা কন্ট্রোল প্যানেলের সুইচগুলো বিকট শব্দে ফাটতে শুরু করলো। বৈদ্যুতিক তারগুলো থেকে আগুনের ফুলকি ছিটকে বের হয়ে পুরো কক্ষে লকলকিয়ে উঠতে লাগলো আগুনের শিখা। মাঝসমুদ্রের একর ভূমির ওপর অবস্থিত লাইটহাউসে এক প্রচণ্ড ভূকম্পনে দুলে উঠলো। বোম ব্লাস্টের তীব্রতায় ফাটলো ধরলো প্রাচীন দেওয়ালে। ক্যাটরিনা সেই অর্ধশায়ী অবস্থায় অস্বাভাবিকতায় উ*ন্মত্তের মতো হাসতে লাগলো।
তুষার তখন ক্রুজশিপের ছাদ থেকে দৌড়ে হেলিকপ্টারের দিকে ছুটছে। সিগন্যাল কানেক্ট হতেই চিৎকার করে উঠলো।
—রিক, আর ইউ ওকে না? আসছি আমি! সেভ হার অ্যান্ড ইওরসেলফ, ওকে?___ওপাশ থেকে ইউভানের গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো
—ডোন্ট কাম তাই! যেখানে আছিস সেখানেই থাক!
—নো, আই অ্যাম কামিং! ডোন্ট ওরি! আমার সাথে কানেক্ট থাক!
এদিকে ভূগর্ভস্থর ব্লাস্টের ফলে লাইটহাউসটা যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে পড়তে পারে বুঝে তুষার আরও ক্ষিপ্র হলো। তবে ইউভান কড়া গলায় আদশ ছুঁড়ে দিলো।
—বন্ধু নয়, স্পাইডার লিডার রিক আলবার্টের আদেশ তুষার!লাইটহাউসের ভিতর প্রবেশ করবি না! ডোন্ট ট্রাই টু কাম হেয়ার! ই’টস মাই অর্ডার!
ভেতরের পরিস্থিতি তখন নাগালের বাইরে। ইউভান রোজের দিকে ছুটতে যাবে, ঠিক তখনই মেঝেতে পড়ে থাকা ক্যাটরিনা খপ করে ইউভানের ডান পা জড়িয়ে ধরলো। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও এই নারীর দম্ভ আর তেজ তিলমাত্র কমেনি। কন্ট্রোল প্যানেলের আগুন তখন দানবীয় রূপ নিচ্ছে। ইউভান অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো প্রলয়ংকারী দৃষ্টিতে ক্যাটরিনার দিকে তাকালো। ইউভান রাইফেলে গুলি লোড করতেই আদ্রিয়ান হেলিকপ্টার থেকে লাফিয়ে নেমে এলো।
আদ্রিয়ানকে দেখেই রোজ অচিরেই পিছিয়ে গেলো। আদ্রিয়ানের কণ্ঠস্বর পেতেই ইউভান ফিরে তাকালো সেদিকে। সেই সুযোগে ক্যাটরিনা তার শেষ অস্ত্র চালন করলো।ক্ষিন্ন হাতে রিভলভার আঁকড়ে তুলে সরাসরি রোজের দিকে গুলি ছুড়লো। আদ্রিয়ান এক হ্যাঁচকা টানে রোজকে সরিয়ে দিয়ে বাঁচিয়ে নিলো। পরক্ষণেই লায়ন লিডার সিংহের ন্যায় ক্ষিপ্রতায় পাল্টা গুলি ছুড়লো ক্যাটরিনার দিকে। আদ্রিয়ানের নিশানা করা বুলেটটা সরাসরি বিদ্ধ হলো ক্যাটরিনার বক্ষঃস্থলে। ইউভান হিংস্র দানবের মতো ক্যাটরিনার গলদেশে হাঁটু গেঁড়ে পুরুষালী শক্তির চাপ প্রয়োগ করলো।ক্যাটরিনা অসহ্য যন্ত্রণায় র*ক্তবমি করে উঠলো।এবার শেষ আর প্রথমবারের মতো ক্যাটরিনা ইউভানকে আঘাত করলো!কোমড়ে গোঁজা ছুড়িটা বের করে ঢুকিয়ে দিলো ইউভানের পেটের এক সাইডে।গলগলিয়ে র*ক্ত ঝরতে লাগলো।ইউভান উল্টো হাতে ক্যাটরিনার কব্জি ভেঙ্গে ক্যাটরিনার হাতটাই ক্যাটের পেটে ঢুকিয়ে দিলো ইউভান।ক্যাট তখনও ওষ্ঠাধরে বাঁকা হাসি টেনে বলল-
—তোমাকে আমি পাবো না-তো কেউ পাবে না জান।একসাথে বাঁচতে না পারলেও মরতে তো পারবো!ইতিহাস সাক্ষী হয়ে যাক একজন ভালোবেসে মরেছে তো আরেকজন ভালোবেসে মেরেছে।
উল্টো হাতে ক্যাটরিনার গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো ইউভান।পৃথিবীর সর্বক্ল্যাশ মিশিয়ে হুঙ্কার দিলো মাফিয়া মনস্টার।
—শোনে রাখ!..আকাশ-পাতাল এই ধরণীর প্রতিটা বালুকণা, জলরাশিকে স্বাক্ষী রেখে বলছি ইউভান রিক আলবার্ট তার মৃ*ত্যুর ভাগও নিজের ব্যক্তিগত নারীকে বাদে পরনারীর সাথে ভাগ করে নিতে রাজি না!
