Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 2

Mad for you 2 part 2

Mad for you 2 part 2
তানিয়া খাতুন

বিছানার ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে আছে ক্ৰিশ।
লম্বা-চওড়া গঠনের তার শক্তপোক্ত শরীরটা যেন ক্লান্তিতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে।
পুরো শরীরটাই প্রায় উন্মুক্ত, শুধু কোমরে একটা ট্টা‌উজার জড়ানো।
বুকটা ধীরে ধীরে উঠানামা করছে, বুঝা যাচ্ছে সে গভীর ঘুমে ডুবে আছে।
মাথায় মোটা করে বাঁধা ব্যান্ডেজটা এখনও ভিজে আছে হালকা রক্তের দাগে।
কয়েক ঘণ্টা আগেই আমান তাকে তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।
ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা করে ব্যান্ডেজ করে দেয়, আর কিছু ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
আমান নিজে তাকে সাবধানে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে গেছে, বারবার বলে গেছে যেন বিশ্রাম নেয়।
এখন নিজের ঘরে, নিজের বিছানায়, ক্ৰিশ একেবারে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে।
ঘরটায় এক ধরনের ভারী নীরবতা—জানালার ফাঁক দিয়ে আসা হালকা বাতাস পর্দা দোলাচ্ছে, আর সেই নীরবতার মাঝে শুধু ক্ৰিশের নিঃশ্বাসের মৃদু শব্দ শোনা যাচ্ছে।
তার ঠিক পাশেই গুটিসুটি মেরে বসে আছে তার ছোট্টো কুকুরছানাটা।
বারবার সে ক্ৰিশের পিঠে নাক ঘষছে, কখনো হালকা করে থাবা দিয়ে ঠেলা দিচ্ছে—যেন তাকে জাগানোর ব্যাকুল চেষ্টা করছে।

মাঝে মাঝে হালকা করে কুঁই কুঁই শব্দ করছে, তার চোখে স্পষ্ট অস্থিরতা।
সে বুঝতে পারছে না কেন তার প্রিয় মানুষটা এতক্ষণ ধরে কোনো সাড়া দিচ্ছে না।
এই ছোট্ট প্রাণীটা ক্ৰিশের খুবই আদরের।
ক্ৰিশ ছাড়া আর কারো কাছে যায় না সে—অন্য কেউ ডাকলেও দূরে সরে থাকে।
ক্ৰিশই তাকে নিজের হাতে বড়ো করেছে, নিজের মতো করে ভালোবেসেছে।
ক্ৰিশই তার নাম রেখেছিল—কোকো। ছোট্ট, নরম, আর ভীষণ মায়াবী কোকো—যার পুরো দুনিয়াটাই যেন ক্ৰিশকে ঘিরেই।
ঠিক সেই সময় ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে রুমে ঢোকেন শরিফুল খান।
ঘরে ঢুকেই চোখ পড়ে বিছানার দিকে—আর সেই দৃশ্য দেখেই তাঁর মুখটা কুঁচকে যায় বিরক্তিতে।
ক্ৰিশ এলোমেলো হয়ে বিছানায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে, যেন পৃথিবীর কোনো চিন্তাই তার নেই।
শরীরের ওপর অগোছালো ভাবে চাদর পড়ে আছে, মাথায় এখনো মোটা ব্যান্ডেজ—তবুও সে গভীর ঘুমে ডুবে।
শরিফুল খান কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকেন ছেলের দিকে।
মাঝে মাঝে সত্যিই তাঁর মনে সন্দেহ জাগে—
এই ছেলেটা কি সত্যিই তাঁর ছেলে?
এত অমনোযোগী, এত উদাসীন… যেন জীবনে কোনো লক্ষ্যই নেই।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে দাঁড়ান বিছানার পাশে।
তারপর একটু জোরেই ডাকেন—

