love or hate part 5
ইভেলিনা তূর্জ
“মানুষ যখন অতিরিক্ত নেশা করে ফেলে তখনি ভুলবা’ল বকতে থাকে।কারণ আপনার মতো পশু নিজের শরীরের চাহিদা মিটানোর পর শিকারিকে নিজের বৈধ সম্পর্কের জালে জড়াবে না।আর এমনটা হওয়ার আগে মরবো আমি।মরে আপনাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে যাবো।”
রোজের এহন কথায় ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো।রোজের গলা থেকে মুখ উঠিয়ে তার দিকে নিজের অগ্নি দৃষ্টি ফেলে শক্ত করে রোজের গলাটা চেপে ধরলো। এতোটাই শক্ত করে যে রোজের ততক্ষণে দম বন্ধ হয়ে শ্বাসকষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে প্রায়।দুধসাদা মুখটা রাতারাতি নীলবর্ণ ধারণ করে ফেলেছে।চোখ বেয়ে শব্দহীন জল গড়িয়ে পড়লো।দু’হাতে দিয়ে আঁকড়ে ধরলো ইউভানের হাত জোড়া।ইউভানের দানবীয় সত্তা তখন প্রবলভাবে হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে।রোজকে ছটফট করতে দেখে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনা।আমার সাথে থাকলে তোর দম বন্ধ হয়ে আসে। এখন দেখ দম বন্ধ হলে কেমন লাগে।”
ইউভান রোজের গলাটা ছেড়ে দেয়।রোজ বেডে উঠে বসেই কাঁশতে শুরু করে।আর একটু হলেই মরে যেতো।গলায় হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস টানতে শুরু করে।ইউভানের পাঁচ আঙুলের পুরো ছাপ বসে গিয়েছে। একটা লোক কতটা অমানুষ হলে এমন ঘৃণিত আচরণ করতে পারে তা রোজের জানা নেই।কষ্টে যন্ত্রণায় বুকটা ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম। রোজ ঠোঁট উল্টিয়ে ইউভানকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“ছেঁড়ে দিলেন কেন।মেরে ফেলুন।লে’টা চুকিয়ে দিন।নিজে মরে পাপের ভাগিদার হতে চাই না।”
রোজ গিয়েই ইউভানের শার্টের কলার চেপে ধরে ফেলে।
“আপনার সাথে আমার কিসের সম্পর্ক বলুন।আমার বাবাকে চিনেন কীভাবে।আমার বাবা আপনাকে চিনে কীভাবে।কে আপনি।উত্তর দিন।আমার প্রশ্নের জবাব চাই।তারপর যা খুশি করবেন।হয় গলা টিপে মেরে দিন নাহয় প্রশ্নের উত্তর দিন।”
ইউভান রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরে শার্টের কলার ছাড়িয়ে নেয়।রোজের আঙুলের ভাজে মিজের আঙুল ডুকিয়ে অঁধর ছুঁইয়ে দেয়।একটা তাচ্ছিল্যে বাঁকা হাসি টেনে রোজকে বিছানার উপর ফেলে নিজে বেড থেকে উঠে দাঁড়িয়ে শার্টের গুতোম লাগাতে ব্যস্থ হতে থাকে।মাথা কোনোভাবে ঠান্ডা করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে মিরর এর সামনে গিয়ে চুল বেকব্রাশ করতে করতে বলে,
“তোর এ-সব ইউস’লেস কথাবার্তার অ্যান্সার দিতে আমি বাঁধ্যে নই।”
“রিক চৌধুরী তোকে তার মহামূল্যবান সম্পত্তি টা দান করলো আর তোর বা’লের ন্যাকামির শেষ হয়না।ইউ নো কতো কতো উ’ইমেন ফিদা এই হট’নেসে।কতো নারীর মন ভেঙ্গে দিলি তুই আহা।ভাবতেই খারাপ লাগছে।সো স্যাড”
রোজ না তাকিয়ে কটমট করতে করতে বলে,
“ওহহ রিয়েলি।যারা নিজের ইচ্ছাতেই শুতে আগ্রহী ছিলো তাদের কাছে যেতেন।আপনার মতো দুশ্চরিত্র পুরুষ মনে হয় না কাউকে বাদ রেখেছেন”
ইউভান বাঁকা হেসে ততক্ষনাৎ রুম ছেড়ে চলে যেতে যেতে ফিসফিসে বলে যায়,
শালী, বান্দী,স্টুপিড গার্ল, নষ্ট উইমেন রিক চৌধুরী পিউর ভা’র্জিন ছিলো।
কথাটা রোজের কান অব্দি পৌঁছালো কি-না কে জানে।ভাঙ্গা মনে নিঃশ্বপলক দৃষ্টিতে ইউভানকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে দেখতে থাকে। ইউভান রোজের কোনো প্রশ্নের বিন্দুপরিমাণ জবাব দেয়া তো দূর কথা পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।রোজ ঘুমোতে পারবে না কি করে ঘুমোবে ।সারা অঙ্গ যেনো আগুনে ঝলসে যাচ্ছে।এ কেমন দাবানলের মধ্যে এনে ফেললো সৃষ্টি কর্তা তাকে।মনের মধ্যে হাজারটা প্রশ্ন দানাবাঁধে আছে।প্রথমতো কে এই
“ইউভান রিক চৌধুরী ”
“Who is he”