পুনঃরায় এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো লাইটহাউস কেঁপে উঠলো। কন্ট্রোল প্যানেলের আগুন এবার অর্ধেক কক্ষজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রোজ,আদ্রিয়ান আর ইউভান, ক্যাটরিনার মাঝে এখন কেবল আগুনের লেলিহান শিখার দেওয়াল। রোজের স্থবির শরীর এবার সজাগ হয়ে উঠলো।অক্ষীদ্বয় বিস্ফোরিত হয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়লো। গন্ডঃস্থল শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো। কোনো কিছুর পরোয়া না করে নেতিয়ে পড়া শরীরটা নিয়ে এবার সত্যিই তার পাষণ্ড পুরুষটার দিকে দৌড়ে যেতে চাইলো। কিন্তু কক্ষের এক-তৃতীয়াংশ তখন আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে। রোজ চিৎকার করে এগিয়ে যেতেই আদ্রিয়ান রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরলো। ইউভান রোজের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো।
—স্টপ রোজান! গো! বান্দীর বাচ্চা, যা এখান থেকে!
—না যাবো না!
—এই জানো*য়ারের বাচ্চা, কু*ক্তার বাচ্চা!আমার মতো পশুর,অমানুষের জন্যে দরদ দেখানোর প্রয়োজন নেই তোর!গো!
রোজ আদ্রিয়ানের কব্জি থেকে মুক্তি পেতে ছটফট করে উঠলো।এতো কিছুর পরও, যেই পুরুষটা দিনের পর দিন শুধু যন্ত্রণাই দিয়ে গেলো সিক্ত দৃষ্টি তখনও সেই রুদ্রমূর্তির দিকে। পাথরের ন্যায় জমে গেলো রোজের সর্বাঙ্গ।
—যাব না! আপনি চলে আসুন ! দয়া করে!
রোজ আদ্রিয়ানের দিকে দৃষ্টি ফেলে করুণ স্বরে আকুতি করলো।
—বাঁচিয়ে নিন লোকটাকে এ্যা’ডশ!আপনাদের তো অনেক ক্ষমতা! দেখছেন না পুড়ে যাবে ! বাঁচান ওনাকে। আমাকে যেতে দিন! মানুষটা ম*রে যাবে!”
আদ্রিয়ান রোজের অশ্রুসিক্ত অক্ষিপল্লবের দিকে তাকিয়ে হৃদয়ে দহন অনুভব করলো।দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া হৃদানুভূতি বহিঃপ্রকাশ না ঘটিয়ে ইউভানের দিকে তাকিয়ে বুঝলো ক্যাটরিনার ওপর চরম আক্রোশ না ঝরানো পর্যন্ত ইউভান আসবে না। আগুন বাড়ছে, আকাশে তখন ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত স্পষ্ট। আদ্রিয়ান রোজের হাত টেনে সরিয়ে আনতে লাগলো।
—চলো রোজ, যেকোনো সময় লাইটহাউস বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে! শুকতারা, বোঝার চেষ্টা করো… তোমার নিরাপত্তা আগে জরুরি!