—“ক্ৰিশ… এই ক্ৰিশ…!”
কিন্তু ক্ৰিশের কোনো সাড়াশব্দ নেই।
সে একইভাবে ঘুমিয়ে থাকে, যেন চারপাশে কিছুই শুনতে পাচ্ছে না।
এবার শরিফুল খানের বিরক্তি চরমে ওঠে।
টেবিলের ওপর রাখা এক গ্লাস পানি তুলে নিয়ে একটুও না ভেবে সরাসরি ক্ৰিশের মুখের ওপর ঢেলে দেন।
ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায় ক্ৰিশ ধড়ফড় করে উঠে বসে।
চোখ দুটো আধখোলা, মুখে বিরক্তি আর অবাক ভাব—
কয়েক সেকেন্ড লাগে তার বুঝতে, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন শরিফুল সাহেব।
ওই মুহূর্তেই পাশে থাকা ছোট্ট কুকুরছানা কোকো জেগে ওঠে।
সে তৎক্ষণাৎ শরিফুল খানের দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করে, যেন নিজের মালিককে রক্ষা করতে চায়।
ক্ৰিশ চোখ কচলাতে কচলাতে দাঁত চেপে বলে—
—“কি সমস্যা আপনার? আমার পেছনে লেগে থাকেন কেন?”
শরিফুল খান রাগে ফেটে পড়েন।
চোখ লাল হয়ে যায়, কণ্ঠে কড়া স্বর—

—“তো লাগবো না বলছো? এই নিয়ে কলেজে কয়বার ফেল করবে তুমি? একবারও নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবো?
আমার মান-সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছো!
লোকে কি বলবে—শিক্ষা মন্ত্রীর ছেলে ফেলটুস!”
ক্ৰিশ এসব কথা বহুবার শুনেছে।
প্রতিদিন একই কথা, একই অভিযোগ—
এখন আর তার কানে ঢোকে না।
সে বিরক্ত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
তারপর পাশে বসে থাকা কোকোকে কোলে তুলে নেয়।
মুহূর্তেই তার গলায় ভেসে ওঠে একদম অন্যরকম কোমলতা—

—“কোকো সোনা… যাও তো, একটু শরিফুল সাহেবের সাথে খেলো।”
বলেই সে কোকোকে নিচে নামিয়ে দেয়।
মাটিতে নামতেই কোকো যেন মিশন পেয়ে যায়।
সে সরাসরি শরিফুল সাহেবের দিকে ছুটে যায় আর জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে।
শরিফুল খান একেবারে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
ভয়ে পেছাতে পেছাতে বলেন—
—“এই বদমাশ! তোমাকে বলেছি না, একে আমার সামনে আনবে না! এইসব আমার একদম ভালো লাগে না!”
কোকো থামার পাত্র নয়।
সে আরও জোরে ঘেউ ঘেউ করতে করতে শরিফুল সাহেবের পেছনে লেগে যায়।
ক্ৰিশ বালিশটা মাথার ওপর চেপে ধরে, একবার লম্বা শ্বাস নেয়—
তারপর আবার আগের মতো নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে…

নিজের সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগেজে গুছিয়ে নিচ্ছে রুহি, আর তাকে সাহায্য করছে সিমরান।
ঘরের মধ্যে এক অদ্ভুত ব্যস্ততা—কাপড়, বই, কসমেটিকস, ছোট ছোট স্মৃতির জিনিস—সবকিছু একসাথে ছড়িয়ে আছে।
দুজনেই কাল হোস্টেলে যাবে।
সিমরান আর রুহি—শুধু বন্ধু না, বরং বহু বছরের গভীর বন্ধনে জড়ানো দুইটা মন।
ভাগ্যও যেন তাদের পক্ষেই ছিল—দুজনেরই একই কলেজে ভর্তি হয়ে গেছে।
সিমরানের বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায় সে আগেই লাগেজ নিয়ে রুহিদের বাড়িতে চলে এসেছে,
যাতে কাল দুজন একসাথে রওনা হতে পারে।
রুহি একটা ব্যাগ খুলে আবার বন্ধ করছে, আবার খুলছে— মুখে বিরক্তির ছাপ।
হঠাৎ ভুরু কুঁচকে বলে ওঠে—