বিছানার চাদরটা খামচে ধরে বালিশের উপর মাথা চেপে শুয়ে থাকলো রোজ।নোনাজলে বালিশ ভিজে ঠোঁট চেপে চোখ দু’টো জোরপূর্বক বন্ধ করার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে।
রাতের প্রায় প্রথম প্রহর,
ইউভান ডুপ্লেক্স বাড়ির একেবারের করিডরের শেষ প্রান্তে সুইমিংপুলের ধারে সোফায় বসে ল্যাপটপ অন করে বসে আছে।সুইমিংপুলের চকচকে গাড় নীল পানি চাঁদের আলোয় ইউভানের ফর্সা মুখে ছায়া ফেলছে।ইউভান ল্যাপটপের স্ক্রিনের ভিডিও কলে একজন বৃদ্ধাবয়স্কা মহিলার মুখাবয়ব ভেসে উঠে,ইউভান মৃদু হেসে বলে উঠে,
“হ্যালো ডার্লিং, ”
“এখনো ঘুমোস নি রিক”
“না।তুমি আগে এটা বলো রাতে ঔষধ খেয়েছো।”
“হুম।তোকে অনেক মিস্ করছি দাদুভাই।আমাকে ছেড়ে কিভাবে আছিস।আমার বুঝি কষ্ট হয় না।”
“আহ।আই মিস ইউ টু বুড়ি।তোমার পাঁ টিপে দেয়ার জন্যে একটা পার্সোনাল মে’ইড পেয়েছি। সপ্তাহখানিক এর মধ্যেই ডেনমার্ক চলে আসছি।কাজ সেরে নিই।আর হ্যাঁ, তুমি দামিয়ানদের কেন পাঠিয়েছো এখানে।”
“আ…আমি পাঠাইনি, আর কিসের মে’ইড আবার।বিডিতে তুই কোনো ঝামেলা পাকাবি না রিক সোজা চলে আয়।বুড়ো বয়সে তোকে নিয়ে টেনশন করতে করতে মাথার চুল সব খসে পড়ছে।”
“তুমি কাজটা ভালো করো নি দামিয়ানদের পাঠিয়ে,বাই দ্যা ওয়ে, সরি মিসেস এ্যাশ ঘুমাবো বায়।অনেক ক্লান্ত আমি।”
এ্যাশ এমিলিও কথা শেষ করার আগেই ইউভান তড়িঘড়ি করে কল কাট করে ল্যাপটপটা অফ করে দেয়।কান থেকে হেড ফোনটা নামিয়ে টি টেবিলের উপর রেখে দেয়।সেখান থেকে৷ একটা হুইস্কির বোতল খোলে পুরোটা মুখে পুড়ে নেয়।ঢকঢক করে পুরো বোতল শেষ করে হাত দিয়ে ঠোঁট মুছে নেয়।পিঠে হঠাৎ কারোর হাতের স্পর্শ পেতেই ইউভান দেখতে পায় তুষার তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।তুষার এসেই সোফায় বসে পড়ে ইউভানের কাঁধে হাত রাখে।এতো রাতে তুষারকে জেগে থাকতে দেখে ইউভান সোফায় ঘাড় হেলিয়ে আকাশের পানে চেয়ে অবাক না হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কি বলতে এসেছিস বলে ফেল”
“মেয়েটা কে রিক”
“মে’ইড,নতুন কিছু বল”
তুষার জানে ইউভানকে কিছু জিজ্ঞেস করেও লাভ হবে না।তুষার একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে আবার প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।
“ফাইন।তুই এটা বল মেয়েটার সাথে উল্টো পাল্টা কিছু করিস নি তো।না মানে দামিয়ান বলছিলো।তুই নাকি মেয়েটাকে বেড পার্টনার ও বানিয়ে নিয়েছিস এটা কি সত্যি। ”
“যাস্ট সাট আপ”।-ইউভান প্যান্টের পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে মুখে পুড়ে নেয়।সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়িয়ে তাচ্ছিল্যের করে হাসির রেখা টেনে বলে,
“কিছু তো করলামই না।এখনো অনেক কিছু করা বাকি।”ওয়েট এন্ড সি”
ইউভান চোখজোড়া বন্ধ করে হাত এর আঙুলগুলো গিটার প্লে এর মতো নাড়িয়ে নাড়িয়ে ফিসফিস করে উঠে,
“Cause you could be the beauty
And i could be the Monster”
সকাল দশটা বেজে পনেরো মিনিট।সকালের স্নিগ্ধ সূর্যের নরম আলো জানালার পর্দা গলে রুমে প্রবেশ করে রোজের মুখের উপর এসে পড়তেই রোজের শরীরটা নড়েচড়ে উঠে।শরীরটা কেঁপে উঠে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকানোর আগে পেটের উপর ভারি কিছু অনুভব করতেই বুকটা মুচড়ে উঠলো তা, শ্বাস ভারি হয়ে আসে। দেখে ইউভান বাচ্চাদের মতো তার জামা উপরে উঠিয়ে উদরের উপর মুখ গুজে ঘুমিয়ে আছে,উদরটা কা’মড়ের দাগে লাল হয়ে আছে।ইউভান ভোরে নিজের বেড রুমে এসেই রোজের পেটের উপর মুখ গুজে ঘুমিয়ে পড়েছে।রোজ একটা শুকনো ডুক গিলে বিরক্তি নিয়ে এক ধাক্কায় ইউভানকে সরাতে চাইলে ইউভান আরও শক্ত করে রোজের কোমড় জড়িয়ে ধরে নেয়।রোজ চোখমুখ খিচে উচ্চস্বরে ব’লে উঠে,
love or hate part 4
“দানব একটা”
রোজ তৎক্ষনাৎ খেয়াল করে ইউভানের হাতের কিসের যেনো একটা কাগজ। রোজ ভ্রু কুচকিয়ে ইউভানের হাতের মুঠো থেকে কাগজটা নিতে হাত হাত বাড়ায়…….