—আপনি শুনতে পাচ্ছেন না কী বলছি আমি? আমাকে ছাড়ুন! বাঁচান ওনাকে!লোকটার সাথে আমার এখনো অনেক হিসেব বাকি!কোনো কিছু শেষ হতে পারে না!
রোজ ক্রন্দনরত অবস্থায় অনবরত আদ্রিয়ানের ব্লেজারের ওপর আঘাত করতে লাগলো। আদ্রিয়ান হৃদয়ে পাথর চেপে এক হাতে রোজের আঁখিপল্লবের জল মুছে আঁকড়ে ধরে প্রথমবারের মতো এক প্রলয়ংকারী হুঙ্কার দিলো।
—চুপ! কিচ্ছু হবে না! কেন এমন করছো? যাকে পশু বলে আখ্যায়িত করো, তার জন্য এত মায়া শোভা পায় না রোজ! গোটা পৃথিবী কিছুই যায় আসবে না ইউভান ম*রলে!কিন্তু তোমার কিছু হয়ে গেলে ম*রে যাবো আমি! বুঝতে পারছো না!
রোজের পাঁ জমিনে আটকে গেলো মাথা দু’পাশে নাড়িয়ে অনিচ্ছাকৃত আর্তচিৎকার দিয়ে উঠলো।
—পুরো পৃথিবীর কিছু যায় না আসলেও আমার যায় আসে! আমার যায় আসে!ব…..
শরীরের ভারসাম্য আর ধরে রাখতে পারল না রোজ। সর্বাঙ্গ থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে আদ্রিয়ানের বক্ষঃস্থলে এলিয়ে পড়লো। আদ্রিয়ান দ্রুত রোজকে নিয়ে হেলিকপ্টারে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট দিলো। যাওয়ার আগে একবার স্থির হয়ে আগুনের আড়ালের ইউভানের রুদ্র-মূর্তিটি খোঁজার চেষ্টা করলো, কিন্তু ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে সব ঢাকা পড়ে গেছে। আদ্রিয়ান নিজের লায়ন টিমকে সেখানেই অবস্থান করতে বলে রোজকে নিয়ে হেলিকপ্টারে প্রবেশ করলো। ওদিকে তুষারকে হেলিকপ্টার সমেত দেখেই আদ্রিয়ানের অক্ষীপলে অনিচ্ছাকৃত স্বস্তির রেখা ফুটে উঠলো।
পুরো লাইটহাউজে দেয়ালগুলোতে ফাটল সৃষ্টি হলো।ভাঙতে শুরু করলো প্রাচীর!অগ্নিকান্ডের মাঝ থেকেও এক বিধ্বংসী সত্তার অধিকারী পুরুষের কন্ঠস্বরের সাক্ষী হলো লাইটহাউজের দেয়ালগুলো-
দেহের ভিতরের তাজা স্নিগ্ধ গোলাপটাকে বাঁচিয়ে রাখিস রোজমেরি!এই মনস্টার এতো সহজে মরছে না!বেঁচে ফিরবো আর ফিরেই এই পুরো আমিটাকেই তোর নামে লিখে দিবো।
love or hate part 42
এক রক্তিমাভাব অগ্নিকুন্ডের মাঝে আলাদা হয়ে পড়লো দুই ভিন্ন রেখার পথে চলা দুই মানব-মানবি।অচিরেই ভাগ্যে কি লিখা আছে কোনো মহিমান্বিত উত্থান, নাকি অতলান্ত পতন??রাত্রির অন্ধকার শেষে যেমন আবার দিবাসূর্যর আলো উঁকি দেয় নীলাকাশ জুড়ে ঠিক তেমন ভাবে এই আলো আর অন্ধকারের ঘটবে কি পুনঃরামিলন??হস্তের পাঁচ আঙুল যেমন সমান হয় না এই পৃথিবীতে সবার ভালোবাসা ধরণ এক নয় কেউ বা ভালোবাসা প্রকাশ করে ভালোবাসতে ভালোবাসে তো কেউ বা ভালোবাসা অপ্রকাশিত রেখে ভালোবাসতে ভালোবাসে।তা-ই তো রবীন্দ্রসংগীতে দুটো কালজয়ী লাইনে বলা হয়েছে-
দূর হতে আমি তারে সাধিবো
গোপনে বিরহ ডোরে বাঁধিবো

Next porbo taratari diben apu , golpo ta khub sundor 🥰😍
Next part early den plz