—“আমার ফোনটা কোথায় গেল? নিশ্চয়ই এই ছেলেটা নিয়ে গেছে!
আম্মু! ও আম্মু! তোমার ছেলেকে বলো আমার ফোনটা দিয়ে যেতে!”
তার গলায় রাগ আর অসহায়তা মিশে থাকে।
ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ধপ করে ঢুকে পড়ে ছোট্টো কুটুস।
তার হাতে রুহির ফোন।
সে এসে ফোনটা বিছানার ওপর ছুড়ে রেখে মুখ বাঁকিয়ে ভেংচি কাটে,
তারপর আবার দৌড়ে বেরিয়ে যায়।
পুরো দৃশ্যটা দেখে সিমরান খিলখিল করে হেসে ওঠে—
—“ইশ! আমার যদি এমন একটা ভাই থাকতো!”
রুহি চোখ ঘুরিয়ে বলে—
—“আমারটাই নিয়ে যা! দুইদিনেই ফেরত দিয়ে যাবি।”
দুজনেই হেসে ওঠে।
ঠিক তখনই রুহির আম্মু গরম গরম পকোড়া নিয়ে রুমে ঢোকেন।
ঘরে ঢুকেই চারপাশে ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র দেখে হালকা হেসে বলেন—

—“কি রে, তোদের গুছানো শেষ হলো?”
তার কণ্ঠে মায়া, কিন্তু চোখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ।
সিমরানের দিকে তাকিয়ে তিনি একটু নরম গলায় বলেন—
—“সিমরান মা, একটু রুহির দিকে নজর রাখিস।
মেয়েটা বাইরে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না…
আমার তো ভীষণ চিন্তা হচ্ছে, কীভাবে থাকবে কে জানে…”
মায়ের কণ্ঠ কেঁপে ওঠে একটু।
সিমরান এগিয়ে এসে আশ্বস্ত করে—
—“চিন্তা করবেন না চাচি মা, আমি আছি না? আমি ওকে দেখে রাখবো।”
রুহি হালকা হেসে সিমরানের দিকে তাকায়—
চোখে কৃতজ্ঞতা স্পষ্ট।

—“হ্যাঁ, তুই আছিস বলেই তো এত দূর যাওয়া…
না হলে আমার ওই কলেজে পড়ার স্বপ্নই হয়তো পূরণ হতো না…”
কথাগুলো বলার সময় তার গলায় একটা আবেগ লুকিয়ে থাকে।
—“যাই হোক… আব্বু কাল আসবে তো, আম্মু?”
রুহির আম্মু একটু হেসে বলেন—
—“হ্যাঁ রে, সকাল সকাল চলে আসবে।”
ঘরের ভেতর আবার ব্যস্ততা শুরু হয়,
কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও—
নতুন জীবনের উত্তেজনা আর প্রিয়জনদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট,
দুটোই নিঃশব্দে মিশে থাকে…

শহরের নামকরা বিশাল বড় কলেজ।
ক্যাম্পাসজুড়ে আজ যেন মেলার পরিবেশ—নতুনদের ভিড়ে চারপাশ গমগম করছে।
হাসি, গল্প, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি।
আজ কলেজে নতুনদের ভিড় বেশি, তাই তাদের উচ্ছ্বাসও একটু বেশিই।
নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন জীবন—সবকিছু নিয়েই যেন এক অদ্ভুত কৌতূহল কাজ করছে সবার মধ্যে।
এই ভিড়ের মধ্যেই কলেজের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটা গ্যাং।
এই গ্যাংয়ের লিডার—ক্ৰিশ খান।
আর তাদের কাজ? জুনিয়রদের র‍্যাগিং করা।
অর্ক, রুদ্র, আশিষ আর আমান—এই চারজন ক্ৰিশের বন্ধু।
তবে এই মুহূর্তে ক্ৰিশ আর আমান নেই,
অর্ক, রুদ্র আর আশিষ—তিনজনই গেটের দিকে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে,
যেন শিকারি ঠিকঠাক “মুরগি” পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে।
ঠিক তখনই হাসতে হাসতে, গল্প করতে করতে কলেজে ঢুকছিল রুহি আর সিমরান।
তাদের চোখে-মুখে নতুন জীবনের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট।
হঠাৎই অর্ক জোরে চিৎকার করে উঠলো—

—“এই মেয়ে! এদিকে আসো!”
হঠাৎ ডাকে দুজনেই চমকে দাঁড়িয়ে যায়।
পেছনে ঘুরে একটু ইতস্তত করে রুহি বলে—
—“কিছু বলবেন?”
রুদ্র ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে—
—“হ্যাঁ আপু, এদিকে আসেন…”
সিমরান ভয়ে রুহির হাত শক্ত করে চেপে ধরে ফিসফিস করে বলে—
—“রুহি, আমার মনে হচ্ছে এরা সিনিয়র… যাস না, আমরা পালাই…”
আশিষ সঙ্গে সঙ্গে কড়া গলায় বলে ওঠে—
—“কি হলো? ওকে কি বুদ্ধি দিচ্ছো? তাড়াতাড়ি আসো, নইলে প্রথম দিনেই কলেজ থেকে বের করে দেবো!”
ভয়ে দুজনেরই বুক ধড়ফড় করতে থাকে।
ধীরে ধীরে পা ফেলে তারা তিনজনের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
রুহি কাঁপা গলায় বলে—

—“কিছু বলবেন ভাইয়া?”
অর্ক হেসে বলে—
—“আমাদের চিনো? আমরা তোমাদের সিনিয়র।
তাই আমরা যা বলবো, সেটাই করতে হবে।”
রুদ্র এবার আঙুল তুলে সামনে ইশারা করে—
—“ওই যে সামনে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে, যাও… গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরো।”
কথাটা শুনে রুহির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলে—
—“এটা কি বলছেন ভাইয়া! এটা তো পারবো না… অন্য কিছু বলুন…”
অর্ক গম্ভীর হয়ে যায়—
—“না, এটাই করতে হবে। তাড়াতাড়ি করো, সময় কম।”
রুহি আর সিমরান দুজনেই ভয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকে—
কোনোভাবে পালানোর উপায় খুঁজছে তারা।
ঠিক তখনই রুদ্র হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে—
—“এই! আমাদের বস ক্ৰিশ এসে গেছে!”
দুজনেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেদিকে তাকায়।
দেখে—একটা ব্ল্যাক শার্ট পরা ছেলে বাইক নিয়ে গেট দিয়ে ঢুকছে।
তার মধ্যে এক অদ্ভুত রাফনেস, আত্মবিশ্বাস—
চারপাশ যেন নিজের থেকেই তাকে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে।
রুহির মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে যায়।
সে একটু ইতস্তত করে, তারপর আস্তে করে বলে—

—“ভাইয়া… আমি আসলে… ক্ৰিশের গার্লফ্রেন্ড।
ক্ৰিশ যদি জানে, তাহলে কিন্তু খুব রাগ করবে…”
সিমরান যেন আকাশ থেকে পড়ে!
সে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে রুহির দিকে—
এই মেয়েটা কি বললো এখন!
আর সামনে দাঁড়ানো তিনজন?
তারা তো পুরো থমকে গেছে।
—“আমরা… আমরা কি ঠিক শুনছি? তুমি… তুমি ক্ৰিশের গার্লফ্রেন্ড?”
রুহি একটু হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়।
এক মুহূর্তে তাদের আচরণ পুরো পাল্টে যায়।
রুদ্র তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বলে—
—“এই, চেয়ার আন! ভাবির জন্য বসার ব্যবস্থা কর!”
তারপর অর্কর দিকে ঘুরে—
—“তুই যা, চা নিয়ে আয়!”
রুহি তাড়াতাড়ি হাত নেড়ে বলে—
—“না না ভাইয়া, আমাদের ক্লাস আছে… এসব পরে হবে, ঠিক আছে?”
কথা শেষ করেই সে সিমরানের হাত ধরে টানতে টানতে ভেতরের দিকে হাঁটা দেয়।
সিমরান এখনো অবাক, হাঁটতে হাঁটতে ফিসফিস করে—

—“তুই পাগল নাকি! ওই ক্ৰিশের গার্লফ্রেন্ড বললি কেনো!”
রুহি হালকা হাসে, কিন্তু বুকের ভেতর তখনো ধুকপুক করছে—
—“না বললে তো আজকেই শেষ হয়ে যেতাম…”
দুজনেই দ্রুত ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়,
কিন্তু তাদের অজান্তেই—
একটা ঝড় ঠিক এখনই তাদের জীবনে ঢুকতে চলেছে…
বুলেটটা গ্যারেজে রেখে চাবিটা আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে এগিয়ে আসে ক্ৰিশ।
তার হাঁটার ভঙ্গিতেই একটা অদ্ভুত দাপট, যেন পুরো ক্যাম্পাসটাই তার নিয়ন্ত্রণে।
চারপাশের কয়েকজন ছাত্র তার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে, কেউ কেউ আবার চুপ হয়ে যায়—
কারণ ক্ৰিশ খানের নামটাই যথেষ্ট, আলাদা করে পরিচয়ের দরকার পড়ে না।
মুখে হালকা সুরে গান গুনগুন করছে সে—

“কে জানে তু মেরে ইরাদে, লে যাউঙ্গা শাসে চুরা কে…”
গানের সুরটা নরম হলেও, তার চোখে-মুখে সেই নরমতা নেই—
বরং আছে একরাশ উদাসীনতা আর কেমন যেন রুক্ষ ভাব।
গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ক , রুদ্র আর আশিষ তিনজনই ভুরু কুঁচকে ক্ৰিশকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে।
তারপর একে অপরের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসে।
অর্ক একটু এগিয়ে এসে ঠোঁটে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলে—“কি বস! আজ তো দেখি খুব রোমান্টিক মুডে আছো!
গানটাও বেশ রোমান্টিক… প্রেম-ট্রেম কিছু করছো নাকি?
আর আমরা কিছুই জানি না?”
রুদ্র হালকা হেসে মাথা নাড়ে, যেন সেও একই কথা ভাবছে।
আশিষও পাশে দাঁড়িয়ে মজা নেওয়ার অপেক্ষায়।
ক্ৰিশ থেমে যায়।
চাবিটা আঙুল থেকে নামিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে দেয়।
তারপর ধীরে ধীরে মাথা তুলে তিনজনের দিকে তাকায়—
চোখ দুটো একদম ঠান্ডা, কিন্তু তাতে লুকিয়ে আছে কড়া একটা সতর্কতা।
—“আমি ক্ৰিশ খান।
প্রেম-ট্রেম এসব আমার জন্য না।
এইসব ফালতু মেয়েলি ব্যাপার থেকে আমি দূরেই থাকি।”
তার গলায় এমন দৃঢ়তা যে, কেউ সহজে তর্ক করতে সাহস পায় না।
অর্ক এবার একটু গম্ভীর হয়েও হাসিটা চেপে রাখতে পারে না—

—“সেটা তো আমরাও জানি বস…
কিন্তু ভাবি যে বললো?”
ক্ৰিশের ভুরু কুঁচকে যায়।
সে এক পা এগিয়ে এসে বলে—
—“কোন ভাবি?”
তার গলায় বিরক্তি স্পষ্ট।
—“সালার, আজ পর্যন্ত কোনো মেয়েকে ছুঁয়েও দেখলাম না…
আজ হঠাৎ ভাবি কোথা থেকে এলো?”
আশিষ এবার আর চুপ থাকতে পারে না।
সে তাড়াতাড়ি বলে ওঠে—

—“আরে ভাই, একটু আগেই একটা মেয়ে এসে বললো—ও নাকি তোর গার্লফ্রেন্ড!”
ক্ৰিশের মুখের ভাব মুহূর্তেই বদলে যায়।
চোখ সরু হয়ে আসে, চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে।
রুদ্র আর অর্ক দুজনেই একসাথে মাথা নেড়ে বলে,
—“হ্যাঁ ভাই , একদম একটু আগেই বললো।
তারপর আবার তাড়াতাড়ি চলে গেল।”
কয়েক সেকেন্ডের জন্য চারপাশ যেন থমকে যায়।
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে শ্বাস নেয়।
তার চোখে এখন এক অদ্ভুত আগুন—

—“কোন ছেমড়ির এত সাহস…”
—“আমার অজান্তে… আমাকে নিজের বয়ফ্রেন্ড বানায়?”
তার গলাটা নিচু, কিন্তু প্রতিটা শব্দে হুমকি স্পষ্ট।
সে হালকা করে হাসে—
কিন্তু সেই হাসিতে কোনো আনন্দ নেই, বরং বিপদের আভাস।

Mad for you 2 part 1

—“ডাক সালি…কে
আজ ওর পিণ্ডি চটকাবো।”
কথাটা বলে সে গেটের ভেতরের দিকে তাকায়—
তার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, যেন শিকার খুঁজছে।
অর্ক, রুদ্র আর আশিষ একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝে যায়—
আজ কেউ একজন বড় বিপদে পড়তে চলেছে।

Mad for you 2 part 3